নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি

ইসলামিক স্কলার।

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি › বিস্তারিত পোস্টঃ

দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথ ও পদ্ধতি, কিছু বিক্ষিপ্ত ভাবনা-১১

১৫ ই মে, ২০২৫ সকাল ৯:২৭

দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথ ও পদ্ধতি, কিছু বিক্ষিপ্ত ভাবনা-১১
গণ@তা ন্ত্রিক ইসলামী রাজনীতির ধারা
.
আজ থেকে ঠিক একশ বছর পূর্বে যখন উসমানি খেলা@ফতের পতনের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব থেকে খেলা@ফত ব্যবস্থার পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে এবং মুসলিমদের রাষ্ট্রগুলোতে পশ্চিমা গণ@তন্ত্রের প্রবেশ ঘটে, তখন আমাদের তৎকালীন পূর্বসূরীদের কাছে, গণ@তন্ত্রের ধোঁকা ও বাস্তবতা সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল না, এটা খুবই স্বাভাবিক। বিষয়টি ছিল তাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন। তখন গণ@তন্ত্রের প্রতারণাপূর্ণ পলিসিতে অনেকেই ধোঁকার শিকার হয়েছেন।
.
ভেবেছেন গণ@তন্ত্রের মাধ্যমে তো আমাদের মতামত প্রতিফলন ও বাস্তবায়নের স্বাধীন সুযোগ দেয়া আছে। সুতরাং প্রচলিত গণ@তন্ত্রে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে যদি আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি, তাহলে ক্ষমতায় গিয়ে খেলা@ফত প্রতিষ্ঠা করার একটা সুযোগ আসার প্রবল সম্ভাবনা আছে।
এজন্য কেউ কেউ গণ@তন্ত্রের কিছু বিষয়ে তাবীল করে কিছু কিছু গণ@তা ন্ত্রিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে, কিছু পরিহার করে খেলা@ফত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন এবং এটাকে জায়েয মনে করেছেন। যদিও একই সঙ্গে উলামায়ে কেরামের বড় একটি অংশ এই ধোঁকা সম্পর্কে শুরু থেকেই সচেতন ছিলেন এবং বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য দলিলের ভিত্তিতে তা নাজায়েয বলে আসছেন।
.
বলা বাহুল্য, যারা জায়েয মনে করেছিলেন, তারাও পশ্চিমাদের মূল গণ@তন্ত্র ও গণ@তন্ত্রের অনুসঙ্গগুলোকে সত্তাগতভাবে কুফর শিরক ও নাজায়েয মনে করতেন। যে অংশগুলো নিজেরা করতেন, সেগুলোর ভিন্ন কিছু ব্যখ্যা দাঁড় করাতেন, যা পশ্চিমাদের ব্যাখ্যা থেকে আলাদা এবং তা খেলা@ফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হবে আশায় সাময়িকভাবে তাবীল করে করতেন।
.
বিগত একশ বছরের প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, তাঁরা গণ@তন্ত্রের মাধ্যমে খেলা@ফত প্রতিষ্ঠার যে আশা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে সেটা গ্রহণ করেছিলেন, তা ছিল সম্পূর্ণ ধোঁকা ও প্রতারণা। বস্তুত খেলা@ফতকে হত্যা করার জন্য যে ধর্মনিরপেক্ষ গণ@তন্ত্রের জন্ম ও প্রতিপালন (গণ@তন্ত্রের জন্ম ও ইতিহাস সম্পর্কে যাদের সামান্য পড়াশোনা আছে, বিষয়গুলো তাদের কাছে একেবারেই পরিষ্কার), সেই গণ@তন্ত্রের মই বেয়ে, গণ@তন্ত্রীদের ফাঁকি দিয়ে আপনি ইসলামকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন এবং খেলা@ফত প্রতিষ্ঠিত করে গণ@তন্ত্রকে হত্যা করবেন, আর বিশ্বনিয়ন্তাশক্তি গণ@তন্ত্রের একনিষ্ঠ গোলামরা তা চেয়ে চেয়ে দেখবে, এটা নিছক দিবাস্বপ্ন।
.
মনে করুন, আপনি সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করেও যদি জয়ী হয়ে যান, তবুও তারা আপনাকে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে দেবে না, খেলা@ফতের নাম নিতে দিবে না। কোথাও সম্ভাবনা দেখা দিলে আগেই আপনাকে গুঁড়িয়ে দিবে, কোথাও ক্ষমতায় চলে আসলেও আপনাকে টেনে নামিয়ে দিবে।
পাকিস্তান, তুরস্ক, আলজেরিয়া ও মিশরের মতো রাজসাক্ষী বিগত একশ বছরে তা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেছে। তবুও যদি আমরা চোখ বন্ধ করে না দেখার ভান করি, মনে রাখতে হবে, বনি ইসরাইলের মতো আমৃত্যু আমাদেরকে গণ@তন্ত্রের ‘ময়দানে তীহে’ দিকভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে ঘুরে শরী@য়াহ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বুকে নিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে।
.
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ১৯৪৭’র পাকিস্তান, দীর্ঘ ৭৭ বছরেও শরী@য়াহ’র দেখা পায়নি। এরদোয়ান দীর্ঘ দুই দশকেরও অধিক সময় কসরত করে তুরস্কের গলা থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার পৈতাটা পর্যন্ত নামাতে পারেননি। ১৯৯২ এ আলজেরিয়ার ইসলামিক সালভেশন ফ্রন্ট ৮২ শতাংশ আসনে জয় লাভ করেও একদিনের জন্য ক্ষমতার মসনদে উঠতে পারেনি।
.
মিশরের ঐতিহ্যবাহী এবং মুসলিম বিশ্বের অভিজাততম ইসলামী সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমিনের প্রধান মুরসি (রাহিমাহুল্লহু ওয়া গফারা লাহ) মিশরের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত গণ@তা ন্ত্রিক শাসক হয়েও মিশরকে শরী@য়াহ উপহার দিতে পারেননি; উল্টো ইসলামের চিন্তা থাকার অপরাধে স্বাধীন দেশে পশ্চিমাদের সেবাদাস সিসির হাতে অসংখ্য নেত-কর্মীকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছে। সবার অপরাধ একটাই, ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রয়াস। এটাই হচ্ছে পশ্চিমাদের ধর্মনিরপেক্ষ গণ@তন্ত্রের রূপ ও স্বরূপের আদ্যপান্ত, যা সব ধর্ম-অধর্মের জন্য উন্মুক্ত; শুধু ইসলাম ধর্মের জন্য অবরুদ্ধ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.