| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অন্ধকারের আমি
আমি পাপী তবু পাপেরে নাহি ডরি, আমার মাঝেই পাপ পুণ্যের হিসেব কষে ফিরি!
শেষ হয়ে গেলো পাঁচটি সিটি নির্বাচন। প্রথম চারটিতে হারের পর গাজীপুরের নির্বাচনটি ছিল ক্ষমতাসীনদের জন্য বাঁচা মরার লড়াই। না শেষ রক্ষা হলোনা, এটিতেও বিরাট ব্যবধানে হেরে গিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত আওয়ামীলীগ।
আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও এই অবস্থা ছিল পুরোপুরি বেতিক্রম। বি,এন,পির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার প্রচার এই দলটিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। যদিও সেনা আঁতাতের ব্যাপারে অনেকেই বলেছেন ইতি মধ্যে তবে সত্য যেটাই হোক সামগ্রিক ব্যাপার চিন্তা করলে বি,এন,পির অবস্থা এতোটা ভালো ছিলোনা তখন। যাই হোক বিশাল একটি বিজয় নিয়ে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। কিন্তু শুরুতেই ভুল করে বসে সাধারণ জনগণের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা কিছু সংখক অতি বিদ্যান, নষ্ট বাম আর আইনের ফেরিওয়ালা লোকদের রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট দিয়ে। এদের বেফাঁস কথাবার্তা, অদক্ষতা আর একই সাথে চাটুকারিতা ও অহংকারী মনভাব দলের মাঝে সৃষ্টি করে অনৈক্য আর বিশৃঙ্খলা যার ফলে ত্যাগী নেতাদের অনেকেই এক পর্যায়ে দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া শুরু করে। সাথে আছে ছাত্রলীগের নানামুখি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাওয়া। যেটা শিক্ষাঙ্গন কে অস্থির করে তুলে, এবং এতে করে শিক্ষিত ছাত্র ছাত্রীর একটা বিরাট অংশ আওয়ামী বিদ্বেষী হয়ে পড়ে।
অনেক লোককে দেখি গাড়ি হাঁকিয়ে চলে, নানারুপ জ্ঞানী কথাবার্তা বলে কিন্তু রাস্তায় ফকির দেখলে নাক সিটকায়, আবার এমন অনেক অপরাধীও আছে যারা অনেক অন্যায় কাজ করলেও দরিদ্র লোকজনের খোঁজ খবর নেয়, তাদের বিপদে আপদে কাছে এসে সাহায্য সহযোগিতা করে। এই সব লোকেরাই জনগণের নেতা হবার যোগ্য এবং হয়ও সেটাই। প্রতিটা দলেই এই রকম নেতার সংখ্যা অনেক আছে, আওয়ামীলীগেও ছিল কিন্তু তারা ছিল একেবারে কোণঠাসা অবস্থায়।
পদ্মা সেতু কেলেংকারি, জিএসপি সুবিধা বাতিল এই বিষয়গুলো আমার মনে হয়না সাধারণ জনগণের মনে কোন প্রভাব তেমন একটা ফেলতে পেরেছিল। খুবই অবাক লাগে যখন দেখি একটা রাষ্ট্র তার উন্নয়নের পরিবর্তে বিচার আচারকে প্রাধান্য দেয়। কারা এই ফর্মুলা আওয়ামীলীগের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল সেটা এখন পরিষ্কার। কিন্তু এই সকল নষ্ট বামদের খপ্পরে কি করে আওয়ামীলীগের মতো একটি রাজনৈতিক দল পরে সেটা আমার বোধগম্য নয়।
নষ্ট বামদের সবচেয়ে আকর্ষিত এবং সাময়িক সফল এজেন্ডা ছিল শাহাবাগ আন্দোলন। মিডিয়ার সহযোগিতায় এই আন্দোলনটাকে তারা একটা পজিশনে নিয়ে এসেছিল কিন্তু কয়লা ধুইলেও ময়লা যেমন যায়না ঠিক তেমনি একটা সময়ে যখন সাধারণ মানুষ বুঝে গেলো আসল ব্যাপার কি, কিংবা এর পেছনে নাঁটের গুরু কারা তখনই শুরু হল হেফাজতে ইসলাম ব্যানারে আলেম ওলামাদের আন্দোলন। এরই মাঝে আওয়ামীলীগ ইয়ুজড হয়ে গেছে এই সব ছা পোষা গুটি কয়েক লোকের হাতে। খুবই অবাক হতাম যখন ছাত্র ইউনিয়নের একটি নেত্রী সারাদিন মাইক দখল করে শ্লোগান দিতো আর নিরীহ বালকের মতো ছাত্রলীগ সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদক পেছনে দাড়িয়ে থাকতো।
চিহ্নিত বাম নেতা অরাজনৈতিক হয়ে যায় আর ছাত্রলীগ বা আওয়ামীলীগের নেতা নেত্রী বক্তব্য দিতে আসলে তাদের অপমান করা হয়। কি অসহায় আওয়ামীলীগ! যারা জাতির ক্রান্তি লগ্নে জাতির ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে এই জাতির ভবিষ্যতের কাণ্ডারি হয়েছিল, লাখো কোটি জনতা যেই দলের নেতার ডাকে জীবন বাজী রেখে লড়াই করে স্বাধীনতা এনেছিল সেই দলের এমন অসহায় অবস্থা দেখা সত্যি অবাক করে বৈকি। এতো কিছুর পরও শেষ রক্ষা হল না, শাহাবাগ আন্দোলন যখন পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে সরকারের গলার কাঁটা হয়ে রূপ নিলো ঠিক তখনই এই নষ্ট বামরা এতদিনের বিরয়ানীর স্বাদ ভুলে আওয়ামীলীগকেই দুষতে শুরু করলো। এটাই হবার ছিল কারন এরা পরের মাথায় নুন থুয়ে কূল খেতে ওস্তাদ।
এক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে কিছু কথা না বললেই না। আমাদের মিডিয়ায় যে সমস্ত সাংবাদিকরা কাজ করছেন তাদের বেশীরভাগ ই ছাত্রজীবনে খুব বেশী ভালো রেজাল্ট বা ইন্টেলেকচ্যুয়াল টাইপের কেউ না। আমি মনে করি সাংবাদিক হচ্ছে একেবারে তৃতীয় শ্রেণীর মেধাধারী দুর্ভাগ্যক্রমে পাওয়ারফুল একটি সম্প্রদায়। এদের দুষ্ট চক্র থেকে সাধারণ মানুষের যেদিন রেহাই হবে সেদিন দেশ এগিয়ে যাবে। কেউ কেউ যে ভালো নেই তাও না। অনেকেই আছেন সাহসী সাংবাদিক যারা সঠিক সংবাদ এবং তথ্য প্রচার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এদের সংখ্যা একেবারে হাতে গোনা, বরং চাটুকরদের ভিড়ে ভালোদের খুঁজে বের করাই মুশকিল। এই চাটুকর শ্রেণী বরাবরই সরকারে যেই থাকুক তাদের চরিত্র নষ্ট করতে সহযোগিতা করে এবং শেষ সময়ে এসে ছুড়ে ফেলে দিয়ে অন্য লেবেল গায়ে লাগিয়ে নেয়। এভাবেই চলে এই সব সাংবাদিক নামধারি তৃতীয় শ্রেণীর মেধাধারী লোকদের রুজি রুটি আর দৌড়াত্ব।
(চলবে)
০৭ ই জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৭
অন্ধকারের আমি বলেছেন: ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ৮:৩২
পথহারা সৈকত বলেছেন: আমাদের মিডিয়ায় যে সমস্ত সাংবাদিকরা কাজ করছেন তাদের বেশীরভাগ ই ছাত্রজীবনে খুব বেশী ভালো রেজাল্ট বা ইন্টেলেকচ্যুয়াল টাইপের কেউ না। আমি মনে করি সাংবাদিক হচ্ছে একেবারে তৃতীয় শ্রেণীর মেধাধারী দুর্ভাগ্যক্রমে পাওয়ারফুল একটি সম্প্রদায়। এদের দুষ্ট চক্র থেকে সাধারণ মানুষের যেদিন রেহাই হবে সেদিন দেশ এগিয়ে যাবে।