নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কথায় নয়,কর্মে হোক পরিচয়

জাফরুল মবীন

Courtesy costs nothing but buys everything

জাফরুল মবীন › বিস্তারিত পোস্টঃ

জ্বিনে ধরা একটি মেয়ের গল্প ও একটি মানসিক রোগ

১৫ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:৫৮


রুমা নরসিংদী ডিগ্রী কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী।দেখতে যেমন রূপবতী তেমনি গুণবতীও।রক্ষণশীল ধার্মিক পরিবারের মেয়ে;বড় লাজুক,অসম্ভব ভদ্র ও খুব শান্ত প্রকৃতির মেয়ে।এরকম একটা মেয়েকে ঘরের বউ বানানোর জন্য অনেকেরই প্রস্তাব আসে।শেষ-মেষ বাবা-মা লন্ডন প্রবাসী এক পাত্রের সাথে রুমার বিয়ে ঠিক করে ফেলল রুমার সম্মতিতেই।বিয়ে বাড়িতে চলছে ধূমধাম।বিপত্তিটা বাঁধল গায়ে হলুদের দিন।শীতের দিন তারপর মফস্বল এলাকা তাই সন্ধ্যের ঠিক আগেই রুমার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হলো।হলুদ শাড়ি,হলুদ মাখা দেহ আর খোলা দীঘল চুলে রুমাকে পরীর মত দেখাচ্ছিল।তখন ভরা সন্ধ্যা।রুমা দৌড় দিয়ে গেল ছাদে কি একটা কাপড় আনতে।কিন্তু ছাদ থেকে নেমে আসল অন্য রুমা হয়ে।লাল বড়বড় চোখে অস্বাভাবিক দৃষ্টিতে সবাইকে দেখতে লাগল।রুমার মা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করল “মা তোর কী হয়েছে?”।রুমা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।গান গাইতে গাইতে বায়না ধরল “আমাকে এখনি লাল শাড়ী,লাল পেটিকোট-ব্লাউজ,লাল সেন্ডেল ও লাল টিপ এনে দে….আমি সাজব”।মেয়ের গায়ে অসুরের শক্তি,ধরে রাখা মুশকিল।মৌলভী সাহেবকে খবর দেওয়া হলো।নামাজ শেষে তিনি এসে রুমাকে দেখে সবার আশংকাকে সত্যিতে পরিণত করে জানালেন রুমাকে জ্বিনে ধরেছে।উনার দোয়া ও পানি পড়ায় কোন ফল হলো না।আবদার মোতাবেক বাজার থেকে সবকিছু কিনে আনা হলো।রুমা সুর করে গান গাইতে গাইতে সুন্দর করে সাজলো।তারপর খেতে চাইলো।তার গোগ্রাসে খাওয়া দেখে সবাই ভয় পেয়ে গেল।কিছুক্ষণের জন্য ঘুমালো ঠিকই কিন্তু শেষ রাতে উঠে সবাইকে আদেশ-নিষেধ ও নসিহত করতে লাগল।এমনকি আত্মীয়দের বিভিন্ন গোপন কথাও বলে দিতে লাগল।সূর্য উঠার আগেই গোটা পাড়ায় রটে গেল রুমাকে জ্বিনে ধরেছে।সকাল থেকেই বিভিন্ন পীর-ফকিরের আনাগোনা শুরু হলো কিন্তু কোন লাভ হলোনা।দুপুর নাগাদ হাজির হলেন জ্বিনের বাদশা পকেটে নিয়ে ঘোরা ফকির চাঁন মিঞা।নাকে শুকনা মরিচ পোঁড়া, ঝাড়ু– পেটা, নিমের ডাল দিয়ে পেটানো, কনিষ্ঠা আঙ্গুলি ধরে প্রচন্ড ব্যথা দেওয়া, অশ্লীল ভাষায় জ্বিনকে গালিগালাজ, জ্বিনকে হুমকি-ধুমকি দেওয়া…..ফকির চাঁন মিঞার সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জানালেন এ খুব শক্তিশালী জ্বিন;একে শায়েস্তা করতে হলে ভর সন্ধ্যায় নদীর পানিতে জ্বিন ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত গোসল করাতে হবে।“জ্বিন আগুনের তৈরি আর পানি আগুন নেভাতে পারে”-এ ত্বত্ত্বে বিশ্বাসী হয়ে গেল সবাই।ইতোমধ্যে বরের বাড়িতে জ্বিনে ধরার খবর পৌঁছে গেছে।তারা সাফ জানিয়ে দিল এ মেয়েকে কোন অবস্থায় ঘরের বউ করবে না।বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় রুমার বাপ-মার যত না কষ্ট তার চেয়ে বেশি কষ্ট মেয়ের জ্বিনে ধরা নিয়ে।বিধান মোতাবেক রুমাকে নদীর পাড়ে নিয়ে ঘন্টা দু’ এক গোসল করানো হলো।এটা ঠিক রুমা বেশ নিস্তেজ হয়ে গেল এবং তার অস্বাভাবিক আচরণও কমে গেল।কিন্তু কয়েকদিন পর থেকে শুরু হলো প্রবল জ্বর,শ্বাসকষ্ট ও ভুল বকা।স্থানীয় ডাক্তারকে কল দেওয়া হলো।তিনি নিউমোনিয়া হয়েছে ও খুব খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে এরকম ভেবে ঢাকায় রেফার করলেন।ঢাকা মেডিক্যালে রুমাকে ভর্তি করা হলো।কয়েকদিনের চিকিৎসায় বেশ সুস্থও হয়ে উঠলো রুমা।এরপর চিকিৎসক তাকে জ্বিনে ধরার চিকিৎসার জন্য সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে রেফার করলেন।সবকিছু শুনে সাইকিয়াট্রিস্ট রুমাকে DISSOCIATIVE IDENTITY DISORDER (POSSESSION DISORDER)-এর কেস বলে ডায়াগোনোসিস করলেন এবং সে মোতাবেক চিকিৎসা দিলেন।সফল চিকিৎসা শেষে রুমা পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল।মজার বিষয় হলো জ্বিনে ধরা সম্পর্কে রুমার কিছুই মনে নেই।সবার কাছ থেকে গল্প শুনে সে খুব লজ্জা পেতে লাগল।

POSSESSION DISORDER কী?-এক সময় এ রোগকে হিষ্টিরিয়া বলা হতো।সুনির্দিষ্টভাবে এর কারণ জানা না গেলেও রোগিদের রোগের ইতিহাস থেকে ধারণা পাওয়া যায় যখন কেউ বার বার প্রচন্ড মানসিক আঘাত পায় বা মনে যখন কোন কারণে প্রচন্ড Conflict বা দ্বন্ধ তৈরি হয় এবং তা সমাধান করা সম্ভব হয় না তখন কিছু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ব্রেন তার দেহ ও মনে জ্বিন-ভূত বা কোন অশরীরী আত্মার উপস্থিতির উপসর্গ তৈরি করে (মনের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রচন্ড মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে) কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যার কোন প্যাথলজিক্যাল কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। মোটামুটিভাবে এটাই হলো POSSESSION DISORDER।

ব্রেন এই কাজ কেনো করে?-কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিত্বের মানুষ আছে যাদের মনে প্রচন্ড কোন কষ্ট বা দ্বন্ধ তৈরি হলে তা নিরসনের যৌক্তিক পথ অবলম্বন করতে পারে না।তখন তার ব্রেনে মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি হয় ।এই মানসিক চাপ থেকে বাঁচতেই রোগির দেহ থেকে মন বা চেতনা বিচ্ছিন্ন বা DISSOCIATE হয়ে যায় এবং সে অশরীরী আত্মার উপস্থিতি অনুভব করে।আলোচ্য রুমার ক্ষেত্রে হিষ্ট্রি নিয়ে জানা গেছিলো তার এ বিয়েতে অমত ছিলনা কিন্তু বাবা-মাকে ছেড়ে লন্ডন যেতে তার ঘোর আপত্তি ছিল।কিন্তু রুমা তার ব্যক্তিত্বের ত্রুটির কারণে তা প্রকাশ করতে পারেনি।ফলে তার ব্রেনে দ্বন্ধ থেকে প্রচন্ড মানসিক চাপ তৈরি হয়।এ থেকেই তার জ্বিনে ধরার উপসর্গ প্রকাশ পায়।এ থেকে দু টো লাভ হলোঃ-

১।তার বিয়ে ভেঙ্গে গেল যা তার দ্বন্ধের প্রধান কারণ ছিল।একে primary gain বা প্রাথমিক লাভ বলে।

২।বিয়ে ভাঙ্গার জন্য তাকে কেউ দায়ী করতে পারল না।উল্টো সবাই তার রোগ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল এবং আদর-যত্ন বেড়ে গেল।একে secondary gain বা দ্বিতীয় লাভ বলে।


উল্লেখ্য ব্রেনের অবচেতন মনে এ ঘটনা ঘটে বিধায় রোগি যখন পরিপূর্ণ চেতনা ফিরে পায় তখন এসবের কিছুই মনে করতে পারে না।মজার বিষয় হলো রোগের উপসর্গে রোগীর পরিবার পরিজন যতটা ভীত সন্ত্রস্ত থাকে রোগীর মধ্যে ততটা দেখা যায় না।

চিকিৎসা কী?-Possession Disorder এর চিকিৎসায় ঔষধ ও সাইকোথেরাপি দুইই লাগতে পারে।সাইকোটিক উপসর্গ, উত্তেজনা কমানো ও ঘুমের জন্য ঔষধ দিতে হয়।কাউন্সেলিংটা মূলতঃ রোগির পরিবার-পরিজনদের জন্য বেশি জরুরি।রোগির বিবরণটা ভালভাবে জানতে হবে কেন তার কষ্ট বা দ্বন্ধ তৈরি হয়েছে-এটা সমাধান করতে হবে ভবিষ্যতে এরূপ উপসর্গ যেন আবার দেখা না দেয় তার জন্য।একটা মজার কথা উল্লেখ না করে পারছি না যারা প্রথাগত চিকিৎসা করে থাকেন(অর্থাৎ যারা ঝাড়-ফুঁক করেন) তারা অনেকসময় জ্বিন-ভূতের চাহিদা পূরণ করে রোগি ভাল করে থাকেন।আপাততঃ বিষয়টা হাস্যকর মনে হলেও কোন কোন মনোবিজ্ঞানী এটাকে এক ধরনের সাইকোথেরাপি মনে করছেন।হয়তো এ কারণেই এদের কাছে গেলে কখনও কখনও রোগি ভাল হয়ে যায়!

কোথায় চিকিৎসা পাবেন?-জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট,শ্যামলী,ঢাকা;বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউ. হাসপাতাল(পিজি হাসপাতাল)-এর মানসিক রোগ বিভাগে;সকল মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগে।এছাড়াও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ব্যক্তিগত চেম্বারে আপনি এ চিকিৎসা পাবেন।

সুতরাং যারা এই আর্টিকেলটা পড়ছেন তারা অন্যদেরকে সচেতন করে তুলুন এবং জ্বিনে ধরা রোগিদের চিকিৎসার জন্য একজন মনোচিকিৎসকের শরণাপন্ন হউন।আর্টিকেলটি পড়ার জন্য।

রেফারেন্স:
1.Clinical Psychology by A.K.Agarwal
2.Review of General Psychiarty by Howard H. Goldman

বি.দ্র: রুমা একটা কাল্পনিক চরিত্র।আর্টিকেলটি কেবলমাত্র সাধারণের সচেতনতা তৈরির জন্য লেখা হয়েছে;রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য নয়।

ছবিঃসকল ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে।এ আর্টিকেলটি কেবলই তথ্যমূলক;এর কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।তারপরেও কপিরাইট ভায়োলেশনের কারণে কারো আপত্তি থাকলে তা জানা মাত্র সে ছবি বা ছবিসমূহ এই আর্টিকেল থেকে অপসারণ করা হবে।(All the images in this article are collected from different web sites & have been used for non-commercial purposes.If anyone has any objection of using these images,I’m assuring their removal upon getting valid complaint)।

মন্তব্য ৬৬ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (৬৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৩০

চাঁদগাজী বলেছেন:



জ্বীন আদৌ আছে কিনা?

১৫ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫০

জাফরুল মবীন বলেছেন: মানুষ বড়ই কল্পনাপ্রবণ।দেখা ভূবনের বিষয়ের চেয়ে অদেখা ভূবনের বিষয়ের প্রতি টান অনেক বেশি।আর এই অদেখা ভূবনে বাস করে জ্বিন,পরী,ভূত,প্রেত,দৈত্য এমনকি সৃষ্টিকর্তা।এসব অদেখা উপাদান বাস করে মানুষের বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মাঝে।সুতরাং মানুষের মনোজগতে এদের অস্তিত্ব বিরাজমান- বিশ্বাসীদের মনে বাস্তবতা হিসাবে এবং অবিশ্বাসীদের মনে অবাস্তব হিসাবে।

২| ১৫ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৩৩

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

জ্বিন ছাড়ানোর নামে ফকির ওঝারা যা করে
তা নির্মম ও অমানবিক। আধুনিক মানুষেরা
কেন যে এখনো ভূতের ভয় ও জ্বিনকে ভয়পায়
বুঝিনা ।

১৫ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫১

জাফরুল মবীন বলেছেন: অনেক মানুষেরই আধুনিকতাটা বাহ্যিক।মনোজগত আধুনিক না হলে তার সকল অর্জনই বৃথা।

৩| ১৫ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৪০

ইসিয়াক বলেছেন: চমৎকার পোষ্ট।

১৫ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫২

জাফরুল মবীন বলেছেন: ধন্যবাদ সাহিত্যিক ইসিয়াক সুন্দর মন্তব্যটির জন্য।

৪| ১৫ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০০

রাজীব নুর বলেছেন: জিনটিন কিছু নাই। সব বাকোয়াস।

১৫ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনাকে প্রায়শই আমার পোস্টের মেরিটের বাইরে মন্তব্য করতে দেখা যায়।এ পোস্টটিতে সর্বসমাজে বিরাজমান একটা মানসিক রোগ ও তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং তার চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।জ্বিন আছে না নাই পোস্টটি সে বিষয়ে নয়।

৫| ১৫ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৮

আমি সাজিদ বলেছেন: সুন্দর বিশ্লেষন। আপনি কি সাইকিয়াট্রিস্ট?

১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১০:৪৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: পোস্ট পাঠান্তে প্রেরণাদায়ী মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সাজিদ।সাইকিয়াট্রি আমার অন্যতম প্রিয় বিষয়।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

৬| ১৫ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: জাফরুল মবীন,




অফলাইনে পড়েছিলুম বিকেলেই।
মানসিক রোগগুলির মধ্যের একটি নিয়ে ভালো লিখেছেন। মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যে সচেতনতার তাগিদ দেয়াটা ভালো লাগলো।

প্রসঙ্গক্রমে বলছি আপনি আমার এ লেখাটি একবার পড়ে দেখতে পারেন--ঠিক দুক্কুর বেলা ভুতে মারে ঢিল....

১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১১:০০

জাফরুল মবীন বলেছেন: আগে আপনার লিংকে গিয়ে আর্টিকেলটি পড়লাম।নিউরো অ্যনাটমি ও নিউরোফিজিওলজির এক অসাধারণ উপস্থাপনা।আপনি চাইলে ওটা রিপোস্ট করতে পারেন।অনেকের জন্যই শিক্ষণীয় হবে বলে মনে করি।ভেবে দেখবেন প্লিজ।

এবার নিজ টপিকে ফিরে আসি।আসলে মানসিক রোগগুলো আমাদের সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে বিরাজমান।অথচ আমাদের অসচেতনতার জন্য কত জীবন যে কষ্টে আছে তা বলে শেষ করে যাবে না।এমনকি অনেক জীবন নষ্টও হয়ে যাচ্ছে।তরুণ-তরুণীদের মাঝে একটা রোগ বেশ কমন তা হলো ‘লাভ অবসেসন’।আল্লাহ চাহেনতো মাত্র ৬টাকা দামের একটা ট্যাবলেট তাকে এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।অথচ এর জন্য কত শত জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।প্রায়শই এরকম ঘটনা পেপারে হেডলাইন নিউজ হয়।মানসিক রোগগুলো সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া খুব জরুরি।

ধন্যবাদ ভাই চমৎকার আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

৭| ১৫ ই মে, ২০২০ রাত ৯:১১

নেওয়াজ আলি বলেছেন: অসাধারণ লেখা ।শুভ কামনা

১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১১:০২

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রতিটি পোস্টে আপনার প্রেরণাদায়ী মন্তব্য আমাকে উজ্জীবিত করে।ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানবেন ভাই।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্যও।

৮| ১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১০:১৩

সোহানী বলেছেন: আমাদের দেশে এরকম কত ছেলে মেয়েদেরকে সত্যিকারের মানসিক রোগী বানিয়ে ছেড়েছে অশিক্ষিত ওঝারা।

ছোটবেলায় একবার এরকম জ্বীনে ধরা মেয়েকে দেখিছিলাম নানুর বাড়িতে। গলায় আধা কেজি তাবিজ ঝোলানো। নানুর কাছে জানতে চেয়েছিলাম কিভাবে ওকে জ্বীনে ধরলো? নানু তখন বলেছিল খোলা চুলে তেতুঁল গাছে নীচে সন্ধায় গেলে জ্বীনে ধরে। অনেক খুব ভয় পেয়েছিলাম তখন। যে কয়দিন ছিলাম সন্ধায় আর বের হতে চাইতাম না।

মনের মাঝে গেথেঁ গেছিল সে ভয়। তার অনেকদিন পর মার কাছে জানতে চেয়েছিলাম ওর কথা। মা তখন বললো আসল কাহিনী। ছেলে শহরে কাজ করে কিন্তু শাশুড়ি বৈাকে পছন্দ করে না। ছেলের পছন্দে এ বিয়ে। তারপর তাকে জ্বীনে ধরেছে বলে তাড়িয়ে দেয় মেয়েটিকে শাশুড়ি সহ সবাই। ছেলে কিছুই করতে পারে না।

চমৎকার একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন প্রিয় মবিন ভাই।

১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১১:২২

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন বোন।অশিক্ষা, কুসংস্কার আর অসচেতনতা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।গতকাল এক রোগি ফোন করে জানাল যে তার এক আত্মীয়ার সাথে ইটালি ফেরত এক ছেলের বিয়ে হয়েছে মাত্র ২ মাস আগে।ছেলে এখন বটি হাতে সবাইকে কোপাতে যায়।স্ত্রীকে প্রচন্ড সন্দেহ করে।অলৌকিক জিনিস দেখতে পায় এবং অলৌকিক কথা শুনে।বুঝতে পারলাম কেসটা সিজোফ্রেনিয়া।ছেলেটির বর্তমান বয়স ২৭।ছেলের বাবা-মা প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা খরচ করছে পীর-ফকিরদের পিছনে।কিন্তু ডাক্তার দেখায়নি।তাদের ধারণা ছেলেকে জ্বিনে ধরেছে।আমি বার বার জিজ্ঞেস করলাম এর আগে কোন সমস্যা ছিলো কিনা।সাফ জবাব ছেলে একেবারে নির্ভেজাল খাঁটি ছিল।অথচ সিজোফ্রেনিয়ার বেশকিছু উপসর্গ বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই দেখা যায়।এক পর‌্যায়ে স্বীকার করল সমস্যা আগে থেকেই ছিলো।বিয়ে দিলে ঠিক হয়ে যাবে এই শয়তানী পরামর্শে ছেলের বিয়ে দেয়।মেয়েটা মাত্র ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে।মেয়েটা যখন আমার সাথে কথা বলছিলো তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল।ছোট্ট একটা মেয়ের জীবন শুরুতেই তছনছ হয়ে গেল অসচেতনতায়।

আমাদের এসব রোগ ও সমস্যার বিষয়ে সচেতন হওয়া খুব খুব জরুরি।

আপনার মন্তব্যের উসিলায় একটি ভালো আলোচনা হলো।

ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানবেন।

৯| ১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১০:২২

জুন বলেছেন: রাত করে জ্বীনের গল্প :-&

১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১১:২৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: হা হা হা... হরর ইভেন্ট রাতেই জমে ভালো।আমি এমনও মানুষ দেখেছি ভূত এফএম এর পাগল শ্রোতা।লাইট জালিয়ে কম্বলের ভিতর ঢুকে ভূতের গল্প শুনবে আর কিছুক্ষণ পর পর ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠবে।

১০| ১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৩৭

আমি সাজিদ বলেছেন: আপনার সাথে জমবে ভালো। আমি একটা মাসিক মানসিক স্বাস্থ্য ম্যাগাজিনের ফিচার লেখি।

১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৪৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনি দারুণ একটা কাজে রত আছেন।অভিনন্দন আপনাকে।আপনার কর্মে পূর্ণ সফলতা কামনা করছি।

১১| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ১২:২২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আমি এ ধরনের ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর কিছু রোগী দেখেছি। ডাক্তারের চিকিৎসার বাইরে চলে গেছেন। যাকে বলে beyond treatment. হালকা স্তরের রোগীদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা কড়া ঘুমের ঔষধ দিয়ে থাকেন, এছাড়া রোগীর সাথে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করেন।

এখানে একজন মাত্র রোগীর কথা বলছি। সে রোগী প্রায় তিন বছর যাবত ঘুমাতে পারেনি। ব্লগে সঙ্গত কারণে ঘুমের ঔষধগুলোর নাম লিখছিনা। ঘুমের ঔষধ দিয়ে দিয়ে রোগীকে ডাক্তারগণ গিনিপিগে পরিনত করে শেষে ৩৫-৪০ বছরের রোগীকে শিশুতে পরিনত করেন। অবশেষে মৃত্যু।

আশার আলো এই যে, অধিকাংশ রোগী গল্পের রুমার মতো, তারা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার, হাতুড়ে কবিরাজ, হুজুর পীরের ঝাড়ুর পিটাতে ঠিক হয়ে যান, যারা সুস্থ হোন তারা সবাই বিয়ে ও পরিক্ষা সংক্রান্ত! রোগী।

মস্তিস্ক আস্ত একটি পাজল। যারা মস্তিস্ককে বেশী চাপ প্রয়োগ করেন তার ফলাফল ভয়ঙ্কর হয়।


১৬ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:৪৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: মানসিক রোগগুলোকে প্রধানত দুটো ভাগে ভাগ করা হয় ১)সাইকোটিক ডিসঅর্ডার- এক্ষেত্রে মানুষের চিন্তা-চেতনার বিকৃতি তাকে এমন পর‌্যায়ে নিয়ে যায় যে সে বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে; যেমন সিজোফ্রেনিয়া, অনমনীয় ভ্রান্ত বিশ্বাস বা ডিলিউসন, হ্যালুুসিনেসন বা অলীক জিনিস দেখা বা শোনা ইত্যাদি ২)নিউরোটিক ডিসঅর্ডার- এক্ষেত্রে রোগি জীবনের বাস্তবতার সাথে সম্পর্ক রেখেই চলে তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপে নানা ধরনের উপসর্গ তৈরি করে; যেমন বিষণ্নতা, শুঁচিবাই, ভয়ংকর অভিজ্ঞতা পরবর্তী অসুস্থতা(পোস্ট ট্রমাটিক ট্রেস ডিসঅর্ডার), ইনসোমনিয়া (নিদ্রাহীনতা) ইত্যাদি।আবার কিছু রোগ আছে যাতে উভয় ধরনের উপসর্গ থাকতে পারে যেমন জ্বিনে ধরা।

ডায়াবেটিস, হাইপারটেনসন, আর্থ্রাইটিস, হাঁপানি এধরনের রোগগুলো যেমন পুরোপুরি ভাল হয়ে যায় না ঠিক তেমনি অনেক মানসিক রোগই পুরোপুরি ভাল হয় না এবং ঔষধ বা সাইকোথেরাপির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে রাখা হয়।

আবার এমন কিছু শরীরের রোগ আছে যেগুলো বেশি খারাপ পর‌্যায়ে চলে গেলে আর ভালো করা যায় না।ঠিক তেমনি এমন কিছু মানসিক রোগ আছে যেগুলো আর চিকিৎসায় কোন পরিবর্তন হয় না।যেমন সিজোফ্রেনিয়ার ৩০-৪০% রোগি কখনোই ভাল হয় না।আমরা রাস্তাঘাটে যেসব পাগল/ন্যাংটা পাগল দেখি এরা হলো সে ধরনের সিজোফ্রেনিয়ার কেস।

ডাক্তারদের হাতে মানসিক রোগ চিকিৎসার জন্য মাত্র ৩ধরনের ঔষধ আছে ১)অ্যান্টিসাইকোটিক ২)অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট ৩) সিডেটিভ-হিপনোটিক (এগুলো মূলত ঘুমের ঔষধ হিসাবে বিবেচিত)

যেহেতু অধিকাংশ মানসিক রোগের অন্যতম প্রধান উপসর্গ ঘুম না হওয়া তাই এই তিন প্রকারের যে কোন ঔষধ প্রয়োগ করলেই রোগির ঘুম বেড়ে যেতে পারে।তাছাড়া স্লিপ ডেট বলে আরেকটা বিষয় আছে।যদি কেউ কোন কারণে প্রয়োজনীয় ঘুমটুকু না ঘুমাতে পারেন ব্রেন সেটা মেমরিতে রাখে।পরবর্তীতে সুযোগ পাওয়া মাত্রই সে ঘুম পুষিয়ে নেয়।যেহেতু মানসিক রোগিরা দীর্ঘদিন
ঠিকমত ঘুমাতে পারেন না,তাই যখন ঔষধ প্রয়োগে রোগির উন্নতি হতে শুরু করে তখন ব্রেন তখন ঘুমের ঋণ আদায় করে।ফলে রোগি অতিরিক্ত ঘুমাতে পারেন।

আরেকটা সমস্যা হলো অনভিজ্ঞ কিংবা নীতিহীন ডাক্তার অনেক সময় যে কোন মানসিক সমস্যায় তিন ধরনের ঔষধই একসাথে প্রয়োগ করেন যাতে কেস ফেল না করে।এতে রোগ ও রোগির দুটোর দীর্ঘমেয়াদে বারোটা বাজে। মানসিক রোগিদের প্রেসক্রিপসনে আজকাল এ ধরনের পলি ফার্মেসি ভুরি ভুরি দেখা যায়।

আরেকটি সমস্যা হলো সঠিক চিকিৎসক নির্বাচন।অনেক মানসিক রোগ বা সমস্যা আছে যেখানে কোন ঔষধই লাগে না কেবল কাউন্সেলিংই যথেষ্ট।কাউন্সেলিং করেন মূলত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা (উনারা ডাক্তার নন) এবং ঔষধি চিকিৎসা করেন কেবলমাত্র সাইকিয়াট্রিস্টরা (উনারা ডাক্তার)।এখন অপেশাদার আচরণে অনেক সময় এ দু পেশার লোক একজন আরেকজনের পরিপূরক না হয়ে প্রতিদন্ধী হয়ে যান।এতে রোগি সুস্থতা লাভ করে না।

আশার কথা হলো মনোরোগবিদ্যায় যথেষ্ট গবেষণা হচ্ছে।নতুন অনেক তথ্য জানা যাচ্ছে এবং অনেক নতুন ঔষধও আসছে।সবচেয়ে বড় কথা বিশ্বব্যাপি এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর নানা উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।যে কোন সময়ের তুলনায় এখন মানসিক রোগের চিকিৎসার প্রসারতা বেড়েছে।এখন চিকিৎসকরা যদি পেশাদার ও মানবিক হয় এবং মানুষ যদি সচেতন হয় এবং রাষ্ট্র যদি পৃষ্ঠপোষকতা করে তাহলে অনেকেরই জীবনকে প্রায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার মন্তব্যের কারণে অনেক কিছু আলাপ করা গেল।অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১২| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ১:৪৭

সোহানাজোহা বলেছেন: পুরো গল্প পড়েছি। দু একজন ব্লগার ব্যতীত গল্পের কারণ আর কেউ বুঝতে পেরেছেন বলে মনে হচ্ছে না। মানসিক সমস্যা শিকড়ের মতো পুরোপুরি সুস্থ হবার না। বাদবাকি ব্লগার ঠাকুরমাহমুদ স্যার যা বলেছেন তাতে আমিও একমত পোষণ করছি।


মস্তিস্ক আস্ত একটি পাজল। যারা মস্তিস্ককে বেশী চাপ প্রয়োগ করেন তার ফলাফল ভয়ঙ্কর হয়। আমি মনে করি ফুল পোস্টের মর্ম এই এক কথায় ধরা হয়েছে। সবাইকে শুভ কমানা।

১৬ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:০৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: ব্লগ উপস্থাপক হিসাবে আমার দায়িত্ব লেখনির উপাদানকে সর্বজনগ্রাহ্য করে উপস্থাপন করা।সেটা না করতে পারার প্রাথমিক ব্যর্থতা আমার।সেজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।তবে পোস্টটি পড়ে যদি একজনও উপকৃত হয় সেটাকেও আমি একটা অর্জন হিসাবে দেখতে চাই।মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে কুসংস্কার এতটাই জড়িয়ে আছে যে এ দু উপাদানকে আলাদা করা খুবই কঠিন একটা কাজ।কিন্তু কাজ যতই কঠিন হোক স্বাস্থ্যবান সমাজ গঠনের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে সচেতনদের।মানসিক সুস্থতা একটা ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।তা না হলে অসুস্থরা সুস্থদেরকেও অসুস্থ বানিয়ে ফেলবে।

চমৎকার একটা আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে আপনাদের মন্তব্যের কারণে।ধন্যবাদ বোন সোহানাজোহা।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য।

১৩| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ১:৫৯

হবা পাগলা বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: মস্তিস্ক আস্ত একটি পাজল। যারা মস্তিস্ককে বেশী চাপ প্রয়োগ করেন তার ফলাফল ভয়ঙ্কর হয়।

মস্তিস্ককে বেশী চাপ প্রয়োগ বলতে কি বুঝান হয়েছে?
সূক্ষ্মদৃষ্টি, সৃজনশীলতা, সময়ের অভাবে দ্রুত কাজ (মানসিক পরিশ্রম )করার ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ, এই গুলি কি চাপ প্রয়োগ ? অনুগ্রহ করে বিস্তারিত লিখুন।


১৬ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:২৬

জাফরুল মবীন বলেছেন: ব্লগার ঠাকুরমাহমুদ আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ১৬ নং কমেন্টে।আশা করি পড়ে দেখবেন।

আমাদের ব্রেন যথেষ্ট পরিমাণ মানসিক চাপ স্ট্রেস সহ্য করার ক্ষমতা রাখে।সুতরাং দৈনন্দিন জীবনে যেসব মানসিক চাপ তৈরি হয় তা ক্ষতিকর নয়।কিন্তু কোন কারণে মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কমে গেলে কিংবা ব্রেনের সক্ষমতার অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি হলে সমস্যা হতে পারে।বিষয়টা অনেকটা শারীরিক পরিশ্রমের মত।অতিরিক্ত কাজ করলে যেমন দূর্বল লাগতে পারে।আবার দূর্বল শরীরে স্বাভাবিক কাজ করলেও খারাপ লাগতে পারে।এজন্য স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল মানসিকভাবে সুস্থ থাকার ভালো একটি কৌশল।প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো বেশকিছু মানসিক রোগ আছে যেগুলো বংশগত।আবার কিছু মানসিক রোগ আছে যেগুলো মূলত দেহের হরমোন বা নিউরোহরমোনের ভারসাম্যহীনতায় তৈরি হয়।তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানসিক চাপ মানসিক রোগ বিকাশ কিংবা তীব্রতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

ধন্যবাদ ভাই আপনার জানার আগ্রহের জন্য।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৪| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ২:৫৩

নতুন বলেছেন: সমাজে জ্বীনে ধরেছে বলে অনেক ছেলে মেয়েকে পরিবার, সমাজ অত্যাচার করছে।

কিছু মানুষ আছে যারা কিন্তু সত্যিই বিশ্বাস করে তারা জ্বীনে ধরানো সারাতে পারে। ফেসবুকে কিছু গ্রুপ আছে যারা রুকিয়া করে থাকে ঐখানে আলোচনায় বোঝা যায় ঐসব মানুষরা বিশ্বাস করে তারা ধমীয় তরিকাতে জীনে ধরা সারাতে পারে।

আরো ভয়ের বিষয় হলো ঐ সব গ্রুপে হাজার হাজার মানুষ ফলোকরে :(

১৬ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৫৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই খুবই বাস্তব একটা বিষয় তুলে ধরার জন্য।জ্বিনে ধরা রোগিদের যেভাবে অত্যাচার করা হয় তা এককথায় অমানবিক।আর যেহেতু মানসিক রোগ মেয়েদের বেশি হয় সুতরাং তাদের প্রতি আচরণ আরও রূঢ় হয়।ব্রেন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে অনেকগুলো কৌশল অবলম্বন করে।ডিসোসিয়েটিভ ডিসঅর্ডারগুলো হচ্ছে সে ধরনের প্রক্রিয়া।কিন্তু শরীরে যদি তীব্র ব্যাথা তৈরি করা যায় তাহলে ব্রেনের এই কাজটি ওভারড্রাইভ হয়।আর এ কারণেই ঝাড়ফুঁককারীরা সফলতা অর্জন করে।অথচ শুধুমাত্র বাস্তব পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে এবং দ্বন্ধ বা চাপের কারণ দূর করে প্রায় সব রোগিকে বিনা ঔষধেই ভালো করা সম্ভব।

নূরা নাস ও সূরা ফালাক্ব হলো আল্লাহর শিখিয়ে দেওয়া দুয়া করার পদ্ধতি। এখানে সৃষ্টি জগতের সকল ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয় (মিন-থেকে, শাররি-ক্ষতি, মা খলাক্ব-সৃষ্টিসমূহ)।আশ্রয় প্রার্থনা করা জিন ও মানুষের অনিষ্ট থেকে (মিন-থেকে ,আল জিন্নাতি- সকল জিন, উয়া-এবং, নাস-মানুষ)।এটা দুয়া।তাবিজের উপাদান নয়।

নিঃসন্দেহে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার মানসিক রোগিদের সুস্থতার পথে বিরাট বাঁধা।দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের দেশে সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বাড়ছে কিন্তু জ্ঞানী বাড়ছে না।অথচ সঠিক জ্ঞানই মানুষকে আলোর পথ দেখাতে পারে।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৫| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৩৫

সুপারডুপার বলেছেন:



এতো কিছুর দরকার কী ! নেয়ামূল কোরআন অনুসারে ঝাড়ফুঁক দিলেই তো কিচ্ছা খতম !
তবে জ্বীন তাড়ানোর চেয়ে জ্বীন পুষে দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মানের কাজে লাগানো যেতে পারে , যেমনঃ কাজে লাগিয়েছিলেন সুলায়মান (আ.) (রেফঃ কোরান সূরা সাবা ১২-১৩)।

করোনার সময় ইন্ডাস্ট্রি গুলো চালিয়ে নেওয়ার জন্য জ্বীনদের খুবই দরকার।

১৬ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:০১

জাফরুল মবীন বলেছেন: নিয়ামূল কুরআন, আমালি কুরআন, বেহেশতী জেওর.. এসব বই পড়ে মানুষ বিভ্রান্ত হয়।আর এগুলোই জনপ্রিয় বই।বিশেষত ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ বিভ্রান্ত হতে খুব পছন্দ করে।যেসব জ্বিনের বাদশা সারাবছর মানুষের পকেট কাটে জ্বিন চালান দিয়ে তাদের এই করোনা মহামারীতে বাধ্যতামূলক কাজে লাগানো উচিৎ।

১৬| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৫৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ভাই হবা পাগলা, উদহারণ: মনে করুন আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি আপনার বড় ভাই দখল করে বসে আছেন, আপনার ভাগ শত সহস্র চেষ্টা চরিত্র করেও পাচ্ছেন না। এদিকে আপনার বাসার নুন আনতে গিয়ে মানিব্যাগ পকেটমারে হাওয়া করেছে। পরিবারে সদস্য সংখ্যা ১১ জন তারমধ্যে আপনার বড় ছেলে বিয়ে করে হাপিস হয়ে গেছেন। অথচ বাসায় তিন তিনজন বিবাহযোগ্যা কন্যা তারা কাউকে ধরে হাপিস হতে পারছেন না। আপনার হাই সুগার, হাই বিপি মাথার চুল পরে আপনি ভাই থেকে কবে যেনো চাচামিয়া হয়ে গেছেন, তারমধ্যে আপনার চাকরি যাই যাই সহ আরো হাজারো সমস্যা। এ অবস্থায় আপনার যে ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে তাতে করে আপনার মস্তিস্ক ব্রেক ফেইল করতে পারে। আর একেই বলে মস্তিস্কের উপর অধিক চাপ। - আপনার আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা দিতে পারে অথবা নিজে নিজে কথা বলার প্রবণতা। পরিবার পরিজন ভাববেন আপনাকে সম্ভবত জ্বীনে ধরেছে - শুরু হবে উঝা ঝাড় ফুক পীর হুজুর দরবার শরিফ।

১১ নং এতোবড় মন্তব্য পড়ে যেই ব্লগার বুঝতে পারছেন না, তিনি আর বোঝার প্রয়োজন নেই। এই মন্তব্যও কারো কারো জন্য মানসিক চাপে পরিণত হতে পারে, তাতে হতে পারেন গল্পের রুমা।

জাফরুল মবীন ভাই, ব্লগ নিয়ে উচ্ছাস করার কিছু নেই আমি ব্লগারদের প্রায় ১২ বছর যাবত চিনি। লেখার অর্থ খুব কম মানুষ ধরতে পারেন। এই মন্তব্য ব্লগার সোহানাজোহা বলে গেছেন। আমিও ব্লাগরদের মন্তব্য পড়ে তাই ধারণা করছি। জ্বীন এখানে মাইনর বিষয় আর মানসিক সমস্যাটি মেজর, অথচ সবাই জ্বীনকে মেজর ধরে মানসিক সমস্যাকে মাইনর করে বসে আছেন।

@নূর মোহাম্মদ নূরু ভাই, আপনি কি নাস্তিক?

সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

১৬ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:৩১

জাফরুল মবীন বলেছেন: “জাফরুল মবীন ভাই,ব্লগ নিয়ে উচ্ছ্বাস করার কিছু নাই”--- নাই মানে????অবশ্যই আছে।আমার এই পচা লেখাটি ব্লগারদের মতামতের প্রেষণে আজ ‘সর্বাধিক মন্তব্য প্রাপ্ত ব্লগ’ হিসাবে ব্লগ পাতার ডান পাশের ঝুড়িতে যায়গা পেয়েছে।ইহা একটি বিরাট অর্জন!!! সকল ব্লগার ভাইবোনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আসেন আসেন সবাই আসেন।মন্তব্যের ঘরে আগুন/পানি যা পারেন ঢালেন। হা হা হা..

“নূর মোহাম্মদ নূরু ভাই,আপনি কি নাস্তিক?” -সন্দেহে ফেলে দিলেন।নূরু ভাইকে আলিম মানুষ ভেবে কুরআনের আরবি ভাষা শেখার পোস্টটা উৎসর্গ করলাম।তিনি আমার সব পোস্টে মন্তব্য করলেও সেখানে গেলেন না। :-( :-( :-(

উপরের উভয় অংশই জাস্ট ফান করে লেখা।দয়া করে কেউ সিরিয়াসলি নিয়েন না :-)

১৭| ১৬ ই মে, ২০২০ ভোর ৪:১১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




@সুপারডুপার ভাই, আপনি আত্মনির্মান কোর্স করা মানুষ। মস্তিস্কের পাজল সম্পর্কে আপনি ভালো জানেন। তারপর ও যদি পোষ্টের মূল বিষয় ছেড়ে জ্বীন নিয়ে পরে থাকেন তাহলে বলতে হয় “ইয়া আল্লাহ আমাদের ব্লগার সুপারডুপার ভাইকে সুন্দরী জ্বীন দ্বারা কোহ্কাফ নগরে উঠাইয়া নিয়া যাও” - আল্লাহ মনে হয় ডাক শুনেছেন!

জাফরুল মবীন ভাই, ব্লগার সুপারডুপার ভাই আমার খুব পছন্দের একজন ব্লগার এবং তিনি একজন কোয়ান্টাম মেথড গ্র্যাজুয়েট। মস্তিস্ক সম্পর্কে তিনি বেশ ভালো ধারণা রাখেন।

শুভকামনা রইলো।

১৬ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:৩৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: ব্লগার সুপারডুপার এর আরেকটি সুপার পাওয়ারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ভাই।

১৮| ১৬ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:১২

সুপারডুপার বলেছেন:



@মাহমুদ ভাই,

আমি ওটা সিরিয়াস কথা বলে মজা করেছি, এই জন্য যে অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষরাও এই ধরণের সমস্যা দেখা দিলে তাদের মাথায় প্রথম ক্লিক করে জ্বীন। কেন তাদের মাথায় প্রথম ক্লিক করে না এটা একটা মানসিক সমস্যা? কারণ ঐ মজাকে তারা গভীরভাবে বিশ্বাস করে। আর এটাই হচ্ছে ভ্রান্ত বিশ্বাস। আত্মনির্মানের মূলসূত্রও এই ধরণের সকল ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে দূরে থাকা।

ভালো থাকবেন মাহমুদ ভাই।

=========================================================================
সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন কর্মব্যস্ত সুখী জীবন-এই অপূর্ব ছন্দে একাত্ন হয়ে সুখ-সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবেন এই শুভকামনা করি।

১৯| ১৬ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:৩১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




@সুপারডুপার ভাই, আমি আপনার মন্তব্য বুঝতে পেরেছি প্রথমেই। করোনাতঙ্কে আমাদের আানন্দ চলে গেছে কোথায় তা জানিনা, আর কখনো ফিরে আসবে কিনা তাও জানিনা। সমস্যা হচ্ছে জ্বীন পরি হতে সাবধান থাকবেন বলা যায় না আপনাকে কোহকাফ নগরে উঠিয়ে নিয়ে যেতেও পারে। (আমিও খানকিটা মজা করেছি আপনার মন্তব্যে)

প্রসঙ্গে আসা যাক মানুষের মন কোনো না কোনোভাবে দুর্বল থাকে অতিরিক্ত মানিসক চাপে হিতে বিপরীত হতে দেখা যায়। আর একবার মাইন্ড ট্রাফিক লক হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকে না। খুব কম রোগী সেখান থেকে ফিরে আসতে দেখা যায়।


২০| ১৬ ই মে, ২০২০ দুপুর ১২:০৭

পুলক ঢালী বলেছেন: জ্বীনে ধরা এটা মানসিক বৈকল্যের নাম।
আপনি যেমন বলেছেন সচেতন মনে অবস্থান করলে বিশ্বাসটি বাস্তবে জ্বীন দেখাতে পারে অবচেতন মনে অবস্থান করলে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে তা আত্মপ্রকাশ করতে পারে। খুব সুন্দর উদাহরন দিয়ে লেখাটি প্রস্তুত করেছেন যা বাস্তবের ভুল ধারনাগুলিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
আমি আসলে কারন নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি।
আমরা সারাক্ষণ যে পৃথিবীতে যে দেশে যে সমাজে যে মূল্যবোধ নিয়ে বসবাস করছি প্রতিদিনই সেই মূল্যবোধকে ক্ষতবিক্ষত বা লুন্ঠন হতে দেখছি যা প্রতি মুহূর্তে মানসিক চাপ তৈরী করছে। বোধ বা অনুভূতি বলছে এই কাজটি ঠিক নয় বা উচিৎ নয় কিন্তু উচিৎ অনুচিতের গন্ডি পেরিয়ে চাপে পড়ে সেই কাজটি করতে হবে বা করতে হচ্ছে।
এরকম ভূরি ভূরি উদাহরন রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে আমরা সবাই যেন মানসিক রোগী। উচিৎ অনুচিতের দ্বন্দ যেখানে বেশী মানসিক বৈকল্যের পরিমান ও যেন সেখানে বেশী।
আপনার সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:৫৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার প্রতিটি কথার সাথে একমত।আমাদের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা খুবই কঠিন।সামনে তো আরো কঠিন সময় আসছে বলে সারা বিশ্বের বড় বড় সব স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

পোষ্ট পাঠ ও সুচিন্তিত মতামতের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই পূলক ঢালী।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২১| ১৬ ই মে, ২০২০ দুপুর ১২:৪৮

সুপারডুপার বলেছেন:



@মাহমুদ ভাই,

আপনি বলেছেন: প্রসঙ্গে আসা যাক মানুষের মন কোনো না কোনোভাবে দুর্বল থাকে অতিরিক্ত মানিসক চাপে হিতে বিপরীত হতে দেখা যায়। আর একবার মাইন্ড ট্রাফিক লক হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকে না। খুব কম রোগী সেখান থেকে ফিরে আসতে দেখা যায়।

- এটা ঠিক হলে যেকোন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাইন্ড ট্রাফিক লক হওয়ার সম্ভবনা বেশি। বরং তা না হয়ে অশিক্ষা কুশিক্ষায় ভোগা, কুসংস্কারে বিশ্বাসী ও অপুষ্টিতে ভোগা মানুষদের এই রোগ বেশি দেখা দেয়। আমার মনে হয় মস্তিষ্ককে কে কিভাবে ব্যবহার করছে ও কিভাবে আবেশিত করছে তার উপর নির্ভর করে। আর যদি জিনগত রোগ হয় তাহলে খুবই কমপ্লিকেটেড, তখন ফিরে আসাটা অনেক অনেক কঠিন।

মস্তিষ্ক কিভাবে আবেশিত হয় তা Bhool Bhulaiyaa (2007) মজার হিন্দি ফিল্মে আমরা কিছুটা বুঝতে পারি।

@জাফরুল মবীন ভাই,
আপনি বলেছেন : 'একটা মজার কথা উল্লেখ না করে পারছি না যারা প্রথাগত চিকিৎসা করে থাকেন(অর্থাৎ যারা ঝাড়-ফুঁক করেন) তারা অনেকসময় জ্বিন-ভূতের চাহিদা পূরণ করে রোগি ভাল করে থাকেন।আপাততঃ বিষয়টা হাস্যকর মনে হলেও কোন কোন মনোবিজ্ঞানী এটাকে এক ধরনের সাইকোথেরাপি মনে করছেন।হয়তো এ কারণেই এদের কাছে গেলে কখনও কখনও রোগি ভাল হয়ে যায়! '

- এই ধরনের সাইকোথেরাপি বেশির ভাগ সময়-ই শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন। এর উপর ব্লগার রাজীব নূরের পোস্ট জ্বীনের ক্ষমতা- ১, জ্বীনের ক্ষমতা- ২ পড়তে পারেন।

১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:০৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: জ্বিনে ধরা রোগির চাওয়া পূরণ করলে রোগি সাময়িক অনেকটা শান্ত থাকে এ বিষয়টার ব্যাপারে বলা হয়েছে।কোন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নিযাতন কোন সভ্য সমাজেই গ্রহণযোগ্য নয়।ধন্যবাদ ভাই কষ্ট করে পুনরায় পোস্টে এসে আলোচনা করার জন্য।

ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন এ শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২২| ১৬ ই মে, ২০২০ দুপুর ১:১২

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমাদের সমাজে অনেক রকমের ভুল প্র্যাকটিস আছে। এটা তাদের অন্যতম। বিস্তারিত এবং তথ্যপূর্ণ একটা পোস্ট।

আপনার কাছে একটা প্রশ্নঃ আমরা, মুসলমানরা যেহেতু জ্বীনের অস্তিত্ব বিশ্বাস করি, আপনার কি মনে হয়......জ্বীন সত্যি সত্যিই কোন মানুষের উপরে ভর করতে পারে? বা করে??

১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৩০

জাফরুল মবীন বলেছেন: মানসিক রোগগুলোর ব্যাপারে অসচেতনতা ও কুসংস্কার এসব রোগের বিস্তারে বড় ভূমিকা পালন করেছে এবং করছে।

বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার একটা কথা প্রায়ই মনে হয় বাস্তবতার বাইরে মানুষ কল্পনা করতে পারে না।আপাতত যেটাকে অলীক কল্পনা মনে হচ্ছে তা একদিন বাস্তব হয়ে দেখা দিতে পারে।জুলে ভার্ণ এর ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে।জ্বিন, ফেরেশতা, সাত আসমান এসব বিষয়ে আমার কিছু ব্যক্তিগত গবেষণা আছে যেটা আরও বিস্তৃত করা দরকার।লেখার উপযোগি হলে সেটা উপস্থাপন করব ইং শায়া আল্লাহ।আমি যতটুকু বুঝেছি গাঠনিক উপাদান সেরকম হলে দেহ দেয়াল সব ভেদ করে যাওয়ার মত ক্ষমতা থাকা অবাস্তব নয়।তাছাড়া ঘুমে একটা পযায় রয়েছে যেটাকে ‘র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ’ বলে।এসময় আমাদের ব্রেনে একটা অদ্ভূত ঘটনা ঘটে।এ সময় আমরা জীবন্ত স্বপ্ন দেখে থাকি।এসময় অনেকে অদেখা জগতে ঘুরে বেড়ায় বা দেখতে পায় বলে দাবী করে।বিষয়টা একেবারে ফেলনা নয়।এ বিষয়ে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটা গবেষণাও আছে।

আপনার জানার আগ্রহই আপনাকে পথ দেখাবে ইং শায়া আল্লাহ।

পোস্ট পাঠ ও মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২৩| ১৬ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:৫০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: মনোজগত আধুনিক না হলে তার সকল অর্জনই বৃথা। অসাধারন বলেছেন।
আমি একজন কেমিস্ট্রির লেকচারারকে উনার বউএর জীন তাড়ানোর জন্য তাবিজ নিতে দেখেছি।
বার বার পড়ে রপ্ত করার জন্য পোস্ট প্রিয়তে নিলাম।

১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৩৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: অনেকেই বলে শিক্ষার আলোই কুসংস্কার দূর করতে পারে।আমি এবিষয়ে দ্বিমত পোষণ করি।আর সেটার বাস্তব উদাহরণ আপনার এই কেমিস্ট্রির লেকচারার।একমাত্র জ্ঞানের আলোয় কুসংস্কার দূর করতে পারে।আমরা উচ্চ শিক্ষিত হচ্ছি কিন্তু সাধারণ জ্ঞানীটুকুও হওয়ার চেষ্টা করছি না।

আপনার মন্তব্য সবসময়ই প্রেরণা দেয়।আজকেরটিও তার ব্যতিক্রম নয়।

অসংখ্য ধন্যবাদ।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২৪| ১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৩:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: আপনাকে প্রায়শই আমার পোস্টের মেরিটের বাইরে মন্তব্য করতে দেখা যায়।এ পোস্টটিতে সর্বসমাজে বিরাজমান একটা মানসিক রোগ ও তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং তার চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।জ্বিন আছে না নাই পোস্টটি সে বিষয়ে নয়।

প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।
মানসিক রোগ বা ৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে আমার কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু আপনি শিরোনামেই লিখেছেন জ্বিনে ধরা একটি মেয়ের গল্প

১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৪৬

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনাকে যে বিষয়টা বলেছি সেটা আপনি এখনও বোঝেননি।১২ ও ১৬ নং কমেন্টে যথাক্রমে ব্লগার সোহানাজোহা ও ব্লগার ঠাকুরমাহমুদ কিছু কথা বলেছে ব্লগারদের পোস্ট উপলব্ধির ব্যাপারে।আপনাকে নতুন করে বলার কিছু নেই।

২৫| ১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:১৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
চিকিৎসার নামে মানুষের উপর অত্যাচার চালায়।

১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৪৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: সত্যি কথা।একারণেই আমাদের সচেতন হওয়া দরকার।

পাঠ ‍ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২৬| ১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:২৩

জুন বলেছেন: প্রিয় ব্লগার জাফরুল মবীন, খুব মনযোগ দিয়ে এই দিন দুপুরে আপনার লেখাটি পড়লাম। এই মানসিক রোগটিকে জ্বিনে ধরা, ভুতে ধরা বলে বলে কারো কারো উপর কি অমানুষিক নির্যাতন চলে এক্সা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। প্রাসংগিক বলে নীচে আমার লেখার একটি লিংক দিলাম যেখানে একটি মেয়ে এমন পরিস্থিতিতে পরে। মেয়েটির অংশটি সত্য ঘটনা কিন্তু। সময় থাকলে পরতে পারেন।

view this link

১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:০৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: হ্যাঁ আপনার লিংক ফলো করে কাওসার আপার কাহিনী পড়লাম।জ্বি এটাই সেই জ্বিনে ধরা।কিন্তু একটা জিনিস অবাক লাগে ডিসোাসিয়েটিভ ডিসঅর্ডার (একসময় যেটাকে হিস্টিরিয়া বলা হত) এর রোগিনিরা অনেক ক্ষেত্রেই খুব সুন্দরী হয়।সুন্দরীরের কি ব্রেনে কোন দূর্বলতা আছে নাকি সৌন্দযই তার মানসিক দ্বন্ধ তৈরিতে ভূমিকা রাখে?

একটা বাস্তব কেস হিস্ট্রি জানার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন এ শুভকামনা রইলো অফুরন্ত।

২৭| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ১১:২৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




@সুপারডুপার ভাই,Bhool Bhulaiyaa (2007) ছবিটি আমি দেখেছি।
মজাদার এবং বাস্তব সম্মত। মানসিক রোগের অনেক রোগী এই ধরনের শকে সুস্থ হোন তবে তাও বিরল ঘটনা। একটি ব্যাপার উল্লেখ্য করছি মানুষের ধৈর্যের একটি সীমা আছে আর এই সীমা যখন অতিক্রম করে/আশাহত হোন/বারবার ভুল করেন তখনি মানুষ মানসিক বৈকল্য সহ মানসিক রোগে ভোগেন। সবার ধৈর্য একরকম সমান হয়না।

হ্যালুসিনেশন, ডিলিউশান সহ বিভ্রম মরিচিকা এছাড়া দুঃস্বপ্ন নিয়ে লেখার মতো অনেক বিষয় ও ঘটনা আছে কিন্তু এই ধরনের লেখা ব্লগারগণ বুঝবেন না - শুরু হবে অদ্ভুৎ ঝামেলা।

আমি দেখেছি ব্লগে আসলে সবাই রাজনীতি আর ধর্ম বেশী বোঝেন এবং এ জাতিয় পোস্ট আশা করেন বেশী। আর আমি রাজনীতি নিয়ে আর কিছু লিখতে চাচ্ছি না। পুরোপুরি অবসর নিয়েছি।

ধন্যবাদ সুপারডুপার ভাই। ধন্যবাদ জাফরুল মবিন ভাই।



১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:১৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: জ্ঞানবিহীন পান্ডিত্য দেখানোর জন্য ২টা সহজ প্ল্যাটফর্ম আছে ১)ধর্ম ২)রাজনীতি - পক্ষে কিংবা বিপক্ষে। কিন্তু জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে না গেলে কতটা পিছিয়ে পড়তে হয় সেটা অনেক জাতি বা সমাজকে হাড়ে হাড়ে টের পেতে হচ্ছে।আপনি নিশ্চিত থাকুন ব্লগে অনেক বিদ্বান আছেন এবং ব্লগ কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে সচেতন।ব্লগের স্টিকি পোস্টগুলোর দিকে তাকালেই সেটা বুঝতে পারবেন। সুতরাং জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকে ছড়িয়ে দিন এবং এ বিষয়ে যা জানেন লিখুন।

আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই আপনাকেও।

২৮| ১৭ ই মে, ২০২০ রাত ১২:১০

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: জ্বীন অবশ্যই আছে আর ফিমেল যদি পরি হয় সেটিও আছে। বাকি সব বাকওয়াস দৈত্য দানব আরকি । ওগুলো রূপকথার কল্পরাজ্যে বাস করে। জ্বীনের চিকিৎসা করতেন মরহুম হরমুজুল্লাহ হুজুর। তিনি প্রায় এক শ' বছর বেঁচে ছিলেন। কমপক্ষে পঞ্চাশ বছর নামাজের জামাত মিস করেন নি। উনি জ্বীন দেখতেন।

১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:২৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: ভাই পরীর ব্যাপারে আমার আগ্রহটা বেশি (থুক্কু পরিমণি না কিন্তু অরিজিন্যাল জ্বিনদেশের পরী) :-) :-) :-)

জ্বিন নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কিছু গবেষণা চলমান আছে।বিষয়টিতে সময় দিতে পারি না।প্লাজমা ব্লব কিন্তু আমাদের চারপাশে আছে অথচ আমরা দেখতে পাই না।কোন কোন বিজ্ঞানী বলছেন এদের নাকি অনুভূতি আছে।আগ্রহটা সেখান থেকে।

২৯| ১৮ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৪১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




লেখক বলেছেন: জ্বিন নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কিছু গবেষণা চলমান আছে।বিষয়টিতে সময় দিতে পারি না।প্লাজমা ব্লব কিন্তু আমাদের চারপাশে আছে অথচ আমরা দেখতে পাই না।কোন কোন বিজ্ঞানী বলছেন এদের নাকি অনুভূতি আছে। আগ্রহটা সেখান থেকে।

সত্যি সত্যি আগ্রহ থাকলে আমি ঢাকার দুটো ঠিকানা দিবো, আপনি সেখানে যেতে পারেন, হয়তো তাদের সাথে সাক্ষাত হয়েও যেতে পারে। আর যদি সাক্ষাত নাও হয় তারপরও আপনি বুঝতে পারবেন আশে পাশে কেউ আছে - ছিলো।

১৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:৪৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: ভাই ঠাকুরমাহমুদ আমি একজন মেডিক্যাল রিসার্চার।যে কোন বিষয়ে গবেষণার জন্য বৈজ্ঞানিক সমাজে একটা আদর্শ বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি রয়েছে।এর বাইরে যে কোন তথ্য যত বাস্তবভাবেই উপস্থাপনা করা হোক না কেন তা আমাদের বৈজ্ঞানিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হবে না।করোনার টিকার ক্ষেত্রেই দেখুন।ইতোমধ্যে করোনার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে এরকম টিকা তৈরি করা হয়েছে।চারিদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাওয়ার পরও তা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে বাজারে আনতে কমপক্ষে ১ বছর বেশি সময় লাগবে।বিজ্ঞানে আবেগের যায়গা নেই।গবেষণার জন্য অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার বিকল্প নেই এবং সেটা ধীর প্রক্রিয়া। গুগল ঘেঁটে কিংবা ‘আমি যা বুঝি সেটাই ঠিক’ এরকম ভেবে পান্ডিত্য দেখাতে গেলে সেটা মূর্খতা হিসাবেই বিবেচিত।আমাদের দেশে এরকম জ্ঞানী বেড়ে যাওয়ায় সমাজে বিশৃংখলা ও অশান্তি তৈরি হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা একটা ধীর প্রক্রিয়া।বৈজ্ঞানিক গবেষণার ১ম ধাপ হচ্ছে পর‌্যবেক্ষণ, ২য় ধাপ-তথ্য সংগ্রহ ও তা যাচাই বাছাই করা ৩য় ধাপ-অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ৪র্থ ধাপ-গবেষণা করে অনুমিত সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করা ৫ম ধাপ-যদি যৌক্তিকতা নিশ্চিত না হয় তাহলে তা পুনরায় অনুমিত সিদ্ধান্ত সংশোধন করে পুরো প্রক্রিয়া ফলো করা।আর গবেষণায় যদি অনুমিত সিদ্ধান্ত সঠিক বলে বিবেচিত হয় তাহলে তা বৈজ্ঞানিক সমাজে উপস্থাপন করা পিয়ার রিভিউ এর জন্য (থার্ড পার্টি রেকটিফিকেশন)।আর পিয়ার রিভিও সফল হলেই সেটা সফল বৈজ্ঞানিক গবেষণা হিসাবে স্বীকৃতি পাবে।শুধু ২য় ধাপের তথ্য যাচাই বাছাইয়ের জন্য যে পরিমাণ অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা দরকার সেটা একটা বিশাল ব্যাপার।আমাদের দেশের মানুষরা এমনিতেই বিজ্ঞান বিমুখ।তারপর আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা জীবিকা নির্ভর।হয়ত এ কারণেই আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষিতরা উন্নত দেশে গিয়ে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা করে সেসব দেশের ল্যাবে বছরের পর পর বছর গবেষণা করছে যাদের অনেকেরই খবর আমরা জানিনা।সুতরাং যাদের অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা নেই তারা যখন কোন বিষয়ে দ্রুত ও দৃঢ় মতামত দিয়ে দেয় ‘এটা অবশ্যই আছে’ কিংবা ‘এটার অস্তিত্বই নাই’ তখন সেটা আমাদের কাছে মুর্খতা বলেই বিবেচিত।আর জার্ণালে প্রকাশিত কোন আর্টিকেল সাধারণ মানুষের জন্য নয়;এগুলো কেবলমাত্র ঐ বিষয়ের অ্যাকাডেমিসিয়ানদের জন্য।

সুতরাং কোন মানুষ জ্বিন দেখতে পায় একথা বললে আমি সেটাকে ভিজ্যুয়াল হ্যালুসিনেসন হিসাবেই বিবেচনা করব।আমি খালি চোখে যা দেখিনা সেটা আরেকজন আমার সমক্ষমতাসম্পন্ন চক্ষু দিয়ে তা দেখতে পাবে সেটা বিশ্বাস করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।এই পোস্টে সে কথাই বোঝাতে দেওয়া।আপনাদের অনেকেই তা বোঝেননি।আর সেটা অনেককেই বোঝানো যাবে না।কারণ আমরা বিজ্ঞান বিমুখ আবেগ-প্রবণ জাতি।

আর আমি যে বিষয়ে একটা ব্যক্তিগত গবেষণার কথা উল্লেখ করেছি তার তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই বাছাইয়ের একেবারে প্রাথমিক ধাপের জন্য কুরআনিক আরবি ভাষা শিখতে হছে (আধুনিক আরবি ভাষা নয়) যাতে প্রায় দু’বছর সময় লেগেছে এবং সেটা চলমান অাছে। এরপর অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাকে আরও অনেক বিষয়ে পড়াশোনা করতে হবে অ্যাকাডেমিক্যালি(গুগল সার্চ দিয়ে নয়)।যেহেতু অবসর জীবনে আছি তাই সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।পথ বহুদূর।আমার মৃত্যুর পর হয়ত আরেকজন সে কাজ এগিয়ে নিবে।এভাবেই চলছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা যুগ যুগ ধরে।

৩০| ১৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৪:০৫

সুপারডুপার বলেছেন: ব্লগার সেলিম আনোয়ার ভাইয়ের মন্তব্য দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেল। ঐ কে কোথায় আছে আমারে ধর !!!

মবীন ভাই , জ্বীন নিয়ে গবেষণা করে জ্বীন সাধনার মন্ত্রতন্ত্র জানলে একটি পোস্ট দিয়েন। নাসা এর পরের মিশনে মঙ্গল গ্রহে জ্বীন পাঠাইয়া খবর নিবে। এতে নাসার অনেক অনেক সময়, মেধা, শ্রম ও ডলার বেঁচে যাবে !!! আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি সব উল্টে যাবে !!! ফিজিক্স বাদ দিয়ে সবাই জ্বীনফিজিক্স পড়া শুরু করবে। ভার্সিটি গুলোতে জ্বীন ফ্যাকাল্টি খুলবে। আরো কতো কী যে হবে ...

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:০০

জাফরুল মবীন বলেছেন: আমি সেলিম আনোয়ার ভাইয়ের সাথে হালকা চটুলতা করে থাকি উনার পোস্টে করা কোন কোন মন্তব্যে তা দেখতে পাবেন।উনি আমার একজন বড় শুভাকাঙ্খী।৫বছর আগে ব্লগে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় যখন একান্ত ব্যক্তিগত কারণে ব্লগ থেকে চলে গিয়েছিলাম তখন যে ৩জন ব্লগার আমাকে ফিরে আসার জন্য পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি তাদের একজন।

বিশ্বাস ও বিজ্ঞান এর ভিত্তি সবসময় এক থাকে না।কারো সামাজিক প্রথাজনিত কিংবা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিশ্বাসকে সম্মান করা অত্যন্ত সাধারণ ভদ্রতা।ছোটকাল থেকে বাবা-মা এটা শিখিয়েছেন।আজও সেটা লালন-পালন করি।আর এটা করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে সম্মানিতও হয়েছি।এ বুড়ো বয়সে সেটা পাল্টানো সম্ভবও নয়। আর কারো বিশ্বাস যদি ক্ষতিকর হয় এবং সেটা পাল্টানোতে যদি সমাজের মঙ্গল হয় সেটা করার প্রক্রিয়াও অনেক ধীর।এসব বিষয়ে তাড়াহুড়ো সামাজিক বিশৃংখলা তৈরি করবে যা আরও ক্ষতিকর।

আর আমার ব্যক্তিগত গবেষণার বিষয়ে উপরের মন্তব্যে কিছু কথা লিখেছি।পড়লে হয়ত আমার কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ধারনা পাবেন।

ধন্যবাদ।

৩১| ১৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৪:১৫

সুপারডুপার বলেছেন: মাহমুদ ভাই, ঐগুলো তাদের আস্তানা ছাড়া অন্য কোথাও করতে পারে না। আর আস্তানার উপর ইন্সপেকশন বা ফুলকন্ট্রোল সেট করলে ওরা কিছুই করতে পারে না। কেন? সেটা আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন।

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:০৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: ক্ষমা করবেন আমি আপনাদের দু’জনের মাঝে ঢুকে পড়ার জন্য।কিন্তু এত চমৎকার ও যৌক্তিক কথা বলেছেন যে একটা ধন্যবাদ না দিয়ে যেতে পারলাম না।ধন্যবাদ আপনাকে।বিজ্ঞানমনষ্ক চিন্তা এভাবেই মানুষকে অনেক ভ্রান্তি থেকে মুক্তি দেবে।

৩২| ১৮ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:১৮

সুপারডুপার বলেছেন:



মবীন ভাই , আমার মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

জ্বিন নামের অদৃশ্য এক প্রাণী, যে নানা রকম প্রাণীর ছুল ধরতে পারে এমন একটি অতিপ্রাকৃত জিনিসে বিশ্বাস করা ইসলামের অন্যতম ঈমানের স্তম্ভ। কুরআন বলছে, আমি জ্বিন ও মানুষকে আমার এবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। পৃথিবীতে খালি চোখে দেখা যায় না এমন প্রাণীর নাম ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস। এদের বিজ্ঞান খুঁজে বের করেছে অনুবিক্ষণ যন্ত্র আবিস্কার করে। জ্বিনদের যেহেতু মানুষের মত বিচার হবে, তাদের দোষ ত্রুটি আছে, তাদের মধ্যে নেকি ও পাপি আছে। তাহলে মানুষ কেন তাদের কোন খোঁজ পাবে না? ওয়েভ পার্টিকেলের সন্ধান আমরা পেয়েছি, সন্ধান পেয়েছি মহাকাশে গ্যালাক্সির পর গ্যালাক্সির। তাহলে ‘পরীস্থান’ নামের কোন স্থান কেন দাড়িওয়ালা পাগরিওয়ালা লোকজন ছাড়া কেউ সন্ধান পেলো না? আমরা কেউ আল্লাহকে দেখতে চাইছি না। উপস্থিত বুঝতে বা দেখতে চাইছি আমাদের মত একটা প্রাণীকে যাদের আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। কত হুজুর নাকি জ্বিনের সঙ্গে মানুষের বিয়ে পড়িয়েছেন। তাহলে নাসার রাডার কেন জ্বিনদের ধরতে পারল না আজ পর্যন্ত?

কিন্তু আপনি যদি এরপরেও মেটাফিজিক্সের দিকে অগ্রসর হতে চান , তখন তা আর বিজ্ঞান থাকে না। তাই বৈজ্ঞানিক গবেষণার ধাপগুলো এখানে প্রযোজ্য হবে না। তারপরেও আপনার অবসর জীবনে আদিভৌতিক বিষয়ে গবেষণা সফল হোক ও গবেষণা চলাকালীন আপনি মানসিক ভাবে সুস্থ থাকেন এই শুভকামনা করি।

আপনি যেহেতু মেডিক্যাল রিসার্চার, সেহেতু করোনা ভাইরাসের উপর আমার দুইটি পোস্টে আপনার ফিডব্যাক আশা করছি।

১) বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ঘটনার সম্ভাব্যতা ও আগাম প্রস্তুতি - সুপারডুপার
২) সার্স-কোভ-২ (SARS-CoV-2)- এর মূল উৎস এখনো রহস্যময় - সুপারডুপার

ভালো থাকবেন।

১৯ শে মে, ২০২০ ভোর ৬:৪৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: আমি বিজ্ঞানের ছাত্র তাই কোনো অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যে ফলো করব না সেটা নিশ্চিত থাকেন। Subjective behaviour of plasma blob & its response to exertenal stimuli এবং The perceptual activity of hunman brain during rapid eye movement sleep দুটো বিষয়ে জানার আগ্রহ থেকেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত।

পোস্ট রিলেটেড আলোচনা অফ দ্য ট্র্যাক চলে যাওয়ায় নানা অপ্রয়োজনীয় বিষয় চলে আসছে যেটা ভালো লাগেনি।

বিষয়টা এখানেই শেষ হোক।

গবেষক হিসাবে নয় বরং একজন সাধারণ পাঠক হিসাবে আপনার দেওয়া লিংকে যাওয়ার ইচ্ছে রইলো।

ওহ! সমাপ্তির আগে আপনাকে এবং ঠাকুরমাহমুদ ভাইকে গ্লাস মাল্টি লেয়ার কোল্ড ড্রিংকস সার্ভ করি(নিচের মন্তব্যে দেখুন)।শ্রীমঙ্গলের রমেশ তখন ৭ রঙের চা এর বিখ্যাত।তখন তার এই ফর্মূলা বের করার নানা প্রচেষ্টা হয়েছিলো।বিষয়টা আমার নজরে আসলে আমিও বিরত থাকিনি।মাথায় কিছু একটা ঢুকলে সেটা না জানা পর‌্যন্ত স্বস্তি পাই না।তখন চায়ের পাশাপাশি কোল্ড ডিংকসেরও মাল্টি লেয়ার তৈরি করি।এটা তার নমুনা। :-)

৩৩| ১৮ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:১২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




জাফরুল মবিন ভাই, আমি আর দশজনের মতোই একজন মানুষ। অতি সাধারণ মানুষ। আমার লেখার কারণে আপনি মনোকষ্ট পাবেন তা আমি কখনো আশা করিনি। আপনার কষ্টের আমিও সমান ভাগিদার।

আপনার মন্তব্য উত্তরে দুটি পার্ট একটি আরেকটির সাথে মারাত্বকভাবে সাংঘর্ষিক - যেমন: ১। কোন মানুষ জ্বিন দেখতে পায় একথা বললে আমি সেটাকে ভিজ্যুয়াল হ্যালুসিনেসন হিসাবেই বিবেচনা করব। ২। আর আমি যে বিষয়ে একটা ব্যক্তিগত গবেষণার কথা উল্লেখ করেছি তার তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই বাছাইয়ের একেবারে প্রাথমিক ধাপের জন্য কুরআনিক আরবি ভাষা শিখতে হছে।

- আমি কি আমার কোনো মন্তব্যে বলেছি “আমি যা বুঝি সেটাই ঠিক” বা আমার কোনো মন্তব্যে এমন মনে হয়েছে? তাহলে “এরকম ভেবে পান্ডিত্য দেখাতে গেলে সেটা মূর্খতা হিসাবেই বিবেচিত।আমাদের দেশে এরকম জ্ঞানী বেড়ে যাওয়ায় সমাজে বিশৃংখলা ও অশান্তি তৈরি হচ্ছে” - এমন কথা বলার অর্থ কি দাড়ায়?

আমি কি লিখেছি তা হয়তো আপনি ধরতে পারেন নি। আমরা সব সময় খোলাচোখে যা দেখি তা সব সময় সত্যি হতে হবে তার কোনো কারণ নেই। এছাড়া বিজ্ঞানে সবকিছুর ব্যাখা নেই - হয়তোবা এখন পর্যন্ত ব্যাখা নেই, কখনো না কখনো ব্যাখা হবে হয়তো।

যারা জ্বীনের ব্যাবসা করেন তারা আর জ্বীন দেখতে পাওয়া এক নয়। জ্বীন আছে কি নেই তা বিতর্কের বিষয়, আর সেই বিতর্ক
প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব - না আমার, না আপনার, নাকি বলেন, তাছাড়া সময় কোথায়?

আমি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আরবী ও পারশিয়ান কোরআন পড়েছি। যেহেতু আমি মুসলিম (আমি ইসলাম উল্লেখ করিনি) যেহেতু আমি মুসলিম, কোরআন আমি পড়েছি - আরো পড়ার প্রয়োজন আছে। সময়ে সময়ে পড়বো। গুগল থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায় কিন্তু শিক্ষার জন্য গুগল কোনো একমাত্র মাধ্যম নয়। গুগল শিক্ষাগত সনদপত্র দেয় না। গুগল সর্বজন স্বীকৃত পাবলিশ বুক না। গুগল সহ অনলাইনে ভুল লেখার জন্য মামলা হবে না, কিন্তু পাবলিশ বুকে ভুল ও তথ্য বিভ্রাট করলে মামলা করে দেওয়া সম্ভব।

জাফরুল মবিন ভাই, আমি মেডিক্যাল নিসার্চার নই। আমি ধর্মপ্রচারক বা রাজনীতিবিদও নই। তাই আমার মনে হয় মেডিক্যাল ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে কথা আমার বলা উচিত নয়। ধর্ম ও রাজনীতির সাথে আজ আরেকটি বিষয় যোগ হলো মেডিক্যাল। ব্লগে ব্যক্তিগতভাবে আমার সাথে কারো পরিচয় নেই, তাই আমি মনে করি আমার নিজের পরিচয় দেওয়ারও প্রয়োজন নেই্। ব্লগের সাথে দুর দুর পর্যন্ত আমার কর্মজীবনের কোনো সম্পর্ক নেই।

আশা করি আপনার আমার কথা এখানেই শেষ। আবারো বলছি আমার মন্তব্যে আপনি সামান্যতম দুঃখ পেয়ে থাকলে আমিও আপনার সাথে সমদুঃখি। আপনার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা। খোদা হাফেজ।



১৯ শে মে, ২০২০ সকাল ৭:০৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: বিষয়টা সাংঘর্ষিক নয়;আমি আপনাকে বোঝাতে পারিনি।যতক্ষণ পর‌্যন্ত গবেষণায় জ্বিনের অস্তিত্ব প্রমাণিত না হয় ততক্ষণ কেউ যদি বলে সে জ্বিন দেখেছে সেটাকে আমি সেটাকে ভিজ্যুয়াল হ্যালুসিনেসন হিসাবেই বিবেচনা করব।আর যদি কখনও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সেটার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা।আমরা যেহেতু ফেস টু আলোচনা করছি না সুতরাং লিখিত উপস্থাপনে অনেক বিষয়ই বোঝার ক্ষেত্রে ভ্রম হতেই পারে।আসলে মূলপোস্টের বাইরে অনাবশ্যক বিষয় এসে পড়ায় নানা কথা চলে এসেছে যার প্রয়োজন ছিলো না।

আমি মনে কোনই কষ্ট পাইনি কারণ আমি মানুষের মন ও মনন নিয়েও কাজ করা মানুষ। আমরা ব্লগে আসি জাস্ট কিছুটা সময় কাটানোর জন্য।এই সময়টুকু পারস্পারিক মধূর সম্পর্কে আনন্দময় হোক সেটার জন্য আমাদের সচেতন থাকা জরুরি।আপনার মত আমারও ঐ একই কথা ‘এখানেই থামুন’।

সুপারডুপার ভাইয়ের সাথে আপনাকেও কোল্ড ডিংকস সার্ভ করা হলো। আতিথিয়েতা গ্রহণ করুন। :-)

৩৪| ১৯ শে মে, ২০২০ ভোর ৬:৫১

জাফরুল মবীন বলেছেন:


৩৫| ১৯ শে মে, ২০২০ দুপুর ১:৫১

সুপারডুপার বলেছেন:



মবীন ভাই,

কিছু অপ্রয়োজনীয় বিষয় আসলেও , আপনি যে গবেষনা মূলক চিন্তা করেন ও অন্ধ বিশ্বাস করেন না এটা পরিষ্কার। এছাড়াও আপনি ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বেশি করেন, নেতিবাচক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন; যা নিজের মনেও শান্তি আনে , অন্যকেও এই শান্তি বিলিয়ে দেয়। আপনার প্রতি রইলো অনেক অনেক শুভকামনা। আপনার অনেক কথাতে আমি অনুপ্রাণিত, এই জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন। স্পেশাল মাল্টিলেয়ার কোল্ডড্রিঙ্কস দিয়ে আতিথিয়েতার জন্য অনেক ধন্যবাদ। মাল্টিলেয়ার কোল্ডড্রিঙ্কস কিভাবে তৈরী করলেন? নাকি এটা প্যাটেন্ট করা !!! ভালো থাকবেন।

=========================================================================
সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন কর্মব্যস্ত সুখী জীবন-এই অপূর্ব ছন্দে একাত্ন হয়ে সুখ-সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবেন এই শুভকামনা করি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.