নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টারজান০০০০৭

টারজান০০০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

৫ ই মে : দ্বীন জিন্দা হোতি হ্যায় , হার কারবালা কি বাদ।

০৫ ই মে, ২০১৭ রাত ১০:৪৫

দ্বীন ইসলামের নবজাগরণ ঘটে কারবালার মতন প্রত্যেক কুরবানীর পরে। আমি উর্দু ভালো জানি না। সাদা সিধা অনুবাদ এমন হইতে পারে। আমার জীবনের এক বিয়োগান্ত ঘটনা ৫ই মে। আমার কোনো নিকটাত্মীয় সেদিন ভিকটিম হননি। একজন মুসলমান হিসেবে ওলামা হজরত আমার আত্মার আত্মীয়।তাহারা ওয়ারিসুল আম্বিয়া। অর্থাৎ নবী-রাসূলগণের উত্তরসূরি।পৃথিবীতে নবী-রাসূল আর আসিবেন না ।আর নবী রাসূলরা পার্থিব সম্পদের উত্তরাধিকারী বানান না। ঐশী জ্ঞানের উত্তরাধিকারী বানান। আমাদের ওলামা হজরত তাই নবীদের ওয়ারিশ। কারণ তাহারা ঐশী জ্ঞান অর্জন করেন এবং চর্চা করেন।
ওলামা হজরতগণ মানুষ। তাহারা নবী বা ফেরেস্তা নহেন। তাহাদের মানবীয় দোষত্রুটি থাকিবে ইহাই স্বাভাবিক। তাই বলিয়া তাহাদের গালাগালি, অপমান , হত্যা দ্বীন ইসলাম ধ্বংসেরই চেষ্টা।
যাহা হউক , আজ ৫ ই মে। আজ ওলামা হজরত , কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের কুরবানীর দিন। পেছনের ঘটনা বিস্তারিত বলিতেছি না । কি ঘটিয়াছিল তাহা কমবেশি সবাই জানেন। যে যে রঙের চশমা পড়িয়াছিলেন ঘটনাকে সেভাবেই দেখিয়াছিলেন , এখনো দেখেন ! আমার বিষয় তাহা নহে। তাহাদের কুরবানীর ফলে আমরা কি কি অর্জন করিলাম তাহাই আলোচনার বিষয়। নিচে কিছু আলোকপাত করিলাম :
১. তাহাদের কুরবানী বাংলাদেশে নাস্তিকতার ঢেউকে থামাইয়া দিয়াছে। জি , নাস্তিকতা নহে , তাহার ঢেউকে। ধর্মের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগারে এবং বক ধার্মিকদের ন্যাক্কারজনক আচরণে আমাদের এক প্রজন্ম গড়িয়া উঠিতেছিল যাহারা বুঝিয়া হউক বা না বুঝিয়া হউক নিজেকে নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করিত।তাহাদের কুরবানী নাস্তিকতার ক্রেজকে থামাইয়া দিয়াছে। নাস্তিকতাকে গালিতে পরিণত করিয়াছে।
২. তাহাদের আন্দোলন পাঁঠাদের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড যেমন আল্লাহ , নবী , রাসূল , সাহাবা, সর্বোপরি ইসলাম ও ঈমানী বিষয়াবলী সম্পর্কে অবমাননাকর লেখনী যাহা সাধারণ আইনেও অপরাধ সাব্যস্ত হয় সে সম্পর্কে সাধারণ মুসলমানদের অবহিতকরণ, সচেতনতা সৃষ্টি , বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করা ইত্যাদি সফলভাবে সংগঠিত করে।
৩. ইসলামের পক্ষে ও বিপক্ষে শক্তি পরিষ্কারভাবে বিভক্ত হইয়া যায়। তাহাদের গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে, তাহা পরিষ্কার হইয়া যায়। তাই সংবাদপত্র, ব্লগ, প্রেসনোট প্রভৃতি জায়গায় লেখক, রাজনীতিবিদ , বুদ্ধুজীবী দের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে তাহাদের বরং ল্যাংটা করিয়া দেয়।
৪. ধর্ম ব্যাবসায়ী ছাগু, আবাল বিএনপির দুরভিসন্ধি জাতির সামনে পরিষ্কার হইয়া যায়। তাহারা এই মহৎ উদ্দেশ্যে গঠিত জামাতকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করিতে চাহিয়াছিল।
৫. ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা , গ্রহণযোগ্যতা একেবারে তলানিতে পৌঁছে। ফতোয়া বা কোনোরকম ঘোষণা ছাড়াই একথা প্রচার হইয়া যায় যে আলেম হত্যাকারীদের ভোট দেওয়াও হারাম ! যাহার ফলে হিরণের মতন জনহিতৈষী মেয়রকেও ভোটে হারিতে হয়। "তুই মানুষ না আওয়ামীলীগ " এই কথা প্রচলিত হইয়া যায়।
৬. মাঠ পর্যায়ে সরকারি দলের লোকজন বিব্রতকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। দলীয় নেতাদের গালগল্প কেহ বিশ্বাস করে নাই। নেতাকর্মীদের অনেকের সাথেই কওমি সম্প্রদায়ের ঘনিষ্টতা ছিল। মানুষ তাহাদের দিকে ঘৃণার নজরে তাকাইতেছিলো।আত্মসমর্থনের কোনো জায়গা তাহাদের ছিল না। শিক্ষিত নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলিয়া দেখিয়াছি, তাহারাও হতভম্ব হইয়া গিয়াছিলেন।
৭. সরকারি দল এমন স্ট্র্যাটেজিক ভুল কিভাবে করিলেন তাহা ধারণার বাহিরে ছিল। হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।মূলত কওমি সমাজকে নিয়া গঠিত। যাহাদের মধ্যে বিরোধী দলের শরিক কিছু ওলামায়ে কেরামও ছিলেন ।সমগ্র কওমি সমাজ আদর্শিক ভাবেই ছাগু বিরোধী।তাহারা যুদ্ধাপরাধীও নহেন । বৃহত্তর অংশের, রাজনীতির সাথে কোনো সম্পর্কও নাই। অথচ সমাজে ব্যাপক প্রভাব রহিয়াছে । সরকারি দলের উচিত ছিল কাটা দিয়া কাটা তোলা। কওমিদের প্রমোট করা। তাহা হইলে ছাগুদের ধ্বংস অনিবার্য ছিল। পরিস্হিতি পুরোই বিপক্ষে চলিয়া গিয়াছিল । যাহা সংশোধনের চেষ্টা পরবর্তীতে দেখা যাইতেছে কওমি ডিগ্রির স্বীকৃতির মাধ্যমে।
৮. সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালারই ! আল্লাহর বিশেষ রহমতে এতো বড় জামাতের নিয়ন্ত্রণ আল্লামা শফি (দামতবারাকাতুহুম)সুচারু ভাবেই আঞ্জাম দিয়াছিলেন । না হইলে গৃহযুদ্ধ বা পাকিস্তানের মতো হওয়া অসম্ভব ছিল না। সর্বমহলে তাহার গ্রহণযোগ্যতা এই জামাত নিয়ন্ত্রণে এবং সরকারের শুভবুদ্ধির উদয়ে সহায়তা করিয়াছিল। পাঁঠাদের সকল অপপ্রচার হিতে বিপরীত হইয়াছিল। তাহারাই ল্যাংটা হইয়া যাইতেছিলো। যেসমস্ত সংবাদপত্র তাহাদের প্রমোট করিতেছিল সাধারণ জনগণ তাহাতে থুতু দিতো।
৯. এই ঘটনার পরেই আবাল গণতন্ত্রের মৃর্ত্যু ঘটে। দেশে আবাল গণতন্ত্র আসার সম্ভাবনা তিরোহিত হইয়া যায় । গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে একনায়কতন্ত্রই চলিবে। সেটা বাআল, সেনাবাহিনী, ইউনুস যেই আসুক না কেন। গোলাপি ম্যাডামের কুনু চান্স দেখি না।
১০. সবশেষে পাঁঠাদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হইয়া যায়। প্রথম দিকে সরকারের জুলুমে বগল বাজাইলেও শীঘ্রই সরকারের ইউটার্ন দেখিয়া তাহাদের বিচি গলিয়া যাইতে থাকে। সবশেষে দাওরা কে ডিগ্রি সমমান দিলে তাহাদের বিচিতে কামড় দেওয়া ছাড়া আর কুনু উপায় থাকে না!
১১. সরকারের চাপে পাঁঠাদের ব্লগ গুলো বন্ধ হইতে থাকে। বহু পাঁঠা তাহাদের বিচি লুকাইতে ব্যাস্ত হইয়া পরে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে সামু বিভিন্ন দূতাবাসে ধর্ণা দিতে থাকে। অবশেষে বাক স্বাধীনতার দোহাই দিয়া সামুর শরীরে যেসমস্ত নোংরামি লাগিয়াছিল সামু তাহা পরিষ্কার করিতে শুরু করে। বিচি ফাটিয়া যাইবে এই ভয়ে পাঁঠারাও সামুকে ত্যাগ করা শুরু করে। ছাগুরাও পুন্দানোর চোটে পিছনে ব্যাথা নিয়া ভাগিতে থাকে ! সামুর বিনুদুন বহুলাংশে শেষ হইয়া যায়।
১২. অবশেষে বিল্বপত্র পরা টারজানের আবির্ভাবে ব্লগ আলোকিত হইয়া যায় ! খিকজ ! :D

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১২:২৪

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: টারজানের মতই পোষ্ট। +++++++++++

১৯ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১২:৫২

টারজান০০০০৭ বলেছেন: টারজানের মতন বলিতে কেমন বুঝাইলেন ভ্রাতা ?

২| ১৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:৫২

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: দূর্দান্ত।

১৯ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৫:০২

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩| ২৫ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৪:৩১

নতুন নকিব বলেছেন:



জাজাকুমুল্লাহু আহসানাল জাজাহ।

আপনি দূরন্ত, তা জানি। কিন্তু, এরকম সাহসী পোস্ট যে দিবেন তা জানব কি করে! আজই দেখলাম।

ধন্যবাদ, ভ্রাতা। ভাল থাকুন অহর্নিশ।

২৫ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৪:৫২

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ ! নিজেকে সাহসী মনে করিনা। তবে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলারই চেষ্টা করি।
হেফাজত সম্পর্কে ব্লগে অনেকেরই ভুল ধারণা আছে। বেশিরভাগই মিডিয়ার চোখ দিয়া অথবা পশ্চিমা, ধর্ম বিদ্বেষী চশমা পড়িয়া ঘটনা দেখিয়াছে।বড় কঠিন সময় গিয়াছে।ঘটনার একটা বিশ্লেষণ প্রয়োজন ছিল , চেষ্টা করিয়াছি ! আবারো ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.