নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টারজান০০০০৭

টারজান০০০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

পলাশীর যুদ্ধে সিরাজুদ্দৌলার পরাজয়ে সশস্ত্র বাহিনী ও গনমানুষের ভূমিকা !!!

১২ ই মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৩



১।"বেলা আটটার সময় হঠাৎ করেই মীর মদন ইংরেজ বাহিনীকে আক্রমণ করেন। তাঁর প্রবল আক্রমণে টিকতে না পেরে ক্লাইভ তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে আমবাগানে আশ্রয় নেন। ক্লাইভ কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন। মীর মদন ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিলেন। কিন্তু মীর জাফর, ইয়ার লুৎফ খান ও রায় দুর্লভ যেখানে সৈন্য সমাবেশ করেছিলেন সেখানেই নিস্পৃহভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁদের সামান্য সহায়তা পেলেও হয়ত মীর মদন ইংরেজদের পরাজয় বরণ করতে বাধ্য করতে পারতেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে সিরাজউদ্দৌলার গোলাবারুদ ভিজে যায়। তবুও সাহসী মীর মদন এবং অপর সেনাপতি মোহন লাল ইংরেজদের সাথে লড়াই চালিয়ে যেতে লাগলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গোলার আঘাতে মীর মদন মারাত্মকভাবে আহত হন ও মারা যান। নবে সিং হাজারী ও বাহাদুর খান প্রমুখ গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধানও একইসাথে মৃত্যুবরণ করেন।

গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান নিহত হওয়ার পর সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফর ও রায় দুর্লভকে তাঁদের অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে তীব্র বেগে অগ্রসর হতে নির্দেশ দেন। কিন্তু উভয় সেনাপতি তাঁর নির্দেশ অমান্য করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল গোলন্দাজ বাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া অগ্রসর হওয়া আত্মঘাতী ব্যাপার। কিন্তু কোম্পানি ও নবাবের বাহিনীর মধ্যে তখন দূরত্ব মাত্র কয়েকশত গজ। বিশ্বস্ত সেনাপতি মোহন লাল নবাবকে পরামর্শ দেন যুদ্ধবিরতি ঘটলে বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী কিন্তু সিরাজ মীর জাফর প্রমুখের পরামর্শে পশ্চাৎপসরণের সিদ্ধান্ত নেন। বিকেল পাঁচটায় সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী নির্দেশনার অভাবে এবং ইংরেজ বাহিনীর গোলন্দাজি অগ্রসরতার মুখে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে অর্থাৎ পরাজয় স্বীকার করে। " (উইকি)



২।বাংলাদেশী জেনারেলের
বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন
আমেরিকান জেনারেল । বাড়ির
ছাদে আড্ডা দিচ্ছেন দুজনে ।
কথা হচ্ছে কার সৈন্যরা বেশি সাহসী এই
নিয়ে।

প্রমাণ দেখানোর জন্য আমেরিকান জেনারেল তার সাথে আসা এক সৈন্যকে বললেন “Jump!”
সৈন্যটি সাথে সাথেই ছাদ
থেকে লাফিয়ে পড়ল!

তারপর আমেরিকান জেনারেল বলল
“দেখলেন কত সাহস?”

বাংলাদেশী জেনারেলও তার এক
সৈন্যকে বললেন,”Jump !”
সৈন্যটি নিচের দিকে তাকাল একবার এবং বলল,
↓↓

“মাথা ঠিক আছে? পারলে নিজে দেন !”
বাংলাদেশি জেনারেল বলল,” দেখছেন কত বড় সাহস!?” (সংগৃহিত । )

৩। সি. আই. এ অফিসে নতুন এজেন্ট দরকার। প্রার্থী দুইজন পুরুষ, একজন মহিলা।

এদের নার্ভ কেমন শক্ত তা পরীক্ষা করতে কর্তৃপক্ষ তাদের প্রত্যেককে একটি করে পিস্তল দিল।

এদের কাজ হবে পাশের রুমে এদের একজন প্রিয় মানুষ আছে। তাকে গুলি করতে হবে। তবে এদের জানানো হয়নি পিস্তলে আসলে কোন গুলি নেই।

প্রথম প্রার্থী রুমে প্রবেশ করে দেখল একটি চেয়ারে হাত মুখ বাধা অবস্থায় তার স্ত্রী।

প্রিয় জনকে দেখে তার চোখ দিয়ে পানি …পড়তে শুরু করে। গুলি করার বদলে ছুটে গিয়ে সে তার স্ত্রীকে মুক্ত করল । ফলে এই পরীক্ষায় সে ফেল মারল।

দ্বিতীয় প্রার্থীর বেলায়ও একই ব্যাপার ঘটল।

তৃতীয় মহিলা প্রার্থী ভেতরে প্রবেশ করে তার স্বামীকে হাত বাধা অবস্থায় পেল। অনেকক্ষণ পর সেই মেয়ে হাপাতে হাপাতে বেরিয়ে আসল।

রেগে মেগে বলতে লাগল আপনারা কি পিস্তল দিয়েছেন গুলিই বের হয় না। শেষ পর্যন্ত পিস্তলের বাট দিয়ে পিটিয়ে আমার স্বামীকে মারতে হয়েছে। (সংগৃহিত । )

৪.সশস্ত্র বাহিনীতে কমান্ড ফলো করা ফরজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বলিয়া গণ্য হয় ! না মানিলে কোর্ট মার্শালে বিচার পর্যন্ত হইতে দেখা যায়। কমান্ড ফলো করা লইয়া বহু কৌতুক শোনা যায়। উপরের দুইখানা তাহারই উদাহরণ ! প্রথম কৌতুকে বাঙালি জেনারেলের কমান্ড না মানাকে সাহস বলিয়া ব্যাঙ্গ করা হইলেও আমার কাছে বাঙালি সৈন্যকেই বুদ্ধিমান মনে হয় ! ইন্টেলিজেন্স আছে এমন কোন মানুষই ইহাই করিবে ! আমেরিকান জেনারেলের কথা শুনিয়া অযথা নিজের জীবন দান করিবে না !

দ্বিতীয় কৌতুকে যদিও নারী জাতিকে ব্যাঙ্গ করা হইয়াছে, বাস্তবে নারী জাতি এমন নহে ! তবে কেহ যদি এই নারীর মতন বুদ্ধি, বিবেচনা, বিবেক, প্রজ্ঞা প্রয়োগ না করিয়া আক্ষরিক অর্থে নির্দেশ পালন করে, তাহার দায়িত্ব পালন হইয়া গেলেও ফলাফল বিপর্যয়কর, অমানবিক হইতে পারে!

সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত ট্রেনিংয়ে বহু অপ্রচলিত , অনৈতিক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে বলিয়া শোনা যায় যাহাতে বিরূপ পরিস্থিতিতেও তাহারা লক্ষ্য হইতে বিচ্যুত না হয়। সেবা প্রকাশনী হইতে প্রকাশিত 'হেল কমান্ডো' বইখানিতে কমান্ডো ট্রেনিং সম্পর্কে ধারণা পাইয়াছিলাম। আর মাসুদ রানাতো আছেই। চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা সব প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হয়। ব্যাবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইহা গুরুত্ব সহকারে শিক্ষা দেওয়া হয়। ইহার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকারও করা যায় না ! তবে প্রশ্ন উঠিতে পারে চেইন অফ কমান্ড ফলো করার সীমা কতটুকু ? সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণের কি ক্রিটিকাল থিংকিং থাকিবে না? দেশের স্বার্থ , নৈতিকতার ক্ষেত্রে কমান্ড অনুসরণ করাই প্রাধান্য পাইবে নাকি বুদ্ধি, বিবেচনা, বিবেক, প্রজ্ঞা মানবতা, নৈতিকতা প্রাধান্য পাইবে ?

৫. ইতিহাসের দিকে তাকাইলে বুদ্ধি,বিবেচনাবোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা পরিহার করিয়া উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কমান্ড মান্য করার ফলে কি কি আকাম হইয়াছে, কমান্ড ফলো না করার কারণে কি কি কল্যাণ হইয়াছে তাহা বহুল পরিমানে পাওয়া যায় ! সর্বপ্রথম ইসলাম দিয়াই শুরু করি।



অথচ আমিরের কথা মানিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জনের ইতিহাস ইসলামে ভুরি ভুরি। আমিরকে মানা আল্লাহর রাসূলকে মানা, আল্লাহর রাসূলকে মানা আল্লাহকে মানা ! তবে কোথায়, কখন , কাহার নির্দেশে, কোন প্রেক্ষিতে আমিরকে মানিলে আল্লাহর সন্তুষ্টি হইবে তাহাই বিবেচ্য বিষয়। অন্ধ অনুকরণ, অনুসরণ নহে।

৬. যুদ্ধের ইতিহাসে একথা বরাবরই দেখা যায়, নেতৃত্বের বিপরীতে যে বা যাহারাই অবস্থান লইয়াছে তাহারা বিরাট ঝুঁকি লইয়াছে। নেতৃত্ব তাহাদের দমনে সর্বপ্রকারে সচেষ্ট থাকিয়াছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে কিছু সংখক জার্মান হিটলারের নাৎসীনীতি, গণহত্যা, উন্মাদ জাতীয়তাবাদী চেতনার বিরোধিতা করিয়াছিলেন । ফলাফল, তাহাদের নির্বাসন বা কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে গমন। বহু লোক ছিল যাহারা হিটলারের উন্মাদনা পছন্দ করিত না , এমনকি সেনাবাহিনীতেও ছিল। কিন্তু তাহারাও নেতৃত্বের বিপরীতে বিবেকের অনুসরণ করিতে পারে নাই !
ভিয়েতনাম যুদ্ধে বহু আমেরিকানের অবস্থান ছিল নেতৃত্বের বিপরীত। তাহা সত্ত্বেও কমান্ড মানিতে তাহারা বাধ্য হইয়াছে, গণহত্যায় অংশগ্রহণ করিয়াছে ! বিবেকের অনুসরণ তাহারা করিতে পারে নাই।
জাপানে পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞে যাহারা অংশগ্রহণ করিয়াছিল নেতৃত্বের হুকুম অনুসরণ করিয়াছে বলিয়া ইতিহাস তাহাদের ছাড় দেয় নাই !
দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধেও দখলদার বাহিনীর দেশীয় সহযোগী অনেকেই ছিল, এমনকি ইহুদিদের ধরাইয়া দিয়েছে ইহুদি এমন ঘটনাও ঘটিয়াছে। আমাদের রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের ইতিহাসতো সর্বজনবিদিত। তাহারাও বিবেকের অনুসরণ করে নাই। পাকিস্তানের ঐক্যবদ্ধ থাকার পক্ষে থাকিয়া তাহারা দোষ করে নাই, কবি ফররুখ আহমেদের দৃষ্টিভঙ্গিও ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের পক্ষেই ছিল, কিন্তু গণহত্যায় সমর্থন তিনি দেন নাই ! তাই যুদ্ধ পরবর্তীতে আহমেদ ছফার সুপারিশে বঙ্গবন্ধু তাহার চাকুরী ফিরাইয়া দিয়াছিলেন ! রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পৃথক থাকিতেই পারে, তাই বলিয়া গণহত্যায় সমর্থন , সক্রিয় সহযোগিতা তাহাদের মৃত বিবেকেরই সাক্ষর !

৭. বিবেকের অনুসরণ না করা , শরীয়তের সীমার মধ্যে না থাকিয়া অন্ধ আনুগত্য দেশ, জাতি ও উম্মাহর বিশাল ক্ষতি করিয়াছে ! জাতীয়তাবাদও ইহার ইন্ধন জোগাইয়াছে। তুর্কি বাহিনীর আর্মেনীয়দের উপর গণহত্যা শরিয়ার সীমা লঙ্ঘন, বিবেকের অনুসরণ না করায় এই অপকর্মের দায় তুরস্ক আজও বহন করিতেছে ! নৈতিকতা, বিবেক, দেশপ্রেম, বৃহত্তর কল্যাণের কথা চিন্তা না করিয়া আসাবিয়াত বা জাতীয়তাবাদের মোহে আরব, তুর্কি খেলাফতের সর্বনাশ ডাকিয়া আনিয়াছে, প্রকারন্তরে পুরো উম্মাহকে টুকরো টুকরো করিয়াছে ! এই ক্ষতি আর পূরণ হয় নাই, হইবেও না বোধ করি। ইতিহাসে পাশ্চাত্যের দ্বারা সংঘটিত যত গণহত্যা, তাহাকে যতই সাফাই গাহিয়া ঢাকিয়া রাখার চেস্টা করা হউক, তাহাদের পাঁঠাগন যতই পশ্চিমা শক্তির মাহাত্ম বর্ণনা করুক, উহা ঢাকিয়া রাখিতে পারিবে না , উহার সকলই অন্ধ আনুগত্যের ফল , বিবেকের অনুসরণ না করার সাক্ষর।
পাকি বাহিনী ও তাহার দোসররা আমাদের উপর যে গণহত্যা চালাইয়াছিলো তাহাও অন্ধ আনুগত্যের কারণে, বিবেকের অনুসরণ না করার কারণে !

৮. আমাদের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সেক্টর কমান্ডারগণ যদি সেনাবাহিনীর কমান্ড অনুসরণ করিতেন, অন্ধ আনুগত্য দেখাইতেন, যেমনটি এরশাদ, আমজাদ দেখাইয়াছিলেন, তাহা হইলে আমাদের স্বাধীনতা সুদূর পরাহত হইত। তাহারা বিবেকের অনুসরণ করিয়াছিলেন বিধায় তাহারা বিদ্রোহ করিয়াছিলেন, পক্ষত্যাগ করিয়াছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করিয়াছিলেন।

৯. হালের ইরাক-মার্কিন যুদ্ধে প্রফেশনাল সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা উল্লেখযোগ্য ! মূল যুদ্ধ করিয়াছে আধাসামরিক উপজাতীয় ফেদাইন বাহিনী, যাহাদের প্রফেশনালিজমের অভাব রহিয়াছে, সেনাবাহিনীর মতন পূর্ণাঙ্গ কমান্ড তাহাদের ছিলোনা, সেনাবাহিনী যেখানে আত্মসমর্পণ করিতেছে, সেখানে তাহাদের যুদ্ধ করার কথা নহে, তথাপি তাহারা আমেরিকার মতন পরাশক্তির সাথে যুদ্ধ করিয়াছে, জয়ের আশা নাই জানিয়াও তাহারা যুদ্ধ করিয়াছে। দেশ আক্রান্ত হইয়াছে, তাই দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাই বিবেকের অনুসরণ, নৈতিকতা, চেতনা।

১০. তালেবানদের লইয়া বিতর্ক থাকিতে পারে, তাহাদেরকে ধর্মান্ধও বলা যাইতে পারে, তবে দেশ যখন বহিঃ শত্রু দ্বারা আক্রান্ত, সামান্য অস্ত্র, দুর্জয় সাহস লইয়া তাহারা আমেরিকার মতন পরাশক্তির বিরুদ্ধে লড়িতেছে ! তাহাদের মোটিভেশন, নৈতিক মনোবল যেকোন বাহিনীর কাছে উদাহরণযোগ্য ! বিশ্বের অনেক যুদ্ধের ইতিহাসে দেশের জন্য সামান্য সামর্থ লইয়া যুদ্ধের উদাহরণ পাওয়া যায়। হিটলারের আক্রমণে ফ্রাঞ্চ যখন আত্মসমর্পণ করিল দ্য গল মুষ্টিমেয় কিছু দেশপ্রেমিকরে লইয়া হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামিলেন ! পরেরটুকু ইতিহাস !

১১. চিন্তার বিষয় হইল পলাশীর যুদ্ধে মাত্র আড়াই হাজার ইংরেজ সৈন্যের বাহিনীর বিরুদ্ধে নবাবের ৬৫ হাজার সৈন্যের বাহিনীর পরাজয় ঘটিল, ইহার পিছনে মীর জাফর, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখের ভূমিকাকে ইতিহাসে বড় করিয়া দেখা হয় ! তাহাদের ভূমিকা বড়ও বটে, তবে দেশ, বিদেশী শক্তির অধীন হইয়া যাইতেছে, বিদেশী বাহিনীর কাছে দেশ হারিতেছে ইহা দেখিয়াও বিপুল সংখ্যক সৈন্য কিভাবে নিষ্ক্রিয় হইয়া রহিল, জেনারেলদের কথা মানিয়া লইল, যুদ্ধপরবর্তী মুক্তিযুদ্ধ কেন শুরু হইল না ! ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠিত হইতে এতো দেরি হইল কেন ! এমনকি জনগনের ভ্রূকুটিও হইল না কেন, ইহা বিরাট চিন্তার বিষয় ! বস্তুত সশস্ত্র বাহিনী ও জনগনের মধ্যে যদি নৈতিক চেতনা না থাকে, দেশপ্রেম যদি ঠুনকো হইয়া যায়, ন্যায়ের পক্ষে , দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার নৈতিকতা, মোটিভেশন না থাকে তাহা হইলে পেশাদার, অস্ত্রসজ্জিত সেনাবাহিনীও কোন কাজে আসেনা ! নবাবের পরাজয় ইহাই নির্দেশ করে ! ইরাকেও একই ঘটনা ঘটিয়াছে ! জেনারেলরা পক্ষ বদলাইয়াছে ! চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করিয়া সেনাবাহিনীও নিষ্ক্রিয় হইয়া গিয়াছিল ! একারণেই খোমিনী নৈতিকতা, মোটিভেশন বিহীন জেনারেলদের মৃর্ত্যুদণ্ড দিয়াছিলেন যাহারা পরাশক্তিগুলোর অন্ধ অনুকরণ করিত, তাহাদের সাথে যুদ্ধ করা সম্ভব নহে মনে করিত, তাহাদের চশমা দিয়া দুনিয়া দেখিত, তাহাদের সংস্কৃতি, বিশ্বাস, জীবনযাপন অনুসরণ করিত! খোমেনী বলিয়াছিলেন, লোকে বলে ,মাথা কাটিয়া ফেলিলে কেহ বাঁচে না, আমার মনে হয় কখনো কখনো মাথা কাটিয়া ফেলিলে ভালোও হইতে পারে। এই ফ্যানাটিক রাষ্ট্রের সমর্থন করার কিছু নাই ! খোমেনীর কার্যাবলীও সমর্থন যোগ্য নহে। তবে খোমেনী যে উদ্দেশ্যে জেনারেলদের অপসারণ করিয়া নতুন নেতৃত্ব তৈয়ার করিয়াছিলেন, তাহা বিবেচনাযোগ্য ! নতুন নেতৃত্ব ফ্যানাটিক হইলেও দেশীয় চেতনার ধারক হইয়াছে এবং তাহারা পুরো সশস্ত্রবাহিনীকেও একই সমান্তরালে নিয়া আসিয়াছে। বিদেশী শক্তি বা শত্রুপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয় নাই।

১১. চেইন অব কমান্ড জরুরি সন্দেহ নাই ! তবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নৈতিক চেতনা, গণমানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা, নৈতিক মনোবল চাঙ্গা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ! না হইলে মীর জাফর, রায় দুর্লভ, জগৎশেঠ, ঘষেটি বেগমের উদ্ভব হইলে সশস্ত্রবাহিনী নিষ্ক্রিয় হইয়া যাইবে, গনমানুষের সম্পৃক্ততা না থাকিলে , দেশপ্রেম না থাকিলে ক্ষুদ্র দেশ হিসেবে পরাশক্তি, আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াইতে সাহস পাইবে না ! দেশের চরম ক্ষতি হইবে !

মন্তব্য ২১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:৪৮

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
গাদ্দার ও বিশ্বাসঘাতকতার জন্যই জাতি গোলামে পরিণত হয়।

++++

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:০৪

টারজান০০০০৭ বলেছেন: তাহা হয়ত হয়, তবে সশস্ত্রবাহিনী ও গনমানুষের মাঝে যদি দেশপ্রেম না থাকে, নৈতিকতা, সচেতনতা , বিবেক, স্বাধীনতার মর্ম না থাকে তাহা হইলে গাদ্দার, বিশ্বাসঘাতকরা সুযোগ লইবেই ! মীর জাফর, জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভেরা সব দেশেই, সব জামানাতেই থাকিতে পারে। সমস্যা হইল তাহাদের সেই সুযোগ জাতি, সশস্ত্রবাহিনী দিবে কিনা। নবাবের পরাজয়ে জনগনের ভূমিকাও বিরাট। জনগনের প্রতিক্রিয়া হতাশাজনক ছিল ! যেন রাজায় রাজায় যুদ্ধ হইতাছে, আমাদের কি ? দেশ , স্বাধীনতা হারাইতেছে, বিদেশী শক্তির করতলগত হইতাছে ইহাতে সাধারণ সৈনিক ও দেশবাসীর ভ্রূক্ষেপ হয় নাই ! ইহাই স্বাধীনতা হারানো ও দীর্ঘ পরাধীনতার সবচেয়ে বড় কারণ।

২| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১২

মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেছেন: :) দারুন লেখা।

মাথাগুলো ভাল না হলে চেইন অব কমান্ড খুব ভয়ানক।(পাকি, হিটলার, ভিয়েতনামে USA)। আবার ওটা না থাকলেও সমস্যা (১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট, ৭নভেম্বর; ২০০৯ এর ২৫ ফেব্রুয়ারি)।

মনে হচ্ছে, আপনার সাথে জমবে ভাল। রাতে কথা হবে।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬

টারজান০০০০৭ বলেছেন: সশস্ত্র বাহিনীর সাধারণ সৈনিক ও জনগণের মধ্যে যদি সচেতনতা, দেশপ্রেম না থাকে , দেশপ্রেম, মানবিকতা যদি চাকুরীর উর্ধে না হয় তাহা হইলে বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী! ৭৫ এও সাধারণ মানুষের নিষ্ক্রিয়তা লক্ষণীয় !
আমেরিকা, ইউরোপের সশস্ত্র বাহিনীতেও মীরজাফর, জগৎশেঠ যে নাই তাহা বলা যায় না। তবে সর্বসাধারণ, সৈনিকদের মাঝে যে দেশপ্রেম , সচেতনতা আছে তাহা মীর জাফর, জগৎ শেঠদের ভূমিকা রাখিতে বাধা হিসেবে কাজ করে।
ধন্যবাদ।

৩| ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৪০

মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেছেন: বনের রাজা কি নতুন পোস্ট দিবে না??/?:(

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৪

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ভাই, এগুলোই কেউ খায় না , আবার নতুন পোস্ট ! :(

৪| ১০ ই মে, ২০১৮ সকাল ১১:৪৪

নতুন নকিব বলেছেন:



শুভকামনা আপনার জন্য। অাল্লাহ পাক আপনার কল্যান করুন। আপনি প্রথম পাতায় গেলেন জেনে আনন্দিত।

এই পোস্টটি দারুন ছিল। নতুন পোস্ট পড়ার অপেক্ষায়।

১০ ই মে, ২০১৮ সকাল ১১:৪৮

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ ! কিন্তু সেফ হইবার পরে মাথায় সেফ হইয়া ফাঁকা হইয়া গিয়াছে, নতুন পোস্ট আর আসিতেছে না !!! :(

৫| ১০ ই মে, ২০১৮ সকাল ১১:৫৪

নতুন নকিব বলেছেন:



এ উপলক্ষে ব্লগের কেউ কেউ হয়তো মিষ্টি খেতে চাইতে পারে। আমার ইচ্ছে হচ্ছে উল্টোটা, আপনাকে মিষ্টি খাওয়াতে পারতাম যদি!

১০ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১২:১১

টারজান০০০০৭ বলেছেন: বংশে ডায়াবেটিসের সংখ্যা খুব বেশি বিধায় মিষ্টি খাওয়া একেবারেই কমাইয়া দিয়াছি, যদিও এখনো হয় নাই ! মিষ্টির বদলে দোআ চাই, হেদায়েতের !

৬| ১০ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৬

মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেছেন: :):):) আসেন ভাই, কোলাকুলি করি!


ভাই আপনাকে আমার খুব পছন্দ। আপনি কি সত্যিই সেফ হয়েছেন?????


@নতুন নকিব ভাই,
ধন্যবাদ ভাই, রাতে একটা পার্টি দেয়া যায় নাকি???:P

১০ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৮

টারজান০০০০৭ বলেছেন: নিজাম বাই, অন্নেরেও আই বালা পাই ! ধইন্যবাদ !

নকিব ভাইয়ের কাছে দোআ চাহিয়াছি , আপনার কাছেও চাহিলাম ! বনের রাজার পার্টি কিন্তুক জংলী ধাঁচেরই হইয়া থাকে !!!! নাচিতে পারিবেন কিনা নিশ্চিত হইয়া লইয়েন ! :D

সেফ হওয়াতে নকিব ভাইয়ের বিরাট অবদান আছে ! তাহার প্রতি কৃতজ্ঞ !

৭| ১০ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১২:৫৬

মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেছেন: আমি খুব খুশি ভাই! নাচা গানাতে আমি হাজির।:)

তবে একটা বিষয়, নকিব ভাইকে কয়েকটা হারামি খুব জ্বালাচ্ছে। নকিব ভাইকে কমেন্ট মডারেশন চালু করতে বলবেন। আমি লজ্জায় তার সাথে কথা বলতে পারছি না।

আমরা ভালোর দলে। :)

১০ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১:০৩

টারজান০০০০৭ বলেছেন: গতকালকে বিব্রতকর অবস্থাতে পড়িয়াছিলাম ! এইসব কুৎসিত ভাষার আইডিগুলো অনুমোদন পায় কেমনে বুঝিনা ! ফিল্টারিং আরো শক্তিশালী হওয়া উচিত !

৮| ১০ ই মে, ২০১৮ রাত ১০:৩২

মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেছেন: টারজানজ্বী, আপনার পোস্ট কই????


১১:০০ টা পর্যন্ত আছি।

১১ ই মে, ২০১৮ সকাল ১১:৪৭

টারজান০০০০৭ বলেছেন: বাইরে !! দৌড়ের উফরে আছি !!!! দৌড় শেষ হইলে চেষ্টা করিব ! :(

৯| ১০ ই মে, ২০১৮ রাত ১০:৩৪

মোহেবুল্লাহ অয়ন বলেছেন: অবশেষে জেনারেল পদ থেকে ইস্তফা পাইলেন :#)

১১ ই মে, ২০১৮ সকাল ১১:৫০

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আমার মর্যাদা কমাইয়া দিলেন ? আমিতো ফিল্ড মার্শাল আছিলাম ! আমারে ওয়ার ভ্যাটেরান বানাইয়া দিলো ! এখন বুঝি আর পাঁঠাদের বিচি ফেলাইতে পারিব না !!!!!! : :(

১০| ১৪ ই মে, ২০১৮ সকাল ১০:০৪

মোহেবুল্লাহ অয়ন বলেছেন: তা ঠিক, ভ্যাটেরানদের কোন দাম নাই। ওইদিন দেখলাম এক সিআইএ ভ্যাটেরানরে কোন দামই দিল না। :(

https://youtu.be/riD5BwrAyIw

হাতের হাড় ও মনে হয় ভেঙ্গে গেছে। শব্দ পাইলাম।

১১| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৮ ভোর ৬:০১

কি করি আজ ভেবে না পাই বলেছেন: দোস্ত ইমেইল আইডি/ফেবু লিন্ক দ্যাও
(বুঝিয়া পাইলাম কইলে মুইচ্ছা দিও)

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:০৯

টারজান০০০০৭ বলেছেন: দোস্ত , গুহামানবের সাথে তুমি যে আইডি দিয়া জোড়া লাইগা আছো, তোমার সেই ফেবু আইডি চেক করো , মেসেজ দিছি !

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.