নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কথায় নয়,কর্মে হোক পরিচয়

জাফরুল মবীন

Courtesy costs nothing but buys everything

জাফরুল মবীন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অবসরে শিখতে পারেন কুরআনিক আরবি (রামাদান স্পেসাল পোস্ট)-১ম পর্ব

১৩ ই মে, ২০২০ সকাল ১০:৩২



বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।আসসালামু আলাইকুম।

কুরআন পাঠ এবং সে অনুযায়ী কর্ম করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য।যেহেতু রামাদান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে সুতরাং রাদামান মাসে কুরআন তিলাউয়াতের গুরুত্ব বাড়ে এবং অনেকেই সহি শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করার জন্য সচেষ্ট থাকেন।রামাদানে মাসজিদগুলোতেও কুরআন শিক্ষার বিশেষ আয়োজন করা হয়। নানা কারণে অনেকের পক্ষে মাসজিদে গিয়ে শেখা সম্ভব হয় না।আর এ বছর তো করোনার কারণে মাসজিদগুলোতেও কুরআন শিক্ষার আসর পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না; সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে ঘরে ওস্তাদের কাছ থেকেও শেখা সম্ভব হচ্ছে না।তাদের জন্য বিকল্প হিসাবে আজকের পোস্টটির অবতারণা।



যে কোন ভাষা শেখার প্রারম্ভিক কাজটি হলো সে ভাষার বর্ণমালার সাথে পরিচিত হওয়া।বাংলাভাষার মত আরবি ভাষাতেও স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ রয়েছে।এক নজরে সেগুলো দেখে নিই-



আরবি স্বরবর্ণ :স্বরবর্ণ মানে যেসব বর্ণ উচ্চারণে ভোকাল কর্ডের মধ্য দিয়ে ফুসফুসের বাতাসকে প্রবাহিত করে এবং জিহ্বা বা ঠোঁট যথাসম্ভব না নড়িয়ে উচ্চারণ করা যায় অর্থাৎ শুধুমাত্র স্বরকে ব্যবহার করে যেসব বর্ণ উচ্চারণ করা যায় তাই স্বর বর্ণ।আরবিতে মাত্র ৩টি স্বরবর্ণ – আলিফ (আ) , ইয়া (ই) এবং উয়াউ (উ)।মনে রাখবেন আরবিতে এ,ঐ,ও এবং ঔ নেই।

আরবি ব্যজ্ঞন বর্ণ: যেসব বর্ণের উচ্চারণে ফুসফুস তাড়িত বাতাসকে ভোকাল কর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে এবং জিহ্বা ও ঠোঁট দ্বারা বাঁধা প্রদান করে উচ্চারণ করা হয় তাই ব্যঞ্জণ বর্ণ।অর্থাৎ ব্যঞ্জণ বর্ণ উচ্চারণে ভোকাল কর্ড, জিহবা ও ঠোঁটের কারুকাজ রয়েছে।আরবিতে ২৬টি ব্যঞ্জণ বর্ণ রয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে ৪টি ‘স’ (শা,সিন,সীন,সেয়াদ), ৪টি ‘জ’ (জিম,যাল,জাই,জ্ব), ২টি ‘ত’ (তা,ত্ব), ২টি ‘হ’ (হা,হা), ২টি ‘দ’ (দাল, দ্ব), ২টি ‘আ’ (আইন, হামজা), ২টি ‘ক’ (কাফ, ক্বফ) এবং ৮টি স্বতন্ত্র বর্ণ (বা, খা, র, গইন,ফা, লাম, মিম, নুন)।

গুরুত্বপূর্ণঃ আরবি বর্ণমালায় আলিফ ও হামজা এই দুই বর্ণই ‘আ’ যদিও উচ্চারণে ভিন্নতা রয়েছে।আলিফের উপর যদি যের,যবর বা পেশ থাকে অর্থাৎ আ-কার,ই-কার বা উ-কার যুক্ত হয় তাহলে সেটি হামজা হিসাবে বিবেচিত হয়।স্বতন্ত্র আলিফ বর্ণ নয় বরং ‘আ-কার’ হিসাবে কাজ করে।এজন্য অনেকেই আরবি ভাষায় বর্ণমালা ২৮টি ধরেন এবং আলিফকে ‘আ-কার’ হিসাবে বিবেচনা করেন।


যেহেতু স্বরবর্ণের আকার থাকে আরবিতেও ৩টি আকার যবর(আ-কার), যের (ই-কার) এবং পেশ (উ-কার)আবার বাংলায় যেমন ২টি স্বরবর্ণের হ্রস(short) এবং দীর্ঘ(long) রূপ রয়েছে।-১)হ্রস-স্বরবর্ণ (যেমন হ্রস-ই,হ্রস-উ) এবং দীর্ঘ-স্বরবর্ণ (যেমন দীর্ঘ-ই=ঈ এবং দীর্ঘ-উ=ঊ)।দীর্ঘতা বলতে একটু টেনে পড়া।হ্রস-ই উচ্চারণ করতে যতটুকু সময় লাগবে তারচেয়ে একটু বেশি সময় ধরে টেনে ‘ই’ উচ্চারণ করলে সেটি হয়ে যাবে দীর্ঘ-ই(ই+ই= ঈ)। অন্যন্য স্বরবর্ণের মত এদেরও আকার রয়েছে- ি এবং ী, ‍ু এবং ‍ূ ।অনুরূপভাবে আরবিতে তিনটি স্বরবর্ণেরই হ্রস ও দীর্ঘ উচ্চারণ রয়েছে যা নিচে বর্ণিত হলো-



আরবি হ্রস-কারঃ আরবিতে ‘হ্রস-আ’ এর জন্য যবর, ‘হ্রস-ই’ এর জন্য যের এবং ‘হ্রস-উ’ এর জন্য পেশ চিহ্ন হিসাবে ব্যবহৃত হয়।যেমন بَ =বা যবর বা, بِ =বা যের বি, بُ =বা পেশ বু ।

আরবি দীর্ঘ-কারঃ স্বরবর্ণ একটু টেনে পড়াকেই দীর্ঘস্বর বলে।আরবি পরিভাষায় এটিই হলো ‘মাদ’ ।বাংলায় কেবলমাত্র ই এবং উ এর দীর্ঘ স্বর রয়েছে যথাক্রমে দীর্ঘ-ঈ এবং দীর্ঘ-ঊ।কিন্তু আরবিতে ‘আ’ ‘ই’ ‘উ’ তিনটিরই দীর্ঘস্বর রয়েছে।শুধু তাই নয় এই দীর্ঘ স্বর উচ্চারণের ৩টি মাত্রা রয়েছে- দীর্ঘ (১মাদ), দীর্ঘতর (৩মাদ) এবং দীর্ঘতম (৪মাদ)।আর এই মাত্রাগুলো কুরআন পাঠের সময় উচ্চারণে মাধূয্য তৈরি করে।দীর্ঘ স্বরের মাত্রাগুলো জেনে নিই-

১)সাধারণ দীর্ঘস্বর বা ১মাদঃ আ’ ‘ই’ ‘উ’ কে এক আলিফ বা প্রায় ১সেকেন্ড টেনে পড়াকেই সাধারণ দীর্ঘস্বর বা ১মাদ বলে।আরবিতে সাধারণ ১মাদ দীর্ঘস্বরকে দু’ভাবে লেখা হয়-

ক) খাড়া যবর, খাড়া-যের এবং উল্টা-পেশ দিয়ে।কোন বর্ণের উপর খাড়া যবর, খাড়া যের বা উল্টা পেশ থাকলেই সেটিকে দীর্ঘস্বরে পড়তে হবে অর্থাৎ ১মাদ টেনে পড়তে হবে।

খ)আলিফযুক্ত বর্ণের উপর যবর থাকলে, ইয়াযুক্ত বর্ণের নিচে যের থাকলে এবং উয়াওযুক্ত বর্ণের উপর পেশ থাকলে সেক্ষেত্রে ১ মাদ টেনে পড়তে হবে।এরূপ অবস্থায় আলিফ বা ইয়া বা উয়াউ এর উপর কোন হরকত তথা যের যবর পেশ থাকে না,কেবলমাত্র ব্যঞ্জণ বর্ণটির উপরই হরকত থাকে।যেমন لاَ লাম আলিফ যবর লা-;এক্ষেত্রে ‘লা-’ কে ১মাদ টেনে পড়তে হবে।যেসব কুরআন শরীফে আরবির বাংলা উচ্চারণ দেওয়া থাকে সেখানে অক্ষরের পাশে হাইফেন ‘-’ দিয়ে মাদ নির্দেশ করা থাকে।

২)দীর্ঘতর স্বর বা ৩মাদঃ কোন বর্ণের উপর ~ এরকম প্যাঁচানো চিহ্ন থাকলে তাকে ৩ আলিফ বা ৩ সেকেন্ড টেনে পড়তে হয়।নিচে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো-


৩)দীর্ঘতম স্বর বা ৪মাদঃ কোন বর্ণের উপর পোস্টের কভার ফটোতে প্রদর্শিত চিহ্নের ন্যায় রেখা থাকলে সে বর্ণটিকে ৪ আলিফ বা ৪সেকেন্ড টেনে পড়তে হয়।


আরবি স্বরবর্ণের দীর্ঘস্বর তথা মাদ নিয়ে একটা প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হলো এ পোস্টে।মাদ নিয়ে পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে ইং শায়া আল্লাহ।

বিশেষ নোটঃ আরবিতে মাত্র ৩টি স্বরাকার রয়েছে যথাক্রমে আ-কার (া), ই-কার( ি) এবং উ-কার (ু)।বাংলার মত আরবিতে এ-কার,ঐ-কার, ও-কার এবং ঔ-কার নেই।উচ্চারণের সময় বিষয়টা খেয়াল রাখা জরুরি।কারণ আরবি শব্দ উচ্চারণে হরহামেশাই আমরা এ ধরনের ভুল করে থাকি। যেমন ‘ওয়ালাইকুম’ বলে থাকি;অথচ সঠিক উচ্চারণ হবে ‘উয়ালাইকুম’।নিচে এরকম কিছু সাধারণ ভুল উচ্চারণের সঠিক রূপটি দেখানো হলো-






সূর্য বর্ণ ও চন্দ্র বর্ণঃ আরবি বর্ণমালার ২৮টি বর্ণের (আলিফ ও হামজাকে একটি বর্ণ বিবেচনায়) ১৪টি বর্ণ সূর্য বর্ণ এবং ১৪টি বর্ণ চন্দ্র বর্ণ।নিচে ছবিতে দেখুন-



আরবি বর্ণমালাকে এ দু’ভাগে ভাগ করার অন্য একটি গুরুত্ব আছে।ইংরেজিতে আর্টিকেল ৩টি A, An & The এবং বাংলায় রয়েছে টি, টা, খানা, খানি ইত্যাদি।কিন্তু আরবিতে একটি মাত্র আর্টিকেল ব্যবহার করা হয় আর তা হলো ‘আল’ (আলিফ লাম) যার সমাথক শব্দ বাংলায় ‘টি’ আর ইংরেজিতে ‘The’।চন্দ্র বর্ণের আগে ‘আল’ বসলে 'আল' শব্দটি সম্পূর্ণরূপে উচ্চারণ হয়।যেমন- আল কমার (চাঁদটি)।এখানে চন্দ্র বর্ণ ‘ক্বাফ’ এর পূর্বে 'আল' বসেছে তাই 'আল' সম্পূর্ণভাবেই উচ্চারিত হচ্ছে।কিন্তু সূয বর্ণের পূর্বে ‘আল’ বসলে 'আল'-এর ‘ল’ উচ্চারিত হয় না বরং সূর্য বর্ণটির দ্বিত (ডাবল) উচ্চারণ হয়।যেমন আল শামস (সূর্যটি); এখানে সূর্য বর্ণ ‘সিন’ এর পূর্বে 'আল' বসায় উচ্চারণ হবে আ-শামস।অনুরূপভাবে ‘আল-সালাম’ হবে ‘আস-সালাম’, ‘আল-নূর’ হবে ‘আন-নূর’, `আল সালাত’ হবে ‘আস-সলাত’।

ভারী বর্ণ ও হালকা বর্ণঃ আরবি বর্ণমালার নিম্নোক্ত ৭টি বর্ণকে ভারী বর্ণ বলে কারণ এগুলো উচ্চারণের সময় স্বর খুব গাঢ় করে উচ্চারণ করতে হয়-



এদের কতগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে-

১)এদের উচ্চারণের সময় স্বর গাঢ় করতে হয়।

২)বাংলায় ‘ভ’ উচ্চারণের সময় যেমন পুরো মুখগহবর থেকে এটি উচ্চারিত হয় ঠিক তেমনি এই ৭টি বর্ণ উচ্চারণের সময়ও পুরো মুখগহবর থেকে উচ্চারিত হয় বিধায় এগুলোকে ‘Full mouth letters’ বলে।

৩)এদের উপর যবর (আ-কার) থাকলেও ‘আ’ উচ্চারিত হয় না।যেমন ‘ক্বফ’ যবর ‘ক্বা’ হওয়ার থাকলেও বর্ণটি ভারি হওয়ার কারণে শুধু ‘ক্ব’ উচ্চারিত হবে।অনুরূপভাবে ‘স্বদ’ যাবর ‘স্বা’ হওয়ার কথা।কিন্তু এটি ভারী বর্ণ হওয়ায় ‘স্বা’ এর পরিবর্তে ‘স্ব’ উচ্চারিত হবে।

এ ৭টি বর্ণ ছাড়া বাকি বর্ণগুলো হলো হালকা বর্ণ কারণ এগুলো উচ্চারণের সময় স্বর পাতলা বা হালকা করে উচ্চারণ করা হয়।তবে এর মাঝে ৩টি ব্যতিক্রম আছে-‘আলিফ’, ‘লাম’ ও ‘র’ এর ক্ষেত্রে।এ ৩টি বর্ণ ক্ষেত্রবিশেষে গাঢ়ভাবে উচ্চারিত হয় আবার ক্ষেত্রবিশেষে হালকা স্বরে উচ্চারিত হয় যা পরবর্তীতে আলোচিত হবে ইং শায়া আল্লাহ।

৮টি বর্ণের উপর যবর (আ-কার) উচ্চারিত হয় না- উপরে উল্লেখিত ৭টি ভারী বর্ণ এরং ‘র’ এই ৮টি বর্ণের উপর যবর (আ-কার) খাকলেও ‘আ’ উচ্চারিত না হয়ে কেবল বর্ণটিই উচ্চারিত হয়।নিচে উদাহরণ দেখুন-



অনুরূপভাবে সলাত(নামাজ) ও সউম(রোযা) এদুটো শব্দে ‘স্বদ’ এর উপর যবর আছে কিন্তু নিয়মানুসারে ‘আ’ উচ্চারিত হবে না।অথচ আমরা বলে থাকি সালাত ও সাওম যা উচ্চারণের দিক দিয়ে ভুল।

এছাড়া বাকি সব বর্ণের উপর যবর (আ-কার) থাকলে অবশ্যই ‘আ’ উচ্চারিত হবে।কিন্তু আমরা হরহামেশাই এরকম ক্ষেত্রে `আ’ উচ্চারণ করিনা।যেমন ‘মিম’ এর উপর যবর (আ-কার) থাকলে অবশ্যই ‘মা’ হবে অথচ আমরা মসজিদ, মক্কা, মদিনা উচ্চারণ করি যা হওয়া উচিৎ যথাক্রমে মাসজিদ, মাক্কা, মাদিনা।আবার ‘নুন’ এর উপর যবর থাকলে ‘না’ উচ্চারিত হবে অথচ আমরা ‘নাবী’ না বলে ‘নবী’ বলি।




কুরআন তিলাউয়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর প্রতিটি বর্ণের সঠিক উচ্চারণ।আরবিতে এটিকে ‘মাখরজ’ বলে( খরজা শব্দের অর্থ বের হওয়া; মাখরজ মানে হলো যে স্থান থেকে বর্ণ উচ্চারিত হয়ে বের হয়ে আসে)।বাংলা বেশকিছু বর্ণের উচ্চারণের সাথে আরবি বর্ণের উচ্চারণের মিল অাছে বিধায় বাংলাভাষীদের জন্য আরবি বর্ণের উচ্চারণ শেখা অনেকটাই সহজ।আরবি বর্ণ উচ্চারণের সময় কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখুন-

১)শিক্ষক আপনাকে উচ্চারণ যেভাবে শিখিয়ে দিচ্ছে সেটা ভালোভাবে বুঝার পর তা প্র্যাকটিস করুন।শুধু শিক্ষকের সাথে গলা মিলিয়ে উচ্চারণ করলে সেটা রপ্ত করতে পারেন কিন্তু শিখতে পারবেন না।

২)আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বর্ণ উচ্চারণ প্র্যাকটিস করুন যাতে বর্ণের উচ্চারণে আপনার মুখ কীভাবে নড়ছে তা অবলোকন করতে পারেন।

৩)নিজের উচ্চারণ রেকর্ড করুন এবং তা বাজিয়ে শুনুন।

৫)সবচেয়ে সহজ উচ্চারণগুলো আগে শিখুন।

৬)প্রায় একই রকম উচ্চারণের বর্ণগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চারণের পার্থক্য নিরূপন করুন এবং বার বার প্র্যাকটিসের মাধ্যমে তাদের স্বতন্ত্রতা অভ্যাসে পরিণত করুন।

৭)শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন একটি ধীর প্রক্রিয়া।অহেতুক তাড়াহুড়ো করবেন না।





আলিফের উচ্চারণ বাংলা ‘আ’ এর মত। ইয়া এর উচ্চারণ বাংলা ‘ই’ এর উচ্চারণের মত।আর ‘উয়াউ’ এর উচ্চারণ বাংলা ‘উ’ এর মত ( ও এর মত নয়)।আল্লাহর নামে শুরু করি-

আলিফের উচ্চারণঃ এটি উচ্চারণ করা সবচেয়ে সহজ।মুখ হা করে জিহ্বা না নড়িয়ে সহজভাবে ‘আ’ উচ্চারণ করুন।এ বর্ণটি একজন বোবাও উচ্চারণ করতে পারে।আলিফের ক্ষেত্রে ২টি কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ-

১)আলিফ কোন স্বতন্ত্র বর্ণ নয় বরং এটি দীর্ঘ স্বর (আরবিতে যাকে মাদ বলে) অর্থাৎ দীর্ঘ-আ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।আলিফের উপর যবর, যের, পেশ (অর্থাৎ আ-কার, উ-কার বা উ-কার) থাকলে তা হামজা হিসাবে উচ্চারিত হয়।

২)আলিফ ও হামজা দুটোই ‘আ’ যদিও এদের দুটোর উচ্চারণে পার্থক্য রয়েছে।

৩)আলিফ উচ্চারণের স্বর ভারী বা হালকা হতে পারে।এটা নির্ভর করবে আলিফের পূর্বের বর্ণ ভারী বা হালকা তার উপর।আলিফের আগের বর্ণ যদি ভারী হয় তাহলে তাহলে আলিফও ভারী স্বরে উচ্চারিত হবে।আবার আলিফের পূর্বের বর্ণ যদি হালকা হয় তাহলে আলিফ হালকা স্বরে উচ্চারিত হবে।ভিডিওটি খেয়াল করুন-



ইয়া এর উচ্চারণঃ বাংলা ‘ই’ এর মত।জিহবার মাঝখান উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে উচ্চারণ করতে হয়।তবে ‘ই’ যখন বর্ণ হিসাবে উচ্চারিত না হয়ে দীর্ঘ-ই-কার (ী) হিসাবে ব্যবহৃত হয় তখন সেটি মুখের মাঝখান থেকে উচ্চারিত হয়।যেমন ‘বাইত (বা-ইয়া-তা)’ শব্দে ‘ইয়া’ উচ্চারণ হবে জিহবার মাঝখান উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে কিন্তু ‘বানী ইসরাইল’ উচ্চারণে দীর্ঘ-ই উচ্চারণ হবে মুখের মাঝের ফাঁকা যায়গা থেকে।নিচের ভিডিওতে খেয়াল করুন-



উয়াউ এর উচ্চারণঃ উয়াউ এর উচ্চারণ বাংলা ‘উ’ এর মত।কোন ভাবেই ‘ও’ এর মত নয়।উয়াউ উচ্চারণ করতে ঠোঁটের দুই পাশ সংকুচিত করতে হয়।কিন্তু ‘ও’ উচ্চারণ করতে দুই ঠোঁটের মাঝখান গোল করতে হয় অনেকটা ফুঁ দেওয়ার মত। আরবিতে ‘ও’ না থাকলেও দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ‘উ’ কে ‘ও’ এর মত উচ্চারণ করি যেমন ওয়ালাইকুম (হবে উয়ালাইকুম), ওয়ালি(হবে উয়ালি), ওমর(হবে উমর), ওসমান(হবে উসমান), ওয়া(হবে উয়া) ইত্যাদি। নিচের ভিডিওটি দেখুন-



প্রসঙ্গত আরেকটি বিষয় উল্লেখ করছি। ‘উয়া’ এর উপর যবর (আ-কার), যের(ই-কার) এবং পেশ(উ-কার) থাকলে উচ্চারণ যথাক্রমে ‘উয়া’, ‘উই’ এবং ‘উ’ হবে।কিন্তু আমাদের দেশে ‘উয়া’ যের কে ‘উই’ উচ্চারণ না করে ‘বি’ উচ্চারণ করা হয় যা একটি ভুল।কারণ ‘উয়া’ এর উচ্চারণ স্থান ও ‘বা’ এর উচ্চারণ স্থান এক নয়।কিন্তু প্রতিটি বর্ণের মাখরজ অনুযায়ী উচ্চারণ করা জরুরি।নিচের শব্দগুলোর উচ্চারণ খেয়াল করুন-


এ পর্বে আপাতত এটুকুই থাকুক।ইং শায়া আল্লাহ আগামি পর্বে আরবি ব্যঞ্জণবর্ণের উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আল্লাহ সবাইকে সহি শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠের তৌফিক দান করুন।

বি.দ্র:
১)যদি কোন কারণে আমার পক্ষে আর বাকি পর্বগুলো লেখা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে আপনারা এই বইটির সাহায্য নিতে পারেন নূরানী পদ্ধতিতে ২৭ ঘন্টায় কুরআন শিক্ষা-প্রকৌশলী মইনুল হোসেন

২)পোস্টে ব্যবহৃত সকল ছবি নেট থেকে নেওয়া।যদি কারো অধিকার ক্ষুণ্ন হয়ে থাকে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

৩)উচ্চারণ শেখাচ্ছেন Shaykh Ismail Al-Qadi ।

৪)অসাবধানতাবশত কিংবা অজ্ঞতাবশত ভুল থাকা অস্বাভাবিক নয়।পাঠকদের প্রতি অনুরোধ রইলো কোন ভুল পরিলক্ষিত হলে তা মন্তব্যের ঘরে জানানোর জন্য।


উৎসর্গঃ ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূরু এবং ব্লগার নতুন নকিবকে যাঁরা ব্লগে আল্লাহর বাণী প্রচারে নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

মন্তব্য ৪৪ টি রেটিং +১৮/-০

মন্তব্য (৪৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই মে, ২০২০ সকাল ১১:৫৩

যাযাবর চখা বলেছেন: খুবি দরকারি পোষ্ট। প্রিয়তে নিলাম।

১৩ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৪১

জাফরুল মবীন বলেছেন: পাঠ ও সুন্দর মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।প্রিয়তে নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।আমাদের জন্য দুয়া করবেন।

২| ১৩ ই মে, ২০২০ সকাল ১১:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: আরবো শিখে লাভ কি? ইংরেজি শিখলে লাভ আছে।

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৮:৪৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: ’আরবো’ কি?

৩| ১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ১২:৩৫

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ছোট করে দিলে ভালো হয়। উপকারী লেখা

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৮:৫৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: হা হা হা.... ভাই নেওয়াজ আলি আজ ৫বছর আগে যখন ব্লগিং করতাম তখন এত বড় বড় পোস্ট লিখতাম যে অনেকসময় সহব্লগাররা পোস্ট কয়েকদিনে পড়ে তারপর কমেন্ট করতেন। সে তুলনায় এটাতো বাচ্চা পোস্ট :-)

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

৪| ১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ১:২৩

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
যাদুঘরে রসুল আমলের কোরানের অনেক আরবি হরফ সম্পুর্ন আলাদা দেখা যায়। বর্নমালা সংখাও অনেক কম।
যুগে যুগে কোরানের অক্ষর পরিবর্তিত করে ফেলেছে বিভিন্ন শাসকরা।
আরবি ভাষার বিবর্তন অন্যান্ন ভাষার চেয়ে বেশী হয়েছে।
বার্মিংহামে সংগ্রহ করে আনা একটি কোরানএর একটি পাতা দেখুন।

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৯:০৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: ভাই হাসান কালবৈশাখী কুরআন নাযিল হয়েছে তৎকালীন আরবের ৭টি আঞ্চলিক ভাষায়।আর আমাদের দেশের মত সেসময়ও আঞ্চলিকতায় অর্থের বিরাট পার্থক্য হয়ে যেত। যেমন কেউ ‘হানি’ উচ্চারণ করলে একজন ইংরেজ এর অর্থ বুঝবে ‘মধূ’; বিশুদ্ধভাষী বাংঙ্গালি বুঝবে ‘ক্ষতিকর’।আর নোয়াখালির মানুষ বুঝবে ‘পানি’।এ ধরনের বিভ্রান্তি ও বিকৃতি ঠেকাতে হযরত উসমান (রঃ) হিজাজি ভাষা ভিন্ন অন্যন্য ভাষার ব্যবহার বন্ধ করেন এবং কুরআন গ্রন্থিত করার পর সকল অরিজিনাল পান্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন।যেহেতু হিজাজি ভাষার প্রচলন নাই।তাই অনেকটা মৃতভাষায় লেখা অন্যন্য লেখনির মত কুরআনের লেখনি অবিকৃতই আছে।তবে সেসময়ে কাগজ না থাকায় অনেকেই কুরআন পাঠের জন্য প্যাপারাস কিংবা চামড়ায় লিখিত আয়াত পাঠ করতেন। এরকম বেশকিছু ফলিয়াম বিশ্বের অনেক মিউজিয়ামে আছে।সবচেয়ে বেশি আছে ভ্যাটিক্যান সিটিতে।

৫| ১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:৩০

মাহিরাহি বলেছেন: ছবিটি দয়া করে সরিয়ে ফেলুন। বিতর্কিত ছবি।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দেয়ালের এই স্ট্যাচুটি বিতর্কিত।
মুসলমানেরা এটিকে সরিয়ে ফেলার জন্য আন্দোলন করেছে।
https://www.supremecourt.gov/about/northandsouthwalls.pdf

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৯:২৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: বিষয়টি এখন আর বিতর্কিত নয়।১৯শতকের শুরুর দিকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে এ মুর‌্যালটি স্থাপন করা হয় এবং অনেকদিন পর‌্যন্ত মুসলমানরা এটা জানতেন না।২০১৬ সালে একদল মুসলিম তৎকালীন সুপ্রিমকোর্টে এ বিষয়ে আপত্তি দাখিল করে।তখন সুপ্রিম কোর্ট অফিস এ বিষয়ে বিবৃতি দেয় যেটা আপনি কোট করেছেন।এখানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এটা হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ) এর প্রতিকৃতি নয় এবং মুসলামানরা যে নাবীর প্রতিকৃতি পছন্দ করেন না সে বিষয়েও তারা অবগত আছেন।উনার প্রতি সম্মান জানাতে একজন মুসলিমের প্রতীকী ব্যবহার করা হয়েছে।এরপর থেকে এ বিষয়ে আর কেউ আপত্তিও তোলেনি।

এবার আসা যাক মূর্তি ও ছবির ব্যাপারে।ব্লগে মূর্তি উপস্থাপন করা যায় না।কেবল ছবি দেওয়া যায়।সুতরাং পোস্টের কভারে যেটা দেওয়া হয়েছে সেটা ছবি।এখন ইসলামে আঁকা ছবির ব্যাপারে বিধান কি? জীবন নেই এমন জিনিসের ছবি আঁকার ব্যাপারে অনুমতি আছে।আর মাথাবিহীন প্রাণীর আঁকা ছবিও যায়েজ আছে এ মর্মে ফাতউয়া আছে (ফাতউয়ায়ে রহমানিয়া ২/৩৭৫)। আমি সেকারণেই ছবিতে মাথার অংশ দেয়নি।

আশা করি বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৬| ১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:৪০

মাহিরাহি বলেছেন: যদিও সম্মান দেখানোর জন্য মুর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু মুর্তি আমাদের ধর্মে নিষিদ্ধ।



Muhammad (c. 570 - 632) The Prophet of Islam. He is depicted holding the Qur’an. The Qur’an provides the primary source of Islamic Law. Prophet Muhammad’s teachings explain and implement Qur’anic principles. The figure above is a well-intentioned attempt by the sculptor, Adolph Weinman, to honor Muhammad and it bears no resemblance to Muhammad. Muslims generally have a strong aversion to sculptured or pictured representations of their Prophet.

einman’s sculpture begins on the South Wall Frieze with Fame and moves from left to right. Included among the great lawgivers are allegorical figures whose names are included below the images in italic

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৯:২৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: ধন্যবাদ কোট করার জন্য।কারণ এ প্রসঙ্গটি আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই নিয়ে আসতাম।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

৭| ১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:৪৫

মাহিরাহি বলেছেন: বার্মিহামে প্রাপ্ত কোরানের সাথে বর্তমান কোরান হুবুহু এক। যা অমুসলিম গবেষকরাও স্বীকার করছে।

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৩০

জাফরুল মবীন বলেছেন: ১০০% সহমত।

৮| ১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:৫১

লোনার বলেছেন: মা শা 'আল্লাহ্! অত্যন্ত তথ্যবহূল পোস্ট। বাংলাদেশের বাংলা উৎস থেকে শিখতে চাইলে দেখুন:

view this link

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৩৬

জাফরুল মবীন বলেছেন: ধন্যবাদ লোনার চমৎকার মন্তব্যটির জন্য।কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি লিংকটির জন্য।নিঃসন্দেহে এটি সাহায্যকারী।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার।

৯| ১৩ ই মে, ২০২০ বিকাল ৩:৫৯

চাঁদগাজী বলেছেন:



আমাদের ব্লগারদের জন্য এটা খুবই দরকারী; ব্লগে অনেক অনেক পোষ্টে কোরান থেকে শতশত কোটেশন আসে প্রতিদিন; এগুলো বুঝতে হলে আরবীও শেখা দরকার। ব্লগে আরবী ফন্ট চালু করারও দরকার। কোরানের কোটেশন পড়ার জন্য ব্লগে আসতে অজু করে আসার দরকার আছে নাকি, আপনার মতামত কি?

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৫৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: না ব্লগে আপনাকে উযু করে কুরআনের কোটেসন পাঠের আবশ্যকীয়তা নাই।এমনকি মৈথুনরত অবস্থায়ও তা পাঠ করা যাবে।কুরআন বিশ্ববাসীর জন্য।যিনি ইসলামে বিশ্বাসী নন তিনিও পাঠ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারেন।সুতরাং একজন নন-মুসলিম কুরআন স্পর্শ করলে তা অবমাননা হয় না।

১০| ১৩ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫৮

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: প্রিয় জাফরুল ভাই, শুভেচ্ছা জানবেন। খুবই দরকারী একটা পোষ্ট।

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৫৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রিয় জাদিদ ভাই পোস্টে আপনাকে পেয়ে খুব ভালো লাগল।সুন্দর মন্তব্যটির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১১| ১৩ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৪

মনিরা সুলতানা বলেছেন: চমৎকার পোষ্ট !
প্রিয়তে নিলাম । ধন্যবাদ ভাই এমন পোষ্টের জন্য।

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ১০:০২

জাফরুল মবীন বলেছেন: ধন্যবাদ বোন মনিরা সুলতানা সুন্দর মন্তব্যটির জন্য।পোস্ট প্রিয়তে নিয়েছেন জেনে খুব ভালো লাগল।আমাদের জন্য দুয়া করবেন প্লিজ।

১২| ১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৮:০১

রামিসা রোজা বলেছেন:
অসম্ভব সুন্দর ও শিক্ষনীয় পোস্ট। মাহে রমজানের শুভেচ্ছা
রইলো আপনার জন্য।

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৫১

জাফরুল মবীন বলেছেন: পোস্ট পাঠান্তে অত্যন্ত প্রেরণাদায়ী মন্তব্যটি করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

আপনাকেও মাহে রমজানের শুভেচ্ছা।

আল্লাহ আপনাকে সর্বদা তাঁর রহমতের মাঝে রাখুন এ দুয়া করি।

১৩| ১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৮:০১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আপনার এই পোষ্টের সব কয়টা পর্ব আসুক, তারপরে এটা নিয়ে একটা থরো ড্রাইভ দিবো। খুবই সময়োপযোগী একটা পোষ্ট, বিশেষ করে এই কোরআন অবতীর্ণের মাসে।

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৫৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: ইং শায়া আল্লাহ।চেষ্টা করব বাকি পর্বগুলো ক্রমান্বয়ে দেওয়ার।আমার জন্য দুয়া করবেন প্লিজ।

১৪| ১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৮:১৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ওয়াও!

মাশাল্লাহ্।
দারুন আয়োজন। আপনার পরিশ্রমেক আল্লাহ কবুল করুন।
সূর্য হরফ আর চন্দ্র হরফ বিষয়টা পুরাই নতুন ভাবে জানলাম।

আর শেষে ওয়াও যের এর উচ্চারণ ছোটকালে যেভাবে শিখেছিলাম - এর উচ্চারন উইও হবেনা ব ও হবে না
ব ও ফ এর মাঝামাঝি হবে। সেভাবেই পড়ে আসছি আজ পর্যণ্ত।
দেখা যাক, আপনার সিরিজ শেষ হবার অপেক্ষায়।

+++++++++

১৪ ই মে, ২০২০ রাত ১২:০১

জাফরুল মবীন বলেছেন: বরাবরের মত এবারও আপনার মন্তব্যে অনুপ্রেরণা পেলাম ভাই বিদ্রোহী ভৃগু।

চেষ্টা করব বাকি পর্বগুলো দেওয়ার।করোনার কারণে বাড়তি চাপে আছি।আর আগের মত ব্লগ পোস্ট লেখাতেও রয়েছে চরম শৈথিল্য।দুয়া করবেন ভাই আমাদের জন্য।

৯+ এ ১০+ দিলাম :-)

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৫| ১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৮:২৭

সোহানী বলেছেন: খুবই প্রয়োজনীয় পোস্ট। আমরা হয়তো কোরআন পড়তে পারি কিন্তু সহি ভাবে পারি কি? যাইহোক, আমার কাছে একটি জিনিস খুব প্রয়োজীয় মনে হয় তা হলো অর্থ জানা। শুধু অন্ধের মতো পড়াকে আমি কোনভাবেই সাপোর্ট করি না। তবে দেশের বাইরে আসার পর বাচ্চাদেরকে যখন আরবীতে দিলাম তখন একটু অবাকই হলাম কারন এখানকার শিক্ষকরা আমাদের মতো অন্ধভাবে শেখায় না। ওরা আগে ভাষা শেখানোর চেস্টা করে তারপর সহি ভাবে শেখায়।

প্রিয়তে নিলাম, অবশ্যই কাজে লাগবে।

১৪ ই মে, ২০২০ রাত ১২:১৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: যে কোন বিদেশি ভাষার কোন বইয়ের মর্মার্থ বুঝতে হলে সেই ভাষা জানাটা বেশ জরুরি।আমি কুরআন পাঠ করতে গিয়ে এই সমস্যায় পড়েছিলাম।পরে কুরআনিক আরবি ভাষা শেখা শুরু করি।আর আমার কাছে অনেক বিষয়ই পরিষ্কার হতে শুরু করে।

আপনি ঠিকই বলেছেন।আমাদের দেশে না বুঝে কুরআন খতম দেওয়ার মানসিকতা সাধারণ মানুষ ও আলিম সমাজ উভয়ের মাঝেই রয়েছে এবং সেটা উৎসাহিত করাও হয়।অথচ কুরআনের অর্থ জানা অত্যন্ত জরুরি।

পোস্ট পাঠ ও খুব কার‌্যকারী মন্তব্যটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য।

১৬| ১৩ ই মে, ২০২০ রাত ১০:৪৯

ওমেরা বলেছেন: খুব ভালো লাগল আপনার পোষ্ট। খুব সহজ ভাবে বুঝিয়েছেন তাজবীদ। যে কেউ চাইলে সহজেই ধরতে পারবে।
আলহামদুল্লিলাহ! আমি কুরআন মুটামুটি সহীহ ভাবে পড়তে পারি, ছোট বেলায় দেশে হুজুর শিখিয়ে ছিল খুব খারাপ না , এখানে আসার পর এক সৌদি মেয়ের কাছ থেকে ভুলটুকু সহীহ করেছি। ভবিষ্যতে আরবী ভাষা শিখার ইচ্ছা আছে।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে পরিশ্রমী পোষ্টের জন্য।



১৪ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:৩০

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রেরণাদায়ী মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ বোন ওমেরা।আধুনিক আরবি ভাষা থেকে কুরআনিক আরবি ভাষার মাঝে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য।বিষয়টা এমন পর‌্যায়ে পৌঁছেছে যে আরবদের এখন কুরআনিক আরবি শিখতে হচ্ছে।আমাদের দেশেরও বেশ কয়েকজন আলিম এ বিষয়ে সেখানে শিক্ষকতা করছেন।তবে কুরআনিক আরবি আমার কাছে বেশ সহজবোধ্য মনে হয়েছে বিশেষত অর্থ জানার ক্ষেত্রে।কুরআনিক আরবি শব্দগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই ৩ অক্ষরের রুট বা মূল থেকে উৎপন্ন।যেমন হা-মা-দা এই রুটটি প্রশংসা নির্দেশক।আর এই রুট থেকেই হামদ,হামিদ, আহমাদ,মুহাম্মাদ,তাহমিদ, হামদান প্রভৃতি শব্দ উৎপত্তি হয়েছে।পুরো কুরআনে প্রায় ১৮০০টি মৌলিক রুট রয়েছে যা থেকে ৭৭৮০০টি শব্দ তৈরি হয়েছে।আপনার আগ্রহের কথা জেনে খুব ভালো লাগল।আল্লাহ আপনার ইচ্ছে পূরণ করুন।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৭| ১৩ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৫৫

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: অসাধারণ পোস্ট। পবিত্র রমজানের যথোপযুক্ত পোস্ট।
অশেষ কৃতজ্ঞতা শেয়ারে।

১৪ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:৩৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: জ্বি ভাই রামাদানে কুরআন পাঠ কিংবা কুরআন পাঠে সাহায্য করার একটা আলাদা গুরুত্ব আছে।সে চিন্তা থেকেই লেখা।বলা তো যায় না করোনার কারণে পরপারে চলে গেলে এটা হয়ত অনন্তকাল নেকি হাসিলের উপায়ও হতে পারে।

সুন্দর মন্তব্যটির জন্য সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৮| ১৪ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৪৫

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: ’আরবো’ কি?


আরবী হবে। টাইপ ভুল করেছি।

১৪ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:৩৬

জাফরুল মবীন বলেছেন: ওকে।

১৯| ১৪ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:৪৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: এমনিতে যেকোনো সময়ের জন্য এমন পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ, তার উপরে তো রমজান মাসের মানে আলাদা আলাদাভাবেই গুরুত্বের দাবি রাখে। আমার মত বহুজনের কাছ অত্যন্ত মূল্যবান পোষ্ট। ‌++
শুভেচ্ছা নিয়েন।

১৪ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:৪০

জাফরুল মবীন বলেছেন: উঞ্চহৃদয়ে আপনার শুভেচ্ছা গ্রহণ করলাম ভাই পদাতিক চৌধুরি।কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি পোস্টটিকে যেভাবে মূল্যায়িত করেছেন তার জন্য।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য।

২০| ১৪ ই মে, ২০২০ সকাল ১১:০৭

ইসিয়াক বলেছেন: অনেক দরকারী একটা পোষ্ট । প্রিয়তে নিলাম।
ভালো থাকুন সবসময়।

১৪ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: সুন্দর মূল্যায়ন ও প্রিয়তে নেওয়ায় অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২১| ১৪ ই মে, ২০২০ সকাল ১১:৫৯

নতুন নকিব বলেছেন:



অশেষ শুকরিয়া, এই পোস্টটির জন্য। আপনার প্রতিটি পোস্ট মা-শাআল্লাহ জ্ঞানগর্ভ। এমন একটি দামী পোস্টের শেষে ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূরু সাহেবের সাথে অধমের নাম যুক্ত করেছেন দেখে কৃতজ্ঞতা। আসলে আমি তো অনেক বিষয়েই নিতান্ত অপরিপক্ক। কুরআন হাদিসের অফুরান জ্ঞান সরোবর থেকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি একটু আধটু করে শিখতে। নিজেকে কুরআনের শিক্ষার্থী ভাবতে আনন্দবোধ করি। নিজে শেখার পাশাপাশি অন্যদের মাঝে জ্ঞানের আালো ছড়িয়ে দেয়ার মাঝেও রয়েছে অন্যরকম আনন্দ। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ পাক আমাদের যৎসামান্য তাওফিক দিয়েছেন। তাঁর দরবারে প্রার্থনা, দ্বীনের কথাগুলো অন্যদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজকে সর্বোস্তরে আরও ব্যাপক এবং পরিবিস্তৃত করার তাওফিকও যেন তিনি আমাদের দান করেন। দুআ চাই।

মহাগ্রন্থ আল কুরআনের একনিষ্ঠ খাদেম হয়ে মৃত্যু বরণ করার তাওফিক চাই। আপনার পরিবার-পরিজন সকলের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা তাঁর রহমতের দরজাকে উম্মুক্ত করুন। করুনার বারি বর্ষনে সিক্ত, স্নাত করুন।

পোস্ট চমৎকার হয়েছে। অব্যাহত রাখুন ধারাবাহিকটি। আশা করি, হেল্পফুল হবে অনেকের জন্যেই।

১৪ ই মে, ২০২০ রাত ৮:২০

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনি যে পথের পথিক আমিও সে পথের পথিক হওয়ার চেষ্টায় রত।আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাঁর পথ ধরে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছার তউফিক দান করেন।আমীন।

২২| ১৪ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৫০

শের শায়রী বলেছেন: মাঝে দুই দিন ব্যাস্ত থাকায় অন লাইনে আসা হয় নি খুব একটা তাই এই পোষ্ট টা দেখা হয় নি। অত্যান্ত লজ্জার সাথে স্বীকার করে নিচ্ছি ছোট বেলায় পবিত্র কোরান পড়া শিখছিলাম, পরে চর্চার অভাবে ভুলে গেছি। জীবনের একটা পর্যায়ে ধর্মের ব্যাপারে অনেক উদাসীন ছিলাম। যার জন্য এখন নিজের কাছে নিজে শরমিন্দা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থী। ইদানিং ধর্মের পাশাপাশি ধর্মের কিছু ব্যাপার নিয়ে জানার চেষ্টা করছি, এবং অবাক হয়ে ভাবছি নিজে জীবনে কত না ভুল করছি ধর্মকে পাশে সরিয়ে রেখে। ইচ্ছা আছে আবারো আরবী পড়া শিখে কোরান পড়া ধরব। আল্লাহ যেন সে তৌফিক দেয় দোয়া রাখবেন।

অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন এবং সুন্দর পোষ্ট দেয়ায় আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানুন জাফরুল ভাই। পোষ্ট প্রিয়তে।

১৫ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:১৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার মত অবস্থা আমাদের প্রায় সকলেরই।একসময় সকালবেলা ঘুম ভাঙ্গলে নিজ ঘর কিংবা আশেপাশের বাড়ি থেকে কুরআন তিলাউয়াতের সূর ভেসে আসত।এখন সেরকম কুরআন পাঠের আওয়াজ পাই না। আল্লাহ আপনার নেক ইচ্ছায় কামিয়াবি দিন এ দুয়া করি।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.