নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টারজান০০০০৭

টারজান০০০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

রূপকথা : রাক্ষস আর খোক্কসের গল্প !!!!!

২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:০৯

এক ছিল এক কানা , আর এক ছিল এক খোঁড়া !

কানা চোখে দেখেনা , আর খোঁড়া হাটিতে পারে না !

খোঁড়া ছিল চালাকের বিচি !

সে কানারে কহিল, কানা , তুইতো চোঁখে দেখিসনা, আমি আবার হাটিতে পারি না ! এক কাজ কর , তুই আমারে কান্ধে লইয়া চল , তাহা হইলে আমরা দুইজন মিলিয়া ভিক্ষা করিতে পারিব ! আমি চোখ দিয়া তোরে পথ দেখাইব , আর তুই আমারে ঘাড়ে করিয়া হাটিবি ! তাহা হইলে দুইজনারই সুবিধা হইবে !!

কানা রাজি হইল !

তারপর হইতে দুইজনা ভিক্ষা করিতে লাগিল ! ভাগাভাগির সময় খোঁড়া কানারে ঠকাইত , কম দিতো , কানা বুঝিতে পারিয়াও কিছু বলিত না ! কারণ খোঁড়ার বুদ্ধিতে কারণে ইনকাম বাড়িয়াছে !


একদিন উভয়ে ভিক্ষা করিতে করিতে একটি নির্জন এলাকায় চলিয়া গেল। যাইতে যাইতে খোঁড়া পথে দেখিল এক গাছি মোটা দড়ি !

খোঁড়া কহিল , কানা , দড়িটা তুলিয়া ঝোলায় রাখ। পরে কাজে লাগিতে পারে ! কানা তুলিয়া রাখিল !

কিছু দূর যাইতে যাইতে খোঁড়া দেখিল এক খুঁটি চুন পড়িয়া আছে ! কানাকে বলিল , কানা তুলিয়া ঝোলায় রাখ , পরে কাজে লাগিবে !!! কানা তুলিয়া রাখিল !

কিছু দূর যাইতে যাইতে খোঁড়া দেখিল একটি তলোয়ার পড়িয়া রহিয়াছে ! খোঁড়া কহিল , কানা তুলিয়া ঝোলায় রাখ , পরে কাজে লাগিবে ! কানা তুলিয়া রাখিল !

কিছু দূর যাইতে যাইতে খোঁড়া দেখিল একটি ঢোল পড়িয়া রহিয়াছে ! খোঁড়া কহিল , কানা তুলিয়া ঝোলায় রাখ , পরে কাজে লাগিবে ! কানা তুলিয়া রাখিল !

সন্ধ্যা হওয়ার আগে এক ভাঙা প্রাসাদের দেখা মিলিল ! খোঁড়া কানাকে কহিল , কানা আর দূরে যাওয়ার দরকার নাই , এখানেই আশ্রয় লইতে হইবে ! উভয়ে যাইয়া দেখিল প্রাসাদে কেহ নাই ! আর সারা প্রাসাদ জুড়িয়া টাকা, পয়সা , সোনা দানা ! উভয়ে দারুন ভয় পাইল ! কিন্তু না থাকিয়া আর কোন উপায় পাইল না ! তাহারা প্রাসাদের দরজা বন্ধ করিয়া দিল !

অবশেষে রাত হইয়া গেল ! কানা খোঁড়া দুইজনেই ভয়ে আধমরা ! অন্ধকারে দৃষ্টি চলেনা ! চারিদিকে কেহ নাই ! ঘরের মধ্যে দুইজনে গুটিশুটি মারিয়া শুইয়া থাকিল ! মধ্যরাতে হঠাৎ বিকট আওয়াজের সাথে প্রচন্ড ঝড় শুরু হইল সাথে বিজলীর চমক ! ভয়ে পরান যায় ! হঠাৎ দরজায় প্রচন্ড দুমদাম শব্দ , সাথে বিকট কণ্ঠের শত গুঞ্জন !!

হাউ মাউ খাঁউ ,
মানুষের গন্ধ পাউ !!!!!!!!!!!

কে রে আমাদের প্রাসাদে !! নাকি নাকি বিকট স্বরে কে জানি জিজ্ঞাসা করিল !



খোঁড়া আর কানা কাপড় নষ্ট করার অবস্থা।আগেই কইছি খোঁড়া একটু ট্যাটন আছিল !! ভয় গোপন করিয়া সেও বিকট নাকি স্বরে বলিল , আগে বল তুই কে ?

----- আমি রাক্ষস অধিপতি ! ইহা আমার প্রাসাদ ! এইখানে তোরা কে ? মানুষের গন্ধ পাইতেছি কেন ?

----- আমরা রাক্ষসের ভাই খোক্কস ! খোঁড়া কহিল !

----- খোক্কস ! সেইটা আবার কি ? ভাই হইলে বাহির হ ! দূরে আছিস কেন ?

----- সমস্যা আছে ! রাক্ষসের ভাই হইলেও আমরা রাক্ষসরে পাইলে খাইয়া ফেলি ! আজকে পেট ভরা ! উঠিতে ইচ্ছা হইতেছে না ! পরে আসিস ! একটু ঘুমাইয়া লই !

এতো বড় চাপা শুনিয়া রাক্ষস অধিপতি থমকাইলেন ! তবে বিশ্বাস করিলেন না।

বলিলেন ,

-----হুম ! আচ্ছা ! দেখিতো তোদের চুল দেখি !!! রাক্ষস রাজ্ জিজ্ঞাসা করিলেন !

খোঁড়া কানাকে কানে কানে বলিল , কানা , তোর ঝোলায় যে দড়ি আছে ঐটা ছুড়ে দে ! কানা কায়দা করিয়া দড়ি ছুড়িয়া মারিল !! দড়ি গিয়া রাক্ষসের গায়ে লাগিলে , রাক্ষস লাফাইয়া উঠিয়া কহিল , ওরে বাবারে , এতো বড় চুল !!!!! না জানি খোক্কস কত বড় !!!

---আচ্ছা ! দেখিতো তোদের থুথু দেখি ? রাক্ষস অধিপতি আবার জিগায় !

কানা , চুনের খুঁটিটা ছুড়িয়া দে , খোঁড়া ফিসফিস করিয়া কহিল ! কানা খুটিখানা ছুড়িয়া দিল !!!!!!

চুন হাতে লইয়া রাক্ষস অবাক হইল , জিহবাতে লাগাইয়া দেখিল ঝাল ! ওরে বাবারে ! খোক্ষসের থুতুও এমন ঝাল ! খোক্ষস না জানি কেমন ঝাল ! রাক্ষস অধিপতির মনে ভয় ঢুকিয়া গেল ! তারপরও ভাবিল , আরেকটু বাজিয়ে দেখা যাক ! এই তোরা রেডি থাকিস !

------আচ্ছা। দেখিতো তোদের জিহবা দেখি !!!! রাক্ষস অধিপতি তাহার সৈন্য-সামন্ত রেডি রাখিল ! খোক্কসের জিহবা টানিয়া ছিড়িয়া ফেলিবে !



কানা , জানালা দিয়া তরবারি খানা বাহির কর ! হাতল ছাড়িস না, খোঁড়া কহিল ! কানা তরবারি বাহির করিল !

রাক্ষস অধিপতি আর তাহার সৈন্য-সামন্ত সকলে জিহবা ধরিয়া খুব টানিল ! তরোয়ালে হাত কাটিয়া সকলেই ক্ষান্ত হইল ! ওরে বাবা ! যাহাদের জিহ্বায় এতো ধার ! তাহারা রাক্ষস পাইলেও খাইয়া ফেলিবে ইহাতে আর আশ্চর্যের কি !!!!!! শেষ একবার চেষ্টা করিয়া দেখি, রাক্ষস অধিপতি ভাবিলেন !

------ আচ্ছা ! দেখিতো তোদের পাদ দেখি ?

কানা ! ঢোলে খুব জোরে কয়টা বাড়ি মার্ ! কানা গায়ের সমস্ত জোরে ঢোলে কয়েকটা বাড়ি মারিল !

----- ওরে বাবারে ! গুম গুম আওয়াজে ওরে বাবারে মারে কইয়া রাক্ষসের দল পলাইয়া গেল !!!!! !

সকাল হইলে কানা আর খোঁড়া সারা প্রাসাদ ঢুড়িয়া সোনা-দানা , টাকা -পয়সা সব একজায়গায় করিল ভাগাভাগির জন্য ! খোঁড়া চালাকী করিয়া একটাতে টাকা বেশি দিয়া সোনা কম দিলো। আরেকটাতে টাকা কম দিয়া সোনা বেশি দিলো ! আশা করিল , কানা যেহেতু চোখে দেখে না টাকা বেশি ভাগটাই নিবে ! খোঁড়া উদারতা দেখাইয়া কানাকে আগে বলিল , কানা সমান ভাগ করিয়াছি , তুই আগে বাছিয়া ল ! কানা হাতাইয়া হাতাইয়া যেটাতে সোনা বেশি সেইটা লইল ! ইহা দেখিয়া খোঁড়া ভীষণ রাগিয়া গেল !

----- খোঁড়া বলিল , শালা কানা , তুই বলে চোখে দেখিস না ! চোখে না দেখিলে বেশি সোনা চিনিলি কেমনে , বলিয়া কানার গালে এক চড় মারিল, আর কানার চোখ ভালো হইয়া গেল !!

---- কানা বলিল , শালা খোঁড়া ! তুই সারাজীবন আমারে ঠকাইয়াছিস, কানা রাগিয়া কহে !! এখনো ঠকাইতে চাহিয়াছিস , বলিয়া খোঁড়ার পায়ে মারিল এক লাথি ! ইহাতেই খোঁড়ার পা ভালো হইয়া গেল !


অতঃপর টাকা পয়সা সোনা দানা ভাগ করিয়া কানা আর খোঁড়া নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়া গেল !

আমার গল্প ফুরোলো
নটে গাছটি মুড়োলো !!!!!!!!!

(আমার পিতাজী হইতে শৈশবে শ্রুত !!)

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৫

সিগন্যাস বলেছেন: :) :) :) :) :) :)













































































আর নিচে যাওয়া যায়না

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:৪৯

টারজান০০০০৭ বলেছেন: এক শিক্ষক ক্লাসে ছাত্রদের জিজ্ঞেস করেন - এমন জিনিসের নাম বল তো যা ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিতি হয় ।
ছাত্র - চুল
শিক্ষক - কিভাবে ?
ছাত্র - মাথায় আমরা বলি চুল , চোখের উপরে থাকলে বলি ভ্রু, ঠোটের উপরে থাকলে বলি গোফ , গালে ও চিবুকে থাকলে বলি দাড়ি । বুকে থাকলে বলি লোম এবং ……
শিক্ষক - সাবধান আর নিচে নামিস না !!! :D

২| ২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৩০

স্রাঞ্জি সে বলেছেন: মজা পাইলাম.....

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:০৯

টারজান০০০০৭ বলেছেন: গল্পটা মনে করিয়া আমিও মজা পাইলাম ! ধন্যবাদ !!

৩| ২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৩১

চাঁদগাজী বলেছেন:



এই ধরণের কাহিনী বাংলার সব এলাকায় শোনা যেতো এক সময়! এগুলো পরে বইতেও এসেছিলো।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:১১

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আমার পিতাজীর মুখে কত গল্প শুনিয়াছি !! এখন আমার পোলাপাইন শোনে !! মাঝে মাঝে নস্টালজিক হইয়া যাই !!

৪| ২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৬

লাবণ্য ২ বলেছেন: ভালো লাগল।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:১৩

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ !! রূপকথা পড়িতে আজও মজা লাগিলে !!

৫| ২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৩

সনেট কবি বলেছেন: ভালো লাগল।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:১৫

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ কবি !! রূপকথা লিখুন না !

৬| ২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৫০

ফেনা বলেছেন: ভাল লাগল।
ছোট বেলার কথা মনে হল।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:১৬

টারজান০০০০৭ বলেছেন: পিতাজী যখন আমার ছানাপোনাকে শোনায় ,আমি নস্টালজিক হইয়া যাই !!!

৭| ২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৬

মনিরা সুলতানা বলেছেন: হাহাহাহাহা মজা পাইলাম শৈশবের গল্পে।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:১৮

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আমিও লিখিয়া খুব মজা পাইয়াছি ! পুরোপুরি নস্টালজিক হইয়া গিয়াছিলাম !

৮| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৪

শায়মা বলেছেন: খুবই মজার!


আমিও শুনেছিলাম এই গল্পটা আমার ছোটবেলায়। প্রায় ভুলে যাওয়া গল্পটাকেই মনে করিয়ে দিলে ভাইয়া!

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:২০

টারজান০০০০৭ বলেছেন: পিতাজী আমার ছানাপোনাকেও শোনাইয়াছে, আমিও ছোটবেলায় তাহার কাছ হইতে শুনিয়াছি ! শুনিয়া নস্টালজিক হইয়া গিয়েছিলাম !

৯| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৯

আনাতোলিয়া বলেছেন: রাক্ষস খোক্কসের গল্প আমার অনেক পছন্দ।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:২১

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আমারও ! আমার ছানাপোনাও খুব পছন্দ করে !

১০| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৪

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: নতুন করে পড়ে ভালোই লাগল...

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:২২

টারজান০০০০৭ বলেছেন: লিখতে গিয়ে আমারও খুব মজা লেগেছে ! ধন্যবাদ !

১১| ২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:৩৯

শৈবাল আহম্মেদ বলেছেন: ধন্যবাদ,এই গল্পটা গত ৩ দিন ধরে মাথার মধ্যে ঘুরঘুর করছে ২ জনের সাথে বলেছিও-কিন্তু লেখার সময় করে উঠতে পারছিনা। এই গল্পটি ছোট্ট বেলায় আমিও আমার বাবার কাছ থেকে শুনতাম।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:৪২

টারজান০০০০৭ বলেছেন: হে হে হে ! সবার বাবাই দেখি এই গল্প জানে !! শুনিয়া ভালো লাগিল ! :D

১২| ২৬ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:৪৯

রাজীব নুর বলেছেন: ছোটবেলা নানী দাদীর মুখে এধরনের গল্প শুনেছি।

২৬ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:০৬

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আমি আমার পিতাজীর মুখে শুনিয়াছি ! ধন্যবাদ !

১৩| ২৭ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৫২

মোঃ নুরুজ্জামান (জামান) বলেছেন: আব্বু বিকেলে এই গল্প বলতো আর হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে দিতো যেন আরাম করে ঘুমাতে পারি। Thank u.

২৭ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৪১

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আহা ! জগতের অনেক বাপ্ই এই রূপকথা জানিত দেখা যায় ! বাপেরা বেঁচে থাক ! নাতি পুতিদের রূপকথা শোনাক ! ধন্যবাদ !

১৪| ২৭ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৫০

নতুন নকিব বলেছেন:



সুন্দর।

কেমন আছেন?

২৭ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৩

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ , ভালো আছি ! আপনি কেমন আছেন ! শাওয়ালের রোজা কয়টা হইছে ? হজে কবে যাইতেছেন ?

১৫| ২৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:৫৮

শামচুল হক বলেছেন: খুব ভালো লাগল। ধন্যবাদ

২৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:২১

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ !

১৬| ২৯ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৪২

করুণাধারা বলেছেন: জানা গল্প, কিন্তু আপনি এমন চমৎকার ভাবে বলছেন যে আরেকবার পড়লাম,।আর ভালো লাগলো!!

২৯ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৫

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ ! আমার পিতাজী যখন আমার ছানাপোনাকে শোনায় আমিও নস্টালজিক হইয়া যাই ! রূপকথার আবেদন বুঝি ফুরাইবে না !

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.