নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টারজান০০০০৭

টারজান০০০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্মীয় অবমাননা ও কতিপয় জিজ্ঞাসা !!!!!!

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৯



ধর্মীয় অবমাননা লইয়া পোস্ট দেওয়া বিপদজনক ! যেহেতু ঘটনাস্থলে আমরা কেহ থাকিনা, টিভি, সংবাদপত্র, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদিই জানার মাধ্যম ! মিডিয়ার দুয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগই পাঁঠাদের খপ্পরে ! আমাদের দেশে জার্নালিজম বিষয়টাই , এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও পাঁঠারা দখল করিয়া রাখিয়াছে ! মিডিয়া হইয়া গিয়াছে ইনফোটেইনমেন্ট ! জনগণকে সত্য-মিথ্যা খবরের মাধ্যমে , ফিচারের মাধ্যমে বাস্তব থেকে দূরে রাখিয়া স্বার্থ হাসিল করা, জনমতের উপর প্রভাব বিস্তার করা মিডিয়ার উদ্দেশ্য ! তিলকে তাল আর তালকে তিল বানানো মিডিয়ার স্বভাব !

সাম্প্রতিক ধর্মীয় অবমাননা ও তৎপরবর্তী হামলা, প্রাণহানির ঘটনায় আমরা টিভি, সংবাদপত্র , ফেসবুক ও ব্লগে দেখিলাম বিপুল আলোড়ন ! সর্বত্র ইহার আলোচনা, মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক দলের নেতা সবাই সংখ্যালঘুদের পাশে যেভাবে দাঁড়াইয়াছে তাহা প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা চাই ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকুক। কেউ কাহারো ধর্মের অবমাননা না করুক। ইসলামের নির্দেশনাও তাহাই। লাকুম দিনিকুম ওয়াল ইয়া দ্বীন ! তোমাদের ধর্ম তোমাদের কাছে, আমাদের ধর্ম আমাদের কাছে ! অন্যধর্মের উপাস্যকে গালি দিতে নিষেধ করা হইয়াছে ! সব মুসলমানেরই ইহা মানিয়া চলা উচিত। ধর্মীয় অবমাননার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা এবং তৎপরবর্তী হামলা , প্রাণহানির প্রেক্ষিতে টিভি, সংবাদপত্র , ফেসবুক ও ব্লগে যেধরনের প্রতিক্রিয়া আসিয়াছে তাহার প্রতিক্রিয়ায় কতগুলো প্রশ্ন সামনে আসিতেছে !

আমাদের দেশে কারা এমন সাহস করিতেছে ? প্রতিবারই অবমাননা হওয়ার পরে সংবাদপত্রে দেখা যায় অভিযুক্ত লেখাপড়া জানেন না, নাদান, ফেসবুক কি জিনিস, খায় না পিন্দে উহাও জানেন না, জানিলেও অবমাননা সে বা তাহারা করে নাই , তাহা হইলে কে করিতেছে ? ইহার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত ! ঈমান আছে এমন কোন মুসলমান তাহাদের নবী স. কে অবমাননা করিবে ইহা বিশ্বাসযোগ্য নহে ! ধর্মীয় অবমাননা পাঁঠাদের পুরোন স্বভাব আর উহা লইয়া পলিটিক্স করা ছাগুদের পুরোন স্বভাব। মিডিয়া পাঁঠাদের খপ্পরে। সুতরাং উহাদের কথা বিশ্বাসযোগ্য নহে। আর সরকার তো সরকারই ! বাকি থাকিল সোশ্যাল মিডিয়া ! উহাতে সত্য-মিথ্যার এতো মিশ্রণ, ঘটনাস্থলে না গিয়া এতো চাপাবাজি, পক্ষপাতিত্ব, অপপ্রচার! মিডিয়ার চোখে দেখিয়াই বেশিরভাগ উপসংহারে আসিয়া যায় ! উহার কোনটি বিশ্বাস করিব আর কোনটি করিব না তাহা নির্ণয় করিতে আইনস্টাইন হইতে হইবে !!

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা। অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত। কতিপয় অপরাধীর কারণে পুরো সম্প্রদায়কে দায়ী করা, ঘরবাড়ি পোড়ানো এগুলো কাপুরুষের কাজ, মুসলমানের নহে। যদিও মুসলমানের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বেই ইহা হইতেছে !

ঘটনা যতটুকু জানা যাইতেছে , অবমাননা ঘটার সপ্তাহখানেক পরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তাহা হইলে প্রশাসন কি করিতেছিল? এতোদিনেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হইলো না কেন ? টিটুকে তখনই গ্রেফতার করিয়া মূল ঘটনা উদ্ঘাটন করা হইলো না কেন ? সংখ্যালঘুদের শুধু ঘরবাড়ি গিয়াছে , সংখ্যাগুরুদের জীবন গিয়াছে, রক্ত গিয়াছে, ২০ গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়িয়া পালাইয়া গিয়াছে ! (যদিও ঘরবাড়ি যাওয়াও উচিত নহে।) মব কন্ট্রোল কি গুলি ছাড়া আর কোনোভাবে করা যাইতো না ? এইসব মৃত ও আহত মানুষদের জন্য কাহাকেওতো বলিতে দেখিলাম না ! পেপারে, ব্লগে কাহাকেও বলিতে শুনিলাম না ! কেহ দেখিতেও গেলো না, ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা ! আফসোস !

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেন বলিবেন যে বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে ? গুজরাট ও কাশ্মীরের ঘটনায় বাংলাদেশ বা কোনো মুসলিম কান্ট্রি কি বলিতে পারিবে ? বলিলে ভারত কি মানিয়া নিবে ? ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কথার প্রতিবাদ হইলো না কেন যে ইহা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার , তোমার নোংরা নাক দূরে রাখ ! এইরকম বিচিহীন পররাষ্ট্রনীতি লইয়া আমরা কি করিব? আওয়ামীলীগের মতন ঐতিহ্যবাহী দলের সরকারের কাছে ইহা কিভাবে আশা করা যায় ?

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৩:০০

চাঁদগাজী বলেছেন:


১৯৮০ সালের পর, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটীর মতো বাংগালী হিন্দু ভারতে চলে গেছে, ভারত সরকার বাংলাদেশের হিন্দুদের ব্যাপারে সতর্ক; আসলে, ভারতের লোকেরা চায় যে, বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা ভারতে চলেগেলে, সবার জন্য ভালো; তারা সেই পথ খুলেছে।

ভারত থেকে মুসলমানেরা আর বাংলাদেশে আসছে না, সেইজন্য বাংলাদেশের লোকজন ভারতের ব্যাপার নিয়ে শংকিত নয়!

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:০৪

টারজান০০০০৭ বলেছেন: তিক্ত হইলেও সত্য, বাংলাদেশের হিন্দুরা বেশিরভাগই বাংলাদেশকে কামাইয়ের জায়গা আর ভারতকে বাড়ি করার জায়গা বানাইয়াছে ! ভারতের মুসলমানরা তাহা নহে। আমি ব্যক্তিগতভাবেও ইন্ডিয়ান মুসলমানদের জিজ্ঞেস করিয়াছি ! এতো দাঙ্গা , এতো বঞ্চনা, অবিচার, বর্ণবাদ, সাম্প্রদায়িক ছোয়াছুয়ি সত্ত্বেও তাহাদের যখন দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিয়াছি তাহারা দৃপ্ত কণ্ঠে বলিয়াছে , 'আমি কেন ভারত থেকে অন্য কোন দেশে যাব ? ভারত আমার দেশ। এটাই আমার জন্মভূমি।'

আমার শৈশব কাটিয়াছে সনাতন ধর্মীদের মাঝে। শৈশবের বন্ধুদের একে একে দেশ ত্যাগ করিতে দেখিয়াছি। তাহাদের চোখের পানি আমার চোখেও ঝড়াইয়াছে ! পরবর্তীতে তাহাদের যখনই অবস্থা জিজ্ঞেস করিয়াছি, কেহ বলে নাই ভালো আছি ! গেলি কেন ? এই প্রশ্নের কোন উত্তর পাই নাই ! তাহাদের প্রতি অত্যাচার, দখল ইত্যাদি হয় নাই ইহা বলিতেছি না ! সব আমলেই কম বেশি হইয়াছে ! সংখ্যালঘুদের প্রতি অত্যাচার, অবিচার, অসদাচরণ সবদেশেই কমবেশি হয়, ভারতেও মশহুর। তারপরও ভারতের মুসলমান , দেশ ত্যাগ করে নাই। হইতে পারে কোনো মুসলমান দেশ তাহাদের ভারত যেমন হিন্দুদের আশ্রয় দিয়েছে তেমন করে আশ্রয় দেবেনা ইহা ভেবে ! হিন্দুদের দেশ ত্যাগ যতটা না অত্যাচার, তার চেয়ে বেশি ধর্মীয় আবেগ বলিয়াই আমার বিশ্বাস। এখনতো তাহাদেরই সুদিন। কে কত অসাম্প্রদায়িক, তাহাদের কতখানি নিকটজন তাহা প্রমানের প্রতিযোগিতা চলিতেছে !

২| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:০৫

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: কতটা অসহায় হলে একজন মানুষ নিজের পৈতৃকভূমি ত্যাগ করে; বাঙালি মুসলমানদের উপলোব্ধি হবে না। তারা অনন্তকাল ধরেই বলে যাবে, এ দেশের সংখ্যালঘুরা ভালো আছে। চাক্ষুস প্রমাণ সামনে থাকা সত্ত্বেও অস্বীকার করবে সব অবিচার!

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৪০

টারজান০০০০৭ বলেছেন: "কতটা অসহায় হলে একজন মানুষ নিজের পৈতৃকভূমি ত্যাগ করে; বাঙালি মুসলমানদের উপলোব্ধি হবে না।"

সংখ্যালঘুরা সব দেশে, সবসময় ভালনারেবল থাকে ! সংখালগুরুরা কেহ উপলব্ধি করে না দাদা ! ইন্ডিয়াতেই দেখুন কোনো হিন্দু কি উপলব্ধি করে ? তবে মুসলমান ভারতে অসহায় অবস্থাতেও নিজ দেশেই আছে। দেশ ত্যাগ করে নাই। বুকে হাত দিয়ে বলুন, ভারতে মুসলমানের চেয়ে বাংলাদেশে হিন্দুরা কি ভালো নেই ? সংখ্যালঘুদের প্রতি আমার সহানুভূতি আছে। এমনকি বাংলাদেশ হওয়ার পরও তাহারা দখল , অত্যাচার, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিয়াছে কোনো সন্দেহ নাই ! তবে ভারতের মুসলমানদের চেয়েও কি বেশি ? তাহারাতো দেশ ত্যাগ করে না ?

" তারা অনন্তকাল ধরেই বলে যাবে, এ দেশের সংখ্যালঘুরা ভালো আছে। চাক্ষুস প্রমাণ সামনে থাকা সত্ত্বেও অস্বীকার করবে সব অবিচার!"

আবারো বলছি এদেশে অন্য অনেক দেশের সংখ্যালঘুদের তুলনায় ভালো আছে। এই সরকারের সময়ত অবশ্যই আছে ! মিডিয়ার চাক্ষুষ প্রমান , আর বাস্তবের চাক্ষুষ প্রমানের পার্থক্য আছে দাদা, ইহা অস্বীকার করিবেন কি ?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.