নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টারজান০০০০৭

টারজান০০০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভারতের ইতিহাসে স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের অবদান।

২৪ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৮




শুরু করলাম ব্লগের আমিন রবিন ভাইয়ের একটা কমেন্ট দিয়া ,
" আমাদের ভাবটা এখন এমন যেন, ৭১ আর ৫২ ছাড়া আর কখনই এ দেশে কোন দেশপ্রেমি ছিলইনা।" আমি বলেছিলাম ,"আমিন ভাই ঠিকই বলেছেন। শান্তি , সুনীতি আর মাস্টারদার কথাতো তাও প্রথম আলুতে আসে , হলগুলোর নামকরণও হয়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মুসলিম বীরদের তো কোনো নামই শোনা যায়না ! যেন ব্রিটিশরা স্বাধীনতার ডিম এমনিই পাইরা দিয়া গেছে ! আগের দেড়শো বছর ধইরা যে ব্রিটিশদের গর্ভবতী করন লাগছে সে কথা কেউ কয়না। মাস্টারদাদের আগে বোধহয় উপমহাদেশে কোনো বিপ্লবী ছিলই না !" জাতি তাহাদের ভুলিয়া গিয়াছে বা ভুলাইয়া দেওয়া হইয়াছে।

যাহারা ব্রিটিশ শাসনামলের দীর্ঘ সময় ধইরা ব্রিটিশদের গর্ভবতী কইরা ভারতের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিলো সেই সব মুসলিম বীরদের কয়েকটি নাম নিচে দেওয়া হলো :

• মাওলানা কাসেম সাহেব, উত্তর প্রদেশর দেওবন্ধ মাদ্রাসাকে ব্রিটিশ বিরোধী এক শক্তিশালী কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলেন । সেই দেওবন্ধ মাদ্রাসায় আজও কোরআনের তালিম দেওয়া হয় ।

• ভারতের ইতিহাসের পাতা উল্টালে যাদের নাম অবশ্যই পাওয়া যায় তারা হল – গান্ধীজি, নেতাজী সুভাষ, অরবিন্দ, জোহরলাল, মোতিলাল..।
এদের সমতুল্য নেতা আতাউল্লা বুখারী, মাওলানা হুসেন আহমাদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা গোলাম হোসেন প্রমুখ..( এনারা বহু বার দীর্ঘ মেয়াদী জেল খেটেছেন)

• ইংরেজ বিরোধী কর্যকলাপের জন্য যার নামে সর্বদা ওয়ারেন্ট থাকতো , সেই তাবারক হোসেনের নামও ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না ।

• তৎকালিন সময়ে সারা হিন্দুস্থানের কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন । যার সংস্পর্শে আসলে হিন্দু মুসলিম নব প্রান পেতেন, সেই হাকিম আজমল খাঁ কে লেখকেরা বোধ হয় ভূলে গিয়েছেন ।

• মহাত্মা গান্ধী, জহরলাল যার সাহায্য ছাড়া চলতেনই না , সেই মাওলানা আজাদকে ইতিহাসের পাতায় কতটুকু স্থান দেওয়া হল ?

• মাওলানা মহম্মদ আলি ও শওকত আলি । ৫ বার দীর্ঘ মেয়াদী জেল খেটেছেন । ‘ কম রেড ‘ ও ‘ হামদর্দ ‘ নামক দুটি ইংরেজ বিরোধী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন । তাদের নাম ইতিহাসের ছেড়া পাতায় জায়গা পায় না ।

• খাজা আব্দুল মজীদ ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টার হন ।
জওহরলালের সমসাময়িক কংগ্রেসের কর্মী ছিলেন। প্রচন্ড সংগ্রাম করে তার এবং তার স্ত্রী উভয়ের জেল হয় । ১৯৬২ সালে তার মৃত্যু হয় । ইতিহাসের পাতায়ও তাঁদের নামের মৃত্যু ঘটেছে ।

• P.H.D ডিগ্রিধারী প্রভাবশালী জেল খাটা সংগ্রামী সাইফুদ্দিন কিচলু ।
বিপ্লবী মীর কাশেম, টিপু সুলতান , মজনু শা , ইউসুফ… এরা ব্রিটিশদের বুলেটের আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলাও ইতিহাসের পাতা থেকে নিশ্চিহ্ন হলো কিভাবে..?

• সর্ব ভারতীয় নেতা আহমাদুল্লাহ । তৎকালীন সময়ে ৫০ হাজার রুপি যার মাথার ধার্য করেছিল ব্রিটিশরা । জমিদার জগন্নাথ বাবু প্রতারনা করে, বিষ মাখানো পান খাওয়ালেন নিজের ঘরে বসিয়ে । আর পূর্ব ঘোষিত ৫০ হাজার রুপি পুরষ্কার জিতে নিলেন ।

• মাওলানা রশিদ আহমদ । যাকে নির্মম ভাবে ফাঁসি দিয়ে পৃথিবী থেকে মুছে দিলো ইংরেজরা । ইতিহাস লেখক কেন তার নাম মুছে দিলেন ইতিহাস থেকে ।

• জেল খাটা নেতা ইউসুফ, নাসিম খাঁন, গাজি বাবা ইয়াসিন ওমর খান তাদের নাম আজ ইতিহাসে নেই কেনো…?

• ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পরে, কুদরাতুল্লা খানে মৃত্যু হল কারাগারে । ইতিহাসের পাতায় তার মৃত্যু ঘটলো কিভাবে…?

• নেতাজী সুভাষ বসুর ডান হাত আর বাম হাত যারা ছিলেন..।ইতিহাসে তাদের নাম খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা হলেন আবিদ হাসান শাহনাওয়াজ খান , আজিজ আহমাদ, ডি এম খান , আব্দুল করিম গনি , জেট কিলানি , কর্নেল জ্বিলানী প্রমুখ ..। এদের অবদান লেখকেরা কি করে ভুলে গেলেন…?

• বিদ্রোহী গোলাম রব্বানী, সর্দ্দার ও হয়দার, মাওলানা আক্রম খাঁ , সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আনসার । এদের রক্ত আার নির্মম মৃত্যু কি ভারতের স্বাধীনতায় কাজে লাগেনি …?

• বিখ্যাত নেতা জহুরুল হাসানকে হত্যা করলে মোটা অঙ্কের পুরষ্কার ঘোষনা করে ইংরেজ সরকার।

• মাওলানা হজরত মুহানী এমন এক নেতা, তিনি তোলেন সর্ব প্রথম ব্রিটিশ বিহীন চাই স্বাধীনতা ।

• জেলে মরে পচে গেলেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ, তার নাম কি ইতিহাসে ওঠার মতো নয়…!?

--------হাফেজ নিশার আলি যিনি তিতুমীর নামে খ্যাত ব্রিটিশ রা তার বাঁশের কেল্লা সহ তাকে ধংব্বস করে দেয়…। তার সেনাপতি গোলাম মাসুমকে কেল্লার সামনে ফাঁসি দেওয়া হয়…।

• কিংসফোর্ড কে হত্যা করতে ব্যার্থ ক্ষুদিরামের নাম আমরা সবাই জানি , কিংসফোর্ড হত্যাকরী সফল শের আলী বিপ্লবীকে আমরা কেউ জানিনা ।
• কলকাতার হিংস্র বিচার পতি জর্জ নরম্যান হত্যাকরী আব্দুল্লার নামও শের আলীর মতো বিলীন হয়ে আছে..।

• বিখ্যাত নেতা আসফাকুল্লা । ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বীর আব্দুস সুকুর ও আব্দুল্লা মীর এদের অবদান কি ঐতিহাসিক ভূলে গেছেন ।

তথ্যসূত্রঃ রাজনীতিতে বঙ্গীয় ওলামার ভূমিকা, লেখক- ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ
কৃতজ্ঞতায় : আমার জনৈক দোস্ত।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:০০

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট

২| ২৫ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:০১

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: লাইক দিলাম

৩| ২৫ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:০২

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম।

২৫ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:১০

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ ফরিদ ভাই। খুবই আফসোসের সাথে বলছি আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জানে না , আমিও অনেকের নাম জানতামনা। পেপারে , বা আমাদের বুদ্দুজীবীদের লেখালেখিতেও আসে না !

৪| ২৮ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৮:০৫

আবু মুছা আল আজাদ বলেছেন: অনেক তথ্য একসাথে পেলাম ।

বাস্তবটাই আপনার লেখাতে আসছে। কিন্তু সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে অন্য .......................

বৃটিশ শাসনাধীনে সবচেয়ে বেশী সঙগ্রাম করেছে তো মুসলিম সম্প্রদায়ই। তাদের তো এত সঙগ্রামের দরকার ছি না। তাদের ঐরকম কোন সমস্যাও ছিল না।

২৮ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:৪৩

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ।

৫| ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৫

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: চমৎকার লেখা্ ভাই এই বইটি কোথায় পাওয়া যাবে? বইটি আমার খবুই দরকার। জানালে কৃত্জ্ঞ থাকবো।








ধন্যবাদ। ভালো থাকুন নিরন্তর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.