| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি চেয়ে চেয়েদেখি আমার চারপাশকে। চারপাশের সবকিছুকে। দেখতে আমার ভালোলাগে। তাই দেখে অলস দেখেকাটিয়ে দেই মুহূর্তের পর মুহূর্ত। মানুষ দেখি, প্রকৃতি দেখি। এভাবে দেখতে থাকি।চেনা ছবিও বারবার দেখতে থাকি। এই দেখা নিতান্তই অর্থহীন নাকি অর্থপূর্ণ এখনো বুঝেউঠতে পারিনি। নাকি কখনোই বুঝে উঠতে চাইনি, সেটাই কখনো বোঝা হয়ে ওঠেনি। তবুও দেখতেভালো লাগে দেখি।
আজও এমনটা হয়েছে।আমি বিকেলে জানলা দিয়ে চেয়েছিলাম আকাশের দিকে। একটা মেঘলা বিকেল। স্নিগ্ধতায় জড়িয়ে একটা আম গাছ। একটা দোচালা টিন ও কংক্রিট নির্মিত বাড়ি। একটু দূরে সারি বেঁধেকতগুলো বিল্ডিং। এরমধ্যে একটি বিল্ডিংয়ের ছাদে। কবুতরের বাসা। কবুতরগুলো ওড়াউড়ি করছে উন্মুক্ত আকাশে। মৃদু বাতাস। ঝাপটা দিয়ে যায় আমার চারপাশকে। আমি দেখতে থাকি।দেখতে দেখতে আমি ঘুমিয়ে পড়ি কিংবা জেগে থাকি। হঠাৎ আমাদের বাসার ছোট্ট কাজের মেয়েটি আমাকে ডাক দেয়। আমি হয়তো আবারো জেগে উঠি। ও জিজ্ঞেস করে কি দ্যাখো? আমি বলিআকাশ দেখি। আরো বলি আমার দেখতে ভালো লাগে। ওর হাসি পায়, ও হেসে ওঠে। ডাক দিয়েবলে-ভাইয়ার নাকি দ্যাখতে ভাল্লাগে।
আমার আম্মুও কথাটিশোনে। আমাকে ডাকে। জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে? আমি একটু বিব্রত হই। একটু লজ্জাও পেয়েযাই। কি উত্তর দেব ভেবে পাইনা। তাই তেমন কোন বিশ্বাসযোগ্য উত্তরও দেয়া হয় না। শুধুসংক্ষেপে বলি কিছু না। বলা হয় না দেখতে ভালো লাগে।
একটা স্বপ্ন বাআশা সবসময়েই কাজ করে আমার মন ও মস্তিস্কে। আমি প্রকৃতিতে ফিরে যাবো। আমার চারপাশজুড়েই থাকবে সবুজ আর সবুজ। সবুজে জড়িয়ে ভালোবাসা। কিংবা ভালোবাসায় জড়িয়ে সবুজ। পাখিউড়বে, গান গাইবে, ধানের শিষে বাতাস বইবে। আরো অনেক কিছু হয়তো সব ভাবনায়ও নেই। শুধুঅনুভব করি। আমি বসে আছি এসব কিছুর মাঝে। এভাবেই বসে থাকবো আমৃত্যু।
এ স্বপ্ন বা আশাপূরণ হবার নয়। তাই পূরণ হবেও না। আমার জন্ম শহরে। বেড়ে ওঠা তীব্র কোলাহলপূর্ণনাগরিকতার মাঝে। ‘জন্মেই দেখি ক্ষুদ্ধ স্বদেশ ভূমি’। আমার ঘুম ভাঙ্গে কোলাহলে, মানুষের গন্ধে। ঘুমাতেও যাই সেভাবে। প্রকৃতির কাছে কখনোই থাকা হয়ে ওঠেনি। এ শহরের রাস্তাকেই নদী মনে করে সাঁতরে গেছি বহুদিন। একচিলতে ছোট্ট ছাদে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ। এভাবেই ধীরে ধীরে ভালোবেসে ফেলি আমার শহরকে, চারপাশকে। এভাবে অনুভব করতে করতে হারিয়ে যাই আমার স্বপ্নেরপ্রকৃতির মাঝে, মানুষের ভিড়ে, আমার শহরের মাঝে।
এ শহরের ঘটনাগুলো আমাকে নাড়া দেয়। হয়তো সবাইকেই নাড়া দেয়। আমি কেঁপে উঠি, সবাই কেঁপে ওঠে। আমিইতোসবাই। ঐশীর ব্যাপারটা সবাই জানে। খুব চলছে। হয়তো বেড়ে গেছে খবরের কাটতিও।বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়া কিশোর ঐশী। মা-বাবাকে হত্যা করার জন্য দায়ী করা হচ্ছে তাকে। অবাধ্য, বখে যাওয়া সন্তানের কর্মকাণ্ডকে মেনে নিতে পারছিলেন নামা-বাবা। চেষ্টা করেছিলেন সন্তানকে আয়ত্ত্বে আনার। তাদের প্রিয় সন্তান আয়ত্ত্বেআসেনি। উলটো খুন করে ফেললো ভালোবাসাকে। এ ভালোবাসা নিষ্পাপ না পাপযুক্ত আমরা এখনোজানিনা। ভালোবাসায় পাপ থাকলেও তা ভালোবাসা, পাপ না থাকলেও তা ভালোবাসা। ঐশীরবাবা-মাও তাকে ভালোবাসতো। ঐশীও হয়তো তাদের ভালোবাসতো কিংবা বাসতোনা। যাই হোক যাহবার তা হয়ে গেছে। কিন্তু এটা কেনো হয় সেটাই বোধ হয় জানা হয়নি বা বোঝা হয়নি। কিংবাহয়তো বোঝাও হয়েছে যার যার অথবা সমাজের নিজের মতো করে। সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায়প্রকাশিত হয়েছে ঐশী খুনের আগে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলো। এজন্য সে একটা সুইসাইডাল নোটও লিখেছিল। সেটাও প্রকাশিত হয়েছে। খুনের জন্য শুধু দায়বদ্ধ কি ঐশী একলা। নাসবাই? ঐশীর পরিবার, তার চারপাশ, সমাজ, রাষ্ট্র, পুরো পৃথিবী?
কিম কি দুককে মনেপড়ে যাচ্ছে। কোরিয়ান চলচ্চিত্রনির্মাতা কিম কি দুক। তার ব্যাড গাই কিংবা সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত পিয়েতার মূল চরিত্রকে মনে পড়ছে। তারাও হয়ে উঠেছিল ঐশীর মতোই। তাদের অভাব ছিল ভালোবাসার। সেটার অভাবে তাদের ভাবপ্রকাশের ভঙ্গিও হয়েওঠে শারিরীক। মনে পড়ছে আলেজান্দ্রো গঞ্জালেস ইনাররিতুকেও। মেক্সিকান চলচ্চিত্রনির্মাতা ইনাররিতু। পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের সাথে প্রত্যেক মানুষের সম্পর্ককে কি অবলীলায়ইনা তিনি দেখিয়েছেন তার চলচ্চিত্রে। মনে পড়ছে ডেনমার্কের চলচ্চিত্রনির্মাতা লার্স ভন ট্রায়ারকেও। মানব মনের উন্মাদনাকে যিনি যিনি চিত্রিত করেছেন তার চলচ্চিত্রে।একজন চলচ্চিত্রকর্মী বলেই হয়তো সব চলচ্চিত্র নির্মাতাকেই মনে পড়ছে। মানুষের মনকেবড়ই অদ্ভুত বলে মনে হয়। অদ্ভুত তার সম্পর্ক, এর বোধহয় নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই। যেমননেই ভালোবাসারও কোন সম্পর্ক।
তবুও মানুষ সম্পর্কগড়ে, সম্পর্ক ভাঙ্গে। ভালোবাসে, ভালোবাসা খোঁজে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে তার জীবনজুড়ে। এর ফাঁকেই প্রতিটি মানুষের সাথে প্রতিটি মানুষের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন গড়ে ওঠে।তাই হয়তো আমি ব্যস্ত শহরে বসেও অনুভব করতে পারি সবুজকে। রাস্তাকে মনে করি নদী।বাংলাদেশে বসেও চলে যেতে পারি সুমাত্রা কিংবা বালি। চড়ে বসতে পারি চে’র মটরসাইকেলে। বন্ধু হতে পারি রুশোর। বলতে পারি আরে ওতোআমার বাল্যবন্ধু রুশো কিংবা ফ্রিদার আত্মপ্রকৃতিতে কল্পনা করতে পারি নিজেকে। এটাআমি করতেই পারি কারণ আমি ধারণ করি এসব কিছুই। আমিতো এদেরই মিলিত রূপ। আমিইতো সবারপ্রকাশ। আমিইতো প্রকৃতি। আমিইতো পৃথিবী। আমিইতো মহাবিশ্ব। আমিইতো সবাই। আমিইতোসবকিছু। তাই সব ভাল কিংবা খারাপের দায়ভারও আমার।
সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৩ ভোর ৫টা
©somewhere in net ltd.