| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জীয়ন আমাঞ্জা
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দর্শন হল হিসাব বিজ্ঞানের ডেবিট এবং ক্রেডিট । সবসময় যতখানি ডেবিট, ঠিক ততখানিই ক্রেডিট হয় । পরকালের হিসেব যা-ই হোক, এই ইহকালে আমরা ঠিক যেভাবে শূন্য হাতে পৃথিবীতে এসেছি, সেভাবে শূন্য হাতেই পৃথিবী ছেড়ে যাব । এটাই পৃথিবীর আবর্তনিক নিয়ম । অনেকে আমরা এটা বুঝতে ব্যর্থ হই ।আপনি কারো ক্ষতি করবেন তো আজ অথবা কাল আপনার ক্ষতি হবেই হবে । ভালো করলেও তার ফল আপনি জীবদ্দশাতেই পাবেন ।অনেকে দেখবেন রাস্তাঘাটে অযথা হোঁচট খায়, অসুখে ভোগে- এসব এমনি এমনি নয়, হয় এর অতীত, নয়তো ভবিষ্যৎ প্রসারী কোন কারণ আছে । যদি আপনি কারো ক্ষতি না করেন, তবে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনার কোন ক্ষতি হবে না । কেউ চেষ্টা করলেও আপনার ক্ষতি করতে পারবে না ।শুদ্ধ থাকুন, শুদ্ধতার শুভ্রতাকে উপভোগ করুন । জীবন সুন্দর হবে ।আমি সবার মতের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল।আশা করি আপনিও তাই।সৌজন্যবোধ ও মানবতার জয় হোক !
বিভিন্ন নিউজপোর্টালে, ফটোকার্ডে আপনারা এমন হুঁশিয়ারি অনেকবারই দেখেছেন যে, ফোনের হিস্ট্রিতে বেটিং সাইট পাওয়া গেলেই দুই কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে! এমন একটি আইন নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বলাবলি হচ্ছে, বেটিং এ্যাপ বা সাইট ব্রাউজিং হিস্ট্রি পাওয়া গেলেই এই শাস্তির বিধান হচ্ছে নতুন প্রণীত আইনে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই শাস্তির পক্ষে, যেকোন মূল্যেই এই বেটিং এ্যাপের দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক —আমি চাই এবং আপনারাও দেখে থাকবেন, এই অনলাইন বেটিংএর কুপ্রভাব নিয়ে আমি বেশ কয়েকবার লিখেছি, মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছি।
কিন্তু হিতের বিপরীত ভোগান্তিটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। ধরুন, আপনি গুগলে কিছু একটা সার্চ করতে গেলেন, দশ বারোটা ওয়েবসাইট আসলো, আপনি একটাতে ক্লিক করলেন... এখন এই অভিজ্ঞতা শতভাগ মানুষেরই আছে যে কোন একটা ওয়েবসাইটে ক্লিক করলেই তারা এক পর্যায়ে আপনাকে অমুক তমুক বিজ্ঞাপনের পেইজে রিডাইরেক্ট করবেই। সামান্য কিছু ভালো ওয়েবসাইট থাকে যারা এমন ফাজলামো করে না, নিরানব্বই ভাগ ওয়েবসাইটই করে। আপনি সেই বিজ্ঞাপন ক্লিক করে ফেললেন, অতএব, আপনার সার্চ/ব্রাউজার হিস্ট্রিতে একটা অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইট জমা হয়ে গেল। এখন কি আইনের চোখে আপনি একজন জুয়ারি, এখন কি আপনার দুই কোটি টাকা জরিমানা হওয়া উচিত??
ফেইসবুকেও আপনি রীলস দেখতে গেলে ❝দাঁড়ান, স্লাইড করবেন না! এই গেইমসে রেজিস্ট্রেশন করলেই পাবেন পাঁচশো টাকা!!❞ টাইপ বিজ্ঞাপন পেয়ে থাকেন, আপনার হাজার রকম চান্সই থাকে এসব ওয়েবসাইটে ক্লিক করার খপ্পরে পড়ার! হতে পারে আপনি জানেনও না কখন কখন ক্লিক পড়ে গিয়েছিল, হয় না এমন??
এছাড়া বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার সুবাদে আপনার সিমেও বিটলি ডট অমুক তমুক মেসেজ আসতে থাকে, সেখানেও আপনার ক্লিক পড়ে যেতে পারে, ফলাফল, যদি আপনি কট খান দুই কোটি না হোক, বিশ হাজার টাকা তো ঘুষ দিতে বাধ্য হবেনই পুলিশকে, রাইট??
এখন বিজ্ঞ আদালত কিংবা আইন প্রণয়নের হর্তাকর্তাগণ এই বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন, কাঁচের চশমা না টিনের চশমা দিয়ে দেখছেন, তা অবশ্যই একটি বার্নিং কোশ্চেন!
এটি একটি বিফল প্রচেষ্টা হবে যাতে ক্রিমিনাল তো ধরা পড়বেই না, হয়রানির শিকার হবে নিরীহ মানুষ। যারা এসব সাইটে ঢোকে বা বেটিং করে তারা সচেতনভাবেই প্রত্যেক বার হিস্ট্রি ডিলিট করবে, কগনিটো ইউজ করবে, ধরা খাবে সাধারণ মানুষ, কারণ সে জানেও না যে কখন কোথায় ক্লিক পড়ে দুই কোটি টাকার ফাইল হয়ে গেছে!
পরিহাসটা এমন ঘিলুহীন না হোক, প্লিজ।
বেটিং সাইটের কর্তারা যেসব নম্বর দিয়ে বিকাশ নগদ রকেট চালায় সেসব নাম্বার আপনারা ট্র্যাক করেন না কেন? ওখানেই তো মূল ঘাঁটি, ওগুলো কেন বন্ধ করছেন না?
ব্যাপারটা এমন যে, আপনারা মদের বার খোলা রেখে বারের গেইটে দাঁড়িয়ে আছেন মাতাল ধরে ❝কেন মদ খাইছিস?❞ বলে মাদক মামলা দেবার ভয় দেখিয়ে দুই পয়সা ইনকামের জন্য!
আরেকটা জিনিস, আমার ফোনের হিস্ট্রি কিংবা গ্যালারি পথে ঘাঁটে কেউ যখন তখন চেক করবে এমন স্বাধীনতা তো আমরা চাইনি!
এই বিজ্ঞতার প্রতি আমি জাস্ট অসহায় চাহনিই দিতে পারি, এরবেশি কিছু বললে আবার আপনারাই অবমাননার অযুহাত তুলে তেড়ে আসতে পারেন।
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: যারা বেটিং/ক্যাসিনো কোম্পানী চালায় তাদের পাঁকড়াও না করে কিভাবে সাধারণ জনগনকে হয়রানি করা যায় এই আইনে সে ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে।