নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন.....

সুবোধ অবোধ

খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন......

সুবোধ অবোধ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বেহেস্তে যাওয়া কত্ত সহজ!!!!

১৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১:১৪

আগেই বলে রাখি,এই লেখার কোন চরিত্রের সাথে বাস্তবের কোন চরিত্র বা দলের কোন মিল নাই।অতিসয় বুদ্ধিমান পাঠক যদিও বা কোন মিল খুজে পান,তার জন্য আমি কোনমতেই দায় স্বীকার করতে রাজি নই বলে দিলাম কিন্তু,হু।



আমার নানা বাড়ি পুরোপুরিই ধর্মভীরু একটা পরিবার।যার কারণে আমার বেড়ে ওঠাও মোটামুটি একটা ধর্মীয় আবহের মধ্যেই।যদিও আমি তাদের মান কোন দিক দিয়েই রাখতে পারি নি।আদতে আমি ‘গিটার একটা কান্ধে লইয়া গান গাইয়া যাই’ টাইপের ছেলে।(তাই বইলা ‘নাস্তিক’ কইতে চাইলে কিন্তু আল্লাহ’র কাছে বিচার দিয়া দিমু কইলাম!! :p ) । আমার নানা,মামা,খালু রা কেউ ই মাদ্রাসা’র ছাত্র না হলেও সবাই তাবলীগের কল্যাণে হুজুর। মানুষ জনকে ইসলামের দিকে ডাকার জন্য উনারা দেশে ,বিদেশে সফর করে বেড়ান নিজ খরচায়।অনেকটা “নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর” মত।উনাদের উছিলায় আমি দেখেছি ইসলাম প্রচার করা টা এত সহজ কোন বিষয় না।বরং যথেষ্ট কষ্টের এবং দায়িত্ববোধের একটা ব্যাপার।ইসলামি জ্ঞান বিতরণ করতে বসে গেলাম মনে হচ্ছে??কে না জানি কোন দিক দিয়ে বলে বসেন “ভূতের মুখে রাম নাম”।



যাই হোক,আজকাল ফেসবুকে ঢুকলে অবশ্য ধর্ম প্রচার অনেক সহজ কাজ বলেই মনে হয়।ফেসবুক জুড়ে সব ‘দ্বীনে’র দাওয়াতি রা যেভাবে ঘুরে বেড়ায় তাতে ফেসবুক কে মাঝে মাঝে ধর্মীয় উপাসনালয় বা কখনো কখনো মাদ্রাসা ও মনে হয়।বাংলায় একটা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ” লেখা ছবি পোষ্ট করে ক্যাপশন মেরে দেয়-“এই কালেমার জন্য কয়টা লাইক” বা “সত্যিকারে মুসলমান হলে শেয়ার করে এই কালেমার মহত্ব ছড়িয়ে দিন” এই সব টাইপের লেখা! আর অনেকেই “আহা! লাইক না দিলে হয়তো ঈমান টা আর টেকানো গেল না” বা “শেয়ার না দিলে বুঝি পাপ থেকে আর বাঁচতে পারলাম না” ভেবে লাইক শেয়ার এর বন্যায় ভাসাতে থাকেন এই সব পোস্ট। তারা হয়তো একবার ভেবেও দেখেন না যে পড়ার সময় ‘লা’ এর টান ঠিকমত হলো কি না বা কতটুকু টান না দিলে অর্থ পুরোপুরি উলটে যেতে পারে।আমি দু’একজন এই রকম ডিজিটাল দাওয়াতি ভাই কে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করায় “এত ভাবার দরকার কি?? মাউসের একটা গুতায় যদি একটা আস্ত সওয়াবের বাক্স পাওয়া যায় তাতে এত চিন্তা করে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয়? কোন কষ্ট নাই,টেকাটুকা লাগে না অযথা এত ভাবার দরকার টা কি? আপনি আমাত্তে বেশি বুজেন?” বলে থামিয়ে দিয়েছেন। আমিও থেমে গিয়েছি।



তবে মাথায় সল্প বুদ্ধি,আর “উনাত্তে বেশি না বুজা’র” কারণে মাথায় কিছু আজগুবি চিন্তা সব সময় ঘুরঘুর করে।কাউকে বলতেও পারি না পাছে আবার কেউ বলে বসে “তুই বেটা নচ্ছার,গিটার নিয়ে বাদ্য করে বেড়াস;ধর্ম নিয়ে তুই কথা কইবার কে হে” বলে ধমকে উঠেন সেই ভয়ে। “মনের কথা কারে সুধাই” করতে করতে শেষ পর্যন্ত মনে হল “ধুর ছাই,কাউরেই সুধানোর দরকার নাই,বরং লিখে ফেলি”-

ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী মাত্রই এ কথা সবাই মানি যে আল্লাহ্‌ আমাদের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে সর্বকালের সর্বাধুনিক করে ‘মডেল’ হিসেবে পাঠিয়েছেন আমাদের মত কুলাঙ্গারদের পথে আনার জন্য। উনি উনার সারা জীবন এর সকল কাজ এবং কথা আমাদের জন্য অনুসরণ করার জন্য উপস্থাপন করে গেছেন আল্লাহ্‌’র হুকুমে। আমার কম বুঝা মাথায় তার মানে দাঁড়ায়-উনি যে কাজ যেভাবে করে গেছেন সেই কাজ আমাদের সেইভাবেই করতে হবে (আমাত্তে বেশি বুজা লোকেরা সিনা টান কইরা কন দেখি এইডা ভুল কথা)। তার মানে দাঁড়ায় উনি যেভাবে মানুষ কে ইসলামের দিকে ডেকেছেন,যেভাবে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন,এই যুগে হোক আর এলিয়েনের যুগে হোক ইসলামের দাওয়াত দিতে হলে সবাইকে ঠিক সেইভাবেই দাওয়াত দিতে হবে। নো ইম্প্রোভাইজেশন!! কোন কষ্ট না করেই কেষ্ট খুঁজে ফেরা এই সব ডিজিটাল দাওয়াত এর কোন স্থান ইসলামে আছে বলে আমার সল্প বুদ্ধিতে সায় দেয় না!!



আর যদি এই ডিজিটাল দাওয়াত ই আদর্শ পদ্ধতি হত তাহলে হয়তো আল্লাহ্‌ আমাদের নবী করিম (সাঃ) কে দুনিয়াতে পাঠানোর সময় একটা ‘অ্যাপল’ ল্যাপটপ আর একটা ‘হাই স্পীড ইন্টারনেট মডেম’ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠাতেন আর বলতেন-“হে নবী,আপনি দুনিয়াতে গিয়া অতি সত্তর একখানা ফেসবুক একাউন্ট খুলিবেন,সাথে একখানা দাওয়াতি পেইজ খুলিতে ভুলিবেন না। নিশ্চই আপনাকে প্রেরণ করা হইয়াছে ফেসবুকে ইসলামি পোস্ট করিয়া লাইক আদায় করিবার জন্য। পেইজ এ লাইক আদায় করিয়া আপনি সাহাবীগণ কে সাবস্ক্রাইব করাইতে থাকুন। নিশ্চই উহাতে কল্যাণ নিহিত রহিয়াছে”!



আদতে ইসলাম প্রচারের নামে এইসব সস্তায় সওয়াব লাভের প্রানান্ত চেষ্টা দেখলে আমার বড়ই অদ্ভুত লাগে! “এক লাইক=১০ নেকি” বলে তারা শুধু ব্যাপার টাকে হাস্যকর না,একই সাথে ইসলাম কেউ অন্যদের কাছে হাস্যরসের খোড়াকিতে পরিনত করেন বলে আমার মনে হয়।এক লাইক বা এক শেয়ারের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত হয়ে গেলে যে জুকারবার্গ কে আপনারা তিন বেলা ‘নাস্তিক’ বলে গালি দেন তাকেই আল্লাহ্‌ সবার আগে বেহেস্তে নিবেন ফেসবুক বানানোর জন্য। তখন আবার “ ‘নাস্তিক’ কেন আমার আগে বেহেস্তে গেল বলে কান্নাকাটি কইরেন না যেন”!!!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.