| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জঙ্গি! এক ভয়াবহ শব্দ! সারাদেশ এখন এই আতঙ্কে আতঙ্কিত। পরপর কয়েকটি অস্বাভাবিক ঘটনা সাধারণ মানুষকে খুব ভাবিয়ে তুলেছে। প্রথমে ব্লগার, এরপর লেখক, প্রকাশক, তারপর যুক্ত হলো সংখ্যালঘু। কিন্তু এখন আর এ ঘটনার ভুক্তভোগী এরাই না। এখন যে কোন দিন যে কোন সময় চাপাতি চলে আসতে পারে আমাদের যে কারোর উপর।
এমনই এক সময়ে মাদারীপুরবাসী হাতেনাতে ধরে ফেললো এক উগ্রপন্থিকে। জানিনা তার মগজ ধোলাই কে করেছে। আর কোথা থেকেই বা ২০ বছর বয়সে সে মানুষের বাড়িতে ঢুকে কোপানোর সাহস পেলো।
যাক, ঘটনা সেটা না। ঘটনা হলো, জনতার হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে পুলিশে দেওয়া হলো। জনগণ ভাবল, যাক এবার এসব ঘটনার একটা বিহিত হবে। কিন্তু বিধি বাম! রিমান্ডে থাকা অবস্থায় সে নাকি বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে!
হায়! আমাদের পুলিশ ব্যবস্থার এ কি হাল! তারা এখনও কোন জঙ্গিকে ধরতে তো পারেই নি। উল্টো গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিকে মেরে ফেললো আসল ঘটনা জনতার সামনে উপস্থাপন না করে।
এখানে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জনগণকে আরও ভাবতে হচ্ছে। আসলেই কি জঙ্গি আছে? নাকি সরকার নতুন কোন চিন্তাভাবনায় এগিয়ে যাচ্ছে? দেশকে অস্থিতিশীল দেখাতে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের ন্যাক্কারজনক খেলা নয়তো?
এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশের জনগনের ভাবনা।
আবার অন্যপাশে ঘটছে পুলিশের ঈদ কেন্দ্রিক গ্রেপ্তার বাণিজ্য। দেশে নাকি জঙ্গির আস্তানা গড়ে উঠেছে। সেই আস্তানা ভাঙ্গতে সরকার যৌথ বাহিনী নামিয়েছে যৌথ অভিযানে। সেখানে চেনা, অচেনা, জানা, অজানা, শিক্ষিত মূর্খ সবাইকে সরকারের বাহিনী গ্রেপ্তার করছে। শুধু গ্রেপ্তার করছেনা ক্ষমতাসীন সমর্থকদের। এটাও আমাদের উদ্বিগ্নতার কারণ।
রমজান মাস, পবিত্র মাস। ঈদকে ঘিরে সারা মাস জুড়ে থাকে উৎসবের ছটা। কিন্তু সরকারী বাহিনীর উন্মত্ত থাবায় অনেক পরিবারের ঈদ ভাবনা আপাতত বন্ধ আছে।
বুঝিনা এই অভিযান কি সরকার একটা মাস পরে শুরু করতে পারতো না? আর কেনই বা শুধু জামাত-শিবির-বিএনপি গ্রেপ্তার হচ্ছে?
দেশে জঙ্গি কি অন্য দল থেকে হতে পারেনা?
অভিযানের ৩য় দিনেই নাকি গ্রেপ্তার প্রায় ১০ হাজার! তার মানে ১ মাস অভিযান চালালে ১লক্ষাধিক জঙ্গি দেশে গ্রেপ্তার হবে! ভাবাও ভয়ের বিষয়! এতো জঙ্গি তো তালেবান রাষ্ট্র আফগানিস্তানেও নেই।
এ থেকে আমরা বুঝতে পারছি আসলে গ্রেপ্তার মামলা বলে কিছু নেই, আমরা সবাই এক অন্য রকম কারাগারে আছি। সরকারের যখন যাকে ইচ্ছা তাকে মেরে একটা কাহিনী জনসম্মুখে পেশ করে দিচ্ছে।ব্যাস! কাহিনী খতম।
এ এক অন্য রকম কারাগারে আমাদের বসবাস। না জানি কবে এ থেকে ১৬ কোটি মানুষ মুক্তি পাবে।
©somewhere in net ltd.