নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিরোনাম হীন যাত্রী

গালী মুর্খদের ভাষা।

এম,এস,খান

আমার আগের ব্লগটি ব্লক হয়ে যাওয়ায় এখন থেকে এই ব্লগে সক্রিয় থাকবো।

এম,এস,খান › বিস্তারিত পোস্টঃ

নবীগণ কি নিষ্পাপ নন?

১১ ই জুন, ২০১৪ রাত ১২:১২

"নবী নবীই, খোদা নহেন। তাই নবীর কোন

ভুল হইতে পারে না, তাহা ঠিক নয়"।

“নিষ্পাপ হওয়া আম্বিয়া (আঃ)এর জন্য

আবশ্যকীয় নয় এবং এটি একটি সূক্ষ্ম রহস্য যে,

আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছে করে প্রত্যেক

নবী থেকে কোন না কোন সময় তার হেফাজত

উঠিয়ে দিয়ে দু-একটি ভুল-

ত্রুটি হতে দিয়েছেন, যাতে মানুষ

নবীদেরকে খোদা না বুঝে এবং জেনে নেয়

যে, এরা খোদা নন বরং মানুষ।”

“তাফহীমাত”২য় খন্ড ৪৩নংপৃষ্ঠা।

-জামাত-শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা, আবুল

আ'লা মওদুদী।

আমার বক্তব্য---

"মওদুদী মওদুদীই, খোদা নহেন। তাই মওদুদীর

কোন ভুল হইতে পারে না, তাহা ঠিক নয়"।

“এবং এটি একটি সূক্ষ্ম রহস্য যে,

আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছে করেই তোমার মত

মওদুদীর উপর থেকে কোন না কোন সময় তার

হেফাজত উঠিয়ে দিয়ে দু-একটি ভুল-

ত্রুটি হতে দিয়েছেন, যাতে করে জামাত-

শিবিরের

লোকেরা তোমাকে খোদা না বুঝে এবং

জেনে নেয় যে, মওদুদী খোদা নন

বরং মানুষ।”

আর মওদুদী যে, ভুল করেছে এবং নিষ্পাপ না,

উপরোল্লেখা মওদুদীর দুটি বাণীই তার

সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

এখন আসুন মূল কথায় চলে যাই-

প্রথম কথা হলো-

মওদুদী এইটা কোথায় পেলো যে, ভূল

না হলেই মানুষ নবীদেরকে খোদা ভাবা শুরু

করবে ?

যদি তাই হত, তাহলে তো সর্ব প্রথম

ফেরেস্তাদেরকে খোদা ভাবার কথা ছিল ?

কারণ তাদের থেকে ভুল হয় না।

কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ

তাদেরকে খোদা ভাবে নি কেন ?

মূলত, ভুল না হলেই

যে মানুষে খোদা ভাবা শুরু

করবে এটা গাজাখোরী কথা ছাড়া আর

কিছুই না।

দ্বিতীয় কথা হলো-

যদি এটা মেনে নেওয়া হয় যে, "আল্লাহ

তায়ালা ইচ্ছে করে প্রত্যেক

নবী থেকে কোন না কোন সময় তার হেফাজত

উঠিয়ে দিয়ে দু-একটি ভুল-

ত্রুটি হতে দিয়েছেন"

তাহলে শরীয়তের বিধিবিধানগুলো যেমন-

নামায, রোজা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি কোন

কিছুই অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হবে না।

এবং প্রত্যেকটি বিধানের ক্ষেত্রেই এই

সন্দেহ থেকে যাবে যে, হয়ত ঐ সময় নিষ্পাপ

হওয়ার বিষয়টি উত্তোলিত হয়ে পড়েছিল।

এখন আসুন দেখি নবীগণ নিষ্পাপ হওয়ার

ব্যাপারে কুরআন কি বলে।

ইমাম রাজী (রহ.)

তাফসীরে কাবীরে সূরায়ে বাকারার

৩৬নং আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেন

যে-

নবীগণ নিষ্পাপ হওয়ার ব্যাপারে কিছু

মতানৈক্য রয়েছে। আর এই মতানৈক্যটা চার

প্রকারে বিভক্ত।

এক. আকীদার সাথে সম্পৃক্ত হবে।

দুই. তাবলীগের সাথে সম্পৃক্ত হবে।

তিন. আহকাম ও ফতোয়ার সাথে সম্পৃক্ত

হবে।

চার. দৈনন্দিন কাজ ও চরিত্রের

সাথে সম্পৃক্ত হবে।

প্রথম প্রকার-

যদি আকীদার সাথে সম্পৃক্ত কোন গোনাহ

হয়, তাহলে তা কুফূরী ও পথভ্রষ্টতা।

আর এটা অধিকাংশ ইমামদের নিকট অসম্ভব।

(অর্থাত্ এ ধরণের কোন গোনাহ নবীদের

থেকে হয়নি এবং হওয়া সম্ভবও না)

তবে খারেজীদের একটি দল

যাদেরকে ফুজায়লা বলা হয়,

তারা বলে নবীদের থেকে গোনাহ

হওয়া সম্ভব। আর এই দলের নিকট গোনাহ

মানেই হলো, কুফূরী ও শিরিকি। অর্থাত্ এই

দলের ভাষ্য হলো নবীদের থেকে কুফূরী ও

শিরিকি গোনাহ হওয়া সম্ভব।

আর খারেজীদের আরেকটি দল,

যাদেরকে ইমামিয়া বলা হয়,

তারা বলে তাকিয়ার পদ্ধতিতে নবীদের

থেকে কুফূরী প্রকাশ পাওয়া সম্ভব।

(তাকিয়া = মিথ্যা কথা বলে কোন

ভালো কাজ করা বা ধোকা দেওয়া)

দ্বিতীয় প্রকার-

তাবলীগের সাথে সম্পৃক্ত কোন গোনাহ

হওয়া। সমস্ত উম্মত এ ব্যাপারে একমত যে,

মিথ্যা কথা বলা এবং দ্বীনি বিষয়গুলোতে

পরিবর্ত ও পরিবর্ধন থেকে নবীগণ

সম্পূর্ণরুপে পবিত্র।

এবং নবীদের থেকে এই ধরণের গোনাহ

ইচ্ছাকৃত ভাবে হোক বা অনিচ্ছাকৃত

ভাবে হোক, কোন অবস্থা হওয়া সম্ভব নয়।

আর যারা বলে অনিচ্ছাকৃত ভাবে বা ভুল

ক্রমে এ ধরণের গোনাহ হওয়া সম্ভব,

তারা যুক্তি দিয়ে থাকে যে,

কেননা তা থেকে বেচে থাকা অসম্ভব।

তৃতীয় প্রকার-

যা ফতোয়ার সাথে সম্পৃক্ত। এ

ব্যাপারে সকলেই একমত যে, এ ধরণের কোন

গোনাহ নবীদের থেকে ইচ্ছাকৃত

ভাবে হওয়া সম্ভব নয়। আর

কতকে ভুলক্রমে হওয়াটাকে সম্ভব বলেছেন,

তবে অন্যরা তা অস্বিকার করেছেন।

চতুর্থ প্রকার-

যে সকল ভুল দৈনন্দিন কাজের

সাথে সম্পৃক্ত। এ ব্যাপারে মতানৈক্য

রয়েছে-

১. ﺔﻳﻮﺸﺣ হাশওয়িয়ারা বলে, নবীদের

থেকে ইচ্ছাকৃত ভাবে কবিরা গোনাহ

হওয়া সম্ভব।

২. অধিকাংশ মু'তাযিলারা বলে,

কবিরা গোনাহ হওয়া সম্ভব নয়, তবে ইচ্ছাকৃত

ভাবে ছগিরা গোনাহ হওয়া সম্ভব। কিন্তু

যেগুলো অপছন্দ করা হয়, যেমন- মিথ্যা কথা,

কার্পণ্য করা ইত্যাদি হওয়া সম্ভব নয়।

৩. জাব্বায়িরা বলে, নবীদের

থেকে ছগিরা বা কবিরা কোন গোনাহই

ইচ্ছাকৃত ভাবে হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু (কোন

বিষয়ে) ব্যাখ্যাগত ভাবে ভুল হতে পারে।

৪. নবীদের থেকে কোন গোনাহ হওয়া সম্ভব

নয়, কিন্তু ভুলক্রমে হওয়া সম্ভব। অবশ্য এ

ক্ষেত্রে তাঁদেরকে সাথে সাথেই পাকড়াও

করা হয়। কেননা উম্মতের মধ্যে তাঁদের

মর্যাদা সব চেয়ে বেশী এবং অন্যদের

তুলনায় তাঁদের স্বরণ শক্তিও অনেক।

৫. নবীদের থেকে ছোট বড় কোন ধরণের কোন

গোনাহ হওয়া সম্ভব না। চাই তা ইচ্ছাকৃত

ভাবে হোক, বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক।

এবং ব্যাখ্যাগত ভাবে ও ভুলক্রমে হওয়াও

সম্ভব নয়। আর এ মতটি হলো রাফযিদের।

এবং গোনাহের সময় নিয়েও

তিনটি বর্ণনা রয়েছে-

১. রাফেযিরা বলে, নবীগণ জন্মের পর

থেকে গোনাহ থেকে পূত পবিত্র।

২. অধিকাংশ মু'তাযেলাদের নিকট নবীগণ

বালেগ হওয়ার পর থেকে নিষ্পাপ।

এবং নবুওয়াতের পূর্বে নবীদের

থেকে কূফুরী ও কবিরা গোনাহ হওয়া সম্ভব

নয়।

৩. নবুওয়াতের পরে কোন গোনাহ হওয়া সম্ভব

নয়, অবশ্য নবুওয়াতের পূর্বে হওয়া সম্ভব। আর

এ মতটি আমাদের কিছু উলামায়ে কেরাম ও

মু'তাযেলাদের মধ্য থেকে আবু হুযাইল ও আবু

আলীর মত।

আর আমাদের নিকট সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত

হলো-

নবুওয়াতি অবস্থা নবীদের থেকে ছোট বড়

কোন গোনাহই হওয়া সম্ভব নয়। তার কারণ

হলো--

১. যদি নবীদের থেকে কোন গোনাহ প্রকাশ

পায়, তাহলে তাঁদের মর্যাদা সাধারণ

উম্মতের মর্যাদার চেয়েও নিচে চলে যাবে।

অথচ এটা অসম্ভব। কেননা নবীদের সম্মান ও

মর্যাদা অনেক উর্ধে। আর অধিক সম্মানিত

ব্যক্তিদের থেকে কোন গোনাহর কাজ

প্রকাশ পেলে তা একদম নিকৃষ্টতম কাজ

বলে গণ্য হয়। (যার ফলে শাস্তিও দ্বিগুণ হয়)

যেমন আল্লাহ তা'য়ালার বাণী-

{ ْﻒَﻋﺎَﻀُﻳ ٍﺔَﻨّﻴَﺒُّﻣ ﺔﺸﺣﺎﻔﺑ َّﻦُﻜﻨِﻣ ِﺕْﺄَﻳ ﻦَﻣ ﻰﺒﻨﻟﺍ ﺀﺎﺴﻧﺎﻳ

{ ِﻦْﻴَﻔْﻌِﺿ ﺏﺍﺬﻌﻟﺍ ﺎَﻬَﻟ ] 30 : ﺏﺍﺰﺣﻷﺍ ]

হে নবী পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ

প্রকাশ্য অশ্লীল কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ

শাস্তি দেওয়া হবে।

যিনাকারীদের মধ্য

থেকে বিবাহিতদেরকে রজম অর্থাত্ পাথর

মেরে হত্যা করা হয় আর অবিবাহিতদের হদ

অর্থাত্ একশত বেত্রাঘাত করা হয়।

এবং আযাদ বা স্বাধীন ব্যক্তিদের তুলনায়

গোলামদের হদ অর্ধেক।

আর এ ব্যাপারে ইজমা প্রতিষ্ঠিত

হয়েছে যে, নবীদের সম্মান ও

মর্যাদা উম্মতের মর্যাদার চেয়ে কম

হওয়া অসম্ভব।

২. নবীদের থেকে যদি কোন গোনাহ সংগঠিত

হয়, তাহলে তাদের সাক্ষি গ্রহণযোগ্য

না হওয়াটা আবশ্যক হবে।

(গোনাহগার ব্যক্তি ফাসেক)

কেননা আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বলেছেন-

{ { ْﺍﻮُﻨَّﻴَﺒَﺘَﻓ ٍﺈَﺒَﻨِﺑ ُﻖِﺳﺎَﻓ ْﻢُﻛﺀﺎَﺟ ﻥِﺇ ] 6 : ﺕﺍﺮﺠﺤﻟﺍ ]

যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের

কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে,

তবে তোমরা তা পরিক্ষা করে দেখবে।

অথচ নবীদের সাক্ষী গ্রহণযোগ্য।

(এর দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে,

তারা নিষ্পাপ ছিলেন। যদি নিষ্পাপ

না থাকতেন তাহলে তাদের সাক্ষীও

গ্রহণযোগ্য হত না)

অন্যথায় তাদের মর্যাদা ও সম্মান

ন্যায়পরায়ণ বান্দাদের মর্যাদার চেয়েও কম

হবে।

আর এটা আমরা কিভাবে বলবোনা যে,

নবুওয়াতীর উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহর

ব্যাপারে এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, তিনি এ সকল

বিধি-বিধান প্রণয়ন করেছেন।

আর কেয়ামতের দিন সকলের সাক্ষী হবেন।

কেননা আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বলেছেন-

{ ْﻢُﻜْﻴَﻠَﻋ ﻝﻮﺳﺮﻟﺍ َﻥﻮُﻜَﻳَﻭ ﺱﺎﻨﻟﺍ ﻰَﻠَﻋ ﺀﺍَﺪَﻬُﺷ ْﺍﻮُﻧﻮُﻜَﺘّﻟ

{ ﺍًﺪﻴِﻬَﺷ ] 143 : ﺓﺮﻘﺒﻟﺍ ]

যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও

মানবমণ্ডলীর জন্য এবং যাতে রাসূল

সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য।

(এর দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে,

তাঁরা নিষ্পাপ ছিলেন। যদি নিষ্পাপ

না থাকতেন তাহলে তাদের সাক্ষীও

গ্রহণযোগ্য হত না। কেননা ফাসেকের

সাক্ষী গ্রহণযোগ্য হয় না।)

৩. কবিরা গোনাহের প্রতি ধাবিত

হলে ধমকির উপযুক্ত হওয়াটা আবশ্যক হয়। আর

এমন অবস্থায়

তাঁদেরকে শাস্তি দেওয়া হারাম হবে না।

অথচ নবীদেরকে কষ্ট দেওয়া হারাম।

কেননা আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বলেছেন-

{ ﻰِﻓ ﻪﻠﻟﺍ ُﻢُﻬَﻨَﻌَﻟ ُﻪَﻟﻮُﺳَﺭَﻭ ﻪﻠﻟﺍ َﻥﻭُﺫْﺆُﻳ ﻦﻳﺬﻟﺍ َّﻥِﺇ

{ ﺓﺮﺧﻷﺍﻭ ﺎﻴﻧﺪﻟﺍ ] 57 : ﺏﺍﺰﺣﻷﺍ ]

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়,

আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও

পরকালে অভিসম্পাত করেন।

৪. রাসূল (সা.) যদি গোনাহ করতেন,

তাহলে এই গোনাহের কাজের ক্ষেত্রেও

রাসূলের অনুসরণ করা আমাদের উপর ওয়াজিব

হয়ে যেত। কেননা আল্লাহ

তা'য়ালা কুরআনে বলেছেন-

{ { ﻰﻧﻮﻌﺒﺗﺎﻓ ] 31 : ﻥﺍﺮﻤﻋ ﻝﺁ ]

বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস,

আমাকে অনুসরণ কর।

আর এমন অবস্থায় হারাম ও ওয়াজিব

উভয়টাকে একত্রকরণ আবশ্যক হয়। অথচ

এটা অসম্ভব।

আর এ সকল বিষয়গুলো যখন রাসূল (সা.)-এর

জন্য সাব্যস্ত হলো, ফলে অন্যান্য নবীদের

জন্যও তা সাব্যস্ত হবে। কেননা নবীদের

মধ্যে কেউ পার্থক্য করেন নি।

৫. আর বিবেক দ্বারাও আমরা এটাই

জানতে পারলাম যে, নবীদের থেকে কোন

গোনাহের কাজ প্রকাশ পাওয়ার মত

নিকৃষ্টতম অন্য কিছু হতে পারে না।

কেননা আল্লাহ তা'য়ালা তাঁদেরকে ওহীর

জন্য মনোনিত করেছেন

এবং তাঁদেরকে বান্দাদের জন্য ও রাষ্ট্রের

জন্য প্রতিনিধি বানিয়েছেন। তাঁরা প্রভুর

আহ্বান শুনে থাকে যে,

তোমরা এমনটি করিয়ো না।

এতদ্বাসত্বেও কিভাবে তাঁরা আল্লাহর হুকুম

এবং ধমকিকে অপেক্ষা করে নিজেদের

মনোপ্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দিবে ?

৬. যদি নবীদের থেকে গোনাহ প্রকাশ পায়,

তাহলে তাঁরা শাস্তির উপযুক্ত হবে।

কেননা আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বলেছেন-

{ ﻦﻳﺪﻟﺎﺧ َﻢَّﻨَﻬَﺟ َﺭﺎَﻧ ُﻪَﻟ َّﻥِﺈَﻓ ُﻪَﻟﻮُﺳَﺭَﻭ ﻪﻠﻟﺍ ِﺺْﻌَﻳ ﻦَﻣَﻭ

{ ﺎَﻬﻴِﻓ ] 23 : ﻦﺠﻟﺍ ]

যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে,

তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি।

তথায় তারা চিরকাল থাকবে।

এবং লা'নত এরও উপযুক্ত হবে।

কেননা আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বলেছেন-

{ { ﻦﻴﻤﻟﺎﻈﻟﺍ ﻰَﻠَﻋ ﻪﻠﻟﺍ ُﺔَﻨْﻌَﻟ َﻻَﺃ ] 18 : ﺩﻮﻫ ]

শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর

অভিসম্পাত রয়েছে।

অথচ সকল উম্মত এ ব্যাপারে একমত যে, নবীগণ

শাস্তি ও অভিসম্পাতের উপযুক্ত নন।

সুতরাং এ থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে,

নবীদের থেকে কোন গোনাহ প্রকাশ

পায়নি।

৭. নবীগণ লোকদেরকে আল্লাহর অনুগত্য

করার আদেশ দিয়ে থাকেন। এখন তাঁরাই

যদি আল্লাহর অনুগত্য না করেন,

তাহলে আল্লাহর এই আয়াতের লক্ষ্য

বস্তুতে পরিণত হবেন। কেননা আল্লাহ

তা'য়ালা কুরআনে বলেছেন-

: { ْﻢُﺘﻧَﺃَﻭ ْﻢُﻜَﺴُﻔﻧَﺃ َﻥْﻮَﺴﻨَﺗَﻭ ﺮﺒﻟﺎﺑ ﺱﺎﻨﻟﺍ َﻥﻭُﺮُﻣْﺄَﺗَﺃ

{ َﻥﻮُﻠِﻘْﻌَﺗ َﻼَﻓَﺃ ﺏﺎﺘﻜﻟﺍ َﻥﻮُﻠْﺘَﺗ ] 44 : ﺓﺮﻘﺒﻟﺍ ]

তোমরা কি মানুষকে সত্কর্মের নির্দেশ দাও

এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভুলে যাও, অথচ

তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও

কি তোমরা চিন্তা কর না?

এবং আল্লাহ

তা'য়ালা কুরআনে আরো বলেছেন-

: { { ُﻪْﻨَﻋ ﻢﻛﺎﻬﻧﺃ ﺎَﻣ ﻰﻟﺇ ْﻢُﻜَﻔِﻟﺎَﺧُﺃ ْﻥَﺃ ُﺪﻳِﺭُﺃ ﺎَﻣَﻭ

] 88 : ﺩﻮﻫ ]

আর আমি চাই না যে-

তোমাদেরকে যা ছাড়াতে চাই পরে নিজেই

সে কাজে লিপ্ত হব।

উম্মতের সাধারণ একজন বক্তার জন্যই

যেখানে এটা অনুউপযুক্ত (অর্থাত্

মানুষকে কোন কাজের উপদেশ দেওয়া কিন্তু

নিজেই তা পালন না করা)

সেখানে নবীদের ক্ষেত্র

তা কিভাবে তা সম্ভব হতে পারে?

৮. আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বলেছেন-

{ { ﺕﺍﺮﻴﺨﻟﺍ ﻰِﻓ َﻥﻮُﻋِﺭﺎَﺴُﻳ ْﺍﻮُﻧﺎَﻛ ْﻢُﻬَّﻧِﺇ ] : ﺀﺎﻴﺒﻧﻷﺍ

90]

তারা সত্কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত।

এখানে "আল খায়রাত" শব্দটা উমুম

বা ব্যাপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এখানে প্রত্যেক ভালো কাজ

যা করা জরুরী এবং প্রত্যেক মন্দ কাজ

যা থেকে বেচে থাকা জরুরী সবগুলোই

অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নবীগণ

প্রত্যেক ঐ কাজ যেগুলো পালন

করা জরুরী সেগুলো পালন করতেন

এবং যে গুলো থেকে বিরত

থাকা জরুরী সেগুলো থেকে বিরত থাকতেন।

আর তা নবীদের থেকে গোনাহ

হওয়াকে নিষেধ করে।

৯. আল্লাহ তা'য়ালা কুরআনে বলেছেন-

{ { ﺭﺎﻴﺧﻷﺍ ﻦﻴﻔﻄﺼﻤﻟﺍ َﻦِﻤَﻟ ﺎَﻧَﺪﻨِﻋ ْﻢُﻬَّﻧِﺇَﻭ ] 47 : ﺹ ]

আর তারা আমার কাছে মনোনীত ও

সত্লোকদের অন্তর্ভুক্ত।

এখানে ভালো মন্দ প্রত্যেকটি কাজকেই

শামিল করা হয়েছে।

(অর্থাত্ ভালো কাজগুলো করে থাকেন আর

খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকেন)

যেমন নাকি যদি কেউ বলে অমুকে সত্

লোকদের অন্তর্ভুক্ত কিন্তু তার অমুক

কাজটি।

এখানে "কিন্তু" ব্যবহারের কারণে ঐ

ব্যক্তিটি আর সত্ লোকদের অন্তর্ভুক্ত

থাকে না।

আর যেহেতু আল্লাহ

তা'য়ালা নবীদেরকে সত্ লোকদের

মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, এর

দ্বারা বুঝে আসে যে তাদের থেকে কোন

খারাপ কাজ বা গোনাহ হয় না। যদি হত

তাহলে তারা সত্ লোকদের অন্তর্ভুক্ত

থাকতে পারতো না।

আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন-

{ { ﺱﺎﻨﻟﺍ َﻦِﻣَﻭ ًﻼُﺳُﺭ ﺔﻜﺋﻼﻤﻟﺍ َﻦِﻣ ﻰِﻔَﻄْﺼَﻳ ﻪﻠﻟﺍ ] : ﺞﺤﻟﺍ

75 ]

আল্লাহ ফেরেস্তা ও মানুষদের মধ্য

থেকে রসূল মনোনিত করেন।

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন-

{ َﻝﺍﺀَﻭ ﻢﻴﻫﺍﺮﺑﺇ َﻝﺍﺀَﻭ ﺎًﺣﻮُﻧَﻭ َﻡَﺩﺁ ﻰﻔﻄﺻﺍ ﻪﻠﻟﺍ َّﻥِﺇ

{ ﻦﻴﻤﻟﺎﻌﻟﺍ ﻰَﻠَﻋ ﻥﺍﺮﻤﻋ ] 33 : ﻥﺍﺮﻤﻋ ﻝﺁ ]

নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'য়ালা আদম (আঃ),

নূহ্ (আঃ), ও ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধর

এবং ইমরানের খান্দানকে নির্বাচিত

করেছেন।

এবং ইব্রাহীম (আঃ) এর ব্যাপারে বলেন-

{ { ﺎﻴﻧﺪﻟﺍ ﻲِﻓ ﻩﺎﻨﻴﻔﻄﺻﺍ ِﺪَﻘَﻟَﻭ ] 130 : ﺓﺮﻘﺒﻟﺍ ]

নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনিত

করেছি।

এবং মুসা (আঃ)-এর ব্যাপারে বলেন-

: { { ﻲﻣﻼﻜﺑﻭ ﻲﺗﻻﺎﺳﺮﺑ ﺱﺎﻨﻟﺍ ﻰَﻠَﻋ ﻚﺘﻴﻔﻄﺻﺍ ﻰْﻧِﺇ

] 144 : ﻑﺍﺮﻋﻷﺍ ]

আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর

এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর

বিশিষ্টতা দান করেছি।

আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন-

{ ﻰِﻟْﻭُﺃ َﺏﻮُﻘْﻌَﻳَﻭ ﻕﺎﺤﺳﺇﻭ ﻢﻴﻫﺍﺮﺑﺇ ﺎَﻧَﺩﺎَﺒِﻋ ﺮﻛﺫﺍﻭ

ﺭﺍﺪﻟﺍ ﻯَﺮْﻛِﺫ ٍﺔَﺼِﻟﺎَﺨِﺑ ﻢﻫﺎﻨﺼﻠﺧﺃ ﺎَّﻧِﺇ ﺭﺎﺼﺑﻷﺍﻭ ﻯﺪﻳﻷﺍ

{ ﺭﺎﻴﺧﻻﺍ ﻦﻴﻔﻄﺼﻤﻟﺍ َﻦِﻤَﻟ ﺎَﻧَﺪﻨِﻋ ْﻢُﻬَّﻧِﺇَﻭ ] 47 45 : ﺹ ]

স্মরণ করুন, হাত ও চোখের অধিকারী আমার

বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক, ও ইয়াকুবের কথা।

আমি তাদের এক বিশেষ গুণ তথা পরকালের

স্মরণ দ্বারা স্বাতন্ত্র্য দান করেছিলাম।

আর তারা আমার কাছে মনোনিত ও সত্

লোকদের অন্তর্ভুক্ত।

এ সকল আয়াত দ্বারা এটাই বুঝে আসে যে,

তারা সকলেই "মনোনিত" ও "সত্"

গুণে গুণান্বিত ছিলেন। আর ইহাই নবীদের

থেকে গোনাহ প্রকাশ হওয়াকে নিষেধ

করে থাকে।

(কেননা যদি তাদের থেকে গোনাহ হত,

তাহলে মনোনিত ও সত্ লোকদের অন্তর্ভুক্ত

থাকতে পারতো না)

১০. আল্লাহ তা'য়ালা ইবলিশ

সম্পর্কে বর্ণনা করেন-

: { ُﻢُﻬْﻨِﻣ َﻙَﺩﺎَﺒِﻋ َّﻻِﺇ َﻦﻴِﻌَﻤْﺟَﺃ ْﻢُﻬَّﻨَﻳِﻮْﻏَﻻ َﻚِﺗَّﺰِﻌِﺒَﻓ

{ ﻦﻴﺼﻠﺨﻤﻟﺍ ] 83 82 : ﺹ ]

সে বলল, আপনার ইযযতের কসম, আমি অবশ্যই

তাদের সবাইকে বিপথগামী করে দেব।

তবে তাদের মধ্যে যারা আপনার

খাঁটি বান্দা, তাদেরকে ছাড়া।

এখানে মুখলিসীন তথা খাঁটি বান্দাদের

ইসতেসনা করা হয়েছে অর্থাত্

খাঁটি বান্দাদেরকে শয়তান

বিপথগামী করতে পারবে না। আর

তারা হলো নবীগণ (আঃ)।

এবং আল্লাহ তা'য়ালা ইবরাহীম, ইসহাক ও

ইয়াকুব (আঃ)-এর গুণাবলী সম্পর্কে বলেন-

{ { ﺭﺍﺪﻟﺍ ﻯَﺮْﻛِﺫ ٍﺔَﺼِﻟﺎَﺨِﺑ ﻢﻫﺎﻨﺼﻠﺧﺃ ﺎَّﻧِﺇ ] 46 : ﺹ ]

আমি তাদেরক এক বিশেষ গুণ তথা পরকালের

স্মরণ দ্বারা স্বাতন্ত্র্য দান করেছিলাম।

এবং ইউসূফ (আঃ)-এর সম্পর্কে বলেন-

{ { ﻦﻴﺼﻠﺨﻤﻟﺍ ﺎَﻧِﺩﺎَﺒِﻋ ْﻦِﻣ ُﻪَّﻧِﺇ ] 24 : ﻒﺳﻮﻳ ]

নিশ্চয় সে আমার মনোনিত বান্দাদের

একজন।

সুতরাং যখন কতক নবীদের জন্য নিষ্পাপ

হওয়াটা সাব্যস্ত হলো, ফলে অন্যদের জন্যও

তা সাব্যস্ত হবে। কেননা নবীদের মধ্য কেউ

পার্থক্য করেন নি।

১১. আল্লাহ তা'য়ালা বলেন-

{ َﻦّﻣ ًﺎﻘﻳِﺮَﻓ َّﻻِﺇ ﻩﻮﻌﺒﺗﺎﻓ ُﻪَّﻨَﻇ ُﺲﻴِﻠْﺑِﺇ ْﻢِﻬْﻴَﻠَﻋ َﻕَّﺪَﺻ ْﺪَﻘَﻟَﻭ

{ ﻦﻴﻨﻣﺆﻤﻟﺍ ] 20 : ﺄﺒﺳ ]

আর তাদের উপর ইবলীস তার অনুমান সত্য

হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। ফলে তাদের মধ্য

মুমিনদের একটি দল ব্যতীত সকলেই তার পথ

অনুসরণ করল।

যারা শয়তানের অনুসরণ করেনি তাদের

ক্ষেত্রে এটাই বলা হবে যে, তাদের

থেকে গোনাহ সংগঠিত হয়নি। অন্যথায়

তারা শয়তানের অনুসারিই হত।

আর যখন এটা সাব্যস্ত হলো যে, ঐ

দলটি থেকে গোনাহ হয়নি, ফলে ঐ

দলটি হয়তো নবীরা হবে অথবা নবী ব্যতিত

অন্যরা হবে।

যদি নবীদের দল

হয়ে থাকে তাহলে তো এটাই প্রমাণিত

হলো যে, তাদের থেকে কোন গোনাহ হয়নি।

আর যদি ঐ দলটি গায়রে নবী হয়,

তাহলে নবীগণ গোনাহগার সাব্যস্ত হবেন

এবং তাঁদের মর্যাদা আল্লাহর নিকট

গায়রে নবীদের চেয়েও কম হয়ে যাবে। এমন

অবস্থায় গায়রে নবী অর্থাত্

যারা নবী না তারা নবীদের চেয়ে উত্তম

হয়ে যাবে।

অথচ সর্বসম্মতিক্রমে তা বাতিল। অর্থাত্

নবীরাই উত্তম।

ফলে এটাই প্রমাণিত হলো যে, নবীদের

থেকে গোনাহ হয়নি।

১২. আল্লাহ তা'য়ালা সৃষ্ট

জীবকে দু'প্রকারে বিভক্ত করেছেন।

প্রথম প্রকার-

{ ُﻢُﻫ ﻥﺎﻄﻴﺸﻟﺍ َﺏْﺰِﺣ َّﻥِﺇ َﻻَﺃ ﻥﺎﻄﻴﺸﻟﺍ ُﺏْﺰِﺣ َﻚِﺌَﻟْﻭُﺃ

{ ﻥﻭﺮﺳﺎﺨﻟﺍ ] 19 : ﺔﻟﺩﺎﺠﻤﻟﺍ ]

তারা শয়তানের দল। সাবধান, শয়তানের

দলই ক্ষতিগ্রস্ত।

দ্বিতীয় প্রকার-

{ { ﻥﻮﺤﻠﻔﻤﻟﺍ ُﻢُﻫ ﻪﻠﻟﺍ َﺏْﺰِﺣ َّﻥِﺇ َﻻَﺃ ﻪﻠﻟﺍ ُﺏْﺰِﺣ ﻚﺌﻟﻭﺃ

] 22 : ﺔﻟﺩﺎﺠﻤﻟﺍ ]

তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর

দলই সফলকাম হবে।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, শয়তানের দল

তারাই, যারা শয়তানকে সন্তুষ্ট করে। আর

শয়তানকে যা সন্তুষ্ট করে তা হলো গোনাহ।

সুতরাং আল্লাহর নাফরমান প্রত্যেক

ব্যক্তিই শয়তানের দলের লোক।

ফলে যদি রাসূলদের থেকে গোনাহ সংগঠিত

হয়, তাহলে তারা শয়তানের দলের লোক

হিসেবে গণ্য হবেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের

অন্তর্ভুক্ত হবেন।

আর দরবেশদের ব্যাপারে এটা প্রমাণিত যে,

তারা আল্লাহর দলের লোক এবং সফলকাম

ব্যক্তিদের মধ্য থেকে।

ফলে এমন অবস্থায় উম্মতের দরবেশদের

মর্যাদা আল্লাহর নিকট নবীদের চেয়েও

বেশী হয়ে যাবে। অথচ এটা কোন মুসলমানই

বলে না যে, দরবেশদের মর্যাদা রাসূলদের

চেয়ে বেশী।

১৩. রাসূলগণ ফেরেস্তাদের থেকে উত্তম।

ফলে রাসূলদের থেকে গোনাহ

না পাওয়া আবশ্যক হবে।

আর রাসূলগণ উত্তম আল্লাহর কালামের

দ্বারা-

{ َﻝﺍﺀَﻭ ﻢﻴﻫﺍﺮﺑﺇ َﻝﺍﺀَﻭ ﺎًﺣﻮُﻧَﻭ َﻡَﺩﺁ ﻰﻔﻄﺻﺍ ﻪﻠﻟﺍ َّﻥِﺇ

{ ﻦﻴﻤﻟﺎﻌﻟﺍ ﻰَﻠَﻋ ﻥﺍﺮﻤﻋ ] 33 : ﻥﺍﺮﻤﻋ ﻝﺁ ]

নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ আদম (আঃ), নূহ (আঃ),

ও ইবরাহীম (আঃ)-এর বংশধর এবং ইমরানের

খান্দানকে নির্বাচিত করেছেন।

এবং নবীদের থেকে গোনাহ

না হওয়াটা আবশ্যক, কেননা আল্লাহ

তা'য়ালা ফেরেস্তাদের গুণ বর্ণনা করেছেন

যে, তারা গোনাহ মুক্ত।

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন-

: { { ﻝﻮﻘﻟﺎﺑ ُﻪَﻧﻮُﻘِﺒْﺴَﻳﻻ ] 27 : ﺀﺎﻴﺒﻧﻷﺍ ]

তারা আগে বেড়ে কথা বলতে পারে না।

আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন-

: { { َﻥﻭُﺮَﻣْﺆُﻳ ﺎَﻣ َﻥﻮُﻠَﻌْﻔَﻳَﻭ ْﻢُﻫَﺮَﻣَﺃ ﺎَﻣ ﻪﻠﻟﺍ َﻥﻮُﺼْﻌَﻳ َﻻ

] 6 : ﻢﻳﺮﺤﺘﻟﺍ ]

তারা আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা অমান্য

করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই

করে।

সুতরাং যদি রাসূলদের থেকে গোনাহ

প্রকাশ পায়, তাহলে ফেরেস্তাদের

থেকে উত্তম হওয়াটা বাধা হয়ে দাড়াবে।

কেননা আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন-

{ ﺕﺎﺤﻟﺎﺼﻟﺍ ْﺍﻮُﻠِﻤَﻋَﻭ ْﺍﻮُﻨَﻣﺍﺀ ﻦﻳﺬﻟﺍ ُﻞَﻌْﺠَﻧ ْﻡَﺃ

{ ﺭﺎﺠﻔﻟﺎﻛ ﻦﻴﻘﺘﻤﻟﺍ ُﻞَﻌْﺠَﻧ ْﻡَﺃ ﺽﺭﻷﺍ ﻰِﻓ ﻦﻳﺪﺴﻔﻤﻟﺎﻛ

] 28 : ﺹ ]

আমি কি বিশ্বাসী ও

সত্কর্মীদেরকে পৃথিবীতে বিপর্যয়

সৃষ্টিকারী কাফেরের সমতুল্য করে দেব ?

না খোদাভীরুদেরকে পাপাচারীদের সমান

করে দেব।

১৪. বর্ণিত আছে যে, খুজাইমা ইবনে সাবেত

(রা.) রাসূল (সা.)-এর দাবীর

ব্যাপারে সাক্ষী দিলেন। অতঃপর রাসূল

(সা.) বললেন, তুমি কিভাবে আমার জন্য

সাক্ষী দিলে ?

খুজাইমা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ

আমি আপনাকে সাত আসমান

থেকে ওহী নাযিল হওয়ার

ব্যাপারে সত্যায়ণ করতে পারি, তাহলে এই

সাধারণ বিষয়ে কেন সত্যায়ণ

করতে পারবো না।

অতঃপর রাসূল তাকে সত্যায়ণ করলেন

এবং জুশ শাহাদাতাইন বলে নামকরণ

করলেন। আর যদি নবীদের থেকে গোনাহ

হওয়ার সম্ভাবনা থাকত, তাহলে এই

সাক্ষ্যটা গ্রহণযোগ্য হত না।

১৫. আল্লাহ তা'য়ালা ইবরাহীম (আঃ)-এর

ব্যাপারে বলেন-

{ { ﺎًﻣﺎَﻣِﺇ ِﺱﺎَّﻨﻠِﻟ ﻚﻠﻋﺎﺟ ﻰّﻧِﺇ ] 124 : ﺓﺮﻘﺒﻟﺍ ]

আমি তোমাকে মানবজাতির ইমাম

বা নেতা করব।

ইমাম বলা হয়, যার অনুসরণ করা হয়।

মানুষদের জন্য ইমামের অনুসরণ করা আবশ্য

হয়ে যায়।

সুতরাং যদি ইমামদের থেকে গোনাহ প্রকাশ

পায়, তাহলে মানুষদের জন্য ঐ গোনাহের

অনুসরণ করা আবশ্যক হয়ে দাড়াবে। অথচ

তা বৈপরিত্যের দিকে নিয়ে যায়।

১৬. আল্লাহ তা'য়ালা বলেন-

: { { ﻦﻴﻤﻟﺎﻈﻟﺍ ﻱِﺪْﻬَﻋ ُﻝﺎَﻨَﻳ َﻻ ] 124 : ﺓﺮﻘﺒﻟﺍ ]

আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত

পৌছাবে না।

এখানে অঙ্গীকার দ্বারা হয়ত নবুওয়াত

উদ্দেশ্য হবে অথবা ইমামত উদ্দেশ্য হবে।

যদি নবুওয়াত উদ্দেশ্য হয়, তাহলে আবশ্যক

হবে যে, অত্যাচারীদের জন্য নবুওয়াত নেই।

আর যদি অঙ্গীকার দ্বারা ইমামত উদ্দেশ্য

হয়, তাহলে অর্থ হবে যে, জালেমদের জন্য

ইমামতি নেই।

আর যখন জালেমদের জন্য ইমামতি সাব্যস্ত

হয় না, তখন জালেমদের জন্য নবুওয়াত

সাব্যস্ত না হওয়াটাও আবশ্য হবে।

কেননা প্রত্যেক নবীদের জন্যই জরুরী যে,

তাঁরা ইমাম হবে এবং তাঁদের অনুসরণ

করা হবে।

আরো জানার জন্য তাফসীরে কাবীর দেখুন৷

মোটকথা-- উপরোল্লেখিত সবগুলো আয়াত

দ্বারা ইহাই প্রমাণিত হয় যে, নবীগণ

গোনাহগার হবেন না।

এবং তাফসীরে মারেফুল কুরআনে বাকারার

৩৬নং আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে যে-

চার ইমাম এবং উম্মতের সম্মিলিত অভিমত

হলো- নবীগণ ছোট-বড় যাবতীয় পাপ

থেকে মুক্ত ও পবিত্র।

তার কারণ হলো, নবী (আ.)-দেরকে গোট

মানব জাতির অনুসরণীয় আদর্শ

হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল। যদি তাদের

দ্বারাও আল্লাহ পাকের ইচ্ছার

পরিপন্থী ছোট-বড় কোন পাপ কাজ সম্পন্ন

হতো, তবে নবীদের বাণী ও কার্যাবলীর

উপর থেকে আস্থা ও বিশ্বাস উঠে যেত

এবং তাঁরা আস্থাভাজনও থাকতেন না। আর

নবীদের উপরই যদি আস্থা ও বিশ্বাস

না থাকে, তবে দ্বীন ও শরীয়তের স্থান

কোথায় হবে একটু চিন্তা করে দেখুন ?

কুরআনে পাকের বহু আয়াতে অনেক নবী (আ.)

সম্পর্কে এ ধরণের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে,

যাতে প্রতিয়মান হয় যে, তাঁদের দ্বারাও

পাপ সংঘটিত হয়েছে এবং আল্লাহ পাকের

পক্ষ থেকে এজন্য তাঁদেরকে সর্তক

করে দেওয়া হয়েছ। হযরত আদম (আ.)-এর

ঘটনাও এ শ্রেণীভুক্ত।

এ ধরণের ঘটনাবলী সম্পর্কে উম্মতের সর্বস্মত

অভিমত এই যে, কোন ভুল

বুঝাবুঝি বা অনিচ্ছাকৃত কারণে নবীদের

দ্বারা এ ধরণের কাজ সংঘটিত হয়ে থাকবে।

কোন নবী জেনেশুনে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে

আল্লাহর হুকুমের পরিপন্থী কোন কাজ করেন

নি। এ ত্রুটি ইজতেহাদগত ও অনিচ্ছাকৃত-

এরং তা ক্ষমাযোগ্য। শরীয়তের পরিভাষায়

একে পাপ বলা যায় না। আর এসকল

অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি এমন কোন বিষয়ে হতেই

পারে না, যার সম্পর্ক শিক্ষা-

দীক্ষা এবং শরীয়তের

সাথে রয়েছে বরং তাদের ব্যক্তিগত

কাজকর্মে এ ধরণের ভুল-ত্রুটি হতে পারে।

কিন্তু যেহেতু আল্লাহ পাকের

দরবারে নবীদের স্থান ও মর্যাদা অত্যন্ত

উচ্চে এবং যেহেতু মহান ব্যক্তিদের

দ্বারা ক্ষুদ্র ত্রুটি-বিচ্যুতি সংঘটিত হলেও

অনেক বড় মনে করা হয়, সেহেতু কুরআন

হাকীমে এ ধরণের ঘটনাবলীকে অপরাধ ও

পাপ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যদিও

প্রকৃতপক্ষে সেগুলো আদৌ পাপ নয়।

মোটকথা-- উপরোক্ত আলোচনা ও কুরআনের

আয়াত দ্বারা এটাই বুঝে আসে যে, নবীগণ

নিষ্পাপ ছিলেন।

এতদ্বাসত্বেও কেউ যদি দলের

কারণে নবীদেরকে নিষ্পাপ

মানতে রাজী না হয়, তাহলে তার

ফায়সালা আল্লাহর কাছেই সোপর্দ

করলাম। আল্লাহই যেন তার

ফায়সালা করেন।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জুন, ২০১৪ রাত ১২:০৭

পংবাড়ী বলেছেন: "
"মওদুদী মওদুদীই, খোদা নহেন। তাই মওদুদীর
কোন ভুল হইতে পারে না, তাহা ঠিক নয়"।

"
মওদুদী ছিল খুনী; এই কুত্তার ফাঁসীর আদেশ হয়েছি ১৯৫৩ সালে।

যা লিখেছেন, সবটাই হাউকাউ; এসব হাউকাউ ভাবনা কেন আসে আপনার মগজে?

২| ১১ ই জুন, ২০১৪ রাত ১২:১৮

শ্লোগান০০৭ বলেছেন: সেনসেটিভ বিষয়.. । যাক সেদিক গেলাম না..। ধর্মিয় সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কথা বলেছেন তাই ধন্যবাদ

৩| ১১ ই জুন, ২০১৪ রাত ১২:২৩

পংবাড়ী বলেছেন: " আমার আগের ব্লগটি ব্লগ হয়ে যাওয়ায় এইটা খুললাম।আপনাদের ভালোভাষায়। "

আপনার আগের ব্লগটা "ব্লগ" হয়ে গেছে?

৪| ১১ ই জুন, ২০১৪ রাত ১২:৪৭

ফারগুসন বলেছেন: যে বিষয় আলোচনা করে বর্তমানে কোন লাভ নেই অথবা নিতান্তই পান্ডিত্য জাহিরি ছাড়া আর কিছুই নয় তার অবতারনা মুর্খামি।
মওদুদী সাহেব যেটা করেছেন আমরা সেটা আর না করি। ধন্যবাদ

৫| ১১ ই জুন, ২০১৪ রাত ১:২৮

শাহরিয়ার নাজমুল বলেছেন: ননবীগণ নিশ্চয় নিষ্পাপ

৬| ১২ ই জুন, ২০১৪ রাত ২:০৩

আহসানের ব্লগ বলেছেন: :O

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.