![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কুরআনের হাকিকত বুঝতে চাইলে আমল আগে জরুরি
কুরআনের হাকিকত বা অভ্যন্তরীণ জ্ঞান লাভ করতে হলে কেবল তেলাওয়াত করলেই হয় না—প্রয়োজন আমল। কুরআন এমন এক কিতাব, যার সত্য উপলব্ধি অন্তর দিয়ে হয়। আর অন্তর জাগ্রত হয় আমলের মাধ্যমে। তাই কুরআন বুঝতে চাইলে আগে তা অনুযায়ী জীবন গঠন করতে হবে। আমল ছাড়া কুরআনের অর্থ সুধু বাহ্যিক স্তরে সীমাবদ্ধ থেকে যায়—আসল গভীরতা কখনো স্পর্শ করে না।
বর্তমান বাস্তবতা: তেলাওয়াত ঠোঁটেই সীমাবদ্ধ
আজকের দিনে আমরা লক্ষ করি—অধিকাংশ কারির তেলাওয়াত সুধু ঠোঁট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। অন্তরে কুরআনের নূর প্রবেশ করে না, প্রভাব পড়ে না চরিত্রে, বদলায় না জীবন। কেন এমন হচ্ছে?
এর পেছনে আছে কিছু গভীর কারণ, যা আমাদের সামগ্রিক মুসলিম সমাজের অবনতিরও মূল কারণ।
---
মুসলিম জগতের পশ্চাদপসরণ: মূল কারণসমূহ
১. মূর্খতা ও জ্ঞানের অভাব
ইসলামী শিক্ষার অনুপস্থিতি, আত্মিক জ্ঞানের ঘাটতি এবং কুরআনের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়াই আমাদের জ্ঞানে-পথে পিছিয়ে দিচ্ছে।
২. খেলাফতি শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতি
মুসলিম উম্মাহর উন্নতির অন্যতম বড় রূট কারণ হলো খেলাফত। এই ব্যবস্থার অনুপস্থিতিই আমাদেরকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আত্মিকভাবে দুর্বল করে ফেলেছে।
---
খেলাফতের গুরুত্ব: একটি গভীর সম্পর্ক
খেলাফত হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা, যেখানে একজন শাসক প্রকৃত অর্থে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী শাসন করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হন। তার কাজ আসলে আল্লাহর কাজেরই প্রতিনিধিত্ব করে। এমন শাসকই প্রকৃত বাদশাহ।
যেখানে এমন একজন খলিফা নেই, সেখানে আসলে প্রকৃত শাসন নেই। আজকের বিশ্ব বাস্তবতাও তাই—একটি শাসকবিহীন, দিকহীন উম্মাহর করুণ চিত্র।
প্রশ্ন: তাহলে কি বর্তমান বিশ্ব খলিফা-বিহীন চলছে?
উত্তর: হ্যাঁ, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তাই। আল্লাহর খলিফারা পৃথিবীতে আজও আছেন, কিন্তু তারা বাহ্যিক শাসনক্ষমতায় নেই। এমন অনেক যোগ্য ব্যক্তি এখনো জীবিত, যারা খেলাফত ধারণ করার উপযুক্ত, কিন্তু হয়ত এই যুগের মানুষ সেই খেলাফতের উপযুক্ত নয়, তাই তারা দায়িত্ব গ্রহণে অনিচ্ছুক।
---
কুরআনের অন্তর্নিহিত জ্ঞান ও খেলাফতের সম্পর্ক
কুরআনের দুই স্তরের ব্যাখ্যা আছে: বাহ্যিক এবং অন্তঃস্থ।
বাহ্যিক অর্থ: শব্দগত ও তাফসিরসমৃদ্ধ অর্থ, যা সাধারণ জ্ঞানে অনুধাবনযোগ্য।
অভ্যন্তরীণ অর্থ: তা আত্মার সাথে সংযুক্ত, যা উপলব্ধি করতে হয় হৃদয় দিয়ে।
এই অভ্যন্তরীণ অর্থ উপলব্ধি করতে হলে চাই আত্মশুদ্ধি, চাই নূরানিয়াত। আর আত্মশুদ্ধির পূর্ণতা কেবল খেলাফতি পরিবেশেই হতে পারে।
কারণ: খেলাফতের ছায়ায় মানবতা কল্যাণের দিকে অগ্রসর হয়, অন্তর নরম হয়, পাপ প্রবণতা কমে, আত্মা আলোকিত হয়। খলিফার সুদৃষ্টি, দোআ এবং নূরানী তরবিয়ত সমাজকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে কুরআন কেবল ঠোঁটে নয়—প্রবেশ করে অন্তরে।
---
কুরআনের সাক্ষ্য
> "বহুদিন পার হয়ে যাওয়ায় তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল।"
(সূরা হাদীদ, আয়াত ১৬)
এই আয়াতটি আমাদের এই কথারই প্রমাণ। দীর্ঘকাল যাবত খেলাফতি শাসন না থাকায়, মানুষের অন্তরও আজ কঠিন, অন্ধ ও উদাসীন হয়ে পড়েছে। আর কঠিন অন্তরে কুরআনের নূর প্রবেশ করে না।
---
উপসংহার: খেলাফতের প্রয়োজনীয়তা
আজ আমরা দুনিয়ার সকল উন্নতি ও শান্তির জন্য খুঁজে ফিরি নানা পথ, অথচ প্রকৃত পথ তো একটাই—আল্লাহর বিধানভিত্তিক খেলাফতি শাসন।
> "দুনিয়াতেই জান্নাত কি ভাই দেখতে চাও,
খেলাফতি শাসনের দিকে তাকাও।"
©somewhere in net ltd.