নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাটির দেশের কথা

জাকারিয়া জামান তানভীর

আত্মিক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে লিখি।

জাকারিয়া জামান তানভীর › বিস্তারিত পোস্টঃ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তুমি কার?

১৮ ই মে, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৯

সিলেট অঞ্চলের নাগরিক হলেও নিজেকে সবসময় সুনামগঞ্জের মানুষ বলে পরিচয় দিতেই ভালো লাগে। যারা সুনামগঞ্জ নামের জেলা চিনেন না তাদেরকে চিনিয়ে দেই। গর্বের সাথে বলি, মৎস্য, পাথর, ধান সুনামগঞ্জের প্রাণ। আর একবার যাকে সুনামগঞ্জী বাউল গান, মরমী গান আর হাওরের অপার জলরাশির মধ্যে জ্যোৎস্নার মায়ায় পেয়ে বসে তাকে আর পুনর্বার কোন কিছু মনে করিয়ে দিতে হয় না।
এত কিছুর মধ্যেও খামতি আছে। প্রকৃতি প্রদত্ত বিপুল সম্পদ নিয়মিত আহরিত হলেও আমাদের জেলাটি প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। আমরা বলি, হেমন্তে পাও(পা) আর বর্ষায় নাও(নৌকা)। বলা চলে, প্রকৃতি একদিকে সহায় হয়েছে আবার অন্যদিকে আমাদের অসহায় করে রেখেছে। স্কুল কলেজ প্রয়োজনের তুলনায় একাবারে কম। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নেই বললেই চলে (মাত্র এই বছর সরকারী কলেজে কয়েকটি স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়েছে)। যার কারণে আমাদের জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীদের দৌড় উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত।

এতো কিছুর মধ্যে উচ্চ শিক্ষায় আশার আলো হয়ে সিলেট শহরে চালু আছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। সুনামগঞ্জের অনেক বন্ধু ও স্বজন এই বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এখনও আছেন। তাদের অনেকেই আজ ব্যাক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ঈর্ষনীয় সফলতা অর্জন করেছেন। সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শাবিপ্রবি যদি সুনজরে না নিত তাহলে সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক ছেলে মেয়েকে আর উচ্চ শিক্ষার নাম নিতে হত না। এই অর্জন শাবিপ্রবির।

আমার লেখা পড়ে কেউ হয়ত মনে করতে পারেন এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বুঝি ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েই শাবিপ্রবিতে ভর্তি হচ্ছেন। আসলে এমনটা নয়। তবে শাবিপ্রবির শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জাফর ইকবাল স্যারের কথায় এমনটাই মনে হতে পারে। তিনি মনে করেন শুধু সিলেটী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকতে পারে না। কোটা থাকুক বা নাই থাকুক সেটা ভিন্ন আলোচনার বিষয় কিন্তু এই অঞ্চলের উচ্চ শিক্ষার একমাত্র স্থান শাবিপ্রবির শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এই অঞ্চলের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ছেঁটে ফেলার কথা কতটা সচেতনতা প্রসূত? এই মন্তব্যের জন্য শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে একজন স্থানীয় এমপি চাবুক মারার কথা বলেছেন। এরূপ মন্তব্যের জন্য তিনি নিশ্চয় জবাবদিহিতার সম্মুখীন হবেন। বিনা ভোটে পাস করা এমপিরা কত কিছুইত বলছেন তার কোনও মূল্য কি গণতান্ত্রিক সমাজে আছে? কিন্তু সর্বোচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক শ্রেণীর ব্যাক্তি যদি এই অঞ্চলের সামাজিক পরিস্থিতি না বুঝে নীতি বাক্য আওরে বেড়ান তা কতটা সমীচীন?

সিলেট আলাদা কিছু নয়, এটি বাংলাদেশেরই অংশ। নানা কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্ছল অবস্থা উন্নয়নে যদি বিশেষ কোন কিছুর দাবি করে থাকে তবে সঙ্গত কারণে দেশের অন্য অঞ্চলকে বিবেচনায় আনার আগে সিলেটকেই প্রাধান্য দিতে হবে। আমার অবস্থান পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশনের পক্ষে।

শিক্ষক হোন বা জন প্রতিনিধি সবার কাছে আমরা যৌক্তিক আচরণ, মন্তব্য ও মতামত আশা করি।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই মে, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৫

মুখ ও মুখোস বলেছেন: স্যারের বক্তব্য আগে ভালো করে বুঝার চেষ্টা করুন, তারপর বক্তব্য দিন।

নইলে মানুষ বলতে বাধ্য হবে, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় আর যারই হোক আপনার জন্য না। অতিরিক্ত সিলেটি চেতনা যদি বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে আমাদের শাপ্রবিতে অন্য সব সাবজেক্ট বাদ দিয়া কুকিং বিভাগ খুলতে হবে। তাইলেই সিলেটি অধিকার নিশ্চিত হবে। কোটা লাগবে না।

তবে এই বিভাগ খোলার আগে লন্ডনে ইংরেজরা কোন খাদ্য খাইতে ভালোবাসে তা সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে নিতে হবে।

১৮ ই মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৩

জাকারিয়া জামান তানভীর বলেছেন: ভাই/বোন, চেতনার সময়কাল এখন খুব ভালো। সিলেটী চেতনা নামক শব্দদ্বয় এখন খুব চলছে। আপনি আমাকে উনার বক্তব্য ভালো করে পড়তে উপদেশ দিয়েছেন ভালো কথা, আপনি নিজে উনার অবস্থান সম্বন্ধে ওয়াকিফহাল আছেনত? উনাকে কোন গোষ্ঠীর লোক চাবকে পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার কথা বলেছে, একটু খোঁজ নিন ত? চেতনার গন্ধ পান?

আমাকে/আমাদের কুক হিসাবে পরিচিত করতে চাইলেও সম্মানিত বোধ করব। এইটা একটা শিল্প। আপনি এর বুঝবেন কি আপনিত কুক নন!

আর ইংরেজরা শুধু লন্ডনে নয় পুরো ব্রিটেন জুড়েই আছে। আপনাদের মত অনেককেই দেখেছি কুক নয় শুধু থালা বাটি পরিষ্কার করার জন্য রেস্টুরেন্টের বাইরে লাইন দিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে পরিচয় দিতে হলে আগে মানুষ হন। পেশার সম্মান দিতে শিখেন। কারো যুক্তি পছন্দ না হলে পাল্টা যুক্তি দিন। এর ঘাটতি থাকলে ব্লগারের পরিচয় দিয়েন না।

২| ১৯ শে মে, ২০১৫ সকাল ১১:১৯

প্রামানিক বলেছেন: ভাই আপনার যুক্তি ঠিক আছে, তবে সমস্যা হলো, শাবি যদি সিলেটিদের কোঠা দেয়, তাহলে রংপুরের মাঙ্গা এলাকার লোকজনও বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটির কাছে কোঠা দাবী করতে পারে, বরিশালের লোকজনও বরিশাল ইউনিভার্সিটির কাছে কোঠা দাবী করতে পারে, রাজাশাহীর লোকজনও রাজশাহী ইউনিভার্সিটির কাছে দাবী করতে পারে, চিটাগাংয়ের লোকজনও চিটাগাং ইউনিভার্সিটির কাছে দাবী করতে পারে, প্রত্যেক এলাকার লোকজন যখন তাদের এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটির কোঠা দাবী করবে তখন ইউনিভার্সিটিগুলো আঞ্চলিক ইউনিভার্সিটিতে পরিণত হবে। এই কারণে আঞ্চলিক কোঠা না দেয়ায় মনে হয় ভাল হবে।

১৯ শে মে, ২০১৫ রাত ৯:৪৬

জাকারিয়া জামান তানভীর বলেছেন: প্রামানিক ভাই, শুভেচ্চা জানবেন। আমার জেলায় প্রায় ২৫ লক্ষ লোকের বাস। বিভিন্ন কারণে শিক্ষা দিক্ষায় আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি। আমার জেলা সুনামগঞ্জে বছর দুয়েক হয় স্নাতক কোর্স চালু হয়েছে। স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়েছে এই বছর। মৌলভি বাজার আর হবিগঞ্জের অবস্থা প্রায় একই। সিলেট সদরে রয়েছে এমসি কলেজ, মদন মোহন কলেজ। এই দুইটি কলেজ পুরো বিভাগের উচ্চ শিক্ষার ভার বহন করে আসছে স্বাধীনতার আগ থেকেই।

ভাটি অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন মেটাতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এর মানে এই না যে বাংলাদেশের অন্য এলাকার শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে পারবে না। তারা অবশ্যই পড়বে। তবে যে উদ্দেশ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল তার দিকেও নজর রাখা উচিত বলে মনে করি।

আমি কোটার পক্ষে নই তবে প্রিফারেনশিয়াল ট্রিটমেন্টের পক্ষে, আমি পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশনের পক্ষে। ভিন্ন অঞ্চলের কোন শিক্ষার্থী যদি স্থানীয় শিক্ষার্থীর সমান মেধাবী হয় তাইলে আমি চাই যেন স্থানীয় শিক্ষার্থীকেই বাছাই করা হয়। আমাদের এই অঞ্চলের বিত্তশালীরা উচ্চ শিক্ষায় তেমন আগ্রহী না আর মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা অর্থের কারণে সিলেটের বাইরে গিয়ে পড়তে অক্ষম। তাদেরকে যদি আমি সুযোগ না দেই তাইলে প্রান্তিক অঞ্চলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা নিরাশ হবে। ওরা ঝড়ে পড়বে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জে ঝড়ে পড়ার হার দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। কোটা নয় আমি সঙ্গত কারণে পজিটিভ আমি ডিসক্রিমিনেশনের পক্ষে।

আপনার মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। শুভেচ্চা অবিরত।

৩| ১৯ শে মে, ২০১৫ দুপুর ২:০৭

টি এম মাজাহর বলেছেন: পুরো দেশটাই কোটার জন্য আজকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, মেধাবীদের মূল্যহীন করে দেয়ার প্রতিযোগিতা চলছে কোঠার চিপায় পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নানান কিছিমের কোটা, সরকারী বিদ্যালয়ে ভর্তিতেও কোটা, আর সরকারী চাকরীতে কোটার কথা আর কত বলবে মানুষ! মেধাবীতে চাপা আহাজারি আর অভিশাপে বাংলাদেশের আকাশ বাতাস স্তব্ধ। একটু পয়সা ওয়ালা আর বুদ্ধিমানেরা শুরুতেই দেশ থেকে ভাগেন আর দেশ সেবা করবার ব্রত নিয়ে মেধাবীরা কোটার চিপায় অপদস্থ হয়ে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার জন্য ক্লাসের ব্যাকবেঞ্চার যে ছেলেটা কথা বলবারই সাহস সঞ্চয় করতে পারতো না, সেও আজকে কোটার তুড়িতে ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে মেধাবী বন্ধুদের বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে।
এই দেশে কারোরই নীতি ঠিক নাই, সবাই ব্যাস্ত গোষ্ঠী ও কোরাম করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে। যেই জাফর ইকবাল স্যার আজকে সিলেটবাসীর কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবীদের অবস্থানের কথা বলছেন, সেই স্যারই বছরের পর বছর ধরে সরকারী চাকুরীর অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি নিয়ে একটি টু শব্দও করার প্রয়োজন মনে করেন নাই, এমনকি এই প্রসঙ্গ তুললেও সযতনে এড়িয়ে গেছেন। সবকিছুই যখন 'কোটা' র অধিকারে চলে গেছে, তখন আর আপনাদের না বলবার প্রয়োজন কেন আছে।
শুধু একটাই ভবিষ্যত পরিকল্পনা আছে, ভবিষ্যত প্রজন্মকে মনের ভুলেও ভালো শিক্ষিত বানানোর ইচ্ছা নাই, বরং শেখাবো, কিভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে বিভিন্ন জায়গায়, কোটা, সুবিধা , দলবাজি, কোরাম, চামচামি ইত্যাদি করা যায়। এই দেশে ভালোভাবে বসবাস করতে চাইলে, ওইগুলাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

১৯ শে মে, ২০১৫ রাত ৯:৫৫

জাকারিয়া জামান তানভীর বলেছেন: মাজাহর ভাই, সালাম ও শুভেচ্চা জানবেন। আমি আপনার সাথে পুরোপুরি একমত। শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে কোটা প্রথা একটা ভয়ানক ব্যাধি হয়ে দেখা দিয়েছে।

আমি কোটার পক্ষে নই তবে প্রিফারেনশিয়াল ট্রিটমেন্টের পক্ষে, আমি পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশনের পক্ষে। ভিন্ন অঞ্চলের কোন শিক্ষার্থী যদি স্থানীয় শিক্ষার্থীর সমান মেধাবী হয় তাইলে আমি চাই যেন স্থানীয় শিক্ষার্থীকেই বাছাই করা হয়। আমাদের এই অঞ্চলের বিত্তশালীরা উচ্চ শিক্ষায় তেমন আগ্রহী না আর মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা অর্থের কারণে সিলেটের বাইরে গিয়ে পড়তে অক্ষম। তাদেরকে যদি আমি সুযোগ না দেই তাইলে প্রান্তিক অঞ্চলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা নিরাশ হবে। ওরা ঝড়ে পড়বে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জে ঝড়ে পড়ার হার দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। কোটা নয় সঙ্গত কারণে আমি পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশনের পক্ষে।

আপনার সুন্দর ও যৌক্তিক মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। ভালোবাসা অবিরত। ভালো থাকবেন।

৪| ১৯ শে মে, ২০১৫ রাত ১০:৪০

চাঁদগাজী বলেছেন:

ছোট দেশ, সবাইকে পড়ার সুযোগ দিটে হবে।

১৯ শে মে, ২০১৫ রাত ১০:৪৬

জাকারিয়া জামান তানভীর বলেছেন: চাঁদগাজী, আপনার সাথে সহমত। ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.