| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কি দেখার ছিলো কি দেখছি!
পরে বলবো ...
মুক্তমত ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর :প্রযুক্তি মানুষকে যেমন সুবিধা দিয়েছে তেমনি কিছু ক্ষেত্রে ( বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে ) বিড়ম্বনায়ও ফেলেছে । তথ্য প্রযুক্তির অবাধ কল্যানে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে এক জন আর একজনের ক্ষতি করতে বেছে নিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ফেইক আইডি দিয়ে । কোন একটা মেয়ের মোবাইল নং দিয়ে বলা হচ্ছে – ‘গভীর রাতে কথা বলতে চাই- একা আছি – বন্ধু চাই , (এর চেয়েও নোংরা এবং নগ্ন আকুতি থাকে ,উল্লেখ করলামনা পাঠক নিজ দায়িত্তে বুঝে নেবেন )’ ইত্যাদি।পরক্ষনেই শুরু হয় অপ্রাসঙ্গিক ও বিব্রতকর ফোন আসা । এমনি একটা ঘটনা সংক্ষেপে বলি, আমার পরিচিত এক ছোট বোন। নাম নিশু (ছদ্মনাম)। ফেসবুকে আইডি খুলেছিলো ,নতুন ইউজার ছিলো তাই নিরাপত্তা সেটিংস এর কথা মাথায় ছিলোনা – অসাবধানতা বশত তার মোবাইল নাম্বার ইনফোতে পাবলিক করা ছিলো। যাইহোক বেশ কদিন ধরেই বিভিন্ন আইডি থেকে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে ম্যাসেজ আসছিলো ।তাই বাধ্য হয়ে নিশু কয়েকজনকে ব্লক করে ,তারপর থেকেই শুরু হয় রাত বেরাতে নিশুর কাছে ফোন আসা। কিছু মানুষকে বুঝিয়ে বললে হয়তো বুঝতো কিন্তু বেশিরভাগই নাছোরবান্দা পারলে ফোনেই রেপ করে (নিশুর ভাষায় ) এমন কিছু । নিশু এসব নিয়ে তার পরিবারকেও জানাতে পারছিলোনা আবার সহ্যের সীমাও অতিক্রম করে যাচ্ছিলো। একদিন বাধ্য হয়েই নিশু ব্যাপারটা তার বাবা রহমান সাহেবকে জানায়, ফলশ্রুতিতে উলটো বন্ধ হলো নিশুর হ্যাপি ফেসবুকিং ,বন্ধ হলো ফোন !
এমনি হাজারো বিড়ম্বনার কথা আছে যা বলে শেষ করা যাবেনা – আমরা এই সমস্যাগুল কমবেশি সবাই জানি -কিন্তু সমস্যার কথা জানলেতো হবেনা -সবার সতর্কতায় এসব থেকে মুক্তি পাওয়ারপথ খুজতে হবে আমাদেরি । সাংবাদিক আবদুল্লাহ মাহফুজ এর অনুসন্ধানে ‘মোবাইলে যৌন হয়রানি এক সামাজিক ব্যাধির নাম ‘ শিরোনামের অনুসন্ধানী লেখাটি সবার সতর্কতার জন্য সময়ের কণ্ঠস্বর এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো ।http://www.somoyerkonthosor.com/news/72365
ঘটনা ১ :
সম্প্রতি এমবিবিএস পাশ করে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিযুক্ত হয়েছেন ডা. নীলা (ছদ্মনাম)। দোকানে গিয়ে মোবাইল ফোনের রিচার্জ কার্ড খুঁজছিলেন। কয়েক দোকান ঘুরে কার্ড কিনতে হলেও সরাসরি দোকানে নম্বর দিয়ে টাকা লোড করেননি।
সহজেই রিচার্জ পদ্ধতি রেখে কয়েক দোকান ঘুরে কেন কার্ড কিনলেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দোকান থেকে নম্বরগুলো খুব সহজেই সংগ্রহ করে নেয় উটকো লোকজন। এরা বিভিন্ন সময় ফোন দিয়ে খুব বিরক্ত করে। এমনকি গভীর রাতে বাজে কথা বলে। এসব সহ্য করা খুবই কষ্ট।”
কথায় কথায় তিনি আরো বলেন, “মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আমি মোবাইল ফোন কিনি। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তিনবার মোবাইল নম্বর (সিম কার্ড) পরিবর্তন করতে হয়েছে।”
নীলা বলেন, কীভাবে যেন নম্বরগুলো পেয়ে যায় আজে-বাজে লোকজন। একবার এতো বাজে একটি অবস্থার মধ্যে পরেছি যে, আমি রীতিমতো মানসিকভাবেই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলাম। বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রেখেছিলাম কিছুদিন।
ঘটনা ২ :
ব্যবসায়ী আলী শিকদার থাকেন রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায়। তার দুই সন্তান। বড় মেয়েটি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। প্রায়ই আলী শিকদারের স্ত্রীর মোবাইলে ফোন আসতো মধ্যরাতে। প্রথম প্রথম ফোন রিসিভ করলে কেউ কথা বলতো না। পরবর্তী সময়ে ফোন রিসিভ করা হলে তার মেয়েকে ফোন দিতে বলতো। ফোন না দিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো।
তিনি জানান, কখনো আবার বিভিন্ন নম্বর থেকে একের পর এক ফোন দিয়ে বিরক্ত করা হতো। এক পর্যায়ে এই ধরনের নির্যাতনের মাত্রা চরম আকার নিলে পরিবার থেকে বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোন নম্বর পরিবর্তন করতে হয়।
ঘটনা ৩ :
বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন ঝিলিক তালুকদার (ছদ্মনাম)। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বসবাসকারী এ মানুষটি গত ছয় বছর ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। তবে বছর চরেক ধরে তার গ্রামীণ নম্বরটিতে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসছে। তার মোবাইলে ফোন করে কখনো কুমিল্লার ইলিয়াসগঞ্জ বাজারের শ্রীরূপ ডাক্তার, কখনো ডাক্তার শ্রী চন্দন মজুমদার আবার কখনো-বা কুমিল্লার এলিটগঞ্জের হিরু ডাক্তারকে খোঁজ করা হয়। ‘এটা কোনো ডাক্তারের নম্বর নয়’ বলা হলে ফোন করার মাত্রা যেন আরো বেড়ে যায়।
ফোনে ডাক্তারকে খোঁজ করা মানুষদের কাছে জিজ্ঞেস করে জানা যায়- ওই ডাক্তার নাকি তার ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশন) এ নম্বরটা ব্যবহার করেছেন।
ঝিলিক প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিদিনই একটা দুটো উটকো ফোন আসেই। এমনকি দুই একদিন আগেও ফোনে ডাক্তারকে খোঁজা মানুষকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান- ডাক্তারই নাকি প্রেসক্রিপশনের এ নম্বরটি দেখিয়ে যেকোনো সমস্যার জন্য তাদেরকে ফোন করতে বলেছেন।
গত চার বছর ধরে এমন উটকো ফোনের যন্ত্রণায় আছেন ঝিলিক। এক পর্যায়ে তিনি হাজারিবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেননি। রাত-দিন যখন-তখন ফোন আসছেই, যন্ত্রণা চলছেই।
ঘটনা ৪ :
মোবাইল ফোনে উত্যক্ত করার ঘটনা নিয়ে আলাপ হচ্ছিল কুমিল্লার এক স্থানীয় সাংবাদিকের সাথে। তিনি দিলেন ভয়ঙ্কর কিছু তথ্য। অসাধু মোবাইল রিচার্জকারী ব্যবসায়ীরা রীতিমতো মেয়েদের নম্বর বিক্রি করেন! তাদের দোকানে রিচার্জ করতে আসা মেয়েদের নম্বর বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। ধনী পরিবারের মেয়ে, সুন্দরী মেয়ে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়ে, কিশোরী বা তরুণী ইত্যাদি নানা ভাগে ভাগ করে মোবাইল নম্বর বিক্রি করেন তারা। এলাকার বিভিন্ন বখাটে ছেলেরা এসে এইসব নম্বর সংগ্রহ করে তাদেরকে নানাভাবে বিরক্ত করে।
ভুক্তভোগী অনেকের সাথেই আলাপ করে বিড়ম্বনার নানা ঘটনা জানা গেছে। মোবাইল নম্বর বিক্রির ঘটনাটি কুমিল্লার মানুষের কাছে এখন অনেকটা প্রকাশ্য গোপন (ওপেন সিক্রেট) ব্যাপার।
ঘটনা : ৫
রাজশাহীর পুঠিয়ার এক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মোবাইলে হঠাৎ করেই একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোন রিসিভ করলে কোনো কথা বলে না। এরপর মধ্যরাতে ফোন আসা শুরু করলো। নিয়মিত মধ্য রাতে অনবরত ফোন করে তাকে বিরক্ত করা হতো। এক পর্যায়ে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেয়া হয় তাকে। মেয়েটি প্রেম করতে না চাইলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। বিয়েতে রাজি না হলে তাকে অপহরণ করে বিয়ে করা হবে বলেও হুমকি দেয় সেই মোবাইল ফোনকারী।
সেই শিক্ষার্থী জানান, ফোন বন্ধ রেখে কিংবা কোম্পানিতে অভিযোগ করেও এ বিপদ থেকে মুক্তি মিলছে না তার। অপরিচিত সে মোবাইল নম্বর থেকে দিনে-রাতে মিসড কল দেওয়া হয় তাকে। মেসেজ দেয়া হয়। এখন মেসেজ কিংবা ফোন এলেই আতঙ্ক কাজ করে ভিতরে।
উপরের ঘটনাগুলো আমাদের আশে-পাশের নিত্য-নৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল ফোনে উত্যক্ত হয় না এমন মোবাইল ব্যবহারকারী মেয়ে কমই পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত করা হিসেবে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি ৫৯ লাখ ৮২ হাজার। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী। মোবাইল ব্যবহারকারী নারীদের প্রত্যেককেই আতঙ্কে থাকতে হয়। তাদের রয়েছে একাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহারজনিত গ্লানিকর বিড়ম্বনার কাহিনী। বয়স কিংবা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে এই সব নারীকে প্রায়ই কম-বেশি অবাঞ্চিত ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়।
দেখা গেছে, সাধারণত এই সমস্যা সমাধানে অনেকেই নিজেদের গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পদক্ষেপ নেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মোবাইলের যৌন হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় সাধারণত মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন কিংবা সিম কার্ড পরিবর্তন করে ফেলেন। তবে আইনের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না বললেই চলে। এদিকে মোবাইলে বিরক্ত করা একটা সামাজিক অপরাধে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে বাড়ছে এর হয়রানির বিচিত্র মাত্রাও।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণরা এসব অপকর্মের সাথে বেশি জড়িত। কেউ কেউ শুধু মজা করতে গিয়েই আরেকজনের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। এখান থেকে নানা ভয়ংকর অপরাধের সূত্রপাতও ঘটছে।
মোবাইলকে বিকৃত রুচির মানুষরা ব্যবহার করছে তাদের অপকর্মের হাতিয়ার হিসেবে। নানা মাত্রায় সেই অপরাধ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আমরা প্রায়ই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মোবাইল ফোন দিয়ে সংঘটিত নানা ধরনের অপকর্মের খবর পেয়ে থাকি। কিছু কিছু ঘটনা এখন এমন হয়ে গেছে যে, সেগুলো নিয়মিত ঘটনার মধ্যেই ধরা হচ্ছে।
প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিংবা জোড় করে মেয়েদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে তা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গোপনে ভিডিও করা হচ্ছে। সেইসব ভিডিও দেখিয়ে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া সেই সব ছবি ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ইন্টারনেটে। এতে সামাজিকভাবে ভুক্তভোগীরা হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছে। কেউ কেউ অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করছেন।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে মেয়েটির অজান্তে তার ছবি তুলে অপরাধীরা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ঘটনায় মেয়েটি কোনোভাবে যুক্ত না থাকলেও এর দায়ভার মেয়েটিকেই বহন করতে হচ্ছে। অথচ এখানে মেয়েটির কোনো ধরনের দায়ই থাকছে না।
আবার দেখেছি, মেয়েদের ছবি ও মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে নানা জায়গায়। ইন্টারনেটে মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে দিয়ে অশ্লীল মন্তব্য জুড়ে দেয়া হয়। আর এতে করে মেয়েটির জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ সব ঘটনা।
শুধু কি তাই, দেখা গেছে ব্যক্তিগত রেষারেষির জের ধরেও মেয়েদের মোবাইল ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। এমনটি পাবলিক টয়লেট, লঞ্চ-ট্রেনের টয়লেট, কিংবা বিভিন্ন স্টেশনের টয়লেটেও নাম ও ফোন নম্বর লিখে, তার পাশে লেখা হচ্ছে অশ্লীল সব কথা। আর এসব জায়গা থেকে নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে উত্যক্ত করা হচ্ছে।
অনেকেই এধরনের উটকো ঝামেলা এড়াতে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোন রিসিভ করেন না। কিন্তু এতেও কি মুক্তি মিলছে? ফোন রিসিভ না করলেও মেসেজ আসা ঠেকাতে পারছেন না। আর তাই সহজেই অশ্লীল মেসেজ পাঠিয়ে যৌন হয়রানি করছেন অপরাধীরা।
আমাদের চারপাশে এ ধরনের ঘটনা এতো পরিমাণ ঘটছে যে বিষয়গুলোকে আমরা অনেকেই স্বাভাবিকভাবে দেখছি। কেউ কেউ বলছি, ‘আরে এ আর এমন কি, মেয়েদের ফোন থাকলে একটু-আকটু ফোন আসবেই এদিক সেদিক থেকে। এগুলো গুরুত্ব না দিলেই হয়’। তবে বিষয়গুলো যে কতটা ভয়ংকর তা শুধু একজন ভুক্তভোগীই জানেন। এমনকি তার পরিবারকেও এর জন্য যন্ত্রণা পোহাতে হয়।
ফোনের মাধ্যমে যৌন হয়রানির বিষয়টিকে কোনোভাবেই সাধারন ঘটনা ভাবলে চলবে না। একে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কঠোরভাবে দমন করা উচিত। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে যে আমাদের আশে পাশে এই সব ঘটে যাওয়া অপকর্মে কত মানুষের জীবন বিষময় হয়ে উঠছে।
দেশে প্রতিদিন কতজনকে এ ধরনের ঘটনার শিকার হতে হয় তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই কারো কাছে। অথচ আগেই উল্লেখ করেছি, আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত এই হয়রানির ঘটনা ঘটে চলছে। এ ধরনের নির্যাতনের শিকার নারীরা যে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করবেন, এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। মূলত ভুক্তভোগীরা কীভাবে সহজ উপায়ে এ থেকে মুক্তি পেতে পারেন তার জন্য নেই কোনো ধরনের নির্দেশনা। আর যদি থেকেও থাকে তাহলে বলতেই হবে সে নিয়ম ‘নিয়ম বহি’তেই সীমাবদ্ধ আছে। পৌঁছায়নি সাধারণ মানুষের কাছে। মোটাদাগে এটা স্পষ্টভাবেই বলা যায়, এই ধরনের সমস্যা সমাধানের কোনো সহজ পথ এখনো জানা নেই জনগণের।
কিন্তু এভাবে নীরবে হয়রানি মেনে নেয়া যায় না। এজন্য প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। সহজেই এই ধরনের অভিযোগ শোনার ব্যবস্থা করত হবে। যাতে করে একজন অভিযোগকারী নির্ভয়ে সহজেই তার অভিযোগ দিতে পারে। এজন্য মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাদেরকেও কার্যকারী পদক্ষেপ নিতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে কোম্পানিগুলোকেও অভিযুক্ত ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহে তৎপর হতে হবে। শুধু গ্রাহক ধরে রাখার নীতি থেকে বের হয়ে এ ধরনের অপর্কম রোধে তাদেরও নিজেস্ব কতর্ব্যটুকু পালন করতে হবে।
দেখা গেছে, এ ধরনের অপরাধীরা বেনামে একাধিক সিম ব্যবহার করে। ছিনতাই হয়ে যাওয়া সিম কার্ড যারা বন্ধ করেন না বা বন্ধ করতে দেরি করেন তাদের সেই সব সিম দিয়েও অপকর্ম চলে। এই ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন কোম্পানিকেও মনিটরিং করতে হবে। আর ফোন কোম্পানিগুলো ঠিক মতো তাদের কাজ করছে কিনা সে বিষয়ে বিটিআরসিকে আরো দায়িত্বশীল হয়ে মনিটরিং করতে হবে।
ফোন কোম্পানিগুলো মধ্যরাতে যেসব ‘সুলভ টক টাইম’ অফার দিয়ে থাকেন এ ব্যপারে আরো ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে। আমরা বিভিন্ন ঘটনার বাস্তব বিশ্লেষণে দেখতে পেয়েছি মধ্যরাতে ফোনে কথা বলাটা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে কিশোর তরুণদের কাছে। আর এ থেকেই শুরু হয় অপরিচিত নম্বর কিংবা মেয়েদের নম্বর খুঁজে বের করে উত্যক্ত করা। সুতরং এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে।
সকারকেও এ বিষয়টিকে কঠোর নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং সামাজিকভাবে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। সবাইকে এ ধরেনর ঘটনায় প্রমাণসহ অভিযোগ দেয়ার জন্য ভুক্তভোগীদের উৎসাহিত করতে হবে। সামাজিকভাবেও প্রচার-প্রচারণা চালানো দরকার। মনে রাখতে হবে, এই ধরনের অপরাধ কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। মানসিকভাবে যৌন নির্যাতন ও হয়রানি করা হয়ে থাকে। আর এতে একটি জীবন একটি পরিবার ধংস হয়ে যেতে পারে, যাচ্ছে।
সম্পাদনা – জেরিন ফারজানা
২|
০২ রা মে, ২০১৪ ভোর ৬:৫০
ভিটামিন সি বলেছেন: এই সামাজিক ব্যাথি থেকে কি মুক্তি নেই? এসব বখাটে টাইপদের ধরে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেয়া প্রযোজন।
৩|
০২ রা মে, ২০১৪ সকাল ৭:২৫
দূর আকাশের নীল তারা বলেছেন: @শরবত: দুষ্টু লোকের জন্য ভাল লোকের ভোগান্তি বাড়ালে দুষ্টু লোকরা চেপে বসবে। রাত ১২টার পর কোন ইর্মাজেন্সী কলও তো আসতে পারে, কারো মৃত্যু সংবাদও তো আসতে পারে।
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা মে, ২০১৪ ভোর ৫:১৬
শরবত বলেছেন: এক হাতে কোনদিন তালি বাজে না। তাদেরকে বলছি যাদের রাত ১২ টার পর মোবাইল ফোন খোলা রাখার প্রয়োজন হয়। জানি ভাল কিছু অভ্যাস করতে প্রথমত একটু কষ্ট হয় এর ফলাফল অনেক দূর যায়।