নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টারজান০০০০৭

টারজান০০০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে উপমহাদেশের আলেমদের অবস্থান

১৪ ই মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:০২

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় শুধু এদেশের আলেমরাই নন, ভারত-পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় আলেমরাও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত-পাকিস্তানের বহু শীর্ষ আলেম সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও অনেক আলেমের উপলদ্ধি হয়েছিল যে, এ যুদ্ধ ছিল জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের যুদ্ধে। বক্ষমাণ নিবন্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় উপমহাদেশের আলেমসমাজের অবস্থান ও উপলব্ধি সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোকপাত করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।

ভারত বিভক্তির পূর্ব থেকেই আযাদী আন্দোলনের সিপাহসালার মাওলানা আবুল কালাম আজাদ পাকিস্তান সৃষ্টির অসারতা এবং বাংলাদেশ সৃষ্টির বাস্তবতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন। লাহোর থেকে প্রকাশিত প্রখ্যাত উর্দু পত্রিকা ‘চাতানে’ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ রহ. অসাধারণ প্রজ্ঞাপূর্ণ ও দূরদর্শিতার পরিচয়বাহী একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এ সাক্ষাৎকারে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশ সম্পর্কে বলেছেন,

আমি মনে করি, পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে বহুদিন একসঙ্গে থাকা মোটেই সম্ভব নয়। এই দুই ভূখণ্ডে ধর্ম ছাড়া আর কোন বাঁধন নেই। আমরা মুসলমান- এই মর্মে কোথাও স্থায়ী রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ওঠেনি। আরব দেশগুলো আমাদের সামনে এক ধর্ম, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও ভাষা সবই এক। কিন্তু তাদের সরকার ভিন্ন ভিন্নভাবে গঠিত এবং প্রায়ই এরা ঝগড়া-কলহ ও শত্রুতার মধ্যেই আছে। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা, নিয়ম-কানুন, আচার-ব্যবহার ও জীবনপ্রবাহ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে একেবারে আলাদা। পাকিস্তান সৃষ্টির প্রাক্কালে এখন ওদের মনে যে উষ্ণতা আছে, তা পরে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাবে এবং বিরোধ ও প্রতিবাদ দানা বেঁধে উঠবে। তখন বাইরের শক্তিগুলো এতে ইন্ধন জোগাবে ও একসঙ্গে এই দুই খণ্ড আলাদা হয়ে যাবে। (মাওলানা আজাদের দৃষ্টিতে পাকিস্তান, ভাষান্তর: শফিক আহমেদ, প্রকাশনায়: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রকাশকাল: দ্বিতীয় সংস্করণ ২০১৩ পৃ. ১২)

তিনি আরো বলেন, আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মি. জিন্নাহর দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি জানেন না, বাংলাদেশ বাইরের কোনো নেতৃত্ব মেনে নেয় না। আজ কিংবা কাল তারা সে নেতৃত্ব অস্বীকার করবে। (প্রাগুক্ত, পৃ. ১১)

যেসব বরেণ্য ভারতীয় মুসলিম ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ সৃষ্টির পক্ষে কাজ করেছিলেন তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- শাইখুল ইসলাম মাওলানা সাইয়্যেদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর পুত্র ভারতীয় লোকসভার সদস্য মাওলানা সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী, কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার হেড মাওলানা মাওলানা মোহাম্মদ তাহের, করিমগঞ্জের এম.পি. মাওলানা আব্দুল জলিল।(শাকের হোসাইন শিবলি, আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে, আল-এছহাক প্রকাশনী, প্রকাশকাল: জুন ২০১৪; পৃ. ১৫৭)

জনাব সালেহ আহমদ ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়িদ আসআদ মাদানী রহ. এর জীবনীতে লিখেন,

১৯৭১ সালে এদেশের নিরীহ জনগোষ্ঠীর উপর পাক বাহিনীর জুলুম-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান হযরত ফিদায়ে মিল্লাত রহ.। তাদের গণনির্যাতন বন্ধে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে বিশেষ করে তাঁর নেতৃত্বে কলকাতায় যে সভা ও সেমিনারগুলি অনুষ্ঠিত হয়, সে ইতিহাস আজও ভাস্বর হয়ে আছে। শরণার্থী শিবিরগুলিতে তাঁর অপরিসীম সহযোগিতা ও দেখাশোনা, গণনির্যাতন বন্ধ করার জন্য তাঁর বিরামহীন দুঃসাহসী ভূমিকা এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীকার প্রাপ্তিতে তার অবদান স্বাভাবিকভাবে তাঁকে স্বাধীনতার অন্যতম কাণ্ডারী দূতের মহিমা দিয়েছে।…

স্বাধীনতা যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাক হানাদার বাহিনীর সহায়তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এদেশে দমন-পীড়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে যখন কুখ্যাত সপ্তম নৌবহর এ উপমহাদেশ অভিমুখে যাত্রা করে, তখন ফিদায়ে মিল্লাত রহ. পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক মুসলমানদের নিয়ে দিল্লির রাজপথে মিছিল করেন এবং তার নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করা হয়। (ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়িদ আসআদ মাদানী (র), সালেহ আহমদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রকাশকাল: ডিসেম্বর ২০১৬; পৃ. ১১৯-১২০)

যুগশ্রেষ্ঠ ভারতীয় আলেম আল্লামা সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেন,

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকমণ্ডলি, সেনা অফিসার, এমনকি সেনাবাহিনীর সৈনিক ও জ্ঞানী-গুণীরা ইসলামের মৌলিক শিক্ষামালা, ইসলামি সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের মূলনীতি ও পবিত্র কোরআনের এই বিজ্ঞোচিত শিক্ষার উপর আমল করেনি যে, আল্লাহপাক বলেছেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَىٰ أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَىٰ أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ ۖ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ

হে মুমিনগণ! কোন সম্প্রদায় যেন কোন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে, ওরা এদের চেয়ে ভালো হবে। আর নারীরা যেন নারীদের উপহাস না করে। কারণ, হতে পারে ওরা এদের চেয়ে ভালো হবে। আর তোমরা নিজেদের দোষারোপ করো না এবং কেউ কাউকে মন্দ নামে ডেকো না।

তাছাড়া তারা হাদীছের শিক্ষা ‘কোনো মুসলিম যেন কোনো মুসলিমকে তুচ্ছ না করে’- এর উপর আমল করেনি। তাদের মাঝে বড়ত্বের অনুভূতি, বরং ক্ষমতার দম্ভ ও অহমিকা ছিল। তাদের কর্মকাণ্ড মুসলিম শাসক, সৈনিক ও দায়িত্বশীলদের মতো ছিল না। ‘৭১ সালের যুদ্ধে তাদের থেকে এমনসব আচরণ প্রকাশ পেয়েছিল, যেটি ইসলামের গায়ে কলঙ্ক লেপন করেছে এবং মানবীয় চরিত্র ও সভ্যতার পরিপন্থী ছিল।…

এই ভূখণ্ডটি ওলামা-মাশায়েখ ও মাদরাসা-খানকার দেশ ছিল। যার অলিতে-গলিতে অসংখ্য মসজিদ ও আল্লার ঘর ছিল। যার জন্য শত-শত বছর ধরে আল্লাহর অলীগণ চোখের পানি আর কলিজার রক্ত প্রবাহিত করেছেন। যার মাটি তাঁদের অশ্রুতে ভেজা ছিল, যার আবহাওয়া তাঁদের রাতের কান্নায় উত্তপ্ত ছিল। কিন্তু দেখতে-না-দেখতেই শত-শত বছরের এই শ্রম ও মেহনতের উপর পানি ছিটিয়ে গেল। মুসলমান অবলীলায় মুসলমানদের গলা কাটলো। নিরপরাধ মানুষগুলোকে এমন নির্দয়ভাবে হত্যা করা হলো, যেভাবে সাপ-বিচ্ছু মারা হয়। যারা এই দেশটিতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল, তাদের জন্য এখানকার কোথাও আশ্রয় থাকলো না। না কারো অন্তরে তাদের জন্য দয়া ছিল, না কারো চোখে তাদের জন্য অশ্রু ছিল। বনে যেভাবে পশু-পাখি শিকার করা হয়, পুকুরে যেভাবে মাছ শিকার করা হয়, তাদের নিয়ে ঠিক সেভাবেই শিকার খেলা হল।…

এসব ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে। কোটর থেকে চোখ তুলে ফেলা হলো। ঘাস কাটার মতো করে মানুষের মাথা কাটা হলো। মসজিদের নামাযীদের উপর নিক্ষেপ করা হলো। কোনো-কোনো বন্ধু তো আমাকে বলেছে, মানুষকে জীবন্ত দাফন করা হয়েছে। কিন্তু এটিও বাস্তবতা যে, গোটা বসতি এই উম্মাদনার শিকার হয়নি। উম্মতের সচেতন ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মুসলমানরা এর বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। এই পরিস্থিতির জন্য রক্তের অশ্রু ঝরিয়েছেন। (কারওয়ানে যিন্দেগী, সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী, অনুবাদ: মাওলানা মোঃ মহীউদ্দিন, প্রকাশনায়: মুহাম্মদ ব্রাদার্স, প্রকাশকাল: ৩১ ডিসেম্বর, 2015; পৃ. ১৩০-১৩১)

নিখিল পাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ছিলেন হাফিজুল হাদীস আল্লামা আব্দুল্লাহ দরখাস্তি আর সাধারন সম্পাদক ছিলেন মুফতি মাহমুদ। তৎকালীন পাকিস্তান প্রবাসী মুফতি আবদুস সালাম চাটগামী বলেন, মুফতি মাহমুদ, আল্লামা আব্দুল্লাহ দরখাস্তি, শাহ আহমদ নূরানীসহ অনেকেই সরাসরি বাঙ্গালীদের পক্ষাবলম্বন করেছেন। তাঁরা বারবার ইয়াহিয়াকে অনুরোধ করেছেন শেখ মুজিবকে ক্ষমতা দিয়ে দিতে। (শাকের হোসাইন শিবলি, আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে, আল-এছহাক প্রকাশনী, প্রকাশকাল: জুন ২০১৪; পৃ. ১৫৭)

জমিয়ত নেতা কারী আব্দুল খালিক বলেন,

ভুট্টো যখন বললেন, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কোন পার্লামেন্ট সদস্য যদি পূর্ব পাকিস্তানের যায় তাহলে তার ঠ্যাং ভেঙে দেয়া হবে- এর প্রতিবাদে জাতীয় পরিষদের বিজয়ী প্রার্থীগণের একটি প্রতিনিধিদল এখানে আসে এবং মুফতি মাহমুদের নেতৃত্বে হোটেল পূর্বাণীতে শেখ মুজিব এর সঙ্গে জমিয়তের মিটিং করে। সেখানে মুফতি মাহমুদ, মাওলানা শামসুদ্দীন কাসেমী, মাওলানা আবদুল জব্বারসহ ১২ জন সিনিয়র লিডার ছিলেন। আমি তখন মহানগরীর প্রচার সম্পাদক। নিচ তলায় রিসিপশনে বসা ছিলাম। মিটিং শেষে যখন সবাই বেরিয়ে এলেন তখন মুফতি মাহমুদ আমাদের বললেন- নদীতে যখন ভাঙন আসে সেই ভাঙন কিছু দূর না যাওয়া পর্যন্ত থামে না। এদেশের ভাঙনও আপনার আটকাতে পারবেন না। সুতরাং যেহেতু আপনারা এই এলাকায় থাকবেন তাই এখানকার ভালো-মন্দ দেখেশুনে থাকবেন। দেশের জন্য কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নেবেন সব সময়। (শাকের হোসাইন শিবলি, আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে, আল-এছহাক প্রকাশনী, প্রকাশকাল: জুন ২০১৪; পৃ. ৪৬৪-৪৬৫)

মুফতি মাহমুদ রহ. ১৩ মার্চ এক বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় ইয়াহইয়া-ভূট্টোর নীতিকে ভুল আখ্যা দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে শেখ মুজিবকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানানো প্রেসিডেন্টের অবশ্যই কর্তব্য। [সূত্র: কাইদে জমিয়ত মুফতি মাহমুদ, আশফাক হাশেমী/সাপ্তাহিক কওমী ডাইজেস্ট, মুফতি মাহমুদ নাম্বার, পাকিস্তান]

পাকিস্তানের বর্তমান মুফতিয়ে আজম আল্লামা মোহাম্মদ রফি উসমানী দা.বা. লিখেন,

আন্তর্জাতিক চক্রান্তের জাল কেন্দ্রের সেনা হাইকমান্ড পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। তারা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের শক্তিমান প্রেসিডেন্ট জেনারেল মুহাম্মদ আইয়ুব খানের জায়গায় জেনারেল ইয়াহইয়ার মত বিলাসী, আরামপূজারী, ব্যাধিগ্রস্ত লোককে জাতির কাঁধে সওয়ার করে দেয়। সেই ব্যাধিগ্রস্ত লোকটি স্বার্থপর রাজনীতিকদের কুটচক্রান্তে আইনানুগ ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার সাথে সমস্যার সমাধান না করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে নিপীড়নের এমন মারাত্মক পথে দাঁড় করায় যে, অনেক জায়গায় তাদের শীতল স্পর্শের চাপে পূর্ব পাকিস্তানের শান্তিপ্রিয় মুসলমানরা পর্যন্ত আর্তনাদ করে ওঠে। ফলে সেনাবাহিনী তাদের সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয়ে ভয়ংকর প্যাঁকে ফেঁসে যায়। (আল্লাহর পথের মুজাহিদ, মুফতী মুহাম্মদ রফী উসমানী, অনুবাদ: আবু উসামা, প্রকাশনায়: মাকতাবাতুল আশরাফ, প্রকাশকাল: দ্বিতীয় মুদ্রণ সফর ১৪২৫ হিজরী, পৃ. ৪৩)

বিশ্বখ্যাত পাকিস্তানী আলেম জাস্টিস আল্লামা মুফতি তকি উসমানি দা.বা. লিখেন,

বাংলাদেশে অবস্থানকালে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ১৯৭১ সালের এবং তার পরবর্তী সময়ে অসংখ্য প্রলয়ংকরী ও নির্মম ঘটনার বর্ণনা শুনলাম। এসময়কাল সম্পর্কে আমরা যে ধারণা তৈরি করে নিয়েছিলাম, তাঁদের বর্ণিত ঘটনাবলি তা থেকে অনেক অনেক বেশি। বাস্তবতা হলো, বাংলার মাটিতে অনাচার-অত্যাচার-উৎপীড়নের দানবেরা যে নগ্ন নর্তনকুর্দন করেছে, তাদের ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যালীলা যে অসংখ্য পন্থায় ও পদ্ধতিতে সংঘটিত হয়েছে এবং তা এতোটা সময় ধরে অব্যাহত থেকেছে যে তার কাহিনী অত্যন্ত জটিল ও রহস্যময়। এসব কর্মকাণ্ডের দায়-দায়িত্ব এতো সব অনুষঙ্গের ওপর বর্তায় যে সম্ভবত সে সময়ের সঠিক ইতিহাস কখনো লেখা যাবে না। কারণ, নিরপেক্ষভাবে এসব ঘটনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিচার-বিশ্লেষণ করার উৎসাহ উপমহাদেশের কোনো দেশেই দৃষ্টিগোচর হয় না। তাছাড়া বাংলার আনাচে-কানাচে নির্যাতন-নিপীড়নের এতো অসংখ্য চিত্র অঙ্কিত হয়েছে যে কারো পক্ষে সেগুলো আয়ত্তে আনা সম্ভব নয়। যাই হোক, ওখানকার স্বচক্ষে দেখা ঘটনাবলি এবং লোকজনের মুখে অবস্থাদি শোনার পর এই বিশ্বাস আরো দৃঢ় হলো যে ওখানে যে ওখানে যে কেয়ামত ঘটে গিয়েছিলো তা আমাদের পাপাচারেরই শাস্তি। নব্বই হাজার সশস্ত্র সৈনিকের এই শোচনীয় পরাজয় -যার কোনো দৃষ্টান্ত ইতিহাসে পাওয়া যাবে না- আল্লাহর কুদরতের পক্ষ থেকে শিক্ষার বেত্রাঘাত ছাড়া কিছু নয়। (দেশ-দেশান্তর, বিচারপতি মুফতি তকি উসমানি, অনুবাদ: আবদুস সাত্তার আইনী, প্রকাশনায়: মাকতাবাতুল ইসলাম, প্রকাশকাল: মার্চ ২০১৪; পৃ. ৮৯-৯০)

উপমহাদেশের এসব শীর্ষ আলেম স্বাধীনতা পূর্ববর্তী, স্বাধীনতাকালীন এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে এভাবেই অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। তাই ইতিহাসের সোনালি পাতায় তাঁরা চিরদিন ভাস্বর হয়ে থাকবেন।

সূত্র : Click This Link

লেখক : সাঈদ হোসাইন ।।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৪

আকতার আর হোসাইন বলেছেন: একটা বই আছে আমার কাছে...পিডিএফ

"একাত্তরের চেপে রাখা ইতিহাস। আলেম মুক্তিযুদ্ধাদের খোঁজে"

বইটি লিখেছে সাকের হোসাইন শিবলী..

খুব ভাল একটা বই মনে হয়েছে... কিন্তু পড়ি নাই... ৯০০+ পেইজ

১৫ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ৯:৩৪

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ, এই দুর্দিনে পড়া এবং মন্তব্য করার জন্য। বইটি পড়া হয়নি। উনি কি সাংবাদিক ছিলেন ? বইটি লেখার কারণে কি চাকরি ছাড়তে হয় ? এরকমই শুনেছিলাম বোধহয় !

২| ১৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:১৫

মা.হাসান বলেছেন: আপনার পোস্টে অনেক বড় আকারের মন্তব্য করার ইচ্ছে ছিল কিন্তু মোবাইলে লেখা আমার জন্য এখনো কষ্টকর বলে সংক্ষেপে সারি। হাফেজি হুজুরের ছাত্রর কাছ থেকে শোনা, উনি ছাত্রদের মুক্তি যুদ্ধে অংশ নিতে নিরদেশ দিয়ে ছিলেন। চরমোনাইয়ের পির ছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় সকল আলেমের সম্পর্কে একি রকমের কথাই শোনা যায় । চরমোনাইয়ের পির অবশ্য আলেম বলে মনে হয় না ।
রাজাকারদের বা পাকিস্তানি সেনাদের কতজনের মুখে দাড়ি ছিল জানা নেই, তবে কিছু বুদ্ধুজীবি ৮০র দশকের থেকে তাদের লেখায় দাড়ি ওয়ালা, টুপি ওয়ালা এবং লম্বা পাঞ্জাবি ওয়ালাদের রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা শুরু করে এবং এখনো এটা অব্যাহত আছে। তাদের লেখায় যত নেগেটিভ চরিত্র সবার দাড়ি আছে বা মাদ্রাসায় পড়ে ইত্যাদি ।
আমার জানা মতে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আলেম ছিলেন না, যদিও তার নামের আগে মাওলানা লেখা হয়।
আল্লাহ আপনার লেখায় বরকত দিন । আমিন।

১৫ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ১০:১৬

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধর্মীয় সম্প্রদায়কে একাত্তরের ভিলেন বানানো হইয়াছে মূলত জামাতে ইসলামীর কারণে। কিন্তু কওমি সম্প্রদায় সহ বহু মুসলমান , ম্যাংগোপিপল এমন ছিল যাহারা পাকিস্তান ভাঙিয়া যাউক ইহাও চায় নাই, আবার পাকিদের বঞ্চনা , শোষণ , গণহত্যাকেও সমর্থন করেন নাই ! তাহারা শোষণ, বঞ্চনা, নির্যাতনের বিরোধীই ছিলেন। জামাত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মূলধারা আগেও ছিল না এখনও নাই। ইহারা ইহুদিদের মতন সংখ্যায় কম কিন্তু সংগঠিত।

খেলাফত আন্দোলনের পরে রাজনীতি আর কওমী সম্প্রদায়ের হাতে থাকে নাই। পাকিদের শোষণ , নির্যাতন , গণহত্যায় সমর্থন শরীয়তের মাপকাঠিতেই নিষিদ্ধ। সুতরাং ধর্মপ্রাণ মুসলমান , কওমি সম্প্রদায়ের পাকিদের আকামে সমর্থন, সহযোগিতা সম্ভবই ছিল না , এমন নজির দেখাও যায় না , বরং জুলুমের প্রতিবাদই কাম্য ছিল। তাহারা তাহা সাধ্যমতন করিয়াছেনও ! বাংলাদেশ সরকারও আসাদ মাদানী র. কে মুক্তিযুদ্ধের বিদেশী বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি দিয়াছে। কিন্তু তাহারা যেহেতু পাদপ্রদীপের আলো হইতে অনেক আগেই সরিয়া ছিলেন তাই তাহাদের কথা তেমন জানা যায় না !

৮০ এর দশকে যখন বাআল, বামাতীরাই রাজনীতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল , তাহাদের মোকাবেলায় জামাতিদের রাজনীতিতে নিয়ে আসা হয়। কৌশল হিসেবে চমকপ্রদ সন্দেহ নাই। ইহার মোকাবেলায় বামাতীরা , জামাতিদের তাক করিয়া মূলত ইসলামকে গুলি করা শুরু করে। একারণেই রাজাকারদের দাড়িটুপি দেখা যায় , সকলেই ধর্মীয় সম্প্রদায় হইয়া যায় ! (রাজাকারদের নেতাদের ছাড়া বেশিরভাগ রাজাকারের ছবিতেই দাড়িটুপি , পাঞ্জাবি দেখা যায় না !)

বামাতীরা যেমন গড়সাপ্টা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সকলকেই রাজাকার বানাইয়াছে , জামাতীরাও তেমনি বামাতী ভাবধারার বা তাহাদের বিরোধীদের ইসলাম বিরোধী বানাইয়াছে। বস্তুত এই দুইদলই বাংলাদেশের রাজনীতি , সমাজ , সংস্কৃতির বিষফোঁড়া।

আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের বেশিরভাগ বুদ্ধুজীবীই বামাতী অল্প কিছু জামাতী ! এর বাহিরে যাহারা আছেন ক্যাচালের ভয়ে তাহাদের কণ্ঠ শোনা যায় না ! শোনা গেলে এই ইতিহাস অনেক আগেই পাদপ্রদীপের আলোয় আসিত।আজাদের ব্যাপারে বিস্তারিত পড়িতে হইবে।

আমার লেখা নহে। সূত্র নিচে দেওয়া আছে। ধন্যবাদ। আমিন।

৩| ১৫ ই মার্চ, ২০১৯ দুপুর ২:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য একটা ঘৃণার পৃথিবী বানিয়ে আমরা আশা করব ভালোবাসা!

১৫ ই মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:০৭

টারজান০০০০৭ বলেছেন: সেটাই ! রাজনীতি এখন পলিটিক্স হইয়া গেছে ! :(

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.