| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একটা অপরিচিত নাম্বর থেকে আসা মেসেইজ পড়তে পড়তে রুহি ভাবতে লাগল কার মেসেইজ হতে পারে। পাঁচটা মেসেইজ।এর মধ্যে চারটাতেই শুধু ‘হাই’,শেষেরটায় লেখা “কিভাবে আপনার সাথে কথা শুরু করব বুঝতে পারছি না”।কাল রাতে ক্লান্ত শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল,মেসেইজের শব্দ সে ঘুম ভাঙ্গাতে পারেনি। এমন মেসেইজ রুহির কাছে অনেকবারই এসেছে।এটাও সেইরকম হবে হয়ত।প্রেম করতে আগ্রহি যুবকদের মেসেইজ। রুহি মেসেইজের উত্তর দেয় না তবুও মেসেইজ আসা বন্ধ হয় না।একদিনে ৩০ টা।কবিতার মেসেইজ(১৫ বার),নিজ কবিতা জানিয়ে মেসেইজ(৫ বার),কবিতাগুলো কেমন জানতে চেয়ে মেসেইজ(৫ বার),কি ব্যাপার উত্তর দিচ্ছেন না যে,পছন্দ হয় নি?(৩ বার),আরেক টা দিচ্ছি (৬ বার)।সবশেষেরটায় “আপনি যে মূর্খ জান্রাম না।মেসেইজ পরতেও পারেন না,লিখতেও পারেন না।“এবার রুহি উত্তর দিল “কি যা তা বলছেন?আমি অপরিচিত কারো সাথে মেসেইজত দূর কথাও বলি না”।“সরি,আপনি মেসেইজ লিখতে পারেন।কথা না বললে পরিচিত হবেন কি করে?আমি আমার পরিচয় দিচ্ছি,আমি রাইয়ান ।আর আপনি হচ্ছেন রুহি”।অবাক হওয়ার ইমো দিয়ে রুহি লিখল”নামও জেনে গেছেন”? “শুধু কি নাম,আপনি কোথায় পড়েন,কোথায় বাসা,স্কুল,কলেজ,ফ্যামিলি মেম্বর কয়জন সবই জানি”।“ফেসবুকের যুগে সবই জানতে পারেন অথবা আমার কোন ফ্রেন্ড থেকেও জানতে পারেন”।“আপনার কোনও ফ্রেন্ডকেই আমি জানি না,আপ্নার ফেবুতেও আমি নাই।কিভাবে জেনেছি,কেন জেনেছি সব কাল ফোনে জানাব।আজকে নয়।আজ অনেক রাত হয়ে গেছে।গুড নাইট”।
রুহি আর রিপ্লাই দেয় না।চিন্তা করতে থাকে কে হতে পারে,পরিচিত কেউ?পরদিন রাতে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে রাইয়ানের কন্ঠ শুনে শিহরিত হয়ে যায় রুহি।মুগ্ধ হয় কণ্ঠে, আশ্চর্য হয়ে কথার ধরন শুনে।সে কি কণ্ঠ শুনেই প্রেমে পড়ে গেলো? নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে চায়,পারে না।চেয়েছিল ধরার পরেই কেটে দিবে ,কিন্তু রুহি পারল না।রাইয়ানের কথা শুনছে মন্ত্র মুগ্ধের মত,ওর গাওয়া গান হৃদয়ে গেথে যায়।সে জানতে পারে,মাস খানেক আগে ফেসবুকে তাকে দেখে ভাল লাগে রাইয়ানের,কিন্তু রিকুয়েস্ট পাঠায়নি।যদি একসেপ্ট না করে।ফেসবুকে মসেইজ অপশনটাও বন্ধ ওর।কি করবে ভেবে পায় না। প্রফাইল থেকে জানতে পারে কোথায় পড়ে। অফিস থেকে কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে বসে থাকে রুহিদের ক্যাম্পাসে।একদিন দেখা পায়।সরাসরি কথা বলার সাহস পায় না রাইয়ান।পিছু নেয় বাসা পর্যন্ত।এভাবে চলে।আর সাহস হয় না সামনাসামনি কথা বলার যদি হিতে বিপরিত হয়।হঠাত মনে পড়ে ছোট ভাইয়ের কথা ।ওকে তো অনার্সে ভর্তি করতে ভবে,এই ভার্সিটিতে করে দিলেইত এক সাথে দুই কাজ হয়।ভরতি হবার পর ছোট ভাই ই ওকে রুহির নম্বর এনে দিয়েছিল রুহির কাছ থেকে।রুহির মনে পড়ে কিছুদিন আগে একটা ফ্রেশার ছেলে ওর কাছ থে কে নম্বর নিেয় ছিল ।ওই ছেলেই হবে মনে হয়।রাইয়ান রুহির নিয়ে নিয়ে ছিল ওকে বিয়ের প্রস্তাব দেবার জন্যে।“বিয়ের আগে নিজেদের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং বাড়াবার জন্যই আপনার সাথে প্রেম করতে চাই,যদি আমাকে আপনার ভাল লাগে তবেই আপনার বাবার কাছে প্রস্তাব পাঠাব”,এভাবেই বলেছিল রাইয়ান।রুহি এর উত্তরে কিছু বলে নি রুহি।কিন্তু প্রতিদিনই রাইয়ানের মেসেইজের,ফোনের উত্তর দেয় রুহি।তাদের সম্পর্ক আপনি থেকে তুমিতে চলে যায়।রাইয়ান রুহিকে ছাদে এসে পূর্ণিমা দেখতে বললে সে ছুটে চলে আসে ছাদে,তার সাথে বৃষ্টিতে ভিঝতে বললে সে বৃষ্টিতে ভিঝতে থাকে আর রাইয়ানের সাথে কথা বলে।তবুও রাইয়ান যদি জিজ্ঞেস করে ‘তোমার হৃদয়ের ভালবাসার আসনটিতে বসার কি আমার যোগ্যতা হয়েছে?তোমার হাত ধরে সারা জীবন পার করে দেবার অধিকারটি কি আমাকে দিবে,রুহি?” রুহি এই প্রস্নের উত্তর দেয় না,শুধু হাসে আর বলে “আল্লাহ জানেন”। “আল্লাহত সবই জানেন।আমি তো আর জানি না।যেদিন তোমার সাথে দেখা করবো সেদিন যদি না বল তবে আমি খুন হয়ে যাব নিজের হাতে”।“যদি দেখা না করি”।“করবা,অবশ্যই করবা,আমি জানি তুমি আমাকে ভালবেসে ফেলোছ।আর মাত্র বিশদিন পড়েই তোমার সাথে দেখা হবে,আমার নীলপদ্ম”।রুহি হাসতে হাসতে বলল, “তোমাকে বলেছে,না!তা বিশদিন পড়ে কেন”? “আমি তোমার সামনে হাজির হব ভালবাসার স্পেশাল ১০১ টি নীলপদ্ম নিয়ে। আর বিশটা হলেই ১০১ টা হবে”।“পাগল,সত্যি তুমি পাগল”বলে রুহি ফোনটা কেটে দেয়।
২
দেখতে দেখতে রাইয়ানের ১০১ টা নীলপদ্ম জোগাড় হয়ে যায়।ফোনে রুহিকে জানায় কোথায় দেখা করতে এবং কয়টায় দেখা করবে।রুহি মনে মনে উত্তিজিত হয়।রাইয়ানই হয়ত তাঁর সপ্নের পুরুষ।সে ভাবতে থাকে কিভাবে রাইয়ান তাকে প্রপোজ করতে পারে আর কিভাবে সে তার উত্তর দিবে।সে মনে মনে সব কিছু গুছিয়ে নেয়।কিন্তু রাইয়ান নামের ছেলেটির রাতে ঘুম হয় না।সে কি করবে সে,কিভাবে দেখা করবে?তাকে দেখলে তো রুহি চিনে যাবে তাকে,শেষ হয়ে যাবে সব।বলবে মিথ্যাবাদি,প্রতারক।সে তো আর রাইয়ান না,সে তো আবির।রুহির ক্লাস মেইট।তার ক্লোসড ফ্রেইন্ড। রুহির সাথে রাইয়ানের সব কথাই রুহি আবীর কে বলত।কিন্তু আবীর অভিনয় করত যেন সে কিছুই জানে না।ভয়েস চেঞ্জার দিয়ে সে গলা চেইঞ্জ করে রুহির সাথে কথা বলত।সে যে রাইয়ানের প্রেমে পড়ে গেছে আবীরকে এটাও বলেছে রুহি।তাই রুহির সাথে রাইয়ান হয়ে মিথ্যা কথা বলতে,প্রেমের অভিনয় করতে আবীরের সমস্যা হত না।রুহিকে আবীর পছন্দ করে।এটা রুহিকে বেশ কয়েকবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলেছে আবীর কিন্তু রুহির একই উত্তর “ক্লাসমেইট,ফ্রেইন্ডের সাথে প্রেমও না বিয়েও না।তুই যদি ওই রকম কিছু ভাবিস তবে আমার সাথে আর কথা বলিস না”। আবীর রুহিকে হারাতে চায় নি,সেদিনই সে বন্ধুত্বকেই বেছে নেয়। তবুও কেন যে সে রুহির সাথে এমন করতে গেলো সে নিজেই বুঝতে পারে না।কাল যদি রুহির সাথে সে দেখা করে তবে সে প্রেমিকাও হারাবে,বন্ধুও হারাবে।সে সিদ্ধান্ত নিল প্রেমিকা হারালে হারাক কিন্তু বন্ধু হারান যাবে না।রুহিই তার বেস্ট ফ্রেন্ড।
৩
রুহি রাইয়ানের বলা জায়গায় এসে অপেক্ষা করতে থাকে।সময় পেরিয়ে যায়,রাইয়ানের দেখা নাই।সে ভাবে,সব সময় মেয়েরা ছেলেদের অপেক্ষা করে আর এখানে আমি অপেক্ষা করছি।ও আসলে কথাই বলব না।রাইয়াঙ্কে ফোন দিতে থাকে রুহি।রাইয়ানের নয় কন্ঠ ভেসে আসে মোবাইল অপারেটরের। চোখ ঝাপসা হতে থাকে রুহির।আর অপেক্ষা করতে পারে না রুহি।বাসায় ফিরে যায় রুহি।
সপ্তাহ চলে যায়।রাইয়ানের ফোন এখনো বন্ধ।ফেসবুক এও রাইয়ানের খবর নেই। রুহি ওর বাসার ঠিকানা যানে না।রাইয়ানের ওই দিনের পর থেকে রাইয়ানের সাথে রুহির কোন যোগাযোগ নেই।ওর ছট ভাইকেও ক্যাম্পাসে দেখে না।রাইয়ানের কথা ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারছে না রুহি।
ক্লাস করার সময় আবীরের মেসেইজ আসে।“তোর রাইয়ানের খবর পাওয়া গেছে,ওর ভাই একটা চিঠি আর একটা বক্স দেয়ে গেলো আমাকে।রাইয়ানের ভাই তকে দিতে বলল।আমি ক্যান্টিনে আছি।’’। রুহি ক্লাস শেষ না করেই ক্লাস থেকে বেরিয়ে।ক্যান্টিনে চলে আসে।আবীর চিঠি আর গিফট বক্সটা রুহিকে দিয়ে উঠে পড়ে বল্ল,”আমার এক্সাম আছে,এক্সাম শেষেই আসছি”।রুহি কিছু বলল না শুধু ডান দিকে মাথা টা কাত করল।তার দৃষ্টি শুধু চিঠিতে।আবির চলে গেলে রুহি চিঠি খুলে পড়তে লাগল।
“ও আমার আমার নীলপদ্ম,
এ যুগে চিঠি লেখা বড়ই বেমানান । লিখতে বাধ্য হলাম।তবে নিজ হাতে নয়, আমি বলছি আরেক জন লিখছে।
সেদিন তোমাকে তপ্ত রোদে তোমাকে অপেক্ষা করে রাখার আমার কোন ইচ্ছাই ছিল না।কিন্তু কি করবো বল? প্রকৃতই চায় নি তোমার সাথে আমার দেখা হউক।তোমাকে অপেক্ষা যেন না করতে হয় তাই সেদিন অনেক সকালে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।বাইকের পিছনে তোমার জন্য ১০১টা নীলপদ্ম।যে গুলো কখনো নষ্ট হবে না কিন্তু ন্যাচারাল।
পার্কের কছাকাছি আসতেই এক বেরসিক বাস পিছন থেকে দিল ধাক্কা ।গিয়ে পড়ি আরেক বাসের সামনে। এরপর সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়।।যখন চোখ খুলি নিজেকে আবিষ্কার করি হাসপাতালে।বেডের পাশে সবাই দাড়িয়ে আছে।সবার চোখে পানি।জানতে পারলাম আমার দুই পাই ফেলে দেওয়া হয়েছে। ওই দিন একটা হাতও ফেলে দিবে।হয়ত এটাই প্রকৃতির ইচ্ছা ছিল।
কিন্তু হেলাল হাফিজের মতো আমারও ইচ্ছে ছিল রাজা হবো,তোমাকে সাম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো।কিন্তু একজন হাত-পা হীন যুবক তকিভাবে রাজা হবে বল,কিভাবে তোমাকে নিয়ে সাম্রাজ্য বাড়াবে?তাই বিদায় নিচ্ছি ।ভাল থেকো আমার নীল পদ্ম হয়ে।
[বক্সটা নিশ্চয় পেয়েছ।ওতে তোমার জন্য আমার ১০১ টি নীল পদ্ম ]
ইতি,
রাইয়ান
বক্সটা খুলে চিঠিটা হাতে নিয়ে ঝাপসা চোখে শুন্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছে রুহি।চোখে তার বেদনার বৃষ্টি।সে জানে না একজন তাকে লক্ষ করছে দূর থেকে।তার চোখেও বৃষ্টি।
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে জুন, ২০১৪ রাত ১২:৫৬
আহসানের ব্লগ বলেছেন: ব্লগে আপনাকে ওয়েলকাম :-)