| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এ যাবত কালে যে পরিমান লেখা মাথা থেকে বাস্পিভূত হয়ে গেছে তা থেকে নিজে খুব বড় লেখক না হতে পারি মোটামুটি বড় সাইজের যে একটা পান্ডুলিপির বস্তা হয়ে যেত তাতে কোন সন্দেহ নেই! অধিকাংশ লেখার আইডিয়া আসে হয় রাস্তা ঘাটে চলার পথে আর নাহয় বাথরুমে,যে সব যায়গায় লেখার কোন ব্যাবস্থা থাকে না। রাস্তায় বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখা মাথায় আসবে সেটা সাভাবিক ব্যাপার,কিন্তু বাথরুমে লেখার উপলক্ষ খুজে পাবার ব্যাখ্যা আমার কাছে পরিস্কার না। হয়ত সুখের কারণে মাথা খুলে যায়-ছোট বেলা থেকেই তো শুনে আসছি “ত্যাগেই সুখ”! এই দুই যায়গাতে লেখার আইডিয়া রা সব মিছিল করে মাথার উপর হামলে পরে। অথচ লিখতে বসলেই ঠিক একই ভাবে মিছিল করে লেখা রা সব ভেগে যায়!!
এমনিতেই আমি যথেষ্ঠ অলস মানুষ! খাতায় লেখাই আমার জন্য অনেক বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। আর এখন তো টাইপিং এর যুগ। লেখা আর আগাতে চায় না ! মাথা তো আর বিরতি দেয় না। তাই আমার আঙ্গুল ও চিন্তার সাথে দৌড়ে পারেনা। সে আরেক যন্ত্রণা।
যাই হোক,লেখার নাম 'হ - জ - ব - র - ল' দেয়ার কারণ হচ্ছে এই লেখার কোন আগামাথা নেই, কোন বাধা ধরা গতিবিধি ও নেই। যদিও নাম টা 'সুকুমার বাবুর' থেকে ধার করা। তাতে কি? উনি সেই কোন কালে কি লিখে গেছেন তা নিয়ে সারাজীবন বসে থাকবো নাকি? ওই কালে জন্মালে আমিও 'লিকে দিতুম '! (গোপনে বলে রাখি এটা আমার 'সুকুমার সমগ্রের ' সব চেয়ে প্রিয় লেখা! )। আবার কপি রাইটে ধরা খাওয়ার ও চান্স নেই। মরা মানুষ উঠে এসে নিশ্চই “নাম নিয়েচিস কেন?” বলে টুটি চেপে ধরবে না!
যা বলছিলাম,লিখতে বসলে মুহিনের ঘোড়াগুলির ‘কি জানি কি লিখবো খাতায়’ এর মত অবস্থা আমার সব সময়ই হয়,নতুন কিছু না। আমার লেখালেখির সূত্রপাত হয়েছিল যতদূর মনে পড়ে ‘রাগ’ করে। কারো মারফত কোন এক বেচারার লেখা বই পড়ে মনে হয়েছিল আমি বোধয় এর চেয়ে খারাপ লিখবো না! অনেকটা “অনন্ত জলিল নায়ক হইলে আমি কি দুষ করছি” টাইপের। লিখেও ফেলেছিলাম কয়েক পাতা। তবে সেই ব্যাবহৃত কাগজগুলির ভবিষ্যত কি হয়েছিল আমার জানা নেই। হয়তো কারো ঝাল মুড়ির ঠোঙা! যাই হোক,আরেকবার বহুত খেটে খুটে বেশ কিছু বই পত্র পড়ে একটা লেখা নামিয়ে ফেললাম ‘জামাতের মুখোশ উন্মোচন’ নামে। তা সেই ২০০৪ সালের কথা। ব্লগ কি জিনিস তা আমি তখন কিছুই জানি না। সবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আমার ইন্টারনেট সম্পর্কেও তেমন কোন ধারণা নেই বললেই চলে। সুযোগ ও নেই নেট ব্যাবহারের। লেখালেখি বলতে পত্রিকাতেই লেখা প্রকাশ হতে পারে বলে জানতাম। লেখাটা শেষ করে পত্রিকার ঠিকানা আর লেখা আমার এক বন্ধুর হাতে দিয়ে বললাম-“যা বেটা ‘ইতিহাসের’ সাক্ষী হয়ে আয়”!! লেখা পাঠানোর পর দুরু দুরু বুকে অপেক্ষা করতে থাকি কবে ছাপা হবে সেই আশায়। পত্রিকায় উকিঝুকি মারি প্রতিদিন। ফোন এলো একদিন!! তবে সেটা আমার বাপ এর,পত্রিকার নহে!! আমার বাবা ফোন করে অনেক্ষন ধরে আচ্ছা মতন ঝারার সারমর্ম হচ্ছে “আমি কি মুফতী,মুফাসসির হয়ে গেছি নাকি যে আমার এই সব নিয়ে লিখতে হবে? জামতিরা নাকি আমাকে ধরে জবাই করে ফেলবে!! ভুলেও যেন এই সব লেখার চিন্তা না করি, ব্লা ব্লা ব্লা...।" আমিও মোটামুটি ফিউজ হয়ে মিনমিন করে বললাম - ‘হুম।’ ঝারির ঠেলায় জিজ্ঞেস ও করার সাহস পেলাম না যে উনি এটা জানলেন কিভাবে!! সন্দেহ হওয়ায় বন্ধুকে রিমান্ডে নিয়ে জানতে পারলাম ‘নাদান’ টা প্রাপকের ঠিকানার যায়গায় প্রেরকের ঠিকানা লিখে ফেলেছিল ভুলে!! এবং সেটা আমার বাসার ঠিকানা দেয়া ছিল। আমি রাগে,দুঃখে তব্দা মেরে গেলাম! তারপর গিটার শিখতে গিয়ে আড্ডাবাজ আমার বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারাই গেল কমে,লেখালেখি তো দূরের ব্যাপার।
ব্লগের সাথে পরিচয় খুব বেশি দিন আগে না। পরিচয়ের পর ই মোটামুটি প্রেমে পরে গেলাম। কতজনের কত রকমের লেখা,কত বিষয় নিয়ে লেখা!! পড়তাম আর অবাক হতাম। লোভ হত-যদি আমিও লিখতে পারতাম সবার মত!! লেখার আগ্রহও জন্মালো আবার। যদিও খুব বেশি একটা সময় হয়ে ওঠে না।
আমি যথেষ্ট কল্পনাপ্রবণ মানুষ। রাস্তায় হাটতে হাটতে কল্পনাতুর হয়ে যাওয়া আমার খুবই সাধারণ বৈশিষ্ট। হাটতে হটতে কিছু একটা ভবাতে ভাবতে হঠাৎ ই হেসে ফেলি নিজে নিজেই। লোকজন তাকিয়ে থাকে,ভাবে পগল নাকি! আমিও লজ্জা পেয়ে দ্রুত হাটা ধরি। বেখেয়ালি আমাকে মাঝেমাঝে খুব কাছ থেকেও ডাকাডাকি করলে সাড়া দেই না,আসলে বুঝতেই পারি না যে কেউ ডাকছে। এ জন্য ঝাড়ি ও খাই মাঝে মাঝে। পড়ার টেবিলে বসে পড়তে পড়তে উদাস হয়ে দীর্ঘক্ষণ পর নিজেকে আবার বই এর সামনে আবিষ্কার করেছি কতশত বার। বাসা থেকে ঠিক যে কারণে বের হওয়া সেটা না করেই আবার বাসায় ফিরে এসেছি এমন ঘটনাও ঘটেছে বহুবার।
তবুও আসেপাশে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা আমার মত বেখেয়ালি মানুষের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। শহীদুল্লাহ হলে থাকার সময় ক্লাসে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে ড্রাগ এডিক্ট মানুষ গুলো,যারা ভাত না খেতে পারুক হেরোইন নিতে ভুলে না যেমন মনে ভয় এবং খারাপ লাগার অনুভুতির চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে গিয়েছে,আবার ফুটপাতে অনাদরে বেড়ে ওঠা ছোট্ট বাচ্চাটির তার মা এর সাথে খুনশুটি প্রতিনিয়তই ভাললাগার জন্ম দেয়। মানুষ আর কুকুরের একসাথে জড়াজড়ি করে ফুটপাতে ঘুমানো আমাদের সবসময় মনে করিয়ে দেয়- শেষ পর্যন্ত,বেঁচে থাকাটাই সব চেয়ে বড় প্রয়োজনিয়তা। বেঁচে থাকার জন্যই মানুষ কত রকম ঘটনার আশ্রয় নেয়,ঘটনার জন্ম দেয়। কত মানুষ তার শারিরিক কমতি,অক্ষমতা অথবা অসুসস্থতা কেউ পুঁজি করে বেঁচে থাকতে চায়। হাত বা পা এর বড় বড় ক্ষত নিয়ে রাস্তার পাশে বসে সাহায্যের হাত বাড়ায়,অথচ তাদের চিকিৎসা করাতে চাইলে করতে চায় না। তার দগদগে ঘা টাই তার বেঁচে থাকার,দুই বেলা খাওয়ার উপলক্ষ হয়ে আছে। ক্ষত সাড়ালে তার দু’বেলা খাবার পয়সা জোগাড় হবে কিসে??!
এই দেখুন কোথা থেকে কোথায় চলে এলাম। বলছিলাম কি আর এলাম কোথায়?! হয়তো বলে বসবেন-“দয়া করে পড়তে লেগেচি বলে কি মাথা কিনেচিস নাকি? যেচে জ্ঞান দিচ্চিস যে বড়!!” তার চেয়ে মানে মানে আজকের মত বিদেয় হই।
©somewhere in net ltd.