| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজ মহান বিজয় দিবস।লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় আমাদের জাতি হিসেবে করেছে সমৃদ্ধ। একজন বাঙ্গালি হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। আশাকরি ১৬ কোটি বাঙ্গালিও আমার মতই গর্বিত এই দেশে জন্স নিয়ে।বিজয় দিবসকে ঘিরে আজ উৎসাহ উদ্দিপনার শেষ নেই বাঙ্গালির মনে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও আজ নেওয়া হয়েছে অনেক পদক্ষেপ। সঙ্গে বাংলার ১৬ কোটি জনতাও মহা সমারহে পালন করছে দিনটি। আমি কোটি বাঙ্গালির মনের এই আনন্দকে সাধুবাদ জানাই।
কিন্তু ভাই ও বোনেরা আমরা আজ কতটুকু বাঙ্গালি তা কি বলতে পারেন? আমি নিজেও জানিনা আমি আসলে কতটুকু বাঙ্গালি। আমাদের প্রধান সমস্যাটা হল আমাদের জাতির ভবিষ্যত তরুন তরুনিরা অনেক্ই জনেননা আমাদের এই বিজয়ের ইতহাস। আর আমি বিশ্বাস করি আমি যদি ইতহাস না জানি তাহলে আমার পক্ষে কোন ঘটনার মাহাত্য , সে ঘটনার গুরুত্ব সঠিক ভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব না। যে জাতির একটি বিশাল অংশ তাদের ইতিহানের সঠিক তথ্য গুলো সম্পর্কে পুরোটাই অবচেতন তাদের পক্ষে দেশকে ভালোবাসা কতটুকু সম্ভব? কারন আমি যদি না জানি যে বিজয়ের পেছনে কি ছিলো তাহলে এ বিজয়ের মাহাত্য আমি কি ভাবে বুঝবো? আর মাহাত্য আমি না বুঝলে আমি দেশকে ভালোবাসবো কি করে? কতটুকু দিতে পারবো দেশকে?? তাই আমার মনে হয় এই বিজয় দিবস পালনের আগে এর পেছনের দৃশ্যপট টা আমরা সঠিক ভাবে জেনে নেব।
এখন আসি বিজয় দিবস পালন করে বাঙ্গালি সাজার বিষয়টিতে। আমাদের দেশের অনেক দেশ প্রেমিককেই দেখি বিজয় দিবসে লাল সবুজ পোশাক পরে রস্তায় ঘুরতে। এই দিনকে কেন্দ্র করে অনেকই ফেসবুকে প্রোফাইল ফটো দিয়েছেন বাংলাদেশেল পতাকা। এতে আমার কোন আপত্তিও নেই। নিজের দেশকে তুলে ধরতে আমরা করতেই পারি। কিন্তু আমার আপত্তি আছে এক দিনের বাঙ্গালি নিয়ে। আমি বলছিনা সবাই এক। তবে হলফ করে পারি অধিকাংশই এক দিনের বাঙ্গালি। আর যাকে আমি বলব লোক দেখানো বাঙ্গালি। আমাদের মাঝে অনেকেই আজ লালসবুজ পরে রাস্তায় বেড়িয়েছেন, সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ দেশ করে জবিন দিয়ে দিচ্ছেন। তারা দেশের জন্য জীবন দিয়ে দিতে পারেন। আমার প্রশ্ন এত দেশপ্রেমিক সারা বছর থকে কই? দেশ প্রেম কি শুধু মুখে বলার জিনিস? নাকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে জানানো জিনিস?
আমি কি দেশের জন্য কিছুই করতে পারিনা? আমার কি দেশের প্রতি কোন দায়িত্ব নেই? অবশ্যই আছে আর তা শুধু মুখে বলা নয়। আমাদের দেশের ১৬ কোটি মানুষ নিয়ে আমাদের বাংলাদেশ। যদি আমি সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হয়ে থাকি তাহলে অবশ্যই আমার দেশের জণ্য অনেক কিছু করার আছে। দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছু করার আছে। ১৬ই ডিসেম্বর প্রতিটি বাঙ্গালির মনে যেমন দেশ প্রেম যাগে তেমনি দেশ প্রেম যদি সাড়া বছর থাকে তাহলে আমি বাজি ধরে বলতে পারব যে এই দেশ উন্নই হবেই।
আমি বলছিনা কাউকে যুদ্ধ করতে। আমি বলছিনা দেশের অরাজকা সৃষ্টি করতে। দেশকে ভালোবাসার প্রথম ও প্রধার শর্ত হল দেশের মানুষকে ভলোবাসা। আমরা এই একদিনে মানুষকে দেখানোর জন্য যা করি তার ১০ শতাংশ যদি সারা বছর মানুষের উপকারে করতে পারি তাহলে দেশে এত অশান্তি থাকবেনা। হয়ত এতে মানুষকে দেখানোর সুযোগ কম, কিন্তু তাতে দেশের কিছুটা হলেও উপকরা হবে। এই দিনের লোক দেখানো বাঙ্গালি আমি হতে চাইনা। আমি সাড়া বছর, সাড়া জীবন বাঙ্গালি থাকতে চাই। এর জন্য হয়তো মানুষ আমাকে চিনবে না, জানবেনা। কিন্তু আমি নিশ্চিত এতে বিন্দু পরিমান হলেও দেশের জন্য কিছু করতে পারবো। আমার মনে হয় দেশের মানুষ লোক দেখানো ভালোবাসার চেয়ে আমাদের লোকচক্ষুর আড়ালেও ভালোবাসাটা বেশি চায়। কারন এতে তারা একটু হলেও উপকৃত হয়।
আরেকটা বিষয় হলো আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি। আমাদের অনেকই মনে করি যারা সমাজে খুব নিম্নমানের জীবন জাপন করে তারা বোধ হয় মানষ না। একনকার দিনের বিত্তমান মানুষরা অনেকেই দেখি সমাজের দুস্থ মানুষদের দেখলেএমন একটা ভার করে যেন তারা রাস্তার কুকুর। তারা এটা ভুলেই জানে যে বিধাতা তাদেরকেও মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। ছোট্ট একটা উদাহরন দেই। কোন এক রবিবার। আমার ডে অফ। সকালে ফ্রেস হয়ে নাস্তা খেতে হোটেলে যাচ্ছি। দেখলাম একজন টোকাই ডাস্টবিনের পাশে বসে কিছু একটা খাচ্ছে। আমি তাকে ডেকে সাথে নিয়ে হোটেলে গেলাম নাস্তা করতে। আমার পাশের টেবিলেই বসে ছিলেন স্যুট পরিহিত একজন ব্যাক্তি। আমাদের বসতে দেখে তিনি টেবলি ছেড়ে উঠে গিয়ে অন্য টেবিলে বসলেন এবং ওয়েটারকে বললেন, এদের হোটেলে ঢুকতে দাও কেন??
আমি বলতে চাই বড় সাহেব আপনিও পারতেন একটি গরিব শিুশুকে একবালা খাবার খাওয়াতে্ এতে আপনার কিছুই যাবেনা। কিন্তু সে শিশুটি ঞয়ত অনেককছিু পাবে। তা না করে আপনি উল্টো এর বিরোধিতা করছেন??
পরবরর্তীতে আমি বের হবার সময় তাকে বললাম ভাই আপনার মত মানুষ ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর গায়ে দেশপ্রেমের তকমা লাগিয়ে ঘুরবেন। আর আপনার দেশপ্রেম আজ জেকান পর্যায়ে নেমে গেছে???? তিনি আমাকে কোন উত্তর দিতে পারেননি। ধিক্কার জানাই এমন একদিনের দেশপ্রেমিকদের । ১৬ ডিসেম্বর শরীরে পতাকা না বাধলে যদি আমি দেশ প্রেমিক না হতে পারি তাহলে আমি দেশপ্রেমিকও না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোফাইল ফটো চেঞ্জ না করলে যদি আমার নাম দেশ প্রেমিকের তালিকা থেকে বাতিল হয়ে যায় তবে তাই যাক। এমন একদিনের লোক দেখানো দেশপ্রেমিক আমি হতে চাইনা...............................................
২|
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:০৭
তৌহিদ তুলন বলেছেন: ভাই আমাদের বিজযের ইতহাস যদি এই ব্লগে লিখা সম্ভব হতো তাহলে অনেক আগেই লিখতাম। তবে ইতহাস যোভাবে বিকৃত করা হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আর কিচু বছর পর আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিলো কি না তা নিয়ে সংশয়ে পরে যাবে নতুন প্রজন্ম।
আর তারক জিয়া বা জয় আমাদের ইতহাস না। বা তারা ইতহাস বেত্তাও না। তাই যারা যাই বলক না কেন তাতে আমার কিছু আসে যায় না।
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৪৮
কলাবাগান১ বলেছেন: ভাই আপনিই তাহলে বলুন দেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস... তারেক জিয়া যখন বলে যে বংগবন্ধু ছিলেন একজন রাজাকার- তাকে কি সঠিক ইতিহাস বলে মনে হয়??