| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হাইপারসেনসিটিভিটি খুব খারাপ রোগ। সেটা জেনেছিলাম মেডিকেলে প্যাথলজি পড়ার সময়। বিশেষ করে পরীক্ষার আগে। বাংলা করলে দাঁড়ায় অতিঅনুভূতি(অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা।) সহজ কথায় এলার্জি। রোগ হিসেবে যেমন খারাপ,পড়ার জন্যও খারাপ। বড় খটোমটো লাগে। পরীক্ষার আগে তো রীতিমত আতংকে থাকতাম। ভাইভার সময় আরো ঝামেলা। স্যার এর প্রিয় টপিক হওয়ার কারণে ভাইভাতে উনি এই এক টপিক দিয়েই ছাত্রদের চিপে রস বেড় করে ফেলতেন। সুতরাং এই অতি অনুভূতি ব্যাপার টা আমার কাছে আতংকের বিষয় হয়েই আছে।
আবার বিবাহিত বা প্রেমিক পুরুষ মাত্রেই এই অতি অনুভূতি নামক ব্যাপারটার সাথে খুব ভাল পরিচয় থাকার কথা। প্রেম বা বিয়ের প্রথম দিকে এটা বড় মধুর লাগলেও কিছুদিন পর সেটা যে মুর্তিমান আতংকে রূপ নেয় সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সহজ কথায় ভাল-মন্দ যে কোন কথায় বুঝে-না বুঝে বউ বা প্রেমিকার ছ্যাৎ করে ওঠাই হচ্ছে অতি অনুভুতি।
সে যাই হোক,এই এলার্জি,চুলকানি বা খাউজানিই বলেন আর বউ এর ছ্যাৎ করে ওঠাই বলেন বাস্তবিক জীবনে এটা বড়ই প্যানা দায়ক!! ছোট বেলা থেকে “অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল না” এই প্রবাদ শুনতে শুনতে বড় হলেও পরবর্তিতে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি এর মানে। টের পেয়েছি কত ধানে কত চাল,কত গমে কত আটা,কত আটায় কয়টা রুটি আর কত অনুভূতিতে কতটা প্যানা।
প্যাথলজিতে এই হাইপারসেনসিটিভিটি ৪ প্রকার হলেও বাস্তবিক জীবনের প্যানা দায়ক অতি অনুভূতিকে আমি প্রাথমিক ভাবে ২ ভাগে বিভক্ত করেছি খেটেখুটে।
(১) নিরপেক্ষ অতি অনুভূতি
(২) পক্ষপাতদুষ্ট অতি অনুভূতি
এর মধ্যে নিরপেক্ষ টা একাই একশ। যেমন- ভাল মন্দ যে কোন কথায় বউ এর ছ্যাৎ করে ওঠা। এটার কোন ভাগাভাগি নেই।
কিন্তু পক্ষপাতদুষ্ট টা আবার ২ ভাগে বিভক্ত। যথা-
(ক) ভালর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট
(খ) খারাপের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট
নাম শুনেই বুঝতে পারছেন যে এই ক্যাটাগরির গুলা যে কোন এক দিকে ঠেলেই নিয়ে যায়,কোন যুক্তি বুদ্ধির ধার ধারে না।
এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির উদাহরণ হচ্ছে- মা,বাবার সন্তানের প্রতি অনুভূতি,আর মাঝে মাঝে বউ বা প্রেমিকার অনেক দায়ীত্বশীল হয়ে ওঠা,যদিও খুব রেয়ার!!
আর ‘খ’ শ্রেণির উদাহরণ হচ্ছে- ‘হেফাজতে জামাতে ইসলাম’ এর ‘জামাত’ এর প্রতি প্রেম। নাহ্,ইসলামের প্রতি প্রেম না, জামাতের প্রতি প্রেম।
যাই হোক এই অতি অনুভূতি গিয়ে লিখতে গিয়ে অনেক ত্যানা প্যাচাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে। নিজের কাছেই প্যানা লাগছে। মনে হচ্ছে ‘চরম উদাস’ ভাই এর “কিভাবে ত্যানা প্যাচাবেন” এর “আসিফ নজরুলিয় ত্যানা” টাইপ ত্যানা প্যাচাচ্ছি কি না!! তবে বেশ কিছুদিন যাবৎ দেশে ধর্মানুভূতি ধর্মানুভূতি করে যে পরিমান ত্যানা প্যাচাচ্ছে সবাই সে অনুযায়ী খুব বেশি প্যাচ আমি কষতে পারি নি মনে হয়।
একে তো অনুভূতি নিজেই সেনসিটিভ(!!),সেখানে যোগ হয়েছে ধর্মের মত আরেক সেনসিটিভ বিষয়। ত্যানা পেচবে না কেন? তবে ‘হেফাজতে জামাত ইসলাম’ এর ‘জামাতের’ প্রতি অতি অনুভূতি বড় বেশি একপেশে,চোখে লাগার মত। তাদের ধর্মানুভূতি তে তথাকথিত নাস্তিকদের ধর্ম নিয়ে লেখা লেখি আঘাত করে,কিন্তু মওদুদীর নবী রাসুলগন কে নিয়ে আপত্তিকর লেখা আঘাত করে না।
আঘাত করে না মওদুদী যখন সাহাবী(রাঃ) দের কে কাঠগড়ায় উঠান,তীব্র ভাবে সমালোচনা করে। উনাদের ধর্মানুভূতি তখন এনেস্থেসিয়া নিয়ে অজ্ঞান হয়ে থাকে যখন মওদুদী ইসলামের বিভিন্ন ব্যাসিক আকীদা নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করে।
উনাদের অনুভূতি তখন চোখ বুজে ঘুমায় যখন মওদুদী নামাজ,রোজা,হজ্জ,যাকাতের মত ৪ টি ব্যাসিক ঈমানী স্তম্ভ কে শুধুই ‘ইসলামি হুকুমাত’ প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ট্রেনিং কোর্স’ হিসেবে তাচ্ছিল্য করে।
উনাদের ধর্মানুভূতি তখন ভোঁতা হয়ে যায় যখন জামাতিরা ধর্মের নাম দিয়ে ৩০,০০০০০ মানুষ কে নির্মম ভাবে হত্যা করতে,৪০০০০০ নারীকে ধর্ষন করতে পাকিস্তানিদের সাহায্য করে,নিজেরাও পিছিয়ে থাকে না!!
ইসলামে অন্যের মনে কষ্ট দেয়া কবীরা গুনাহ্ জেনেও অন্য ধর্মালম্বীদের উপাসনালয় পোড়ায়,ঘর-বাড়ি পোড়ায়,মানুষ মারে।
ইসলামের নাম দিয়ে এই ঘৃণ্য কাজ গুলি যখন করে বেড়ায় তখন ইসলামের অবমাননা হয় না!! অবমাননা হয় কলমের গুতায়।
‘হেফাজতে ইসলাম’ নামধারী ‘জামাতের’ হেফাজত কারীগন, মুনাফিকদের সাহায্য করে ইসলাম কে প্রশ্নবিদ্ধ করা থেকে নিজের ঈমান আগে হেফাজত করুন!!
©somewhere in net ltd.