| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যাহ আজ করেই ফেলবো প্রোপোজ ।
সবসময় ছেলেদেরি কেন প্রপোজ করতে হয় আল্লাহই জানে । >_<
লামিয়াও তো পারতো প্রোপোজ করতে ।
জানে আমি একটু ভীতু টাইপের ছেলে । কিন্তু নাহ তার শর্ত একটাই তাকে সবার সামনে হাঁটু গেড়ে প্রোপোজ করতে হবে । ভাল লাগে না আর । ![]()
১ বছর ধরে চেনে একে অপরকে । প্রোপোজ করেছে ২ মাস আগে । যদিও ফোনে করেছে । তবুও করেছে তো । কিন্তু নাহ । এই মেয়েকে সবার সামনে প্রোপোজ করতে হবে ।
একটা কল করে আবার একটু বলি ।
প্লিজ ফোনটা ধরো । প্লিজ । পাঁচবার করার পর কল করার পর ধরলো ।
এই এখন কল করলা কেন ???? ফোন ধরেই ধমক ।
১০ টার মধ্যে টি এস সির সামনে আসবা প্রোপোজ করতে । বলেই ফোন কেটে দিলো । নাহ আর বলা
হলো না ।
এক বছর আগে ওদের দেখা হয় ।
গত বছর প্রচুর উত্তাপে অতিষ্ট হয়ে যখন ঢাকা অধীবাসিরা একটু যখন শীতল বৃষ্টির ছোয়া পাচ্ছিলো ঠিক তখন মাথা নিচু করে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো কায়হান । মাতালের মতো এলোমেলো পদক্ষেপ । বৃষ্টি হলেই ওর মন ভালো হয়ে যায় । কিন্তু সেদিন প্রচন্ড খারাপ ছিলো ওর মন । হঠাৎ করেই একটা মেয়ে ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো । ও অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো । মেয়েটা ওকে ধাক্কা দিয়েছিলো বলে নয় । আরেকটু হলেই মরতো বলে । গাড়িটে আর একটুর জন্যে ওকে মিস করে পাশ দিয়ে চলে গেছে । তাছাড়া মেয়েরা কারো জীবন বাঁচাতে পারে এই কথাটাই ওর বিশ্বাস হচ্ছিলো না ।
- আপনি কি মরতে এসেছেন নাকি ???? ধমক দিয়ে উঠলো মেয়েটা ।
- মানে..................
- মানে মানে কি ???? হুম ??!!
- মানে আমি সরি । আসলে খেয়াল ছিলো না ।
- সরি আমাকে বলেন কেন ???? আমাকে ধন্যবাদ দিবেন । আর মরলে কাকে সরি বলতেন । ভুতকে ????
- নাহ মানে সরি । মানে ধন্যবাদ ।
- ওকে ওকে হয়েছে আর ধন্যবাদ দিতে হবে না । এখন উঠুন । নাহলে আরেকটা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যাবে ।
- হুম ।
এই বলেই উঠতে গিয়েই টের পেল কোমরে ব্যাথা পেয়েছে ।
রাগ হল একটু মেয়েটার ওপর । মেয়েটার জন্যেই কোমরে ব্যাথা পেয়েছে ।
কিন্তু কিছুই বলতে পারলো না কারন একটু আগে এই মেয়ে না থাকলে ও এখন কবরে থাকতো ।
- আপনি তো পুরো ভিজে গেছেন । বললো কায়হান ।
- হুম । আপনাকে বাঁচাতে গিয়েই তো ভিজলাম ।
- দুঃখিত ।
- ওকে ওকে । এখন আমার সাথে চলুন । আপনার হাত কেটে গেছে । স্যাভলন লাগাতে হবে ।
কায়হান এতোক্ষণে খেয়াল করলো যে ওর হাত কেটে গেছে ।
- নাহ নাহ কোনো সমস্যা নেই । আমি বাসায় চলে যাবো ।
- নাহ এখন আপনি আমার সাথে চলুন আমার বাসায় ।
আমার বাসা কাছেই ।
পাগল নাকি মেয়ে ???? কেউ কখনো অচেনা কাউকে তার বাসায় নিয়ে যায় নাকি ??!!
- আর তাছাড়া আপনি অনেকক্ষন ধরে বৃষ্টিতে ভিজছেন । ঠান্ডা লেগে যাবে ।
- নাহ থাক । লাগবে না ।
- আরে চলুন তো ।
অনেক জোড়াজুড়ির কারনে গেলো ওদের বাসায় । বাসায় যাওয়ার পর ওকে একটা শার্ট আর একটা প্যান্ট দিলো ।
- আমার ভাইয়ের শার্ট ।
- আপনার আব্বু আম্মু কোথায় ????
- আছে । তারা এখন বাইরে । কেন ???? ভয় পাচ্ছেন ????
- নাহ নাহ ভয়ের কি আছে । আসলে একটু অবাক হয়েছিলাম । আমার মত একজন অচেনা মানুষকে বাসায় নিয়ে আসলেন তো তাই ।
- ও । আসলে আব্বু আম্মু দুজনেই চাকরি করে । আর আমি খুব সাহসি । তাছারা আপনাকে দেখে খুব একটা খারাপ মনে হয়নি । আপনার নাম কি ????
- কায়হান । আপনার ????
- লামিয়া ।
- ওহ ।
- কি করেন ????
- আমি এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়েছি । আপনি ????
- আমি এবার এইচ এস সি দিব । আচ্ছা আপনি এরকম ভাবে হাটেছিলেন কেন ????
- নাহ এমনি ।
- ওকে বলতে না চাইলে নাই ।
- নাহ আসলেই এমনি ।
- আচ্ছা আসুন আপনার হাতে স্যাভলন লাগিয়ে দেই ।
বৃষ্টি কমে গেছে ।
- আচ্ছা আজকে তাহলে যাই । কিন্তু আপনার কাপড় ফেরত দিবো কিভাবে ????
- আমার কাপড় না । আমার ভাইয়ের কাপড় । বাসায় এসে দিয়ে যেতে পারবেন না ।
- আসলে আমি বাসা ভুলে যাই । আমি বাসার ঠিকানা মনে রাখতে পারি না । আর কাগজ টাগজ দিলে হারিয়ে ফেলবো ।
- ওকে তাহলে আমাকে আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে যান
- ওকে । ০১৭১২৮২২##* ।
- হুম । আমি আপনাকে কল করবোনে ।
- ওকে । ধন্যবাদ আবারো ।
সেদিন রাতেই কল করে লামিয়া ।
- হ্যালো । কে ????
- আমি লামিয়া ।
- ও আপনি ।
- হুম । আপনি ঠিক মতো বাসায় পৌছেছেন কিনা জানার জন্য ফোন দিলাম ।
- হুম পৌছেছি ।
তারপর চলতে থাকে কথা ।
আজকে প্রোপোজ করবে কায়হান । দুইমাস আগে ফোনে প্রোপোজ করার পর লামিয়া একটা ধমক দিয়ে বলেছিল এইভাবে কেউ প্রোপোজ করে ।
সামনা-সামনি হাঁটু গেড়ে বসে বলতে হবে আমি তোমাকে ভালোবাসি ।
কিন্তু তারপর থেকেই ভয়ে ভয়ে ঘুরছে । অনেক বার বলা সত্তেও মানেনি লামিয়া ।
সকাল ১০ টায় টি এস সির সামনে এসে বসে আছে লামিয়া ।
কিছুক্ষনের মধ্যেই কায়হান ১০০ টা গোলাপ নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ালো আর হাঁঠু গেড়ে বসলো । ভয়ে ভয়ে বললো
“ভালবাসি, সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসি তোমাকে”
হুম । লামিয়া জানে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে ওকে কায়হান ।
গত বছর কায়হানের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু একটা মেয়ের কারনেই আত্মহত্যা করে । সেদিন কায়হানের সেদিন এত মন খারাপ ছিল । মেয়েটি ছেলেটির সাথে প্রেমের অভিনয় করেছিল ।
ও কখনো কায়হানের সাথে এরকম করবে না । ও কখনোই ওকে ছেড়ে যাবে না ।
- টাকা বেশি হয়ে গেছে । এত গোলাপ আনছো কেন ???? হুম ????
নাহ । এই মেয়েকে নিয়ে পারা যাবে না । এখনই কয়েদি হয়ে আছি বিয়ের পরে জানি কি করবে চিন্তা করেই হেসে ফেলে কায়হান ।
------------------------------------------------------------
বিঃদ্রঃ আমার লেখার হাত কাঁচা ।
তাই ভালো হোক খারাপ হোক বলবেন । গালাগালি করার ইচ্ছা জাগলেও করবেন । ![]()
তবে গালাগালি করার ইচ্ছা হলে ফেবুতে করবেন প্লিজ । ![]()
ফেবু লিংক নোটের
©somewhere in net ltd.