নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কথায় নয়,কর্মে হোক পরিচয়

জাফরুল মবীন

Courtesy costs nothing but buys everything

জাফরুল মবীন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার কারণ ও তা প্রতিরোধে করণীয়-১ম পর্ব

০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:৪৩



বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।আসসালামু আলাইকা।

সম্প্রতি ভয়াবহ মাত্রায় নারী ও শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতেনর ঘটনায় সারা দেশ বিষ্ময়ে হতবাক; ঘৃণা ও ক্ষোভে ফুঁসছে সারাদেশের মানুষ।আলোচনা চলছে সর্বত্র।সমাজ বিজ্ঞানী ও মনোবিদ্যা বিশেষজ্ঞরাও নানাভাবে ব্যাপারটিকে বিশ্লেষণ করছেন।নানারূপ তত্বও দাঁড় করানো হচ্ছে।কিন্তু আমি বিষ্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম আমাদের মত পরিবার প্রথা নির্ভর সমাজে এ ধরনের যৌন হয়রানি কেন বাড়ছে তার বৈজ্ঞানিক তত্বগুলো উপস্থাপিত হচ্ছে না এবং অতীতেও হয়নি।সমস্যার কারণ সুনিদিষ্টভাবে চিহ্নিত করা না গেলে তার প্রতিকারে কোন পদ্ধতিই সুদূরপ্রসারী কোন কল্যাণ বয়ে আনবে না।মানুষ যত শিক্ষিত, সচেতন এবং সংবেদনশীল হবে সে তত সভ্য ও মানবিক হয়ে উঠবে এমনটা ধারনা করাই যুক্তিযুক্ত ছিলো।কিন্তু বিশ্বব্যাপী নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার মাত্রা সে ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করছে না।গ্রামে কিংবা শহরে,শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত সমাজে এবং অনুন্নত কিংবা উন্নত বিশ্বে নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার উচ্চ হার প্রমাণ করে দেয় এ ধরনের অপরাধের পিছনে অন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।আর এসব কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি আজ থেকে ৫বছর আগে সেসব বিষয়ের উপর একটি সিরিজ আর্টিকেল লিখেছিলাম আজকের ভয়াবহতা কল্পনা করে।কাজেই বর্তমানের যে মাত্রায় নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা হচ্ছে তাতে আমি বিষ্মিত নই।বরং এর চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে।দীর্ঘদিন ধরে এসব মৌলিক কারণগুলো উপেক্ষিত থাকায় এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।বিজ্ঞানীরা গত ৯-১০ বছর ধরেই দেখতে পাচ্ছেন পুরুষদের ব্রেনে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে যাতে তারা কামোদ্দীপক নারীদের মানুষের পরিবর্তে বস্তু হিসাবে দেখছেন।Princeton University -এর Professor Susan Fiske আতঙ্কিত হয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন একদিন মানুষ হিসাবে নারীর বিলুপ্তি ঘটতে পারে এবং পুরুষের চোখে নারীরা বস্তু তথা ভোগ্যপণ্য হিসাবে বিবেচিত হবে।কিন্তু মানুষ আজকের এ অবস্থায় কেন উপনীত হয়েছে তার সম্ভাব্য কারণসমূহ ও তার প্রতিকার কীভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা একটা সুদীর্ঘ বিষয় হওয়ায় সেটিকে নিম্নোক্ত কয়েকটি পর্বে উপস্থাপনের ইচ্ছে রইলো-

প্রথম পর্বঃ-যৌন সহিংসতার সংঙা এবং যেসব মানসিক রোগ বা সমস্যায় যৌন অপরাধ সংঘটিত হয় বা হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা।

দ্বিতীয় পর্বঃ-যৌন উত্তেজক (Sexual stimuli) এর ব্যাপক উপস্থিতি কীভাবে যৌন সহিংসতা বৃদ্ধি করছে, পুরুষদের যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতাসমূহ এবং ইরোটিক ক্যাপিটালিজম (Erotic capitalism) এর কুপ্রভাব বিষয়ে আলোচনা।

তৃতীয় পর্বঃ-নারী-পুরুষের যৌনতার পার্থক্য এবং পার্সোনাল স্পেস সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা কীভাবে যৌন সহিংসতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

চতুর্থ পর্বঃ- সামাজিক বিশৃঙ্খলা নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বৃদ্ধিতে কীভাবে ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে আলোচনা(THEORY OF ANOMIE)।

৫ম পর্বঃ-যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয়।


আলোচনার শুরুতে বিশ্বব্যাপী নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার চিত্রটা কত যে ভয়াবহ তার কিছু পরিসংখ্যান আপনাদের বিবেচনার জন্য নিচে তুলে ধরা হলো-

*মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলসমূহে ১২-১৬বছর বয়সী মেয়ে শিশুদের ৮৩% যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।

*ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে ৪০%-৫০% নারী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

*নয়া দিল্লির ২০১০ সালের এক রিপোর্ট থেকে জানা যায় প্রায় ৬৬% নারী বছরে ২-৫বার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

*বিশ্বব্যাপী পাচার হওয়া নারীদের প্রায় ৪৪ লক্ষকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়েছে।

*২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩,৪৬,৮৩০ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন যাদের বয়স ১২ বছর বা তারচেয়ে বেশি।এর মধ্যে মাত্র ১২%-১৬% কেস পুলিশের কাছে রিপোর্টেড হয়েছে।

*ছোটবেলায় যেসব নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তাদের প্রায় ৩৫% প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আবারও ধর্ষিতা হয়েছেন।

*প্রতি ৪ জন নারীর ১ জন এবং প্রতি ৬ জন পুরুষের ১ জন ১৮ বছর বয়সের পূর্বেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন।

*৪০% যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুর কোন উপসর্গ থাকে না।

*২৬% টিনএজার ও তরুণ-তরুণী মোবাইল বা ইন্টারনেটে যৌন বার্তা আদান প্রদান করে থাকে।

*শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের মধ্যে ১০% অপরিচিত,৩০% আত্মীয় এবং ৬০% পরিবারের সদস্য নন এমন পরিচিতজন (পারিবারিক বন্ধু, প্রতিবেশী, কাজের লোক, ড্রাইভার, ডাক্তার, হুজুর …)।এদের মধ্যে ২৩% শিশু যৌন নির্যাতনকারীর বয়স ১৮ এর নিচে।

*মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৫-২০১০ পর্যন্ত চালানো জরিপ থেকে জানা যায় ধর্ষণকারীদের ৭৮% ই ধর্ষিতার আত্মীয়, বন্ধু ও পরিচিতজন।

*শুধু ২০০২ সালে বিশ্বে প্রায় ১৫ কোটি নারী যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন যাদের বয়স ছিলো ১৬ বছরের নিচে।

*বিশ্বে যত নারী যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটে তার ৫০% এরও বেশি শিকার ১৬ বছরের নীচের নারীরা।

*ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৫% ক্ষেত্রে ধর্ষিতার নিজ বাড়ি বা কাছাকাছি স্থানে,১২% ক্ষেত্রে তার পরিচিত মানুষের বাড়ি বা তার কাছাকাছি স্থানে,১০% ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক এলাকা বা পাকিং লট বা গ্যারেজে,৮% ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ১৫% ক্ষেত্রে গাড়িতে বা পার্কে বা অন্যন্য স্থানে।

*৯০% ক্ষেত্রে ধর্ষণকারী একজন ছিলো এবং ১০% ক্ষেত্রে ২ বা ততোধিক।

*ধর্ষণের ঘটনা ৭৮% ক্ষেত্রে পরিচিতজনদের দ্বারা (বর্তমান বা প্রাক্তন স্বামী ও ছেলে বন্ধু-৩৪%, আত্মীয়-৬% এবং অনাত্মীয় পরিচিতজন-৩৮%) এবং ২২% ক্ষেত্রে অপরিচিতের দ্বারা সংঘটিত হতে দেখা গেছে।

*৮৩% ক্ষেত্রে ধর্ষণকারী নিরস্ত্র ছিলো এবং ১১% ক্ষেত্রে কোন না কোন অস্ত্রে মুখে ধর্ষণ করা হয়।

*যৌন নির্যাতনকারীর বয়স ৪৮% ক্ষেত্রে ছিলো ৩০ বছর+,২৫% ক্ষেত্রে ২১-২৯ বছর,২৪% ক্ষেত্রে ১৭-২০ বছর এবং ৩% অন্যন্য বয়সের।

The United Nations Multicountry Study মোতাবেক বাংলাদেশের চিত্রও ভয়াবহ-

*গড়ে ১০% বাংলাদেশী পুরুষ জীবনে কোন না কোন মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।

*বাংলাদেশে গ্রামের ৮২% ও শহরের ৭৯% পুরুষ ধর্ষণের কারণ হিসাবে মেয়েটিকে বশে রাখা,বাগে আনা বা অধিকারভূক্ত করাকে দেখিয়েছেন।

*বাংলাদেশে ৬১.২% শহুরে পুরুষের মধ্যে ধর্ষণ করার পর কোনরূপ অপরাধবোধ বা পরিণতির ভয় কাজ করেনি।

*৮৯.২% বাংলাদেশি শহুরে পুরুষ কোন নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সঙ্গম করাকে ধর্ষণ মনে করেন না যদি না সে নারী শারীরিকভাবে বাঁধা দেয়।

*বাংলাদেশে ৯৫.১% ধর্ষককে কোন ধরনের আইনি পরিণতি ভোগ করতে হয়নি।


এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে যৌন সহিংসতার সংজ্ঞা ও সীমা জানা।কারণ সঠিক সংজ্ঞা ও সীমা না জানার জন্য অনেক সময় নারী যৌন নির্যাতিত হয়েও তা বুঝতে পারে না এবং যা তাকে আরও বড় ধরনের যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। ‘যৌন অপরাধ(sexual offence)’,‘যৌন হয়রানি(sexual harassment)’,‘যৌন নির্যাতন(sexual assault)’ ও ‘যৌন সহিংসতা(sexual violence)’ প্রায় সমার্থক হওয়ায় পুরো অার্টিকেলটিতে ‘যৌন সহিংসতা’ টার্মটিই ব্যবহার করা হবে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌন সহিংসতা বা Sexual violence কে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে-

“Any sexual act, attempt to obtain a sexual act,unwanted sexual comments or advances, or acts to traffic women’s sexuality,using coercion, threats of harm or physical force, by any person regardless of relationship to the victim, in any setting, including but not limited to home and work”

“ঘরে কিংবা বাইরে কোন ব্যক্তি যদি শারীরিক বলপ্রয়োগে বা হুমকি দিয়ে কিংবা পরিস্থিতি সাপেক্ষে বাধ্য করে যে কোন ধরনের যৌন কর্মে লিপ্ত হয়,যৌনতা লাভের প্রয়াস চালায় বা অবাঞ্চিত কোন যৌনতা নির্দেশক কথা বলে বা প্রস্তাব পেশ করে কিংবা নারীর যৌনতাকে পুঁজি করে কোন ধরনের বাণিজ্য করে তাহলে সেই ব্যক্তি উক্ত ভূক্তভোগীর সাথে যে সম্পর্কেই সম্পর্কিত থাকুক না কেন সেটা যৌন সহিংসতা বলে বিবেচিত হবে”।

আমি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য কোন কোন বিষয়গুলো যৌন সহিংসতা বলে বিবেচিত হবে তার কিছু উদাহরণ নিচে উপস্থাপন করছি-

১)ধর্ষণ-এমন কি ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে কোন স্বামী যদি তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে সেটাও ধর্ষণ (spousal rape) তথা যৌন সহিংসতা বলে বিবেচিত হবে।যদিও বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশে স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সঙ্গম করাটা অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয় না সচেতনতার অভাবে।এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় নারী প্রচন্ড মানসিক এবং/অথবা শারীরিক নির‌্যাতনের শিকার হয়; অথচ এর প্রতিকার পাওয়া যে তার অধিকার এটি সে নিজেও জানে না ।

২)শারীরিক যৌন হয়রানি-মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া,বিশেষ অঙ্গ স্পর্শ করা,এমন কোন কাজ করতে বলা যাতে মেয়েটির শরীরের বিশেষ জায়গা স্পষ্ট হয়ে উঠে বা দৃশ্যমান হয় (যেমন খাটের উপর বসে কাজের বুয়াকে ঘর মুছতে বলা),নারীকে পুরুষের বিশেষ অঙ্গ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্পর্শ করতে বাধ্য করা (যেমন প্যান্টের পকেট থেকে কোন কিছু বের করতে বলা),অনুমতি ছাড়াই এবং নারীর অস্বস্তি উপেক্ষা করে কোন নারীকে আদর করা বা জড়িয়ে ধরা বা চুমু খাওয়া ,নারীর বস্ত্র ধরে টান দেওয়া বা নগ্ন করতে চেষ্টা করা বা এমন কোন কাজ করা যাতে নারী শরীর থেকে বস্ত্র অপসারণ করতে বাধ্য হয় (যেমন কামিজের ভিতর তেলাপোকা ঢুকিয়ে দেওয়া) বা বস্ত্রের ভিতর দিয়ে তার দেহের বিশেষ অঙ্গসমূহ দেখা যায় (যেমন পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া) ইত্যাদি।

৩)মানসিক যৌন হয়রানি-নারীর উদ্দেশ্যে যৌনতা নির্দেশক কোন কথা বলা বা প্রস্তাব দেওয়া (ইভ টিজিং), এমন কথা বলা যাতে একজন নারী যৌন নির্যাতনের আতঙ্কে ভোগে (যেমন-‘আমি তোমাকে তুলে নিয়ে যাব’,‘তোমাকে আমার কাছে আসতেই হবে এক রাতের জন্য হলেও’ ),অপছন্দ বা অমত সত্বেও প্রেম বা বিয়ের জন্য পীড়াপীড়ি করা ইত্যাদি।

৪)যৌনতায় বাধ্য করা (coercion)-এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে একটি মেয়ে সজ্ঞানে যৌন মিলনে বা অন্যন্য যৌন কর্ম করতে বাধ্য হয় যদিও পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে সেই মেয়ে এ ধরনের কাজ করতে অনীহা দেখাত।যেমন চাকুরীর প্রলোভন বা পদোন্নতির মুলো ঝুলিয়ে সেক্স করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দূর্বল করা,মডেল বা নায়িকা হতে হলে তো তোমাকে ফ্রি হতে হবে এবং পরিচালককে খুশি রাখতে হবে এ ধরনের কথা মাথায় ঢুকিয়ে তাকে যৌন কর্মে আগ্রহী করে তোলা,গরীব কোন নারীকে আর্থিক সাহায্য করার মাধ্যমে তাকে তার উপর নির্ভরশীল করার পর তার সাথে সেক্স করতে চাওয়া (এমত অবস্থায় মেয়েটি অসহায়ত্ব বা কিংবা কৃতজ্ঞতার কারণে সহাস্যে রাজি হলেও এটি যৌন সহিংসতা হিসাবেই বিবেচিত হবে), শ্যালিকার সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তাকে যৌনতায় (সেক্স করা বা আদর করা বা একসাথে পর্ণোছবি দেখা…) আহবান করা (এ অবস্থায় মেয়েটি দুলাভাইয়ের প্রতি ভালোলাগা এবং অসম্মতিতে বোনের উপর নির্যাতনের কথা বিবেচনায় দূর্বল হয়ে পড়তে পারে),প্রেমিক বা অন্তরঙ্গ বন্ধুর ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলিংয়ে কারণে যৌন কর্মে জড়ানো (যেমন ‘আমাকে যদি তুমি চুমু খেতে না দাও তাহলে বুঝবো তুমি আমাকে আসলে ভালোবাসো না’, ‘এই আমি তো বন্ধু,তোর হাত ধরলে কী হবে?...আচ্ছা যা তুই যখন আমাকে সৎ বন্ধু মনে করিস না তখন আর এ সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে লাভ কী?’----এ ধরনের পরিস্থিতিতে মেয়েটি দূর্বল হয়ে নিজে থেকে কোন ধরণের যৌন কর্মে জড়ালেও সেটা যৌন সহিংসতা হিসাবে গণ্য হবে),শিশু সন্তানের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে শিশুর মাকে যৌনতায় বাধ্য করা….ইত্যাদি।

৫)বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্ম করা (false agreement)- এ অবস্থায় পুরুষটি ঐ নারীকে বিয়ে না করলে এটি যৌন সহিংসতা হিসাবে বিবেচিত হবে ।অর্থাৎ মেয়েটি এ শর্তেই ছেলেটিকে যৌনকর্মের সম্মতি দিয়েছিলো যে সে তাকে বিয়ে করবে।সম্প্রতি একটি আলোচিত কেসে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক তরুণী তার প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন।এ বিষয়ে আমাদের ব্যাপক অসচেতনতা আলোচ্য কেসে নেটিজেনদের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে।

৬) অকার্যকর সম্মতি- কোন নারীর পূর্ণ সম্মতি ও ঐকান্তিক ইচ্ছা প্রকাশ করার পরও এমনকি লিখিত বা সাক্ষীর উপস্থিতিতেও যৌন মিলনের ঘটনা সংঘটিত হলেও যদি সে নারীর সম্মতি দেওয়ার আইনত বয়স না থাকে (১৬ বছরের নীচে) কিংবা মানসিক পরিপক্কতা না থাকে (যেমন পাগল) অথবা মানসিক অবস্থা না থাকে (যেমন মদ্যপ অবস্থায় বা নেশা করা অবস্থায়) সেক্ষেত্রে এরূপ যৌনতা ‘যৌন সহিংসতা’ হিসাবে বিবেচিত হবে।

৭)যৌন-দাসত্ব: নারী পাচার, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা, পতিতাবৃত্তিতে শিশুদের ব্যবহার করা, শিশু পর্ণোগ্রাফি ইত্যাদি।

৮) ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে- জোরপূর্বক বিয়ে করা, অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করা, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে মেয়েটি অনিচ্ছা সত্বেও বিয়ে করতে বাধ্য হয়।

৯)প্রজননে বল প্রয়োগ- জোরপূর্বক গর্ভধারণে বাধ্য করা,জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানো ও জোরপূর্বক স্থায়ী জন্মনিরোধী পদ্ধতি গ্রহণে বাধ্য করা।

এ ছাড়াও আরও নানা ধরনের অবস্থা যৌন সহিংসতা হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে যার সবগুলো নোটের কলেবরের কথা বিবেচনায় উল্লেখ করা হলো না।




এমন কতকগুলো মানসিক রোগ বা ডিসঅর্ডার রয়েছে যার প্রধান উপসর্গই হলো যৌন সহিংসতা বা বিকৃত যৌন আচরণ।আবার এমন কতকগুলো ব্যক্তিত্বের ত্রুটি রয়েছে যার কারণে একজন যৌন সহিংসতার শিকার হতে পারে।দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে আমাদের দেশে এসব রোগগুলোর প্রকোপ ক্রমাগত বাড়লেও এ বিষয়ে গণসচেতনতা না থাকায় এবং চিকিৎসা না হওয়ায় এদের হিংস্র থাবায় নারীরা আজ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত।আপনাদের বিবেচনার এরকম কিছু রোগের কথা নিচে তুলে ধরা হলো-

প্রথমেই আলোচনা করি ব্যক্তিত্বের ত্রুটি বা পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার নিয়ে।গবেষণায় দেখা গেছে সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীদের ৫০%-৭৪% নানাবিধ পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত।এর মধ্যে অ্যান্টিসোস্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের কেস প্রায় ২৯.১%, বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের কেস প্রায় ৪৪% এবং অবসেসিভ-কমপালসিভ পার্সোনালিটির কেস প্রায় ১০%।অর্থাৎ যৌন অপরাধীদের সিংহভাগই ব্যক্তিত্বের ত্রুটিতে ভূগে থাকেন।যৌন অপরাধীদের মধ্যে পাওয়া প্রধান প্রধান ব্যক্তিত্বের ত্রুটি নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করা যাক।

অ্যান্টি সোস্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃএরা হলো সকল নিয়ম কানুন অগ্রাহ্য করে চলা একদল অপরাধপ্রবণ মানুষ যাদেরকে অসামাজিকও বলা হয়।নারীকে যৌন নির্যাতন করা এদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।এদের জীবন ইতিহাসে একাধিক নারী ধর্ষণের কেস হিস্ট্রি পাওয়া যায়।সাধারণ জনসংখ্যার ৩% পুরুষ ও ১% নারী এ রোগে ভুগে থাকে বলে ধারণা করা হয়।বিশ্বব্যাপী প্রিভ্যালেন্স হার বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রায় ১৫লক্ষ পুরুষ এ রোগে ভুগছে।ধর্ষকদের একটি বিরাট অংশ এ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।যেহেতু এরা অমিত সাহসী, জানের তোয়াক্কা করে না, হিংস্র ও দাপুটে এবং সর্বোপরী অপরাধপ্রবণ মানসিকতার অধিকারী বিধায় গ্যাং তৈরি করা, রাজনৈতিক দলের ক্যাডার হওয়া বা এলাকায় প্রভাব বিস্তারকারী গ্রুপ তৈরি করা এদের বৈশিষ্ট্য।তাদের এসব গুণের জন্য ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই তাদের ব্যবহার করে এবং ক্ষমতাসীনদের আস্কারায় তাদের অপরাধপ্রবণতাও প্রকট হয়।এ রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

বর্ডার লাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃএমনিতে এ মানুষগুলো খুবই প্রাণোচ্ছল ও আপাত ভালো মানুষের মত মনে হলেও এরা যথেষ্ট বদরাগী এবং কোন ধরনের অবহেলা,অপমান বা অপদস্ত হলে কিংবা প্রিয় মানুষ ছেড়ে চলে গেলে এ মানুষগুলো ঝোঁকের মাথায় নানা ধরনের অবিবেচক কাজ করে থাকে যার মধ্যে যৌন নির্যাতন অন্যতম।অন্যের ক্ষতি করার পাশাপাশি এরা নিজেদেরও ক্ষতি করে থাকে।হাত ব্লেড বা ছুরি দিয়ে কাটা, দেয়ালে মাথা ঠুকা ইত্যাদি ৫০%-৮০% রোগির মধ্যে দেখা যায়।স্বাভাবিক অবস্থায় এদের অমায়িকতা এবং প্রতিক্রিয়াশীলতায় হিংস্রতা দেখানোর এ দ্বৈতগুণের জন্য এরাও পাড়ার দাদা, রাজনৈতিক দলের সদস্য কিংবা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রিয়ভাজন হয়ে থাকে।বিশ্বব্যাপী এ রোগের প্রাদূর্ভাব হারের সর্বনিম্ন হার বিবেচনা করলেও বাংলাদেশে প্রায় কমপক্ষে ১৫লক্ষ ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত।গুরুত্বপূর্ণ হলো এ ডিসঅর্ডারে অনেক নারী ভূগে থাকেন।এ ধরনের নারীরা অন্য নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা প্রদর্শনে অনেকসময় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আপনাদের আরেকটি ব্যক্তিত্বের ত্রুটির সাথে আপনাদের পরিচয় দিই যেটিতে একজন নারী নিজের আচরণের কারণেই যৌন সহিংসতার শিকার হন এবং অন্য নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে ধণাত্মক প্রভাবক হিসাবে কাজ করেন।আর সেটি হলো হিস্ট্রিওনিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার।

হিসট্রিওনিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারঃএ ব্যক্তিত্বের অধিকারীরা বেশিরভাগই মেয়ে।এদের অনেকগুলো বৈশিষ্টের মধ্যে একটি হলো পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য দেহ তথা যৌনতা প্রদর্শনকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা যদিও তারা সেক্সের ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহী থাকে না।এ ধরনের আচরণের কারণে অনেক পুরুষ প্রলুব্ধ হয় এবং তারাই তাকে নানা ফাঁদে ফেলে যৌন নির্যাতন করে থাকে।আবার একই সাথে একাধিক ছেলের সাথে প্রেমিকার ন্যায় অভিনয় করায় প্রতিশোধমূলক ধর্ষণেরও শিকার হয়।এদের সাথে সম্পর্কিত হয়ে অনেক সাধারণ মেয়েও যৌন সহিংসতার শিকার হয়।এ রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আবার কিছু বিকৃত যৌনাচারী রয়েছে (Paraphiliac) যাদের কারণে নারী ও শিশুরা হরহামেশা যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।এরকম কিছু প্যারাফিলিয়ার সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি-

পেডোফিলিয়াঃ- Pedophilia(ল্যাটিন Pedo শব্দের অর্থ শিশু)।এক্ষেত্রে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ কাম-লালসা চরিতার্থ করার জন্য নাবালক শিশুকে যৌনসঙ্গী হিসাবে ব্যবহার করে।এ ধরণের বিকৃত যৌনাচারে শিশুর মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটে এবং তা তাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।ঘরের মধ্যে নিকট আত্মীয়,কাজের লোক, ড্রাইভার ও প্রতিবেশী দ্বারা এবং স্কুলে বা মাদ্রাসায় শিক্ষকের দ্বারা আমাদের শিশুরা অহরহ এ ধরণের অনাচারের শিকার হচ্ছে।এ রোগে ভোগার হার সাধারণ জনসংখ্যার ৩%-৫% বলে ধারণা করা হয়।অবশ্য সকল পেডোফিলিক যৌন সহিংসতা দেখায় না।অামি যদি যৌন সহিংসকারী পেডোফিলিকের প্রিভ্যালেন্স রেট মাত্র ১%ও বিবেচনা করি তাহলেও বাংলাদেশে প্রায় ১০লক্ষ শিশু যৌনাচারী অপরাধী রয়েছে বলে ধারণা করা যায়।

র্যাপটোফিলিয়া Raptophilia (from Latin rapere, "to seize") বা Biastophilia(from Greek biastes, "rape") এর ক্ষেত্রে জোরপূর্বক ধর্ষণের সময় একজন নারী প্রতিরোধমূলক যেসব কাজ করে(কিল ঘুষি মারা, চিৎকার করা, কান্নাকাটি করা ইত্যাদি) সেগুলো তার জন্য যৌন উদ্দীপক হিসাবে কাজ করে।মেয়েটির শরীর ভোগ করা তার মূল উদ্দেশ্য থাকে না।অবশ্য কামোত্তেজিত হওয়ার পর ধর্ষণ কিংবা ধরা পড়ার ভয়ে তাকে হত্যা করা হতে পারে।বৈধ স্ত্রী থাকার পরও তাদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখা যায় না।যারা একের পর এক ধর্ষণ করে সেঞ্চুরি হাকাচ্ছেন তারা এ রোগের রোগী কি না নিশ্চিত হওয়া দরকার।

ন্যারেটোফিলিয়াঃ Narratophilia(Narrate=বর্ণনা করা)।এ ধরণের পুরুষরা মেয়ে দেখলেই তাদের সাথে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ চটুল কথাবার্তা শুরু করে দেয় এবং তার প্রভাব অবলোকন করে।এর দ্বারা সে যৌন উদ্দীপনা লাভ করে।মেয়েটির নির্লিপ্ততায় কিংবা না বলার অক্ষমতায় অথবা আস্কারায় এ উদ্দীপনা থেকে তীব্র যৌন তাড়না সৃষ্টির মাধ্যমে শ্লীলতাহানি বা ধর্ষণের মত ঘটনাও ঘটতে পারে।দুলাভাই,স্বামীর বন্ধু,দেবর,অফিসের কলিগ এবং ইভ টিজারদের মধ্যে এরকম ন্যারেটোফিলিক দেখা যায়।

স্পর্শসুখ বা শ্লীলতাহানিঃ এটাকে Toucherismও বলা হয়।অনেক মনোবিজ্ঞানী টাচেওরিজম ও ফ্রটেওরিজরমকে একই অর্থে ব্যবহার করেন।এ ধরণের কুকর্মের হোতা মূলতঃ পুরুষরাই।হাত দিয়ে অপরিচিত নারীর শরীর স্পর্শ করা, স্তনে চাপ দেওয়া, নিতম্বে চাপড় দেওয়া, চুমু খেতে চেষ্টা করা, যৌনাঙ্গে হাত বোলানো ইত্যাদি।বৈশাখী মেলা, বইমেলা, বাণিজ্যমেলা, ঈদের কেনাকাটার ভীড়ে, ঘরে নারীর একাকিত্বের সুযোগে কিংবা টিএসসির থার্টি ফার্ষ্ট নাইটেও এদের হ্রিংস থাবা প্রসারিত।নারীদেহের স্পর্শসুখই তাদের তীব্র কামোত্তেজনা তৈরির জন্য যথেষ্ঠ।এ ঘটনাকে বার বার সে মনে করে পূণঃ পূণঃ যৌন উদ্দীপনা অনুভব করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হস্তমৈথুনের দ্বারা কামনার পরিসমাপ্তি ঘটে।

ফ্রটেওরিজমঃ- ভীড়ের মধ্যে প্রধানত নারীদের পশ্চাদদেশে লিঙ্গ ঘষে যৌনানন্দ লাভ করাই হলো ফ্রটেওরিজম।এ সমস্যা সবচেয়ে বেশী দেখা যায় বাসে বা ট্রেনে ভীড়ের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায়।সুতরাং ভিড়ের মধ্যে পেছন থেকে আপনাকে কেউ ঘষা দিলেই তাকে পকেটমার হিসাবে পাকড়াও করার আগে এ ব্যাপারটা ভেবে দেখতে পারেন।

ফেটিসিজমঃ- Fetishism(fetish=নির্জীব বস্তুর প্রতি অন্ধ ভক্তি)।এ ধরণের বিকৃত যৌনাচারীরা যৌন উত্তেজনা থেকে অর্গাজম বা চরম পূলক পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে শুধুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের একান্ত ব্যক্তিগত পোষাক বা তার ছবি বা তার ভালোবাসার কোন জিনিস দেখে বা এসব দ্বারা (যেমন-ব্রা, পেটিকোট, ব্লাউজ, ছবি) লিঙ্গতে পরশ বুলিয়ে।

পারশিয়ালিজমঃ- Partialism (part বলতে শরীরের একটি অংশকে বোঝানো হয়েছে)এটা ফেটিসিজমের মতই তবে এক্ষেত্রে নির্জীব জিনিসের পরিবর্তে শরীরের বিভিন্ন অংশ(যা সাধারণতঃ যৌন উদ্দীপক নয়) যৌন উদ্দীপক হিসাবে কাজ করে।শরীরের এরকম অংশকে স্পর্শ করে,আদর করে বা লেহন করে বা এরূপ আচরণের কল্পনা করে তীব্র কামোত্তেজনা তৈরী হয় যা তাকে চরমপূলক পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে।স্থানভিত্তিক এটাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।যেমন-

পডোফিলিয়াঃPodophilia(pod=পা)।পা দেখে বা তাতে আদর করে বা পায়ে আদরের কল্পনা করেই একজন চরম উত্তেজিত হয়ে যেতে পারে।এ রোগে ছেলে মেয়ে উভয়েই ভূগে থাকে।এ রোগের মেয়েদের পা কোন কারণে কোন পুরুষ স্পর্শ করা মাত্রই তারা প্রচন্ড কামাতুর হয়ে উঠে এবং দেহমিলনের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।অন্যন্য দেশের মত আমাদের দেশেও এটা বেশ দেখা যায়।

বেলী বাটন পারশিয়ালিজমঃNavel /belly button Partialism এ ধরনের বিকৃত যৌনাচারে মেয়েদের নাভীই যৌন উত্তেজনার প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়।এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নারীর নাভী দেখা বা তা স্পর্শ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে।

অ্যাক্সিলিজমঃ axillism বা armpit partialism এ বগলই যৌন উত্তেজনার প্রাণকেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়।

ট্রিকোফিলিয়াঃ trichophilia এর ক্ষেত্রে বিপরীত লিঙ্গের চুলে হাত বুলালে তীব্র কামনা তৈরী হয়।এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নারীর চুল স্পর্শ করা বা তা নিজ মুখের উপর টেনে আনার চেষ্টা করে।

ইনসেস্টঃ- INCEST।যাদের মধ্যে বিয়ে করা হারাম(যেমন পিতা-কন্যা,মা-ছেলে কিংবা আপন ভাই-বোন) তাদের মধ্যের যৌন সম্পর্ককেই ইনসেস্ট বলে।এধরণের প্যারাফিলিকরা রক্তের সম্পর্কের মানুষের সাথে যৌন সম্পর্কের কল্পনা থেকে প্রচন্ড যৌন উদ্দীপনা ও তাড়না লাভ করে এবং যৌনকর্ম সংঘটিত করে।বর্তমানে এটি বিরল নয়।মাঝে মাঝে এ ধরনের খবর পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে।গত ২২শে সেপ্টেম্বর এক মা তার কন্যাকে দিনের যৌন নির‌্যাতন করার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।পত্রিকার খবরের লিংকটি এখানে পাবেন।

এক্সিবিশানিজমঃ-এর অর্থ হলো প্রর্দশন করা।যখন কোন পুরুষ অপরিচিত নারী বা জনসম্মুখে তার গোপনাঙ্গ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে উন্মোচিত করে নিজে যৌন উদ্দীপনা লাভ করে তাকেই এক্সিবিশানিজম বলে।নারীর সামনে লিঙ্গ প্রদর্শন করা ও তার সাপেক্ষে মেয়েটির প্রতিক্রিয়া দেখা তার জন্য যৌন উদ্দীপক হিসাবে কাজ করে।পরবর্তীতে সে এই ঘটনা কল্পনায় এনে বার বার নিজেকে যৌন উদ্দীপিত করে এবং তা থেকে হস্তমৈথুন বা অন্যন্য যৌনকর্ম করে থাকে।এ ধরনের রোগাক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা নারীরা মূলত মানসিক যৌন হয়রানির শিকার হয়।

গ্র্যাফিটিঃ- Graphity(graph মানে লেখা)।বাথরুমের দেয়ালে,বই এর পাতায় বা ফেসবুকের টাইম লাইনে কিংবা পত্রিকায় যৌন উত্তেজক কথাবার্তা লিখে যৌনানন্দ লাভ করা এই ভেবে যে অন্য কেউ সেটা পড়ে যৌন উত্তেজিত হবে।তার লেখা পড়ে কেউ কামোত্তেজিত হয়েছে এটা মনে মনে কল্পনা করেই সে নিজেই কামাতুর হয়ে পড়ে।এ ধরনের রোগীদের কারণে নারীরা মানসিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

টেলিফোন স্ক্যাটোলোগিয়াঃ telephone scatologia (scatos=dirt/shit বা নোংরা)।এ ধরণের বিকৃত যৌনাচারীরা ফোনের মাধ্যমে অপরিচিত বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে(তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে) যৌন বিষয়ক নোংরা কথা বলে যৌনানন্দ লাভ করে।আমাদের দেশে মোবাইলের অবাধ ব্যবহারে এ বিকৃতিটি হু হু করে বাড়ছে।অনেক মেয়েই এ কারণে অপরিচিত নাম্বার থেকে আসা কল রিসিভ করেন না।এটি এক ধরনের মানসিক যৌন নির্যাতন।

জেরেন্টোফিলিয়াঃ- Gerontophilia(Greek: geron, মানে "old man or woman") ।বৃদ্ধা বা রজঃনিবৃত মহিলা যাদের সাথে সেক্স তৃপ্তিদায়ক নয় তাদেরকে দেখলেই এদের যৌন উদ্দীপনা তৈরী হয়।যেহেতু এরা শারীরিকভাবে বাঁধাদানে অসমর্থ তাই তারা অনেকসময় এরূপ ব্যক্তির দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত গাইনীকোলজিস্টের সন্তান তার সুন্দরী স্ত্রীকে হত্যা করার পর ঘটনাক্রমে জানা যায় সে ছেলের সাথে একাধিক বৃদ্ধা মহিলার যৌন সম্পর্ক ছিল।হত্যাকান্ডের পিছনে জেরেন্টোফিলিয়া দায়ী ছিল কিনা সে বিষয়ে কেউ দৃষ্টি দেয়নি।পরবর্তীতে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়।সম্প্রতি একজন ৭০বছর বয়সের বৃদ্ধা ধর্ষিতা হয়েছেন।বিষয়টিতে কোন জেরেন্টোফিলিক জড়িত কিনা তা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।

লাস্ট মার্ডারঃ- Lust মানে কামুকতা Murder মানে খুন।এ ধরনের বিকৃত যৌনাচারে (Paraphilia) লিঙ্গ উথ্থান, বীর্যপাত, এমনকি চরমপূলক পর্যন্ত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হত্যা একটা উদ্দীপক হিসাবে কাজ করে।আর এ কাজে সে একের পর এক যুবতীকে খুন করে চলে।আসলে এটিই লাস্ট মার্ডার।মনে রাখা দরকার ধর্ষণের পর আত্মরক্ষার জন্য বা রাগের মাথায় বা হিংসাবশত খুন করা লাস্ট মার্ডার নয়।লাস্ট মার্ডারের ৫টি মৌলিক বৈশিষ্ট্য আছে-

১)এ ধরনের বিকৃত ব্যক্তিরা এ জাতীয় প্রচন্ড যৌন তাড়না নির্দিষ্ট সময় পর পর অনুভব করে।

২)এরূপ তাড়নার সময় সে সুযোগমত তার শিকারকে অর্থাৎ পছন্দের মেয়েটিকে কৌশলে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে।

৩)শিকার বাছাইয়ে এদের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন থাকে।সেটা হতে পারে ভিকটিমদের বয়স,দৈহিক গঠন কিংবা পেশা ইত্যাদি।এটাকে বলা হয় Ideal Victim Type (IVT) ।আমাদের দেশের সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ এর ক্ষেত্রে সকল নারীই গার্মেন্টস কর্মী ছিলো।হত্যাকান্ডের নিদিষ্ট প্যাটার্ন ও Ideal Victim Type (IVT) কারণেই সিরিয়াল কিলিংয়ের কেসগুলো যে একই ব্যক্তি করছে তা ধারণা করা সহজ হয়।

৪)পরবর্তী তাড়না অনুভব না করা পর্যন্ত সে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানুষের মত আচরণ করে।

৫)হত্যাকান্ডের কথা অনেক সময় মনে থাকে না।এটা যে একটা মানসিক রোগ এটা তার একটা গুরুত্বপূর্ণ
বৈশিষ্ট্য।

যৌন নেশা (Sex addiction) ও হাইপারসেক্সুয়ালিটি (Sexual obsession) : এ মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সবর্দা সেক্স নিয়ে চিন্তা করতে থাকে এবং যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার জন্য পাগল প্রায় হয়ে থাকে।এদের সকলের জীবনে নারী বা শিশু উপর যৌন নির্যাতন করার ইতিহাস থাকে।ছেলেদের ক্ষেত্রে এটাকে স্যাটাইরিয়াসিস(satyriasis) বলে।

ম্যানিয়াঃঅতি উৎফুল্লতার এ রোগের রোগীরাও তীব্র যৌন তাড়না থেকে যৌন সহিংসতা ঘটাতে পারে।

বিষন্নতাঃ বিষণ্নতা মানুষকে একাকীত্ব এনে দেয়,মনে কষ্ট নিয়ে ঘুরে বেড়ায় একটু মানবিক আশ্রয়ের জন্য,একটু শান্তির পরশ পেতে।এরা প্রায়ই ঘরের মানুষদের উপর বীতশ্রদ্ধ থাকে।আর এ সুযোগটা নিতে পারে কিছু সুযোগসন্ধানী।প্রাণোচ্ছল বন্ধু সেজে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি করে এরা প্রায়ই ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়েটিকে যৌনতায় জড়াতে বাধ্য করে।পরবর্তীতে মেয়েটি বাস্তবতা উপলব্ধি করে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে চাইলেও এরা ব্ল্যাকমেলিং করে পূর্বের সম্পর্কে ফিরে আসতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।এ অর্থে বিষণ্নতাও যৌন সহিংসতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।

লাভ অবসেশনঃ প্রেমপাগল এ রোগের রোগীরা প্রায়শই ভালোবাসার মানুষকে হারায় অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার কারণে।এরা প্রায়ই হারানো প্রেমিকার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার নামে সেক্স সংক্রান্ত কলঙ্ক রটায় কিংবা সুযোগ পেলে ধর্ষণ বা অন্যন্য যৌন সহিংসতার আশ্রয় নেয় এমনকি খুনও করে ফেলতে পারে।প্রেমঘটিত যত যৌন সহিংসতা ঘটে তার পিছনে লাভ অবসেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ।লাভ অবসেশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

ড্রাগের নেশাঃ হেরোইন বা ইয়াবার মত নেশাদ্রব্যের ব্যবহার ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে সমাজে।এসব রিক্রিয়েশনাল ড্রাগ ব্যবহারের সময় যৌন তাড়নার সৃষ্টি হয় যা সমাজের অন্যন্য মানুষদের যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে ফেলে।এমনকি এরা নিজেরাও যৌন সহিংসতার শিকার হয়।

বিশ্বব্যাপী রোগের প্রাদুর্ভাবের হার(Prevalence Rate) বিবেচনায় বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫০লক্ষ সম্ভাব্য সক্ষম যৌন সহিংসতাকারী (Potential sex offender) রয়েছে ।এই বিপুল সংখ্যক সম্ভাব্য যৌন উৎপীড়কদের চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ না করে এবং চিকিৎসার বাইরে রেখে শুধুমাত্র নসিহত করে বা তাদেরকে উন্নত নৈতিকতা চর্চার আহবান জানিয়ে কিংবা শাস্তি দিয়ে তাদের হাত থেকে আমাদের নারী ও শিশুদের নিরাপদ রাখা প্রায় অসম্ভব।যেহেতু এ রোগগুলো শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-গরীব, আস্তিক-নাস্তিক যে কারো হতে পারে এবং এসব রোগ নিজ থেকে ভালো হওয়া প্রায় অসম্ভব;এমনকি চিকিৎসার পরও সব রোগীকে ভাল করা সম্ভব হয় না (তাছাড়া ক্ষেত্র বিশেষে সারাজীবনই রোগীকে ফলো আপে রাখতে হয় কারণ ভালো হয়ে যাওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে পূর্বের উপসর্গ ফিরে আসতে পারে যাকে Relapse বলে) বিধায় উন্নত-অনুন্নত বিশ্বের সকল দেশেই নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার হার বেশ উঁচু।আমি কয়েকমাস আগে একটি পোস্ট লিখেছিলাম ‘‘করোনা মহামারী’র পাশাপাশি চলছে ‘মানসিক রোগ মহামারী’-আমরা কতটুকু সচেতন?’।করোনাজনিত উদ্ভূত পরিবর্তিত পরিবেশে মানসিক রোগ বৃদ্ধি পাবে এটা অবধারিত ছিলো।আজ যে পারিবারিক ও যৌন সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে তার পিছনেও ভূমিকা রয়েছে করোনা-উদ্ভূত মানসিক রোগ মহামারীর।১৯শে জুন ২০২০ এ ইউএন নিউজের হেডলাইনটা দেখুন-



এবার হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের প্রকাশনার হেডলাইন নিউজটা দেখুন-



আশা করি পাঠকরা বুঝতে পারছেন সারাদেশব্যাপী এবং সারা বিশ্বব্যাপী কেন নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা ব্যাপকতা লাভ করেছে, করছে এবং করবে।নভেম্বর-ফ্রেব্রুয়ারি করোনার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ সম্ভবত দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব।আর এসময় এবং এর পরবর্তী সময়ে নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা ও পারিবারিক সহিংসতাসহ সকল মানসিক রোগেরই ব্যাপকতা প্রতিভাত হতে পারে।

একবার ভাবুন মানসিক রোগজনিত কারণে প্রায় অর্ধ কোটি সক্ষম যৌন সহিংসতাকারী আমাদের মাঝে এবং আমাদেরই খুব কাছে বাস করছে।তাদের মাথার দুষ্ট চিন্তা ও তাদের কুকর্ম আমাদের মত স্বাভাবিক মানুষকে ঘিরেই।আমরা সর্বদাই তাদের চিন্তার খোরাক ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে আছি।পালানোর জায়গা নেই।সুতরাং আমরা সচেতন ও সতর্ক না হলে এবং সরকার প্রয়োজনীয় প্রতিরোধী ও প্রতিকারক ব্যবস্থা না নিলে আমরা প্রত্যেকেই এর শিকার হচ্ছি এবং হতে থাকব-প্রত্যক্ষভাবে কিংবা পরোক্ষভাবে।

ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার জন্য।

সূত্রঃ

fast-facts-statistics-on-violence-against-women-and-girls

Rape_statistics

violence_injury_prevention/resources/publications/en/guidelines_chap2.pdf

Borderline_personality_disorder

Risk and Prevalence of Personality Disorders in Sexual Offenders Allison Sigler John Jay College of Criminal Justice New York, NY

The Prevalence of Personality Disorders in Sex Offenders

Review of General Psychiatry by Howard H. Goldman

Clinical Psychology by A.K.Agarwal

Essentials of Medicine by M.E.Ullah.

Forensic medicine & Toxicology by Reddy.

ছবিঃ সকল ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে।এ আর্টিকেলটি কেবলই তথ্যমূলক;এর কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।তারপরেও কপিরাইট ভায়োলেশনের কারণে কারো আপত্তি থাকলে তা জানা মাত্র সে ছবি বা ছবিসমূহ এই আর্টিকেল থেকে অপসারণ করা হবে।(All the images in this article are collected from different web sites & have been used for non-commercial purposes.If anyone has any objection of using these images,I’m assuring their removal upon getting valid complaint)।


মন্তব্য ২০ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:১৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন: সব ধর্ষণর বিচার কেন হয় না । হলে কিভাবে আরো দ্রুত করা যায় । এবং মোল্লারা যে মাদ্রাসায় শিশুদের বলৎকার করতেছে তার কি প্রতিকার। গতকাল তিনজন মাদ্রাসার শিক্ষক ধরা পড়েছে । ফেনী কুষ্টিয়া ও নারায়ণগঞ্জ।

০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫০

জাফরুল মবীন বলেছেন: পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।যৌন সহিংসতার প্রতিকার ও প্রতিরোধের বিষয়টি ৫ম তথা শেষ পর্বে আসবে ইং শায়া আল্লাহ।

২| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:১৯

নতুন বলেছেন: আমার মনে হয় দেশে ৯৫%ধর্ষন পুলিশের কাছে রিপোট হয় না।

যদি কোন মেয়ে নিজে ম্যানেজ করতে পারে তবে সে পুরোটাই চেপে যায়।

যদি শারিরিক আক্রমনটা লুকাতে না পারে তবেই সেটা পরিবার বা ডাক্তারের কাছে যায়। পরিবার থেকেও অনেক সময় চেপে যায় মানসন্মান বা অবস্থার কারনে।

বাকি থাকে যেই আঘাতগুলি হাসপাতাল বা ডাক্তার পযন্ত যেতে হয় তখনই পুলিশি রিপোটে গড়ায়।

আসল পরিস্থিতি আসলেই ভয়ংকর। :(

০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনি যা বলেছেন সেটাই চরম বাস্তবতা।

নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার সিংহভাগ কেসই চাপা পড়ে যায়।এটা শুধু বাংলাদেশে নয় বরং বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও পরিস্থিতি প্রায় কাছাকাছি।আরও বেশি অবাক করা বিষয় অনেক ধরনের যৌন সহিংসতাকে আদৌ যৌন সহিংসতা হিসাবে রিকগনাইজ করা হয় না অথচ ভূক্তভোগী মেন্টাল ট্রমা নিয়ে জীবন পার করে।

যেহেতু যৌন সহিংসতা বিরোধী সামাজিক আন্দোলনগুলোতে গবেষণালব্ধ তথ্য ব্যবহার না করে বরং আবেগতাড়িত ও নিজেদের বা প্রচলিত মতের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায় ফলে মূল কারণগুলো সমাজ থেকে দূর না হয়ে পুঞ্জিভূত হচ্ছে যা দিনকে দিন যৌন সহিংসতার মাত্রাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।করোনা মহামারীকালীন ও তার পরবর্তীকালে যৌন সহিংসতা যে ভয়াবহ রূপ ধারন করতে যাচ্ছে সেটার আলামত বিশ্বব্যাপী ফুটে উঠেছে।

আমরা যদি যৌন সহিংসতার গবেষণালব্ধ কারণগুলোর ব্যাপারে সচেতন না হই এবং তদানুযায়ী প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নিই তাহলে বর্বর যুগে ফিরে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

৩| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৪৩

রাজীব নুর বলেছেন: এক বখাটে আমার কাজিনকে খুব বিরক্ত করতো। আমি একদিন তাকে খুব সুন্দর করে বুঝালাম। মাথায় হাত দিয়ে আদর করে বুঝালাম। সোনা ভাই, মিয়াঁ ভাই বলে বুঝালাম। কিন্তু কাজ হয় নি। সে ফাজিল ঠিকই কাজিনকে বিরক্ত করতে থাকলো।

শেষে কোনো উপায় না দেখে আমি ফাজিলের মায়ের কাছে গেলাম। ফাজিলের মা বলল, আমার ছেলের কোনো দোষ নাই। তোমার বইনে পাছা দুলিয়ে হাঁটে কেন? পুলাপান তো আকথা, কুকথা কইবেই। আমার প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হলো। আমি থানায় গেলাম। পুলিশকে সব বললাম। পুলিশ সত্যি সত্যি বন্ধুর মতো এগিয়ে এলো। হারামজাদাকে থানায় নিয়ে গেল। শেষে হারামজাদার মা এসে আমাদের কাছে মাফ চাইলো।

০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:১৫

জাফরুল মবীন বলেছেন: ফাজিলের মা বলল, আমার ছেলের কোনো দোষ নাই- প্রত্যেক যৌন অপরাধী আমাদের ঘরেই জন্ম নেয়।অভিভাবকত্বের ব্যর্থতায় তারা সামাজিক অপরাধী হয়ে উঠে।

৪| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৩০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

অনেক দিন পরে মবীন ভাই !!
অস্থির সময়ে স্বাগতম জানা্ই।
তবে মবীন ভাই বিড়ালের গলায়
ঘ্ণ্টা বাঁধবার কেউ নাই!
আমরা শুধু চিল্লাই!!

০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:৪০

জাফরুল মবীন বলেছেন: এই বিড়ালগুলো মানুষের ঘরে আদরের সন্তান হিসেবে জন্মায়।তাই এর গলায় ঘণ্টা বাঁধার প্রথম দায়িত্ব অভিভাবকদের।তারপর সমাজ ও রাষ্ট্রের।

হ্যাঁ নুরু ভাই খুবই অস্থির সময়।আমি ফ্রেব্রুয়ারি মাসে এ বছরকে ব্ল্যাক-২০২০ বলে অভিহিত করেছিলাম।মনে হচ্ছে আরও ১টা বছর অ্যাড করতে হবে।

৫| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৫৬

করুণাধারা বলেছেন: অনেক কিছু জানা হলো পোস্ট পড়ে যা আগে কিছুই জানতাম না। অল্প একটু জানা ছিল, বিকৃত যৌন মানসিকতার মানুষকে যে মানসিক রোগ আছে বলে ধরা হয় তার নাম সাইকো সেক্সুয়াল ডিসওর্ডার।

আমাদের দেশের পুরুষদের অনেকেই বাড়িতে কাজ করা নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাকে খুব স্বাভাবিক মনে করেন। আমার মনে হয় তারা ভালভাবেই বোঝেন এই নারীরা কুরআনে উল্লেখিত দাসী নয়, তবু তারা একাজ করেন। এরাও মানসিক রোগী বলে আমার মনে হয়।

পোস্টে লাইক, পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:০২

জাফরুল মবীন বলেছেন: সুপ্রিয় ব্লগার করুণাধারা যৌন সহিংসতা একটি মাল্টিফ্যাক্টরাল ক্রাইম।এর মনস্তাত্বিক দিকটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ অপরাধ কমানোর কার্যকরী উপায় নির্ধারণে।যৌন সহিংসতার মনস্তাত্বিক দিকটা অপরাধ দমনে গুরুত্ব না দেওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের সাংঘর্ষিক মতাদর্শের কারণে যৌন সহিংসতার বিস্তৃতি এখন ঘরে ঘরে।করোনাকালে যে মানসিক সমস্যা মহামারী আকার ধারণ করবে সেটা অনুমেয় ছিলো।আর যেহেতু যৌন সহিংসতার সাথে মনস্তাত্বিক বিষয়টা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত তাই এ ধরনের অপরাধও যে বৃদ্ধি পাবে সেটা অস্বাভাবিক নয়।আর এটি শুধু আমাদের দেশেই নয় বিশ্বব্যাপী এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।সামনে আরও কঠিন সময় আসছে বলে মনে হয়। আমি চেষ্টা করছি গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো তুলে ধরতে।পাশে থাকার জন্য সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ।

৬| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৪৬

মা.হাসান বলেছেন: আপনার পোস্ট গুলো আগ্রহ নিয়ে পড়ি। গত কয়েকমাস আপনাকে দেখি নি , মিস করেছি। ফিরে আসায় ধন্যবাদ।

আপনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ধর্ষনের কিছু কারণ আলোচনা করেছেন। এর বাইরে রাষ্ট্রিয়-সামাজিক কিছু ফ্যাক্টর আছে। সোনার দলের সোনা মিয়ারা যখন ধর্ষন করে তখন সোনার দলনেতারা তাদের প্রনোদনা দেন। দীর্ঘকাল থেকে এটা দেখে আসছি। এই সব ঘটনার বিরোধিতা দূরে থাক , কোনো কোনো নেতা মন্ত্রী নিজেরাই কুঞ্জবনে ঘোরাঘুরি করেন। এসব ঘটনার প্রভাব মানুষের মধ্যে পড়ে।

২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩,৪৬,৮৩০ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন যাদের বয়স ১২ বছর বা তারচেয়ে বেশি।এর মধ্যে মাত্র ১২%-১৬% কেস পুলিশের কাছে রিপোর্টেড হয়েছে।
আমাদের দেশে ১৪% এর মতো রিপোর্ট হবার কথা শুনেছি। পাশ্চাত্যের দেশেও একই রকমের পরিসংখ্যান ভাবতে পারি নি।

নিকটাত্মিয়ের দ্বারা যৌন নিপীড়ন- অধিকাংশ বাব-মা এই বিষয়ে সচেতন না। বিষয়গুলো আরো বেশি আলোচনা হওয়া দরকার। স্কুলের সিলেবাসে কিছু বিষয় ইনক্লুড করা দরকার। টিভিতেও আসা দরকার।

ধর্ষনের সংজ্ঞাও দেশ ভেদে আলাদ। আমাদের দেশে ম্যারিটাল রেপ ধর্ষন বলে বিবেচনাই করা হয় না। আবার ফুসলানোও ( আপনি যেটাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্ম করা -false agreement বলেছেন)-ধর্ষনের মধ্যে পড়ে। আবার পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে প্রথমটা শাস্তিযোগ্য হলেও দুই পক্ষের কনসেন্ট থাকলে পরের টা মনে হয় ধর্ষন জনিত অপরাধ হবে না।

পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

০৯ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:০৩

জাফরুল মবীন বলেছেন: আজকাল এসব তাত্বিক বিষয়ে লেখা লম্বা পোস্ট খুব একটা পড়তে চায় না।আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন এবং বিশ্লেষণী মন্তব্য করেছেন এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।ইচ্ছে আছে ব্যস্ততা কমলে যৌন সহিংসতার কিছু মৌলিক কারণ নিয়ে বাকি পর্বগুলো উপস্থাপনের।সাথে থাকার জন্য আবারও ধন্যবাদ আপনাকে।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

৭| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৭:৪৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: অনেকদিন পর আপনার পোস্ট দেখে চোখ বুলিয়ে দেখলাম। সময় নিয়ে আবার আসছি।

১১ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৮:২৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই সর্বদা পাশে থাকার জন্য।আমি সম্ভবত সংক্ষিপ্ত আকারে সবগুলো পর্ব এক পোস্টে দিয়ে দিব।আর এই পোস্টটা ডিলিট করে দিব ইং শায়া আল্লাহ।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

৮| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:৪২

সোহানী বলেছেন: আপাতত প্রিয়তে উঠিয়ে রাখলাম। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় আসবো। একটু বিজি আছি...

১১ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৮:৩৪

জাফরুল মবীন বলেছেন: আর বলিয়েন না ভাই! ব্যস্ততা যে কি জিনিস হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।ব্যস্ততার সবচেয়ে খারাপ দিক এটা মানুষের কাছাকাছি আসতে এবং গ্র্র্র্র্র্র্র্র্রহণযোগ্য সামাজিক মেলামেশায় বড় বাঁধা।অনেকসময় ভুল বুঝাবুঝিরও পরিস্থিতি তৈরি করে।আমি সম্ভবত সংক্ষিপ্ত আকারে সবগুলো পর্ব এক পোস্টে দিয়ে দিব।আর এই পোস্টটা ডিলিট করে দিব ইং শায়া আল্লাহ।

এ ধরনের পোস্টে আপনার ইন্টারঅ্যাকসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আশা করি নিকট ভবিষ্যতে সে আলোচনার সুযোগ হবে ইং শায়া আল্লাহ।ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন... অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

৯| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ ভোর ৫:৩৭

সোহানী বলেছেন: বিশাল এক মন্তব্য লিখে পোস্ট করতে যেয়ে দেখি নাই। ধ্যাৎ......

আবার আসবো ধীরে সুস্থে। তবে কোনভাবেই এটা ডিলিট করবেন না। থাকুক না পর্ব হিসেবে। সেই সাথে সংক্ষিপ্ত একটি পর্ব হলেতো ভালোই হয়।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪৮

জাফরুল মবীন বলেছেন: বিশাল এক মন্তব্য লিখে পোস্ট করতে যেয়ে দেখি নাই। ধ্যাৎ......- আহারে!

সমস্যা নেই বিশাল মন্তব্য করার জন্য মহা মেগা পোস্ট আসতেছে ইং শায়া আল্লাহ :-)

১০| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৪৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: জাফরুল মবীন,




যথেষ্ট পরিমানের তথ্য ও তত্ত্ব দিয়ে সাজানো একটি পূর্ণাঙ্গ পোস্ট। এর বিষয়বস্তু প্রত্যেকেরই জেনে রাখা ভালো এবং এ সম্পর্কে সচেতন থাকার দিকটাও মাথায় থাকা দরকার।
মূল লেখা, কিছু মন্তব্য আর প্রতিমন্তব্যে ভেবে দেখার মতো অনেক কথা উঠে এসেছে।

--যেহেতু যৌন সহিংসতা বিরোধী সামাজিক আন্দোলনগুলোতে গবেষণালব্ধ তথ্য ব্যবহার না করে বরং আবেগতাড়িত ও নিজেদের বা প্রচলিত মতের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায় ফলে মূল কারণগুলো সমাজ থেকে দূর না হয়ে পুঞ্জিভূত হচ্ছে যা দিনকে দিন যৌন সহিংসতার মাত্রাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

--যৌন সহিংসতা একটি মাল্টিফ্যাক্টরাল ক্রাইম।এর মনস্তাত্বিক দিকটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ অপরাধ কমানোর কার্যকরী উপায় নির্ধারণে । যৌন সহিংসতার মনস্তাত্বিক দিকটা অপরাধ দমনে গুরুত্ব না দেওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের সাংঘর্ষিক মতাদর্শের কারণে যৌন সহিংসতার বিস্তৃতি এখন ঘরে ঘরে।

মাঃ হাসান - "চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ধর্ষনের কিছু কারণ আলোচনা করেছেন। এর বাইরে রাষ্ট্রিয়-সামাজিক কিছু ফ্যাক্টর আছে।"

করুণাধারা র সাম্প্রতিক একটি পোস্টে একটা মেসেজ আছে যে - মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল জানতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আপনার দেয়া এই তথ্যটি কাজে লাগতে পারে - ৮৩% ক্ষেত্রেই ধর্ষণকারী নিরস্ত্র

ধর্ষণকারী বা কারীরা যে বেশীরভাগ সময়েই নিরস্ত্র থাকে এটা সব মেয়েদেরই মাথায় রাখতে হবে এবং এমন ঘটনার সামনে পড়ার সম্ভাবনা থেকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতের কাছেই মজুদ রাখা গেলে অনেক ধর্ষণকারীই কুকর্মটি করতে সক্ষম নাও হতে পারেন। এটাই তাৎক্ষনিক ভাবে নির্যাতন প্রতিরোধের সফলতার হার বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রতিকারের চেয়ে এই টালমাটাল সময়ে প্রতিরোধই উত্তম।

প্রিয়তে রাখছি ।

১৭ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৪৭

জাফরুল মবীন বলেছেন: আপনার মত মনোযোগী পাঠকের মন্তব্য পোস্টের অলংকার স্বরূপ।

খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নোট এবং কোট করেছেন।

সময় অভাবে সিরিজটা লেখা সম্ভব হবে না বিধায় দুঃখিত।

তবে আমি সবগুলো পর্বের সমন্বয়ে একটি পোস্ট এখন উপস্থাপন করলাম।আশা করি সেখানে আপনার সাথে বেশ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.