নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

মুক্তমনা

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলা বানান নিয়ে টানাটানি : বর্ণ সংখ্যা কমানো যায়কি?( একটি রম্য কাব্য)

১০ ই মে, ২০১৬ রাত ৩:১৮


ইদানিং বেশ দেখা যায়
বর্ণ মালাই হতেছে প্রকট
ভাষা ও ভাবের গন্ডি ছেড়ে
বর্ণই ক্রমে হতেছে বিকট।
পাতায় পাতায় দেখা যায়
বর্ণ বিভ্রাটের করুন গাথা
ভাব এবং ভাষার কথা
হয়না তেমন বলা তথা।
তবে লিখকের লিখনির পর
মন্তব্যের ঘর শুধুই পাঠকের
এখানটায় পুর্ণ স্বাধীনতা তাঁর
লিখার উপর তাঁর মুল্যায়ন
হৃদয়ে জমা থাকবে শ্রদ্ধায়,
তাঁর গঠনমূলক সমালোচনা
লিখককে দেয় মহান প্রেরণা

বর্ণ না ভাষা আগে
ভাষা যদি আগে হয়
তাহলে কি বর্ণের প্রভায়
ভাষা তার ভাব হারায় ।
কারণ কি বানান ভুলের
কাটা কাটি করার আগে
চক্ষু কর্ণ সকলি খুলি
উচিত সেই সুত্র খুঁজার।

বাংলা ভাষায় বর্ণ অর্ধশত
যার মধ্যে সমার্থক সিকিশত
কোন টিতে দুটো সমবর্ণ
আবার কোন টায় তিনটি।
যেমনটি ই উ গ ড দ ন ব
জোড়টি ঈ ঊ ঘ ঢ ধ ণ ভ
তেমনি জ ঝ য ষ শ স
আবার র ড় ঢ় ৩র বাহার

সমার্থক ও সম উচ্চারণমূলক
বর্ণমালা মিলে হয়ে যায় ২৩ টি
একিভুত করে এগুলিকে
সহজেই করা যায় ১১ টি ।
পরিনামে বাংলা বর্ণ সংখ্যা
কমে সবেমিলে হবে ৩৭টি
এর সাথে যুক্ত হতো পারে
সংস্কারিত ি ী ু ূ ো
সংখ্যা কমার সাথে সাথে
বানান বিভ্রাটও কমে যাবি।
বাড়বে লিখন টাইপিং গতি
ছাত্র ছাত্রী অগনিত জনতা
পাবে মুক্তি ভুল বানান হতে।

ভুল বানানে লিখা বাক্য
বুঝতে সমস্যা হয়না কোন
বাসের ভিতর লিখা কথা
বদ্র ব্যাবহারে ভংশের পরিচয়
বুঝতে কষ্ট হয়নি কোন এ যে
ভদ্র ব্যাবহারে বংশেরই পরিচয়
তবে বানানভূল পরিহারই শ্রেয় ।

পাখী কে বললে পাখি
কে বুঝবেনা সে পাখী
তেমনি বাড়ীকে বললে বাড়ি
লোকে কি যাবে বাড়ী ছাড়ি ।
ঘর কে যদি বলা হয় গড়
কতক হয়ত ভাববে তা মাঠ
তবে যদি বলা হয় ঘুমাব গড়ে
সকলে বুঝবে এযে শুধুই ঘর ।

সমউচ্চারণে অর্থ ত্রিবিধ হলেও
বোধে আসে সঠিক প্রয়োগে
বাক্যের আগে পরের কথায়
অনুধাবিত হয় তা সবিস্তারে ।
ইংরেজীতে but put last lust
একই বর্ণ বিবিধ শব্দে প্রয়োগ
অর্থ বুঝতে হয়নাত কস্টকর
কারণ দীর্ঘ দিনের অভ্যাস ও
বাক্যভুক্ত অন্য শব্দ সমাহার
প্রয়োগ করা হয় সফলতায় ।
ভাষা সতত পরিবর্তনশীল
সমৃদ্ধি পায় তা গ্রহণ বর্জনে
রক্ষন শীলতা ডেকে আনে
অন্তিমে এর করুন মরণ ।
ব্যকরণ ও শুদ্ধ বানান নিয়ে
রক্ষনশীল অতি টানা টানিতে
সমৃদ্ধ সংস্কৃত নিয়েছে ঠাই
মন্ত্রপাঠ আর পুজার বেদিতে ।

শতবর্ষ আগে ঈশ্বর চন্দ্র
প্রনীত ব্যকরণের যাতাকলে
শব্দে বর্ণের প্রয়োগ রীতি আজ
বিশ্বায়ন যুগে হচ্ছে প্রতিবন্দী
কারণ বহুবিধ, কিছু ব্যাকরণ
বাকিটা আধুনিক প্রযুক্তিকরন।

উদাহরণ
স্বর বর্ণের ব্যবহারে যথা
গ শ ব্যঞ্জন বর্ণের অগ্রে
উ বসালে অর্থ হয় বিবিধ
তেমনিভাবে র বা রফলার ্্ সাথে
ঊ বসালে আকার ধরে রূ দ্রূ ধ্রূ শ্রূ

ব্যাঞ্জন যুক্তবর্ণের যন্ত্রনাও কমনা
যেমন শ এর নীচে ল যুক্ত হলে
উজ্ব থেকে উচ্চারণ হয় শল
জ এর সাথে ঞ যুক্ত হলে
জঁ না হয়ে তা হয় জ্ঞ
তাই যুক্তবর্ণের কত যে খেলা
যাবে না বুঝা, করলে তাদের
সকল বিকল্প ব্যবহার হেলা।
আধুনিকায়নের উম্মাদনা
একদিকে টাইপের প্রমাদ
অন্যদিকে ফন্টের গুল
কি বোর্ডে একটি টিপলে
আসে অনেক লম্বা গোল
চোখা বর্ণ সদৃশ্য চিহ্ন সকল
করতে সে সকলি দুর
ভুলে হয় আরো ভরপুর ।

বাংলার রয়েছে বিশেষ গুণ
সহজেই করতে পারে ধারণ
ধারণের সাথে বর্জন না হলে
রয়ে যাবে কঠিন স্থিতিমূলে ।
পরিনামে পাবে সংস্কৃত গতি
মোটেই যা কাম্য নহে অতি
যেকোন মূল্যে বর্ণের গতিপথ
কৌশলে করতে হবে মশ্রিন ।
বাংলা লিপির (৯ লি) বর্ণটি
এখন নেই বললেই চলে
তাই বলে কি ভাষাটি আজ
গিয়াছে ডুবে অস্তাচলে ।

বর্ণতো আসেনি মাটি ফুরে
কালের প্রবাহে প্রয়োজনের
তাগিদে হয়েছে এর উৎপত্তি
মুখের কথায় পেয়েছে গতি।
বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে
সিদম লিপি হতে যা আবার
ছিল প্রাচীণ ব্রাম্মিলিপিভুক্ত।
ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়
কিছুটা চিহ্ন তার রয়েছে
সিলেটি ব্রাম্মি লিপিতে ।



এ কথা তাই বলা যায়
বর্ণের সাথে বর্ণ সমহারে
গড়ে নতুন শব্দ মালা
বাক্য ভুক্ত সাথী শব্দটি
বলে দেয় তার সঠিকতা।
মনের ভাব প্রকাশই ভাষা
বনের পাখীর কিচির মিচির
বুঝে তার নীজ জাতি
নাই তাতে বানান রীতি ।

তেমনিভাবে যুগ যুগ ধরে শুনা
উচ্চারিত শব্দ হতে যায় বুঝা
বাক্যে প্রয়োগীত শব্দের মানেকি
সমার্থক বর্ণ নয় ধ্রোপদিই বুঝি ।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিভ্রান্ত হলেও
ভুল বানানে গঠিত নতুন শব্দ
কিছুকাল প্রয়োগ করা হলে
অচিরেই ধারণ হবে বহুজনে
হবে দুর বিভ্রান্তি শ্রোতাগনে ।

চলার পথে বাসে বসে
তাকে ভাষ , ভাস বাঁশ
যে ভাবেই বলিনা কেন
লোকে তাকে বাসই বুঝবে।
তাই বানান নিয়ে অহেতুক
টানা টানি না করে আসুন
সকলে মিলে বর্ণকে টানি
যায় কিনা কিছু কমানো।

কমাতে পারলে লাভ বেশী
না পারলে ক্ষতি তেমন নেই
ব্যাকরণ বিদেরা আছেন বসে
ভুল বানানকে ধরবেন কষে ।
পরিনামে বর্ণ সংখ্যা হ্রাস
পাক বা না পাক তাতে
তাদের কিই বা যায় আসে
রক্ষণশীলতা থাকবে বর্ণেতে ।

তবে যে কোন মূল্যেই
বর্ণ উন্নয়ন সময়ের দাবী
বিজ্ঞ ভাষা বর্ণবিদদের প্রতি
রেখে গেলাম এই মিনতি।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৩

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: বানান নিয়ে কথন ভাল লাগল

১০ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: এটা শুধু অামার সমস্যা না এটি কোটি কোটি মানুষের সমস্যা । তবে কতকের কাছে এটা বেশ উপাদেয় বিষয় একখানা। একই শব্দ লিখা যায় নানাভাবে যদি থাকে তা জানা তাহলে আর কোন লিখায় ভুল খুঁজে পাবেনা । এখানে খ এর উপর চন্ত্র বিন্দু কেন দেয়া হল বলতে পারে কয়জনা । না দিলে চন্দ্র বিন্দু হবে কি ক্ষতি তাও কি আছে জানা । তাই অহেতুক বানান কে টানা ।
অনেক ধন্যবাদ তিতা লিখাটা পাঠের জন্য অন্তত মন্তব্যের খরা থেকে বাচল লিখাটা ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.