| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
চারদিকে মানুষের ভিড়। নানা রকম মানুষ। নারী-পুরুষ। নানা বয়সের। সবাই তাকে পাক খেয়ে ঘুরছে। পাকটা থেকে থেকে বেশ ঢেউ তুলছে। আর নিজেকে মনে হচ্ছে সে পাকে হাবুডুবু খাওয়া নৌকার মতো। এরকম একটা পাক প্রায় একযুগ আগে সে দেখেছে। তখনও দাদা বেশ চলতে পারে। গোয়ালে দাদার ৮/১০টি গরু তখনো অবশিষ্ট। কে যেন মাঠা পাক দিচ্ছিল দাদার বাড়িতে। উপড়ে ননী ভেসে উঠছিল আর মাঝখানে পাকটা গর্তের মতো এদিক ওদিক ঘুরছিল। এরকমই অনেকটা। মানুষগুলো সব হাতে হাতে ধরা। একবার ডান একবার বামে ঘুরছে। অথচ কারো মুখই দেখতে পাচ্ছে না। সবার মুখেই বাহারী রঙের মুখোশ। এদের মধ্যে একজন নারী, সাদা ধপধপে একটা শাড়ি জাড়ানো গায়ে- মাখনের মতো সাদা- তার দিকে হাত বাড়িয়ে আসে। হাতটা ধরতে যাবে এমন সময়ই ঘুমটা ভেঙ্গে যায় মামুনের। কিছুদিন যাবৎ এ স্বপ্নটা মামুন প্রতিরাতেই দেখছে। আর ঘুমটা ঘড়িতে দেয়া এলার্ম বাজার ঠিক আগে আগেই ভাঙে। রাত তখনও দুটো বাজেনি। কোনো রকমে বিছানা থেকে উঠে সে লাইটটা জ্বালায়। ঘর থেকে বেরিয়ে দরজায় তালা দিয়ে খুব দ্রুত ছুটতে থাকে সুরকি বিছানো পথটি ধরে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে রেলক্রসিংটা এসে যায়। দাঁড়ায় মামুন। চারদিকে স্তব্ধতা। পাশের চায়ের দোকানে শুয়ে থাকা কুকুরটা যথরীতি মামুনের কাছে এসে দাঁড়ায়। সেও নিশ্চুপ। একটু পর ট্রেনের বাতিটা দেখা যায়। রাতের নীরবতার সাথে অন্ধকারকেও গ্রাস করে ট্রেনের হুইসেল ও কপালের আলো। মামুন দাঁড়িয়ে থাকে। অবিচল। বাতাস কেটে চলে যাওয়া ট্রেনটি বাতাস লাগিয়ে যায় মামুনের গায়ে। ট্রেনের ভেতর যাত্রীদের দোলাটা জানালাগুলো দিয়ে আলো আঁধারির মাঝে দেখতে পায় সে। দুলে ওঠে মামুনও। দাঁড়িয়ে থাকাটা ভুলে যায়। হিজল বনের ভিতর ডিঙ্গি নিয়ে শাপলা তুলতে গিয়ে পাশ দিয়ে চলে যাওয়া ইঞ্জিন বোটের ঢেউয়ে যেমন নড়তো তেমন নড়ছে, সে-নৌকাটা। দোলাটা থামতে বেশ সময় লাগে। রাজ্যের স্তব্ধতা এসে ভিড় করে মামুনের ওপর। ঘর থেকে বেরিয়ে যত দ্রুত সে ক্রসিংয়ের দিকে এসেছিল তারও দ্বিগুণ অলসতায় ফেরে ঘরের দিকে। কুকুরটাও আস্তে আস্তে ফিরে যায় চায়ের দোকানের কোণায়
©somewhere in net ltd.