নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিরোনাম হীন যাত্রী

গালী মুর্খদের ভাষা।

এম,এস,খান

আমার আগের ব্লগটি ব্লক হয়ে যাওয়ায় এখন থেকে এই ব্লগে সক্রিয় থাকবো।

এম,এস,খান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলামের দৃষ্টিতে সংখ্যালগু সম্প্রদায়।

১০ ই জুন, ২০১৪ রাত ১:৫১

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের

অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের

নিরাপত্তা বিধান সাম্প্রতিক

বিশ্বের খুব আলোচিত

একটি বিষয়। দেশ ও রাষ্ট্র

ব্যবস্থার শুরু যখন

থেকে সংখ্যালঘু সমস্যার

সূচনাও তখন থেকে।

তবে সাম্প্রতিক কালের কিছু

অঘটন বিষয়টিকে আলোচনার

কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

ফলে তাদের অধিকারের

সুরক্ষা ও নিরাপত্তার

প্রশ্নটি এখন খুবই গুরুত্ব রাখে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কারা?

কোনো দেশ বা আঞ্চলিক

সীমারেখায়

বসবাসকারী তুলনামূলক ক্ষুদ্র

জনগোষ্ঠী ও লঘু সম্প্রদায়কেই

সংখ্যালঘু বলা হয়। আর

সংখ্যালঘু নির্ণয়ে কার্যত

জাতি, ভাষা, ধর্ম ও বর্ণ

ইত্যাদিকে মানদের

পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়ে থাকে।

বাস্তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ

জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায় অনেক

ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের উপর

বাড়াবাড়ি করে ফেলে।

তাদের অধিকার খর্ব করে।

জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর

নিরাপত্তাকে চরমভাবে বিঘিত

করে বসে।

প্রকৃতপক্ষে সংখ্যালঘু সমস্যার

সূত্রপাত এখান থেকেই।

একটি দেশ বা অঞ্চলের

বাসিন্দাদের মানবীয় সাধারণ

ও মৌলিক অধিকারসমূহের

ক্ষেত্রে জাতি, ভাষা, ধর্ম ও

বর্ণ ইত্যাদির মানদে বিভাজন

করা মারাত্মক অন্যায়।

মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

এতে সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত

বরং অনেক

ক্ষেত্রে নির্যাতিত হয়। মূলত

সংখ্যালঘু সমস্যার

উৎপত্তি এখান থেকেই।

সামপ্রদায়িকতার মতো শত

অনিষ্টের সূচনাও এখান থেকেই।

*সংখ্যালঘু

একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু?

সুনির্দিষ্ট কোনো দেশ

বা জাতির সাথে এ

সমস্যাটি সীমাবদ্ধ নয়।

পৃথিবীর সকল ধর্মাবলম্বী ও

জাতিই

কোনো না কোনো দেশে সংখ্যালঘু।

হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ

ভারতে যেমন মুসলমান, বৌদ্ধ,

খ্রিস্টান ও অন্যান্য

ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু;

তেমনি মুসলিম অধ্যুষিত এ

দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ

অন্যান্য জাতি ও গোষ্ঠীও

সংখ্যালঘু। আবার চীন,

মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা,

থাইল্যান্ড ইত্যাদি বৌদ্ধ-

প্রধান রাষ্ট্রে মুসলমান, হিন্দু

ও অন্যান্য

ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু।

পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রেই একই

অবস্থা। সুতরাং সংখ্যালঘু

সমস্যা একটি আন্তর্জাতিক

সমস্যা।

*সংখ্যালঘু সমস্যার নিরসন

কীভাবে হবে?

এ সমস্যা নিরসন দেশ ও জাতি,

ধর্ম ও বর্ণের মানদে নয়;

বরং সকলের অধিকার ও

নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এমন

আইনের আলোকেই সম্ভব। আর এ

ক্ষেত্রে বিশ্বমানবতার

মুক্তির দিশারী ইসলাম যে রূপ-

রেখা প্রদান

করেছে এবং বাস্তব

জীবনে তার প্রয়োগ করত:

সাফল্যের যে অনুপম দৃষ্টান্ত

বিশ্ববাসীর

সামনে তুলে ধরেছে,

তা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিকভাবে

অনুকরণীয় আদর্শ হতে পারে।

*সংখ্যালঘুদের অধিকার ও

নিরাপত্তা বিধানে ইসলামী দর্শন?

ইসলাম ইনসাফ ও ভারসাম্যপূর্ণ

ধর্ম। জাতি, ধর্ম, বংশ, বর্ণ

নির্বিশেষে সকলের

প্রতি ইনসাফ, ন্যায়বিচার,

সহমর্মিতা, সৌজন্যমূলক আচরণ,

সকল সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন

এ ধর্মের অন্যতম শিক্ষা। জুলুম,

অন্যায়-অবিচারকে ইসলাম

কখনোই সমর্থন করে না।

পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট উল্লেখ

আছে,

ﻥﺎﺴﺣﻹﺍﻭ ﻝﺪﻌﻟﺎﺑ ﺮﻣﺄﻳ ﻪﻠﻟﺍ ﻥﺇ

ﻦﻋ ﻰﻬﻨﻳﻭ ﻰﺑﺮﻘﻟﺍ ﻯﺫ ﺉﺎﺘﻳﺇﻭ

ﻢﻜﻈﻌﻳ ،ﻰﻐﺒﻟﺍﻭ ﺮﻜﻨﻤﻟﺍﻭ ﺀﺎﺸﺤﻔﻟﺍ

ﻥﻭﺮﻛﺬﺗ ﻢﻜﻠﻌﻟ .

অর্থ- নিশ্চয় আল্লাহ

তা‘আলা ইনসাফ, সদাচরণ

এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান

করার আদেশ দেন

এবং অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ ও

অবাধ্যতা করতে নিষেধ করেন।

তিনি তোমাদেরকে উপদেশ

দিচ্ছেন, যাতে তোমরা উপদেশ

গ্রহণ কর। (সূরা নাহল-৯০)

ﺕﺎﻧﺎﻣﻷﺍ ﺍﻭّﺩﺆﺗ ﻥﺃ ﻢﻛﺮﻣﺄﻳ ﻪﻠﻟﺍ ﻥﺇ

ﺱﺎﻨﻟﺍ ﻦﻴﺑ ﻢﺘﻤﻜﺣ ﺍﺫﺇﻭ ،ﺎﻬﻠﻫﺃ ﻰﻟﺇ

ﺎﻤﻌﻧ ﻪﻠﻟﺍ ﻥﺇ ،ﻝﺪﻌﻟﺎﺑ ﺍﻮﻤﻜﺤﺗ ﻥﺃ

ﺍﺮﻴﺼﺑ ﺎﻌﻴﻤﺳ ﻥﺎﻛ ﻪﻠﻟﺍ ﻥﺇ ﻪﺑ ﻢﻜﻈﻌﻳ .

অর্থ-হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়

আল্লাহ

তা‘আলা তোমাদেরকে আদেশ

করছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ

তার হকদারকে আদায়

করে দিবে। এবং যখন মানুষের

মাঝে বিচার করবে তখন

ইনসাফের সাথে বিচার করবে।

নিশ্চিত জেনে রেখ, আল্লাহ

তা‘আলা তোমাদেরকে যে বিষয়ের

উপদেশ দিয়ে থাকেন

তা অতি উৎকৃষ্ট হয়ে থাকে।

নিশ্চয় আল্লাহ

তা‘আলা সবকিছু শুনেন, সবকিছু

দেখেন। (সূরা নিসা-৫৮)

আর হাদীস শরীফে আছে,

.ﻪﻠﻟﺍ ﻪﻤﺣﺮﻳ ﻻ ﺱﺎﻨﻟﺍ ﻢﺣﺮﻳ ﻻ ﻦﻣ

) ﻲﻓ ، ﻪﺤﻴﺤﺻ ﻲﻓ ﻢﻠﺴﻣ ﻡﺎﻣﻹﺍ ﻩﺍﻭﺭ

ﻢﻠﺳﻭ ﻪﻴﻠﻋ ﻪﻠﻟﺍ ﻰﻠﺻ ﻪﺘﻤﺣﺭ ﺏﺎﺑ

ﺏﺎﺘﻛ ﻦﻣ ،2716 ﻢﻗﺮﺑ ﻥﺎﻴﺒﺼﻟﺍ

ﻲﻓ ﻱﺬﻣﺮﺘﻟﺍ ﻡﺎﻣﻹﺍﻭ ،ﻞﺋﺎﻀﻔﻟﺍ

ﺔﻤﺣﺭ ﻲﻓ ﺀﺎﺟ ﺎﻣ ﺏﺎﺑ ﻲﻓ ، ﻪﻌﻣﺎﺟ

ﺮﺒﻟﺍ ﺏﺎﺘﻛ ﻦﻣ ،2291 ﻢﻗﺮﺑ ﺱﺎﻨﻟﺍ

ﻦﺴﺣ ﺚﻳﺪﺣ ﺍﺬﻫ :ﻝﺎﻗ ّﻢﺛ ،ﺔﻠﺼﻟﺍﻭ

ﻲﺿﺭ ﻪﻠﻟﺍ ﺪﺒﻋ ﻦﺑ ﺮﻳﺮﺟ ﻦﻋ . ﺢﻴﺤﺻ

ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﺳﺭ ﻝﺎﻗ : ﻝﺎﻗ ﻪﻨﻋ ﻰﻟﺎﻌﺗ ﻪﻠﻟﺍ

ﻢﻠﺳﻭ ﻪﻴﻠﻋ ﻪﻠﻟﺍ ﻰﻠﺻ :

অর্থ- হযরত জারীর

ইবনে আব্দুল্লাহ রা.

থেকে বর্ণিত, রাসূল

সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ

করেন, যারা মানুষের

প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ

তা‘আলা তাদের

প্রতি দয়া করেন না। (মুসলিম

শরীফ-৬১৭২)

ﻪﻠﻟﺍ ﻲﺿﺭ ﻭﺮﻤﻋ ﻦﺑ ﻪﻠﻟﺍ ﺪﺒﻋ ﻦﻋ

ﻰﻠﺻ ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﺳﺭ ﻝﺎﻗ : ﻝﺎﻗ ﻪﻨﻋ ﻰﻟﺎﻌﺗ

ﻥﻮﻤﺣﺍﺮﻟﺍ :ﻢﻠﺳﻭ ﻪﻴﻠﻋ ﻪﻠﻟﺍ

ﺽﺭﻷﺍ ﻲﻓ ﻦﻣ ﺍﻮﻤﺣﺭﺍ ،ﻦﻤﺣﺮﻟﺎﻤﻬﻤﺣﺮﻳ

.ﺀﺎﻤﺴﻟﺍ ﻲﻓ ﻦﻣ ﻢﻜﻤﺣﺮﻳ ) ﻡﺎﻣﻹﺍ ﻩﺍﻭﺭ

ﺀﺎﺟ ﺎﻣ ﺏﺎﺑ ﻲﻓ ، ﻪﻌﻣﺎﺟ ﻲﻓ ﻱﺬﻣﺮﺘﻟﺍ

ﺏﺎﺘﻛ ﻦﻣ ،4291 ﻢﻗﺮﺑ ﺱﺎﻨﻟﺍ ﺔﻤﺣﺭ ﻲﻓ

ﻦﺴﺣ ﺚﻳﺪﺣ ﺍﺬﻫ : ﻝﺎﻘﻓ ،ﺔﻠﺼﻟﺍﻭ ﺮﺒﻟﺍ

ﺢﻴﺤﺻ .

অর্থ- হযরত আব্দুল্লাহ

ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়াসাল্লাম

বলেছেন, যারা মাখলূকের

প্রতি দয়া করে, দয়াময় আল্লাহ

তা‘আলা তাদের

প্রতি দয়া করেন।

তোমরা জমিনে বসবাসকারী মাখলূকের

প্রতি দয়া কর,

যিনি আসমানে আছেন,

তিনি তোমাদের

প্রতি দয়া করবেন।

(তিরমিযী শরীফ-১৯২৪)

ﻪﻠﻟﺍ ﻲﺿﺭ ﺩﻮﻌﺴﻣ ﻦﺑ ﻪﻠﻟﺍ ﺪﺒﻋ ﻦﻋ

ﻰﻠﺻ ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﺳﺭ ﻝﺎﻗ :ﻝﺎﻗ ﻪﻨﻋ ﻰﻟﺎﻌﺗ

، ﻪﻠﻟﺍ ﻝﺎﻴﻋ ﻖﻠﺨﻟﺍ :ﻢﻠﺳﻭ ﻪﻴﻠﻋ ﻪﻠﻟﺍ

ﻰﻟﺇ ﻦﺴﺣﺃ ﻦﻣ ﻪﻠﻟﺍ ﻰﻟﺇ ﻖﻠﺨﻟﺍ ﺐﺣﺄﻓ

. ﻪﻟﺎﻴﻋ ) ﻲﻓ ﻲﻘﻬﻴﺒﻟﺍ ﻡﺎﻣﻹﺍ ﻩﺍﻭﺭ

ﻲﻟﻭﺃ ﺔﻋﺎﻃ ﺏﺎﺑ ﻲﻓ ،ﻥﺎﻤﻳﻹﺍ ﺐﻌﺷ

ﻢﻗﺮﺑ ﺓﻻﻮﻟﺍ ﺔﺤﻴﺼﻧ ﻞﺼﻓ ، ﺮﻣﻷﺍ

7448.)

অর্থ- হযরত আব্দুল্লাহ

ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত,

রাসূল সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়াসাল্লাম

বলেছেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহ

তা‘আলার পরিবার। আল্লাহ

তা‘আলার নিকট প্রিয় সেই

ব্যক্তি, যে তাঁর পরিবার

তথা সৃষ্টির প্রতি দয়া ও ইহসান

করে। (বায়হাকী শরীফ-৭৪৪৮)

:ﻝﺎﻗ ﻪﻨﻋ ﻰﻟﺎﻌﺗ ﻪﻠﻟﺍ ﻲﺿﺭ ﺭﺫ ﻲﺑﺃ ﻦﻋ

: ﻝﺎﻗ ،ﻲﻨﺻﻭﺃ !ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﺳﺭ ﺎﻳ :ﺖﻠﻗ

ﺔﺌّﻴﺴﻟﺍ ﻊﺒﺗﺃﻭ ،ﺖﻨﻛ ﺎﻤﺜﻴﺣ ﻪﻠﻟﺍ ﻖﺗﺍ

ﻖﻠﺨﺑ ﺱﺎّﻨﻟﺍ ﻖﻟﺎﺧﻭ ، ﺎﻬﺤﻤﺗ ﺔﻨﺴﺤﻟﺍ

. ﻦﺴﺣ )ﻩﺪﻨﺴﻣ ﻲﻓ ﺪﻤﺣﺃ ﻡﺎﻣﻹﺍ ﻩﺍﻭﺭ

5/158 ﻱﺬﻣﺮﺘﻟﺍ ﻡﺎﻣﻹﺍﻭ ،ﻪﻟ ﻆﻔﻠﻟﺍﻭ ،

ﺓﺮﺷﺎﻌﻣ ﻲﻓ ﺀﺎﺟ ﺎﻣ ﺏﺎﺑ ﻲﻓ ،ﻪﻌﻣﺎﺟ ﻲﻓ

ﺮﺒﻟﺍ ﺏﺎﺘﻛ ﻦﻣ ،7891 ﻢﻗﺮﺑ ﺱﺎّﻨﻟﺍ

ﺢﻴﺤﺻ ﻦﺴﺣ ﺚﻳﺪﺣ ﺍﺬﻫ :ﻝﺎﻘﻓ ،ﺔﻠّﺼﻟﺍﻭ .

অর্থ- আবু যর রা. থেকে বর্ণিত,

তিনি বলেন – আমি বললাম,

হে আল্লাহর রাসূল!

আমাকে উপদেশ দিন। রাসূল

সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

তুমি যেখানেই থাকো, আল্লাহ

তা‘আলাকে ভয় করে চলো।

খারাপকাজের

পরে (যদি হয়ে যায় তবে)

ভালকাজ করো ।

তাহলে ভালকাজ

খারাপকাজকে মিটিয়ে দিবে।

সমস্ত মানুষের সহিত উত্তম

আচরণ করো।

(মুসনাদে আহমাদ-৫/১৫৮,

তিরমিযী শরীফ-১৯৮৭)

উল্লিখিত আয়াত

এবং হাদীসগুলোতে ইসলামের

অতুলনীয় ইনসাফের

বিষয়টি ফুটে উঠেছে এবং এতে ধনী-

গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত,

ক্ষমতাবান- সাধারণলোক,

সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু

এমনকি মুসলিম ও অমুসলিমেরও

পার্থক্য করা হয়নি। সকল মানুষ

আল্লাহ তা‘আলার বান্দা।

তাদের সকলের

শান্তিপূর্ণভাবে আল্লাহ

তা‘আলার দুনিয়ায় বসবাসের

অধিকার রয়েছে। এই

দৃষ্টিতে সকল মানুষের জান-

মাল ও ইজ্জতের মূল্য

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা‘আলার

কাছে সমান। মোটকথা,

ইসলামের সংখ্যালঘু সংক্রান্ত

অধিকারগুলো যাদের

জানা আছে,

তারা বিষয়টি সহজেই

উপলব্ধি করতে পারবেন যে,

এখানে একজন সংখ্যালঘুর জান-

মাল ও ইজ্জতের মূল্য একজন

মুসলমান নাগরিকের সমানই।

শরীয়তের ভাষায়

ﻢﻬﻟﺍﻮﻣﺃﻭ ، ﺎﻨﺋﺎﻣﺪﻛ ﻢﻬﺋﺎﻣﺩ

ﺎﻨﻟﺍﻮﻣﺄﻛ .

অর্থ – অমুসলিম নাগরিকের

প্রাণ আমাদের প্রাণের মতোই

নিরাপদ এবং তাদের ধন- সম্পদ

আমাদের ধন-সম্পদের মতোই

নিরাপত্তা পাওয়ার উপযুক্ত।

*সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর

জুলুম-অত্যাচার

প্রতিরোধে ইসলাম এ

ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান খুবই

স্পষ্ট এবং অত্যন্ত জোড়ালো।

ইসলাম

সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে,

‘ ﻡﻼﺳﻹﺍ ﻲﻓ ﺔّﻴﺒﺼﻋ ﻻ’

ইসলামে আসাবিয়্যত, অন্যায়

পক্ষপাতিত্ত

তথা সাম্প্রদায়িকতার

কোনো স্থান নেই।

সুতরাং হত্যাকারী, সন্ত্রাসী,

ত্রাস ও

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী যে দলেরই,

যে শ্রেণীরই বা যে গোত্রেরই

হোক, যত উঁচু বা নিচু

সম্প্রদায়ের হোক কোনোভাবেই

তার পক্ষ নেওয়া যাবে না।

তার

পৃষ্ঠপোষকতা করা যাবে না;

বরং রাষ্ট্র, সরকার, গণমাধ্যম

এবং সর্বস্তরের জনগণ এক

হয়ে তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ

করতে হবে।

এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের

বিভিন্ন জায়গায় সুস্পষ্ট

নির্দেশনা রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি উল্লেখ

করছি।

ﻢﻜﺴﻤﺘﻓ ﺍﻮﻤﻠﻇ ﻦﻳﺬﻟﺍ ﻰﻟﺇ ﺍﻮﻨﻛﺮﺗ ﻻﻭ

ﺭﺎﻨﻟﺍ .

অর্থ- যারা জুলুম করেছে,

তোমরা তাদের

প্রতি ঝুঁকে যাবে না।

যদি ঝুঁকে যাও

তবে তোমাদেরকে আগুনে ধরবে।

(সূরা হূদ-১১৩)

:ﻢﻠﺳﻭ ﻪﻴﻠﻋ ﻪﻠﻟﺍ ﻰﻠﺻ ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﺳﺭ ﻝﺎﻗ

ﺲﻴﻟﻭ ،ﺔّﻴﺒﺼﻋ ﻰﻟﺇ ﺎﻋﺩ ﻦﻣ ﺎﻨﻣ ﺲﻴﻟ

ﺎﻨﻣ ﺲﻴﻟﻭ ،ﺔّﻴﺒﺼﻋ ﻰﻠﻋ ﻞﺗﺎﻗ ﻦﻣ ﺎﻨﻣ

.ﺔّﻴﺒﺼﻋ ﻰﻠﻋ ﺕﺎﻣ ﻦﻣ ) ﻮﺑﺃ ﻡﺎﻣﻹﺍ ﻩﺍﻭﺭ

ﺔّﻴﺒﺼﻌﻟﺍ ﻲﻓ ﺏﺎﺑ ﻲﻓ ،ﻪﻨﻨﺳ ﻲﻓ ﺩﻭﺍﺩ

ﺏﺩﻷﺍ ﺏﺎﺘﻛ ﻦﻣ ،1215 ﻢﻗﺮﺑ .

অর্থ- রাসূল সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়াসাল্লাম

বলেছেন,

যে ব্যক্তি আসাবিয়্যার

দিকে ডাকে সে আমাদের দলের

অন্তর্ভুক্ত নয়,

যে ব্যক্তি আসাবিয়্যার

ভিত্তিতে লড়াই করে সেও

আমাদের দলের অন্তর্ভুক্ত নয়,

যে ব্যক্তি আসাবিয়্যার উপর

মৃত্যুবরণ করে সেও আমাদের

দলের অন্তর্ভুক্ত নয়। (আবু দাউদ

শরীফ-৫১২১)

অপর হাদীসে আছে,

ﻥﺃ :ﻝﺎﻗ ؟ﺔّﻴﺒﺼﻌﻟﺍ ﺎﻣ ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﺳﺭ ﺎﻳ

.ﻢﻠﻈﻟﺍ ﻰﻠﻋ ﻚﻣﻮﻗ ﻦﻴﻌﺗ ) ﻡﺎﻣﻹﺍ ﻩﺍﻭﺭ

ﻲﻓ ﺏﺎﺑ ﻲﻓ ،ﻪﻨﻨﺳ ﻲﻓ ﺩﻭﺍﺩ ﻮﺑﺃ

ﺏﺎﺘﻛ ﻦﻣ ،9115 ﻢﻗﺮﺑ ﺔّﻴﺒﺼﻌﻟﺍ

ﺏﺩﻷﺍ .)

অর্থ- হে আল্লাহর রাসূল!

‘আসাবিয়্যাহ’ কী?

তিনি উত্তরে বললেন,

আসাবিয়্যাহ হলো অন্যায়-

অবিচার ও জুলুমের

ক্ষেত্রে তুমি তোমার

সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করবে।

(আবু দাউদ শরীফ-৫১১৯)

ﻝﺎﻘﻓ ،ﺎﻣﻮﻠﻈﻣ ﻭﺃ ﺎﻤﻟﺎﻇ ﻙﺎﺧﺃ ﺮﺼﻧﺍ

ﻥﺎﻛ ﺍﺫﺇ ﻩﺮﺼﻧﺃ !ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﺳﺭ ﺎﻳ :ﻞﺟﺭ

،ﺎﻤﻟﺎﻇ ﻥﺎﻛ ﺍﺫﺇ ﺖﻳﺃﺮﻓﺃ ،ﺎﻣﻮﻠﻈﻣ

ﻦﻣ ﻪﻌﻨﻤﺗ ﻭﺃ ﻩﺰﺠﺤﺗ :ﻝﺎﻗ ؟ﻩﺮﺼﻧﺃ ﻒﻴﻛ

. ﻩﺮﺼﻧ ﻚﻟﺫ ﻥﺈﻓ ،ﻢﻠﻈﻟﺍ ) ﻡﺎﻣﻹﺍ ﻩﺍﻭﺭ

ﻦﻴﻤﻳ ﺏﺎﺑ ﻲﻓ ،ﻪﺤﻴﺤﺻ ﻲﻓ ﻱﺭﺎﺨﺒﻟﺍ

ﻑﺎﺧ ﺍﺫﺇ ﻩﻮﺧﺃ ﻪﻧﺇ ﻪﺒﺣﺎﺼﻟ ﻞﺟﺮﻟﺍ

ﻦﻣ ،2596 ﻢﻗﺮﺑ ﻩﻮﺤﻧ ﻭﺃ ﻞﺘﻘﻟﺍ ﻪﻴﻠﻋ

ﻲﻓ ﻢﻠﺴﻣ ﻡﺎﻣﻹﺍﻭ ، ﻩﺍﺮﻛﻹﺍ ﺏﺎﺘﻛ

6747 ﻢﻗﺮﺑ ﻪﺤﻴﺤﺻ .)

অর্থ- তুমি তোমার

ভাইকে সাহায্য কর, চাই

সে জালেম হোক অথবা মাজলূম

হোক। এক সাহাবী রা. বললেন,

যখন সে মাজলূম হয় তখন

তো আমি তাকে সাহায্য

করবোই; কিন্তু যখন সে জালেম

হয় তখন

কীভাবে আমি তাকে সাহায্য

করি? রাসূল সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

তাকে জুলুম থেকে বিরত

রাখবে। এটাই

হলো তাকে সাহায্য করা।

(বুখারী শরীফ-৬৯৫২, মুসলিম

শরীফ-৬৭৪৭)

ﻦﻋ ﻢﻛﻭّﺪﺻ ﻥﺃ ﻡﻮﻗ ﻥﺂﻨﺷ ﻢﻜﻨﻣﺮﺠﻳﻻﻭ

،ﺍﻭﺪﺘﻌﺗ ﻥﺃ ﻡﺍﺮﺤﻟﺍ ﺪﺠﺴﻤﻟﺍ

، ﻯﻮﻘﺘﻟﺍﻭ ّﺮﺒﻟﺍ ﻰﻠﻋ ﺍﻮﻧﻭﺎﻌﺗﻭ

،ﻥﺍﻭﺪﻌﻟﺍﻭ ﻢﺛﻹﺍ ﻰﻠﻋ ﺍﻮﻧﻭﺎﻌﺗﻻﻭ

ﺏﺎﻘﻌﻟﺍ ﺪﻳﺪﺷ ﻪﻠﻟﺍ ﻥﺇ ،ﻪﻠﻟﺍ ﺍﻮﻘﺗﺍﻭ.

অর্থ- যে সম্প্রদায়

তোমাদেরকে মসজিদে হারামে যেতে বাধা দিয়েছে,

তাদের প্রতি শত্রুতা যেন

তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘন

করতে প্ররোচিত না করে। সৎ ও

তাকওয়ার কাজে একে অন্যের

সহযোগিতা কর। পাপ কাজ ও

সীমালঙ্ঘনের

ব্যাপারে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।

আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর।

নিশ্চিত জেনে রেখ, আল্লাহ

তা‘আলা কঠিন শাস্তিদাতা।

(সূরা মায়েদাহ-২)

অথচ

আজকে আমরা পদে পদে পক্ষ

নিচ্ছি জালিমের। মজলুমের

পক্ষ

না নিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করছি অত্যাচারির।

কিন্তু ভেবে দেখছি না যে,

তা দেশ, জনগণ

এমনকি স্বয়ং জালিমের জন্যও

আত্মঘাতী হচ্ছে। কারণ

এভাবে চলতে থাকলে অন্য

অনেকেই হত্যা, সন্ত্রাস ও

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে উৎসাহী হয়ে উঠবে এবং অপরাধীরাও

সংশোধন হবে না। ফলে দেশ ও

সমাজ

হয়ে উঠবে আরো অনিরাপদ।

বিপথগামীরাও পাবে না সৎ

পথের সন্ধান।

*সংখ্যালঘু অধিকার

সংরক্ষণে মিডিয়ার

একচোখা নীত?

সংখ্যালঘু নিপীড়ন

একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু।

সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই

বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও

জাতি সংখ্যালঘু। যেমন

বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ ও

খ্রিষ্টান

ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু।

তেমনি ভারতে মুসলিম,

খ্রিষ্টান ও

বৌদ্ধরা সংখ্যালঘু।

মিয়ানমারে মুসলমান, হিন্দু,

খ্রিষ্টানরা সংখ্যালঘু।

সংখ্যালঘুদের উপর

সারা বিশ্বের বিভিন্ন

স্থানে সংখ্যাগরিষ্টদের জুলুম,

নিপীড়ন ও খবরদারী সবারই

জানা। আমরা এর প্রতিবাদ

জানাই, জানাই তীব্র নিন্দা।

এ জুলুমের বিরুদ্ধে সকলের

ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহবান

জানাই। কিন্তু পরিতাপের

বিষয় বাংলাদেশের

মিডিয়াসহ আন্তর্জাতিক

মিডিয়াগুলোর

একচোখা নীতি আমাদের হতাশ

করে। বাংলাদেশের কোথাও

সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত

হলে তা যেভাবে ফলাও

করে মিডিয়ায়

আসে সেভাবে মিয়ানমার ও

ভারতে নির্যাতিত

সংখ্যালঘুদের সংবাদ

মিডিয়ায় আসে না। জুলুম

যে বা যারাই করুক

তারা জালিম, তারা অমানুষ।

এহেন জঘন্য কর্মের প্রতিবাদ

গোত্র, ধর্ম হিসেবে নয়,

বরং মানুষ ও মানবতার

হিসেবেই করতে হবে। তাই

আমরা সকল মিডিয়া কর্মীদের

প্রতি উদাত্ত আহবান করছি!

আসুন সংকীর্ণ

মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসি।

সকল নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের

পাশে দাঁড়াই। জাতি ধর্ম

নির্বিশেষে সকল

সংখ্যালঘুদের এক

দৃষ্টিতে দেখি। তাদের

বিরুদ্ধে উদ্ধত অত্যাচারির খরগ

হস্ত থামিয়ে দেই। প্রতিবাদ-

প্রতিরোধ ও নিন্দার

ঝড়ে কাঁপিয়ে দেই জালিমের

নোংরা হৃদয়।

*বিশেষ আহ্বান সন্দেহ নেই?

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের

প্রতিটি সদস্য এ দেশেরই

নাগরিক। মূলত শান্তিপ্রিয়,

দেশের আইন

মান্যকারী এবং অন্যের

ধর্মীয়মূল্যবোধ ও মতাদর্শের

প্রতি সহিষ্ণু মনোভাবাপন্ন

প্রতিটি সংখ্যালঘু সদস্যের

জান-মাল, ইজ্জত-আব্রুর

নিরাপত্তা বিধান করা,

তাদের অধিকার নিশ্চিত

করা আমাদের সকলেরই কর্তব্য।

সুতরাং আসুন

আমরা সংখ্যালঘুসহ সকলের

ন্যায্য অধিকার ও

নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট

হই। ইনসাফপূর্ণ বিশ্ব গড়ি।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই জুন, ২০১৪ রাত ১:৫২

পংবাড়ী বলেছেন: ধর্ম ফর্ম, অপকর্মকে বাদ দিলে থাকে মানুষ; মানুষের মাঝে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই; সংখ্যা লঘু হচ্ছে স্বয়ং নবি, রসুল, অবতারেরা; কারণ মানুষ কম সংখ্যক নবী, রসুল ও অবতারের সৃস্টি করেছে মাত্র।

আপনারা কমশিক্ষিত, ও দুস্ট লোক

২| ১১ ই জুন, ২০১৪ রাত ১২:০৮

এম,এস,খান বলেছেন: তাহলে সবই বাদ দেন।লিঙ্গের ভেদাভেদ ও। বাঁকি থাকবে হিজড়া।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.