| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রায় ৪ বছর পর গত ২৩ তারিখে কক্সবাজারে পা রাখলাম।জীবনে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো সাগরের কাছে এলাম।ভেবেছিলাম এইবার সাগর দেখে তেমন কোন ফিলিংস আসবে না,একে তো এইবার ফ্রেন্ডরা নেই সাথে,তার উপর শুনেছি সাগর দেখার প্রকৃত অনুভূতি শুধু প্রথমবারই আসে।আমি বলতে বাধ্য আমার ধারণাটা ভুল ছিল।হয়তো প্রথমবারের মতো অনুভূতি এইবার আসে নি কিন্তু এইবার নতুন নতুন যে অভিজ্ঞতা হয়েছে,যে আনন্দদায়ক মুহূর্তগুলা এসেছে তা প্রথমবারও আসে নি।যেমন এইবার কক্সবাজার এসেই প্রথমে যেটা করলাম সেটা হলো স্পীড বোট দিয়ে সোনাদিয়া দ্বীপে ভ্রমণ।গাইডের মুখে শুনলাম এক সপ্তাহের মধ্যেই দ্বীপটা সমুদ্রের মাঝে তলিয়ে যেতে পারে!গাইডের কথা সত্যি হলে হয়তো এতক্ষনে দ্বীপটা সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে।দ্বীপে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিলো আমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা।ঢেউয়ের সাথে খেলা করে স্পীড বোটটা যেভাবে চলছিলো তা ছিলো সত্যিই মনোমুগ্ধকর একই সাথে ভীতিকর।এক ঢেউ থেকে লাফ দিয়ে বোটটা যেভাবে আরেকটা ঢেউয়ে যাচ্ছিলো সেই দৃশ্য এখনো চোখে লেগে আছে।পুরোটা রাস্তাই বোটে দাড়িয়ে দাড়িয়ে গেলাম।গাইডের নিষেধাজ্ঞাও আমাকে সিটে বসাতে পারে নি।জানিনা কিসের আকর্ষণে এই ঝুঁকিগুলাকে কোন ঝুঁকিই লাগছিলো না।আসলেই ঝুকি ছাড়া জীবনের প্রকৃত আনন্দ পাওয়া যায় না।
এইবার প্রথম জেটস্কি দিয়ে সমুদ্রে গেলাম।আরো ২-৩ বার গেলে হয়তো আর এক্সপার্ট লাগতো না নিজেই একা একা সমুদ্রে স্কি করতে পারতাম।হিমছড়ি,ইনানীতে আগেও গেছি কিন্তু এইবারের অভিজ্ঞতাও খারাপ হলো না।হিমছড়ি থেকে সাগরটা দেখলে সত্যি মন ভালো হয়ে যায়।ইনানীর পাথরগুলা থেকে বীচে ফিরতে যদিও কিছু ঝুকি হয়েছিলো কারণ সমুদ্রের ঢেউ তখন বেড়ে গিয়েছিলো আর যেহেতু পায়ে হেটে ফিরতে হয় তার উপর সাতারও জানি না কিন্তু তারপরও কেন জানি পানি আমাকে কখনোই ভয় দেখাতে পারে নি,সাগরও এইবার পারলো না।আমার মতো কুম্ভকর্ণের পক্ষে সূর্যোদয় দেখা কখনোই সম্ভব নয় তাই এটা দেখার আশাও ছিলো না তবে সূর্যাস্তটা সত্যিই অসাধারণ।সূর্যটা যেন সাগরের মধ্যে ঢুবে যায়,দৃশ্যটা কেমন জানি আনমনা করে দেয় নিজেকে।বলতে দ্বিধা নেই এইসময় কেউ একজনকে অনেক মিস করেছিলাম।
২৫ তারিখ পৌছালাম পার্বত্য এলাকা বান্দরবানে।বান্দরবানের পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তাগুলা খুবই বিপজ্জনক।এইখানে কোন গাড়ি এক্সিডেন্ট করলে কত হাজার ফুট নিচে যে যাবে আল্লাহ মালুম।পরদিন ভোর ৫টায় রওনা দিলাম নীলগিরির পথে।নীলগিরিতে নাকি মেঘ ধরা যায়।যদিও বর্ষাকাল এবং শীতকাল ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব না তবুও আশায় ছিলাম যদি ধরতে পারি।আমার আশা পূরণ হয়নি,মেঘ ধরতে পারি নি কিন্তু যে দৃশ্যটা দেখলাম তা জীবনেও ভুলতে পারবো না।নীলগিরির রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি আর আমার নিচে মেঘ আর মেঘ যেন মেঘের উপর দিয়ে যাচ্ছিলাম।সাদা মেঘের উপর দিয়ে যাচ্ছি দৃশ্যটা আমার কল্পনাকেও হার মানিয়েছে।নীলগিরি সত্যি অপূর্ব।চিম্বুক পাহাড়,শৈলপ্রপাত সবই মনোমুগ্ধকর।তবে বর্ষাকালে এই বান্দরবান নাকি প্রাকৃতিক স্বর্গে পরিণত হয়।ইচ্ছা আছে বর্ষাকালে আরেকবার এইখানে আসার।
বাংলাদেশের বিখ্যাত একটি মন্দির স্বর্ণ মন্দির।মন্দিরটা আসলেই দৃষ্টিনন্দন।মন্দিরের সবকিছু সোনালি।ভিতরে স্বর্ণের মন্দির মূর্তি আছে কিন্তু পর্যটকদের সেটা দেখার অনুমতি নেই।তারপর গেলাম মেঘলায়।মেঘলার ঝুলন্ত সেতুটা আমার রাঙ্গামাটি না যাওয়ার আফসোসটা অনেকখানি কমিয়ে দিলো।পড়ন্ত বিকালে গেলাম নীলাচলে।আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে সুন্দর জায়গা।পুরোটা বান্দরবান এই পাহাড় থেকে দেখা যায়।অনেক উঁচু পাহাড় হওয়ায় এইখানের বাতাসটা অনেক আরামদায়ক।এতো আরামদায়ক বাতাস আমি কখনো পাই নি।আসতে ইচ্ছা করছিলো না এইখান থেকে একদম।সত্যি বান্দরবান প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অনন্য উদাহরণ।
কিছু আফসোসঃদেখতে পারলাম না বগা লেক,কিওক্রাডং,তাজিওডং,রিঝুক ঝর্ণা।কারণ এইগুলাতে যেতে আসতেই ২ দিন লাগে,এতো সময় ছিলো না হাতে।রাঙ্গামাটি ও যাওয়া হলো না।অবশ্য রাঙ্গামাটি যাওয়ার প্ল্যানও আমাদের ছিলো না।নির্ধারিত দিনে প্রাকৃতিক বৈরিতার কারণে সেন্টমাটিনও যাওয়া হলো না।ইনশাল্লাহ এই আফসোসগুলা দূর হবে শীঘ্রিই
হতাশাঃএই এক সপ্তাহে পুরো আফ্রিকানদের মতো হয়ে গেছি
পরিশেষে অশেষ ধন্যবাদ আমার একমাত্র ভাই তামিম কবির,ভাবি নুসরাত ফৌজিয়া এবং মেজ মামী রিনা বেগমকে আমার ভ্রমণটাকে আরো আনন্দময় এবং উপভোগময় করার জন্য
©somewhere in net ltd.