নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সুখে আছি, সুখে আছি সখা, আপন মনে।

সখা, নয়নে শুধু জানাবে প্রেম, নীরবে দিবে প্রাণ, রচিয়া ললিতমধুর বাণী আড়ালে গাবে গান। গোপনে তুলিয়া কুসুম গাঁথিয়া রেখে যাবে মালাগাছি। এই ব্লগের©শান্তির দেবদূত।

শান্তির দেবদূত

নিজের কথা কি আর বলবো ...... নিজে সুখী মানুষ, পৃথিবীর সবাই সুখী হওক এই কামনা করি...... কয়লার মধ্যে কালো খুঁজি না, হীরা খুঁজে বেড়াই .......

শান্তির দেবদূত › বিস্তারিত পোস্টঃ

( কল্প-গল্প ) --- অকুলাস রহস্য

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৫৮



এক.
অনেকক্ষণ ধরে মনিটরে ঠাঁই তাকিয়ে আছে অরুপ, কিছুতেই পড়াতে মন বসাতে পারছে না। সকাল থেকেই মনটা বিষণ্ণ ও বিক্ষিপ্ত। মাঝে একবার ঝিমুনির মতো ধরে ছিল, উঠে চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে এসেছে। তন্দ্রাভাব কিছুটা হয়তো কেটেছে, কিন্তু বিষণ্ণতা যেন আরও ঝেঁকে বসেছে। দুপুর হয়ে এলো প্রায়, এখনো জার্নালটির প্রথম প্যারাই পড়ে শেষ করতে পারেনি।

বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাকে লক্ষ্য করছে সুমিতা। একসময় বলে, “অরুপ, জানিস মানুষের অনুভূতি না কি সংক্রামক”?

অরুপ নিষ্প্রিহভাবে জবাব দেয়, “এখন জানলাম”।

এমন নির্লিপ্ত আচরণে আঁতে ঘাঁ লাগে সুমিতা। চেয়ার থেকে উঠে তেড়ে তার দিকে এগিয়ে আসে, হাত ধরে টান দিয়ে তাকে চেয়ার থেকে উঠিয়ে উচ্চস্বরে বলে, “গত কয়েকদিন ধরে দেখছি তুই এমন মনমরা হয়ে আছিস। এটার প্রভাব আশেপাশের অন্যদের মনেও কিছুটা পড়েছে। আমিও কাজে মন বসাতে পারছি না। তুই কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আয়, আমাদেরও একটু স্বস্তিতে থাকতে দে”।

এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিয়ে মৃদু চিৎকার করে অরুপ বলে, “তোরা, মেয়েরা এতো অধিকার ফলাতে আসিস কেন? কৈ আশেপাশে তুই ছাড়াও তো অনেকে আছে। তাদের তো কোনও সমস্যা হচ্ছে না আমাকে নিয়ে! তাহলে তোর মাথায় এতো ব্যথা কেন। এখানে তুই আর দেশে পতত্রী! আমাকে কিছু সময়ের জন্যে আমার মতো থাকতে দেওয়া যায় না”?

অরুপের সামনের কিউবিকলস থেকে এক তালপাতার সেপাই কপাল কুচকে বলে, “তোমরা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের ছেলেপুলেরা সবকিছুতেই একটু বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাও। এখানে চিৎকার চেঁচামেচি না করে রুমের বাইরে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তোমাদের মাঝের হৃদয়ঘটিত ঝামেলা মিটিয়ে ফেললে হয় না বাছা? আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি, তোমাদের প্রাক-দাম্পত্য কলহ শুনতে নয়”।

মাথায় রক্ত চড়ে যায় অরুপের, “শুনেছিস হারামজাদা কি বলল? তোর কারণে এখন আমাদের দেশ নিয়ে একটা খোঁচা মারল। এই কার্টুনের বাচ্চা মার্টুন; উচ্চস্বরে কথা না বললে আমরা যে এখানে আছি এটাই সে খেয়াল করত না।

অরুপের এই অপ্রত্যাশিত আচরণে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ে সুমিতা। চোখ ছলছল করে উঠে তার, সেটা লুকাতেই চটজলদি ঘুরে নিজের কিউবিকলসের দিকে পা বাড়ায়। গায়ে পড়ে আর তার সাথে কথা বলতে যাবে না সিদ্ধান্ত নেয় সে।

- যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব করে বাঁ হাত বাতাসে ঝেড়ে, অরুপ হেলে দুলে কফি মেকারের দিকে এগিয়ে যায়। অনেক সময় নিয়ে বড় এক মগে কড়া করে কফি বানায়। মগ হাতে অর্ধেক পথ এসে কী ভেবে কফিমেকারের দিকে ফিরে যায় পুনরায়। কফির মগটি সুমিতার টেবিলে উপর রেখে মুচকি হেসে বলে, “নে, কফিটা খেয়ে শক্তি সঞ্চয় কর, তারপর আমার উপর যতো রাগ আছে সব ঝাড়িস। বেশ কড়া করে হৃদয় মিশিয়ে বানিয়েছি। আর আমাকে তো অনেকদিন ধরেই চিনিস, একটা ব্যক্তিগত ঝামেলার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি কয়েকদিন ধরে। তাই তোর উপর রাগটা ঝাড়লাম, মানুষ তো প্রিয় মানুষের উপরই রাগ ঝাড়ে তাই না? কিছু মনে করিস না"।

এমন কমল কথায় মুহূর্তেই সব রাগ পানি হয়ে যায় সুমিতার। কিন্তু সেটা তাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না। অরুপটা ইদানীং বেশ বাড় বেড়েছে, একটু সায়েস্তা না করলে আর নিজের ডাঁট থাকছে না। “নাহ, মাত্র খেলাম কিছুক্ষণ আগে”, বলেই তাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে কাজের দিকে মননিবেশ করে।

- এখনো রেগে আছিস? আরে বাবা বললাম তো স্যরি, এখন কি নাটকীয় কায়দায় হিন্দি সিনেমার নায়কের মতো চিৎকার করে স্যরি বলতে হবে? আচ্ছা, দাড়া আমি খাইয়ে দিচ্ছি, বলেই ডান হাতে মগটি তুলে নিয়ে সুমিতার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে দেয়।

“আরে করছিস কি? ধ্যাৎ, হিন্দি সিনেমার নায়কের চেয়ে তোর নাটকীয়তা কোনও অংশে কম না। আচ্ছা যা, এবারে মতো মাপ করলাম”, বলেই অদ্ভুত ভঙ্গিতে চুলগুলো কপারে উপর থেকে সরিয়ে দেয় সুমিতা, সুন্দর করে হাসে তারপর।

- দেখেছিস? এমন নাটক না করলে তোর এতো সুন্দর হাসিটি দেখতে পেতাম?

কি পতত্রীর সাথে কোনও ঝামেলা পাকিয়েছিস আবার”?

- হুম, ঠিকই ধরেছিস।

কী ঝামেলা? আমাকে বলা যায়?

- “বাদ দে, এই প্রসঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। যতবার পতত্রীর কথা মনে হচ্ছে ততবার মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে। আসলে টানা কয়েকদিন রাতে ঘুমাতে পারছি না। থাকা এ প্রসঙ্গ, তোর কথা বল”।

কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো সুমিতা আচমকাই অরুপের ফোন বেজে উঠে। কলটা রিসিভ করে কিছুক্ষণ কথা বলে। তবে অপর পাশে কে সেটি ঠিক মতো ঠাহর করতে পারে না সুমিতা। অরুপের চোখ ছোট হয়ে আসে, কপালের কুচকে যায়, মনে মনে কিছু একটা অনুধাবন করতে চাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ফোনটা রেখে সুমিতাকে লক্ষ করে বলে, “মাইক ফোন করেছিলো। কি একটা ব্যাপারে সাহায্য চাচ্ছে”।

“মাইক! মানে ঐ সিআইডি অফিসার? তো, কী ব্যাপারে?”, রহস্যের গন্ধ পেয়ে চোখ নেচে উঠে তার।

- “ঠিক জানি না, ফোনে বিস্তারিত বলতে চাচ্ছে না”।

“গত পরশুদিন একজন বাংলাদেশী অভিবাসী খুন হয়েছে, খবরে দেখাচ্ছিলো। আমার ধারণা ঐ ব্যাপারে হতে পারে। তো কখন দেখা করতে চাচ্ছে?”

- “হুম, আমিও দেখেছি খবরটা। এখনি; নিচে গাড়িতে বসে আছে। আচ্ছা, আমি একটু ঘুরে আসি”।

খুন খারাবির কথা শুনলেই গা গুলিয়ে উঠে সুমিতার; আবার কৌতূহলও হচ্ছে খুব। “আচ্ছা, সাবধানে থাকিস। আর কি হয় জানাতে দেরি করিস না”।

দুই.
“চলুন কোনও রেস্টুরেন্টে বসি, এই ফাঁকে ফাইল দুটোতে হালকা নজর বুলিয়ে নেন। সাথে দুটি আল্ট্রা ডিক্স আছে। আপনার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য এতে পেয়ে যাবেন”, দুটি মোটা ইনভেলাপ অরুপের দিকে এগিয়ে বলে মাইক। অরুপকে কথা বলার কোনও সুযোগ না দিয়ে অটো-ড্রাইভে কাছাকাছি একটি রেস্টুরেন্টের ঠিকানা সেট করে গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে বসে মাইক। চোখেমুখে কর্তৃত্বের ছাপ ফুটে উঠে।

- মাইকের এমন চাপিয়ে দেওয়া মনোভাবে কিছুটা বিরক্ত হয় অরুপ, একবার ভাবে গাড়ি থেকে নেমে যাবে, কি ভেবে ফাইল দুটি হাতে নিতে নিতে অরুপ বলে, “খুন দুটির সাথে কি রবোটিক্সের কোনও সংযোগ আছে?”
কী করে বুঝলেন?

- “গতকাল জহরুল হক নামের একজন বাংলাদেশি অভিবাসী স্কুল শিক্ষক খুন হয়েছেন। তার একমাস আগে আলবেরুনী নামের একজন ইজিপসিয়ান চক্ষু বিশেষজ্ঞ খুন হয়েছিলেন। দুইজনই মুসলমান এবং অভিবাসী। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি খুন ছোট এই শহরে বেশ চাঞ্চল্যে সৃষ্টি করেছে। মিডিয়া বেশ সরব হয়ে উঠেছে, আপনাদের ডিপার্টমেন্টের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে যা কিছুটা হলেও যথার্থ। নিশ্চয় বেসামাল চাপের উপর আছেন।”, ঠোঁটের কোনে বিদ্রূপের হাসি ঝুলিয়ে বলে অরুপ। “সেই চাপের কিছুটা ভার আমার উপর ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন এটা বুঝার জন্যে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না”। মোক্ষম জায়গা খোঁচাটা দিতে পেরে কিঞ্চিত আনন্দ হচ্ছে অরুপের। তো তদন্তে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে?

“অনেক তথ্যই সংগ্রহ করা হয়েছে, কিন্তু কোনও প্যাটার্ন পাচ্ছি না। দুটি খুনের ধরণ একই; মাথা লক্ষ্য করে লেজার গান চালানো হয়েছে। ভিক্টিম টু শব্দটি করারও সুযোগ পায়নি, ঘুমের মধ্যেই শেষ। দুটি ঘটনায় আরও কিছু মিল আছে যেমন, দুইজনই ব্যাচেলর, দুটি ঘরেই বেটাট্রনিক্সের একটি গৃহজাত রবোট আছে। আর দুজনেই মুসলিম ও অভিবাসী এটা তো আপনি আগেই বলেছেন”, চোখে অসহায় ভাব ফুটে উঠে মাইকের। “আরও কিছু বিষয় আছে যেগুলো ফাইল দুটিতে বিস্তারিত আছে। এ দুটো কপি করা, আপনার জন্যেই এনেছি; রেখে দিতে পারেন”।

- মাইকের কথা শুনতে শুনতে ফাইলে চোখ বুলাচ্ছিলো অরুপ। অনেক বড় ফাইল, খুঁটিনাটি কিছুই বাদ দেয়নি। আচমকা মাইকের চোখে চোখ রেখে বলে, “আপনি যেমন ভাবছেন আমার সাহায্যের বিষয়টি আমি গোপনই রাখব, আর কেস সমাধান হলে আমি কৃতিত্বও নিতে যাব না। এই কেসে জড়িত হওয়ার বিষয়টি আমিও চাচ্ছি না বাইরে কেউ জানুক। কিন্তু আমরা যদি রেস্টুরেন্টে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ করি সেটা কি আর গোপন রাখা সম্ভব হবে”?

মনেমনে চমকে উঠে মাইক। কিছুটা রাগত স্বরে বলে, “কে বলল আমি আপনার সাহায্যের কথা গোপন করতে চাচ্ছি?

- “দেখুন একজন বাংলাদেশি অভিবাসী খুন হয়েছেন। আমিও বাংলাদেশি, সেই হিসাবে এই কেসের তদন্তের ব্যাপারে আপনি আমার সাথে দেখা করতেই পারেন, এটাই যৌক্তিক। কিন্তু আপনি এখানে আসার আগে গাড়ির জিপিএস বন্ধ করে রেখেছেন; তারমানে আপনি যে আমার অফিসে এসেছেন এটার কোনও রেকর্ড থাকল না। পুলিশের গাড়িতে সব কথাবার্তা রেকর্ড রাখার নিয়ম, কিন্তু আপনি অডিও ভিডিও রেকর্ডারটাও বন্ধ করে রেখেছেন। সবচেয়ে বড় প্রমাণ, সাথে আপনার পার্টনার নেই- একাই এসেছেন। এ থেকে কি ধারণা করা যায় না যে আপনি পুরো বিষয়টাই গোপন রাখতে চাচ্ছেন”।

রণভঙ্গ দিয়ে মাইক বোকাবোকা হাসি দিয়ে বলে, “বুঝতেই তো পারছেন মিডিয়া চারদিকে গিজগিজ করছে। বদমাইশগুলো হচ্ছে গিয়ে তেলাপোকার মতো, যতসব নোংরা জায়গায় এদের আবির্ভাব আর পালেপালে বংশবিস্তার”।

- “সে ঠিক আছে, আমিও চাচ্ছি না এসবের ভেতর প্রকাশ্য জড়াতে। এইসব খুন খারাবি ভালো লাগে না। যথাসম্ভব দূরেই থাকতে চাই এগুলো থেকে। কিন্তু কিভাবে যেন, বিশ্রী এই ব্যাপারটা আমার ঘাড়েই এসে পড়ে। সে যাক, আমার কিছু শর্ত আছে। চোখে দৃষ্টি কঠোর করে বলে অরুপ, সেখানে অনড় একটা ভাব ফুটে উঠে।
কী শর্ত?

- “প্রথমত আমার কাজে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না; কোনও প্রশ্ন করা যাবে না। দরকার হলে আমিই আপনাকে জানাবো। তৃতীয় হচ্ছে, আমার সাথে ফোনে বা ইমেইলে যোগাযোগ করবেন না। চতুর্থ শর্ত হচ্ছে আমি যখন যে তথ্য জানতে চাই সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব জোগাড় করে দিবেন। পঞ্চম ও শেষ শর্ত হচ্ছে এই কেসের অফিশিয়াল কোনও ফাইলে আমরা নাম থাকতে পারবে না।
মনেমনে বেশ খুশি হয় মাইক, কিন্তু মুখে কিঞ্চিত নিমরাজি ভাব ফুটিয়ে বলে “ঠিক আছে। আপনার সাহায্য যতটুকু পাই সেটা আমাদের প্রচেষ্টা ও সময় বাঁচিয়ে দিবে অনেক”। মাইকের ভাবখানা এমন যে শুধু সময় বাঁচাতেই সে অরুপের কাছে ধন্না দিতে এসেছে।

- “প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটায় একুশ এভিনিউ পার্কের লেকের পাড়ে যে বেঞ্চটা আছে, আমি সেখানে আপনার জন্যে অপেক্ষা করব। সেখানে আমাদের দেখা সাক্ষাত ও তথ্য আদান প্রদান হবে। জরিরুল হুকের বাসায় তো এখন সিআইডির আর মিডিয়ার লোকজন গিজগিজ করছে, এক কাজ করেন; আমাকে আলবেরুনীর বাসায় নামিয়ে দেন, ক্রাইম স্পটটা দেখে আসি। সেখানে তো এখন কেউ নেই তাই না”?

নাহ, বাড়িটি সিল করা আছে। এই ফাইলে তার বাসার কী-প্যাডের কম্বিনেশন আছে, ঢুকতে সমস্যা হওয়ার কথা না।

আবাসিক এলাকায় ছোট্ট একতলা একটি বাড়ি, চারদিক হলুদ রঙের ব্যারিকেড টেপ দিয়ে ঘেরা। মাথা নিচু করে টুপ করে ঢুকে পড়ে অরুপ। লনে কিছু ঘাস জমেছে, বুঝাই যাচ্ছে কয়েক সপ্তাহ কারও পদচিহ্ন পড়েনি এখানে। দুই কামড়ার একটিকে বেডরুম, আরেকটিকে স্টাডিরুম হিসাবে ব্যবহার করতেন চিরকুমার এই চক্ষু বিশেষজ্ঞ, মাঝখানে খোলা ড্রইং রুম, একপাশে খোলা কিচেন। অরুপ প্রথমেই বেডরুমে ঢুকে; বেশ গুছানো টিপটপ অবস্থায় আছে। পাশের টেবিলের উপর কয়েকটি বই, বেশির ভাগই ডাক্তারি বিদ্যা সংক্রান্ত । রবোটিক্সের চোখ নিয়ে লেখা দুটি বই দেখা যাচ্ছে। ‘অকুলাস রবোটিকা’ নামের বইটি হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখে অরুপ। আজকাল ছাপা অক্ষরের বই এর খুব বেশি প্রচলন নেই, উঁনি মনে হয় কিছুটা পুরানো ধাঁচের লোক ছিলেন। ভদ্রলোকের কি রবোটিক্স নিয়ে আগ্রহ ছিলো? না কী রবোট ও মানুষের চোখ একাট্টা করে কোনও গবেষণা করছিলেন? রুমটির চারদিকে খুব তীক্ষ্ণ নজর বুলায় অরুপ। বেড সাইড টেবিলের উপর একটি কাচের জগ পাশে কালো রঙের একটি সানগ্লাস। রুমে একটি মাত্র জানালা, টিনটেড গ্লাস লাগানো, মোটা পর্দা দিয়ে ঢাকা। এখানে আর কিছু দেখার নেই, স্টাডিরুমের দিকে পা বাড়ায় অরুপ।

এই রুমটা অপেক্ষাকৃত বড়, দুইটি জানালা; প্রচুর বই টেবিলে, তাকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একটি রিভলভিং চেয়ার, তার নিচে রক্তের ধারা শুকিয়ে কালচে হয়ে আছে। এখানে কাজ করা অবস্থায় মাথার পেছনে লেজার গান চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিলো। পেছনে তাকায় অরুপ। হেঁটে আবার দরজার কাছে যায়, হয়ত এখানেই দাঁড়িয়ে ছিলো খুনী, আর আলবেরুনী জানালার দিকে মুখ রেখে কম্পিউটারে কাজ করছিলেন। মৃত্যুর আগে খুনীর চেহারাটাও দেখতে পাননি।

কম্পিউটার স্ক্রিনটি চালু করে অরুপ। পাসওয়ার্ড এন্ট্রি করতেই সেটি খুলে যায়। মাইককে মনেমনে ধন্যবাদ দেয় সে, তার দেওয়া ফাইলে আসলেই প্রয়োজনীয় সব তথ্য আছে। খুব দ্রুত এক ফোল্ডার থেকে আরেক ফোল্ডারে ঘুরতে থাকে। তার আগে সিআইডির এক্সপার্টরা নিশ্চয় এই কম্পিউটারের নাড়িনক্ষত্র ঘেঁটে দেখেছে। প্রয়োজনীয় সবকিছুই আল্ট্রা ডিস্কে কপি করা আছে। ঘাটতে ঘাটতে Eye নামের একটি ফোল্ডারে নজর আটকে যায় অরুপের। ক্লিক করে ঢুকে পড়ে সেখানে। ভেতরে অনেক ফাইল, বেশিরভাগই জার্নাল। শতশত জার্নাল, চোখ বিষয়ক অথবা ইলেক্ট্রনিক্স ও রবোটিক্সের উপর। তার ভেতরে আরেকটি Sample নামের সাব-ফোল্ডারে ক্লিক করে সে। সেখানে চব্বিশটি সাব-ফোল্ডার, এক থেকে চব্বিশ পর্যন্ত সিরিয়ালি নামকরণ করা। একটি ঢুকে অরুপ, বেশ কতগুলো রেটিনার স্ক্যানের ছবি। কি চিন্তা করে সম্পূর্ণ Eye ফোল্ডারটি মেমরিতে কপি করে নেয়।

আরও কিছুক্ষণ হেঁটে হেঁটে সম্পূর্ণ রুমটি পর্যবেক্ষণ করে। গৃহস্থালি রবোটটি নেই কোথাও, হয়তো সিআইডি সেটিকে জব্দ করে তাদের কাছে নিয়ে গেছে। রবোটটির সাথে কথা বলতে পারলে ভালো হতো। কারও নজর এড়িয়ে সেটি এখন আর কথা সম্ভব না। মাইকের সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে হবে। আর কিছু দেখার বাকি নেই, ঘরে থেকে বের হয়ে আসে সে। বাইরে এসে কী-প্যাডটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে, কোনও প্রকার জবরদস্তির চিহ্ন নেই। স্ক্র গুলোর উপর দিয়ে আঙুল বুলায় অরুপ, খুব মসৃণ; তারমানে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে এটাকে খোলাও হয়নি। ঘাতক তাহলে কী-কম্বিনেশন আগে থেকে জানত, অথবা হ্যাক করেছে। জিটা-ল্যাবের প্রোডাক্ট, ডোর-কী লকারের মডেল নাম্বারটি টুকে নেয় অরুপ।

বাইরে বের হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে লম্বা করে দম ফেলে, কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে এখন। ঘরে ভেতর দমবন্ধ করা একটা গুমোট ভাব। এই বাড়িটিতে আলবেরুনী কাটিয়েছিলেন প্রায় উনিশটি বছর। বৃদ্ধ নি:সঙ্গ এই লোকটি কার কী ক্ষতি করেছিলো যে এভাবে খুন হতে হলো? মনটা বিষাদে ভরে যায় অরুপের। কতদিন বাড়িটিতে মানুষের আনাগোনা নেই! একসময় হয়তো নিলামে অন্য কেউ কিনে নিবে। একসময় তারাও হয়তো নেই হয়ে যাবে, শুধু থেকে যাবে এই বাড়ি। মানুষ হারিয়ে যায় কিন্তু থেকে যায় ঘর। নাহ, পতত্রীর সাথে ঝগড়াটা মিটিয়ে ফেলতে হবে, ছোট্ট এই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দু:খবিলাসে না উড়িয়ে উপভোগ করা উচিৎ।


তিন.
একটি কাগজে সবগুলো নাম প্রিন্ট করে সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অনেকক্ষণ ধরে। কোনও প্যাটার্ন খুঁজে পাচ্ছে না। একটাই মিল চোখে পড়ছে, লিস্টের সবাই মুসলিম। আলবেরুনী কি কোনও চরমপন্থী গ্রুপের সাথে যুক্ত ছিলো? নামগুলো ধরে ধরে তাদের বাসস্থানের কো-অরডিনেট একটি ম্যাপে বসিয়ে পরীক্ষা করেছে, সেখানেও কোনও প্যাটার্ন চোখে পড়েনি অরুপের। মোট তেইশ জনের নাম আছে এখানে, বিভিন্ন বয়সের, ভিন্ন ভিন্ন পেশার লোকজন। এর মাঝে এগারজন বাংলাদেশী, পাঁচজন পাকিস্থানী, তিনজন ভারতীয়, দুইজন লেবানিজ, দুইজন ইরানের অভিবাসী। এগার, পাঁচ, তিন, দুই, দুই সবগুলো প্রাইম নাম্বার, এদের যোগফল তেইশ, এটিও প্রাইম নাম্বার। ধ্যাৎ, চিন্তা অন্যদিকে চলে যাচ্ছে, এখানে সংখ্যাতত্বের কোনও বিষয় নেই। কিছু একটা চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে তার।

তার অগোচরে পেছনে এসে দাঁড়ায় সুমিতা। কিরে, নামের লিস্ট নিয়ে ধ্যান করছিস না কি?

- চমকে পেছনে তাকায় অরুপ। মৃদু হেসে বলে, “একটা বিষয় বুঝতে পারছি না। আচ্ছা, তুই দেখত; এই লিস্টের নামের ভেতর কোনও প্যাটার্ন খুঁজে পাস কি না”।

কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে, “কিসে লিস্ট এটা”?

- “যেদিন ডাক্তার আলবেরুনী খুন হন, সেদিন ডিনারে এদের নিমন্ত্রণ করেছিলেন। আমার ধারনা এখানে বড়সড় একটা ক্লু আছে যেটি আমার চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে”।

প্রথমেই যেটা চোখে পড়ছে তা হলো, এখানে সবাই মুসলিম।

“অকে, তারপর”?

লিস্টে কোনও মেয়ের নাম নেই

- “গুড পয়েন্ট। আমি এটা খেয়াল করিনি। আমার মাথায় শুধু ঘুরছিলো এখানে কি কি আছে, কিন্তু কি কি নেই সেটা ভাবনাতেও আসেনি। ভালো পর্যবেক্ষণ। তারপর? তোকে আরেকটা ক্লু দেই, খুন হওয়ার একমাস আগেও এই তেইশ জনকেই তিঁনি বাসায় দাওয়াত দিয়েছিলেন”।

তারমানে তো মনে হচ্ছে তারা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

- “সেটা তো অবশ্যই, না হলে কি একমাসের ভেতর সবাইকে দুইদিন বাসায় ডিনারে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ায়? কিন্তু তাদের মাঝে সাদৃশ্যটাই তো ধরতে পারছি না”।

আচ্ছা, তোরা না - সপ্তাহে একদিন জুম্মার নামাজ পড়তে সবাই মসজিদে একত্রিত হস! আমার মনে হয় যেহেতু এখানে কোনও মহিলা নাম নেই, তারমানে তারা জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়ে হয়তো পরিচিত হয়েছে? চোখে বিজয়ের হাসি ঝিলিক দিয়ে উঠে সুমিতার।

- “তোর এই যুক্তিতে দুইটা ভুল আছে। প্রথমত, প্রচুর মহিলা জুম্মার নামাজ পড়তে মসজিদের যায়, আর দ্বিতীয়ত জুম্মার নামাজে হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়। এদের ভেতর শুধু এই তেইশ জন আলাদা হওয়া, ঠিক মিলছে না; যেখানে তাদের মাঝে অন্যকোনও মিল নেই, দেশ, ভাষা, পড়াশোনা, প্রফেশন সবদিক দিয়ে বিস্তর ফারাক”।

বেশ স্বাভাবিকভাবে সুমিতা বলে, তাহলে এরা মনে হয় রেগুলার পাঁচবার মসজিদের গিয়ে নামাজ পড়ত। এই পাঁচবার নিশ্চয় হাজার হাজার লোক হতো না? বিশেষ করে তোদের যে খুব ভোরে উঠে একটা নামাজ পড়তে হয়।

- “হুম, ফজরের নামাজ”, আনমনে কথাটি বলেই চমকে উঠে অরুপ। স্থির দৃষ্টিতে সুমিতার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “মাই গড! এই সাধারণ বিষয়টাই আমার চোখ এড়িয়ে গেছে! দোস্ত, তুই সত্যি একটি প্রতিভার! এই তেইশ জন রেগুলার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদের গিয়ে পড়ে, আর আলবেরুনীও তাই করত। সেখানেই তাদের পরিচয়, প্রতিদিন পাঁচবার, ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা। আর আমি প্রাইম নাম্বার টাম্বার চিন্তা করে পুরা ব্যাপারটাই ভজগট পাকিয়ে ফেলেছিলাম”।

তাহলে তোর এসিস্ট্যান্ট হিসাবে আমার চাকরি পাক্কা? সুমিতা ব্যানার্জি, বিএসসি, এমএসসি রবোটিক্স ব্র্যাকেটে এমআইটি। আমার নাম আর পদবি জোরেই তো একের পর এক কেস এসে জুটবে। বলেই খিলখিল করে হেসে উঠে।

- “আরেকটা কাজ করতে পারবি”?

কী কাজ?

- “মানুষের চোখ নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করে যত তথ্য পাবি সব টুকে আমাকে জানাবি। পারবি না”?

ইয়েস স্যার, বলেই শরীর টানটান করে হাত উঁচিয়ে লম্বা একটা স্যালুট দেয়। আবার সেই খিলখিল হাসি।

চেয়ার থেকে উঠে ব্যাগ গুছাতে থাকে অরুপ।

“কিরে, কৈ যাচ্ছিস”?

- “যোহরের টাইম হয়ে এলো প্রায়, দেখছিস না? যাই মসজিদ থেকে নামাজটা পড়ে আসি”।


চার.
জামাত শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে মসজিদে পৌঁছায় অরুপ। দ্রুত অযু করে নামাজে দাঁড়ায়। বড়জোর চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ জন উপস্থিত, সালাম ফিরিয়ে কিছুক্ষণ ঠায় বসে থাকে। কেমন একটা প্রশান্তি ভাব উদয় হয় তার মনে। সময় নষ্ট না করে খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একে একে সবাইকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে সে। বেশির ভাগই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। কিছু ভারতীয়, পাকিস্থানী ও কয়েকজন আরবীয় মনে হলো প্রথম দেখাতে। ঈমাম সাহেব ত্রিশ বত্রিশ বছরের যুবক, মুখ ভর্তি চাপ দাঁড়ি, ফর্সা গায়ে রঙ; প্রথম দেখাতেই একজন সুফি সাধকের মতো মনে হয়, মনে ভক্তিভাব আসে।

- উঠে গিয়ে ইমাম সাহেবের সাথে পরিচিত হয় অরুপ। সালাম দিয়ে বলে, “আমি অরুপ হাসান, বাংলাদেশি। দুই মাস হলো এদেশে এসেছি। এখানে যে একটি বাংলাদেশি মসজিদ আছে জানা ছিলো না, আবার সেটির ঈমামও একজন বাংলাদেশি। দেখে খুব ভালো লাগছে”।

ঈমাম সাহেব খুশি মনে বলেন, “আমি মোহাম্মদ মাহফুজ ভূঁঞা। আপনার সাথে পরিচিত হয়েও ভালো লাগছে। ঠিকই বলেছেন, এখানে বাংলাদেশি কমিউনিটি বড় বলে মসজিদও বাংলাদেশি হিসাবে পরিচিত। দু:খের কথা কি জানেন? যদি কিছুদিন পর ভারতীয় কমিউনিটি আরেকটু বৃদ্ধি পায়, তবে তারাও আলাদা করে একটি ভারতীয় মসজিদ শুরু করবে। একই কথা পাকিস্থানি বা আরবদের ক্ষেত্রেও সত্য। কোথায় আমাদের পার্থিব বিভাজন দূর করে একত্রিত হওয়ার কথা সেখানে আরও বিভাজিত হয়ে যাচ্ছি। অনেক শহরেই ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন মসজিদ। একবার ভাবুন তো ব্যাপারটা!”, চোখে অকৃত্রিম দু:খভাব ফুটে উঠে।

- “আপনি ঠিকই বলেছেন”। কথা বলতে বলতে দুজনে মসজিদের বাইরে চলে আসে। দ্রুত চারদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেয় অরুপ। পাশেই একটি গাছের ছায়ায় চারজন গল্প করছে। মাহফুজ সাহেব অরুপকে নিয়ে সেদিকে এগিয়ে যায়। চারজনের সাথে অরুপকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের সাথে হাত মিলিয়ে পরিচিত হয়, চারজনই আলবেরুনীর দাওয়াতে উপস্থিত ছিলো। একজনের চোখে চোখ আটকে যায় অরুপের। নীল চোখ! দ্রুত চিন্তা চলছে অরুপের মাথায়, বাঙ্গালীদের ভেতর নীল চোখ মোটামুটি দুর্লভ।

আচমকা জরুরী কিছু একটা মনে পড়েছে এমন ভাব করে নীল চোখের লোকটি দ্রুত চলে যায়। বাকীদের সাথে আলাপচারিতা চলতে থাকে। একজন বলে, গত পরশুদিন একজন বাংলাদেশি খুন হয়েছে শুনেছেন”?

- চমকে উঠার ভান করে অরুপ, “বলেন কী? কেন? কীভাবে”?

“বিস্তারিত জানি না। পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। কি যে একটা বিশ্রী অবস্থা!”, চোখে মুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ লোকটির। “কি একটা উটকো ঝামেলা দেখেন দেখি? এই পর্যন্ত দুইবার পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিতে হয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে আরেকটি খুন হয়, তখনও তিন চারবার আমার ইণ্টারভিউ নিয়েছে। আরে আলবেরুনী আমাদের দাওয়াত দিয়েছেন, উনার নতুন আবিষ্কৃত কি একটা ভার্চুয়াল যন্ত্র দেখাবেন বলে। আমরা খেয়ে দেয়ে চলে এসেছি। এখানে আমার আর কি?”

এই লোক যতটা না খুন হওয়ায় দু:খিত তারচেয়ে বেশি বিচলিত নিজেকে নিয়ে। এই ধরণের লোকগুলোকে ভালোই চেনা আছে অরুপের। এরা নিজেরটা ছাড়া আর কিছু চিন্তাই করতে পারে না। নীল চোখওয়ালা লোকটির আচরণ নিয়ে এখনো ভাবছে অরুপ। কী যেন নাম লোকটার? ও, মনে পড়েছে, মেহেদী হাসান। খানিকটা দূরে একটি বেঞ্চে একজন বসে বই পড়ছে, তবে তার নজর তাদের দিকে। লোকটার ছবি দেখেছে মাইকের দেওয়া ফাইলে। আলবেরুনীর নিমন্ত্রণে সেও উপস্থিত ছিলো। ইরানী বংশোদ্ভূত। কিন্তু সে ওখানে বসে তাদের পর্যবেক্ষণ করছে কেন? অরুপ তাকে খেয়াল করছে বুঝতে পেরেই হয়তো সে উঠে উলটা দিকে হাঁটা ধরে। গায়ে সাধারণ একটি সাদা কালো চেক সার্ট, কালো প্যান্ট। মাথায় ঝাঁকড়া চুল। প্রথম দেখায় অসাধারণ কিছু মনে হয় না। তবে কিছু একটা সমস্যা আছে তার হাটায়। কি সেটা? কিছুক্ষণ তার হাঁটা পেছন থেকে পর্যবেক্ষণ করে অরুপ বুঝতে পারে বিষয়টা। এলোমেলো উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাঁটলেও প্রতিটি পদক্ষেপ মাপা, যেন স্কেল দিয়ে মেপে মেপে পা ফেলছে। দীর্ঘ ট্রেনিং এর ফল এটা। অরুপের বুঝতে সমস্যা হয় না, এই লোক সিক্রেট সার্ভিসে লোক। সার্টটিও ইন করা নেই, কিছু একটা কি সে লুকাচ্ছে ঢিলাঢালা সার্টের আড়ালে? লেজার গান? চিন্তাটা মাথায় খেলে যায় তার, ঠোটে মৃদু হাসি উকি দেয়।

এখানে আপাতত আর কিছু দেখার নেই। আড় চোখে সময় দেখে নেয়, আছরের সময় হতে আরও চার ঘণ্টার মতো আছে। আচ্ছা, আমি যাই। আছরের সময় দেখা হবে বলেই পা বাড়ায় সে।

- বেটা-ট্রনিক্সে পৌঁছেই সুমিতাকে জিজ্ঞেস করে, “চোখ নিয়ে ইন্টারেস্টিং কিছু পেলি”?

আর বলিস না, প্রচুর তথ্য পেয়েছি। দাড়া একে একে তোকে শোনাচ্ছি।

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।

“জীবনানন্দ দাশ বলে গেছে অন্ধরাও চোখে দেখে, বরং বেশিই দেখে”। সুমিতার চোখে মুখে হাসি ঝলমল করছে।

- তারদিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকায় অরুপ। মুখে বলে, “বুঝতে পেরেছি। আর কি পেয়েছিস”?

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,
প্রহরশেষের আলোয় রাঙা
সেদিন চৈত্রমাস,
তোমার চোখে দেখেছিলাম
আমার সর্বনাশ

“মানে হলো মানুষের চোখে সর্বনাশ থাকে”। এবার অরুপের দিকে তাকিয়ে চোখ নাচায় সুমিতা।

- “এবার কিন্তু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমার হাতে সময় নেই, ঘন্টা তিনেকের ভেতর আবার বের হব। বিরক্ত না করে কি পেয়েছিস বলত”।

আরে অল্পতেই এতো রেগে যাস কেন? আচ্ছা বলছি। প্রথমত আমাদের চোখের রঙ নিয়ন্ত্রণ করে আইরিসের মেলালিন সংখ্যা। দ্বিতীয়ত, পৃথিবীর সকল নীল চোখ বিশিষ্ট মানুষের পূর্বপুরুষ এক। প্রথম নীল চোখ বিশিষ্ট মানুষের আবির্ভাব হয়েছিলো ছয় থেকে দশ হাজার বছর আগে।

- “হুম, ইন্টারেস্টিং। তারপর”?

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ প্রতি মিনিটে সতের বার চোখের পাতি ফেলে। আমাদের চোখের পাতি ফেলার কারণ হলো চোখকে সিক্ত করে রাখা। যে তরলটি এই কাজ করে তার পিএইচ এর মান ৭.৫। একেএকে আরও অনেক কথা বলে যায় সুমিতা।

মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকে, আর হাতের ফাইলটি পড়তে থাকে। আচমকা কি মনে পড়তেই কম্পিউটারের Eye ফোল্ডারটি খুলে, Sample নামে একটি সাব-ফোল্ডার, তার ভেতরে চব্বিশটি ফোল্ডার সিরিয়ালি এক থেকে চব্বিশ পর্যন্ত সংখ্যা দিয়ে নামকরণ করা। তেইশ জন অতিথি আর আলবেরুনীকে নিয়ে চব্বিশ জন! ভেতরে চোখের আইরিসের ম্যাপ। এই ব্যক্তিগত ও গোপনীয় এই বায়োমেট্রিক ডাটা আলবেরুনী কোথা থেকে পেলেন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কেন?

দ্রুতগতির চিন্তার ঝড় বয়ে যায় অরুপের মস্তিষ্কে। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়ে যায় তার। তাড়াহুড়ো করে অফিস থেকে বের হয়ে আলবেরুনীর বাসায় পৌছায়। সোজা বেডরুমে ঢুকে দেখে বেডসাইড টেবিলের উপর কাল সানগ্লাসটি পড়ে আছে। একজন বৃদ্ধ কেন তার শোবার ঘরে এমন কালো রঙের একটি সানগ্লাস রাখবেন, বিষয়টি মনে খচখচ করছিল। দেখা যাক এখন কি মেলে ভাবতে ভাবতে ভালোমতো নেড়েচেড়ে দেখে সে সানগ্লাসটি। যা ভেবেছিলো তাই। এটি সানগ্লাসের আড়ালে একটি রেটিনা স্ক্যানার। ভার্চুয়াল মজার কিছু একটা দেখাবে বলে সবার রেটিনা স্ক্যান করে রেখেছিলেন আলবেরুনী। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে যাবতীয় রহস্য। সময় দেখে অরুপ, আছরের নামাজের টাইম হয়ে গেছে।

মসজিদে হাজির হয়ে দেখে এখনো জামাত শুরু হয়নি। পেছনে বসে চোখের রেটিনা রক্তের শিরা ম্যাপ নিয়ে ইন্টার্নেটে পড়তে থাকে। একেএকে অনেকেই হাজির হয়ে, এখনি নামাজ শুরু হবে। ইরানী লোকটি, যাকে সিক্রেট সার্ভিসের লোক বলে তার সন্দেহ হয়েছিলো কায়দা করে তার বাঁ পাশে দাড়িয়ে যায়। আগেই খেয়াল করেছিলো সে বাঁহাতি, সেক্ষেত্রে লেজার গানটি বা দিকেই গুজে রাখবে। গা ঘেঁষে দাঁড়ানোর পায়তারা করে তার কমরের পাশে আলতো করে ছুঁয়ে দেয় অরুপ। তার সন্দেহ সত্যি, সেখানে একটি লেজার গানের অস্তিত্ব টের পায় সে।

নামাজ শেষ হতেই দ্রুত সকলে বের হয়ে যায়, অরুপ আবার পেছনে গিয়ে চোখ নিয়ে পড়া শুরু করে। কিছুক্ষণ পর মাহফুজ সাহেব তার কাছে এসে বলে, সবাই তো চলে গেল, আপনি বসে আছেন যে?

- “আসলে কাজ নেই তো, আর কিছুক্ষণ পরই তো মাগরিবের আযান দিবে, তাই ভাবছি এখানেই বসে পড়াশুনাটা করে ফেলি”।

আপনি কি ছাত্র?

- “তা বলতে পারেন। এখানে পিএইচডি করতে এসেছি, আপনি বসুন না, কিছুক্ষণ গল্প করি”, কণ্ঠে বিনীত অনুরোধ অরুপের। শুনলাম গতপরশু যে স্কুল শিক্ষক খুন হয়েছেন তিনি আরবির শিক্ষক ছিলেন? তাহলে তো আপনার সাথে ভালো যোগাযোগ থাকার কথা?

“জ্বি, আমার সাথে ভালো যোগাযোগ ছিলো। দেশে আমরা একই মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছিলাম। আমরা ব্যাচমেট; মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এ শহরে এসেছিলো। বেচারা”!, চোখে অকৃত্রিম দু:খবোধ ফুটে উঠে তার।

- “হুম, খুবই দু:খজনক ব্যাপার। আপনি কত বছর ধরে এখানে আছেন?”, খুনের প্রসঙ্গটি দ্রুত বদলিয়ে ফেলে, যেন তার এ ব্যাপারে কোনও আগ্রহ নেই।

“প্রায় দুই বছর। জানেন তো, এখানে সব মসজিদের ঈমাম নিয়োগ দেয় সরকার। আমাকে বাংলাদেশ থেকেই নিয়োগ দিয়ে নিয়ে এসেছে”।

- “একা একা থাকেন, খারাপ লাগে না? আমার তো এই দুই তিন মাসেই দম বন্ধ হয়ে আসছে। ভাবছি পিএইচডি শেষ হলে এক দিনও থাকব না এখানে”।

“খারাপ তো লাগেই, কিন্তু কি আর করা!”, কণ্ঠে কিছুটা হতাশার ছোঁয়া। আপনার গবেষণার বিষয় কী?

- “রবোটিক্স। বিশেষ করে রবোটের চোখ নিয়েই গবেষণা। আমার অবশ্য কৃত্রিম আবেগ নিয়ে গবেষণার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু সেটির জন্যে ফান্ড বরাদ্দ পাইনি”।

বেশ কিছু ভাবনা খেলে যায় অরুপের মাথায়, নতুন সংগঠিত খুনটির ব্যাপারে সময় দিতে পারছে না। সমগ্র চিন্তা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে আলবেরুনীতে। তার অবচেতন মন বলছে এখানেই সব রহস্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে। আরও কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে বলে উঠে চলে যায় ঈমাম সাহেব। রেটিনার ব্লাড ভেসেলের ম্যাপ নিয়ে আরও গভীর মনোযোগে পড়তে থাকে অরুপ। কখন যে মাগরিবের সময় হয়ে গেছে টেরই পায়নি সে। আযানের শব্দ কানে আসতেই সম্বিৎ ফিরে পায় সে।

কিছুক্ষণের ভেতর নামাজ শুরু হয়ে যায়, এবারের উপস্থিতি আরেকটু বেশি, প্রায় পঁঞ্চাশ জনের মতো। মোবাইলে রেকর্ডিং অন করে পকেটে পুরে নেয়। ছোট ছোট সূরায় নামাজ আদায় হয়, খুব সুরেলা কণ্ঠে তেলাওয়াত করেন ঈমাম সাহেব। মুগ্ধ হয়ে শুধু শুনতে ইচ্ছা করে। নামাজ শেষে এবার আর বসে না থেকে দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে পার্কের দিকে এগিয়ে যায় অরুপ।
ঠিক সাতটায় এসে হাজির হয় মাইক। লেকের দিকে মুখ করে বেঞ্চের পাশাপাশি বসে দুজনে। আপনার কাজের অগ্রগতি কেমন হচ্ছে?

- “বেশ ভালোই অগ্রগতি হয়েছে, আমার ধারণার চেয়ে বেশি। তবে কেসটা খুব জটিল মনে হচ্ছে, এটা সাধারণ কোনও খুনের ঘটনা নয়। জল অনেকদূর পর্যন্ত গড়াতে পারে। আমাকে এই লোকগুলোর রেটিনার ব্লাড ভেসেলের ম্যাপ জোগাড় করে দিবেন যত দ্রুত সম্ভব। এখানে আলবেরুনীরসহ চব্বিশ জনের নাম আছে, আমার দরকার তিন বছরের পুরাতন ডাটা। রিসেন্ট হলে হবে না”।

“কেন? রেটিনা ম্যাপ তো সারা জীবন একই রকম থাকে, যে কোনও একটা হলেই তো হল?”, অবাক হয়ে প্রশ্ন করে মাইক।

- “দরকার আছে। আর, বাংলাদেশি শিক্ষকের বাড়ির কী-প্যাডের টেপ হিস্টোরি কি বের করতে পেরেছেন”?

“হুম, এখানে আছে বলেই একটি ডিক্স এগিয়ে দেয় অরুপের দিকে। ঐ একই পদ্ধতি, প্রথম ডিজিট সাত তারপরের চারটা ডিজিট শূন্য থেকে নয় পর্যন্ত সবগুলো ইনপুট দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে”।

- “হুম, বুঝতে পেরেছি। ডিকশনারি এটাক”।

মানে?

- “মানে হলো, কী প্যাডে শূন্য থেকে নয় পর্যন্ত দশটি সংখ্যা আছে। তাহলে সর্বনিম্ন শূন্য থেকে নয়শ নিরানব্বই কোটি সংখ্যাক রেন্ডম নাম্বার হতে পারে এর পাসকোড। এখন যদি আমি শূন্য থেকে শুরু করে একে একে সবগুলো নাম্বার দিয়ে চেষ্টা করি তাহলে একটা না একটা নাম্বার দিয়ে এই লক খুলবেই”, কথা বলতে বলতে বেঞ্চের উপর বাঁ হাতের নখ দিয়ে তবলা বাজানোর মতো শব্দ করছিলো অরুপ।

“এটা তো জানি, ‘ডিকশনারি এটাক’ এটা বেশ পুরাতন পদ্ধতি। কিন্তু প্রথম সংখ্যা সাত কেন”?

- “আমি যদি একটি রেন্ডম নাম্বার দিয়ে লক করতে চাই, তাহলে চেষ্টা থাকবে সেটি যেন বড় সংখ্যা হয়। এটা সাধারণ প্রবণতা। দেখা গেছে, প্রথম সংখ্যা পাঁচে উপরে হওয়ার প্রবাবিলিটি বেশি, আর এটা সাত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই প্রথমের সাত দিয়ে চেষ্টা করেছে। এটাতে না হলে নয় দিয়ে চেষ্টা করত, তারপর বাকিগুলো। এতে সম্ভাব্য বিন্যাস বহুগুণে কমে আসে”, আঙুল দিয়ে তবলা বাজানো থেমে গেছে তার।

আজকেই বাসার পাসকোড চেঞ্জ করে দেব, মনে মনে ভাবে মাইক। “কিন্তু পরপর তিনটি পাসকোড ভুল দিলে তো তিন সেকেন্ডের ভেতর সাইরেন বেজে উঠার কথা! এটা হয়নি কেন”?

- “হয়নি কারণ এই ডিকশনারি এটাকটি হয়েছে তিন সেকেন্ডের কম সময়ে। আমি হিসাবে করে দেখেছি, এটা করতে হলে একটি সুপার কম্পিউটার প্রয়োজন, সেটা সাধারণ কারও পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব না, আরেকটা হতে পারে যদি বরোটের কপোট্রন ব্যবহৃত হয়”।

অরুপের শেষ কথাটায় চমকে উঠে মাইক। “তারমানে বলতে চাচ্ছেন একটি রবোট এই খুনটি করেছে”?

- “আমি নিশ্চিত না, শুধু সম্ভাবনার কথা বলছি। আজ এই পর্যন্তই। এখন উঠি, এশার নামাজের সময় হয়ে গেল”।

কিছুটা অবাক হয়ে মাইক বলে, “বাহ! আপনি এতোটা ধার্মিক জানা ছিলো না তো”?

- “হুম, আমি নিজেও জানতাম না”, কিছুটা উদাস কণ্ঠে বলে অরুপ।


পাঁচ.
ফজরের কিছু আগে মসজিদে উপস্থিত হয় অরুপ, কত বছর পর আজ এতো সকালে ঘুম থেকে জেগেছে মনে করতে পারছে না সে। বেশ ফুরফুরে লাগছে, ঈমাম সাহেব এখনো ঘুম থেকে উঠেন নি। আরও কয়েকজন এসে হাজির হয়েছে। কিছুক্ষণ পর একজন উঠে আযান দেয়। উঠে অযুখানায় যায় অরুপ, ঈমাম সাহেবও অযু করতে ঢুকেছেন একই সময়। অযু শেষ হতেই অরুপ মাহফুজ সাহেবের চোখে চোখ রেখে সালাম দেয়। “মাত্র ঘুম থেকে উঠলেন?”

“হুম, চলুন। নামাজের সময় হয়ে এলো”। সুন্দর সম্মোহিত কণ্ঠে নামাজ পড়ান মাহফুজ ভূঁঞা। নামাজ শেষ হতেই আবার অযু খানায় ঢুকে অরুপ, টেপ থেকে কিছু পানি ফ্লাক্সে ভরে দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে আসে। তাকে সদর দরজায় দেখেই নীল চোখওয়ালা মেহেদী হাসান দ্রুত সটকে পড়ে। পেছনে অবাক হয়ে তার প্রস্থানের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। কপালে চিন্তার ভাজ পড়ে তার, মেহেদী হাসান কি তাকে অনুসরণ করছে? সেই সিক্রেট সার্ভিসের লোকটি মসজিদের ভেতর বসে একটা বই পড়ছে। কিছু একটা খচখচ করছে অরুপের মনে, অফিসে আজ একটু জলদিই পৌছায় সে। গত দুই দিনের সবকিছু শুরু থেকে ভাবতে থাকে অরুপ, খুঁটিনাটি। কানে হেডফোন লাগিয়ে কিছু একটা শুনতে থাকে অনবরত।

আটটা বাজার পাঁচ মিনিট আগে সুমিতা এসে হাজির। বাহ! আজ এক্কেবারে সময়ের আগে আগে? কি ব্যাপার? না কি সারা রাত এখানেই কাটিয়েছিস?

- তার কথাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অরুপ বলে, “চোখের ব্যাপারে যা যা পেয়েছিস সেগুলো এটাচ করে ইমেইল করে দে, জলদি।”
মুহূর্তক্ষণ তারদিকে তাকিয়ে কিছু একটা আচ করতে পারে সুমিতা। বিরক্ত না করে ইমেইল করতে বসে।

- আধ ঘণ্টা পর অরুপ বলে, “কি ব্যাপার তোকে না বললাম মেইল করতে? এতক্ষণ লাগে”?

“আরে! আরও দশ মিনিট আগেই তো মেইল করে দিয়েছি, এখনো পাস নি”?

ঠিক তখনই টিং করে একটা শব্দ হয়। ওহ, এইমাত্র এলো। মনেমনে দ্রুত একটি হিসাবে করে নেয় অরুপ। ঠোটের কোনে মৃদু হাসি খেলে যায় তার। বসে না থেকে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে আসে। একটি ট্যাক্সি থামিয়ে তাতে উঠে পড়ে। জিপিএসে সেন্ট্রাল মার্কেটের ঠিকানা ইনপুট করে দিতেই ট্যাক্সি চলতে থাকে, কিছুক্ষণ পরেই একটি কালোগ্লাসের গাড়ি অরুপের ট্যাক্সিকে অনুসরণ করতে থাকে। মার্কেটে নেমেই আড় চোখে একবার দেখে নেয় সেই কালো গ্লাসের টেসলা জীপটাকে। বুঝতে পারে তাকে চোখে চোখে রাখা হচ্ছে, তারমানে তদন্ত সঠিক পথেই এগুচ্ছে। পানির বোতলটি একটি ল্যাবরেটরিতে জমা দিয়ে আজকের মধ্যে রিপোর্ট তাকে মেইল করতে বলে অরুপ। তারপর সারা সকাল এদিক সেদিক উদ্দেশ্যহীনভাবে হেঁটে বেড়ায়, পেছনে দক্ষ শিকারির মতো লেগে থাকে সেই জীপটি। যোহরের সময় হয়ে এলে আরেকটি ট্যাক্সি ডেকে মসজিদে উপস্থিত হয়।

ঈমাম সাহেবকে দেখে হেসে সালাম দেয়। নামাজ শেষ হতেই সময় নষ্ট না করে আবার অফিসে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ চিন্তা করে একটি ডক ফাইল খুলে লিখতে বসে। চোখ নিয়ে প্রায় এক হাজার শব্দের মোটামুটি বড়সড় একটা লেখা দাঁড়িয়ে যায় ঘণ্টা খানেকের ভেতর। তারপর ইমেইল খুলে ফাইলটি এটাচ করে সেন্ড করার আগে মাইককে ফোন করে।

- “হ্যালো, মাইক। আমি গুরুত্বপূর্ণ একটা ইমেইল করছি। মেইল পাওয়ার সাথেসাথে পেয়েছেন কি না জানাবেন, আমি লাইনে আছি। বলেই সেন্ড বাটনে ক্লিক করে অরুপ। ঘড়ির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

ঠিক চার মিনিট ত্রিশ সেকেন্ড পর মাইক বলে “মেইল পেয়েছি। ফাইলটা ডাউনলোড করে পড়ে আপনাকে জানাচ্ছি”।

- “আর জানাতে হবে না, আমার কাজ হয়ে গেছে। ফাইল পড়ে শুধু শুধু সময় নষ্ট করার দরকার নেই”। বলেই লাইনটি কেটে দেয়।

সারাদিন অফিস থেকে আর বের হয় না অরুপ। গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ চিন্তা করে, প্রতিটি ক্লু কয়েকবার করে যাচাই বাছাই করে, একটি ঘটনার সাথে ওপরটি মিলিয়ে পরীক্ষা করে দেখে। অবশেষে সন্তুষ্ট হয় অরুপ। এখন শুধু মাইকের অপেক্ষা, পুরানো রেটিনা স্ক্যানের ডাটাগুলো পেলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সন্ধ্যায় দেখা করে মাইকের সাথে পূর্ব নির্ধারিত জায়গায়। যা যা চেয়েছিলো সব নিয়ে এসেছে মাইক। সেগুলো অরুপের হাতে দিয়ে বলে,

“আপনার আচরণের কিছুই তো বুঝতে পারছি না?”

- “আর একটা দিন ধৈর্য ধরুন, মোটামুটি একটা হাইপোসিথিস দাঁড় করিয়েছি, আমার সন্দেহ যদি সঠিক হয় তবে দুই একদিনের ভেতরেই খুনী ধরা পড়বে। জাল বুনা হয়ে গেছে, এখন সেটি জায়গা মতো বিছাতে হবে”। মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়ে কয়েকজনের সাথে খুশগল্প করে বাসায় চলে আসে অরুপ।

বাসার ফিরে মাইকের দেওয়া রেটিনা ইমেজগুলো নিয়ে বসে অরুপ, প্রতিটি সেম্পলের সাথে আলবেরুনীর সেম্পল মিলিয়ে দেখে। নাহ, তার সন্দেহ সঠিক। উঠে গিয়ে সিসি ক্যামেরাটি ভালো মতো পরীক্ষা করে, কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করে বার কয়েক পরখ করে দেখে। নাহ, সব ঠিক আছে, এখন খুনী পাতা ফাঁদে পা দিলেই হয়। এব্যাপারে অবশ্য তার মনে কোনও দ্বিধা নেই, অরুপ চিন্তিত তাকে যে দুইদিন ধরে অনুসরণ করা হচ্ছে তাদের নিয়ে। তারা সময় মতো প্রতিক্রিয়া দেখাবে তো?

অবশেষে রবোটিক্সের তিনটি মৌলিক সূত্র নিয়ে পড়তে বসে। যদিও এটি তার ভালো মতোই পড়া আছে, তবুও নতুন কি গবেষণা হচ্ছে তা জানা দরকার। বিজ্ঞানী আইজাক আসিমভের এই তিনটি সূত্র রবোটিক্সের নৈতিকতা আচরণের মূল ভিত্তি।

১ম সূত্র: রোবট কখনো কোন মানুষকে আঘাত করতে পারবে না কিংবা মানুষের বিপদে নির্লিপ্ত থাকতে পারবে না।

২য় সূত্র: রোবট কখনো মানুষের আদেশ অমান্য করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে আদেশ ১ম সূত্রের পরিপন্থী হয়।

৩য় সূত্র: রোবট কখনো নিজের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তা ১ম ও ২য় সূত্রের পরিপন্থী হয়।


যদিও এই সূত্রগুলো নিয়ে বিস্তর সমালোচনা আছে, রবোট কিভাবে মানুষকে সংজ্ঞায়িত করবে সেটি এই সূত্রে বলা নেই। এগুলোকে প্রকৃতপক্ষে সূত্র না বলে ধারনা বলা যেতে পারে। অনেক পরে আসিমভ আরেকটি সূত্র দেন সেটি শূন্যতম সূত্র হিসাবে পরিচিত। সেখানে সামগ্রিকভাবে মানব সভ্যতার কথা বলা হয়েছে, যে একটি রবোট কখনো মানবতার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে না। সূত্রগুলোর দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে অরুপ কিছুক্ষণ।

একটি রবোট কি নিজ থেকে খুনী হয়ে উঠতে পারে? না কি এর পেছনে কোন মানুষের হাত থাকবে? কিন্তু রবোটের কপোট্রন এখন এমনভাবে সিল করা থাকে যে স্থায়ী ক্ষতি না করে সেখানে কারও পক্ষে হাত দেওয়া সম্ভব না। এই একটা জায়গাতে এসে সবকিছু উলট পালট হয়ে যাচ্ছে।

জলদি শুয়ে পড়ে অরুপ, ভোরে উঠে মসজিদে যেতে হবে আবার। কয়েকদিন টানা মসজিদে যাওয়া আসার ফলে দৈনন্দিন জীবনে কেমন একটা শৃঙ্খলা এসেছে তার। ভোরে উঠেই মসজিদে হাজির হয় সে। বুক ডিব ডিব করছে তার, আজই সেই দিন। নামাজ শেষ হতেই পেছনে গিয়ে বসে কয়েকবার নীল চোখওয়ালা মেহেদী হাসানের দিকে তাকায়। আবার ঈমাম মাহফুজ সাহেবের দিকেও তাকায়। ইচ্ছা করেই চোখ কুঁচকে রেখেছে, যেন তাকে দেখে মনে হয় কিছু একটা পর্যবেক্ষণ করছে। দ্রুত হাতে ট্যাবের উপর হাত চালায়, যেন হন্যে হয়ে কিছু খুঁজছে। একসময় উঠে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। যাদের সাথে গত কয়েকদিন বেশ সখ্যতা হয়েছিলো, তার আজকের আচরণ তারা বেশ অবাক হয়। অরুপ অনুভব করতে পারে, তার পেছনে দৃষ্টি নিবন্ধ করে আছে কয়েক জোড়া চোখ।

চেপে রাখা নি:শ্বাসটা সন্তর্পণে ছাড়ে অরুপ, যাক প্রাথমিক ধাক্কাটা হয়তো দেওয়া গেছে। চূড়ান্ত আঘাতটি সে করবে যোহরের সময়।

যোহরের নামাযের সময় হলে সে একটু দেরীতে মসজিদের প্রবেশ করে। সামনের সারিতে বসে আছে নীল চোখের মেহেদী হাসান, তার সামনে ঈমাম সাহেব। পাশে সেই সিক্রেট সার্ভিসের লোকটি। আরও কয়েকজন বসে অপেক্ষা করছে কখন জামাত শুরু হবে। অরুপ ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, কাছাকাছি আসতেই কয়েকজন তার দিকে ফিরে তাকায়, হঠাৎ থমকে যায় সে। কয়েকজনের চোখে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, ঈমামের চোখে তাকিয়ে সবশেষে মেহেদী হাসানের চোখে তাকায়। হঠাৎ সারা শরীর যেন কাঁপতে থাকে তার, মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে দু কদম পিছিয়ে আসে।ভয়ংকর কিছু একটা যেন তার নজরে পড়েছে, তারপর ঘুরে দৌড়িয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। বাইরে গিয়ে একটু থমকে দাড়ায়। পেছন ফিরে দেখে সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আবার দৌড় লাগায় সে, যেন প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে! রাস্তায় উঠে কিছুটা দম নেয় সে। যাক, এখন কৌশলটা কাজে লাগলেই হলো। ট্যাক্সি ডেকে বাসায় ফিরে আসে। মাইককে একটি মেসেজ পাঠিয়ে বলে আজ দেখা করবো না, আপনি রাত নয়টার পর আমার বাসায় চলে আসবেন। আর লেজার গানটি আনতে ভুলবেন না যেন।

রাত একটা বাজতেই একটি ছায়া মূর্তি অরুপের ঘরের দিকে এগিয়ে আসে। দরজার কি লকের পোর্টে একটি ছোট্ট ডিভাইস সেট করে; ডিভাইসটি থেকে একটি তার বের হয়ে লোকটির মুখের জিহ্বার নিচে এসে ঢুকে। দুই সেকেন্ডের ভেতর ক্লিক করে একটা শব্দ হয়ে দরজাটি খুলে যায়। আততায়ীর সারা শরীর কালো কাপড়ে ঢাকা, ধীরে ধীরে বেড় রুমের দিকে এগিয়ে যায়, হাতে ধরা একটি লেজার গান। ঘরে মৃদু আলো, নাক পর্যন্ত ঢেকে বিছানার শুয়ে আছে শিকার। হাত উঁচিয়ে লেজার গানটি মাথা বরাবর তাক করে চালিয়ে দেয়।

- আচমকা পেছন থেকে অরুপ বলে উঠে, “ঈমাম সাহেব, হাতের লেজার গানটি ফেলে দেন। আপনার মাথায় একটি নাইন এইট পয়েন্ট সিক্স সিরিজের লেজার গান তাক করা আছে, চোখের পলক ফেলবার সময়ও পাবেন না”।

হাতের লেজার গানটি ফেলে দিয়ে ঘুরে দাড়ায় মাজফুজ ভূঁঞা, চোখে ভীত চাহনি। এগিয়ে গিয়ে পিছমোড়া করে হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দেয় অরুপ। তারপর তাকে সোফায় বসিয়ে সামনে মাইকের পাশে বসে পড়ে সে।

- “তো, মাহফুজ সাহেব, না কি মাহফুজ সাহেবের হিউমেনয়েড কি বলব আপনাকে”?

অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে মাহফুজের দিকে তাকিয়ে আছে মাইক। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না, কি থেকে কি হয়ে গেল?

- “দাঁড়ান, আসল কাজ তো এখনো বাকি”, বলেই সুমিতাকে একটি ফাইল ইমেইল করে অরুপ।

কী করছেন? এতো রাতে কাকে ইমেইল করছেন?

- “গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা; দুটি খুনের বিস্তারিত ক্লু; সবকিছু বিস্তারিত সাজিয়ে একটি রিপোর্ট করেছি আজ সারাদিন বসে বসে। এই ফাইলটা সুমিতাকে মেইল করে দিলাম”, চোখের তার ধূর্ত হাসি।

মানে? কেন?

- “এর পেছনের আসল হোতাকে ধরার জন্যে। এখন দশ মিনিট অপেক্ষা করেন। সব বুঝতে পারবেন। আপনি এবার মাহফুজ সাহেবকে জেরা শুরু করতে পারেন”, কিছুটা রিলাক্স হয়ে সোফায় গা এলিয়ে দেয় অরুপ।

আপনি কি মানুষ না রবোট?

- “রবোট, তবে মানুষের খুব কাছাকাছি করে আমাকে বানানো হয়েছে”।

আসল মাহফুজ সাহেব কোথায়? তাকেও কি খুন করে ফেলেছেন।

- “নাহ, তার অনেক স্মৃতিই আমার মস্তিষ্কে ম্যাপ করা হয়েছে, তবে আসল মাহফুজ কোথায় আমি জানি না”।

আপনি দুটি খুন করেছেন, কেন করেছেন?

- “তা ছাড়া আমার উপায় ছিলো না। আমি খুন করিনি, শুধু আত্মরক্ষা করেছি”।

মানে?

- “ডাঃ আলবেরুনী আমার আসল পরিচয় জেনে গিয়েছিলেন। তাই তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হয়েছে। তিনি যেহেতু চোখের ডাক্তার ছিলেন, তাই আমার চোখে কোনও একটা অস্বাভাবিকতা উনার নজরে এসেছিলো”।

আর দ্বিতীয় খুনটা কেন করেছেন?

- “জহরুল হকের সাথে ছোট বেলা থেকে আসল মাহফুজ লেখাপড়া করেছে, একই মাদ্রাসায়। এক মাস আগে এ শহরে সে আসে। একজন মানুষ, যে তার সাথে জীবনের বড় একটা সময় কাটিয়েছে তার পক্ষে সহজেই বুঝে যাওয়া সম্ভব যে আমি প্রকৃত মাহফুজ নই। তাই তাকেও সরিয়ে ফেলতে হয়েছে”।

এই একই কারণেই কি আজ অরুপকে খুন করতে এসেছিলেন?

- জ্বি

আপনার আসল উদ্দেশ্য কী? কারা আপনাকে এখানে সেট করেছে?

- “আমি জানি না। তাদের ব্যাপারে আমার কোনও ধারণা নেই”।

তারা আপনাকে ট্রেক করে না?

- “নাহ, শুধু মাত্র প্রতিদিন রাতে আমার মেমরি থেকে সব তথ্য তাদের সার্ভারে আমি আপলোড করি”।

অরুপের দিকে তাকায় মাইক, চোখে প্রশ্ন।

- অরুপ বলে, “আমার ধারনা যদি প্রতি মুহূর্তে ট্রেক করতে হয়, তাহলে তার শরীর থেকে একটি সিগনাল রিয়েলটাইম জেনারেট করতে হবে। এটা অন্য কেউ ট্রেক করে ফেলতে পারে, হয়তো তাই এই সিকিউরিটি প্রিকিউশন”। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে অরুপ, কিছু একটা ঘটার অপেক্ষায় আছে সে। হঠাৎ তড়িৎ বেগে কম্পিউটারের একটি বাটন ক্লিক করে সে। এক মিনিট পরে ঘরটি ঘিরে ফেলে সিআইএর এর একটি বিশেষ দল। মুহূর্তেই দরজার ভেঙে প্রবেশ করে তারা, হাতে সবার হাতে লেজার রাইফেল, মুখ ঢাকা। সিআইএ সিআইএ, চিৎকার করতে করতে অরুপ ও মাইককে ঘিরে ধরে তারা। ঠিক তখন তাদের কমিউনিকেশন ডিভাইসে ভেসে আসতে থাকে, রিট্রিট, মিশন আবান্ডোন্ড, রিট্রিট রিট্রিট।

মুহূর্তেই, যেভাবে এসেছিলো- ঘর থেকে সে ভাবেই তড়িৎ বেগে বের হয়ে যায় পুরো দলটি।

হতভম্ব হয়ে বসে থাকে মাইক। স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে অরুপ বলে “এই সিআইএ-ই হলো মূল হোতা। তারাই এই রবোটটিকে এখানে সেট করেছে”।

“কিন্তু কি দেখে তারা এতো ভয় পেল, এভাবে লেজ তুলে ভৌ দৌড়”?

- “আজ এ পর্যন্তই, আপনার ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করেন। খুনী ধরে দিয়েছি, এখন আমি একটু বিশ্রাম নেব। আর একটা বিষয়ের জন্যে দু:খিত, অনেক চেষ্টা করেও এই কেসে আমার কার্যক্রম গোপন রাখতে পারিনি। আপনি কাজ চালিয়ে যান, আমি এখন ঘুমাব। কাল তো ছুটি, সকাল সকাল চলে আসবেন, বিস্তারিত আলাপ করা যাবে”। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়েছে যেন, ঘুরে মাহফুজকে জিজ্ঞেস করে, “আপনার কপোট্রনে তো রবোটিক্সের তিনটি মৌলিক সূত্র ডিফাইন করা আছে, তাই না”?
জ্বি।

- “ক্রমানুসারে বলুন তো সূত্রগুলো”।

১ম সূত্র: রোবট কখনো নিজের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে না
২য় সূত্র: রোবট কখনো মানুষের আদেশ অমান্য করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে আদেশ ১ম সূত্রের পরিপন্থী হয়।
৩য় সূত্র: রোবট কখনো কোন মানুষকে আঘাত করতে পারবে না কিংবা মানুষের বিপদে নির্লিপ্ত থাকতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না তা ১ম ও ২য় সূত্রের পরিপন্থী হয়।


একটি দীর্ঘশ্বাস বুক চিড়ে বের হয়ে আসে অরুপের। এমনটাই সে ভেবেছিলো।


শেষ অধ্যায়.
একটি সোফায় গা হেলান দিয়ে আয়েস করে বসে আছে অরুপ, বাঁ হাতে একটা পাইপ। আগুন তামাক কিছুই নেই, তবুও সে টেনে যাচ্ছে। সামনে বসে আছে মাইক ও সুমিতা।

- “ডার্লিং, সবাইকে এক কাপ চা খায়ও তো জলদি”।

এক ঘুসি মেরে নাক ফাটিয়ে দেব। আমি আবার তোর ডার্লিং হলাম কবে? এখন ভাব না নিয়ে সব ঘটনা খুলে বল। আমার আর তর সইছে না।

- “প্রথম থেকেই একটা ধারনা জন্মেছিলো যে এই কেসে মূলে হচ্ছে চোখ। তাই সকল মনোযোগ আমার চোখ কেন্দ্রিক ছিলো। প্রথম সন্দেহ হয়, যখন ফজরের নামাজ সময় অযু করতে ঢুকি। সেখানে মাহফুজ সাহেবও অযু করতে ঢুকেন। আমাদের চোখের তরলের পিএইচ হচ্ছে ৬.৫ কিন্তু সাধারণত সাপ্লাই পানির পিএইচ হচ্ছে ৬.৫ থেকে ৮.৫ পর্যন্ত, বেশিভাগ সময় এটা হয় ৭.৫। এই কারণে সারারাত ঘুমিয়ে উঠে আমরা যখন চোখে পানি দেই, তখন চোখ হালকা জ্বালা করে, কিছুটা লালচে হয়ে যায়। কিন্তু ঐদিন অযু করে তার চোখে চোখ পড়তেই দেখি খুব স্বাভাবিক দৃষ্টি। তারমানে এটা সাধারণ মানুষের চোখ না, এখানে একটা গণ্ডগোল আছে। তখনই প্রথম সন্দেহ দানা বাঁধে”।

তাকে বাধা দিয়ে সুমিতা বলে, “ব্যাপারটা এমন হতে পারে না যে, বছরের পর বছর ধরে একই পানি চোখে দিচ্ছে - ফলে তার চোখ এতে সয়ে গেছে?

- “এই চিন্তাটা প্রথমে এসেছিলো, পরে তা বাতিল করে দিয়েছি। প্রথম কয়েকদিন চোখ জ্বালাপোড়া করলে তারপর থেকে অযু করার সময় আপনাতেই চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসবে; চোখের ভেতর আর পানি ঢুকবে না। এটাই আমাদের সাইকোলজি। কিন্তু সেদিন তার চোখের ভেতর পানি দেখেছি, চোখের পাতায় বিন্দু বিন্দু পানি জমা ছিলো”।

ওকে, পণ্ডিত সাহেব বুঝতে পেরেছি। এখন দয়া করে হাতের পাইপটা সরাবেন? তুই হঠাৎ পাইপ টানা শুরু করলি কেন?

- “এমনি, একটু গোয়েন্দা গোয়েন্দা ভাব আনার জন্যে”, বলেই হাতের পাইপটি টেবিলের উপর বারকয়েক ঠুকে নেয়, ভাবখানা যেন তামাক পরিষ্কার করছে। “সে যাক, ঐদিন রাতে বাসায় ফিরে সারাদিনের রেকর্ড করা নামাজের সূরা তেলাওয়াত শুনেছি। দাড়া, এখন তোদের শোনাচ্ছি, বলে কম্পিউটারে একটি অডিও ফাইল চালু করে অরুপ। এটা হচ্ছে মাগরিবের সময়, এটা এশার সময় আর এটা পরদিনের ফজরের সময়, তিনটাই সূরা ফাতিহার তেলাওয়াত। এখানে কোনও অসামজস্য দেখতে পাচ্ছিস? আরেক বার শুন।
বার কয়েক শুনার পর সুমিতা ঘাড় নেড়ে বলে, “নাহ তো; আমি তো কোনও সমস্যা ধরতে পারছি না”

- মাইকের দিকে তাকায় অরুপ, আপনি কি কিছু ধরেতে পেরেছেন?

“নাহ”, মুখ বাকিয়ে বলে মাইক।

- “আসলে এখানে কোনও সমস্যা নেই, একদম পার্ফেক্ট তেলাওয়াত। এটাই সমস্যা। দেখেন প্রতিটি একদম সেকেন্ডের কাটা মেনে শেষ হয়েছে, হুবহু একই রকম। তারমানে এটা তাৎক্ষণিক তেলাওয়াত না, এটা রেকর্ডিং করা। কোনও মানুষের পক্ষে পরপর তিনবার হুবহু একই রকমের তেলাওয়াত করা সম্ভব না”, পাইপে দীর্ঘ একটা টান দিয়ে মুখ উঁচু করে বাতাসে কাল্পনিক ধোয়া ছাড়ে অরুপ।

- “তারপরের ক্লু হলো, রেটিনা ম্যাপ। এটা সবারটাই মিলে গেছে আলবেরুনী সেম্পলের সাথে, মাহফুজেরটাও মিলেছে। তবে সবারটা কিছু কিছু ডেভিয়েট করেছে, কিন্তু মাহফুজেরটা একদম পার্ফেক্ট ম্যাচ। এটা সম্ভব না। আমরা চোখ ডলাডলি করি, চুলকাই, চোখ আঘাত পেলে ছোট বড় হয়, কিন্তু প্যাটার্ন একই রকম থাকে। এটা সম্ভব তখনই যখন আসল মাহফুজের আগের রেটিনা স্ক্যান করে তা এই রবোটের চোখে বসানো হয়, এটা আর কোনোদিন বিন্দু মাত্র পরিবর্তন হবে না। বেশি পার্ফেক্ট আসলে ঠিক না, এটা তারা ভুল করেছে”।

“হুম, কিন্তু এর পেছনে যে সিআইএ আছে সেটা কি করে বুঝলেন?”, প্রশ্ন করে মাইক।

- “মসজিদে যাওয়া আসা শুরুর পর থেকে আমাকে অনুসরণ করতে থাকে তারা। তখন জানতাম না তাদের প্রকৃত পরিচয়। তারপর যখন সুমিতাকে চোখের সব তথ্য আমাকে মেইল করতে বলি, তখন মেইলটা দশ মিনিট পরে আসে। এমনটা হওয়ার কথা না, একই সার্ভারে দুটি মেইল সেকেন্ডের আগেই চলে আসার কথা। তারমানে শুধু রাস্তায় অনুসরণ না, আমার ইমেইলও তারা মনিটর করছিলো। এটা সরকারের উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়া কারও করতে পারার কথা না”।

চমকে উঠে মাইক বলে “এই কারণেই কি আমাকে আপনি মেইল করেছিলেন”?

- “জ্বি, আমি আপনাকে প্রায় এক হাজার শব্দের একটা ফাইল পাঠিয়েছিলাম। এতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিলো না। আমাদের কোন কিছু পড়ার গড় গতিবেগ মিনিটে দুইশ বিশ থেকে আড়াইশ শব্দ। তাই আমার ঐ ফাইল যে খুলে পড়বে তার চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগবে। আমি ঘড়ি ধরে ছিলাম, ঠিক সাড়ে চার মিনিট পর আপনি মেইলটি পান। আমার সন্দেহ তখন সত্যি প্রমানিত হয়।

“বুঝতে পেরেছি, কিন্তু সিআইএ এই কাজটি কেন করল?”, কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠে বলে মাইক। আনমনে বাঁ চোখ বন্ধ করে একটি আঙুল বুলিয়ে নেয়। চোখ নিয়ে এত আলোচনা করতে করতে বাঁ চোখটা একটু যেন চুলকে উঠে তার।

- “এটার অনেক এপ্লিকেশন আছে, যদি সব মসজিদে এই রবোটিক ঈমাম সেট করে দিতে পারে তবে মুসলিম বিশ্বের অনেক কিছুই তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে”।

এবার মুখ খুলে সুমিতা, “বুঝতে পেরেছি। কিন্তু শেষে এসে তারা এমন পালাল কেন”? তার কপালের উপর কিছু চুল এসে পড়েছিলো সেগুলোকে কায়দা করে সরিয়ে দেয়।

- “মাইক যখন মাহফুজকে জেরা করছিল আমি সম্পূর্ণ অংশটি রেকর্ড করে রেখেছিলাম। তার আগে তোকে ইমেইল করে সব জানিয়ে দেই। আসলে এটা ছিলো সিআইএর জন্যে একটা ট্র্যাপ। তারা আমার ইমেইল পেয়ে তড়িঘড়ি করে স্ট্রাইক টিম পাঠায়। তারা এখানে পৌঁছার কয়েক মিনিট আগে আমি সম্পূর্ণ রেকর্ডিং টি অনলাইনে পাবলিশ করে দেই, মুহূর্তেই এটি সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। আর সাথেসাথে লাইভ স্ট্রিমিং চালু করে দেই। দুনিয়ার অনেক মানুষ লাইভ দেখতে থাকে সিআইএ এর অপারেশন। লাইভ স্ট্রিমিং এর বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা মিশন রিট্রিট করে, কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে”।

“কিন্তু আমি তো কোনও ইমেইল পাইনি?” চিন্তিত কণ্ঠে সুমিতা বলে।

- “পাবি কী করে? সেটাকে তো মাঝপথেই নাই করে দেওয়া হয়েছে”।

“তোর কি এতো বড় ঝুঁকি নেওয়ার দরকার ছিলো? যেই মুহূর্তে বুঝতে পারলি মাহফুজই খুনী রবোট, তখন মাইককে সব জানিয়ে দিলেই তো হতো?”, কণ্ঠে তার অকৃত্রিম উদ্বেগ।

- “সেক্ষেত্রে হয়তো রবোটটিকে আটক করতো কিন্তু সিআইএ পুরো বিষয়টি অস্বীকার করত আর বাইরে থেকে চাপ দিয়ে সম্পূর্ণ ব্যাপারটিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করে দিত। এখন সারা পৃথিবীর লোকজন জানে, সব দেশের সরকার এই প্রজেক্টের বিষয়ে জেনে গেছে, তারা সতর্ক হবে”, পাইপটি হাত বদল করে মুচকি হেসে বলে অরুপ।

“তবে কি সিআইএ খুন দুটির ব্যাপারে জানত”? চোখে অকৃত্রিম বিস্ময় সুমিতার।

- “প্রথমে হয়তো বুঝতে পারেনি, তবে দ্বিতীয় খুনটি হওয়ার পর তাদের টনক নড়ে। বুঝতে পারে কোথাও একটা গণ্ডগোল হয়েছে। আর রবোটটিকে এখানে সেট করার পর শুরু থেকেই একজন এজেন্টকেও রেখেছিলো সবসময় নজরদারী করার জন্যে। কিন্তু রবোটটির মাঝে যে এতোটা আত্মসচেতনতার বিকাশ ঘটবে তা তারা কল্পনাও করতে পারেনি”।

মাইক একটু নড়েচড়ে বসে, “এইখানে আমার একটা প্রশ্ন আছে। এটা কী করে হলো”?

- “ঐযে, তারা রবোটিক্সের সূত্রগুলোর ক্রম শুধু বদলিয়ে দিয়েছিলো। তৃতীয় সূত্রটিকে প্রথমে নিয়ে এসেছে। এর ফলে আত্মরক্ষাই হয়ে উঠেছিলো তার প্রাথমিক প্রবৃত্তি, যা মানুষের ক্ষেত্রেও সত্যি।

“আমার মনে হয় সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি, এখন রিপোর্ট কীভাবে করবো সেটা ভেবে দেখতে হবে। আমি তাহলে এবার উঠি”। মাইক চলে যেতে উদ্যত হয়। উঠে দুজনে হাত মিলায়। “আপনাকে অনেক ধন্যবাদ অরুপ। আপনার সাহায্য না পেলে এই কেস সমাধান করতে অনেক সময় ও উদ্যম ব্যয় করতে হত”।

সুমিতা আসন থেকে উঠতে উঠেতে বেশ নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে,

দেহ আজ্ঞা, দেবযানী, দেবলোকে দাস
করিবে প্রয়াণ। আজি গুরুগৃহবাস
সমাপ্ত আমার। আশীর্বাদ করো মোরে
যে বিদ্যা শিখিনু তাহা চিরদিন ধরে
অন্তরে জাজ্বল্য থাকে উজ্জ্বল রতন,
সুমেরুশিখরশিরে সূর্যের মতন,
অক্ষয়কিরণ।


- হো হো করে হেসে উঠে অরুপ, ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেছিস তো! আমাকে কিনা শেষ পর্যন্ত দেবযানী বানিয়ে দিলি আর তুই নিজে হয়ে গেলি কচ্‌!

কবিতাটা আগে শুনেছিস?

- মনটা উদাস হয়ে যায় অরুপের। হু, এটা পতত্রীর খুব প্রিয় একটা কবিতা। সুযোগ পেলেই আমার উপর ঝেড়ে দেয়। আমি না কী কচের মতোই পাষাণ হৃদয়!

মন্তব্য ২০ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৪৬

সনেট কবি বলেছেন: কিছুটা পড়লাম।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩৯

শান্তির দেবদূত বলেছেন: ধন্যবাদ, কবি। শুভকামনা রইল।

২| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৫৩

রাজীব নুর বলেছেন: শুধু বলতে গেলেই যতো সংকোচ! অথচ আমার কিছু কথা ছিলো!

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: সংকোচের কোন কারণ নেই, আপনি নির্দ্বিধায় প্রাসঙ্গিক কথা বলতে পারে। শুভকামনা রইল।

৩| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:০৯

অপু তানভীর বলেছেন: এই সিরিজটা চালু থাকুক । সপ্তাহে না হোক মাসে অন্তত একটা অরুপ আসুক !

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ অপু। সপ্তাহে তো সম্ভব না, তবে মাসে একটা চলতে পারে। শুভকামনা রইল।

৪| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩৭

ঢাকার লোক বলেছেন: বিদায় অভিশাপ কবিতাটি পড়লেই যেমন আমার ভালো লাগে আপনার গল্পটিও পড়ে তেমনি ভালো লাগলো ! বেশ লিখেছেন, আরো লিখুন ! অনন্তর শুভকামনা !!

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:৪৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক। হ্যাঁ, এই কবিতাট আমারও খুব পছন্দের একটি কবিতা, একসময় কতো পড়েছি! শুভকামনা রইল।

৫| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫৪

ঢাকার লোক বলেছেন: আচ্ছা, আমার একটা প্রশ্ন, একটা যান্ত্রিক রোবটকে কি ভবিষ্যতে এতটা মানুষের আকৃতি ও গুণাবলী দেয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় যে তা দিয়ে একটা রক্ত মাংসের মানুষকে রিপ্লেস করা যাবে, এবং সাধারণ চোখে তাকে ধরা যাবে না ?

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:৫৮

শান্তির দেবদূত বলেছেন: আমার ব্যক্তিগত ধারণা, না। মানুষের পক্ষে এমন যান্ত্রিক রবোট বানানো সম্ভব না, যা মানুষের সমপর্যায়ের হবে। মানুষের চেয়ে আরও অনেকগুণ বেশি বুদ্ধিমান কোনও শ্রেণীর পক্ষে সম্ভব হতে পারে।

এরপক্ষে আমার কিছু যুক্তি আছে। মানুষের ব্রেন হচ্ছে পার্ফেক্ট প্রসেসর (যদি কম্পিউটারের সাথে তুলনা করি)। তাই আমাদের পক্ষে একটি পার্ফেক্ট কৃত্বিম ব্রেন তৈরি করা সম্ভবা না, যেমটি আমরা আলোর বেগের চেয়ে দ্রুতগতিতে চলতে পারবো না, যেমন পরম তাপমাত্রায় পৌছুতে পারবো না।

অনেক শুভকামনা রইল, প্রিয় পাঠক, আপনার মন্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ভালো থাকুন, সবসময়।

৬| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪৫

কাছের-মানুষ বলেছেন: গল্পটি আগেই দেখেছিলাম, আজ সময় নিয়ে পড়লাম।

চমৎকার। গল্পটিতে গতি এবং সাসপেন্স আছে। ঘটনা প্রবাহ কোন দিকে যাচ্ছে আন্দাল করা যাচ্ছিল না প্রথমে, শেষের দিকে সব সূত্র মিলে গেছে। অরুপ চরিত্রটা ভালভাবে দাড় করিয়েছেন, এই সিরিজটি চালিয়ে যান।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৩

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক। ইচ্ছা আছে অরুপকে নিয়ে আরও কয়েকটি গল্প পোষ্ট করার। শুভকামনা রইল।

৭| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০৭

দি ফ্লাইং ডাচম্যান বলেছেন: আমি ছেলেটা যে আগের থেকেই জিনিয়াস, তা কেউ বিশ্বাস করলো না! সবাইকে ধরে ধরে এই গল্প পড়াতে হবে :-B

চমৎকার ক্লাইম্যাক্স, একইরকম বিল্ড আপ! দারুণ একটা সাইফাই মুভি বানানো পসিবল, কসম! নেটফ্লিক্স এর সাথে কথা বলে দেখেন প্রডিউস করে নাকি B-)

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৩

শান্তির দেবদূত বলেছেন: ঠিকই বলছ, অরুপ ছেলেটা জিনিয়াস আছে। :)
মুভি? বল কী! নেটফ্লিক্স? খাইছে! লজ্জাই পড়ে গেলাম। :)
শুভকামনা রইল।

৮| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:২০

দি ফ্লাইং ডাচম্যান বলেছেন: সত্যি ভাইয়া! নেটফ্লিক্স কিন্তু ওদের নিজেদের প্রডাকশনে বেশ সাইফাই নিয়ে কাজ করছে। আর এটা তো একের ভেতর দুই। B-)

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:১০

শান্তির দেবদূত বলেছেন: B-) B-) B-)

৯| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৫৪

ইউসুফ হাওলাদার শাওন বলেছেন: বেশ লিখেছেন

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১:০৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক। শুভকামনা রইল।

১০| ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৩৪

কাওসার_সিদ্দিকী বলেছেন: চলুন কোনও রেসটুরেন্ট এ বসা যাক।

২০ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৬

শান্তির দেবদূত বলেছেন: :) দেশে আসলে ইনশাআল্লাহ, বসা যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.