নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টারজান০০০০৭

টারজান০০০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্মীয় অবমাননা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন, মিডিয়া আর চুশীলদের "অশ্বত্থামা হত: ইতি গজ।"

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৩৩



অশ্বত্থামা মহাভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। অশ্বত্থামা হল গুরু দ্রোণ এর পুত্র।

কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধে অশ্বত্থামা এর বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি পাণ্ডবদের বহু সেনাদের হত্যা করেন। তাকে বধ করা প্রায় অসমম্ভ হয়ে পড়ে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে দ্রোণাচার্য অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলে দ্রোণকে বধ করার জন্য পান্ডবগণ শ্রীকৃষ্ণ এর কাছে পরামশ করেন। আর তখন শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের বলেন কোন ভাবে যদি গুরু দ্রোণ এর কানে অশ্বত্থামা এর মৃত্যুর খবর পোঁছানো যায় তাহলে সে সময় ধৃষ্টদ্যুম্ন তাঁকে হত্যা করবে। শ্রীকৃষ্ণ এর পরামর্শ‌ মতে ভীম বনের এক হাতীকে হত্যা করেন। আর সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন যুধিষ্ঠির। আর গুরু দ্রোণ একমাত্র যুধিষ্ঠির এর কথাকে বিশ্বাস করবেন।

যখন দ্রোনাচার্য যুধিষ্ঠিরকে পুত্র অশ্বত্থামার কথা জিজ্ঞাসা করেন, তখন যুধিষ্ঠির উত্তর দিলেন, "অশ্বত্থামা হত ",কিন্তু কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হইল জানিয়া অনুচ্চস্বরে বলিলেন, "ইতি গজ ",অর্থাৎ অশ্বত্থামা নামে একটি হাতি মরিয়াছে। 'ইতি গজ' শব্দটি আস্তে বলাতে দ্রোণচার্য মনে করেন যে তাঁর পুত্র অশ্বত্থামার মৃত্যু সংবাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর দ্রোণাচার্য অস্ত্র ত্যাগ করলে– ধৃষ্টদ্যুম্ন তাঁকে হত্যা করেন।

পরিষ্কার করিয়া কোন কথা না বলা, কতকটা প্রকাশ আর কতকটা গোপন করা, এইরূপ স্থলেই . এই প্রবাদ ব্যবহৃত হইয়া থাকে। (উইকিপিডিয়া)


এক্ষণে সাম্প্রতিক ধর্মীয় অবমাননা, প্রাণহানি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি পোড়ানো ইত্যাদির সংবাদ, টিভি , সংবাদপত্র ফেসবুক , ব্লগের বিভিন্ন পোস্ট যদি বিশ্লেষণ করা যায় তাহা হইলে তাহাদের ভূমিকা যুদ্ধিষ্ঠীরের ন্যায় বলিয়া প্রতীয়মান হয়। সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া অন্যায় হইয়াছে কোনো সন্দেহ নাই, ইহা ইসলামের শিক্ষাও নহে, ইহাতে প্রতিবাদ করা যথার্থই হইয়াছে , সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানো বিরাট মহত্বও হইয়াছে সন্দেহ নাই, তবে "ইতি : গজ !" এর মতন ধর্মীয় অবমাননা, মব কন্ট্রোলে পুলিশের গুলি চালানো, প্রাণহানি, আহত ও নিহতদের খবর , ২০ গ্রামের মানুষের পুলিশের ভয়ে পলায়ন, সংখ্যাগুরুদের প্রতি অবিচার ইহা এতই আস্তে বলিয়াছেন যে জনগনের, প্রশাসনের, নেতা , মিনিস্টার কাহারো কর্ণগোচর হয়নাই ! যাহার ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি মানুষের , প্রশাসনের এমনকি ফহিন্নির পুত ভারতের সহানুভূতিও জন্মিয়াছে, সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা হইয়াছে , মন্ত্রী মিনিস্টার, নেতা খ্যাতা সবার পদার্পন ঘটিয়াছে কিন্তু আহত , নিহত , পলায়নপর সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় দ্রোণের মতো ভাষাহীন, সহানুভূতিহীন হইয়া শাস্তির সম্মুখীন হইয়াছে, ঘরবাড়ি ছাড়িয়া পলাইয়াছে, জেলে পচিতেছে , তাহাদের নিহত ও আহতদের দেখার সময়ও কাহারো নাই , ক্ষতিপূরণ, সাহায্য সহযোগিতা তো দূরের কথা।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ২:৫৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


প্রথমত, এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মকে বিশ্বাস করে না; ইহা ধর্ম অবমাননা নয়।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মুসলমানেরা মনে করে যে, অন্য ধর্মের সবাইকে তাদের ধর্মকে মেনেই বসবাস করতে হবে।

যাক, বাংলাদেশে মুসলমানেরা হিন্দুদের ক্ষতি করাকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে নিয়েছে, মনে হয়।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৫১

টারজান০০০০৭ বলেছেন: "প্রথমত, এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মকে বিশ্বাস করে না; ইহা ধর্ম অবমাননা নয়।"

হ্যা , অবশ্যই ! একারণেই কোরআনে অন্যধর্মের বিশ্বাসকে নাকচ করা হইয়াছে তাহা অবমাননা নহে।

"বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মুসলমানেরা মনে করে যে, অন্য ধর্মের সবাইকে তাদের ধর্মকে মেনেই বসবাস করতে হবে।"

পাকিস্তান , আফগানের কথা বলিতে পারিনা ! তবে বাংলাদেশের ব্যাপারে আপনার পর্যবেক্ষণ সত্য নহে। এখনতো সংখ্যালঘু,উপজাতিরাই বরং সংখ্যাগুরুদের দৌড়ের উপর রাখিয়াছে ! টিভি, সংবাদপত্র, ফেসবুক , ব্লগ খুলুন তাহাদের অধিকার আদায়ে সংখ্যাগুরুরাই সোচ্চার , তাহাদের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদ সংখ্যাগুরুরাই বেশি করিতেছে ! সরকার , নেতাকর্মী, সবাই তাহাদের পাশে, তাহা হইলে একথা কেমনে বলিলেন !

"যাক, বাংলাদেশে মুসলমানেরা হিন্দুদের ক্ষতি করাকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে নিয়েছে, মনে হয়।"

আপনার পর্যবেক্ষণ ভুল। রাজনীতিবিদদের মধ্যে থাকিতে পারে , সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে এধরণের চিন্তা কখনো ছিলোনা, এখনো নাই। আপনি বরং বলিতে পারেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা যে অধিকার পাইতাছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার, তাহা মুসলমানরা কোনো বিধর্মী দেশে পাইতেছে কি ? সাচার কমিটির রিপোর্ট মনে আছে? আপনি নিজে পশ্চিমা বিশ্বে থাকেন। সাধারণ হিজাবের প্রতিই তাহারা কি ধরণের আচরণ করিতেছে তাহা কি দেখিতেছেন না ! সত্য করে বলুন মুসলমানের ধর্মীয় স্বাধীনতা কয়টি বিধর্মী দেশে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মতো করে সংরক্ষিত হইতেছে ?
মিডিয়ার নজরে দেখিলে ভুল ধারণাই হইবে। সাধারণ মানুষের কাতারে মিশুন, তাহাদের মনোভাব জানুন।ছাগু ছাড়া মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক চিন্তায় নাই। হিন্দু সম্প্রদায় পূর্ন স্বাধীনতাই পাইতেছে।


২| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:১২

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: যদ্দুর জানলাম টিটু নিরক্ষর, নিরপরাধী। পুলিশ তাকে চারদিনের রিমান্ডে নিয়েছে; এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৪৬

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আমার জানা নাই। যদি টিটু নির্দোষ হয় মুক্তি পাক। যে বা যাহারাই দোষী, কঠোর শাস্তি হোক ! তবে জজ মিয়া নাটক দেখিতে চাহিনা ! ধর্মীয় অবমাননার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো উচিত।

৩| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৫৯

শামচুল হক বলেছেন: জাতিগত দাঙ্গা নিপাত যাক
হিন্দু মুসলিম সুখে থাক।

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:২১

টারজান০০০০৭ বলেছেন: সুখে থাক !

৪| ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৯

আমার আব্বা বলেছেন: স্যার আপনার পোষ্ট খুব ভালোলাগে

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:২০

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.