| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাড়ি যাওয়ার পথে যমুনা সেতু(বঙ্গবন্ধু সেতু) পার হওয়ার সময় মন খারাপ লাগে। বড় বিষন্ন প্রায় মৃত নদীর দিকে তাকালে মায়া হয়। এই সেই নদী,ছোট বেলায় লঞ্চে পার হওয়ার সময় যা ভয়ে আমার শরীর কে মা এর সাথে আকড়ে থাকতে বাধ্য করত। আর এখন? অনায়াসে তার উপর দিয়ে পার হয়ে যাওয়ার সময় সে শুধু আমার করুনা মাখা দৃষ্টি টুকু পায়,সমীহ না।
প্রতিবার বাড়ি যাওয়ার পথে আবিষ্কার করি সেতুর নিচে জেগে ওঠা চর দিনদিন বড় হচ্ছে। আগে বর্ষার দিনে চর পানিতে ডুবে যেত। গত কয়েক বছর ধরে লোকেরা দিব্বি বসবাস করে চলেছে ভড়া বর্ষাতেও। ‘পাগলা নদী’ নামে পরিচিত এই নদী এখন কিছু মানুষের বশ! শরৎ কালে কাঁশফুলে ছেয়ে যায় চর। নদীতে পানির পরিবর্তে ঢেউ তোলে কাঁশফুলেরা।
আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ হলেও বাবার চাকড়ির সুবাদে আমার বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইলে। ১৯৯৭ সালে সেতু উদ্বধনের আগ পর্যন্ত আমাদের বাড়ি যাওয়ার জন্য লঞ্চ ই ছিল একমাত্র ভরসা। ফেরি খুব একটা চলত না বললেই চলে। যে লঞ্চ গুলো চলতো সেগুলো মোটেও বরিশাল গামী লঞ্চের মত আকৃতির ছিল না। বাচ্চা সাইজের লঞ্চগুলো মাঝ নদীতে পড়া মাত্র শুরু হত দুলুনি। শিশু বয়সী আমার সারা নদী পথ দোয়া পড়তে পড়তেই পার হত। নদী পারের মানুষ হয়েও তাই নদীর প্রতি ভীতি এখনও রয়ে গেছে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে যমুনার মত পাগলা নদীর এমন করুন পরিনতি মেনে নিতে কষ্ট হয়। মানুষের জীবনযাত্রার স্বার্থে নদীর উপর সেতু নির্মানের যেমন প্রয়োজনীয়তা আছে,তেমনই প্রয়োজনীয়তা আছে বছর বছর নদী ড্রেজিং এর।
অবশ্য যে দেশে মানুষের বাঁচা ই একটা চ্যালেঞ্জ সে দেশে নদী বাঁচানোর কথা বলা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু না।
©somewhere in net ltd.