নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এম হোসাইন

পড়াশোনা করি,প্রবন্ধ লিখি, বই পড়ি।

এম হোসাইন › বিস্তারিত পোস্টঃ

চলো বাংলা বলি

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৫৪

আদি আন্ত শেষ নাই এখনও। অবিরাম বলছি বাংলা,মায়ের শেখা ভাষা। বাংলা জন্য রক্ত দিয়েছি সেই ১৯৫২এ। বাংলা জন্য ইতিহাস গড়েছি বিশ্ব মানচিত্রে। নিজেদের বীরত্ব প্রমাণ করিছি বহুবার। স্বাধীনতার ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে তবুও যেন বাংলা বলতে পারি না। কিন্তু বাংলা সাথে ইংরেজী বা অন্য ভাষাকে সমাদ্রিত করছি অত্যন্ত সুনিপুনভাবে যা বলার অবকাশ রাখে না। বাংলা ভাষার মর্যাদা আজ বিলীন হতে চলেছে। পরভাষার রসায়নে নিজেদের ভাষার অংক কষতে ভুলে গেছি, ভুলে গেছি অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য। আজকে আমাদের অবস্থা হয়েছে " স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন "। বাংলা ভাষা বলায় কৃপণতা আর উচ্চারনের মাত্রাহীন অবহেলা দেখে মনেহয় আমাদের ভাষা আজ ছিনতাই হচ্ছে। এই অবস্থা আমাদের ভূমিকা নীরব দর্শক সাদৃশ। এই নির্বাকহীন লোকালয়ে শুদ্ধ বাংলার বিবৃতিতে নিজেকে মনেহয় উপর তলার জাতে উঠতে পারেনি। কিন্তু যারা বাংলা ভাষা ব্যবহারে অতিশয় খেয়ালীপনা ও অঙ্গভঙ্গির অসাধারণ সার্কাস দেখায় তাতে বুঝা যায় তারাই সমাজে ফ্যাশনেবল বাঙালী পাবলিক হিসেবে বিবেচিত হয়। বাঙালী সামাজে আজকাল sorry শব্দটা এমনভাবে ব্যবকতা লাভ করছে যেন তা ঢাকা নগরীর ট্রাফিক যানজটকে হার মানিয়ে দিয়েছে। রাস্তা-ঘাট, বাজার-বন্দর, অফিস-আদালত, রেস্তোরা কি মুদি দোকানে সর্বত্র শুধু sorry আর sorry । তাই sorry ব্যবহার স্থান কাল পাত্রভেদে বিবেচনা করা হয় না । এই চার বর্ণে শব্দটা যেন বৃষ্টির মত ঝরছে নগরীর অলিগলিতে এমন কি প্রবাহমান স্রোতের ঢেউর মত আঁচড়ে পড়ছে ঘন সবুজ গাঁয়ের নীড়গুলুতে। তাই sorry শব্দটার অপব্যবহার সত্যি বাংলা অভিধানে নীল রেখা অংকন করতেছে।



বর্তমানে এফএম রেডিওগুলির আরজেদের বাংলা ভাষা ব্যবহারের এমন ন্যাককারজনক অবস্থা দাঁড়িয়েছে যেন বাংলা বুঝার জন্য বাংলা কনর্ভাসন রেডিও লাগবে। কথা বলার ভঙ্গিমা আর উচ্চারনের লাগামহীনতা এমনমাত্রা যোগ করেছে যা তীরে এসে তরী ডুবানোর অবস্থার শামিল। বাংলা ভাষাকে প্রচার করতে গিয়ে যদি এমন দূরাবস্থা পোহাতে হয় তবে সেটি ২য় বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াভহতাকেও স্লান করে দিবে। নিজস্ব ভাবধারাকে ভুলে গিয়ে পরভাষা অনুকরণে শুধুমাত্র নিছক আনন্দ উপভোগ করা যায় কিন্তু পরিনামে তা যে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা হয় সেটি একেবারেই বিবেচিত নয়।



এখনকার সময়ে পথ-ঘাট, বাজার-বন্দর, এমন কি জনবহুল আড্ডায় বাংলা ভাষার শব্দকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়। বাংলা শব্দ উচ্চারণে এতটাই সংকীর্নতা যা বলার অপেক্ষা রাখে না। কি শুনছি আর কি বলছি তার দিকে বিন্দুমাত্র দৃষ্টি দেয়া হয় না। লাল কে বলা হয় নাল, রিক্সা কে রিছকা, সিঁড়ি কে সিরি, স্কুল কে ইসকুল ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার বেসুরা গলার সুরেলা কন্ঠে এক লাইন বাংলার সাথে তিন লাইন ইংরেজী না বললে বাঙ্গালী পরিচায় দেয়াই যেন দুষ্কর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।



তাই পরিশেষে সবিনয়ে আকুল প্রার্থনা জানাই আমারা যেন আমাদের নিজস্ব বাঙ্গালী জাতিসত্বার বিকাশ ধারাকে অক্ষুণ্ণ ভাবে বজাই রাখি। নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্যকে অটুট রেখে পরভাষার অনুকরণ অনুসরণ মোটেও নিন্দনীয় নয়। নিজের স্বার্থ চরিতার্থে পরভাষার জ্ঞান অর্জনের সাথে যাতে মাতৃভাষার শব্দ ভান্ডারকে কোনক্রমেই বিলীন হতে না দেই।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.