| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মেজাজ টা বিগড়ে গেল পেপার পড়ে। আওয়ামিলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বলা হয়েছে গনজাগরণ মঞ্চ বন্ধ করার জন্য!! মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি দল এখন ক্ষমতায়(অন্তত তারা দাবী করে এটা।) প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-“ এটা ঠিক নয়। আবেগ দিয়ে রাজনীতি হয় না। রাজনীতি করতে হয় বাস্তবতার নিরিখে।" তিনিও গনজাগরণ মঞ্চ বন্ধের পক্ষে মত দেন!!!
অসাধারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!!! এই হচ্ছে আপনার ‘বাস্তবতার নিরিখে’ রাজনীতি!! আপনার যখন মাথার ঘা এ কুত্তা পাগল অবস্থা, যখন সত্যিকারেই সাধারণ জনগণের জমায়েত হয়েছিল শাহবাগে, তখন পা এর নিচে মাটি খুজে পেতে আপনি শাহবাগের গুন কীর্তনে মেতে উঠেছেন,রাজীব হায়দারের বাসায় ছুটে যেতে পেরেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শাহবগের সুরে সুর মিলিয়েছেন। কৌশলে শাহবাগে আপনার ‘সোনার’ ছেলেদের (ছাত্রলীগ) দিয়ে বিতর্কিত করেছেন। এখন শাহবাগ আপনার মাথা ব্যাথার কারণ না,এখন আপনার মাথা ব্যাথার কারণ হচ্ছে জামাত। তাদের হম্বিতম্বি তে আপনার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মুখোশ খুলে পরেছে। আপনি মাথা পেতে দিয়েছেন একদল ধর্মান্ধের কাছে! আপনি এখন ধর্ম অবমাননার নাম দিয়ে ব্লগারদের ধরছেন,ব্লগ বন্ধ করে দিচ্ছেন। অথচ ধর্মের নাম করে প্রতিনিয়ত সহিংসতা চালানো জামাতিরা যে সব সময় ধর্মের অবমাননা করে যাচ্ছে সে ব্যাপারে আপনি নিশ্চুপ!! মিথ্যা এবং উস্কানিমূলক পোস্ট ছেপে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা, ‘বাঁশের কেল্লা’ নামক ফেসবুক পেজ নাশকতার জন্ম দিচ্ছে সে ব্যাপারে আপনি কথা বলেন না!! আর বলবেন ই বা কি?? সেখানে যে আপনার ‘ভোটের বাস্তবতা’!!! সেখানে আপনার হিসাব করতে হয়,জামাত নিষিদ্ধ করলে কয়টা ভোট বি এন পি এর বাক্সে যাবে!!
জামাতিদের গুরু মওদুদী ইসলামের বিভিন্ন আকীদা,বিভিন্ন আমল নিয়ে কটাক্ষ করেছে তার বিভিন্ন লেখায়। যার কিছু কিছু লেখা পুরোপুরিই ইসলামের আকীদার সাথে বিপরীত। তাকে অন্ধের মত অনুসরণ করা জামাতীরা কি তাবে ইসলামের অবমাননাকারী নয়?? কই, এই ইস্যু তে তো তাদের কাউকে কখনো গ্রেপ্তার করা হয় না!! প্রতিনিয়ত চুরিচামারিতে ব্যাস্ত থাকা সরকারের আজ হঠাৎ ইসলাম প্রেমে উতলা হয়ে ওঠা আসলে যে ইসলাম এর প্রতি ভালবাসা না,বরং স্বার্থের এবং ভোটের খেলা এটা না বোঝার মত বোকা এদেশের তরুণ সমাজ না।
ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা মুনাফিকদের একটা পুরোনো টেকনিক। ইসলামি খিলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও আমরা সেই প্রমান পাই। হজরত উসমান (রাঃ) কে হত্যা করার পর সাবায়ী এর অনুসারীরা যে পরিস্থিতির স্মৃষ্টি করেছিল তা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ।(এখানে লক্ষ করার বিষয় হচ্ছে ‘সাবায়ী', সাহাবী নয়। সাবায়ী ছিল ওই সময়ের সব চেয়ে বড় মুনাফিক এবং তার অনুসারীদের বলা হত সাবায়ী।) এই সাবায়ীদের ষড়যন্ত্রে “জং দে জামাল” বা “The battle of camel” এবং “সিফফিনীর যুদ্ধ” সংঘটিত হয় যেখানে মুসলমানরাই একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। প্রায় ৯০,০০০ মুসলিম শহীদ হন। অবাক হবার বিষয় হচ্ছে “The battle of camel” সংঘটিত হয় হজরত আলী(রাঃ) ও হজরত আয়েশা(রাঃ) এর সাথে এবং “সিফফিনের যুদ্ধ” সংঘটিত হয় হজরত আলী(রাঃ) ও হজরত মুয়াবীয়া(রাঃ) এর সাথে। মুসলিম ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে যেটিকে উল্লেখ করা যেতে পারে। অথচ উনাদের প্রত্যেকেরই উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের উপকার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য
http://ourislamonline.tripod.com/ali.htm এই লিঙ্ক টি দেখতে পারেন। যাই হোক,মুনাফিক জামাতিরা যে এই বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘোলা পানি তে মাছ ধরার আপ্রাণ চেষ্টায় লিপ্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হেফাজতে ইসলামের নামে লং মার্চ করে তারা এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করবে। এক- লং মার্চের সময় কিছু সত্যিকারের আলেম হত্যা,যারা আজীবন ই জামাতের বিরোধী কিন্তু এখন এই নাস্তিক আস্তিক এবং ধর্ম অবমাননার ধোঁয়া তুলে জামাতীরা তাদের কৌশলে নিজেদের দলে টেনে আদতে বিতর্কিত করছে। দুই- সরকার কে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তে ঠেলে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাঞ্চাল করা।
হঠাৎ ই ভীষণ ধর্মপ্রেমি হয়ে ওঠা সরকার জামাতি মুনাফিকদের এই পুরাতন স্বভাব না জানুক ইসলামের হেফাজত করতে নামা ‘হেফাজতে ইসলাম’ এর বিজ্ঞ আলেমগন কেন তাদের আজীবনের শত্রু জামাতিদের কথায় নেচে যাচ্ছেন সেটাই একটা রহস্য!! ব্লগ সম্পর্কে বিন্দু মাত্র ধারণা না থাকা এই আলেম সমাজ কিছু না জেনেই যাকে তাকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন সেটা কি হাদীসের পরিপন্থী না?? ইসলামের পুরোনো শত্রু এই মুনাফিক দের কথায় নেচে বাস্তবিক ক্ষেত্রে ইসলামের মর্যাদা হানী হচ্ছে বলেই আমার মনে হয়।
ওদিকে সরকার আছে ভোট বাক্স সামলানোর চিন্তায়। জামাতিদের মন রক্ষা করে তারা বি এন পি এর সাথে জামাতের পুরোনো সক্ষতার যে বিচ্ছেদ আশা করেছিল বি এন পি এর নির্লজ্জ জামাত প্রীতি তে তা আর সম্ভব হবে বলে মনে হয় না!! মূলত সরকার নিষিদ্ধ জামাত চায় না বরং বি এন পি থেকে বিচ্ছন্ন করে জামাত-বি এন পি জোট ভাঙতে চায়। কারণ নিষিদ্ধ হলে জামাতের সব ভোট বি এন পি এর বাক্সে যাবে যা আওয়ামিলীগের দুশ্চিন্তার কারণ! সেদিক থেকে জোট বিহীন জামাত আওয়ামিলীগের জন্য অনেক কম শঙ্কার কারণ।
কপর্দকহীন বি এন পি এর নির্লজ্জ জামাত প্রীতি,আওয়ামিলীগের ভোটের হিসাব আর জামাতিদের ধর্মের দোহাই দিয়ে যাচ্ছেতাই করে বেড়ানো রাজনৈতিক খেলাতে আমরা সাধারণ জনগন শুধুই খেলার গুটি ছাড়া আর কিছুই না। আমাদের ক্ষোভ প্রকাশের যা একটা মাধ্যম ছিল এই সুযোগে সরকার সেটাকেউ কুক্ষিগত করতে চাচ্ছে!
শেষ করার আগে বলি-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আপনি আপনার পিতৃ হত্যার বিচার ঠিক ই করেছেন। যুদ্ধে আপনার পিতা শহীদ হন নি বলে কি যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ কম হয়ে গেল?!! যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত নির্বাচনে আপনি,আপনার দল তরুণ প্রজন্মের ভোট পেয়েছিলেন আজ সেই তরুণ প্রজন্মের প্রাণের দাবী কে অবজ্ঞা করতে,ছুড়ে ফেলতে আপনার বাঁধে না??!!! তরুণ প্রজন্মের যে ‘আবেগ’ কে সম্বল করে গত বার নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিলেন আজ আপনার সেই ‘আবেগ’ কেই বড় অপ্রয়োজনীয় লাগে!!?? আপনি বাস্তবতার দোহাই দেন!! আপনি আজ একদল ধর্ম ব্যাবসাইয়ীর তাবেদারি তে ভোটের লাভ ক্ষতির হিসাব করতে থাকুন। আমরা আজ আপনার কাছে অচ্ছুৎ!!!
“সেক্যুলার দেশে তুমি থাকো আমি যাই...
ভোটারের দেশে তুমি থাকো আমি যাই...”
©somewhere in net ltd.