নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কথায় নয়,কর্মে হোক পরিচয়

জাফরুল মবীন

Courtesy costs nothing but buys everything

জাফরুল মবীন › বিস্তারিত পোস্টঃ

করোনা টেস্ট ও ফলাফল নিয়ে বিভ্রান্তির কারণ ও করণীয়

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:০৩


বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।আসসালামু আলাইকুম।

সম্প্রতি ঢাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তার করোনার উপসর্গ থাকার পরও দু’ দু’বার করোনার নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা আরটি-পিসিআর (RT-PCR) টেস্ট নেগেটিভ আসা এবং পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ও মারা যাওয়ার পর টেস্ট পজিটিভ হওয়ার ঘটনায় বেশ তোলপাড় চলছে।আবার গণস্বাস্থ্য এর প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরুল্লাহ সাহেবের অংশীদারি প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক (GR-Biotech) এর প্রস্তুতকৃত ‘করোনা র্যাপিড টেস্ট কিট’ এর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে দ্বন্ধ জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এবং চরম ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।আমার মনে হয় এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্য কী বলে সেটা জানলে যেমন একদিকে বিভ্রান্তির অবসান হবে অন্যদিকে যারা টেস্ট করছেন বা কিট উৎপাদন করছেন তারাও তাদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারবেন।

একজন ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করেছে কিনা তা জানার দুটো উপায় আছে-

প্রত্যক্ষ পদ্ধতি-এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে কোন ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তা বলা যায়।ভাইরাস নির্ণয়ে এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।ভাইরাস যেহেতু একটি অ্যান্টিজেন এবং এ পদ্ধতিতে ভাইরাসকে ডিটেক্ট করা হয় তাই এধরনের পরীক্ষাকে ‘অ্যান্টিজেন টেস্ট’ও বলে।এটা দু’ভাবে করা যেতে পারে ১)আরটি-পিসিআর (RT-PCR)- যেটা আমাদের দেশে করা হচ্ছে এবং বেশ ব্যয়বহুল এবং ২)ডট-ব্লট (Dot-Blot method) পদ্ধতি-এ পদ্ধতিতে ভাইরাসটি সনাক্ত করতে ভাইরাস-সুনির্দিষ্ট অ্যান্টবডি লাগে। রোগির নমুনার (রক্ত, লালা বা অন্যকোন সংক্রমিত সোয়াব) ১ ফোঁটা একটা বিশেষায়িত ব্লটিং পেপার (মূলত নাইট্রোসেলুলোজ মেমব্রেন) এর উপর ফেলা হয়।তারপর এর উপর অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হয়।অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি বিক্রিয়া ঘটলে টেস্ট পজিটিভ (সেক্ষেত্রে ব্লটিং পেপারে রঙ্গীন বিন্দু বা ডট দেখা যায়) আর বিক্রিয়া না ঘটলে টেস্ট নেগেটিভ।অনেকটা ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়ের মত।পাঠকগণ এ কথাটি ভালভাবে মনে রাখুন কারণ গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে আলোচনায় এ তথ্যটি খুব কাজে লাগবে।উল্লেখ্য গণস্বাস্থ্যের কিট ডট-ব্লট পদ্ধতির।

পরোক্ষ পদ্ধতি-ভাইরাস শরীরে ঢুকলে এর বিরুদ্ধে দেহ অ্যান্টিবডি তৈরি করে।আর এই অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয় করে এ পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় করা হয়।এজন্য এটিকে ‘অ্যান্টিবডি টেস্ট’ও বলে।এটি সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী।যদিও বিশ্বের কোন স্বীকৃত স্বাস্থ্য সংস্থা এ পদ্ধতিতে করোনা রোগ নির্ণয়ে নির্দশনা দেয়নি যৌক্তিক কারণে।এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হবে।

এবার মূল আলোচনায় অাসা যাক।এই উভয় পদ্ধতিরই বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় না নিলে সবক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়।রোগ নির্ণয়ে এধরনের পদ্ধতির কোনটি সবচেয়ে ভালো ফলাফল দিতে পারে তা নির্ভর করে টেস্টের কতগুলো বৈশিষ্ট্য বা প্যারামিটারের উপর।আলোচনার শুরুতে এ সংশ্লিষ্ট কিছু শাস্ত্রীয় শব্দের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই-

১)সংবেদনশীলতা বা SENSITIVITY OF TEST- নিশ্চিত রোগ আছে এমন রোগিদের ক্ষেত্রে একটা টেস্ট কতজনের ক্ষেত্রে সেটা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারছে সেটাই হলো ওই টেস্টের সেনসিটিভিটি।যেমন ধরুন ১০০জন ডায়াবেটিক রোগির যাদের সুগার লেভেল নিশ্চিতভাবে হাই তাদের রক্ত পরীক্ষা করলাম জেড-স্ট্রিপ দিয়ে।টেস্টে দেখা গেল ৯০ জনের সুগার লেভেল হাই শো করেছে অথচ ১০জনের ব্লাড সুগার নরমাল শো করেছে।এক্ষেত্রে জেড-স্ট্রিপের সেনসিটিভিটি হবে ৯০%।এই যে ১০ জনের ডায়াবেটিস থাকার পরও ব্লাড সুগার নরমাল শো করল এগুলোকেই বলে ‘ফলস নেগেটিভ’ কেস অর্থাৎ রোগ আছে কিন্তু টেস্টে ধরা পড়েনি।

২)সুনির্দিষ্টতা বা SPECIFICITY OF TEST- রোগ নাই এমন রোগিদের ক্ষেত্রে একটা টেস্ট কতটা সঠিকভাবে তা নির্ণয় করতে পারছে সেটাই হলো ওই টেস্টের স্পেসিফিসিটি।যেমন ধরুন ১০০জন ডায়াবেটিস নাই এরকম রোগির রক্ত পরীক্ষা করলাম জেড-স্ট্রিপ দিয়ে।দেখা গেল ৯০ জনের সুগার লেভেল নরমালই শো করেছে অথচ ১০জনের ব্লাড সুগার হাই শো করেছে।এক্ষেত্রে জেড-স্ট্রিপের স্পেসিফিসিটি হবে ৯০%।এই যে ১০ জনের ব্লাড সুগার হাই শো করল অথচ তাদের সুগার লেভেল নরমাল এগুলোকেই বলে ‘ফলস পজিটিভ’ কেস অর্থাৎ রোগ নাই তাও টেস্ট পজিটিভ।

৩)অ্যান্টিজেন (Antigen)-যে উপাদান রক্তে প্রবেশ করলে দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা উদ্দীপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে তাকে অ্যান্টিজেন বলে যেমন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া।

৪)অ্যান্টিবডি (Antibody)-দেহে অ্যান্টিজেন প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা তথা ইমিউন সিস্টেম যে জৈব রসায়ন উৎপাদন করে তাই অ্যান্টিবডি।

একটি টেস্ট পদ্ধতি যত বেশি স্পেসিফিক ও সেনসিটিভ হবে সেটা তত নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারবে।সাধারণভাবে কোন পদ্ধতির স্পেসিফিসিটি ও সেনসিটিভিটি ৯০% বা তার বেশি হলে সেটাকে খুব ভালো পদ্ধতি বলা হয়।


করোনা সনাক্তে প্রথমে নমুনা (নাকের সোয়াব, কফ, রক্ত লালা ইত্যাদি) থেকে ভাইরাসের আরএনএ (RNA) কে আলাদা করা হয়।এর উপর ট্রান্সক্রিপটেজ (Transcriptase) এনজাইম প্রয়োগ করে মার্কার-যুক্ত ডিএনএ (DNA) তৈরি করা হয়।এই প্রক্রিয়াটিকে ‘রিভার্স ট্রান্সক্রিপসন’ (RT= Reverse Transcription) বলে এবং মার্কার যুক্ত করা হয় সৃষ্ট ডিএনএটাকে সনাক্ত করার জন্য।অল্প ডিএনএ সনাক্ত করা যায় না বিধায় এর সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য ‘পলিমারেজ’ (Polymerase) এনজাইম প্রয়োগ করা হয়। বিক্রিয়াটি ঘটানো হয় প্রথমে গরম তারপর ঠান্ডা করে (Hot & Cold method)। এভাবে অনেকগুলো চক্র চলতে থাকে যতক্ষণ না পর‌্যন্ত কয়েক বিলিয়ন ডিএনএ তৈরি না হয়।চক্রাকারে ক্রমাগত চলা এই বিক্রিয়াকে Chain Reaction (CR) বলে।এরপর এই ডিএনএ সনাক্ত করে টেস্টটি সম্পন্ন হয়।আরটি-পিসিআর টেস্টে ফলাফল পেতে অনেক সময় লাগার কারণ এই চেইন রিঅ্যাকসন।

কোন নমুনায় (অর্থাৎ রক্ত, লালা বা নাক থেকে নেওয়া সোয়াব) ভাইরাস থাকলে এ পদ্ধতিতে সেটা প্রায় ১০০% ক্ষেত্রে চিহ্নিত ও নির্ণয় করা সম্ভব।সমস্যা হলো আপনি যে জায়গা খেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন তাতে যদি ভাইরাসটি না থাকে তাহলে রোগ থাকার পরও টেস্ট নেগেটিভ আসবে।এজন্য করোনা ভাইরাস নির্ণয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুস্পষ্ট গাইডলাইন হলো প্রথমে নাকের সোয়াব (nasopharyngeal and oropharyngeal swab) থেকে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে কারণ এখান থেকে নমুনা সংগ্রহ সবচেয়ে সহজ।যদি টেস্ট নেগেটিভ আসে অথচ রোগির শরীরে করোনার উপসর্গ থাকে সেক্ষেত্রে কফ বা শ্বাসতন্ত্রের ভিতরের অংশের তরল বা Bronchoalveolar lavage সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে হবে।

আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েসনের জার্নালে (JAMA) প্রকাশিত এক স্টাডি রিপোর্টে দেখা যায় নাক থেকে নেয়া নমুনায় ৬৩% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হয়েছে আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে।অার ফুসফুসের ভিতর থেকে নেওয়া ব্রঙ্কোঅ্যালভিওলার ল্যাভেজ তরল নমুনায় ৯৩% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।আর কফের ক্ষেত্রে সেটা ৭২%। অর্থাৎ আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে রোগ থাকার পরও সব রোগির টেস্ট পজিটিভ আসে না।আরটি-পিসিআর টেস্টের সেনসিটিভিটি কম।সুতরাং নাক থেকে নমুনা নিয়ে টেস্ট করার পর নেগেটিভ আসলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে না যে তার করোনা নেই।অতএব যারা আরটি-পিসিআরকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা বলছেন তাদের এই সীমাবদ্ধতার কথাটি বিশেষভাবে স্মরণ রাখা উচিৎ।

আমাদের আরেকটি বড় ভুল হলো আমরা ধরেই নিয়েছি করোনা নাক দিয়ে ঢুকে শ্বাসতন্ত্রকেই কেবল আক্রমণ করে।কিন্তু এটি শ্বাসতন্ত্রকে বাইপাস করে ব্রেনে চলে যেতে পারে এবং সেখানে নানা উপসর্গ তৈরি করতে পারে এবং করছে।করোনা আক্রান্ত অনেক রোগিরই জ্বর-সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্ট নাই কিন্তু নাকে গন্ধ পাচ্ছেন না (Anosmia) বা শুধুমাত্র স্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে আসছেন।এমতবস্থায় ব্রেনের চারপাশে থাকা তরল সিএসএফ (CSF-Cerebro Spinal Fluid) নমুনা হিসাবে সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে হবে।তা না হলে করোনা থাকার পরও নাক থেকে নেওয়া নমুনায় ফলাফল নেগেটিভ আসবে।একই কথা প্রযোজ্য অন্ত্র বা পেটের নাড়িভূড়ির ক্ষেত্রে। করোনা রোগি শুধুমাত্র অন্ত্রের প্রদাহজনিত উপসর্গ যেমন ডায়রিয়া, বমি, পেট ব্যাথা ও জ্বর নিয়েও আসতে পারে যে সমস্যাটা এখন যুক্তরাজ্যের ডাক্তাররা মুখোমুখি হয়েছেন সে দেশের শিশুদের ক্ষেত্রে

সুতরাং রোগির উপসর্গ বিবেচনায় সঠিক স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ না করলে সেক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে ভুল হতে পারে।আর উপসর্গযুক্ত রোগির ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ আসলে অন্যন্য সহায়ক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া দরকার।আশা করি আপনারা এখন অনুধাবন করতে পারবেন সেই হতভাগ্য ব্যাংক কর্মকর্তার করোনা উপস্থিত থাকার পরও প্রথম দু দফায় কেন টেস্ট নেগেটিভ এসেছিলো।আবার করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগিদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টেস্ট নেগেটিভ আসায় এসবক্ষেত্রে টেস্টের ফলাফল ‘ফলস নেগেটিভ’ হয়েছে কি না তা নিয়ে ভাববার অবকাশ আছে।

তাছাড়া এ পদ্ধতির কিটের দাম বেশি, পিসিআর মেশিনের দামও অনেক বেশি এবং এই মেশিন চালাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন এবং এ পদ্ধতিতে ফলাফল পেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।আরেকটি বিষয় হলো বায়োসেফটি নিশ্চিত না করা গেলে টেস্টিং রুম থেকে ভয়াবহ ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে।এসব বিবেচনায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা অতি সহজ নয়।অবশ্য বিশ্বের নানা কোম্পানি মিনি টাইপের পিসিআর মেসিন তৈরি ও বাজারজাত করেছেন।এরকমই একটি মেসিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাবট ফার্মা বানিয়েছে যা সে দেশের ঔষধ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এফডিএ জরুরি অবস্থায় ব্যবহারের জন্য সাময়িক অনুমতি দিয়েছে।মেসিনটির নাম ID NOW for COVID-19।এটার ওজন মাত্র ৬.৬ পাউন্ড এবং যে কোন জায়গায় খুব সহজে বহন করে নিয়ে যাওয়া যায়।এটির পরিচালনাও খুব সহজ।এটি ৫মিনিটে পজিটিভ রেজাল্ট দিতে পারে এবং ১৩মিনিটে নেগেটিভ রেজাল্ট দিতে পারে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই মেসিনটির প্রসংশা করেছেন।আমাদের দেশে পিসিআর মেসিনের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় এটি ব্যবহার করা যায় কিনা তা ভাবার অবকাশ আছে।



এ পদ্ধতির টেস্টের বেশ কিছু সুবিধা আছে যেগুলো আলোচনার শুরুতে বলে নেওয়া ভালো-

১)যেহেতু এটা রক্তে করোনার অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয় করে এবং ভাইরাস শরীরের যেখান দিয়ে ঢুকে যেখানেই সংক্রমণ করুক না কেন রক্তে অ্যান্টিবডি পাওয়া যায় তাই এ পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় সহজ।আরটি-পিসিআর পদ্ধতির মত সংক্রমণের সুনির্দিষ্ট স্থান থেকে নমুনা না সংগ্রহ করলে যে নেগেটিভ ফল আসে তা এক্ষেত্রে হবে না।

২)এটা মাত্র ১৫মিনিটের ফলাফল দিতে পারে।আর তার জন্য নমুনা হিসাবে ১ফোঁটা রক্তই যথেষ্ট।

৩)এটা খুবই সস্তা।মাত্র ২৫০-৩০০টাকায় একজনের টেস্ট করা যায়।

৪)টেস্ট ডিভাইসটির ব্যবহার করা খুব সহজ এবং খুব সহজেই একজনকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব।

৫)অল্প সময়ে লক্ষ লক্ষ কিট উৎপাদন সম্ভব এবং তার দ্বারা ব্যাপকহারে টেস্ট করা সম্ভব।

র্যাপিড টেস্টের উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনা করলে চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় করোনা নির্ণয়ে এর চেয়ে ভাল পদ্ধতি আর কিছুই হতে পারে না।হ্যাঁ চীন একথা বলেই র্যাপিড টেস্টের কিটের ব্যবসা করেছে এবং গোটা দুনিয়াকে ধরা খাইয়েছে।কিন্তু এখানে রয়েছে শুভংঙ্কের বিরাট ফাঁকি।আসুন ফাঁকগুলো বোঝার চেষ্টা করি-

১)করোনা ভাইরাস শরীরে ঢোকার সাথে সাথেই দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না (তৈরি হলে তো আর রোগই হতো না)।সাধারণভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ৩-৫দিন সময় লাগতে পারে।কিন্তু করোনা রোগিরা এমনকি মৃদু উপসর্গের কিংবা উপসর্গবিহীন রোগিরাও করোনা নেগেটিভ হতে বেশ সময় নিচ্ছে।এর অর্থ পরিমাণমত অ্যান্টিবডি তৈরি হতে বেশ সময় লাগছে।এমতবস্থায় করোনা ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়া পর‌্যন্ত যে সময়টা লাগে (সেটা ৩দিন/৫দিন/৭দিন কিংবা তারচেয়েও বেশি যাই হোক না কেন) সেসময় এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করলে টেস্ট নেগেটিভ আসবে।অথচ আরটি-পিসিআর মেশিনে ভাইরাস শরীরে ঢোকার সাথে সাথেই তা নির্ণয় করা সম্ভব হতে পারে।

২)রোগ মুক্তির পর অনেকের শরীরেই অনির্দিষ্টকালের জন্য করোনার অ্যান্টিবডি থাকে।এরকম একটা রোগি যদি সাধারণ সর্দি-কাশি নিয়ে টেস্ট করতে আসে তাহলে এ পদ্ধতির কারণে তার শরীরে করোনা ভাইরাস না থাকার পরও টেস্ট পজিটিভ হবে এবং তিনি করোনা রোগি হিসাবে বিবেচিত হবেন।আর জানেনতো করোনা পজিটিভ মানেই ১৪দিন আইসোলেসন,পুরা ফ্যামিলি কোয়ারেন্টাইনে, বাড়ির সামনে লাল পতাকা আর আশেপাশের ঘড়বাড়ি-এলাকা লকডাউন।অাক্রান্ত ব্যক্তিসহ পুরো পরিবার সামাজিক শত্রু।একটা ভুলের জন্য এত কিছু! আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে সে ভুলের সুযোগ নেই যদি সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করে।

৩)জন্ম থেকে মৃত্যু পর‌্যন্ত জীবনচক্রের নানা ধাপে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতা একেক রকম হয়।যেমন নবজাতক ও ছোট্ট শিশুদের এবং অতি বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি কম থাকে এমনকি খুবই কম থাকে।এ দুই বয়সের সীমায় সংক্রমণজনিত মৃত্যুহারও বেশি।জন্মের পর থেকে কিছুদিন পর‌্যন্ত নবজাতক তার মায়ের দেহ থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডি এবং শাল দুধ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি দিয়ে চলে।এ সময় শিশুটি করোনা আক্রান্ত হলে এ পদ্ধতিতে টেস্ট নেগেটিভ আসতে পারে।

৪)যেসব রোগির রোগের কারনে ইমিউনিটির ঘাটতি রয়েছে (যেমন এইডসের রোগি) এবং যাদেরকে চিকিৎসার অংশ হিসাবে ইমিউনিটিকে চেপে রাখার ঔষধ খেতে হয় ( যেমন কিডনি ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট করা রোগিদের) তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস থাকলেও এ পদ্ধতিতে টেস্ট হালকা পজিটিভ কিংবা নেগেটিভ আসতে পারে।

৫)করোনা ভাইরাসরা ৭ ভাই।এদের মধ্যে ৪জন নিরীহ ঠান্ডালাগার উপসর্গ তৈরি করে সারা বছর।বাকি ৩জন সার্স ও মার্স এবং আলোচিত কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস জীবনবিনাশী।কেউ যদি নিরীহ করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে তার রক্তের র‌্যাপিড টেস্ট করলে ক্রস অ্যান্টিবডি ফেনোমেনার জন্য কোভিড-১৯ টেস্ট পজিটিভ হওয়ার সমূহ সম্ভবনা আছে।কিছুদিন আগে আমাদের পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে মিডিয়ায় প্রচার পায় এবং তিনিই বাংলাদেশের প্রথম সনাক্তকৃত করোনা রোগি হিসাবে রেকর্ডভূক্ত হতে যাচ্ছিলেন।এমতবস্থায় আইইডিসিআর নিশ্চিত করেন এটি করোনা ভাইরাস তবে সেটি নিরীহ 229-E করোনা ভাইরাস।

উপরোক্ত বাস্তবতায় বিভিন্ন দেশে র‌্যাপিড টেস্টের মাধ্যমে করোনা সনাক্তকরণে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।যার জন্য কেউ কেউ চীনকে এ কিট ফেরতও দিয়েছে।পাশের দেশ ভারতও প্রায় ৫০ লক্ষ Rapid Test কিটের অর্ডার বাতিল করেছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তাদের গাইডলাইনে এ কিট ব্যবহারের কথা বলেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের কোন স্বীকৃত রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এ ধরনের কিট দ্বারা করোনা রোগ নির্ণয়ের কোন নির্দেশনাও দেয়নি যৌক্তিক কারণে।আর তাই বাংলাদেশ সরকারও গতকাল বাংলাদেশে এ ধরনের কিটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে বিশ্বব্যাপি এই কিটের অগ্রণযোগ্যতা দেখে।

এ ধরনের র‌্যাপিড টেস্ট করোনা রোগ নির্ণয়ে কতটা স্পেসিফিক, কতটা সেনসিটিভ কিংবা কি পরিমাণ ফলস পজিটিভ বা নেগেটিভ রেজাল্ট দিচ্ছে, যাদের ইমিউনিটি কম বা নেই বললেই চলে তাদের ক্ষেত্রে এর রোগ নির্ণয় সক্ষমতা এবং ক্রস অ্যান্টিবডি রিঅ্যাকশন দেখাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা জরুরি।আর তা করার জন্য অনেকসময় লাগবে।বিশ্ববাসীর হাতে এত সময় নেই সম্ভবত।

তবে যেসব ক্ষেত্রে এ ধরনের কিট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে তা হলো-

১)আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে টেস্ট করার পাশাপাশি র‌্যাপিড টেস্ট পদ্ধতিতেও টেস্ট করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহজনিত ত্রুটি হয়ে থাকলে অ্যান্টিবডি টেস্ট পজিটিভ পাওয়া যেতে পারে।এর দ্বারা রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

২)এপিডেমিওলজিক্যাল সার্ভে- করোনা রোগে একটা জনগোষ্ঠির কতজন আক্রান্ত হয়েছে এবং এর দ্বারা রোগের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য রোগতত্ত্ববিদ্যার ডাটাবেস তৈরিতে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩)‘কনভ্যালিসেন্ট প্লাজমা থেরাপি’ অর্থাৎ সদ্য রোগমুক্ত রোগির প্লাজমা দিয়ে অসুস্থ রোগির চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে রক্তে আদৌ অ্যান্টিবডি আছে কিনা তার কোয়ালিটেটিভ পরীক্ষা এই কিটের মাধ্যমে করা যেতে পারে।

৪)যদি রোগির সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বেশি হয়ে যায় এবং আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয়ে লম্বা জট লেগে যায় বা সবার টেস্ট সময়মত করা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে মন্দের ভালো হিসাবে এ পদ্ধতিতে টেস্ট করা যেতে পারে।

৫)যাদের অ্যান্টিবডি টেস্ট পজিটিভ কিন্তু শরীরে উপসর্গ নাই তারা অতীতে করোনা ভাইরাস দ্বার আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিবেচিত।এরূপ লোকদের কর্মস্থলে যোগদানে উৎসাহিত করতে র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করা যেতে পারে।



গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক এর উদ্ভাবিত কিটের ব্যাপারে বিভ্রান্তির প্রধান কারণ তারা নিজেরাই।এটা একটা নতুন ধরনের টেস্টিং কিট যা পৃথিবীতে উদ্ভাবক ডাঃবিজন কুমার শীল ছাড়া অন্য কারো কাছে নেই।অথচ এর কার‌্যপদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যাসহ ভিডিও প্রেজেন্টেসন নাই।আবার উদ্ভাবকের পরিবর্তে ডাঃজাফরুল্লাহ এ কিট নিয়ে একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়েছেন ফলে এটি কোন ধরনের টেস্ট কিট তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।তাই যে যার মত করে বুঝে নিয়ে তর্কযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।তাই এ বিষয়ে আলোচনা শুরুর আগে গণস্বাস্থ্যের কিট কীভাবে কাজ করে সেটা জানা দরকার।এ আর্টিকেলের শুরুতেই আপনাদের ডট-ব্লট পদ্ধতির ব্যাপারে ধারনা দিয়েছি। নিচে লক্ষ্য করুন গণস্বাস্থ্যের কিটটি-

উপরে ছয় কোনা যে ডিভাইসটি দেখছেন তার মাঝে দেখুন দাগ কাটা টেস্ট বেড রয়েছে।এর এক ঘরে আছে কোভিড-১৯ ভাইরাসের নিউক্লিওক্যাপসিড।ও আচ্ছা টার্মটা কঠিন হয়ে গেল!বোঝার জন্য বলছি করোনা ভাইরাসকে একটা লিচুর সাথে তুলনা করুন।লিচুর বিচিটা হলো করোনার আরএনএ, শাঁসটা হলো প্রোটিনে তৈরি ক্যাপসিড আর খোসাটা হলো এনভেলপ।খোসায় থাকা ডটগুলো স্পাইক।তো টেস্ট বেডের এক ঘরে আছে করোনার নিউক্লিওক্যাপসিড (গোলাপি রং) এবং অন্য তিন ঘরে আছে ৩ ভিন্ন রকমের অ্যান্টিবডি (সবুজ রং) যা করোনা বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে কাজ করে।এই টেস্ট কিটে আরও রয়েছে দুই শিশি কেমিক্যাল।একটা হলো বাফার সলিউসন যা অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি অর্থাৎ ভাইরাসের সাথে অ্যান্টিবডির বিক্রিয়ার পরিবেশ তৈরি করে।আর ২য় শিশিতে রয়েছে গোল্ড সলিউসন যা অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডির বিক্রিয়ায় সৃষ্ট ডট বা বিন্দুটিকে দৃশ্যমান করে।এ হলো কিটের নানা উপাদান।

এখন রোগির এক ফোঁটা রক্তরস বা প্লাজমা এই টেস্ট বেডে দিতে হবে।রক্তে করোনা ভাইরাস (গোলাপি ডট) এবং এর বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি (সবুজ ডট) দুটোর একটা বা উভয়ই থাকতে পারে।যদি রক্তে ভাইরাস থাকে তাহলে তা টেস্ট বেডে থাকা অ্যান্টিবডির সাথে বিক্রিয়া করে পজিটিভ রেজাল্ট দিবে।আর যদি রক্তে অ্যান্টিবডি থাকে তাহলে সেটা টেস্ট বেডে থাকা করোনা নিউক্লিওক্যাপসিডের সাথে বিক্রিয়া করে পজিটিভ রেজাল্ট দিবে।অর্থাৎ রোগির রক্তে ভাইরাস কিংবা অ্যান্টিবডি যেটাই থাকুক তা পজিটিভ রেজাল্ট দিবে।এ কারণেই এ কিটটি অনন্য।

অন্যন্য টেস্টের সাথে এটার পার্থক্য কী?-হ্যাঁ করোনার অন্য দুই প্রধান টেস্টের সাথে এর বড় পার্থক্য রয়েছে-

১)আরটি-পিসিআর কেবলমাত্র ভাইরাস চিহ্নিত করতে পারে।এটি অ্যান্টিবডি চেক করতে পারে না।আর গণস্বাস্থ্যের কিট উভয়টিকেই সনাক্ত করতে পারে।

২)র‌্যাপিড টেস্ট কিট কেবলমাত্র রক্তে থাকা করোনার অ্যান্টিবডিকে ডিটেক্ট করতে পারে কিন্তু ভাইরাসটিকে চিহ্নিত করতে পারে না।গণস্বাস্থ্যের কিট উভয়টিকেই ডিটেক্ট করতে পারে।

৩)এই কিট ৫-১৫ মিনিটের মধ্যেই রেজাল্ট দিতে পারে।অথচ আরটি-পিসিআর এর ক্ষেত্রে কয়েকঘন্টা থেকে শুরু করে কয়েকদিন লেগে যেতে পারে।

৪)শরীরের যেখান দিয়েই ভাইরাস প্রবেশ করুক একসময় রক্তে অ্যান্টিবডি পাওয়া যাবে।গণস্বাস্থ্যের কিট অ্যান্টিবডি ডিটেক্ট করতে পারে বিধায় রোগ নির্ণয় করা যাবে।কিন্তু পিসিআর এ কেবলমাত্র আক্রান্ত স্থানের নমুনায় যদি ভাইরাস থাকে কেবল তখনই সেটা নির্ণয় করতে পারে।যেমন ধরুন পিসিআর পরীক্ষায় পাইকারিহারে নাক থেকে নমুনা নেওয়া হচ্ছে।এখন কোন রোগির যদি শুধু ব্রেনে কিংবা পেটে করোনা সংক্রমণ হয় সেক্ষেত্রে নাক থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা নেগেটিভ আসবে শরীরে রোগ থাকার পরও।কিন্তু গণস্বাস্থ্যের কিট অ্যান্টিবডি ডিটেকসনের মাধ্যমে জানাতে পারবে রোগের উপস্থিতি।

গণস্বাস্থ্যের কিটের সীমাবদ্ধতা- ১)রক্তে যদি ভাইরাস না থাকে কিংবা খুব অল্প থাকে কিংবা অ্যান্টিবডি না থাকে যেমনটি রোগের একেবারে প্রাথমিক পর‌্যায়ে হতে পারে সেক্ষেত্রে রোগ থাকার পরও টেস্ট নেগেটিভ হতে পারে। ২)গণস্বাস্থ্যের কিট রক্ত ছাড়া অন্য কোন নমুনা যেমন কফ বা লালা পরীক্ষা করতে পারে না। ৩)করোনা ভাইরাসরা ৭ভাই।ক্রস রিঅ্যাকশনে অন্য করোনা ভাইরাসের জন্যও টেস্ট পজিটিভ হলে হতেও পারে।অবশ্য গণস্বাস্থ্যের কিটে ৩টি টার্গেট অ্যান্টিবডি ব্যবহার করা হয়েছে যাতে আশা করা যায় এ সমস্যা কম বা নাও হতে পারে।

স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম মেনে গণস্বাস্থ্য অনুমতির আবেদন করেনি- এটা বিতর্কের আরেকটি এবং সবচেয়ে ভয়াবহ উপাদান।বিশ্বের প্রতিটি দেশেই এধরনের উদ্ভাবনের ব্যবহার ও বাণিজ্যিকীকরণের অনুমতি পেতে বেশকিছু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং সেগুলো সময় সাপেক্ষ।কিন্তু কথায় বলে "Necessity knows no law"। এফডিএ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা যার বিশ্বব্যাপি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।অথচ জরুরি অবস্থা বিবেচনায় পোস্টে উল্লেখিত অ্যাবট ফার্মার মিনি পিসিআর মেসিনের সাময়িক অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ ব্যাপক পরীক্ষণ ছাড়াই যেটাকে আইনি ভাষায় বলা হয় "ইমার্জেন্সি ইউজ অথারাইজেসন"।শুধু এটিই নয় আরও বেশকিছু কিটের অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ প্রথাগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই যার মধ্যে র্যাপিড টেস্ট কিট বা অ্যান্টিবডি কিটও রয়েছে।অবশ্য এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।আর গণস্বাস্থ্যের কিটের সক্ষমতা দেখার জন্য ৭২ ঘণ্টাই যথেষ্ট।বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল) এর যেখানে করোনার পিসিআর টেস্ট হচ্ছে সেখানে আগতদের নাকের নমুনা নেওয়ার পাশাপাশি এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিট টেস্ট করা যেতে পারে।অবশ্য এক্ষেত্রে ট্রাম্পের মত আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষমতাধর বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রী।অবশ্য এক্ষেত্রে ডাঃজাফরুল্লাহ চৌধুরির উচিৎ হবে নিজেকে এতটা প্রকটভাবে সামনে না এনে বরং উদ্ভাবক ডাঃবিজন কুমার শীলকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে দেওয়া।কারণ ডাঃ জাফরুল্লাহ সঠিকভাবে কিটটির বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করতে পারেননি এবং আবেগতাড়িত নানা কথা বলে জটিলতা তৈরি করেছেন।

যেহেতু এ ধরনের হাইব্রিড কিট বিশ্ব বাজারে নাই এবং এর সক্ষমতা ভাল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে সেক্ষেত্রে এ কিটটিকে প্রাথমিক সক্ষমতা যাচাই করে দ্রুত অনুমোদন দিলে নিজ দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।আর সেই সাথে বাড়বে দেশের সম্মান।আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

আর যারা এটা পাঠ করছেন তারাও এ বিষয়ে নিজ নিজ ফোরামে লিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।সেক্ষেত্রে রেফারেন্স হিসাবে পোস্টটি সংযুক্ত করতে পারেন।


‘রেডিওলজি’জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র থেকে জানা যায় চীনে ১০১৪জন রোগির মধ্যে মাত্র ৫৯% ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর পজিটিভ রেজাল্ট শো করেছে কিন্তু ৮৮% ক্ষেত্রে তাদের বুকের সিটি স্ক্যান পজিটিভ ছিলো।আবার আরটি-পিসিআর নেগেটিভ রোগিদের ৭৫% জনের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান পজিটিভ ছিলো।এছাড়াও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা পজিটিভ হওয়ার পূর্বেই ৪২% রোগির বুকের সিটি স্ক্যান পজিটিভ পাওয়া গেছে। এসব দিক বিবেচনায় বুকের সিটি স্ক্যান হতে পারে প্রাথমিক পর‌্যায়ে করোনা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ।হয়ত এ কারণেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে চীনা বিশেষজ্ঞদের টেলিকনফারেন্সের সময় চীনা বিশেষজ্ঞরা জানতে চেয়েছিলো বাংলাদেশের সিটি স্ক্যান করার সক্ষমতা কেমন?

আশা করি সম্মানিত পাঠকগণ উপরোক্ত আলোচনান্তে করোনা টেস্ট কিট বা পদ্ধতি ও ফলাফল বিভ্রান্তির কারণ এবং রোগ নিরূপন আরও সঠিক করতে কি করা যেতে পারে তার একটা সম্যক ধারনা পেয়ে থাকবেন।

ধন্যবাদ আর্টিকেলটি পাঠ করার জন্য।সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা প্রতিরোধে সহায়তা করুন প্লিজ।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনাদের জন্য।

বি.দ্র: এটি একটি তাত্ত্বিক আলোচনা কোন বিশেষজ্ঞ মতামত নয়।এতে ব্যবহৃত ছবিসমূহ ইন্টারনেট থেকে নেওয়া এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি।তারপরও কোন ক্ষেত্রে কপিরাইট ভায়োলেসন হয়ে থাকলে জানানো মাত্র তা অপসারণ করা হবে।

উৎসর্গঃ আমার বাবাকে যিনি ২৮শে এপ্রিল (২০১৬) আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন করেছেন।ছোটকাল থেকে আমার লেখাপড়ার সময় পাশে বসে চা খেতেন এমনকি গভীর রাত হলেও।বড় হয়েও কোন অ্যাকাডেমিক বিষয়ে কিছু লিখলে উনাকে ব্রিফ করতাম।বড় আগ্রহ নিয়ে শুনতেন এবং উৎসাহ দিতেন।গতকাল ২৮শে এপ্রিল এ আর্টিকেলটি রাত জেগে লিখছিলাম।অনেক মিস করছিলাম বাবাকে।










মন্তব্য ৫৬ টি রেটিং +১৭/-০

মন্তব্য (৫৬) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:৩৩

নতুন বলেছেন: আমাদের দেশে টেস্ট করার প্রকৃয়া ঠিক মতন অনুসরন না করার জন্যও ফলাফলে সমস্যা হতে পারে।

আর টেস্টের লিমিটেসন তো কিছু থাকবেই।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:৫৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: আরটি-পিসিআর টেস্টের সেনসিটিভিটি কম যদিও এ মুহূর্তে এর কোন বিকল্প নেই।এখন ফলস নেগেটিভ কেস ডায়াগনোসিসের জন্য বিশ্বের অনেক দেশই সেরোলজিক্যাল বা র‌্যাপিড টেস্টের দিকে ঝুঁকছে।আমাদের দেশেও পিসিআর এর সাথে সাথে র‌্যাপিড টেস্টও সংযুক্ত করলে পজিটিভ কেস ডায়াগনোসিস করার সক্ষমতা বাড়ত বলে মনে করি।

২| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:৪৩

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো পোষ্ট।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:৫৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:৫২

সোহানী বলেছেন: প্রথমেই শ্রদ্ধা জানাই আপনার বাবাকে। গুনী মানুষের বাবারা গুনী হবেই।

চমৎকার পোস্ট পড়লাম। নিজের অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম। আপনার পোস্ট মানেই একটি স্বয়ং সম্পূর্ন পোস্ট। অন্য কিছুর দিকে তাকাতে হয় না।

এবার আসি গণস্বাস্থ্য নিয়ে কথা। প্রথমত: আমাদের মানসিকতা কোনভাবেই রাজনীতির বাইরে যেতে পারে না। এমন কি দেশের স্বার্থেও আমরা তাতে ছাড় দেই না। অথচ এ সময়ে এমন একটি কিট দিয়ে আমরা মিলিয়ন ডলার ইনকাম করতে পারতাম। সামান্য একটু মানসিকতার ছাড় দিয়ে অনেক কিছু করতে পারতাম দেশের জন্য।

তবে জাফর সাহেবেরও কিছু ভুলতো আছেই। উনি হিরো হতে যেয়ে লেজেগোবড়ে করে ফেলেছেন। আর সরকারী চামচারা কিছু করতে পারছে না কারন কে সামনে আগায়ে নিজেকে ভিলেন বানাবে!! নিজে বাচঁলে........ B:-/ B:-/ । একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদারতা ছাড়া এ সমস্যার কোন সমাধান হবে না।

তবে আমি ব্যাক্তিগতভাবে চাই এ কিট ব্যবহার হোক, দেশের টাকা দেশেই থাকুক আর এ মূহুর্তে কিছু আয়ও জরুরী দেশের জন্য।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:০৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: গণস্বাস্থ্যের এই কিটটা যদি কোন চীনা উদ্ভাবন করত তো এতদিনে চীন সরকার গোটা পৃথিবীর বাজার দখল করে ফেলত।মহামারী ও মহামন্দার এই সময় এ সুযোগ হাতছাড়া করা নিজের পায়ে কুড়াল মারার সমান।ভয় হয় চীনারা যদি এটা কোনভাবে কপি করে ফেলে!উদ্ভাবক ডাঃশীলকে কে প্রধানমন্ত্রী এর আগেও ডেকে কথা বলেছেন।আমার মনে হয় উনার নিজ উদ্যোগেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করা উচিৎ।আর ডাঃজাফরুল্লাহ’র যেহেতু রাজনৈতিক ট্যাগ রয়েছে ওনার এ বিষয়ে অতি উৎসাহ বিষয়টাকে জটিল করে ফেলবে এবং অলরেডি করে ফেলেছে।

৪| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:৪৩

নেওয়াজ আলি বলেছেন: Good post

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ২:০১

জাফরুল মবীন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই নেওয়াজ আলি।

৫| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ২:৪৯

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:০৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার জন্যও শুভকামনা রইলো।

৬| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ২:৪৯

জহির ডিজিপি বলেছেন: প্রথমে ধন্যবাদ জানাই আপনাকে এত জ্ঞানগর্ভ আলোচা করার জন্য এবং স্মরণ করি আপনার বাবাবে ।

আপনার এই আর্টিকেলে অনেক তথ্য আছে যা এইটা পড়ার পর আমার কাছে খুভ পরিস্কার হয়েছে।
আপনার মতে যদি গণস্বাস্থের কিট কার্যকরী হয়ে থাকে তাহলে তা সকারকে তারা বুঝাতে সক্ষম হচ্ছে না এবং এই ক্ষে্ত্রে ডা জাফরউল্লার কিছু ভুলভাল ব্যখ্যা আছে।

আমিও আশাকরি প্রধানমন্ত্রীর একক হস্তক্ষেপে এটি হয়তো সুরাহা হবে।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:০৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য ধন্যবাদ ভাই জহির ডিজিপি।সুখবর হলো আজ বিকালে ট্রায়ালের জন্য গণস্বাস্থ্য অনুমোদন পেয়েছে।অন্য কোন সমস্যা না হলে আগামি ৩-৪দিনের মধ্যে ভালো খবর পাওয়া যেতে পারে।

৭| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৩:৩০

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: প্রত্যেক ঘরেঘরে এমন বাবা কবে হবে?

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:০৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রায় সব বাবাই এরকম হয় ভাই, হয়ত এককজনের ভালোবাসা-স্নেহের প্রকাশভঙ্গি ভিন্ন থাকে।

৮| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:০৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: প্রথমে আপনার মরহুম বাবার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে দেন।


এই আর্টিকেলটি অমূল্য তথ্য ও জ্ঞান নির্ভর শ্রমসাধ্য একটি লেখা। খুব কম মানুষই আছেন, যারা করোনা পরীক্ষার এত ভেতরের খবর জানেন। এমনকি স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকাংশই এত ডিটেইলসে এ সম্পর্কে জানেন বলে আমার মনে হয় না। নন-মেডিক্যাল পারসন হিসাবে আমার এই মন্তব্যটি ভুলও হতে পারে। তবে আমার বয়স ও অভিজ্ঞতা বলছে ভুল নয়।

আপনার মতো এত কেয়ারফুল ও আন্তরিকতাপূর্ণ লেখা খুব কম পড়েছি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সমস্যা সংক্রান্ত লেখার ক্ষেত্রে লেখকের জ্ঞান, সতর্কতা ও সত্যতার প্রতি যতটা ভরসা রাখা সম্ভব, আপনার লেখায় তার চেয়ে বেশিই পেয়েছি। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৩৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: আসসালামু আলাইকা হেনা ভাই।কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার বাবার জন্য দোয়া করার জন্য।আপনার এত সুন্দর সুন্দর কমেন্ট পড়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে যায়।যতটুকু ক্লান্তি তার সবটুকুই দূর হয়ে যায়।বিগ বোনাস হিসাবে আরও ভালো কিছু লেখার অনুপ্রেরণা পাই।আল্লাহ আপনাকে ও আপনার পরিবারের সবাইকে চির কল্যাণে রাখুন এ দোয়া করি।

৯| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:২২

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
আমলা নির্ভর দুর্নিতিগ্রস্থ সরকারি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জনবল বা সক্ষমতা নেই কোন নবাগত ঔসধ বা ল্যাব মিডিয়া রিসার্চ করে মুল্যায়ন করা।
ওরা যেটা করে ব্রিটিষ, আমেরিকান বা ডাব্লুএইচও এদের অনুমদন পেলে সেগুলেই নামমাত্র চেক করে অনুমদন দিয়ে থাকে।
একটি নতুন ল্যাব মিডিয়া রিসার্চ করে মুল্যায়ন করার প্রশ্নই আসে না। সে ধরনের সক্ষমতাই নেই।

আপাতত করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট–সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ সেন্টারে (বিএমআরসি) জমা দিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। কিটের সক্ষমতা কতটা, সে বিষয়ে পরীক্ষার জন্য বিএমআরসি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

অন্যদিকে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য ৮০০ কিট চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)
জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান, সিডিসি লিখিতভাবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চেয়েছে। ভিন্ন কাজে সিডিসির একটি ইউনিট আগে থেকেই ঢাকা আইসিডিডিআরবিতে অবস্থান করত।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন এই কিটের সক্ষমতা আইসিডিডিআরবির মাধ্যমে মূল্যায়ন করলেও আপত্তি নেই। কিটের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করাতে যে খরচ লাগবে, তা একটি এনজিও সুচিন্তা ফাউন্ডেশন বহন করবে।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৪০

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রিয় হাসান কালবৈশাখী আপনার দেওয়া তথ্য এ পোস্টকে আরও সমৃদ্ধ করবে নিঃসন্দেহে।একটা ভালো খবর দিতে পারি- আজ বিকালে ট্রায়ালের জন্য অনুমতিপত্র গণস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।আশা করি আগামি ৩-৪দিনের মধ্যে আকাঙ্খিত ভালো খবরটি পেয়ে যাব ইং শায়া আল্লাহ।শুভকামনা রইলো আপনার জন্য এবং গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেকের জন্য।

১০| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:২৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: সহজভাবে বিশ্লেষণের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৪৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: পাাঠ ও মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১১| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:৩৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ভ্যাকসিন আসতে যেহেতু অনেক সময় নিবে এবং করোনা যেহেতু দ্রুত তার রূপ পরিবর্তন করছে তাই ভ্যাকসিনের পাশাপাশি করোনার জন্য ওষুধ আবিষ্কারে আরও মনোযোগ দেয়া উচিত। বিশ্বে ভ্যাকসিনের কথাটাই বেশী আসছে।

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৫:০৬

জাফরুল মবীন বলেছেন: ভাইরাস বিরোধি ঔষধ তৈরি করা ভ্যাকসিন তৈরি করার চেয়ে অনেক জটিল এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।আজ পর‌্যন্ত জলাতঙ্কের র‌্যাবিজ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন অ্যান্টিভাইরাল তৈরি করা সম্ভব হয়নি।একই কথা প্রযোজ্য এইডস, সার্স, মার্স, ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রেও।আর নতুন করোনা ভাইরাস এত দ্রুত তার গাঠনিক উপাদান পরিবর্তন করছে যে তার বিরুদ্ধে ঔষধ তৈরির নীল নকশা প্রণয়ন করাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

১২| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:৪৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: আমি আপনাদের প্রত্যেকের মন্তব্য পড়েছি।ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।ইং শায়া আল্লাহ রাতে ফ্রি হলে আলাদা আলাদাভাবে উত্তর দিব।ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।

১৩| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:১০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: বিভিন্ন সুত্র থেকে যা জেনেছি, এতে আমার ধারণা হয়েছিল গণস্বাস্থ্যএর টেস্টিং কিট একটি র‍্যাপিড কিট। আপনার পোস্ট থেকে জানতে পারলাম এটা র‍্যাপিড নয় সম্পুর্ন এক নতুন আবিষ্কার। যা জেনে আমি যারপরনাই চমতকৃত।
সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হলে এ কিট হতে পারে আমাদের গর্বের অনুসংগ।
আপনার মরহুম বাবার জান্নাতবাস কামনা করছি। রাব্বিরহাম হুমা কা'মা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা।

০১ লা মে, ২০২০ রাত ৩:২৬

জাফরুল মবীন বলেছেন: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ভাই আব্বার জন্য দোয়া করার জন্য।ডাঃজাফরুল্লাহ চৌধুরি বার বার মিডিয়ায় বলেছেন যে এই কিট দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ৩দিন রোগ নির্ণয় করা যাবে না যেটা পিসিআর এ সম্ভব।এ থেকে বুঝা যায় এটি ‘অ্যান্টিবডি কিট’ বা র‌্যাপিড কিট কারণ শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কয়েকটা দিন সময় লাগে।আবার উদ্ভাবক ডাঃবিজন কুমার শীল জানিয়েছেন এটা অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কিট।রোগের শুরুতে আসলে অ্যান্টিজেন নির্ণয় করা যাবে এবং দেরিতে আসলে অ্যান্টিবডি মাপা যাবে।অথচ এ ধরনের কম্বাইন্ড কিট বিশ্বের কোথাও নেই।ফলে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দেয়।আবার কিটের নাম দিয়েছেন ‘“GR COVID-19 RAPID ANTIBODY DOT TEST”।অথচ এটি ডট-ব্লট টেস্ট এবং শুধু অ্যান্টিবডি নয়,অ্যান্টিজেন তথা ভাইরাসকেও ডিটেক্ট করতে পারে।কিটটি প্রেজেন্টেসনে এত তথ্য বিভ্রাট থাকলে অন্যদের বিভ্রান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক নয় কি?যাক ভালো খবর হলো বৃহস্পতিবার ট্রায়াল অনুমতি পেয়েছে গণস্বাস্থ্য।আশা করা যায় আগামি ৩-৪দিনের মধ্যে আকাঙ্খিত খবরটি পাওয়া যাবে ইং শায়া আল্লাহ।

১৪| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৪৯

জোবাইর বলেছেন: করোনা টেস্ট ও কিট সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করে আরো একটি সুন্দর পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, করোনার বিভিন্ন রকমের টেস্ট ও কিট নিয়ে ইদানিং যারা ব্লগে আলোচনা-সমালোচনা করছেন তাদের অনেকেরও এ ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা নেই! টেস্ট ও কিট সম্পর্কে ব্লগে আগে অন্য যারা লিখেছেন সেগুলোও বেশিরভাগই সংক্ষিপ্ত ও অসম্পূর্ণ।

গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত টেস্টকিটটি যে বাফার সলিউসন যা অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি দুটিকেই সনাক্ত করে তা গণস্বাস্থ্য বা ডাঃ জাফরউল্লাহ মিডিয়ায় সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে নি। এই কিট নিয়ে ডাঃ জাফরউল্লাহর অসংলগ্ন কথাবার্তা ও কিছু লোকের রাজনৈতিক প্রলেপ মাখানো আলোচনা-সমালোচনার কারণে মানুষ বিভ্রান্ত! আশা করি আপনার এই লেখাটি পড়ে সব ধরণের পাঠক করোনার টেস্ট ও কিট সম্পর্কে জেনে উপকৃত হবে।

এই লেখাটির একটি লিঙ্ক আপনার আগের লেখা 'করোনা মোকাবেলায়- যা জানা জরুরি' পোস্টের শেষে যোগ করে দিলে খুব ভালো হবে।

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৫:১৬

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই চমৎকার মন্তব্যটির জন্য।আপনি যা বলেছেন তা সঠিক।আশার কথা হলো গতকাল বিকালে ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরি জানিয়েছেন যে তাদেরকে ট্রায়ালের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল) এ পাঠিয়েছেন।আজকালের মধ্যে ইং শায়া আল্লাহ ট্রায়াল শুরু হবে এবং কয়েকদিনের মধ্যে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যাবে।

১৫| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৫৫

সাইন বোর্ড বলেছেন: তথ্যসমৃদ্ধ পোষ্ট, অনেকেরই উপকারে আসবে ।

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৫:১৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনাদের জন্যই লেখা এবং সেটা যখন আপনাদের কাজে লেগেছে বলে মন্তব্য করেন তখন সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।ধন্যবাদ জানাই আর সেই সাথে শুভকামনা।

১৬| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১:৩৮

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: মানব সভ্যতার এই ক্রান্তিকালে এই কিট দারুন একটি ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এটা একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার। এ টি আন্তর্জাতিক ভাবে মানব সেবায় ব্যবহার করে বাংলাদেশ একটি আলোচিত নাম হতে পারে। মুজিব বর্ষে এটা বাংলাদেশের দারুন একটি অর্জন এটি বুঝার মতো প্রজ্ঞা বিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রীর আছে এটাই আমার বিশ্বাস।
বহির্বিশ্বে বাজারজাত করণ অর্থ নৈতিক মুনাফা বিষয় টি না হয় বাদই দিলাম। বর্তমানে তামাম দুনিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই করোনা মহামারী মোকাবেলা করা সেই প্রেক্ষাপটে দারুন একটি পোষ্ট। স্টিকি করার মত পোস্ট। ওয়েল কামব্যাক ডাঃ জাফরুল মবীন।

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৫:৩৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: ভাই সেলিম আনোয়ার এটা নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী আবিষ্কার।বিশ্বের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা বড় বড় রিসার্চ ল্যাবে বসে যা করতে পারেনি তা করে দেখিয়েছে বাংলাদেশের কৃতি সন্তান ডাঃবিজন কুমার শীল।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই উনাকে অফিসে ডেকে কথা বলেছেন এবং উৎসাহ দিয়েছেন।কিন্তু সমাজে থাকা কিছু কূপের ব্যাঙ এবং হিংসুটে এ পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো এবং তাদের কুমন্ত্রনায় সরকারও ঘোষণা দিয়েছেন যে ‘কোন র‌্যাপিড কিট’ এর অনুমোদন দেওয়া হবে না।কিন্তু বিশ্বে এ আবিষ্কারের কথা রটে গেছে।ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন উপায় নেই এ ধরনের কিট ব্যবহার ছাড়া।কারণ পিসিআর মেসিনে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বেশ কম।অবশেষে আপাত বাঁধা দূর হয়েছে এবং বিশ্বে মলিকুলার বায়োলজিতে বাংলাদেশ মাইলফলক তৈরি করতে যাচ্ছে বলে বিশ্বাস করি।যদি সেই কাঙ্খিত সাফল্য আসে তাহলে এই পোস্ট এবং সামু ব্লগ ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে; অন্তত আমরা আমাদের জ্ঞান দিয়ে এ অর্জনের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলাম।

১৭| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৩৩

নতুন নকিব বলেছেন:



লাইকসহ পোস্ট প্রিয়তে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মূল্যবান তথ্যাদির সমন্বয়ে চমৎকার এ পোস্টটির জন্য।

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৫:৫১

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৮| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৫১

ভারসাম্য বলেছেন: ফেইসবুকে আপনার পোস্টে সামুর লিঙ্ক দেখে আশ্চর্য হয়েছিলাম। পরে এখানে এসে দেখলাম আসলেই ফিরেছেন! এটা ঠিক যে, সামু থেকে যখন ঘোষণা দিয়ে চলে গিয়েছিলেন তখন আপনিই তখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও যোগ্যতম ব্লগার ছিলেন সামুতে। কিন্তু সামু নিজেই তার জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতা হারাচ্ছিল বিভিন্ন কারণে। সামুতে আপনি আমার অনেক পরে এলেও চলে গিয়েছিলেন আগেই এবং সঠিক সময়েই। ফিরলেনও হয়তো সঠিক সময়েই। আপনার পোস্টের জন্য হলেও, আমিও ফিরলাম অনেকদিন পর। :)

বরাবরেই মতই সিগনেচার পোস্ট জাফরুল মবীনের। তাই কমেন্ট হিসেবেও 'ভারসাম্য'র সিগনেচার রাখা দরকার, যদিও অনেক আগের কথা সবই ভুলে গিয়েছি প্রায়। আমার প্রথম প্রশ্ন হল, গণস্বাস্থ্যের কিট যদি ভাইরাস ও অ্যান্টিবডি উভয়টিই সনাক্ত করতে পারে, তাহলে লালা-সর্দি-কফ এগুলোতে ভাইরাস থাকলে সেটা সনাক্ত করতে অসুবিধা হবে কেন? দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, গণস্বাস্থ্যের কিটে রক্তের ভাইরাসই যদি সনাক্ত করা যায়, তাহলে একই প্রক্রিয়ায় যদি লালা-সর্দি-কফ এগুলো থেকেও ভাইরাস সনাক্ত করা সম্ভব হলে ভাইরাস আক্রান্ত হবার পর ৩-৪ দিন দেরী না করে সাথে সাথেই টেস্ট করলে পজিটিভ রেজাল্ট আসতে পারতো কিনা? তাই গণস্বাস্থ্যের কিটে লালা-সর্দি-কফ থেকেও টেস্টের ফীচার আছে কিনা, না থাকলে সেটা যুক্ত করানো যায় কিনা জানা গেলে ভাল হত। আর আপনার মাধ্যমে সেই কথা যদি গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছেও কোন ভাবে পৌঁছে, তাহলে আরো ভাল হত। অবশ্য তারা যতটুকু করেছে সেটুকুইতো সরকার মহোদয় কর্তৃক সাদরে গৃহীত হচ্ছে না এখনো। সেক্ষেত্রে এই পোস্টে আপনি সরকার ও ড. জাফরুল্লাহ সাহেবের প্রতি যে পরামর্শ রেখেছেন সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্ব বিচারেই হয়তো আপনারো সামুতে ফেরা হতে পারে।

এখানে এবং আপনার বাস্তব জীবনের পথচলা শুভ হোক। :)

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৬:০৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: ডট-ব্লট পদ্ধতিতে যে কোন নমুনা থেকে ভাইরাস সনাক্ত করা যায়।কফ বা লালা নিয়ে টেস্ট করতে গেলে এসব নমুনাকে প্রি-ট্রিটমেন্ট করতে হয় কারণ এর মধ্যে অনেক উপাদান থাকে যা টেস্টে বাঁধা সৃস্টি করে এবং এর জন্য আলাদা কেমিক্যাল লাগে।কিন্তু রক্তের প্লাজমার জন্য প্রিট্রিটমেন্ট লাগেনা।যেহেতু গণস্বাস্থ্যের কিটটি একটি র‌্যাপিড কিট (কম সময়ে অর্থাৎ দ্রুত রেজাল্ট দেয়) এবং অপারেটর ফ্রেন্ডলি কিট এবং একই সাথে অ্যান্টিবডি ডিটেক্ট করার ব্যবস্থা আছে (অ্যান্টিবডি কেবল রক্তেই থাকে) সুতরাং রক্ত ছাড়া অন্য কোন নমুনা দেওয়া সম্ভব না।তবে তারা চাইলে আলাদা আরেকটি ডট-ব্লট ভাইরাস ডিটেকশন কিট তৈরি করতে পারেন।তবে ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় বর্তমানের কিটটিই সবচেয়ে উপযুক্ত।

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৬:১০

জাফরুল মবীন বলেছেন: এখন দেশ মহাক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে যা অতীতের সকল সংকটের চেয়ে বড়।মৃত্যু ও ক্ষুধা এখন বড় বাস্তবতা।এমতবস্থায় দেশের জন্য আমাদের সবাইকে নিজ সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে, হোক না সেটা সঠিক তথ্য দিয়ে।এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা একেবারেই বিবেচ্য নয়।কার‌্যকরীভাবে ফিরে আসুন এবং অন্যদেরকেও সহযোদ্ধা হতে উৎসাহিত করুন।যুদ্ধ শেষে না হয় আবার ঘরে ফিরে যাব।শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৯| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৭

সমুদ্রনীল বলেছেন: পরিপূর্ন পোস্ট।
কিন্তু আপনার এই বিশ্লেষণ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নজরে পরবে কি?

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৬:৫৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ সমুদ্রনীল।নজরে পড়বে না মানে??? এক বিশেষ বাহিনীর প্রধান মিডিয়াতে ঢ্যাঢ্যা পিটিয়েছেন যে ৫০টি ওয়েসবাইট নজরদারিতে আছে।চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় সামু প্রথম দিকেই আছে। হা হা হা..

আজ থেকে প্রায় ৬বছর আগে বাংলাদেশে আরেক দূযোগ নেমে এসেছিলো ‘আম-লিচুতে ফরমালিন’।পুরো দেশ ছিলো আতঙ্কে। বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার,সিটি কর্পোরেসনসহ সরকারের সকল খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা মাঠে। পুলিশও মাঠে নেমে বুলডোজার দিয়ে আম-লিচু পিষে ধ্বংস করছিলেন।বিশেষজ্ঞরাও একের পর এক মানবদেহে ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক তুলো ধরে আতঙ্কে ঘি ঢালছিলেন।পুরো ব্লগ ছিলো একাট্টা।তখন আমি একটা আর্টিকেল লিখেছিলাম “আম-লিচুতে ফরমালিন- একটি বৈজ্ঞানিক অবাস্তবতা”। যদিও সে আর্টিকেলে বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছিলো রেফারেন্সসহ তারপরও একজন ডাক্তার ব্লগার পোস্টে মাইনাস দিয়ে গেলেন এবং ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ঘটি পাকালেন।এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী এই পোস্টে কমেন্ট করেছেন।আর্টিকেলটি প্রকাশ হয়েছিলো জুলাই মাসের ২য় সপ্তাহের কোন এক বৃহস্পতিবারে।রোববার কোর্ট খুলতেই রিট এবং সিআইডি,সায়েন্স ল্যাবসহ ৭টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শাও নোটিশ।সবগুলো প্রতিষ্ঠান রিপোর্ট দেয় তারা ঢাকার বাজারে আম-লিচুতে ফরমালিন পাননি।খেলা শেষ হয়ে যায়।বেঁচে যায় বাংলাদেশের ফল শিল্প।ওটাই ছিলো আমার ব্লগ জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আজও এক সংকটে এই পোস্টটি দিয়েছি।যদি সরকার ‘র‌্যাপিড টেস্ট কিটের অনুমোদন দেব না’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ‘গণস্বাস্থ্যের র‌্যাপিড টেস্ট কিটকে অনুমোদন দেওয়া হলো’ সিদ্ধান্তে চলে আসে তাহলে ক্রেডিট কিন্তু আমারও !!! হা হা হা.... জাস্ট একটু ফান করলাম :-)

ব্লগার হিসাবে আমার কাজ হলো সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং আমি সে কাজটি করার চেষ্টা করেছি।বাকি আল্লাহ ভরসা।

২০| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৫

চাঁদগাজী বলেছেন:



পশ্চিমে করোনা ডিটেকশানে "রক্ত পরীক্ষা" পপুলার হবে না; হয়তো করোনার পর, এন্টিবডির বেলায় রক্ত পরীক্ষা গ্রহনযোগ্য হবে।

০১ লা মে, ২০২০ সকাল ৭:২৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ চাঁদগাজী।আসলে আরটি-পিসিআর মেসিন মূলত রিসার্চ ল্যাব টুল।ভাইরাস সংক্রমণে মাস ডায়াগনসিসের জন্য এটির সেনসিটিভিটি অর্থাৎ পজিটিভ কেস ডায়াগনোসিস সক্ষমতা বেশ কম এবং ব্যয়বহুলও বটে।এমতবস্থায় সারা বিশ্বই একটি কার‌্যকরী সেরোলজিক্যাল টেস্ট মেথডের জন্য অধীর আগ্রহে রয়েছে।পৃথিবীর অনেক দেশই র‌্যাপিড কিট তৈরি করেছে কিন্তু সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া যায়নি। চীন র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট তৈরি করে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিলেও কার‌্যকারিতা সন্তোষজনক না হওয়ায় ইউরোপের কয়েকটি দেশ এসব কিট ফেরত দিয়েছে।ভারতেও একই ঘটনা ঘটায় ৫০লক্ষ কিটের ক্রয় আদেশ বাতিল করেছে।কিটের অভিনবত্বের কারণে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে গণস্বাস্থ্যের কিটের ব্যাপারে।সিডিসি প্রথম দফায় কিছু কিট নিয়ে টেস্ট করার পর পুনরায় ৮০০কিট সাপ্লাই দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছে।আশা করি গণস্বাস্থ্যের এই হাইব্রিড কিটটি সাফল্যের মুখ দেখবে।

২১| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৩৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: জাফরুল মবীন,




সকালবেলা অফলাইনেই পড়েছি।
দারুন তথ্য সমৃদ্ধ লেখা হয়েছে এবং গুরুত্বের দাবীও রাখে। ব্লগাররা ( হয়তো অন্যরাও ) অনেক কিছু জানবেন আর এতে অনেকের ভ্রান্তিও দূর হবে।

আপনার প্রয়াত পিতার রুহের মাগফেরাত কামনা সহ শ্রদ্ধাও জানাচ্ছি তাঁর বিদ্বোৎসাহিতার জন্যে।

০১ লা মে, ২০২০ সকাল ৮:০৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আব্বার মাগফিরাত কামনার জন্য।আপনার মন্তব্য বরাবরই উৎসাহব্যঞ্জক।আরেকবার মানসিক শক্তি লাভ করলাম আপনার মন্তব্য পড়ে।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২২| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:৩৬

রাজীব নুর বলেছেন: এই পোষ্ট টি স্টীকি করা যেতে পারে।

০১ লা মে, ২০২০ সকাল ৮:০৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি স্টিকি হয়ে গেল আমার ব্রেনে!

২৩| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:৫৬

শের শায়রী বলেছেন: আল্লাহ আপনার বাবাকে বেহেশত নসীব করুক। আপনার পোষ্টগুলো পড়ে ধারনা করতে পারছি কেন আপনি সে সময়ের জনপ্রিয় ব্লগার ছিলেন। আফসুস আপনি যখন এসেছিলেন তখন আমি ব্লগ থেকে চলে গিয়েছিলাম। তবে এবার ঠিকই আপনার মত এক জন গুনী ব্লগারের পরিচয় পেলাম। আপনার লেখার আলাদা সিগনেচার আছে যেটা অনেকেই উল্লেখ্য করছে, এবং এটা সত্যি। গুনীর কদর সবাই করে। করোনার কঠিন বিষয় গুলোকে এত সুন্দর ভাবে বিশ্লেষান করছেন যে এই ফেসবুকের দুই লাইনের যুগেও ব্লগের বড় লেখায় সবাইকে আকর্ষিত করে রাখছেন।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর এবং সহজ ভাবে বোঝানোর জন্য।

০১ লা মে, ২০২০ সকাল ৮:১৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: আব্বার জন্য দোয়া করেছেন এ এক বিরাট পাওয়া।ঋণী হয়ে রইলাম ভাই।আর আমার সম্পর্কে যা লিখেছেন তা আপনার মহানুভবতা।আমি খুব সাধারণ মানুষ।ভাবি সাধারণ ভাবে।লিখি সাধারণের জন্য।প্রকাশ করতে চেষ্টা করি খুব সাধারণ ভাষায়। পাশে থেকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ ভাই।অনেক অনেক ভালো থাকুন এ শুভকামনা রইলো।

২৪| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:২২

কাবিল বলেছেন: এই পোস্টটি আগের পোস্টে লিঙ্ক শেয়ার করতে পারেন।
আর মডু মামুরা যদি মনে করেন এটা দ্বিতীয় স্টিকি করা হোক।
পোস্টটি পরে অনেক প্রশ্নের উত্তর পেলাম।

আপনার বাবার জন্য দোয়া রইল।

০১ লা মে, ২০২০ সকাল ৮:১৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: বাবার জন্য দোয়া করেছেন-অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ভাই কাবিল।আপনার মন্তব্যটি হৃদয়ে স্টিকি হয়ে রইলো।পোস্টটি কাজে লেগেছে জেনে নিজের পরিশ্রমকে স্বার্থক মনে হচ্ছে।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২৫| ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৬

করুণাধারা বলেছেন: আমার খুব জানার ইচ্ছা ছিল, প্রথমে নেগেটিভ আসার পর কেন পজিটিভ আসে, তখন পরিত্রাণের উপায় থাকে না। ব্যাংক অফিসারের আগেও কারো কারো ক্ষেত্রে এমন হতে শুনেছি। তথ্যসমৃদ্ধ এই পোস্ট পড়ে কারণ জানতে পারলাম, আরো অনেক কিছু জানা হলো। চমৎকার পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

আপনার বাবার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাত নসিব করেন।

০১ লা মে, ২০২০ সকাল ৮:২৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: কষ্ট করে এতবড় পোস্ট পড়ে মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ করুণাধারা।বাবার জন্য দোয়া করেছেন এটা অনেক বড় প্রাপ্তি।আপনাকে অনুসরণে নিলাম আপনার ‘নতুন জীবন’ সিরিজ পড়ার জন্য।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২৬| ০১ লা মে, ২০২০ সকাল ৯:১৩

রাফা বলেছেন: চমৎকার স্বয়ংসম্পুর্ণ একটি পোষ্ট লেখার জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য আপনার। এই যে এত বিশদভাবে লিখে ব্যাখ্যা করলেন ।এটা কিসের জন্য ,যাতে এর সঠিক কার্যকারিতা পাঠক অনুধাবন করতে পারে ।ঠিক সে জন্যই আপনাকে বিশদ লিখতে হয়েছে ।যে কোন একটি প্যারা বাদ দিলেই বুঝতে কিছুটা হলেও কষ্ট হবে।যারা এ বিষয়ে তেমন কোন ধারনা রাখেনা।

ঠিক এই কাজটাই করছেনা ড.জাফরউল্লা চোধুরীর গণসাস্থ্য।এটার ব্যখ্যা করার জন্য অবশ্যই ড.বিজন শীল'কে ফ্রন্ট লাইনে এনে প্রথম থেকেই পথ চললে কোন জটিলতা হইতোনা বলেই আমার বিশ্বাস।ড. জাফরউল্ল্যা এতটাই সন্দেহপ্রবন মনে হোচ্ছে এখনই এই আবিস্কার কেউ চুরি করে নিয়ে যাবে।উনি বুঝতে পারছেননা এটা যথযথভাবে প্রেজেন্ট না করা হলে কর্তৃপক্ষও তাদের মতামত দিতে পারবেনা।কারন এটা অতি গুরুত্বপুর্ণ চিকিৎসার সাথে সম্পর্কিত।একটু ভুলের জন্য সমস্ত কিছুই হবে পন্ডশ্রম।

আশা করি শিঘ্রই এর সুরাহা হয়ে যাবে ।এবং দেশের আবিস্কার দেশের মানুষের উপকারে আসুক এটাই চাই মনে প্রাণে।

আবারো ধন্যবাদ,জা.মবীন।

০১ লা মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: সহমত।আমারও মনে হয়েছে উনাদের উদ্ভাবন যেন অন্য কেউ কপি করতে না পারে সেজন্য অসম্পুর্ণ তথ্য এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনে তড়িঘড়ি করেছেন।যাহোক সবকিছু ভালোভাবে শেষ হলেই হয়।পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২৭| ০১ লা মে, ২০২০ সকাল ১১:৪৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




এমনিতে সাধারণ মানুষ আছেন করোনা আতঙ্কে! সাধারণ মানুষের কেনো করোনা টেষ্ট কিট নিয়ে ভাবতে হবে? তাহলে সরকার ও সরকারি দপ্তরের কাজ কি?

সময়ের প্রয়োজনে যে লেখা - যে আলোচনা তাই হচ্ছে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন। আপনার লেখা ব্লগে খুবই প্রয়োজন ছিলো। ধন্যবাদ। শুভ কামনা রইলো।

০১ লা মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০০

জাফরুল মবীন বলেছেন: পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাই।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২৮| ০১ লা মে, ২০২০ দুপুর ১২:৫৫

আমার চিরকুট বলেছেন: "সহজ কথায় লিখতে আমায় কহ যে,
সহজ কথা যায় না লেখা সহজে।
"

আপনিতো ভাই কঠিন ব্যাপারটাকেও সহজ লেখায় উপস্থাপন করেছেন।
শুভ কামনা রইল।

০১ লা মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রত্যেক পেশার অ্যাকাডেমিক পাঠ্য সাধারণের বোধগম্য হওয়ার কথা নয়।পেশাজীবিদের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো তার পেশার অ্যাকোডেমিক তথ্যগুলো সাধারণের জন্য বোধগম্য করে তোলা।আমি সেই কাজটি করার চেষ্টা করে থাকি।আপনার মন্তব্যে আশ্বস্ত হলাম সে চেষ্টা বিফলে যায়নি।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.