নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সুখে আছি, সুখে আছি সখা, আপন মনে।

সখা, নয়নে শুধু জানাবে প্রেম, নীরবে দিবে প্রাণ, রচিয়া ললিতমধুর বাণী আড়ালে গাবে গান। গোপনে তুলিয়া কুসুম গাঁথিয়া রেখে যাবে মালাগাছি। এই ব্লগের©শান্তির দেবদূত।

শান্তির দেবদূত

নিজের কথা কি আর বলবো ...... নিজে সুখী মানুষ, পৃথিবীর সবাই সুখী হওক এই কামনা করি...... কয়লার মধ্যে কালো খুঁজি না, হীরা খুঁজে বেড়াই .......

শান্তির দেবদূত › বিস্তারিত পোস্টঃ

(কল্প গল্প) --- কালের অনিশ্চয়তা - (৩/৩ পর্ব)

২০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:৩৯


পূর্ববর্তী পর্বের লিংক --
(কল্প গল্প) --- কালের অনিশ্চয়তা - (১/৩ পর্ব)
(কল্প গল্প) --- কালের অনিশ্চয়তা - (২/৩ পর্ব)

অধ্যায় ছয়
স্থান: অজানা; সময়: ২৪ই ফেব্রুয়ারী ২১৯১


সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় চলছে একটি সভা। বর্তমান পৃথিবীর সেরা ধনী ও প্রভাবশালী বিশজন মানুষ উপস্থিত এই সভায়। সকলেই পাস্ট ট্রাভেল এজেন্সির হর্তাকর্তা। বর্তমান বিশ্বে তাদের প্রভাব এতোই বেশি যে অনেক রাষ্ট্রের অর্থনীতি-পররাষ্ট্রনীতি এদের দ্বারা প্রভাবিত, কখনও কখনও নিয়ন্ত্রিত হয়। তারা এখানে মিলিত হয়েছে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলে সিদ্ধান্তকে প্রতিহত করা।

“আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ীত হলে আমাদের এতোদিনের সকল শ্রম সম্পদ স্রেফ হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে” উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন উপস্থিত একজন মেম্বার।

“হুম, আমি জেনেছি তারা একশ বছর অতীতে গিয়ে সময় সমীকরণের জনক মহান গণিতবীদ জামিল চৌধুরীকে এই সমাধান না প্রকাশ করার অনুরোধ করবে। যদিও তাদের আশ্বাস দিয়েছি যে আমরা সময় ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখবো, তবুও তারা ভরসা করতে পারছে না। দুই তিন লক্ষ বছর পরে দুনিয়ার কোন এক বিপর্যয়ের আশংকায় আমাদের এখন হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে হবে? এটা পাগলামি ছাড়া কিছু না। আরে, এর আগেই তো কতো বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে! যে করেই হোক তাদের এই প্রজেক্টকে প্রতিহত করতে হবে।”
সভায় সকলে একমত হয় নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে হলে ঠেকাতে হবে এই প্রজেক্ট।

সভার চেয়ারপার্সন মৃদ হেসে বলেন, “আমরা কিন্তু এক দিকে দিয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছি। কয়েক কোটি বছর অতীতে যখন

তাদের সময় ভ্রমণ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে তখন যদি সেটি কেউ ধ্বংস করে দেয় সেক্ষেত্রে আইনি কোনও পদক্ষেপের কোনও ভয় নেই। কারণ যখন কোনও মানুষই পৃথিবীতে ছিলো না সেই সময়ে সংঘটিত অপরাধের আবার বিচার কি করে হবে? যাই হোক, পরবর্তি সভায় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।”

আজকের মতো সভা এখানেই শেষ হয়।

অধ্যায় সাত
স্থান: : মেক্সিকোর সিজুলুব শহর; সময়: ২৩ই সেপ্টেম্বর ২১৯২


এলেক্সকে ‘প্রজেক্ট, টাইম সালভেশন’এ গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়। বিশ্বের নামকরা গণিতবীদ ও পদার্থবিজ্ঞনীদের সাথে তাকে কাজ করতে হচ্ছে প্রতিদিন। প্রচুর খাটুনি যাচ্ছে, দিনের শুরুই হয় প্রজেক্ট মিটিং দিয়ে আর শেষ হয় পরেরদিনের কর্মপরিকল্পনা করে। আজ গুরূত্বপূর্ণ মিটিং, প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয় দুই জন যাবে অতীত ও অতীত থেকে ভবিষ্যতে। যেহেতু জামিল চৌধুরীর নাগাল পাওয়ার জন্যে হাসপাতালে যেতে হবে তাই একজন ডাক্তার যাবে। বেশ সতর্কতার সাথে অনেক প্রার্থির ভেতর থেকে একজন তরুনীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। তার সাথে আরেকজন কে যাবে সেই ব্যাপারে আজ সিদ্ধান্ত হবে।

কাউকে আগবাড়িয়ে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে এলেক্স বলে, “দেখুন, আমি এই সমস্যার কারণ উদ্‌ঘাটন করেছি; আমি জামিল’স মিস্ট্রির সমাধান করেছি। আমার চেয়ে যোগ্য আর কে হতে পারে এই মিশনে যাওয়ার? সবচেয়ে বড় বিষয়, মহামতি জামিল চৌধুরীর সাথে বাদানুবাদ করতে গেলে তার যোগ্য একজনকেই পাঠানো উচিত! তাই না?” শেষ এসে আবেগের বসে তার গলার স্বর কিছুটা উচ্চ হয়ে যায়।

প্রজেক্টের ডাইরেক্টর হেসে বলেন, “মিস্টার এলেক্স, আপনি উত্তেজিত হবেন না। আমরা তো আপনাকেই প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করে রেখেছি! আপনি রাজি না হলে তখন বিকল্প খুঁজতে হতো!”

কিছুটা বিব্রত বোধ করে এলেক্স, “ধ্যাৎ! আগ বাড়িয়ে কি দরকার ছিল এভাবে বলার?” নিজের উপরই রাগ হচ্ছে তার, কথা ঘুরানোর জন্যে বলে, “স্যরি, আমি বুঝতে পারিনি। আমি অবশ্যই যাব। আচ্ছা, একটা প্রশ্ন ছিলো।”

“কি প্রশ্ন?”

“যদি, মহামতি জামিল চৌধুরীর পরে অন্য কেউ নতুন করে আবার সময় সমীকরণের সমাধান করে? সেক্ষেত্রে কেবল তাঁকে ঠেকিয়ে কি আদৌ কোনও সুফল পাওয়া যাবে?”

কিছুটা সময় চিন্তা করে প্রজেক্ট ডিরেক্টর বলেন, “আমাদের এই ঝুকিটা নিতে হবে। তবে মহামতি জামিল চৌধুরীর বিষয়টা একটু অস্বাভবিক। জন্মের সময়ই তাঁর বাঁ হ্যানিস্ফিয়ারের উপর একটি টিউমার ধরা পরে। মানব মস্তিষ্কের এই অংশটি গণিত ও যুক্তিবিদ্যার উৎস হিসেবে কাজ করে। সময়ের সাথে ধীরে ধীরে টিউমারটি বড় হতে থাকে, একসময় এটি তাঁর মস্তিষ্কের হ্যানিস্ফিয়ারের বর্ধিত অংশ হিসাবে সংযুক্ত হয়ে যায়। ছোট বেলা থেকেই তার গণিতের অসাধারণ মেধার কারণ হিসাবে অনেকে এই টিউমারকেই দায়ী করেন। সহজ কথায়, জন্ম থেকেই তিঁনি সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষমতা সম্পন্ন গাণিতিক মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মান। এই বিশেষ সক্ষমতাই গণিতে তার সাফ্যল্যের পাশাপাশি অল্প বয়সে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনটি হাজার কোটিতে একবার হয়তো ঘটতে পারে। তাই, মনে হয় না তারপরে আর কেউ সময় সমীকরণের সমাধান করতে পারবে।”

দ্রুতগতিতেই কাজ এগিয়ে চলছে। প্রতিদিনই কিছু কিছু যন্ত্রাংশ, মেশিন সাড়ে ছয় কোটি বছর অতীতে পাঠানো হচ্ছে। বিশাল আকৃতির ইরিডিয়ামের মেশিনপাতি। ল্যাবের দেয়াল, চেয়ার-টেবিল, সুপার কম্পিউটার, ফিউশন জ্বালানি থেকে শুরু করে সকল কিছুই ইরিডিয়ামের তৈরি। এই ‘প্রজেক্ট, টাইম সালভেশন’ ম্যাক্সিকোর সিজুলুব শহরের সমুদ্র উপকূলে বসানো হচ্ছে। এখানে বসানোর কারণ, জামিল চৌধুরী এই শহরের হাসপাতালেই জীবনে শেষ দিনটি কাটিয়ে ছিলেন। পরিকল্পনা মাফিক অতীতের সেই সময়ে যখন ভবিষ্যতের টাইম পোর্টাল খুলা হবে তার ভেতর দিয়ে তারা দুজন ঢুকে পড়বে। কি অদ্ভুত ব্যাপার! স্থানের বিন্দু মাত্র পরিবর্তন ঘটবে না! তাদের অবস্থান তখন হবে ঠিক হাসপাতালের করিডোরের এক কোনায়। যে জায়গাটিতে কোনও ক্যামেরা বা কোনও নজরদারী নেই। ফাইল ঘেটে, হাসপাতালের নকশার সাথে মিলিয়ে সেই জায়গাটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যে সময়ে ল্যাবরেটরি বসানো হচ্ছে অতীতের সেই সময়ে পৃথিবীর বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলো বিরাট আকারের বিকট দর্শন সব ডাইনোসর। তাই খুব সতর্কতার সাথে কাজ করতে হচ্ছে সবাইকে। রাডার সিস্টেম বসাতে হয়েছে যাতে আচমকা ঘাড়ের উপর কোনও দানব এসে হামলে না পড়ে। আর যদি এসেই পড়ে সেটাকে ভড়কে দেওয়ার জন্যেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর সাতদিন মোটে হাতে আছে এই সময়ের সবকিছুকে বিদায় জানিয়ে চিরতরে সময়ের অতলে হারিয়ে যাবে এলেক্স।

ভাগ্যে কি আছে এখনও ঠিকমত ঠাহর করতে পারছে না। “ঘুরে পথে দুজনে প্রায় একশ বছর অতীতে পৌছালাম, গিয়ে জামিল চৌধুরীকে সময় সমীকরণ সমাধানে বাধা দিলাম, তখন আমাদের অবস্থা কি হবে? সময় সমীকরণের সমাধান না হলে এই টাইম ট্রাভেল মেশিনের আবিষ্কার হবে না, সেক্ষেত্রে আমরা কি করে ঐ সময়ে উপস্থিত হলাম? ঘুরপথে হলেও পরোক্ষভাবে গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্সের সূচনা হচ্ছে। কি হবে আমাদের অস্তিত্বের? হতে পারে জামিল চৌধুরীর মৃত্যুর সাথে সাথে আমাদের দুজনের অস্তিত্ব শূন্যে মিলিয়ে যাবে। অথবা আমরা ঠিকই থাকবো, কিন্তু মহাবিশ্বের প্রান্ত থেকে কেবল দুজনের ভরের দ্বিগুণ পরিমান ভর হারিয়ে যাবে। খুব বেশি হলে সেই সময়ের এলেক্স ওয়েভের প্রভাবের কারণে কয়েকটি নক্ষত্র পরিমান ভর মহাশূন্যের প্রান্ত থেকে হারিয়ে যাবে।” এমনি উদ্ভট সব চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে এলেক্স।

দুঃশ্চিন্তা ভুলে সময় সমীকরণগুলো নিয়ে বসে সে, প্রতিদিনই এগুলো দেখছে আর নতুন অনেক কিছু শিখছে। “মহান গণিতজ্ঞ জামিল চৌধুরীর মুখোমুখি হতে হলে গাধার মতো আচরন করলে হবে না।” ভাবে সে মনে মনে। “অবশ্য যতোই চর্চা করি না কেন, তাঁর তুলনায় আমি একেবারে গরু-গাধা না হলেও গণিতে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতোই হবো। ভাবা যায়! সময় সমীকরণের পুরোটা তিঁনি মনে মনে সমাধান করেছেন! ধুর! আবার অপ্রাসঙ্গিক চিন্তা এসে ভর করছে;” জোরে মাথা নাড়িয়ে সব ঝেড়ে ফেলে আবার স্ক্রিনের দিকে মনোযোগ দেয় এলেক্স।

এলেক্স ওয়েভ ফাংশনটির ভিন্ন ভিন্ন রূপ একেএকে দেখছে। মনটা হঠাৎ কিঞ্চিত বিষন্ন হয়ে উঠে তার, “সময় সমীকরণ থাকবে না, আমার এই ‘এলেক্স অয়েভ ফাংশন থাকবে না! আমি থাকবো না?” হঠাৎ একটা চিন্তা তার মাথায় আসে, “আচ্ছা যদি মিশন ঠিকমত সমাধা হয়, ঠিকঠিক একশ বার বছর অতীতে পৌছাই, তাহলে আমি হয়তো সেই সময়েই স্থায়ী হয়ে যাব। সেখান থেকে কি বর্তমান আমার সাথে যোগাযোগের কোনও উপায় আছে? আমি কি অতীত থেকে কোনও বার্তা এই সময়ে পাঠাবো?” স্থির হয়ে কিছুক্ষণ ভাবে সে, প্যাটা-হাইপার-মেইল প্রায় দেড়শ বছর ধরে সার্ভিস দিচ্ছে, অতীতের সেই সময়েও এই কোম্পানীর কার্যক্রম ছিল। “আমি কি অতীত থেকে তাদের সার্ভারে একটা সিডিউল মেইল সেটাপ করে রাখতাম, যাতে এই সময়ে সয়ংক্রিয়ভাবে ইমেইলটি ডেলিভারি হয়?” ভাবনাটা মাথায় আসতেই দ্রুত হাতে ইমেইল চেক করে সে, নাহ কোনও ইমেইল আসেনি। আপন মনেই হেসে উঠে, মনে হচ্ছে অস্থির আচরণ করছে কিছুটা।

“আচ্ছা্‌ প্রায় একশ বছরের অতীতের রেকর্ড ঘেটে ‘এলেক্স নেলসন মুলার’ নামের যতজনকে পাওয়া যায় তাদের ছবি কি মিলিয়ে দেখব?” মনে হতেই হাইপার নেটে সার্চ দেয়, টাইম ফ্রেম ২০৭৬ থেকে ২১৪০। দুই হাজার একশ বাইশ জনের লিষ্ট বের করে দেয় কম্পিউটার, একে একে মিলিয়ে দেখছে তাদের ছবি সহ পরিচয়। কয়েক ঘণ্টা সময় নষ্ট। “ধ্যাৎ! আমি নিশ্চয় অতীতে পৌছে ‘এলেক্স নেলসন মুলার’ নামে পরিচিত হব না। নিশ্চয় ছদ্মনাম নিব। উফ! এভাবে সময় কাটালে পাগল হয়ে যাব। বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি।” বাইরে যাওয়া কথা ভাবতেই ঝিমঝিম ভাবট কিছু কমে এসেছে, ঘর থেকে বের হেয় করিডরে দাঁড়ায় সে। ঠান্ডা মৃদু বাতাস বইছে, কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। হঠাৎ পেছনে কে যেন এসে দাঁড়ায়।

- “কি খবর, মিস্টার এলেক্স?” রিনিরিনে একটা কণ্ঠ! কানে যেতেই অদ্ভুত এক শিহরন জেগে উঠে মনে প্রাণে। কাঁধ নেড়ে ‘তেমন কিছু না’ বুঝিয়ে দিতেই মৃদু হেসে মেয়েটি ডান হাত বাড়িয়ে দেয় হ্যান্ডস্যাকের উদ্দেশ্যে।

এলেক্সের সময় ভ্রমণের সফর সঙ্গী, ডাঃ লিনিয়া। বয়সে তার চেয়ে বছর দুই এক বড়ই হবে, প্রায় পঁচিশ; কিন্তু দেখলে মনে হয় সদ্য কলেজ পাশ করে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্যে অপেক্ষা করছে স্বর্ণকেশী এই তরুণী। হাতটা চেপে ধরতেই সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠে যেন তার; সাধারণ মেয়েদের তুলনায় হাতটা কিছুটা রুক্ষ, চেহারায় কঠোর একটা ভাব আছে, যদিও মনে হচ্ছে চোখ দুটো সদাহাস্যজ্জল। এমন কঠোরে কোমলে মিশেল; স্বর্গ-সুন্দরী স্বর্ণকেশী যুবতীর সান্নিধ্য তার বয়সের যে কোনও যুবকের বুকে ঝড় তোলার জন্যে যঠেষ্ট। প্রথমেই যে চিন্তাটি এলেক্সের মাথায় আসে, ‘মেয়েটি কি জানে এই ভ্রমণ হয়তো একমুখি? হয়তো মৃত্যুও হতে পারে? মৃত্যুর চেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার, অস্তিত্বহীন হয়ে পড়তে পারে আমাদের আমিত্ব?’ কিন্তু মুখে কোনও কথা ফুটছে না তার, একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেছি যেন। এই মেয়েটির আশেপাশে আসলে তার এমনটি হয়। নাকের অগ্রভাগে বিন্দুবিন্দু ঘাম জমছে, বুকে যেন বজ্রপাত হচ্ছে ক্রমাতগ একের পর এক বিরতিহীন।

- এলেক্সকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যেই লিনিয়া বলে, “আর মোটে চব্বিশ ঘণ্টা আছে ‘প্রজেক্ট, টাইম সালভেশন’ এর যাত্রাশুরুর, তাই দেখা করতে এলাম। এই তো কিছুক্ষণ আগে ক্লিয়ারেন্স পেয়েছি; কি কারণে এতো গোপনীয়তা তা অবশ্য বুঝতে পারছি না। যাই হোক, আমাকেই প্রজেক্ট লিডারের দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার কাজ হচ্ছে যে করেই হোক তোমাকে ৪র্থ মে ২০৭৪ এ পৌছে দেয়া। তারপর পেছন পেছন আমিও উপস্থিত হবো সেই সময়ে, ব্যাকআপ হিসাবে। কি মুখ এমন ভাঁড় করে রেখেছ কেন? কোনও সমস্যা? ভয় লাগছে না কি?”

“বাপরে! করিডরে দাঁড়িয়েই নিজের কর্তৃত্ব জাহির করে ফেলেছে! আর বলে কি এই মেয়ে? আমাকে জিজ্ঞেস করছে ভয় পাচ্ছি কি না?” মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দেয় তার কোনও সমস্যা নেই। মুখে বলে, “আমার কাজ জামিল চৌধুরীকে বুঝিয়ে সময় সমীকরণের সমাধানের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা। আমি আপাতত অন্য কিছু ভাবতে চাচ্ছি না।”

“ঠিক আছে, আবার দেখা হবে”, বলেই ঘুরে চলে যায়; পেছনে হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে থাকে এলেক্স। মেয়েটিকে দেখলেই কেমন যেন বুকের ভেতর চিনচিন অনুভূতি হয়। আর তার আচরণ দেখলে মনে হয় যেন কত বছরের পরিচয় তাদের!

যাত্রা শুরুর এক ঘণ্টা আগে প্রজেক্ট ডাইরেক্টরের রুমে ডাক পড়ে লিনিয়ার। ডাইরেক্টরের পাশে বসে থাকা জেনারেল জর্জ ব্যালিজ টানা কিছু নির্দেশনা দিয়ে শেষে মৃদু কিন্তু স্পষ্ট কণ্ঠে বলেন, “ক্যাপ্টেন লিনিয়া, আবারও বলছি এক্ষেত্রে বিন্দু মাত্র দ্বিধা করা চলবে না। ক্লিয়ার? তোমার আর কোনও প্রশ্ন আছে কি?”

সিনা টানটান করে দাঁড়িয়ে আছে সিক্রেট সার্ভিসে ক্যাপ্টেন, ডাঃ লিনিয়া মিলোকোসভা। চোখেমুখে কঠোর ভাব ফুটিয়ে বলে, “বুঝতে পেরেছি স্যার। অল ক্লিয়ার।”

অধ্যায় আট
স্থান: অজানা; সময়: ০৬ই আগষ্ট ২১৯২


চলছে পাস্ট ট্রাভেল এজেন্সির গোপন সভা। চেয়ারম্যান বলেন, “তারা কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে। আমাদের অবশ্য তেমন কোনও কষ্ট করতে হবে না। আমাদের বিজনেস সিকিউরিটি রিসার্স টিম একটি পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে। সে বিষয়ে আপনাদের সামনে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরবে রিসার্চ টিমের দলনেতা।”

দাঁড়িয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দলনেতা তার বক্তব্য শুরু করে। “চেয়ারম্যান স্যার যেমনটি বলেছেন আমরা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছি। তাদের মতো অতীতে আমাদের কোনও ল্যাবরেটরি বসাতে হবে না। সময় মতো শুধু টাইম পোর্টাল খুলে সেই সময়ে আমাদের স্ট্রাইক টিম উপস্থিত হয়ে একটি মিসাইল ছুড়ে তাদের ল্যাবরেটরি সহ সবকিছু গুড়িয়ে দেবে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। এক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে গোপনীয় ও নিরাপদ কেন্দ্র স্পেনের টেনেরিফ দ্বীপ থেকে ছুড়া মিসাইলটিকে প্রায় নয় হাজার কিলোমিটার দূরের একটি লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত করা। দুটি কারণে এটি প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালাস্টিক মিসাইল গ্লোবাল পজিশনিং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে লক্ষবস্তুতে আঘাত করে। কিন্তু সাড়ে ছয় কোটি বছর আগের পৃথিবীর অর্বিটে তো কোনও স্যাটেলাইট নেই। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, বর্তমানে টেনেরিফ থেকে সিজুলুব এর পয়েন্ট টু পয়েন্ট দূরত্ব হচ্ছে নয় হাজার দুইশ একুশ কিলোমিটার। কিন্তু সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে এই দূরত্ব কত সেটি অজানা। প্লাস মাইনাস দশ কিলোমিটার হতে পারে। সেক্ষেত্রে ঠিকঠিক ঐ ল্যাবে আঘাত করা প্রায় অসম্ভব। এই কারণে আমরা পরিকল্পনা করেছি, ব্যালাস্টিক মিসাইলের সাথে একটি থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়রহেড যুক্ত করে দেব। সেক্ষেত্রে বিশ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় জীবিত কোনও কিছু থাকবে না। আর সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে একটি পারমানবিক বিষ্ফোরণের জন্যে আমাদের কোনও দায়ও থাকবে না।” ধূর্ত একটি হাসি ছড়িয়ে পড়ে তার সারা মুখজুড়ে।

অধ্যায় নয়
স্থান: : মেক্সিকোর সিজুলুব উপকূল; সময়: সাড়ে ছয় কোটি বছর অতীত


তীব্র একটা ঝাকুনি অনুভূত হয় সমগ্র দেহ জুড়ে। সম্ভবত এলেক্স অয়েভের কারণে এমন অদ্ভুত অনুভূতি হয়। পোর্টালের অপর পার্শ্বে পৌছুতেই শরীরের প্রতিটি অনুপরমানু যেন কি একটি ছন্দে আন্দোলিত হতে থাকে। পাক্কা দশ মিনিট লেগেছে এলেক্সের সুস্থির হতে। লম্বা দম নিয়ে পাশে তাকিয়ে দেখে আরও আগেই স্বাভাবিক অবস্থায় চলে এসেছে লিনিয়া। মেয়েটি শারীরিকভাবে অনেক শক্ত সমর্থ। তার দিকে হা করে তাকিয়ে থেকে শরীর থেকে স্পেক্টা-টাইম-স্যুট খুলতে খুলতে জিজ্ঞেস করে, “প্রথম ভ্রমণ?”

লজ্জা পেয়ে যায় এলেক্স, অহমে লাগছে তার। মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দেয়, “হ্যাঁ।” গায়ে তখনও জড়ানো স্পেক্টা-টাইম-স্যুট; অভিজ্ঞতা না থাকলে এটি নিজের নিজে পড়া ও খুলা বেশ কষ্টকর। লিনিয়া দ্রুত নিজেরটা খুলে এলেক্সেরটা খুলতে সাহায্য করে। প্রায় পনের কেজি ওজনের স্পেক্টা-টাইম-স্যুটে বার ঘণ্টার মতো ইমার্জেন্সি লাইফ সাপোর্টের যাবতীয় ব্যবস্থা থাকে। এই স্যুটের কারণে এলেক্স ওয়েভের ধাক্কাটা কম লাগে। “ওহ! গড! এটাই যদি কম হয়, তাহলে স্যুট ছাড়া পোর্টালে ঢুকলে কেমন লাগবে?” ভাবতেই গা শিউরে উঠে তার।

ধীরে সুস্থে ল্যাবের সবকিছু পরীক্ষা করে দেখে দুজনে মিলে। দুইজনের হাতেই একটি করে কোয়ান্টোটোমিটার। টাইম পোর্টাল অতিক্রমের সময় এলেক্স ওয়েভের মাত্রা পরিমাপ করে এই কোয়ান্টোটোমিটার সময়ের হিসাব সেকেন্ডের ঘরে জানিয়ে দেয়। দুজনেই হাতের কোয়ান্টোটোমিটার রিসেট করে নেয় শুরুতে। এখন একে একে চারটি ফিউশন রিএক্টর ইঞ্জিন চালু করতে হবে। তারপর সুপার কম্পিউটারের মাধ্যমে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে টাইম পোর্টাল খুলতে হবে। দ্রুত কাজে হাত লাগায় এলেক্স, একেকটি ফিউশন রিএক্টর ইঞ্জিন চালু করছে আর কম্পিউটারের ডাটা এনালাইসিস করছে। সবকিছু ঠিকমতন সেটাপ ও কার্যক্ষম করতে প্রায় দশ ঘণ্টা সময় পার হয়ে যায়। আর দুই ঘণ্টা পর সময় নিয়ন্ত্রণের ফিউশন রিএক্টর ইঞ্জিন চালু করলেই কম্পিউটার ঠিকঠিক ৪র্থ মে ২০৭৪ সালে এনে স্থির করবে টাইম পোর্টাল। একটু বিশ্রামের জন্যে থামে এলেক্স। লিনিয়ার ভেতর বিন্দু পরিমান ক্লান্তির ছাপ নেই। মেয়েটি কোন ধাতুতে গড়া?

চেয়ারে বসে ঝিমুচ্ছে এলেক্স, হঠাৎ চিৎকার করে উঠে লিনিয়া; তন্দ্রাভাব ছুটে যায় তার। দ্রুত হাতে কম্পিউটারে কিছু ইনপুট দেয়। রাডারে কিছু একটা ধরা পড়েছে, চোখ বড় বড় করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে লিনিয়া! “সমস্যা।” দ্রুত পদক্ষেপে স্পেক্টা-টাইম-স্যুটের দিকে এগিয়ে যায়। এলেক্সেরটা তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে “জলদি পড়ে নাও।”

“কি হয়েছে?” বিষ্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করে সে।

“রাডারে একটি ব্যালাস্টিক মিসাইল ধরা পড়েছে, আমাদের এই দিকেই এগিয়ে আসছে। সময় আছে মাত্র পনের মিনিট চল্লিশ সেকেন্ড। আমাদের এক্ষণি পোর্টাল খুলতে হবে।”

জায়গায় স্থির হয়ে গিয়েছে যেন সে, পা মাটিতে গেথে গেছে মনে হচ্ছে, কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে বলে, “কি? মিসাইল? মিসাইল এখানে কোথা থেকে আসবে?”

“পাস্ট ট্রাভেল এজেন্সি এমন কিছু একটা করতে পারে আগে থেকেই কিছুটা অনুমান করতে পেরেছিলাম। কিন্তু এই মিসাইল নির্ভুলভাবে আমাদের অবস্থানে আঘাত করতে পারার কথা না। যদি না! ওহ মাই গড, মাই গড!” এই প্রথম মেয়েটিকে ভয় পেতে দেখে এলেক্স। মুখমন্ডল পুরো ফ্যাকাসে হয়ে গেছে মুহূর্তেই।

“কি হয়েছে? যদি না কি?”

“তারা নিউক্লিয়ার পে-লোড যুক্ত মিসাইল ছুড়েছে!”

দ্রুত স্পেক্টা-টাইম-স্যুট পড়ে নেয় সে লিনিয়ার সহযোগীতায়। “আর ছয় মিনিট” চিৎকার করে বলে লিনিয়া। লাফিয়ে সময় নিয়ন্ত্রণের ফিউশন রিএক্টর ইঞ্জিনের দিকে এগিয়ে যায় এলেক্স। চালু করে কম্পিউটারের সাথে সংযোগ দিয়ে লিনিয়ার পাশে চলে আসে দ্রুত। লিনিয়া চিৎকার করে বলে “তিন মিনিট।” ধীরে ধীরে রিএক্টরের এনার্জি নিয়ন্ত্রণ করে সময় বাড়িয়ে যাচ্ছে লিনিয়া। মূলত এই কাজটি এলেক্সের করার কথা; অথচ এত দক্ষ হাতে মেয়েটি এটি করছে যেন সে ডাক্তার নয়, অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার; সারাজীবন রিএক্টরের এনার্জি নিয়ন্ত্রণের কাজ করে এসেছে।

টাইম পোর্টাল খুলে গিয়ে ৪র্থ মে ২০৭৪ তে এস স্থির হয়েছে। এলেক্সের দিকে করুন চোখে তাকিয়ে লিনিয়া বলে “আর এক মিনিট একুশ সেকেন্ড।”

আশ্চর্যরকমের ধীরস্থির ভাব চলে এসেছে এলেক্সের মধ্যে; বলে “এক মিনিট অনেক সময়।” চারদিকে একবার চোখ বুলিয়ে লিনিয়ার হাত ধরে বলে, “চল এবার যাওয়া যাক।”

স্ক্রিনের দিকে চোখ বুলিয়ে লিনিয়া আস্ফুট আওয়াজ করে বলে উঠে, “ওহ নো! নো! গড নো!”

আর সময় নষ্ট না করে লিনিয়ার হাত ধরে টান দিয়ে পোর্টাল লক্ষ করে তড়িৎ ঝাপ দেয় এলেক্স। সারা শরীর দুলছে যেন প্রচণ্ডভাবে। কতকাল ধরে মনে হচ্ছে একটি অন্ধকার টানেলের ভেতর কাঁপতে কাঁপতে এগুচ্ছে। অদ্ভুত সেই অনুভূতি। এক সময় পর্দার মতো পোর্টালের ঐপারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে তারা, একসাথে। কিন্তু একি! এ কোথায় এসে পড়েছে তারা?

কোনও বাড়িঘর তো চোখে পড়ছে না! কোথায় হাসপাতালের করিডোর, কোথায় জনবসতি? ভয়ংকর গতিতে ঝড়ো হাওয়া বইছে, তাপমাত্রা ছিয়াত্তর ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, বাতাসে অক্সিজেনের পরিমান শূন্য; তার বদলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেনের আধিক্য। ধূলো বালি ছাই আর কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে আছে পুরো বায়ুমন্ডল। কাদার মতো প্যাঁচ প্যাঁচে মাটি, ইষৎ উষ্ণ। লিনিয়া একটি পাথরের উপর স্থির বসে আছে।

“লিনিয়া? লিনিয়া? তুমি ঠিক আছে?” তার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে ভয়ংকর কিছু একটা ঘটে গেছে! হঠাৎ মনে পড়তেই হাতের উপর সেট করা কোয়ান্টোটোমিটারে চোখ বুলায়। বিদ্যুৎ খেলে যায় যেন মেরুদন্ডের ভেতর দিয়ে। স্যুটের ভেতরই ঘেমে উঠে সে। “সাড়ে চার বিলিয়ন বছর! মাই গড! ও মাই গড! মাত্র সাড়ে ছয় কোটি বছর ভবিষ্যত অতিক্রাম করে সাড়ে চার বিলিয়ন বছর ভবিষ্যতে চলে এসেছি?” ভাবে এলেক্স। “কিন্তু ততদিনে তো পৃথিবী অস্থিত্বহীন হয়ে পড়ার কথা? ভুল দেখছি না তো?” ডান হাত দিয়ে কোয়ান্টোটোমিটারের গ্লাসটি একটু মুছে পরিষ্কার করে নিয়ে ভালো মত নজর বুলায়। “ওহ! নো! গড! সাড়ে চার বিলিয়ন অতীতে চলে এসেছি! কিন্তু এমনতো হওয়ার কথা না! কি ভুল হলো?” ভয়ানক দুঃশ্চিন্তা চেপে ধরে এলেক্সকে।

লিনিয়ার পাশে বসতে বসতে বলে, “সময় দেখেছ?”

“মাথা নেড়ে সায় দেয়”, কথা বলতে ভুলে গেছে যেন।

“কিভাবে কি হলো? ঠিক মতন সময় সেট করনি? না কি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ভুল সময় সেট করেছ?”, প্রশ্নটি করেই নিজের ভুল বুঝতে পারে এলেক্স। কোনও ভাবেই সাড়ে চার বিলিয়ন বছর অতীতে যাওয়া সম্ভব না, এর জন্যে যে পরিমান শক্তিকে টাইম বিম দিয়ে পাস করতে হবে সেটি এক বিন্দুতে ফোকাস করা সম্ভব নয়। যদিনা একটি মহাদেশ ধ্বংস করার মতো পারমানবিক বোমার শক্তি নিষ্ক্রান্ত হয়।

“সময় ঠিকই সেট করেছিলাম। কিন্তু আমরা যখন পোর্টালের ভেতর ঢুকি তখন ব্যালাস্টিক মিসাইলটি ছিল ত্রিশ সেকেন্ড দূরে। কিন্তু তুমি যখন আমার হাত ধরে টান দিলে ঠিক তার আগে আমি রাডারের স্ক্রিনে দেখছিলাম প্রায় তের কিলোমিটার দূরে এক ঝাক ক্যাটসোকায়ার্লাসের সাথে মিসাইলটির সংঘর্ষ হয়। তারমানে তখনই সেটি বিষ্ফোরিত হয়। আর সেখান থেকে এটমিক রেডিয়েশন ওয়েভ ত্রিশ সেকেন্ডে না, বলতে গেলে তাৎক্ষণিক আমাদের এখানে এসে আঘাত করে। সাথেসাথে আমাদের ল্যাবের চারটি ফিউশন রিএক্টর সাথে ব্যাকআপ জ্বালানিসহ কয়েক টন ইরেডিয়াম একযোগে বিষ্ফোরিত হয়। আমার ধারনা আমাদের ল্যাব যেখানে সেটাপ করা হয়েছিলো তার আশেপাশে প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামের বড় মজুদ ছিলো। সবমিলিয়ে যে মিলিয়ন মিলিয়ন মেগাটন শক্তি সমাবেশ ঘটেছে তার ফলে টাইম পোর্টাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঠিক আগে এই কল্পনাতীত অতীতে আমাদের ছুড়ে দিয়েছে।” ভয়ে চোখমুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে মেয়েটির।

সাড়ে চার বিলিয়ন বছর! পৃথিবীতে তখনও প্রাণের আবির্ভাব ঘটেনি। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই এলেক্স বলে, “একটা বিষয় খেয়াল করেছ, বড় বড় কয়েকটি ঘটনা কিভাবে মিলে গেল? বিষয়টি কাকতালিয় হলেও হতে পারে।” লিনিয়ার জবাবের অপেক্ষা না করে বলে যায় এলেক্স, “সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে ম্যাক্সিকোর সিজুলুব উপকূলে বিশাল আকৃতির গ্রহাণুর পতনে সমগ্র পৃথিবীর ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তাই না?”

চমকে উঠে লিনিয়া। মাথা নেড়ে বলে, “তারমানে গ্রহাণুর আঘাতে নয়! আমাদের কারণে এই পারমানবিক বিষ্ফোরণ, আর এর ফলেই ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া! ওহ! মাই গড! আসলেই তো! তুমি জান, ডাইনোসরের ফসিলের সাথে ঐ এলাকায় প্রচুর ইরিডিয়ামের অস্থিত্ব পাওয়া গিয়েছিলো? এর থেকে গবেষকরা ধরে নিয়েছিল গ্রহানুর আঘাতেই দুনিয়া থেকে হারিয়ে গেছে ডাইনোস। আর আমাদের ল্যাবের সব কিছু এই ইরিডিয়ামের তৈরি। ওহ! গড!” হঠাৎ ভীতসন্ত্রস্ত কণ্ঠে প্রায় ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে লিনিয়া, “বর্তমান পৃথিবীর কি অবস্থা?”

চমকে উঠে এলেক্স, এতক্ষণ এই ব্যাপারটা ভুলেই গিয়েছিল। পকেট থেকে কম্পিউটারটি বের করে দ্রুত কিছু হিসেব করে সে। হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসতে চায় তার! আমতা আমতা করে বলে, “যে পরিমান এলেক্স ওয়েভের তৈরি হয়েছে আমাদের দুজনের এই সময়ে আসাতে সেই হিসাবে বর্তমান সময় থেকে দশ কি বার বছরের ভেতর সৌরজগত শূন্যে মিলিয়ে যাবে। বুক ফেটে কান্না আসছে পৃথিবীবাসির দুর্দশার কথা ভেবে, তাদের বাঁচাতে গিয়ে উল্টা ধ্বংস গতি ত্বরান্বিত করলাম, ডেকে আনলাম মহাবিপর্যয়!” ভাবে সে। “আর কতক্ষণ সময় আছে আমাদের হাতে?”

“আমার দশ ঘণ্টার এগারো মিনিটের মতো অক্সিজেন বাকি আছে, তোমার কতটুকু?”

স্যুট পরীক্ষা করে এলেক্স বলে, “নয় ঘণ্টা পঞ্চাশ মিনিট। যাক বাঁচা গেল।”

“মানে?” চোখ কুচকে জিজ্ঞেস করে লিনিয়া।

“মানে, তোমার বিশ মিনিট আগে আমি মারা যাচ্ছি, জীবনের শেষ সময়টুকু আমাকে নিঃসঙ্গ কাটাতে হবে না।”

হৃদয়বিদারক ব্যাপারটা উপেক্ষা করে চুপ করে আছে লিনিয়া। গভীরভাবে কিছু একটা ভাবছে। এলেক্সও কোনও কথা না পেয়ে চুপচাপ বসে থাকে। অপেক্ষা করছে নিশ্চিত মৃত্যুর। আচমকা লিনিয়া বলে, “মৃত্যুর আগে তোমাকে একটা সত্যি বলে যাই, মিশনের ব্যাপারে তুমি অংশিক সত্য জান। আমি ডাক্তার তবে সিক্রেট সার্ভিসের। আমার প্রাথমিক দায়িত্ব ছিলো তোমাকে ৪র্থ মে ২০৭৪ এ পৌছে দেওয়া পাশাপাশি জামিল চৌধুরীর সাথে যে করেই হোক সাক্ষাতের ব্যাবস্থা করে দেওয়া। তুমি তাঁকে বুঝাতে ব্যর্থ হলে আমার দায়িত্ব ছিলো তাকে হত্যা করা। সেটি সম্ভব না হলে প্রফেসর ইগর ভাসিলেভকে হত্যা করা।” বলতে বলতে মাথা নিচু হয়ে যায় লিনিয়ার।

অবাক হয়ে তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে এলেক্স; মেয়েটার জন্যে খারাপ লাগছে তার, বেচারী! যে হত্যা সে করেনি তার জন্যে অনুতাপে ভুগছে। “এখন আর এসব চিন্তা করে লাভ কি বলো? যা হবার তা তো হয়েই গেছে। চোখ বন্ধ করে একবার ভাব, সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগের পৃথিবীতে আমি আর তুমি, শুধু দুজন মানুষ! কোনও প্রাণী নেই। আর কোনও জীবনের স্পন্দন নেই; নেই কোনও প্রাণ, কোনও গাছ, কোনও শৈবাল; সত্যি বলতে এই সময়ে কিছুই নেই, ভাবতে পার?”

চমকে উঠে এলেক্সের দিকে তাকায় সে। কিছু একটা ঝিলিক দিয়ে উঠে তার চোখে তারায়! আকাশের দিকে তাকিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে যায় লিনিয়া। বাতাসের বেগ আরও বেড়েছে, কিছু একটা ধরে দাঁড়াতে পারলে সুবিধা হতো। বেশ দ্রুত সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে, ঘণ্টা দেড়েক আগেও সূর্য ঠিক মাথার উপর ছিল; আকাশের দিকে তাকিয়ে বিষ্ময়াভুত হয়ে যায় এলেক্স! এটা কি চাঁদ? মনে হচ্ছে মাথার উপর এসে পড়েছে একেবারে! এত কাছে আর এত বড়!

কিছু একটা মনের ভেতর খচখচ করছে, পাশেই একটি বড় পাথরের আড়ালে দাঁড়িয়ে মনেমনে হিসাব কষতে থাকে এলেক্স। গ্যান্ডফাদার প্যারাডক্সকে এখনও অতিক্রম করতে পারেনি তারা, টাইম লাইন বদলানও সম্ভব হয়নি মানুষের পক্ষে। সময়ের গতিপথ বদলে দেওয়ার নিমিত্যে তারা একশ বছর অতীতে যেতেই পারেনি! প্রকৃতি নিজ হাতে এটিকে রক্ষা করছে। “আচ্ছা, আমাদের উদ্ধারের জন্যে কি ভবিষ্যত পৃথিবী থেকে কোনও দল আবার আসবে?” ভাবনাটা মাথায় খেলে যেতেই আশপাশ হেঁটে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে এলেক্স; যদি অন্য কোনও দল টাইম পোর্টাল খুলে তবে এর আশেপাশেই হবে সেটির অবস্থান। লিনিয়া এখনও গভীর চিন্তায় মগ্ন, মাঝেমাঝে হালকা উষ্ণ পানিতে আনমনে হাত বুলাচ্ছে। “মানসিকভাবে খুব বেশি ধাক্কা খেয়েছে কি? কিছুটা অপ্রকৃতস্থ আচরণ করেনা সে?” ভাবনাটা উকি দেয় তার মনে।

পাঁচ ঘণ্টার মতো সময় পার হয়ে গেছে, এখনও কোনও উদ্ধারকারী দল এসে পৌছায়নি। ভোরের আলো ফুটছে সন্তপর্ণে অপরদিকে দ্রুত ফুরিয়ে আসছে অক্সিজেন! হঠাৎ মুখ তুলে লিনিয়া বলে, “তুমি এমন দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছ কেন?”

“পরীক্ষা করছি যদি, কোনও উদ্ধারকারী দল এসে উপস্থিত হয়!”

“এখানে এসে বস”, বলেই হাতের ইঙ্গিতে তার পাশে বসার আহ্বান করে লিনিয়া। বসতেই এলেক্সের হাতের উপর হাত রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। এতো কাছ থেকে কাঁচের পেছনে তার মুখে প্রতিটি রেখা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। প্রচণ্ড এক দুঃখভাব ফুটে উঠেছে সেখানে। মৃদু কণ্ঠে বলে, “আসবে না, এলেক্স! কোন সাহায্য আসবে না। এখানে, এই সময়েই আমাদের মৃত্যু হবে। এতক্ষণ ভেবে ভেবে জীবনের নিগূঢ় রহস্যের সমাধান করেছি, এটাই সেই রহস্যের চাবিকাঠি” চোখের বাঁধ ভেঙে গেছে, অঝরে বয়ে চলছে জলের ধারা।

কি অদ্ভুত সুন্দর লাগছে তার সেই কান্না! নারীর দেবীরূপ প্রকাশিত হয় যখন সে অকৃত্বিম আবেগে চোখের জল ঝরায়। খুব ইচ্ছা করছে তার গালে হাত বুলিয়ে সেই আবেগধারাকে ছুঁয়ে দেখতে!

পরিশিষ্ট

সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগের পৃথিবী; লক্ষ লক্ষ বছর ধরে অবিউজেনেসিস প্রক্রিয়া চলছে পৃথিবীর সমুদ্রের পানিতে, জীবনের আদিগর্ভ। মৌলিক কনাগুলো দানা বাঁধছে আর তৈরি করছে জীবনের চারটি মৌলিক উপাদান লিপিড, কার্বহাইড্রেট, এমিনো এসিড ও নিউক্লিক এসিড। তৈরি হচ্ছে আর ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু জীবনের শুরু কেন যেন হচ্ছে না। কি যেন নেই! কিসের অভাবে শুরু হতে পারছে না জীবন নামের মহান বিশুদ্ধতম কিছুর অস্তিত্ব?

“আমাদের একজোড়া প্রাণ পৃথিবীতে জীবনের শুরুর বীজ হিসাবে কাজ করবে! এখানেই মৃত্যু হবে আমাদের। তারপর প্রাণ বায়ু, রুহ, সোল, আত্মা এটিকে যাই বলো না কেন; তা এই মৌলিক জড় উপাদানের ভেতর সঞ্চারিত করবে প্রথম স্পন্দন, প্রথম প্রাণ, প্রথম জীবন! বিজ্ঞানীদের কাছে এটাই ছিলো সবচেয়ে বড় ধাঁধা, প্রথম আত্মার শুরু, আমি এখন জানি কিভাবে হয়েছে সেই শুরু।” করুন চোখে এলেক্সের দিকে তাকিয়ে থাকে লিনিয়া।

অক্সিজেন প্রায় ফুরিয়ে এসেছে, দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, যৌক্তিক চিন্তা করার সামর্থ্যের উপর তার প্রভাব পড়ছে। ঠায় পাথরের উপর বসে আছে অপরূপ সুন্দর মেয়েটি, ঠিক পেছনে উদিত হচ্ছে ভোরের সূর্য। স্পেক্টা-টাইম-স্যুটের কাঁচের উপর দিয়েই তার চোখে মুখে গালে হাত বুলিয়ে দেয় এলেক্স। “জীবনের শেষ কয়েকটি ঘণ্টা এতো আনন্দে কাটবে স্বপ্নেও কি ভেবেছিলাম? পরিপূর্ণ এক জীবন কাটিয়েছি, পূর্ণ করেছি জীবনের আদি-অন্ত চক্র। ধ্বংসের ভেতর বাজিয়েছি প্রাণের নতুন ছন্দ। তৃপ্ত। অতি সুখের ভেতর দিয়ে বরণ করছি মৃত্যুকে।” মনে মনে ভাবে এলেক্স। লিনিয়ার কোলে মাথা রেখে ফিসফিস করে বলে, “আর মোটে এক মিনিট আছে অক্সিজেন। মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেবে?”

ক্লিক করে একটি বাটন টিপতেই ক্যাচ আওয়াজ করে খুলে যায় কাঁচের আবরণটি। লিনিয়া মোজা খুলে এলেক্সের মাথায় হাত বুলাতে থাকে, ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে তার। মাথার উপর ঝুকে আছে লিনিয়া, হঠাৎ গালের উপর কয়েক ফোটা অশ্রু ঝরে পড়ে। “লিনিয়া তুমি আমার জন্যে কাঁদছ? কি করে সুধিব এই ঋণ, জীবনের এই শেষ সময়ে?” ভেতরে হাহাকার করে উঠে এলেক্সের। আর খোলা রাখতে পারছে না চোখ, বন্ধ হয়ে আসছে চিরতরে; আবছা ভাবে দেখতে পায় লিনিয়ার একটি হাত ধীরে ধীরে মাস্কের বাটনের দিকে এগিয়ে যায়। ক্যাচ করে খুলে যায় তার কাচের আবরনটি। কি সুন্দর, কি সুন্দর!

----------------- সমাপ্ত ------------------

টিকা:
টিকা:
1. হাইপা – (কাল্পনীক) – ভবিষ্যতের কমিউনিকেটর ডিভাইস। পকেট কম্পিউটার, মোবাইল, স্মার্ট ডিভাইস সবকিছু একটার ভেতর
2. সাবস্পেস সিগনালিং – (কাল্পনীক) – স্থানকে বাকিয়ে দূরবর্তি দুটি বিন্দুকে কাছে এনে তার ভেতর দিয়ে দ্রুতগতিতে সিগনাল আদান প্রদানের পদ্ধতি।
3. মহাবিশ্বের ভর – বর্তমান হিসাব মতে মহাবিশ্বের ভর প্রায় 1.0

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:৪৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: টিকা:
1. হাইপা – (কাল্পনীক) – ভবিষ্যতের কমিউনিকেটর ডিভাইস। পকেট কম্পিউটার, মোবাইল, স্মার্ট ডিভাইস সবকিছু একটার ভেতর
2. সাবস্পেস সিগনালিং – (কাল্পনীক) – স্থানকে বাকিয়ে দূরবর্তি দুটি বিন্দুকে কাছে এনে তার ভেতর দিয়ে দ্রুতগতিতে সিগনাল আদান প্রদানের পদ্ধতি।
3. মহাবিশ্বের ভর – বর্তমান হিসাব মতে মহাবিশ্বের ভর প্রায় 1.0

২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৪:৪৯

শান্তির দেবদূত বলেছেন: কিছু একটা ঝামেলা হচ্ছে। টিকার বাকি অংশ আসছে না। এখানে দিলাম,
3. মহাবিশ্বের ভর – বর্তমান হিসাব মতে মহাবিশ্বের ভর প্রায় 1.00*10^53 কেজি; কিন্তু আমার এই গল্পে আমি ব্যবহার করেছি 1.09*10^63 কেজি কারণ গল্পের পটভূতি আজ থেকে পায় পোনে দুইশ বছর ভবিষ্যত। তখনকার হিসাব মতে কাল্পনীক এই মান ব্যবহার করেছি।
4. প্ল্যাংক সময়ে – সম্ভাব্য সবচেয়ে ক্ষুদ্র সময়ের একক। এটার মান 5.39*10^(-44) সেকেন্ড
5. হাইপার নেট – (কাল্পনীক) – ভবিষ্যতের সুপার ফাস্ট ইন্টারনেট
6. ইরিডিয়াম – অত্যন্ত বেশি ঘনত্ব বিশিষ্ট ধাতু। ২২.৫৬ গ্রাম/সিসি
7. স্পেক্টা-টাইম-স্যুইট – (কাল্পনীক) – সময়ের পোর্টাল অতিক্রম করার সময় এই স্যুট টি পড়তে হয়। জীবন রক্ষাকারী অতিজরুরী কিছু জিনিস সেট করা আছে এতে।
8. কোয়ান্টোটোমিটার – (কাল্পনীক) – কাল্পনীক ঘড়ি। এটি টাইম পোর্টালে ঢুকার সময় যে এলেক্স ওয়েভের সৃষ্টি হয় তা পরিমাপ করে কত সময় অতীতে ভ্রমণ হয়েছে সেটির সেকেন্ডের কাটায় মেপে বের করে দেয়।
9. ক্যাটসোকায়ার্লাস – উড়ন্ত বিশাল আকৃতির ডাইনোসর।

২| ২১ শে মে, ২০১৯ রাত ১:৪৬

মা.হাসান বলেছেন: তিনটি পর্ব পড়েছি। খুব গোছানো, খুব ভালো মানের লেখা। শেষটায় চমক ছিল। খুব ভালো হয়েছে।

২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৪:৫১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। পাঠকের ভালো লাগলেই লেখা স্বার্থক। ভালো লাগলো সুন্দর করে ভালো লাগা জানানোর জন্যে। অনেক শুভকামনা রইল।

৩| ২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: বুঝতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
আর একটু সহজ করে কি লেখা যায়?

২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ২:৩৮

শান্তির দেবদূত বলেছেন: আসলেই একটু জটিল হয়ে গেছে, খুব বেশি পরিমানের সাইন্স নিয়ে এসেছি এই গল্প। চেষ্টা করবো এটাকে আরেকটু জল ঢেলে হালকা করতে। ধন্যবাদ, কষ্ট করে পড়ার জন্যে। শুভকামনা।

৪| ২১ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৭

কাছের-মানুষ বলেছেন: গতকাল রাতেই পড়েছি তৃতীয় পর্ব।

ইন্ডিংটা আমার ভালো লেগেছে, সাইন্স ফিকশান সাথে মিথ তৈরি হয়েছে।

পাষ্ট ট্রাভেল এজন্সির তৎপরতা গল্পে উত্তেজনা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আবার লিনিয়া এবং এলেক্সের সম্পর্ক এবং শেষ পরিণতি গল্পে মানবিক আবেধন তৈরি করেছে। আপনার আরো কয়েকটি গল্পে এই রকম দেখেছি, যেমন 'কৃত্রিম মা ও অকৃত্রিম মাতৃপ্রকৃতি' এবং একটি উপন্যাসে শেষে মানবিক ব্যাপার তুলে ধরেছেন। এই জিনিষটা আমার ভালো লেগেছে।

উপরের কমেন্টের উত্তরে বলেছেন, একটু জটিল হয়ে গেছে, আমার তেমন মনে হয়নি। তবে সাইন্স ফিকশান যারা নিয়মিত না পড়ে তাদের কথা মাথায় রেখেও লিখুন। সাইন্স ফিকশান আমাদের দেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, এবং এর পাঠক সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন। আপনার মত এরকম লেখক দরকার।

২১ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৩

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ প্রিয় কাছের মানুষ। আপনার মন্তব্যের অনুপ্রেরণা সবসময়ই উপভোগ করি।

ঠিকই বলেছেন, আমার গল্পে প্রায় সময়ই মানবিক বেগ আবেগ একটু বেশি থাকে। আমি নিজেও একটু বেশি আবেগি মানুষ কি না, তাই হয়তো লেখাতেও সেটার ছাপ পড়ে। আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগছে।

জটিলতা কিছুটা আছেই, হাইজেনবার্গের থিউরি, কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের কিছু বিষয়, এক ইলেক্ট্রণের মহাবিশ্ব, এইগুলো আসলে সাইন্সের ছাত্র (অন্তত ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত) না হলে পুরাটা আত্বস্থ করা একটু জটিলই বটে। আমি নিজেই তো এখনো স্রোডিঞ্জার ইকুয়েশন বুঝি না, (ছাত্র থাকা অবস্থায় ঝাড়া মুখস্ত করেছিলাম) ডি-ব্রগলি ওয়েভ ফাংশনের কিছুই বুঝি নাই। সেই বুঝা-না-বুঝার দোলাচলেই এখন কল্প-গল্প লিখে যাচ্ছি। যথার্থই বলেছেন, চেষ্টা করতে হবে সবার বুঝার মতো করে লিখতে।
আবারও অনেক ধন্যবাদ, মূল্যবাদ মন্তব্যের জন্য। শুভকামনা রইল।

৫| ২১ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:৪২

চাঁদগাজী বলেছেন:


আমি 'কল্প গল্প'এর পাঠক ছিলাম না কোনদিন; এগুলোকে আমাদের জীবনের কাছাকাছি আনা যায় না?

২২ শে মে, ২০১৯ রাত ২:১২

শান্তির দেবদূত বলেছেন: গল্প ভালো লাগা, না লাগা একেবারেই ব্যক্তিস্বাধীনতা, রুচি, পরিবেশ ইত্যাদির উপর গড়ে উঠে। আমার সাইন্স ফিকশন ভালো লাগে আবার জীবনের গল্পও ভালো লাগে। সে কারণে আমার লেখা সাইন্স ফিকশনে সাইন্সের পাশাপাশি জীবনের কথা, সংগ্রামের কথা, বিপ্লবের কথাও উঠে আসে। হরর টাইপ সাহিত্য আমাকে একদমই টানে না, সেই কারণে আমার লেখা সাইন্স ফিকশন হয়তো কখনও হররের সাথে মার্জ করবে না। এটা একান্তই নিজস্ব ব্যাপার।

ইদানিং কিন্তু আমাদের দেশেও সাইন্স ফিকশন ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয় একটি ধারা হিসাবে পাকাপোক্ত হয়ে বেড়ে উঠছে। মজার কথা হচ্ছে, আজ যেটাকে কল্পগল্প মনে হচ্ছে, হয়তো কয়েকশ বছর পর এটিকেই জীবনের গল্প বলে মনে হবে। ভালো থাকুন, শুভকামনা রইল।

৬| ২১ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:৪২

অপু তানভীর বলেছেন: আপনার মা কে নিয়ে লেখা সায়েন্স ফিকশনটা ছিল আমার জীবনে পড়া সেরা সায়েন্স ফিকশন । এটাও ঠিক তেমনই একটা গল্প । গল্পের শেষ টুইস্ট টা আমি যখন প্রথমবার পড়ি সত্যিই সত্যিই এতো চমকে গিয়েছিলাম বলার মত না । বারবার মনে মনে এই রকম চিন্তা কেবল আপনার পক্ষেই সম্ভব !

২২ শে মে, ২০১৯ রাত ২:১৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: তুমি সবসময়ই আমার লেখার ভূয়সী প্রশংসা কর। তোমার মতামতও, সমালোচনা অনেক গঠনমূলক হয় বিধায় আমার অনেক উপকার হয়। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা। শুভকামনা রইল।

৭| ২৬ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৮

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছিলো .....


আপনাকে পটু লেখক বলতেই হবে !

শেষের টুইস্টটা দারুণ লাগলো। শুভকামনা অশেষ :)

২৭ শে মে, ২০১৯ রাত ৩:৪১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: এতো বড় লেখায় মনোযোগ ধরে রাখা কষ্টকর। ধৈর্য ধরে পড়ার জন্যে অনেক ধন্যবাদ। শুভকামনা রইল।

৮| ০৫ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৪

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন:

০৯ ই জুন, ২০১৯ রাত ১২:১৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা রইলো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.