নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোঃ হাসিবুল আলম

মোঃ হাসিবুল আলম › বিস্তারিত পোস্টঃ

পুলিশ ফেনছি ও আমরা দুই বালক

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৫৬

সাল ২০০৬, আমি আর আমার এক বন্ধু কোচিং সেরে বাসায় ফিরছি। তখন রাত ৮ টার মত হবে। শাপলা চত্তর থেকে ২০০ ফিট দূরে দুইজন পুলিশ রিকশা থামাল। তল্লাশি নেয়া হবে। কলেজ ব্যাগ চেক করে কি আর পাবে, পানির বোতল পেল একটা।
এক পুলিশ অন্য পুলিশের দিকে তাকিয়ে, বোতলে ফেনসিডিল নাহ?
অন্যজন হ হ ফেনসিই তো
আমাদের দুই বন্ধুর কড়া প্রতিবাদ, এটা খাবার পানির বোতল, ফেনসিডিল হতে যাবে কেন?
পুলিশ- দেখি জিভ বের করতো
জিভ দেখে গায়েবী কেরামতিতে পুলিশ বেটা কনফার্ম হল যে ইহা ফেন্সিই বটে। মতলব সুস্পষ্ট, টাকা খাওয়ার ধান্দা। এরপর অনেক কাহিনী শেষে অবশ্য অক্ষত শরীরে ছাড়া পেয়েছিলাম। পুলিশি শয়তানির সেই অযাচিত ভোগান্তি কিন্তু কোন নতুন ঘটনা না, মিডিয়ার সাথে লিঙ্ক থাকলে সেগুলো প্রকাশিত হয় আর না থাকলে হয়না এই যা তফাত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী অনেক বড় ব্যাংকের স্যার হওয়ায়, মিডিয়ার লিংক থাকায় ও দীর্ঘক্ষণ আবেগ করে কাঁদায় লাকিলি ভদ্রলোকের কেইসটি ভাইরাল হয়েছে। ফলস্বরূপ, পত্রপত্রিকা-টিভি খুললেই এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশি নির্যাতনের খবর দেখা যায় অ্যাজ ইফ হঠাৎ করে দেশের সকল পুলিশকে একযোগে ভুতে ধরেছে। ঘটনা হচ্ছে, পুলিশের এই তান্ডব কিন্তু নতুন কিছু না। এই জিনিস অনাদিকাল থেকে চলে আসছে এবং অনাদিকাল ধরে চলবে। এতদিন কেউ পাত্তা দেয়নি, ভাইরাল হওয়ায় এখন মিডিয়া অনেক সচেতনতা করছে। যদিও পুলিশ ভাইয়ারা ভালো করেই জানে, এই লাফালাফির মেয়াদ দীর্ঘ হবে না। সপ্তাহখানেক দাঁত মুখ চেপে খিঁচ মেরে থাকলেই চলবে। তারপর আবার উনারা আপনমনে কুপাকুপি চালিয়ে যেতে পারবেন। জাস্ট মিডিয়ার কাউকে না কোপালেই হলো।
তো, এই ঘটনা থেকে আমরা যা শিখলাম এবং যা মাঝেমধ্যেই শিখে থাকি তা হল কোন ঘটনা ভাইরাল হবে কি হবে না সেটি নির্ভর করে মিডিয়ার উপর। মিডিয়া কোন একটি ঘটনা পিক করলে আমরাও সেটি নিয়ে অনেক আবেগ করি, মিডিয়া চেপে গেলে আমরাও আর কানের মাছিও তাড়াইনা। অর্থাৎ, আমাদের বুদ্ধি, বিবেক, আবেগ কোনটাই আর স্বাধীন নেই; মিডিয়ার কাছে বন্ধক হয়ে গেছে। আর মিডিয়ার এই হঠাৎ করে ইনভেস্টিগেইটিভ জার্নালিজম শুরু করে দেয়া গঠনমূলক কোন আচরণ না। এসব করে পুলিশকে সাময়িকভাবে চাপে রাখা সম্ভব, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চাইলে এই "ইনভেস্টিগেইটিভ জার্নালিজম"টা সারাবছর চালু রাখতে হবে এবং, সম্ভব হলে, হলুদের বদলে অন্য কোন রঙকে ভালোবাসতে শিখতে হবে...

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.