নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাঁধ মু্ক্ত পৃথিবীর প্রত্যাশায়

যেখানে বাঁধ সেখানেই বিপর্যয়। তাই বাঁধ মুক্ত জীবনের জন্য চাই বাঁধ মুক্ত পৃথিবী

এ.বি.এম. মহসিন

বাংলাদেশ ফিশারীজ বিষয়ক তথ্যাদি শেয়ার করার একটি অনলাইন প্লাটফর্ম (www.BdFISH.org) তৈরির কাজ করছি।

এ.বি.এম. মহসিন › বিস্তারিত পোস্টঃ

হরিণ লালন-পালন নীতিমালা-২০১০: বিলুপ্তির পথে হাঁটবে কি চিত্রা হরিণ?

২৯ শে মে, ২০১১ সকাল ৯:০৮

বন্যরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। ছোটবেলা থেকে পড়ে আসা এই কথাটি এখন বুঝি গত হতে চলল। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় “হরিণ লালন-পালন নীতিমালা-২০১০” বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে শর্তসাপেক্ষে যে কেউই হরিণ লালন-পালনের সুযোগ পাবেন। খবরটি জানার পর থেকে গুগল করে নীতিমালাটির পূর্ণাঙ্গ কপি না পেয়ে অবশেষে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখাটি সাজাতে হল।



কি আছে এই নীতিমালায়?





হরিণ লালন পালনে যৌক্তিকতা কি?





পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন?





বর্তমান বাস্তবতা:

গোস্ত ও চামড়ার জন্য যথেচ্ছ শিকারের কারণে ৫০-এর দশক থেকে বাংলাদেশে হরিণের সংখ্যা হ্রাস পায়। কিন্তু ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অধ্যাদেশের মাধ্যমে যথেচ্ছ শিকার নিষিদ্ধ করার পর এ অবস্থার উন্নতি হয়। বর্তমানে সুন্দরবনে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হরিণ রয়েছে। আর নিঝুম দ্বীপে আছে ২০ হাজারের বেশি হরিণ। অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়- বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ চিত্রল হরিণ রয়েছে। চিত্রল হরিণের মূল বসতি এলাকা সুন্দরবনে রয়েছে প্রায় দেড় লাখ। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার। এ ছাড়া চর কুকরিমুকরি, বাঁশখালীসহ উপকূলীয় বনে বিচ্ছিন্নভাবে হরিণের বসতি রয়েছে। অবশ্য গত সিডরের সময় নিঝুম দ্বীপে কত হরিণ প্রাণ হারিয়েছে তার কোন তথ্য জানা যায় না।



বাংলাদেশে মোট ৫ প্রজাতির হরিণ রয়েছে৷ এর মধ্যে দুই প্রজাতির হরিণ, যথাক্রমে হগ ডিয়ার ও সোয়াম্প ডিয়ার চলে গেছে বিলুপ্তির তালিকায়৷ বাকী তিন প্রজাতির মধ্যে প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে বারকিং হরিণ ও সাম্বার হরিণ যা এখনও সিলেটের গভীর বন ও কাপ্তাই এবং বান্দারবানে কদাচিৎ দেখা যায়৷ চিত্রা হরিণ এদেশে অন্যান্য হরিণের চেয়ে এখনও বেশ ভালো৷ কবে সুন্দরবন এ নিঝুমদ্বীপ ছাড়া এদেশের চট্টগ্রাম পাহাড়ি এলাকা, মধুপুর বন ও সিলেটের গভীর বনে হাতে গোনা কিছু চিত্রা হরিণ থাকতে পারে৷



এরকম একটি পর্যায়ে নামমাত্র মূল্যে হরিণ লালন-পালনের সিদ্ধান্তটি বড় ধরণের শঙ্কার। কারণ বন থেকে কত সংখ্যক হরিণ ধরা হবে তা অজানা। যেখানে প্রতিটি হরিণের বর্তমান বাজার মূল্য ৮০ হাজারের উপর। সেখানে একজন লালন-পালনকারীকে দিতে হবে হরিণ প্রতি বছরে মাত্র ১০০ টাকা। অন্যদিকে ফার্মিং এর নামে দেশে ব্যাঙ ও কচ্ছপের কি দশা হয়েছিল তা আমাদের স্মরণে থাকার কথা। আর বর্তমানে সুন্দরবন অঞ্চলে কাঁকড়া নিয়ে চলছে একই কাহিনী। এবারের পালা কি চিত্রা হরিণ?



সুন্দরবন আর নিঝুমদ্বীপের হরিণের বর্তমান সংখ্যা আমাদের আপ্লুত করলেও সংখ্যাটি মোটেও মাত্রাতিরিক্ত নয়। বলা হয়ে থাকে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের লোকালয়ে চলে আসার অন্যতম কারণ খাদ্য সংকট আর এই বাঘের প্রধান খাবার হরিণ। আরও বলা হয়ে থাকে বন বাঘকে আশ্রয় দেয় আর বনকে রক্ষা করে বাঘ। তাই সুন্দরবন, বাঘ আর হরিণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সহজসরল কথায় বলা যায় হরিণ না থাকলে বাঘ থাকবে না, বাঘ না থাকলে সুন্দরবনও থাকবে না। আর সুন্দরবন না থাকলে বাংলাদেশের আর কি হারানোর অবশিষ্ট থাকবে?



দেশের পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞরা এ শঙ্কা থেকেই বারবার জোরালো তদারকির কথা বলছেন। কিন্তু দেশে তদারকি ব্যবস্থার উপর পূর্ণ আস্থা রাখা কারও পক্ষে সম্ভব কি? সে আস্থা না থাকায় এই শঙ্কাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। উড়িয়ে দেয়া যায় না এর অপব্যবহারের।



বন্যপ্রাণী বন থেকে সরাসরি ধরে এনে লালন-পালনের বিষয়টি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সমার্থক নয়। যদি বন্য প্রাণী লালন-পালন বা পোষার সুযোগ করে দেবার কোন যৌক্তিক কারণ থাকে তবে অত্যন্ত সীমিত ভাবে সরকারী পর্যায়ের ফার্মে (যেমন যেমন মৎস্য-বীজ উৎপাদন খামার) লালন-পালন ও প্রজননের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তৈরি করে তা সাধারণ মানুষের মাঝে কেবলমাত্র পোষার জন্য (মাংস খাওয়া বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়) প্রচলিত বাজার দরে (কোনভাবেই নাম মাত্র মূল্যে নয়) শর্ত সাপেক্ষে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে, নতুবা নয়। বর্তমান নীতিমালার মত বন থেকে সরাসরি ধরে এনে এমন গণ খামার বা গণ লালন-পালন ব্যবস্থার নিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে বাধ্য।



তথ্যসূত্র:

Click This Link

Click This Link

Click This Link

Click This Link

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই জুন, ২০১১ সকাল ১০:৩৬

বেঙ্গলেনসিস বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন। আপনার লেখাটি প্রচারের চেষ্টা করছি। এই লেখাটি স্টিকি হওয়া প্রয়োজন।

২| ১২ ই জুন, ২০১১ সকাল ১০:৪৩

শাহ আলম৬৭ বলেছেন: ভাই, আপনার এই লেখাটা আমার পরতাকায় অনুমতিম ছাড়াই দিয়ে দিয়েছি।মাসিক ক্রন্দসী

৩| ১২ ই জুন, ২০১১ সকাল ১১:৩৯

হাসিনুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ এমন তথ্য উপস্থাপনের জন্য।

৪| ১২ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৪:০৭

একলোটন বলেছেন: ভালো কাজ।লেখাটা শেয়ার করছি।এটা স্টিকি করা উচিত।

৫| ১৩ ই জুন, ২০১১ রাত ১১:১৫

বাল্যবন্ধু বলেছেন: স্টিকি করা হোক।

৬| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ২:২২

বেঙ্গলেনসিস বলেছেন: স্যার,
আপনার "হরিণ লালন-পালন নীতিমালা-২০১০: বিলুপ্তির পথে হাঁটবে কি চিত্রা হরিণ?" লেখাটি অনুসন্ধিৎসু চক্র বিজ্ঞান সংগঠন থেকে প্রকাশিত "প্রশ্ন" নামক বিজ্ঞান ত্রৈমাসিকে ছাপাতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে আপনার অনুমতি পাব কি? আপনার ইমেল এড্রেসটি দিয়ে বাধিত করবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.