নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

টারজান০০০০৭

টারজান০০০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সভ্যতা, সম্পর্কজ্ঞান ও ইসলাম।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৭

১. পশ্চিমা সাদা চামড়ার লোকেরা নিজেদেরকে যাহাদের বংশধর বলিয়া গর্ব করিয়া থাকে তাহাদের মধ্যে একজন হইল গ্রিক বীর আলেকজান্ডার আরেকজন হইল রোমান সম্রাট সিজার ! তো মহামান্য সিজার একদা বাজার পরিদর্শনে গিয়াছেন ! সেখানে গিয়া একজন যুবকরে দেখিয়া ভীষণ অবাক হইলেন ! হুবহু তাহার মতোই দেখিতে ! কৌতূহল নিবৃত করিতে না পারিয়া সিজার জিজ্ঞাসা করিলেন, আচ্ছা তোমার মা কি রাজপ্রাসাদে চাকুরী করিতেন ?
জি না , মহামান্য !! তবে আমার বাবা রাজপ্রাসাদে মদ পরিবেশন করিতেন !! (পাঠকরে বলিতে হইবে ঘটনা কি ঘটিয়াছিল ?)

২. রানী আনখেসেনামুন, ফারাও তুতেনখামেনের স্ত্রী ! বস্তুত তিনি ছিলেন তুতেনখামেনের সৎ বোন ! পূর্বে তাহার বিবাহ হইয়াছিল তাহার পিতামহ এবং পিতামহের মৃত্যুর পরে পিতার সাথে ! রাজকীয় রক্ত ভিন্ন বিবাহ হইবে না বিধায় নিজ পিতা, পিতামহ ও সৎভাইয়ের সাথে বিবাহ করিতে হয় !

৩. প্রাক ইসলামের সময়ে, আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে আরবে ডিএনএ টেস্ট ছিল না ! আকাম-কুকাম ভালোই চলিত বিধায় পিতৃত্ব নির্ধারণ কঠিন ছিল ! ইহার সমাধানে তাহারা এক অভিনব বুদ্ধি বাহির করে ! যাহারা মাইয়ার লগে জিং জিং খেলিয়াছে তাহাদের দাওয়াত দিয়া একত্রিত করিয়া সমসংখ্যক তীর লইয়া জুয়া খেলা হইতো ! তীরের মাথায় একেকজনের নাম লেখা থাকিত ! বস্তা বা কোন পাত্রের ভিতর হইতে চোখ বুজিয়া তীর ওঠানো হইতো ! যাহার নাম উঠিত সেই পিতা হিসাবে গণ্য হইতো !

৪. আমেরিকার এক রাজ্যে ডিএনএ গবেষকেরা ভীষণ অবাক হইলেন ! এক ব্যক্তির ডিএনএ, ২০ হাজার নারী-পুরুষের সাথে মিলিয়া যাইতেছে ! ইহা কিভাবে সম্ভব তাহা অনুসন্ধানে জানা গেল, সেই অতিমানবীয় বায়োলজিক্যাল ফাদার ছিলেন ডাকপিয়ন ! তাহার চেহারা, দেহশৈষ্ঠব ছিল সেই আমলের একজন নায়কের মতন ! তাহাতেই কেল্লাফতে ! চিঠি বিলি করিতে বিভিন্ন বাড়িতে যাইতে হইতো ! নায়কোচিত চেহারা, ভাব লইয়া তিনি জিংজিং খেলিতেন ! যাহার ফলে তিনি ২০ হাজার সন্তানের বায়োলজিক্যাল ফাদার !!

৫. নরাধম মোদির রাজ্যে ডিএনএ রিপোর্টের ৯৮% রেজাল্টই সন্দেহকে প্রমান করিয়াছে ! অর্থাৎ যাহারা সন্দেহবশত পিতৃত্ব পরীক্ষা করিয়াছেন তাহাদের সন্দেহ সঠিক বলিয়া প্রমাণিত হইয়াছে ! সংবাদপত্রে অবশ্য ডিএনএ পরীক্ষা কতগুলো হইয়াছে তাহা বলা হয় নাই ! তবে জনসংখ্যা, পরীক্ষার সুযোগের অনুপাতে তাহা কম হইবে বলিয়া মনে হয় না ! নাটক, সিনেমা , সাহিত্য যদি সমাজের দর্পন হইয়া থাকে তাহা হইলে বলা যায় , বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক, পরকীয়াকে ভারতে চল হিসেবে গ্রহণ করা হইতেছে। তাই সারা ভারতে ডিএনএ টেস্ট করিলে ফলাফল কি হইবে পাঠকই বলুক !

৬. শরৎচন্দ্রের "বামুনের মেয়ে" একখানা ভয়াবহ উপন্যাস ! উপন্যাসের নায়িকা সন্ধ্যার জন্য আমার মন কাঁদিয়াছে এককালে ! নায়ক অরুণের সাথে সন্ধ্যার বিবাহ হইবে না কারণ সন্ধ্যা কুলীণ বামুনের মেয়ে, অরুন তাহা নহে ! একারণেই বিবাহ হইতে পারে না ! কিন্তু বেলাশেষে জানা গেল সন্ধ্যার পিতা আসলে হিরু নাপিতের ছেলে যে কিনা মুকুন্দ মুখুয্যের হইয়া প্রক্সি দিয়া টাকা কামাই করিত ! মুকুন্দ মুখুয্যের এমন আরও ১০/১২ খানা ইস্তিরি আছিলো ! হিরু নাপিত খ্যাপ মারিয়া মুখুয্যের শশুড়বাড়িগুলো হইতে টাকা উপার্জন করিয়া অর্ধেক মুকুন্দরে দিতো আর অর্ধেক নিজে রাখিত ! মুকুন্দ একলাই নহে , এমন বামুন এবং তাহাদের প্রক্সি দেওয়ার লোক তখন অনেকই ছিল !


৭. কুটিকালে সেবা প্রকাশনী হইতে প্রকাশিত ক্লাসিক "ব্লু লেগুন " পড়িয়া চমৎকৃত হইয়াছিলাম। অনুবাদে পাত্র-পাত্রীকে কাজিন বলিয়া চালাইলেও বড় হইয়া যখন জানিলাম তাহারা ছিল আপন ভাই-বোন, খুব অবাক হইয়াছিলাম ! একধরণের বিতৃষ্ঞা জন্মাইয়াছিলো ! লেখকের মনস্তত্ব সম্পর্কেও ঘৃণা জন্মাইয়াছিলো ! বিকৃত মানুষ না হইলে এইধরণের উপন্যাস কেমনে লেখে আর ইহা জনপ্রিয়ই বা হইলো কেমতে যদি না জনগনের মন-মানসিকতাও এমন হয় !! কেননা, জনপ্রিয়তা আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনের কথা , চাওয়া, সমর্থন ! চটিসাহিত্যের ব্যাপক চাহিদা থাকিলেও উহা জনপ্রিয় নহে , কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ উহাকে খারাপই মনে করে ! সেখানে শুধু জমজমাট কাহিনী ও বর্ণনার গুনে এমন বিকৃতি জনপ্রিয় হইলো কেমনে যদি না তাহাদের ম্যাংগোপিপল ইহাকে সমর্থন করে !!! ধড়িবাজ সেবা কিন্তু আমাদের ম্যাংগো পিপলের মনন বুঝিয়া তাহাদের কাজিন বলিয়া চালাইয়াছে !!

৮। গডফাদারের পালকপুত্র হলিউডের নায়ক টনির কথা মনে আছে ? তাহার বিবির সাথে সম্পর্ক ছিল না কারণ, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতে গিয়া তিনি ধোপা , নাপিত সকলের কাছেই দরজা খুলিয়া দিতেন ! যেন টনি ছিল ধোয়া তুলসীপাতা !!! নারীবাদীদের এই পয়েন্ট টা আমি সমর্থন করি ! পুরুষ হইলে মাফ , আর নারী হইলে খ্রাফ ; ইহা সমর্থনযোগ্য নহে !

৯. আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রফেসরের কবরকে নূর দ্বারা ভরিয়া দিন , আমিন ! তিনি বলিতেন, ইসলামী সভ্যতার সাথে অন্যান্য সভ্যতার পার্থক্য হইলো সম্পর্কজ্ঞানে ! জ্ঞান-বিজ্ঞান, টেকনোলজি, শিল্প-সংস্কৃতিতে অগ্রসর সভ্যতা, জাতি অনেক আছে ! ইতিহাসেও ইহার নিদর্শন ভুরি ভুরি ! কিন্তু সম্পর্কজ্ঞানে ইসলাম অনন্য ! স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক, নারীর সাথে পুরুষের সম্পর্ক, পিতা-মাতা , ভাই-বোন , মাহরাম, গায়ের মাহরামের সাথে কি সম্পর্ক তাহা খুব কঠোরভাবে ইসলামে বর্ণিত ! একারণেই পর্দাপ্রথার এতো কড়াকড়ি , যেন পরবর্তীতে পিতৃত্ব, মাতৃত্ব টেস্ট করিতে, ডিএনএ পরীক্ষা করিতে না হয় ! ১০ বৎসর বয়স হলে বিছানা পৃথক করা, বালেগ হইলে এমনকি মায়ের রুমেও অনুমতি নিয়ে প্রবেশের বিধান সম্পর্কেজ্ঞান ঠিক রাখিতে সহায়তা করে !

১০. সব রমণী ও পুরুষ এক নহে ! যেহেতু প্রধানত পুরুষের কারণেই সম্পর্কজ্ঞান নষ্ট হয়, একারণে সম্পর্কজ্ঞান ঠিক রাখিয়া , শর্তসাপেক্ষে পুরুষের চাহিদা পূরণের জন্যই বহুবিবাহের বিধান ইসলামে রাখা হইয়াছে। পতিতালয়, পরকীয়া , বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক ইসলামে নিষিদ্ধ , কারণ ইহাতে সম্পর্কজ্ঞান নষ্ট হয়, বংশধারা, শুদ্ধ রক্ত তৈরী হয় না, সর্বোপরি আল্লাহর হুকুমের লঙ্ঘন হয় !

১১. সম্পর্কজ্ঞান নির্ভর করে ঈমানের উপর। আল্লাহতায়ালার ভয়, আখিরাতের বিশ্বাস যাহার যত বেশি তাহার সম্পর্কেজ্ঞানও তত বেশি।একারণেই আল্লাহওয়ালা , সে পুরুষ বা রমণী যেই হউক , চোখের পর্দা , পোশাকের পর্দা রক্ষা করিতে পারেন, পারেন সম্পর্কজ্ঞান ঠিক রাখিতে, বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক, পরকীয়া , পতিতালয় গমন এমনকি গায়ের মাহরাম হইতে নিজেকে বিরত রাখিতে, আল্লাহতায়ালার হুকুমকে পুরা করিতে !

১২. আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমাজে আলহামদুলিল্লাহ সম্পর্কজ্ঞান এখনও কিছু মাত্রায় আছে, ইহাও ঈমানের কারণেই। নারী-পুরুষের পর্দা প্রথা শিথিল হইলেও, লিটনের ফ্ল্যাটের সংস্কৃতি, পরকীয়া চালু হইলেও ন্যাক্কারজনক ইনসেস্ট বা বিবাহ হারাম এমন নারী-পুরুষের মাঝে যৌন সম্পর্ক তেমন দেখা যায় না ! পশ্চিমা বিশ্বের যৌন নির্যাতনের এক বিরাট অংশই পারিবারিক সদস্যদের দ্বারা !! হালে সংবাদপত্রে ভারতেরই কিছু ভয়াবহ ইনসেস্টের ঘটনা দেখা যাইতেছে !

১৩. সম্পর্কজ্ঞান নষ্টের সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্তর হইলো ইনসেস্ট ! এই ব্লগেই একসময় জানিতে পারিয়াছিলাম 'মা' শব্দটি লিখিয়া গুগলে সার্চ দিলে চটিসাহিত্য আসিয়া পরিত ! এই বিষয়ে সার্চ বেশি হওয়ার কারণে এলগরিদমের ফলে উহা দেখাইত ! এই উপমহাদেশে দেবীকে মা জ্ঞানে পূজা করা হয় , ইসলামে মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত ইহা জানা সত্বেও এমন জঘন্য সংষ্কৃতি কোথা হইতে আসিল ? ইহা আসলে সম্পর্কজ্ঞানের অভাব , ঈমানের অভাব বা দুর্বলতার কারণে ! একারণে ঈমানের মেহনত করা , ঈমানের চর্চা করা অতীব জরুরি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন , আমিন।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৭

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: অসাধারণ একটি পোস্ট।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৩

টারজান০০০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ ! আপ্লুত হইলাম ! মাহাথিরের খবর কি ? আজ মনে হইলো গোস্বা হইয়াছে !!

২| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৯

সোহানী বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষণ। পুরোপুরি সহমত।

সত্যিই সম্পর্কের বিষয়ে ইসলামের বিধি বিধান যেমন যৌক্তিক তেমনি বিজ্ঞানসম্মত বটেই।

আর হাল আমলে আমাদের সমাজের এ ধ্বংসের জন্য প্রধাণত দায়ী করবো ভারতীয় চ্যানেলকে। ওদের কুৎসিত মানসিকতা, পরকিয়া সম্পর্কের বৈধতা, বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধরে নেয়া আমাদের মাঝে ছড়িয়ে গেছে। আমরা এখন এ ধরনের সম্পর্ককে স্মার্টনেস ভাবি। হায়রে বোকারা কিভাবে আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করায় সাহায্য করছি।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৯

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আফসোস , আফসোস !! আমরা কোথায় যাইতেছি ! আমাদের সমাজেও কি শেষে পিতৃত্ব, মাতৃত্ব নিশ্চিত করিতে ডিএনএ টেস্ট চালু হইবে ? লক্ষণ ভালো নহে !

পর্দাপ্রথার কঠোরতার কারণ লইয়া একসময় ভাবিয়াছি ! তাহাতে আল্লাহতায়ালার হুকুমের মহিমাই ধরা পড়িয়াছে। শরীয়তের প্রতিটা হুকুমের মধ্যে আল্লাহ কল্যাণ রাখিয়াছেন।উহা মানার মধ্যেই সফলতা ,নিরাপত্তা !

ধন্যবাদ , মনোযোগ দিয়া পড়ার জন্য !

৩| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫

নতুন বলেছেন: নারীদের ইসলামে সম্মান দিয়েছে সেটা ঠিক।

কিন্তু রাসুল সা: এর পরের ইসলামী চিন্তাবীদরা মনে হয় একটু বেশিই নারী নিয়ে চিন্তা করেছে এবং নারীকে খুবই নিচু ভাবে ট্রিট করেছে।

পদার নামে একজন নারীর হাতমোজা,চেহারা ঢাকা, বস্তার মতন বানিয়ে ফেলেছে।

রাসুল সা: এর স্ত্রী ব্যবসা করতেন, যদ্ধে যেতেন,

কিন্তু মোল্লারা বত`মানে নারীদের যেই ভাবে ট্রিট করতে বলে সেটা ব`বর। নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়া ভালো চোখে দেখে না। বাইরে একজন সাধারন মানুষের মতন পানিও পান করতে পারেনা, একটা পদা উচু করে লুকিয়ে পানি পান করতে হয়।

এই কারনেই বত`মানের ইসলামের ধারনার প্রতি মানুষের সম্মান কমে যাবে।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:০৫

টারজান০০০০৭ বলেছেন: নারীদের ইসলামে সম্মান দিয়েছে সেটা ঠিক।

ধন্যবাদ।

কিন্তু রাসুল সা: এর পরের ইসলামী চিন্তাবীদরা মনে হয় একটু বেশিই নারী নিয়ে চিন্তা করেছে এবং নারীকে খুবই নিচু ভাবে ট্রিট করেছে।

পদার নামে একজন নারীর হাতমোজা,চেহারা ঢাকা, বস্তার মতন বানিয়ে ফেলেছে।


নাহ ! ওলামায়ে হক ,আকাবেরীনগন ভুল সিদ্ধান্ত নেননি। আপনার হয়তো জানা নেই ফিকাহবিদদের হাতে কিছু ক্ষমতা দেওয়া আছে।মৌলিকতা অক্ষুন্ন রেখে তাহারা প্রয়োজনের খাতিরে সংযোজন-বিয়োজন করিতে পারেন।তাহারা পর্দার যে বিধান দিয়াছেন তাহার পক্ষে শক্ত যুক্তি আছে, ইহা বোঝা বা মানার মন আপনার আছে বলিয়া মনে হয় না !

রাসুল সা: এর স্ত্রী ব্যবসা করতেন, যদ্ধে যেতেন,

কিন্তু মোল্লারা বত`মানে নারীদের যেই ভাবে ট্রিট করতে বলে সেটা ব`বর। নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়া ভালো চোখে দেখে না। বাইরে একজন সাধারন মানুষের মতন পানিও পান করতে পারেনা, একটা পদা উচু করে লুকিয়ে পানি পান করতে হয়।


পর্দা ও নিরাপত্তার সাথে, মাহরামের সম্মতিতে নারীদের আয়-উপার্জন নিষেধ নাই। কিন্তু প্রশ্ন হইলো আমরা কি নারীদের নিরাপত্তা , তাহাদের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারিয়াছি ? পারি নাই ! মোল্লারা তাহাদের আয়-উপার্জনে, শিক্ষা গ্রহণে নিষেধ করেন না ! তাহারা যথাযথ নিরাপত্তা ও উপযুক্ত পরিবেশের শর্ত যুক্ত করেন। এমন ব্যবস্থা করিয়া দেখুন ,মোল্লারা স্বাগতই জানাইবে !

এই কারনেই বত`মানের ইসলামের ধারনার প্রতি মানুষের সম্মান কমে যাবে।

ইসলামের প্রতি সাধারণ মানুষের সম্মান কমিবে আমাদের মুসলিমদের কারণে , শরীয়তের কারণে নহে ! সাহাবা রা. যেমন দৃঢ় কণ্ঠে বলিতে পারিতেন ,আমাদের মতন হয়ে যাও , বর্তমানে আমাদের এমন দুরবস্থা যে এই কথা বলিলে লোকে থুতু দিতে পারে। আমরা মুসলমানেরাই অন্যদের ইসলাম গ্রহণে প্রতিবন্ধক। বিধর্মীরা একথা প্রায়শই বলিয়া থাকে , ইসলাম ভালো ,মুসলমান খারাপ ! ইসলামের প্রতি মানুষের সম্মান ইনশাল্লাহ কমিবে না। ইসলাম গ্রহণ না করিলেও যেকোন বিবেকবান , যুক্তির আলোকে বিচার করেন এমন যেকেউ ইসলামকেই সবচেয়ে প্রামাণ্য , মানুষের ফিতরাতের (স্বভাবের ) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্ম হিসেবে মানিয়া লইবে বলিয়াই আমার বিশ্বাস !

৪| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৪৩

হিংস্র ঈগল বলেছেন: আপনার কথায় যুক্তি আছে। "যৌনতা" বিষয়টা পশ্চিমা বিশ্বে যেভাবে দেখা হয় আমাদের এশিয়ায় তা পুরোপুরি ভিন্ন। ভারত বা থাইল্যান্ডের ব্যাপারটা একটু আলাদা। কিন্তু এত সুন্দর ইসলামী বিধান থাকার পরেও আমাদের নারী শ্রমিকরা কেন সৌদিতে যেয়ে বর্বরতার শিকার হচ্ছে বলতে পারেন?? এমন ঘটনাও শুনেছি সেখানে পিতা ও পুত্র উভয়ে মিলে একজন বাংলাদেশী নারীর সাথে খারাপ কাজ করেছে। আপনি হয়তো বলবেন, নারী শ্রমিকরা কেন অইদেশে কাজ করতে গেলো। কিন্তু সৌদি সরকারও তো শর্ত দিয়েছিল পুরুষ শ্রমিক পাঠাতে হলে নারী শ্রমিকও পাঠাতে হবে।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৮

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আপনার কথায় যুক্তি আছে। "যৌনতা" বিষয়টা পশ্চিমা বিশ্বে যেভাবে দেখা হয় আমাদের এশিয়ায় তা পুরোপুরি ভিন্ন। ভারত বা থাইল্যান্ডের ব্যাপারটা একটু আলাদা।

ইহাতো শুধুই পশ্চিমা বিশ্ব বা এশিয়ার বিষয় নহে , ইহা ইসলাম ও অন্যান্য সভ্যতার সংস্কৃতি , বিধান সম্পর্কে ! ইসলামের সম্পর্কজ্ঞানের কারণেই অপরাপর সভ্যতা হইতে ইসলাম ভিন্ন , সে যে অঞ্চলেই হউক না কেন।

কিন্তু এত সুন্দর ইসলামী বিধান থাকার পরেও আমাদের নারী শ্রমিকরা কেন সৌদিতে যেয়ে বর্বরতার শিকার হচ্ছে বলতে পারেন?? এমন ঘটনাও শুনেছি সেখানে পিতা ও পুত্র উভয়ে মিলে একজন বাংলাদেশী নারীর সাথে খারাপ কাজ করেছে। আপনি হয়তো বলবেন, নারী শ্রমিকরা কেন অইদেশে কাজ করতে গেলো। কিন্তু সৌদি সরকারও তো শর্ত দিয়েছিল পুরুষ শ্রমিক পাঠাতে হলে নারী শ্রমিকও পাঠাতে হবে।

ইহার কারণ তো পোস্টেই দেওয়া আছে , ঈমানের ঘাটতি , সম্পর্কজ্ঞানের কমতি। নারী শ্রমিকগণ একেতো দাসী নহেন , আর পিতা -পুত্রের একই নারীর সাথে যৌনতা তো জঘন্য। ইহাদের শাস্তি একেতো জেনার , দ্বিতীয়ত সম্পর্কজ্ঞান নষ্টের। সৌদি সরকার যে শর্তই দিক না কেন আমাদের নারীদের বিনা মাহরামে এতদূর সফরে যাওয়ার অনুমতিই ইসলামে নাই বলিয়াই জানি , তাহার উপরে এমন অনিরাপত্তাতে তো প্রশ্নই আসে না। আহা ,আমার ক্ষমতা থাকিলে দেশেই তাহাদের নিরাপত্তা ও পর্দার সাথে কর্মসংস্থান করিতাম ! আমি দেশপ্রধান হইলে নারীদের ঘরেই বেতন পৌঁছে দিতাম। ইহা জাতির জন্য উত্তম বিনিয়োগ হইতো।

৫| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:১৪

রাজীব নুর বলেছেন: শরৎচন্দ্রের 'দত্তা' বইটি কি পড়েছেন??

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫০

টারজান০০০০৭ বলেছেন: পড়িয়াছি এবং সুচিত্রা অভিনীত মুভিও দেখিয়াছি বোধহয় !! আপনি পড়িয়াছেন ?

৬| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৯

নতুন বলেছেন: আরেকটা বিষয় হইলো ইন্চেস্ট কিন্তু খৃস্টান ধমে চাচাতো, মামাতো ভাই বোনের বিয়েও ইন্চেস্ট হিসেবে দেখে অনেকে।

আপনি যাদের কাহিনি বলেছেন তারা ধমে মানে না।

আমাদের সমাজেও যারা ধম` মানে না তারা অনেক অনৈতিক কাজ করে থাকে।

বিধমীদের মরালিটি সম্পকে আমাদের খুবই একটা ভ্রান্ত ধারনা আছে, যেমনটা ইসলাম সন্ত্রাসী ধম` বলে ওদের ভেতরে আছে।

খারাপ ভালো সকল সমাজেই আছে। ওরা অন্যের কাছে নাক কম গলায় তাই ওদের সমাজে এই গুলি নিয়ে সমালোচনা কম। কিন্তু আমাদের সমাজের মানুষের নাক লম্বা এবং নিজের মন্দ কাজ ছাড়া বাকি সবার ব্যাপারেই সবাই নাক গলায় তাই এই নিয়ে আলোচনা বেশি্।

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২৯

টারজান০০০০৭ বলেছেন: আরেকটা বিষয় হইলো ইন্চেস্ট কিন্তু খৃস্টান ধমে চাচাতো, মামাতো ভাই বোনের বিয়েও ইন্চেস্ট হিসেবে দেখে অনেকে।

খ্রিস্টান ধর্মেও যে ফার্স্ট কাজিন হারাম ইহা জানিতাম না ! ইহা শুধু সনাতন ধর্মে বলিয়াই জানিতাম ! ধন্যবাদ। তবে পাশ্চাত্যের যে পারিবারিক প্রথা তাহাতে ফার্স্ট কাজিনদের সাথে একত্রে থাকা বা বসবাস বিরল।যৌন আকাম-কুকাম , নির্যাতনের বেশিরভাগ ঘটনাই পারিবারিক যাহা পারিবারিক সদস্যদের দ্বারাই বেশি ঘটিত।তাই ইনসেস্টের আকামগুলো ফার্স্ট কাজিনদের সাথে ঘটে এমন বলা যাইতেছে না !

আপনি যাদের কাহিনি বলেছেন তারা ধমে মানে না।

আমাদের সমাজেও যারা ধম` মানে না তারা অনেক অনৈতিক কাজ করে থাকে।


আপনি একটা দারুন সত্য তুলিয়া ধরিয়াছেন ! ধর্মীয় চেতনা না থাকিলে সম্পর্কজ্ঞানের ক্ষেত্রে মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্য নাই ! একারণেই ইনসেস্টের মতন জঘন্য সম্পর্ক দেখা যাইতেছে ! তাহা হইলে যাহারা নাস্তিক, ধর্ম মানেনা তাহাদের মধ্যে সম্পর্কজ্ঞান নির্ধারণ পশুর নিয়মেই হইবে বলা যায় ! রাহুল সংকৃত্যায়নের 'গঙ্গা হইতে ভলগা ' পড়িয়াছেন ? উহাতে মেয়েকে দেখা যায় মায়ের সাথে যুদ্ধ করিতে পিতার দখল লইয়া। লেখক সেখানে ধর্মহীন সমাজই দেখাইয়াছেন !


বিধমীদের মরালিটি সম্পকে আমাদের খুবই একটা ভ্রান্ত ধারনা আছে, যেমনটা ইসলাম সন্ত্রাসী ধম` বলে ওদের ভেতরে আছে।

কিছুটা হইলেও আছে সন্দেহ নাই । তবে পরিসংখ্যান , সংবাদপত্রের ভাষ্য হইতে যাহা জানা যাইতেছে তাহা হইলো মুসলিম সমাজে যেখানে ধর্মীয় চেতনা শক্তিশালী সেখানে এই অপকর্ম কদাচিৎ দেখা যায়।বিধর্মী সমাজে বিশেষ করিয়া পশ্চিমা সমাজে ইহার সংখ্যা অনেক বেশি। তাহাদের পর্ন ক্যাটাগরিতে ইনসেস্ট একটা জনপ্রিয় ধারাই আছে।হালে গুগলে 'মা ' লিখিয়া সার্চ দিলে যে চটিসাহিত্যগুলো আসে তাহাও পশ্চিমা সমাজের কু-বাতাস হইতেই আসিয়াছে।

খারাপ ভালো সকল সমাজেই আছে। ওরা অন্যের কাছে নাক কম গলায় তাই ওদের সমাজে এই গুলি নিয়ে সমালোচনা কম। কিন্তু আমাদের সমাজের মানুষের নাক লম্বা এবং নিজের মন্দ কাজ ছাড়া বাকি সবার ব্যাপারেই সবাই নাক গলায় তাই এই নিয়ে আলোচনা বেশি্।

হ্যা , ইহা সত্যি। পশ্চিমা সমাজের অন্যের ব্যাপারে এই নাক না গলানো আমার কাছে প্রশংসনীয় লাগে বটে। তবে তাহাদের আইসোলেশন একটা পর্যায়ে আত্মীয়-পরিজনহীনতায় পরিণত হয়। ইহা দেখিয়া আতংক বোধ করি !

৭| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭

নতুন বলেছেন: খ্রিস্টান ধর্মেও যে ফার্স্ট কাজিন হারাম ইহা জানিতাম না ! ইহা শুধু সনাতন ধর্মে বলিয়াই জানিতাম !

চীন এবং আমেরিকার কিছু রাজ্যে নিষেধ।

যদি আদম আ: আর হাওয়া আ: থেকে মানব জাতি শুরু হয়ে থাকে তবে তার ছেলেমেয়েদের মাঝেই বিবাহ হয়েছিলো। তবে মানবজাতি শুরুই হয়েছে ইন্সেচ্টের মাধ্যমে না কি অন্য কোন ভাবে?

তাহলে আপনার ধমে যদি নিষেধ থাকে তবে আপনার কাছে সেটা খারাপ। কিন্তু অন্য কোন ধমে যদি নিষেধ না থাকে তবে সেটা তার কাছে খারাপ কাজ না।

যেই কাজের মাধ্যমে অতীতে মানবজাতি বংস বৃদ্ধি করেছিলো সেটা আপনার ধম` এখন নিষেধ করেছে কিন্তু অন্য কোন একটা ধমে নিষেধ করেনাই। তাই তার অনুসারীরা খারাপ হয়ে যাবে কেন?

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:২১

টারজান০০০০৭ বলেছেন: চীন এবং আমেরিকার কিছু রাজ্যে নিষেধ।

তাই নাকি ? জানা ছিল না। এই আইন কি তাহাদের সমাজে মানা হয় ?

যদি আদম আ: আর হাওয়া আ: থেকে মানব জাতি শুরু হয়ে থাকে তবে তার ছেলেমেয়েদের মাঝেই বিবাহ হয়েছিলো। তবে মানবজাতি শুরুই হয়েছে ইন্সেচ্টের মাধ্যমে না কি অন্য কোন ভাবে?

ইহুদি, খিষ্টান ও মুসলিমদের ইতিহাসের উপাদান একই, যদিও দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ! এ বিষয়ে ওলামায়ে হক ভালো বলিতে পারিবেন। আমি যতটুকু জানি, আদম ও হাওয়া আ. এর একই সাথে একের অধিক সন্তান জন্মাইতো ! বংশবৃদ্ধি এবং সাথে ডেভিয়েশন বাড়ানোর জন্য প্রথমে যে সন্তানগুলো জন্মাইতো তাহাদের সাথে পরেরগুলোর বিবাহ হইতো। প্রজন্ম বাড়ার সাথে সাথে ইহা নিষিদ্ধ হইয়া যায়। আর পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক তো প্রথম থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। আদম আ. এর পর হইতে কোন শরীয়তেই এই ধরণের বিবাহ আর অনুমোদিত ছিল না।

তাহলে আপনার ধমে যদি নিষেধ থাকে তবে আপনার কাছে সেটা খারাপ। কিন্তু অন্য কোন ধমে যদি নিষেধ না থাকে তবে সেটা তার কাছে খারাপ কাজ না।
যেই কাজের মাধ্যমে অতীতে মানবজাতি বংস বৃদ্ধি করেছিলো সেটা আপনার ধম` এখন নিষেধ করেছে কিন্তু অন্য কোন একটা ধমে নিষেধ করেনাই। তাই তার অনুসারীরা খারাপ হয়ে যাবে কেন?


একটা বিষয় খেয়াল করুন, আমি কিন্তু সভ্যতার তুলনা করিয়াছি , ধর্মের নহে ! ইসলাম আসিয়াছে কারণ , আমার জানামতে ইসলামী সভ্যতাই একমাত্র সভ্যতা যাহা ধর্মের উপর ভিত্তি করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে। অন্য ধর্মগুলো তখনকার সভ্যতাকে আত্মীকরণ করিয়াছে, অথবা ওই সভ্যতাতেই ধর্মের উদ্ভব হইয়াছে ! ধর্মের উপর ভিত্তি করিয়া গড়িয়া ওঠে নাই।

আর ধর্মের কথা যখন বলিলেনই , তখন বলি আমার জানামতে প্রচলিত , জনপ্রিয় কোন ধর্মেই ইনসেস্ট হালাল নহে ! আর আমার পোস্টতো শুধু ইনসেস্ট সম্পর্ক লইয়া নহে , বরং সার্বিক সম্পর্কজ্ঞান লইয়া। ইনসেস্ট হইলো সম্পর্কজ্ঞানের সর্বনিকৃষ্ট স্তর ! ইহা যদি কোন সমাজে , কোন সভ্যতায় হালাল হয় , তাহারাও নিকৃষ্ট হইবে যেহেতু তাহাদের সম্পর্কজ্ঞান নিকৃষ্ট ! সম্পর্কজ্ঞান উৎকৃষ্ট না হইলে মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্য নাই ! ধর্মহীন সমাজ বা যে ধর্মীয় সমাজে সম্পর্কজ্ঞান যত নিম্নমানের তাহা পশু সমাজের তত কাছাকাছি !

ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.