নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কথায় নয়,কর্মে হোক পরিচয়

জাফরুল মবীন

Courtesy costs nothing but buys everything

জাফরুল মবীন › বিস্তারিত পোস্টঃ

লাভ অবসেশনঃযে প্রেম জীবন তছনছ করে দিতে পারে

১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৩:০৩



প্রেমে পড়ে জীবন নষ্ট হওয়া,আত্মহত্যা করা,ব্যর্থ প্রেমের প্রতিহিংসায় ধর্ষণ,এসিড নিক্ষেপ,সংসার ভেঙ্গে যাওয়া বা খুন হওয়ার মত ঘটনা এখন আর আমাদের সমাজে বিরল নয়।যে প্রেম তার ভালোবাসার মানুষটিকে আদরে-সোহাগে ভাল রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় সেই প্রেম কেন ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠে?পৃথিবী বিখ্যাত অনেক বেদনাবিধূর প্রেমের ঘটনা ও প্রেমঘটিত প্রায় সব লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের পিছনে রয়েছে এক জীবন বিনাশী মানসিক রোগ যার নাম “লাভ অবসেশন”।প্রেমের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এটা এমন একটা মানসিক রোগ যা জীবন তছনছ করে দিতে পারে।আসুন এ রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করি।

লাভ অবসেশন কী?:-যখন কোন ব্যক্তি বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি এত তীব্র আকর্ষণ বোধ করে যে সারাক্ষণ শুধু তাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে এবং তার উপেক্ষা,অবহেলা বা ত্যাগ করে চলে যাওয়ার প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়াশীলতা হয় যদিও সে উপলদ্ধি করতে পারে যে ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সে বিষয়ের উপর তার কোন নিয়ন্ত্রণ থাকেনা,তখন তাকে লাভ অবসেশন বা প্রেম রোগ বলে।যদিও এটাকে প্রেম রোগ বলা হচ্ছে কিন্তু আসলে এখানে প্রেমের কোন অস্তিত্ব থাকে না;এটা মূলতঃ একটা আকর্ষণজনিত সমস্যা।




কাদের এ রোগ বেশি হতে পারে?:-

১।পরিবার,সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে যেসব আবেগপ্রবণ মানুষ অতিরিক্ত বঞ্চনা ও মানসিক চাপের শিকার হয় তারা।

২।জন্মের প্রথম ৫ বছরের মধ্যে যেসব শিশু মা-বাবা ও পরিবারের স্নেহ-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয় তারা।

৩।অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত বাবা-মায়ের সন্তানেরা।

৪।বয়ঃসন্ধিকাল থেকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ টিন এজারদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।


লাভ অবসেশন চক্রঃ-এটা হলো John D.Moore এর হাইপোথিসিস যা তিনি তার বিখ্যাত বই “Confusing Love with Obsession” এ বর্ণনা করেছেন।ডঃ মূরের মতে লাভ অবসেশনের পর্যায়ক্রমিক ৪টি ধাপ রয়েছে।এগুলো হলোঃ-

১।আকর্ষণ পর্যায়

২।অস্থিরতা পর্যায়

৩।অবসেসিভ পর্যায়

৪।ধ্বংসাত্মক পর্যায়




১।আকর্ষণ পর্যায়ঃ-এ ধাপের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

*সাক্ষাতের কয়েক মিনিটের মধ্যেই কারো প্রতি রোমান্টিক আকর্ষণ অনুভব করা।

*সময় নিয়ে ভাবনা-চিন্তা না করে তাড়াহুড়ো করে প্রেমে জড়ানোর উন্মাদনা।

*পছন্দের মানুষটি তার ব্যক্তিগত,পারিবারিক,সামাজিক ও ধর্মীয় বিবেচনায় উপযুক্ত কিনা তা বিবেচনা না করা।

*বিয়ের ক্ষেত্রে যেসব জিনিস বিবেচনায় আনা হয় যেমন শিক্ষা,সামাজিক মর্যাদা,অর্থ-বিত্ত,ধর্মিকতা,মন-মানসিকতা,পারিবারিক পরিমন্ডল ইত্যাদি বিবেচনা না করেই শুধু আচরণ/অভিব্যক্তির কোন বৈশিষ্ট্য দেখেই প্রেমে পড়া(যেমন-“ছেলেটার হাসিটা যা সুইট”,“মেয়েটার চোখদুটো কী মায়াভরা!”,“ওর কথা বলার স্টাইল আমাকে পাগল করে দেয়”....এগুলোই হলো প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য)।

*তাকে আকৃষ্ট করার জন্য অতিরিক্ত গিফট দেওয়া,ব্যক্তিগত বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া,তার পছন্দমত সাজগোজ করা,এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকা...ইত্যাদি।


২।অস্থিরতা পর্যায়ঃ-এ পর্যায়ে প্রেম পাগল ব্যক্তি তার পছন্দের মানুষের সাথে প্রেমের পর্যায়ে ঢুকে পড়ে এবং তার কাছ থেকে এবিষয়ে নিশ্চয়তা আদায়ের চেষ্টা করে।অনেক সময় প্রেম পাগল মানুষটি তার সঙ্গীর সামান্য আস্কারা,দুষ্টুমি বা কিছুটা ঘনিষ্টতাকেই সম্মতির লক্ষণ হিসাবে ধরে নেয়।এ পর্যায়ের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

*বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে ভালবাসার মানুষটির মেলামেশা সহ্য করতে পারেনা।

*সারাদিন সে কী করে ,কার সাথে কথা বলে,কোথায় যায় সে ব্যাপারে খোঁজখবর ও খবরদারি আরম্ভ করে।

*সবসময় চোখে চোখে রাখতে চেষ্টা করে।সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করে।

*প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ভয় সবসময় তাকে তাড়া করে ও অস্থির করে রাখে।

*ভুল বোঝাবুঝি,অতিরিক্ত খবরদারি,সন্দেহ করা,বিষন্নতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রাথমিক পর্যায়টা এ ধাপ থেকেই শুরু হয়।

*ভালবাসার মানুষটিকে সবার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে।

*তার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনও শুরু করতে পারে(যেমন চড় মারা,গালিগালাজ করা,নোংরা কথা বলা,খোঁচা দিয়ে কথা বলা....)।

*নিজের উপরও সে নির্যাতন শুরু করে,যেমন-ব্লেড দিয়ে কেটে ভালবাসার মানুষটির নাম নিজ হাতে লেখা।

*লেখাপড়ায় রেজাল্ট খারাপ করতে শুরু করে।কর্মক্ষেত্রে অমনোযোগী হয়।


৩।অবসেসিভ পর্যায়ঃ-এটা খুবই মারাত্মক ধাপ।এ ধাপের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

*এক মুহর্তের জন্যও সে তার ভালবাসার মানুষটির কথা ভুলে থাকতে পারে না।তার সমস্ত চিন্তা-ভাবনা শুধু তাকে নিয়েই ঘুরপাক খেতে থাকে।

*এ পর্যায়ে সে বুঝতে পারে যে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থ চেষ্টাও করে।

*পরিবার-পরিজন,বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের আদেশ-নিষেধ বা পরামর্শ কোন কিছুই তাকে এ পথ থেকে ফেরাতে পারে না।

*পড়াশোনা বা চাকুরী-ব্যবসা লাটে উঠে।

*ভালবাসার মানুষটি তাকে পাত্তা দিচ্ছেনা,অন্য কারো সাথে প্রেম করছে কিংবা তার সাথে প্রতারণা করেছে এরুপ ভাবনা থেকে ভালবাসার পরিবর্তে তার প্রতি ঘৃণা জন্মাতে শুরু করে।

*গোয়েন্দাগিরির মাত্রাও তীব্র আকার ধারণ করে।

*এক পর্যায়ে সে এই তীব্র মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সম্পর্ক ভাঙ্গার চেষ্টা করে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগ তাকে মুক্ত হতে দেয় না।

*যতই সে তাকে ভুলে থাকার চেষ্টা করে ততবেশি করে তার কথা মনে পড়ে যায়।


৪।ধ্বংসাত্মক পর্যায়ঃ-এসময় আক্রান্ত ব্যক্তি ধ্বংসাত্মক ও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ে।এ পর্যায়ের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

*এ পর্যায়েই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালোবাসার মানুষটি মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে এবং নিজ জীবন ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এই দূর্বিসহ সম্পর্ক ভেঙ্গে বের হয়ে যায়।

*আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র মাত্রার বিষন্নতায় ভুগতে শুরু করে।

*আত্মমর্যাদা কমে যায়।সম্পর্কের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে।ভালোবাসার মানুষটিকে অনুরোধ করা,হাতে-পায়ে ধরা,“আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না” এ জাতীয় কথা বলা।“আমি তোমাকে আর কোনদিন কষ্ট দেবনা”,“আমি আর আগের মত নেই,অনেক পাল্টে গেছি”,“তুমি যেমন চাও আমি সেভাবেই চলব” ইত্যাদি কথা বলে তাকে সম্পর্কে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।

*নিজেকে তুচ্ছ মনে করা,বার বার ভাগ্য বা নিজেকে দায়ী করা।

*ঘৃণা ও প্রতিশোধপরায়ণতা তীব্র আকার ধারণ করে।“আমি তোমাকে না পেলে অন্য কারোর হতেও দেবনা”-এ প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

*ভালোবাসার মানুষটিকে অপহরন,এসিড নিক্ষেপ বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া,তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো,বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া,তার চরিত্র নিয়ে খারাপ কথা রটানো,অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কথা,চিঠি বা ছবি প্রকাশ করা বা তা দিয়ে ব্ল্যাকমেলিংয়ের চেষ্টা করা ইত্যাদি।

*ঘুমের ঔষধ খাওয়া,নেশা করা,অপরাধমূলক কাজ করতে গিয়ে জেলে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটতে পারে।

*এ পর্যায়ের সবচেয়ে খারাপ বৈশিষ্ট্যটি হলো “মারো,না হয় মরো” টাইপের চিন্তা।ভালোবাসাজনিত খুন বা আত্মহত্যা বা এগুলোর চেষ্টা করা এ পর্যায়েই ঘটে থাকে।


বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাঃ-প্রেমে পড়লে আমাদের ব্রেনের কতকগুলো জৈব রসায়নের(নিউরোট্রান্সমিটার) মাত্রার পরিবর্তন ঘটে:-পিইএ,ডোপামিন ও নরএপিনেফ্রিনের মাত্রা বেড়ে যায় আর সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যায়।ব্রেনের অর্বিটাল কর্টেক্স ও কডেট নিওক্লিয়াই এ সেরোটোনিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়াই এ ধরণের অবসেশনের প্রধান কারণ বলে গবেষণায় দেখা গেছে।সকল প্রেমেই সেরোটনিনের মাত্রা কমলেও লাভ অবসেশন বা প্রেমরোগ কেবলমাত্র কিছু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মাঝেই দেখা যায়।বাস্তবিকই যেসব ঔষধ ব্রেনে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে পারে তারাই কেবল এ রোগের চিকিৎসায় কার্যকরী হতে দেখা গেছে।


চিকিৎসাঃ-যেসব ঔষধ ব্রেনে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে পারে তারা এ রোগের চিকিৎসায় বেশ কার্যকরী।এ ঔষধগুলোকে একসাথে এস.এস.আর.আই(SSRI-selective serotonin reuptake inhibitor) বলে।এই গ্রুপের মধ্যে আছে-fluoxetine, fluvoxamine & sertraline।এর মধ্যে সারট্রালিন(sertraline) আমাদের দেশে বিষন্নতাবিরোধী ও অবসেশননাশক ঔষধ হিসাবে ব্যাপক ব্যবহৃত হয়।যেসব রোগী কনজারভেটিভ ট্রিটমেন্টে ভাল হয়না বা মারাত্মক পর্যয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে steriotactic limbic leukotomy & anterior capsulotomy সার্জারী বা অপারেশন বেশ কার্যকরী হতে পারে।লাভ অবসেশনের ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং বেশ ভাল কাজ করে বিধায় ঔষধের পাশাপাশি কাউন্সেলিং এর প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য।


কোথায় চিকিৎসা পাবেন?:-জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট,শ্যামলী,ঢাকা;বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউ. হাসপাতাল(পিজি হাসপাতাল)-এর মানসিক রোগ বিভাগে;সকল মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগে।এছাড়াও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ব্যক্তিগত চেম্বারে আপনি এ চিকিৎসা পাবেন।



সাধারণ টিপসঃ-চিকিৎসার পাশাপাশি নিম্নোক্ত কথাগুলো মেনে চললে খুব ভালো ফল পেতে পারেন-

১।বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে রাখুন।

২।নিজস্ব শখের জগৎ গড়ে তুলুন।

৩।“ও ছাড়া এ পৃথিবীতে আমাকে আর কেউ এত ভালবাসা দিতে পারবেনা”-এ ভ্রান্ত ধারণা ত্যাগ করুন।

৪।তার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ভেঙ্গে ফেলুন।

৫।“আমার ভালবাসা সত্যি হলে ও একদিন ঠিকই ফিরে আসবে”-এরকম আত্মসংহারী আবেগময় ভাবনা পুরোপুরি ত্যাগ করুন।

৬।সম্পর্কের সুখস্মৃতিগুলো বার বার মনে করার চেষ্টা করবেন না।

৭।নিজের অস্থিরতা বা কষ্ট কমাতে আরেকজনের সাথে দ্রুত প্রেমের সম্পর্কে জড়াবেন না।

৮।নতুন নতুন মানুষের সাথে বন্ধুত্বে জড়ান;পুরোনোদের অনেকেই আপনার ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্ক নিয়ে খুঁচাখুঁচি করতে পারে।

৯।বন্ধুত্ব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রেমের চেয়ে বড় ও স্থায়ী হয়।

১০।প্রতিশোধপরায়ণ হবেন না।অন্ধকার যেমন অন্ধকার দূর করতে পারেনা,আলোর দরকার হয়;ঠিক তেমনই ঘৃণা কখনোই ঘৃণা দূর করতে পারেনা,ঘৃণা দূর করার মোক্ষম উপায় ভালোবাসা।ভালোবাসার মানুষের ক্ষতি করা কখনোই প্রেমিকের বৈশিষ্ট্য হতে পারেনা।

১১।মানুষ শারীরিক মৃত্যুর পূর্বে মানসিকভাবে বার বার মারা যেতে পারে।কিন্তু সে যদি হার না মেনে যুদ্ধ করে আবার প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী মানুষ হয়ে ফিরে আসে।এরূপ পুণর্জীবিত মানুষের ভালবাসার অভাব হয়না।

১২।নিয়মিত ব্যায়াম করুন।ব্যায়াম করার সময় আমাদের ব্রেনে “এনডরফিন” নামক নিউরোহরমোন নিঃসৃত হয় যা মনের কষ্ট কমাতে ও মন প্রফুল্ল রাখতে দারুন সাহায্য করে।




পরিশেষঃ-উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন লাভ অবসেশন একটা রোগ।এরূপ প্রেমকে মহিমান্বিত না করে কিংবা কঠোরহস্তে দমনের চেষ্টা না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং আপনার প্রিয় মানুষটিকে এই আত্মসংহারী রোগ থেকে বাঁচান।যে প্রেম/ভালোবাসা জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে কিংবা আত্মহননের পথে ঠেলে দেয় তা কোন বিচারেই প্রকৃত প্রেম/ভালোবাসা হতে পারে না।যে নিজের জীবনের মূল্য বোঝেনা সে আরেকজনের জীবনের দায়িত্ব নেবে কীভাবে?

ধন্যবাদ যারা কষ্ট করে আর্টিকেলটি পড়লেন।

সূত্রঃ“Confusing Love with Obsession” by John D.Moore

ছবিঃসকল ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে।এ আর্টিকেলটি কেবলই তথ্যমূলক;এর কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।তারপরেও কপিরাইট ভায়োলেশনের কারণে কারো আপত্তি থাকলে তা জানা মাত্র সে ছবি বা ছবিসমূহ এই আর্টিকেল থেকে অপসারণ করা হবে।(All the images in this article are collected from different web sites & have been used for non-commercial purposes.If anyone has any objection of using these images,I’m assuring their removal upon getting valid complaint)।

সহব্লগার আহমেদ জী এস ভাইয়ের এই লেখাটিতে প্রেম-ভালোবাসা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আছে।সম্মানিত পাঠকদের লেখাটি পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো- “লভ এ্যান্ড রোমান্স” । সখি ভালোবাসা কারে কয়......

মন্তব্য ৪৬ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৪৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৩:১৮

শুভ্রনীল শুভ্রা বলেছেন: অবসেশনে থাকা মানুষগুলোর আচরণ অদ্ভুত এবং অন্য মানুষদের জন্য বিরক্তিকর সেটা মনে হয় তারা বুঝতে পারেনা। যার জন্য সম্পর্কগুলো আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন সেই মানুষটি তীব্র আকারে ডিপ্রেশনে ভোগে যার ফলশ্রুতিতে তার মধ্যে ধ্বংসাত্মক মানসিকতা গড়ে ওঠে।

১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার বক্তব্য ১০০% সঠিক।পাঠকের মন্তব্যে যদি লেখকের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় উঠে আসে তখন সেটা লেখকের জন্য বড়ই প্রেরণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।ধন্যবাদ বোন।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২| ১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৩:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: এটা খুব কঠিন রোগ নয়।
কাচা বয়সে কম বেশি সবারই হয়। অল্প কিছু দিন মন খারাপ, বিষন্ন হতাশা। তারপর একদিন সব কেটে যায়।

১৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৬

জাফরুল মবীন বলেছেন: লাভ অবসেশন একটা রোগ।এটা পাকা বয়সেও হয়।এই ব্লগেরই একজন প্রবাসিনী অতি পরিণত বয়সে লাভ অবসেসড হয়ে হাসপাতালে পর‌্যন্ত ভর্তি হয়েছিলেন। কাজেই এই রোগকে হালকাভাবে দেখার উপায় নাই।

৩| ১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৩:২১

পলাতক মুর্গ বলেছেন: ++++++

১৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: এত্তগুলা প্লাসের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই পলাতক মুর্গ।

৪| ১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৩:২১

নতুন বলেছেন: এই বিষয়ে সমাজে আরো প্রচারনা দরকার তখন মানুষ সচেতন হবে। বুঝতে পারবে এবং বড় অঘটনের থেকেও বাচা যাবে।

ডিপ্রেসন নিয়ে আমার কিছু জানার ছিলো। এটা নিয়ে লিখবেন সময় পেলে।

১৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১০

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার মন্তব্যের সাথে ১০০% সহমত ভাই নতুন।

আচ্ছা বিষণ্নতার পোস্টটি আপলোড করে দিব ইং শায়া আল্লাহ। এগুলো আগেরই লেখা ছিলো।

ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।

৫| ১৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:৫৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
অবসেশন একটি মারাত্মক মনোদৈহিক সমস্যা।
প্রিয় মানুষটির প্রতি সারাক্ষণ ধরে অস্বাভাবিক রকম
আসক্তি বোধ করাকে বলে অবসেসিভ লাভ ডিসঅর্ডার।
হতে পারে সেটা দাম্পত্য সম্পর্ক, প্রেম, ভালোবাসা বা বন্ধুত্বের সম্পর্ক
অথবা একই পরিবারের ছোট বাচ্চাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক।
এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাত্যহিক জীবনে বিঘ্ন ঘটানো ছাড়াও
সুন্দর সম্পর্কগুলোকে অযাচিতভাবেই দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
ভালোবাসা একটা স্বর্গীয় অনুভূতি আর এই ভালোবাসাই কখনো
কখনো দুটি সুন্দর জীবনের সব সুখ কেড়ে নিয়ে জীবনটাকে নরকে
পরিণত করতে পারে। কাজেই কোনো কিছুরই অতিরিক্ততা ভালো নয়।
যেকোনো সম্পর্কে স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি।

মবীন ভাই আশা করি আপনার এ লেখাটিও স্টিকি হবে !!!

১৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: আমি লাভ অবসেশনের সবচেয়ে কমন চেহারাটা উপস্থাপন করেছি।আপনার সংঙাটি সবচেয়ে সঠিক।

এ পোস্ট স্টিকি করার কথা বলে যে লজ্জা দিলেন.... দেখি হ্যাজম্যাট পিপিই তে মুখ লুকাই। :-)

৬| ১৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৭

সোহানী বলেছেন: যা সিমটম দেখছি তাতে তো মনে হচ্ছে আশে পাশেতো এরকম রোগীতে ভর্তি। প্রিয়তে নিলাম যাতে প্রয়োজনে শেয়ার করতে পারি।

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:১৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: হ্যাঁ বোন সোহানী এ রোগের রোগি অনেক পাবেন চারপাশে।বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে এ সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।এরা নিজেরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়;আবার অন্যের জন্যও চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।আমরা প্রায়শই লাভ ও লাভ অবসেসনের দুটোকে গুলিয়ে ফেলি।প্রেমে বিচ্ছেদ হতেই পারে।এতে মানুষ কষ্ট পায়,বিষণ্ন হয়,তারপর বাস্তবতা মেনে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জীবন যাপন করে।কিন্তু লাভ অবসেসডদের প্রেমে যেমন থাকে উন্মাদনা তেমনি থাকে যন্ত্রণা।অতিরিক্ত যন্ত্রণায় এ ধরনের সম্পর্কের বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।সমস্যা হলো সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর তারা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে।শুধুমাত্র এ রোগের কারণে শারীরিক আক্রমণ, খুন, ধর্ষণ,সংসার ভেঙ্গে যাওয়া, ব্ল্যাকমেলিং,নিজ জীবন তছনছ করে দেওয়ার মত ঘটনা অহরহ ঘটছে।’মাইরের উপর ঔষধ নাই’, ‘প্রেম পাগলা বলে হালকা করে দেখা’ কিংবা ’জেলে পুরে দেওয়া’ এ রোগের চিকিৎসা নয়।এদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন এ কারণে যে এরা যা করছে তার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নাই।তাদেরও সুচিকিৎসা পাবার ও সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার আছে।আর এ অধিকার কেবল সচেতন মানুষই দিতে পারে।

৭| ১৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


প্রেম ভালোবাসাকে কবিরাই সঠিকভাবে প্রকাশ করতে জানেন।

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:১৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: জ্বি ঠিকই বলেছেন।কবিতা ছাড়া প্রেম এবং ছ্যাকা খাওয়া ছাড়া প্রণয় কবি হওয়া- দুটোই মনে হয় কঠিন।

৮| ১৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৬

নেওয়াজ আলি বলেছেন: একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনি আলোচনা করেছেন । পরিবারে এটি আলোচনা হলে অনেক মানসিক যন্ত্রণা হতে মুক্তি পাবে

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:২২

জাফরুল মবীন বলেছেন: এ রোগে আক্রান্ত হলে সে ছেলে বা মেয়েটি দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং প্রচন্ড যন্ত্রণা অনুভব করে।এসময় সচেতন পরিবার ও সচেতন বন্ধু-বান্ধব তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে খুব সহজে তাকে এ অবস্থা থেকে বের করে আনতে পারে।

৯| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ৮:১০

আহমেদ জী এস বলেছেন: জাফরুল মবীন,




নতুন করে বলতে চাইনে, আপনার সাম্প্রতিক লেখাগুলো বেশ তথ্যবহুল আর সচেতনতামূলক। এটাও এর ব্যতিক্রম নয়। ধাপে ধাপে সাজিয়ে লিখেছেন যেমনটা হওয়া উচিৎ, একাডেমিক।

এবারে বলতে হয়, লভ বা প্রেমের রোগ নিয়ে তো লিখলেন কিন্তু " লভ" জিনিষটা কি সেটা তো লিখলেন না! দেখতে পারেন এখানে ---“লভ এ্যান্ড রোমান্স” । সখি ভালোবাসা কারে কয়......

ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:৩৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: ভাই আপনার লেখাটি পড়লাম।অসাধারণ নান্দনিক উপস্থাপনা।আমার মনে হয় এ ধরনের লেখা মাঝে মাঝে রিপোস্ট করা উচিৎ।

আর আমার লেখা বরাবরের মত রসকসহীন এবং খাঁটি অ্যাকাডেমিক উপস্থাপনা।আপনি প্রায়ই দেখবেন সহব্লগারদের ‘আপনার সিগনেচার পোস্ট’ এরূপ মন্তব্য করতে।যদি আল্লাহ আমাকে কাব্যিক উপস্থাপনার গুণ দিত তাহলে কবে হুমায়ূন আহমেদ হয়ে যেতাম! হা হা হা...

আপনি অনুমতি দিলে আপনার পোস্টের লিংকটি আমার এই পোস্টে যোগ করে দিতে পারি।

১০| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ৯:২২

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: এরা রীতিমত মানসিক রোগি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় আমাদের সমাজ এ ধরনের পাগল প্রেমিকদের মহিমান্বিত করার চেষ্টা করে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার। সাথে এ রোগীদের চিকিতসা সহযোগিতা করা দরকার।
চমৎকার পোস্টটি প্রিয়তে নিলাম।

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:৪১

জাফরুল মবীন বলেছেন: ভাই গিয়াস উদ্দিন লিটন আপনি একদম মূল কথাটাই বলেছেন।লেখকের মেসেজ যখন পাঠকের মন্তব্যে উঠে আসে তখন সেটা বিরাট অর্জন ও প্রশান্তি লেখকের জন্য।পোস্ট পাঠ,চমৎকার মন্তব্য এবং পোস্ট প্রিয়তে নেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১১| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৩০

জুন বলেছেন: এই সিম্পটম সাধারণত অল্প বয়স্ক ছেলে মেয়ের মাঝেই বেশি দেখা যায়। তবে আজকালের ছেলেমেয়েরাও অনেক ম্যাচিওর্ড জাফরুল মবীন। তবে কিছু কিছু ব্যাতিক্রম তো আছেই। ইদানীং বেকারত্ব অসুখেই বেশিরভাগ তরুন তরুণী আক্রান্ত। খারাপই লাগে এসব ভাবলে।
ভালো লাগা রইলো অনেক।
+

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:৫৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: এ রোগটি অনেক পুরনো।কিন্তু এটা যে চিকিৎসাযোগ্য রোগ সেটা বুঝতে মানুষের সময় লেগেছে অনেক।এটা মূলত টিনএজে বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে আমি অনেক কেস দেখতে পাচ্ছি যারা বিবাহিত/বিবাহিতা এবং সন্তানের জনক/জননী।আর তারা এসমস্যায় জড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অচেনা মানুষের সাথে ভাব বিনিময় করতে গিয়ে।

আপনি ঠিকই বলেছেন এখনকার ছেলেমেয়েরা নানা সমস্যায় জর্জরিত।আমার কেন জানি মনে হয় পরিবারগুলো তাদের দায়িত্ব বুঝতে এবং তা সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

জ্ঞানগর্ভ মন্তব্যে একটা সুন্দর আলোচনার আবহ তৈরি করে দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন এ শুভকামনা রইলো।

১২| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ১০:১১

শায়মা বলেছেন: লাভ অবসেসড মানুষদের জন্য হসপিটালে নহে জেল খানায় একটা শাখা খোলা দরকার! X((

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:০৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: না গো শায়মামণি অপরাধীর জন্য হাজত, রোগির জন্য হাসপাতাল।পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষা এবং পারিপাশ্বিক পরিবেশ ছাড়াও ব্রেনের ভিন্নধর্মী কার‌্যকারিতা জন্য এরা ঝুঁকিপূর্ণ।তাই প্রেমে পড়লে ব্রেনের স্বাভাবিক যে নিউরোহরমোনাল রেসপন্স হয় তাতেই এরা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।আমি যখন এদের হিস্ট্রি নিতাম তখন এদের কষ্টের গভীরতা ও তীব্রতা অনুভব করতাম।সেসময় এদের কান্নায় নিজেও কষ্ট অনুভব করতাম।

কি ব্যাপার? এখন ব্লগিং করা হয় না??

১৩| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ১১:১৮

অপু তানভীর বলেছেন: পোস্ট পড়ছিলাম আর মনে হচ্ছিলো যে বর্ণিত লক্ষনও আমার ভেতরে ছিল কিংবা এখনও আছে । তবে ধ্বংশাত্বক পর্যায়ে যায় নি । যাবার সম্ভবনা অবশ্য নেই । অবসেশন পর্যায়েও সম্ভবত এখনও শুরু হয় নি । তবে এর আগের দুই পর্যায়ে আমি নিশ্চিত ভাবেই আছি ।

আমার এই অবস্থাটা নিয়েই একবার এক বন্ধুর সাথে আলোচনা করেছিলাম। সে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলো, বলেছিলো যে বয়সের দোষ । সময় মত ঠিক হয় নি । আমার ক্ষেত্রে অবশ্য সেটা ঠিক হয় নি মোটেও । পরে অবশ্য আর কারো সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা করা হয় নি ।

বর্তমানে নিজ থেকেই এই অবস্থা থেকে পরিত্রানের চেষ্টা করছি । অবস্থা ভাল দিকে যাচ্ছে কি না বলতে পারছি না তবে খারাপের দিকে যে যাচ্ছে না সেটা নিশ্চিত বলতে পারি ।

বিশেষ করে আপনি পরামর্শ দিয়েছেন তার ভেতরে শখের ব্যাপারটা খুবই বেশি কার্যকর হচ্ছে আমার জন্য ! এখন অধিকাংশ সময়ে আমি নিজের শখের ব্যাপার গুলো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি এবং এর পরিধীও বাড়িয়েছি ! এই অবসেশন কাটানোর আরেকটা শক্ত আর কার্যকরী উপায় হচ্ছে কোন প্রাণী পোষা । এটা কাজে দেয় বেশ ।

চমৎকার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ !

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:১৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনি সমস্যা উত্তরণে অনেকটা পথ এগিয়ে গেছেন ১)সমস্যা চিহ্নিত করতে পেরেছেন ২)সমস্যা শেয়ার করতে পেরেছেন ৩)উত্তরণের জন্য একটি সঠিক পন্থা অবলম্বন করছেন। আপনি প্রয়োজন বোধ করলে একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এর সাথে কথা বলতে পারেন।আমার আগের একটি পোস্টে (মানসিক রোগ মহামারী এর উপর লেখা) অনলাইন সার্ভিস দেয় এরকম লিংক যুক্ত করা আছে।আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনি আপনার সমস্যা থেকে কার‌্যকরীভাবে বের হয়ে আসতে পারবেন ইং শায়া আল্লাহ।

আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আপনি পোস্টটিকে সমৃদ্ধ করেছেন এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৪| ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৪৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




নারী পুরষের ভালোবাসার বিষয়টি এখনো সমাজে নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবে পরিচিত। আর নিষিদ্ধ বিষয়ে উপকারের চেয়ে অপকার বেশী হয়। সমাজের যৌথ ভাবনাকে আমি সম্মান করি এবং অবস্যই সঠিক বলে মনে করি। কারণ আমিও সেই সমাজেরই একজন।

৬০ এর দশকে দেখেছি পারিবারিক শিক্ষা হচ্ছে সন্তানের আদর্শ শিক্ষা আজ ২০২০ সনেও বলছি এসব থেকে মুক্ত রাখার ও জ্ঞানদানের সবচেয়ে ভালো ইন্সিটিউট যার যার নিজ পরিবার।

শুভ কামনা রইলো জাফরুল মবিন ভাই।

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:৩১

জাফরুল মবীন বলেছেন: শরীরে সেক্স হরমোন থাকলে কামোদ্দীপনা তৈরি হবে আর সেটার জন্য সঙ্গী পাওয়ার চেষ্টা করা বিশেষত কাঙ্খিত পুরুষ বা নারীর প্রতি বিশেষ দূর্বলতা দেখানো এগুলো সহজাত প্রবৃত্তি।ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক নিয়ম নীতি একজনের মধ্যে এই নৈতিকতাটুকু তৈরি করার জন্য চেষ্টা করে যাতে সে তার এই সহজাত প্রবৃত্তি একটা গ্রহণযোগ্য মাত্রার মধ্যে চর্চা করে।

আপনি ঠিকই বলেছেন পরিবার হলো সেই শিক্ষা প্রদানের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান।কিন্তু কেন জানি মনে হয় বর্তমানে অনেক পরিবারই সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।

কার‌্যকরী মন্তব্যে সুন্দর আলোচনা হলো।ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৫| ১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৪:১৭

অনল চৌধুরী বলেছেন: নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রেম-ভালোবাসা বলে কিছু নাই।
এটা সাময়িক আকর্ষণ অথবা নিজেকে দু:খ-যন্ত্রণা ভোলার জন্য মেডিটেশনের মতো ব্যাপার, যা পছন্দের মানুষকে পাওয়ার কিছুদিন পর শারীরিক আকর্ষণ শেষ হওয়ার সাথে যেটার অবসান হয়।
বহু ছেলে-পেলেকে দেখেছি,যারা প্রেমের কারণে নিজেদের হাত-পা কাটে,ইদুরের বিষ বা গলায় দড়ি দিয়ে মরার চেষ্টা করে,তারাই বিয়ের দুইমাস থেকে ৩০ বছরের মধ্যে কম বয়সী সঙ্গী জোগাড় করে। হুমায়ন আহমদ আর সাবিনা ইয়াসমিন এসবের উৎকৃষ্ট প্রমাণ।
এর মূল কারণ পারিবারিক সমস্যা,যেটা বলেছেন।
আপনার এই লেখাটা আরো বিস্তারিতভাবে এথকে পত্রিাাণের উপায়সহ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভূক্ত করা উচিত।
যৌন শিক্ষার চেয়েও এটা জরুরী।
আপনি কি পেশায় চিকিৎসক?

১৭ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:৪৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: আরে!আপনার মন্তব্যের প্রথম লাইন পড়েই তো সুবীর নন্দীর সেই গানের কথা মনে পড়ে গেলো ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’ :-)

হ্যাঁ ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন সঠিক পারিবারিক শিক্ষা একজন মানুষকে সিভিলাইজড করে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক বড় ত্রুটি আছে।বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই ‘জীবিকা উপার্জনের’ উপযোগি করে তৈরি।কিন্তু সুনাগরিক হতে হলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা যে অপরিহায্য সে বিষয়টি এখনো অবহেলিত।আমার মনে হয় ক্লাশ সিক্স থেকে পূর্ণ ১০০ নম্বরের স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়টি সকল পযায়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা দরকার।

আমি একজন চিকিৎসা বিষয়ক গবেষক।

অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্যটির জন্য।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৬| ১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৮:৫২

ভুয়া মফিজ বলেছেন: বাংলায় বলে, অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। ইংরেজিতে বলে, excess of anything is bad......খামাখা তো আর বলে না!
তবে আমার প্রতি কেউ এমনভাবে অবসেসড হলে আমি কিন্তু মাইন্ড খাবো না, একেবারেই না!! :P

১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৯:৩৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: হা হা হা আপনার কমেন্টের শেষ লাইন পড়ে হাহাপগে :-)

জ্বি না শুনে যতটা এনজয় করছেন বাস্তবে এদের যন্ত্রণা অনেক ভয়ানক এমনকি অদেখা ভূবনে থাকলেও।

আমি অভিজ্ঞ মানুষ! :-)

১৭| ১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ৯:০৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: জাফরুল মবীন,




অনেক জানাশোনা আছে, বুদ্ধিমত্তা আছে এমন লোকদের ভীষন পছন্দ আমার। বিশেষ কিছু বিষয় বাদে আপনার বাকী লেখাগুলো আমি পড়ি, তা থেকে কিছু জানার জন্যে। এই জানা, নতুন ভাবনার যোগান দেয়। সে কারনেই ব্লগটা ছেড়ে যেতে পারিনে আপনাদের মতো কিছু ঋদ্ধ ব্লগার আছেন বলে।

ব্লগে আমার লেখাতে কোনও " কপি রাইট" সার্টিফিকেট এঁটে দেইনি। আমার মনে হয়, ব্লগের সব লেখাই ব্লগের সম্পদ-ব্লগাররাও তার অংশীদার। তারপরেও আমার পোস্টটি সংযোজন করার অনুমতি চাওয়া আপনার শালীনতাবোধকেই তুলে ধরেছে। কৃতজ্ঞ করে রাখলেন।

১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ১০:১৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: প্রথমেই একটা কথা বলি,আমি কিন্তু চির সবুজ ছাত্র;জ্ঞানী নই।একেবারে ছোট কাল থেকে কাগজের ঠোঙ্গা (তখন পলিব্যাগ ছিলো না) খুলে পড়তাম কি লেখা আছে জানতে।বাবা সমসময় বলতেন যে বিষয়েই জ্ঞান অর্জন কর একসময় তা কাজে লাগবে।সুতরাং জ্ঞানের উপাদান সামনে যখন যা পেয়েছি তাই গিলেছি এবং গিলছি।যতই জানছি ততই নিজেকে ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে।আরও বাড়ছে জানার আগ্রহ।

সিরিয়াসলি ব্লগিং করা এখন আর সম্ভব নয় ব্যক্তিগত কারণে।চার বছর আগে বাবা আল্লাহর কাছে চলে গেছেন।মা বয়সের ভারে অনেকটাই দূর্বল।তাছাড়া গত বছরই রেসপিরেটরি ফেলিওরের জন্য আইসিইউ থেকে ফিরেছেন।করোনা আতঙ্কে মা’কে নিয়ে একটা নিরাপদ স্থানে আছি।অফুরন্ত সময় কিন্তু মা’র কাছাকাছি না থাকলে মা চুপ করে বসে থাকেন।মা’র এ চেহারাটা ভালো লাগে না,তাই তার কাছাকাছি থেকে গল্প করে কাটাই।অনলাইনে রোগিদের সার্ভিস দেই।একটা ব্লগ পোস্ট লিখতে যে পরিমাণ পড়াশোনা ও মনোযোগ লাগে তা এ অবস্থায় দেওয়া সম্ভব নয়।করোনা বিষয়ে সবাইকে সচেতন করে তোলার প্রযাসে কেবল করোনা বিষয়ক পোস্ট দিতে ব্লগে আসা।তারপর পাকচক্রে আমার পুরোনা প্রায় ৭০টা সুলিখিত পোস্টের কয়েকটি আপলোড করলাম কয়েকজন প্রিয় ব্লগারের জন্য।ব্লগার নতুন ভাইয়ের একটা চাওয়া আজ পূরণ করতে চেষ্টা করব।তারপর একটা আমার পছন্দের পোস্ট দিব।আর পূর্বে দেওয়া কথা রাখতে সুবিধামত একসময় আরবি শেখার পোস্টগুলো দিয়ে যাব হয়ত।ব্যস এ পযন্তই।

আর কার্টেসির বিষয়টা ছোটকালেই শেখা।মা বলতেন কোথাও বেড়াতে গেলে এবং খেতে দিলে ’খেতে না বলা পযন্ত’ খাবে না।সেকারণেই আপনার কাছে অনুমতি চাওয়া।এটা হ্যাবিটও বলতে পারেন :-)

লিংকটা তাহলে ব্লগে যুক্ত করে দিচ্ছি।ধন্যবাদ অনুমতি দেওয়ার জন্য।

ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।



১৮| ১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ১০:৩৯

অন্তরন্তর বলেছেন: এলাভ অবসেসড কিছু মানুষ বাস্তবে আমার দেখা হয়েছে। আসলেই এদের অবস্থা যা দেখেছি তাতে বুঝা যায় কি ভয়ানক সমস্যা এতা। কোথায় যেন পড়েছিলাম পাবনা মানসিক হাসপাতালে সিংহভাগ রোগী এ সমস্যার। চমৎকার পোস্ট। শুভ কামনা।

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৩২

জাফরুল মবীন বলেছেন: পোস্ট পাঠ ও সুন্দর মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

১৯| ১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ১১:০৬

কানিজ রিনা বলেছেন: প্রেম চীর শ্বাসত, প্রেম অর্থ পরম এক অদ্বিতীয়
হাজার রকম ভালবাসা দিয়ে একজনকে ভালবাসা
স্নেহ মমতা শ্রদ্ধা ইত্যাদীই প্রেম। তা যদি জনে
জনে দাড়ায় তারা মানুষীক রোগী, ধর্ষকও বলা
চলে।
এবিষয়ে সুস্থ পরিবার গড়ে উঠা অবশ্যই

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৩৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: মনে হয় টেকনিক্যাল কারণে লেখাগুলো এলামেলোভাবে আসছে কিংবা আমি বুঝতে পারছি না।দুঃখিত।

আমার ব্লগবাড়িতে আসার জন্য ধন্যবাদ।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

২০| ১৭ ই মে, ২০২০ সকাল ১১:১৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: সব রোগের সেরা রোগ এর নাম প্রেম রোগ..
এই রোগের অষুধ কোন নাইরে....
ডাক্তারেও ফেল মারে ভাইরে ...

বাংলা সিনেমায় ফারুক-রোজিনার গানটা আপনার জন্য গিফট ;)

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৩৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার গান শুনে মনের মধ্যে আনন্দের আমফান বয়ে গেল :-)
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

২১| ১৭ ই মে, ২০২০ দুপুর ১২:৫৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: জাফরুল মবীন,




বাবা-মা'য়েরা চিরকালটাই আমাদের মাথায় ছায়া দিয়ে রাখতে পারেন না। আপনার মা আছেন, তিনিই হয়তো অজান্তে আপনাকে ছায়া দিয়ে চলেছেন। আপনার মা সুস্থ্য হয়ে উঠুন, এ প্রার্থনা রাখছি।
আর হতাশ হবেন না। জানার আগ্রহ তখনই মরে যায় যখন মানুষ তার নিজের মনটাকেই কবর দিয়ে ফেলে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঘন ঘন লেখা প্রসব রক্তশূণ্যতা সৃষ্টি করে। কিছু কিছু করে লিখুন। মাসে একটা হলেও, এতে জীবনের পাওয়া না পাওয়ার হাহাকার থেকে দূরে আপনার নিজের মনের মাঝেই ডুব দেয়া হবে আর আমরাও তা থেকে তুলে আনতে পারবো কিছু মুক্তা-ঝিনুক!
শুভেচ্ছান্তে।

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৩৯

জাফরুল মবীন বলেছেন: কথাগুলো মন ছুঁয়ে গেল!

অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন এ শুভকামনা রইলো অফুরন্ত।

২২| ১৭ ই মে, ২০২০ দুপুর ১:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় প্রেমের সময়। তখন শুধু আনন্দ আনন্দ। শ্রেষ্ট সময় প্রেমের সময়টা। বিয়ের পর শান্তি থাকে না। বিয়ে মানেই তো দায়দায়িত্ব। প্রেমে কোনো দায়িত্ব নাই।

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৪১

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

২৩| ১৭ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:৫৬

লোনার বলেছেন: সকল মুসলিমের জানা উচিত যে, passionate love ইসলামে হারাম!

১৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:৪৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: আমরা এখানে এমন একটা রোগ নিয়ে আলোচনা করছি যেটা সকল ধর্মের মানুষ এবং নাস্তিকদেরও হতে পারে।

আপনার ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে উচ্চারিত কথার প্রতি পূর্ণ সম্মান জানাচ্ছি।

ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.