| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আহমেদ ফারুক
অবশেষে সবই ঝরে যায়/সময়ের হলুদ হাওয়ায় স্মৃতিমাত্র লিখা থাকে নাম/সেইখানে আমিও ছিলাম...
অবশেষে ফাঁসি কার্যকর হতে যাচ্ছে শাজনীনের হত্যাকারী নরপিচাশদের। শাজনীন হত্যা মামলায় নি¤œ আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় গত সোমবার বহাল রাখে উচ্চ আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলোÑ শহিদুল ইসলাম শহীদ, সৈয়দ সাজ্জাদ মঈনুদ্দিন হাসান, বাদল, এস্তেমা খাতুন মিনু ও পারভিন। অপর আসামী শনিরাম মণ্ডলকে বেকসুর খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো: আলী আসগর খান এবং বিচারপতি মো: এমদাদুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এ রায় প্রদান করেন।
নি¤œ আদালতে দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসার পর ৩১ কার্যদিবস পর্যন্ত এর শুনানি গ্রহণ করা হয়। নি¤œ আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হয় গত ২৭ জুন। এরপর গত বুধ, বৃহস্পতিবার এবং সোমবার এ তিন দিন ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট এই রায় প্রদান করেন। উচ্চ আদালতে আসামীদের ফাসির এই রায় বহাল থাকায় শান্তিকামি মানুষ বিশেষ করে নারীসমাজ স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছে। তারা এই শয়তান প্রকৃতির ব্যক্তিদের শাস্তি প্রত্যাশায় দিনগুনছিলেন। ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে শাজনীন তাসনিম রহমানকে শ্লীলতাহানীর পর হত্যা করা হয়। গুলশানের নিজ বাসায় স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ফুটফুটে এই মেয়েটিকে অত্যন্ত অসময়ে মায়াময় সুন্দর পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়। পুরুষ নামের কলঙ্ক কয়েকজন হিংস্র পশুর পাশবিকতার কাছে হার মেনে তাকে পাড়ি জমাতে হয় পরপারের উদ্দেশ্যে। ২৩ এপ্রিল রাতে বাড়ির চাকর শহিদ,বাড়ির সংস্কার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসান ও তার ৩ সহযোগি মিলে ধর্ষনের পর হত্যা করে কিশোরি শাজনিনকে। নিহত শাজনিনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে তাকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওই পশুরা। ওই বছর এপ্রিলের প্রথম দিনে তাকে বাড়ির ঠিকাদার হাসান বাথরুমের গ্লাস দেখিয়ে দেয়ার কথা বলে। শাজনিন তাকে গ্লাস দেখিয়ে দিতে গেলে তাকে অসৎ উদ্দেশ্যে জড়িয়ে ধরতে উদ্যত হয় হাসান। এ ব্যাপারটি মা-বাবাকে জানাতে চেয়েছিল শাজনিন। কিন্তু মায়ের অসুস্থতা ও বাবা লতিফুররহমানের ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি জানাতে পারেনি সে। এর পর সে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ঢাকার বাইরে বেড়াতে যায়। ঢাকায় ফেরার পর ২৪ এপ্রিল হাসানের বাজে ব্যবহারের কথা বাবাকে জানানোর কথা ছিল। এ ব্যাপারটি জানার পর আসন্ন বিপদের কথা বুঝতে পেরে হাসান বাড়ির চাকর শহিদসহ আরও ৩/৪ জনের সঙ্গে মিশে শাজনিনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। বাড়িতে মেহমান আসার সুযোগে ২৩ এপ্রিল রাতে শাজনিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করে তারা। এ নিয়ে দীর্ঘ ৫ বছর মামলা চলার পর আসামিদের দোষী সাব্যাস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালত এই রায় দেয়। মামলার প্রতিটি শুনানিতে উপস্থিত থেকে এর তদারকি করেছেন শাজনীনের দু:খী বাবা লতিফুর রহমান। কিন্তু সোমবার উচ্চ আদালতের এই রায়ের সময় তিনি ছিলেন নিউ ইয়র্কে। সেখান থেকেই তিনি এ রায় শোনার পর সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। শাজনীনের বাবা ও পরিবারের সকলেই শিগগির এই রায়ের বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন। শাজনীনের স্বজনদের মত দেশের প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তিই এই আশা পোষণ করেন। এই শাস্তি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলেই মনে শান্তি পাবেন দেশের নারীরা। শান্তিপাবে শাজনীনের বিদেহি আত্মা। এ রায় কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরী,যাতে করে এ ধরনের নরপশুদের পথে আর কেউ পা না বাড়ায়। নিষ্পাপ কিশোরীরা যাতে শিক্ষায়তনে,পথে-ঘাটে,বাড়িতে সর্বত্র নি:শঙ্কচিত্তে,স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। শাজনিনের মত আর কোন কিশোরি বা তরুণীকে হিংস্র এসব পশুর কবলে আর না পড়তে হয় এ-ই আজকের ঐকান্তিক কামনা।
২|
৩০ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৩৬
মোহেবুল্লাহ অয়ন বলেছেন: আপনি এখনো ব্লগে আছেন কিনা জানিনা। তবে সেই ফাঁসি গতকাল কার্যকর হয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৫:১৮
রাশেদ বলেছেন: শাজনিনের মত আর কোন কিশোরি বা তরুণীকে হিংস্র এসব পশুর কবলে আর না পড়তে হয় এ-ই আজকের ঐকান্তিক কামনা।