নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

রোকসানা লেইস

প্রকৃতি আমার হৃদয়

রোকসানা লেইস › বিস্তারিত পোস্টঃ

মানবতা ফিরে আসুক আবার

২১ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:৪১

অনেকদিন আগে অচেনা একটা শহরে হাজির হলাম। ভাগ্যের হাত ধরে। অচেনা শহর অচেনা মানুষের মাঝে। দেশটাকে মনে হলো স্বপ্ন পুরি । নানাদেশের নানা ভাষার নানা স্ংস্কৃতির মানুষ জড়ো হয়েছে দেশটায়। অথচ কোথাও কোন পার্থক্য নেই মানুষের জন্য নিয়মে দেশটায়, নানা দেশের মানুষের এক সাথে থাকা আনন্দময়।
ধীরে ধীরে জানলাম, সব মানুষের স্ট্যাটাস অধিকার সমান নয়। কেউ অধিবাসি জন্ম নিয়ে সে ভূমিতে জন্মসূত্রে সে দেশের নাগরিক। কেউ নিজের দেশে নানা রকম র্দূভোগের শিকার হয়ে শরনার্থি হিসাবে এসেছে। অভিবাসি হওয়ার নানা প্রক্রিয়া পেরিয়ে অধিবাসি থেকে নাগরিক হয়েছে দেশটায়। কেউ দেশ থেকে আবেদন করে অভিবাসি হয়ে এসেছে এ দেশে। অধিবাসি হওয়ার সময় প্রতি জনের জন্য ভিন্ন। প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা অন্য রকম । কারো অভিজ্ঞতার সাথে কারো অভিজ্ঞতার কোন মিল হয় না। জীবনের গল্প সব সময় আলাদা হাজারো জনতার। একমাত্র যারা জন্ম সূত্রে এ দেশের নাগরিক, তারা আঠারো বছর হলে, ভোট দেয়ার অধিকারী হয়। ভিন দেশ থেকে আসা অধিবাসি যারা এদেশে এসেছে দেশ থেকে আবেদন করে। তাদের তিন বছর পর পরীক্ষা দিয়ে নাগরিত্ব পেতে হয়। তখন তারা ভোটের অধিকার পায়। আর যারা নানা দূর্ভোগের কারণে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের কারো রেসিডেন্সি পেতে লাগে এক বছর কারো বা বেশী। কিন্তু তাদের নাগরিত্ব গ্রহণের তিন বছরের জন্য। রেসিডেন্সি পাওয়ার আগের সর্বমোট থাকার সময় গননা করা হয় অর্ধেক পর্যন্ত এবং কেউ এক বছর কেউ দু বছর পেরিয়ে আবেদন করতে পারে নাগরিকত্বের জন্য।
দেশটায় কিছু নিয়ম ছিল সার্বজনিন, এই দেশে যারা হাজির হয়েছে বিভিন্ন অবস্থার কারনে। সব উপস্থিত মানুষ পাবে সমান অধিকার। শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি সব ব্যবস্থায়। কেবল অধিবাসি আর নাগরিকের পার্থক্য ছিল ভোটের অধিকারে। এ ছাড়া সব অধিকার ছিল সমান।
অচেনা একটা দেশে এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার, সে দেশকে জানার জন্য তারা পায় সরকারি সহযোগীতা। থাকার আশ্রয়, শিক্ষার ব্যবস্থা, চিকিৎসা সব কিছুতেই সুবিধা ভোগ করে মানুষ হিসাবে।
কেউ জানতে চায় না তার অবস্থান কোথায় এ দেশে। সে কোন দেশের মানুষ। সে একজন ক্যানাডার মানুষ এবং তার সব কিছুতে অধিকার একজন মানুষ হিসাবে। ধর্ম বর্ণ, কোন বিষয় নয়।
বহু যুদ্ধরত দেশে প্লেন পাঠিয়ে অসহায় মানুষকে নিয়ে এসেছে, এদেশের সরকার। তাদের থাকা খাওয়া কাজের ব্যবস্থা করেছে।মানবতার দেশ হিসাবে পৃথিবীর শীর্ষ দেশের একটি ছিল দেশটির অবস্থান।
শক্তিধর দেশের অন্যায় আবদার উপেক্ষা করার মতন শিড়দাঁড়া ছিল এদেশের প্রধান মন্ত্রীর তখন। যার ফলে দেশটিকে পর্যদস্ত করার নানা রকম ব্যবস্থা শক্তিমান দেশ করেছে। তবুও নীতির সাথে আপোষ করেনি সরকার।
পুরানো দিনে আসা পরিচিতদের কাছে গল্প শুনেছি এক সময় এ দেশে মানুষ আশ্রয় নিতে এলে তাদের জন্য থাকার ঘরের ব্যবস্থা করে পোষাক থেকে আসবাব, তৈজসপত্র সব সরবরাহ করা হতো। এ দেশে আসতে কোন ভিষা লাগত না এক সময়।
সব দলে যেমন কিছু অসাধু লোক থাকে। তেমন কিছু লোক দলটির সুনাম ক্ষুন্ন করল। মানুষ এক দলের প্রতিনিধীত্ব পেয়ে হয়ে যায় বোরড। অনেক বেশী মুক্ত স্বাধীনতা এমন কি সমকামীদের বিয়ে মেনে নেয়ার আইন পাশ করে তাদের মানুষ হিসাবে মেনে নেয় মুক্তমনা লিবারেল সরকার। এদেশে থেকেও অনেক বেশী মক্তমনা হতে পারে নামানুষ। অনেক কিছু মানতে পারে না। তারা রক্ষনশীল হতে চায়।তারা দল বদল করে দেশের দায়িত্ব দিল রক্ষনশীলদের কাছে। রক্ষণশীল পুরোপরি জিততে পারলনা দুইবার। নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি যারা নতুন ধারনা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে আসছিল অনেক দিন ধরে। নতুনদের কাছে তারা হলো জন প্রিয়। তারা হলো বিরোধী দল। আর লিবারেল চলে গেলো সর্ব নিম্ন অবস্থানে। যারা প্রায় ৬৯ বছর এদেশের রাজনীতির শীর্ষে অবস্থান করছিল।
লিবারেলে তেমন ভালো সংগঠক সে সময়টা ছিল না প্রতিনীধীত্ব করার। যার বাবা ছিল অনেক বছর প্রধানমন্ত্রি তাকে সবাই রাজনীতিতে আসতে অনুরোধ করে। কিন্তু ত্রিশ বছরের যুবক সে সময় রাজনীতিতে পরিপক্ক হয়নি সে, ভোটে প্রতিযোগিতা করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।মেজরিটি আসন পাওয়ার জন্য, ইলেকসন দাবি করলো আবার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি। ভেবেছিল তারা সরকার গঠন করতে পারবে। কিন্তু পুরো সুযোগটা পেয়ে যায় রক্ষনশীল দল সরকার গঠন করার।
শুরু হয় রক্ষনশীলের রক্ষনশীল খেলা জনগনের চোখের আড়ালে। সম অধিকারের ভিন্ন অবস্থানের, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের জন্য শুরু হয় ভিন্নতর অবস্থানের নিয়ম।
চিকিৎসার সুবিধাগুলো বিলুপ্ত হয়। সেবিকারা হারায় চাকরি অথচ এক সময় পার্শ্ববর্তি দেশ থেকে সেবিকা আসত এদেশে প্রচুর চাকরির সুযোগ পেয়ে। ডাক্তার কমিয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষা নিরিক্ষার উপর দেয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। জরুরী বিভাগে বা বিষেশজ্ঞ দেখাতে অপেক্ষা করতে হয় জনগনকে ঘন্টার পর ঘন্টা বা কয়েক মাস।অথচ দেশের জন সংখ্যা বেড়েছে আগেরচে বেশী। সরকারি খরচে স্বাস্থ ব্যবস্থা অনেকটাই চলে যায়, টাকার কুমির, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি গুলোর কাছে। ধনীরাই চিকিৎসার সুযোগ পায়। অনেক ধরনের ফ্রি স্বস্থের পরীক্ষা এখন টাকা দিয়ে করাতে হয় যা অনেকের কাছে সোনার হরিন।
এছাড়া বিশ্ব ব্যাপী অর্থনৈতিক ধ্বসের সুযোগে বড় বড় কোম্পানীগুলো চাকরি চ্যুত করতে থাকে। নতুন চাকরির সুযোগ বা সরকারি সাহায্য না পেয়ে পথে বসতে লাগল অনেক মানুষ। ধুকে ধুকে চলছে অনেক মানুষ, পরিবার। অপেক্ষা রক্ষনশীলতার বদলে যাওয়ার। কিন্তু মুখ খুলে কেউ কিছু বলতে পারে না। সব কিছুই এখন সরকারের নখদর্পে। চাইলেই দেশ থেকে পাঠিয়ে দিতে পারে অন্যদেশে। যেখান থেকে তার বাবা বা দাদা বা পূর্ব পুরুষ এসেছে। যে দেশের সাথে তার কোন সংযোগ নাই।জন্ম হয়েছে এ দেশে, জন্ম সূত্রে ক্যানেডিয়ান তাকেও প্রয়োজনে পাঠিয়ে দিবে পূর্বপুরুষের দেশে। এমন সব কঠিন নিয়ম জারি চলতেই থাকে প্রধানমন্ত্রির ইচ্ছায়।
এ দেশের বাইরে সন্তান জন্ম নিলে সে সন্তানও আর ক্যানেডিয়ান নয়। তাকে নিয়ে আসতে হলে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
পরিবারকে প্রাধান্য দেয়া দেশের ইমিগ্রেশন নিয়ম কানুন এমন কঠোর হলো পরিবারকে ভেঙ্গে দেয়া বা দূরে সরিয়ে রাখার যন্ত্র হয়ে গেলো। মনবিকতার দেশে মানবিকতা আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না।
আধা সরকারি সাহায্যে যে সংস্থাগুলো শরনার্থি অধিবাসীদের সাহায্য করত তাদের কাজ সীমিত হয়ে গেল নাগরিকদের জন্য।
নানা রকম নিয়ম প্রতি নিয়ত জারী হচ্ছে। আর অনেক মানুষ হচ্ছে আরো বেশী র্দূভোগের শিকার প্রতিদিন। এমন কি নাগরিকরাও নতুন ভাবে কাগজ পত্রের মেয়াদ বাড়তে গিয়ে নানা বিপর্যয়ের সম্মুখিন হলো ।
কারণ নতুন নিয়মের ঠেলায় কর্ম কর্তারাও অনেক সময় নিজেকে আপডেট করতে পারছিল না। কার জন্য কি নিয়ম বুঝতে না পেরে সব গোবলেট করে ফেলছিল।
এমন রক্ষণশীলতার হাতে পরে দেশটার মানবতাবাদী চরিত্র বদলে বড়লোকের আর সুবিধাবাদীর দেশ হয়ে উঠল দিনেদিনে।
দুর্দশা আক্রান্ত মানুষ এদেশে আসার আর সুযোগ পায় না। সুযোগ পায় তারা যাদের আছে প্রচুর টাকা অভিবাসী হওয়ার জন্য কিনে নিতে পারে, অভিবাসন। ভুল করে শরনার্থি হয়ে যারা এসে পরে। তাদের ভুগান্তির সীমা থাকে না আর। সীমান্ত থেকে তাদের কেইস সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের থাকতে হবে কারাগারে যদিও বলা হয় সেটা ডিটেনসন কেন্দ্র সেখান থেকে মুক্ত জীবন যাপনের কোন সুযোগ নেই। যদি তাদের পক্ষে না আসে কেইসের রেজাল্ট তাদেরকে ফিরে যেতে হবে নিজের দেশে। এদেশের মুক্ত বাতাসে হাঁটার কোন সুযোগ তাদের থাকে না। আর যারা আগে থেকে অমিমাংসিত কেইসের অবস্থানে মুক্ত জীবন যাপন করছিল তাদের উপর নেমে আসে নানা নিয়মের খরগ। তাদের কাজ করার কোন কাগজপত্র দেয়া হয় না। তাদের চিকিৎসার কোন সুযোগ নেই। নিজের টাকা খরচ করে চিকিৎসা করো। সন্তানের পড়ালেখা করার সুযোগ নেই। বড়দের জন্য দেশ সম্পর্কে জানার স্কুল খোলা নেই। নানারকম অসুবিধার মধ্যে নগদ কাজ করে জীবন চালানোর চেষ্টা করে মানুষ। আর এই সুযোগে কমদামে কাজ করিয়ে নেয় কিছু প্রতিষ্ঠান সুযোগ দেয়ার নামে, অসহায় শরনার্থিদের দিয়ে।
আরো অনেক নিয়ম চালু হয়। ধনীরা ধনী হওয়ার সুযোগ পায়। বড় বড় কোম্পানীগুলো লোক কমাতে থাকে ।অল্প লোক নিয়ে চলে।
চাকরি হারিয়ে অনেকে পথে বসে। যাদের কাজ আছে তারা ভয়ে থাকে কাজ না চলে যায়। অন্যদিকে ধনী কোম্পানীগুলো আরো ধনী হয় ভয়ে রাখা স্ট্রেসে রাখা অল্প কিছু কর্মচারি দের নিয়ে কাজ করিয়ে, নিজেদের সঞ্চয় বাড়িয়ে নিয়ে।
মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্তের মানুষ চলে ধুকে ধুকে। যে কোন সময় পথে নামার ভয় বুকে। তবু রাস্তায় দেখা যায় অসংখ্য মানুষ। যাদের আগে নিজস্ব আশ্রয়, চাকরি সব ছিল তেমন মানুষ। দিনদিন বারছে জিনিস পত্রের মূল্য কমছে ক্রয় ক্ষমতা। অনেক বনেদী দোকানপাট, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।
আগে যেমন মব মানুষ সুখ ভোগের জীবন যাপন করত এখন সেখানে বেঁচে থাকার প্রতিযোগীতা। দিন আনা দিন খাওয়ার অবস্থা বেশীর ভাগ মানুষের। কমেছে সঞ্চয়।
রক্ষণশীল দলের প্রধানমন্ত্রি স্টিভেন হারপার দেশেটাকে অল্প কিছু মানুষের বসবাসের যোগ্য করে তুলতে থাকে দিনে দিনে। যার একটি দিনের কথা বলা হৃদয়ে কোন ছাপ ফেলতে পারে নাই। যখনই তাকে দেখি, মনে হয় দম দেয়া পুতুল যেন কথা বলছে, যার কোন হৃদয় নেই। যদিও অনেক সময় সে চেষ্টা করে অন্য সংস্কৃতির ধারক হিসাবে নিজেকে প্রচার করতে। সেটা আরো হাস্যকর ক্যারিকেচার মনে হয়।
কিছুদিন আগে আমার পরিচিত একজনের সাথে কথা হলো, যার নিকট আত্মিয় হারপারের, অফিসে কাজ করে। সেই সুবাদে সে প্রায় হারপারের কাছাকাছি যাবার সুযোগ পেতো। তার বর্নণা অনুযায়ী, "তার চোখ যেন আমার ভিতর দেখে ফেলছে এক সাপের চোখে। যতবার তার কাছে গেছি, হ্যান্ডসেক করেছি, এমনি এক ঠান্ডা শীতল অনুভূতি আমার হয়েছে।"
এরপর তার কাছে অনেক ভিতরের কথা শুনতে পাই। সে তার আত্মিয়কে বলেছে, এ সব অসঙ্গতির কথা। কিন্তু আত্মিয়টি এক কথায় অন্ধ বা নির্বোধ কর্মচারী। যে সরাসরি হারপারের, সেক্রেটারি।
আমি সরাসরি জানতে চাই তুমি তবে কাকে ভোট দিবে? সে জানাল সে লিবারেলকে ভোট দিবে। দেশে একটা পরিবর্তন দরকার। ক্যানাডা আবার ক্যানাডা হয়ে উঠুক আর এরজন্য লিবারেলের বিকল্প নাই।
এ সময় দশ বছরের পরিবর্তিত ক্যানাডার আবার নতুন করে পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। রক্ষণশীল সরকারের রক্ষণশীলতা থেকে বেরিয়ে আসার। সরকারের অবসানে জনগনের পছন্দে ভোটের মাধ্যমে। জনগন একটি রব তুলেছে। আর যেই হোক নো হারপার। হারপারে অতিষ্ট জনগন আর তাকে দেখতে চায় না। নান রকম দূর্নীতির খবর ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন কর্মকর্তার মাধ্যমে। তবু তার পক্ষেও ভোটার আছে। যে দেশটা আবিভাসনের। যেখানে বিভিন্নদেশের নাগরিক বাবা, দাদা চৌদ্দোপুরুষ অন্য দেশ থেকে এসেছে যার কারণে তারা আজ এ দেশের নাগরিক। তারা যখন সিরিয়ান রিফিউজি এ দেশে আসবে বলে ভয়ে মরে। একটা বিশাল দেশ যার জন সংখ্যা সে তুলনায় অনেক অল্প সেখানে ঘন বসতি বস্তি হয়ে যাবে বলে ভয়ে মরে। তখন তাদের বর্ণবাদি মনভাব আমাকে ভীত করে।
এবার লিবারেলের প্রতিনীধীত্ব করছে জাসটিন ট্রোডো। দশ বছর পর সে এবার তৈরী জনগনের প্রতিনীধীত্ব করার জন্য। ক্যানাডাকে আবার মানবতার দেশে তৈরী করার জন্য। যার বাবা, পিয়ারে এলিয়েট ট্রোডো, ষোল বছর এই দেশের প্রধান মন্ত্রী ছিল।
নতুন ভাবে লিবারেলের হাতে মানুষের নতুন মুক্তি আসবে এটাই আশা করা যায়। যার কথা শুনলে মনে হয় মানুষের জন্য কথা বলছে। বাবা, যে এদেশের মানুষের জন্য মানবতাবাদি একটি দেশ গড়ে ছিল যেখানে পৃথিবীর অসহায় মানুষের আশ্রয় স্থল হিসাবে জায়গা ছিল। সে দেশ আবার ফিরে যাবে মানবতার জায়গায় ছেলে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রোডোর হাত ধরে। আশা করতে ক্ষতি নাই। নির্বাচনি প্রচারনায় যার বক্তব্য ছিল পরিবর্তন সুস্থতার পক্ষে, স্বস্থির পক্ষে। কঠিন কঠিন নিয়মের যাতনায় হাপিয়ে উঠা মানুষ তাই পরিবর্তনের জন্যই লিবারেল মুক্তমনা দলকে বেছে নেয়। আটলান্টিক ক্যানাডা যেখানে সবার আগে সময় আসে। নির্বাচনের ফলাফল সবার আগে এলো। এক সাথে সব আসন দখল। সবার মনে বদলের আশা পরিপূর্ণ হওয়ার পথে এই ধারনা বদ্ধমূল হয়ে গেলো। আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহা সাগর আর উত্তর সাগরের পার লালে লাল লিবারেলের পতাকা উড়ল। শুধু তৃণভূমি এলাকা যেখানে রক্ষনশীলের ঘাটি তারা রক্ষনশীল নীলদলকে ধরে রাখার প্রচণ্ড প্রচেষ্টা করল। তারপরও তারা প্রথম হতে পারল না।
দশ বছরের প্রভাবশালী দল হেরে গেলো। গনতান্ত্রিক মনো ভাব নিয়ে অভিনন্দন জানাল পুরানো প্রধানমন্ত্রী নতুন মনোনিত প্রধান মন্ত্রীকে।
পুরানো দলের যারা হেরে গেছে মোটামুটি সবাই সিদ্ধান্ত জানাল আর রাজনীতি নয়। এবার পরিবারের সাথে সময় কাটানো। ব্যাক্তিগত নানা বিষয়ে তারা ব্যস্ত হয়ে যাবে। পুরানো প্রধান মন্ত্রিও তার দল থেকে পদত্যাগ করল, মনোনিত হবার পরও।
একটা দেশের পটপরিবর্তন হয়ে গেলো। পত্র পত্রিকা আর রেডিও, টেলিভিসনে কিছু সংবাদ প্রচার ছাড়া বাড়তি কোন আয়োজন নাই। ভোট গ্রহণের জন্যও কোন আফিস, স্কুল, কলেজ বন্ধ ছিল না। নিয়ম মাফিক সবাই নিজের কাজ করেছে এবং ভোট দিয়েছে।
সুন্দর শরত সকালে যে যার কাছে ব্যাস্ত।প্রতিদিনের মতন আরেকটি দিন। কোথাও কোন কাঁদা ছুঁড়াছুড়ি। বক্তব্যের মাঝে আক্রমণ বা মারামারির খবর নাই। বাংলাদেশে এমনটা কবে হবে?

আজ সকালে সাবওয়েতে সাধারন মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করছে নবনর্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের পর পর তার দেয়া বক্তব্য ছিল মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতায় ভরপুর। বিপক্ষ দলকেও পাশে প্রতিবেশী হিসাবে উল্লেখ করলেন। যার কথা শুনলে মনে হয় হৃদয় দিয়ে অনুভব করেই সে কথা বলছে। আশা করি মানুষের প্রতি তার এই অনুভব অটুট থাকবে। সঠিক পথে চলা সবার জন্যই বড় কঠিন বর্তমান দুনিয়ায়। তবু আশা করব সঠিক সিদ্ধান্তে সুস্থ সুন্দর ভাবে মানুষের জন্য, দেশের জন্য, কাজ করে যাবে। নবর্নিবাচিত মানুষের নেতা।






মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ২:১৬

আমিনুর রহমান বলেছেন:



কানাডা'র অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে কাল্পনিক চিত্র নিয়ে লিখাটা ভালো লাগলো।

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:৪৬

রোকসানা লেইস বলেছেন: অনেক শুভেচ্ছ আমিনুর রহমান। সীমিত ভাবে উপস্থাপন করলাম। এ টুকু লেখায় একটা দেশকে বুঝা যায় না।

২| ২১ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ভাল লাগলো , শুভ কামনা জানবেন ।

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৫ ভোর ৪:০৫

রোকসানা লেইস বলেছেন: শুভেচ্ছা গিয়াস উদ্দিন লিটন

৩| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:১৮

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: দেশের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রয়াসের বিকল্প নেই ।

৪| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ ভোর ৪:৫৫

রোকসানা লেইস বলেছেন: সব কিছুর উপর দেশকেই ভাবতে হবে। শুভেচ্ছা

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.