নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“নিতান্ত শায়িত আমি / কোথা আছি / কেউ তা জানে না শুধু / মাছেদের / রাষ্ট্রযন্ত্র তটস্থ / সমাজ / তারা জানে আমার / স্ট্যাটাস” -(ব্রাত্য রাইসু)

তাওহিদ হিমু

.

তাওহিদ হিমু › বিস্তারিত পোস্টঃ

মিথ্যাশিল্পী নির্লজ্জ রাজনীতিবিদগণ

১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৫


'যদ্যপি আমার গুরু'-তে আহমদ ছফাকে প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক বলেন, তিনি শেরে বাংলাকে একবার সামনাসামনি প্রশ্ন করেছিলেন, কেমনে তিনি (শেরে বাংলা) নিপুণভাবে মিথ্যা বলেন। গান্ধী, নেতাজী, নেহেরু, শরৎ বসু, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী, বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন প্রমুখ নেতাদের মিথ্যাচারের কিছু এখনো পাই নি যদিও। বঙ্গবন্ধুই হয়ত বাংলার ইতিহাসে শেষ সত্যাবাদী নেতা ছিলেন। বাকশাল প্রতিষ্ঠা, নিজ দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা সহ কিছু ব্যাপারে সমালোচ্য হলেও কখনো এমন মনে হয় নি যে, তিনি কপটচারিতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভেতরে যা করতেন বা বলতেন, বাইরেও প্রকাশ্যে স্পষ্টভাবে তা বলে দিতেন।

পাকিস্তানি আমলের মুসলিম লীগ তো মিথ্যা দিয়েই চলত এবং '৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে মিথ্যা ছাড়া কেউ চলে বলে মনে হয় না। খালেদা জিয়া একটু কম মিথ্যা বলেন বোধহয়। অন্য জাতীয় নেতারা মিথ্যায় একজনের চেয়ে অন্যজন সেরা। মিথ্যাচারকে তারা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। চোখে চোখে চেয়ে মিথ্যা বলতে না পারলে এই যুগে রাজনীতি করা যায় না, ওরা এমন অবস্থা তৈরি করেছে। এই মাত্র আপনাকে থাপ্পড় মেরে হাত স্থির করার আগেই খুব স্বাভাবিকভাবে বলবে, "আমি কই মারলাম? মারি নি তো!" এমনই নির্লজ্জ এরা।

ভারতের বিজেপি'র নেতারাও একই। কদিন আগে ভারতের সংসদ অধিবেশন দেখছিলাম ইউটিউবে। সেখানে তাদের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর নেতা বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে প্রশ্ন হলে, কেন তার সরকার কাশ্মীরি নেতাদেরকে গৃহবন্দি করে রেখেছেন, কেন কাশ্মীরি নেতা ওমর আবদুল্লাহকে লোকসভায় পর্যন্ত আসতে দেওয়া হচ্ছে না, তখন তিনি হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন, "তিনি (ওমর আবদুল্লাহ) স্বেচ্ছায় লোকসভায় আসছেন না। নিজের ঘরে আনন্দ-স্ফূর্তি (মৌজ-মস্তি) করছেন। কেউ তাকে আটকে রাখে নি। তাকে কি ধরেবেঁধে নিয়ে আসব পার্লামেন্টে?" কী নির্লজ্জ! তার এমন বক্তব্য শোনে অবাক হলাম এবং পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম, ভারতের বর্তমান নেতারা মিথ্যাচারে আমাদের গুলোর চেয়ে পিছিয়ে নেই।

স্ট্যালিন, মাও, সাদ্দাম, গাদ্দাফী, কিম, আসাদ, মোবারক, সিসি, এরশাদ প্রমুখ ডিক্টেটর বা সামরিক জান্তা সরকার গুলো কীভাবে একের পর এক ইলেকশন ও গণভোটে বিপুল ভোটে জেতে, তা আমার কাছে একসময় রসহ্য হয়ে ছিল। সে-রহস্য ভেদ হলো সেদিন, যেদিন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস পড়ার সময় ডিক্টেটরদের বৈশিষ্ট্যাবলির মধ্যে পেলাম: "তারা নিজেদেরকে বৈধ করিয়ে নিতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিতভাবে 'হ্যাঁ/না' গণভোট দেয়, যেখানে বেশিরভাগ ভোটার ভোট না দেওয়া সত্ত্বেও তারা কারচুপির মাধ্যমে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।" ভোট কারচুপির চেয়ে বড় মিথ্যাচার আর কী হতে পারে? ভোটচুরি আর দেশচুরি একই কথা।

একসময় টক-শো প্রচুর দেখলেও এখন দেখি না। কারণ টক-শোর বক্তাদের দেখলেই বুঝতে পারি, কে কীভাবে কত শিল্পিতভাবে মিথ্যাগুলো বলে যাবেন। টিভি-উপস্থাপকদের নিয়ে আয়োজিত কোনোএক ইদের বিশেষ অনুষ্ঠানে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির খালেদ মহিউদ্দীন একবার বলেছিলেন যে, টক-শো সঞ্চালনার সময় তারাও জানেন, বক্তা সত্যটা এড়িয়ে যাবেন, নাহয় গৎবাঁধা উত্তরগুলো দিয়ে যাবে, যা উত্তর না দেওয়ারই সমান; তবুও তাদেরকে প্রশ্ন করে যেতে হবে, উত্তর না পেলেও। "প্রশ্ন প্রশ্ন আর প্রশ্ন।"



ছাত্রলীগের ছেলেরা সারাদেশের ক্যাম্পাসে ও বাইরে ভিন্নমতের ছাত্র বা মানুষকে ধরে মারধোর করে, নির্যাতন-নিপীড়ন করে, দিবালোকে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়, তা আমাদের দেশের বাচ্চারাও জানে, নিয়মিত টিভিতে দেখে। অথচ তাদেরকে টিভিতে ডাকা হলে তারা এমনভাবে কথা বলে, যেন তারা বুদ্ধ-গান্ধীর অহিংসাবাদের বিশ্বাসী ফেরেস্তা। নিচের ছবিটা দেখুন। যেখানে দেশের বর্তমানের বৃহত্তম ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতাও প্রকাশ্যে দিবালোকে কিরিচ-রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়, তারপর জনগণকে বলে যে, তারা মারধোর করে না, তাদেরকে আর কী বলবেন?



হ্যাঁ, কোনো দলই ধোয়া তুলসী পাতা না। সকলে মুদ্রার এপিঠ-ওপিট। বিএনপি জামাত-ক্ষমতায় থাকলেও আজকে ছাত্রদল-শিবির তা-ই করত, যা এখন ছাত্রলীগ করছে। নির্দিষ্টভাবে কারো দোষ না দিয়ে পুরো জাতিকে দুষব। জাতি হিসেবে আমরা এখনো বর্বর, অসভ্য, আনসিভিলাইসড থেকে গেছি। যারা সন্ত্রাস-গুণ্ডামি করছে, তারা তো আকাশ থেকে নেমে আসা শয়তান না, তা তো আমাদেরই কারো ভাই, কারো কাজিন, কারো বন্ধু, কারো আত্মীয়, কারো প্রতিবেশি। সন্ত্রাস-গুণ্ডামি করার পরও তারা আমাদের থেকে স্বাভাবিক, পারলে একটু বেশি ভাল, আচরণ পায় বলে, এমনি ফাঁপড়ে পড়লে সাপোর্টও পায় বলে আরো বেশি সন্ত্রাস-গুণ্ডামি করে বেড়ায় গর্বের সাথে। দেখুননা, আবরার হত্যার খুনীরা নিজ নিজ পরিবার থেকে সবরকম সাহায্য পাচ্ছে। তাদের পরিবার দাবি করছে, তাদের সন্তান নির্দোষ। আজ পর্যন্ত একজন সন্ত্রাসীকেও দেখলাম না নিজ পরিবারে ও আত্মীয়দের নিকট অবাঞ্ছিত হতে। উলটো গর্ব করে বলে, আমার অমুক অমুক জায়গার নেতা। ঐ সন্ত্রাসী নেতাদের থেকে প্রয়োজনে সুবিধাও নেয়। তাহলে এই জাতি না ভুগে কে ভুগবে?

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: কাকে বিশ্বাস করবো?? কার উপর আস্থা রাখবো??

১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:০২

তাওহিদ হিমু বলেছেন: তা আমিও জানি না, ভাই। মিথ্যা এত প্রকট যে, কেউ সত্য কথা বললেও তাকে বিশ্বাস করতে চায় না মন। ঘরপোড়া গরুর সিঁদুরেমেঘ দেখার ভয় আরকি।

২| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৪

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: যাদের সম্পর্কে আপনি মিথ্যাচারের অভিযোগ আনলেন, তাদের চেয়ে দেশের জনগন অনেক বেশি মিথ্যাবাদী। জনগন অনেক বেশি খারাপ। তারা খারাপ বলেই তাদের ওপর খারাপ মানুষদের শাসন চলতে থাকে।

১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৬

তাওহিদ হিমু বলেছেন: জনগণ যে ভাল না, তাই এমন হচ্ছে, তা ত আমি বলেছি।

৩| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য বুঝেন তো?

১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৯

তাওহিদ হিমু বলেছেন: বুঝি, এটা জোরের সাথে বলব না। হয়ত নিজের অজান্তে অনেক মিথ্যাকেও সত্য বলে ধরে নিই।

১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৪

তাওহিদ হিমু বলেছেন: তাছাড়া আপনাদের মত জ্ঞানী ও মহান মানুষেরা থাকতে আমার মত মানুষের বুঝার কী দরকার! :-)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.