নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোঃ হাসিবুল আলম

মোঃ হাসিবুল আলম › বিস্তারিত পোস্টঃ

অভিশপ্ত বাবু বজরঙ্গি এবং নরপশু নরেন্দ্র মোদী

০৯ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:০২


ঘটনার সূত্রপাত ২০০২ এর ২৭ ফেব্রুয়ারি-- গুজরাটের SABARMATI EXPRESS নামে একটি ট্রেনে হামলায় ভারতের ৫৯ জন মারা যায়। Wikipedia এর তথ্য অনুসারে ২৫৪ জন। এ ঘটনায় কোন প্রমাণ ছাড়াই মুসলমানদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অথচ পরবর্তীতে ‘নতুন নানাভাতি’ তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে বেরিয়ে আসে যে, ভারতের মুসলমানদের উপর হামলা চালানোর পূর্ব-ষড়যন্ত্র হিসেবেই এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা সাজানো হয়, যা উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসী করেছিল এবং সেটা মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশেই হয়েছিল। একাধিক ফরেন্সিক রিপোর্ট অনুযায়ী ট্রেনের ভেতর থেকেই আগুন দেয়া হয় এটা ছিল একটা প্রি-প্লান্ড এবং সেই প্ল্যানের অংশ হিসেবে মাসখানেক ধরে সাম্প্রদায়িক উগ্র হিন্দুরা মুসলিমদের উপর হামলা চালায়। শুরু হয় দাঙ্গা।
সংখ্যা লঘু হওয়াতে মুসলিমদের উপর হিন্দুদের নির্যাতন মাত্রা ছাড়ায়। নির্যাতনের ধরন সব যুগের সব বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। মুসলিমদের ব্যাসায়িক প্রতিষ্ঠান,বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। অধিকাংশ মুসলিমদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে। শত শত মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশুদেরকেও তারা ছাড় দেয়নি। মায়ের পেটে চিড়ে ভ্রুন বের করে হত্যা করা হয়। প্রায় লাখখানেক মুসলিম তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই নির্যাতনে RSS সহ হিন্দু উগ্র সন্ত্রাসীরা অংশ নেয়।
গুজরাটে মুসলিম গণহত্যার নির্মমতাঃ
বজরঙ্গি তাদের বলে যারা ভারতে বজরং দল নামক একটি সংগঠন করে। বজরং দল হচ্ছে হনুমানপন্থী উগ্রহিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠন, যাদের কাজই হচ্ছে দেশজুড়ে হিন্দু সন্ত্রাসবাদ কায়েম করা। তাই সিনেমায় এমন বজরঙ্গি দেখানো হয়েছে, যার সাথে বাস্তব বজরঙ্গির কোন মিল নেই। আসুন একজন বজরঙ্গির কথা শুনি, সেখানেই জানতে পারবেন বজরঙ্গিদের আচার-আচরণ কেমন হয়-----
২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময় নারোদা পাতিয়া গণহত্যায় (আহমেদাবাদ এলাকায়) সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলো বাবুভাই প্যাটেল নামক এক হিন্দু উগ্রবাদী। এই বাবু ভাই প্যাটেল সারা বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়েছিলো ‘বাবু বজরঙ্গি’ হিসেবে।
বাবু বজরঙ্গি কিভাবে গুজরাটে গণহত্যা করেছিলো সেই কথা জানার জন্য ২০০৭ সালে তেহেলকার ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক হাজির হয়েছিলো বাবু বজরঙ্গির কাছে। ঐ সময় বাবু বজরঙ্গি খুব গর্বের সাথে সাংবাদিকের কাছে সেই গণহত্যার নির্মম বর্ণনা দেয়, কিন্তু সেই বর্ণনা শরীরের মধ্যে লুকিয়ে রাখা গোপন ক্যামেরায় গোপনে ভিডিও করে ফেলে ঐ সাংবাদিক। ঐ গোপন ভিডিও প্রকাশের পর সারা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে, নতুন করে বিচার শুরু হয় বাবু ভাই প্যাটেল ওরফে বাবু বজরঙ্গি। আসুন গুজরাট দাঙ্গায় বাবু বজরঙ্গি কি করেছিলো তার নিজ মুখেই শুনি:

“কেটে টুকরা করা, পুড়িয়ে দেয়া, আগুন ধরানো অনেক কিছুই করা হল, অনেক কিছুই। আসলে আমরা মুসলমানদের আগুনে পুড়াতেই বেশি পছন্দ করি, কারণ এই জারজরা তাদের দেহ মৃত্যুর পর চিতায় পুড়াতে চায় না।
আমার শুধু একটি ইচ্ছা,......শুধু একটি শেষ ইচ্ছা...... আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হোক,.......আমাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলেও তা গ্রাহ্য করব না.........তবে আমাকে ফাঁসিতে দেওয়ার আগে মাত্র দুইদিন সময় দেয়া হোক, আমি জুহাপুরা (মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা) চলে যাব। সেখানে ৭-৮ লক্ষ লোক বাস করে। আমি তাদের শেষ করব........কমকরে হলেও তো সেখানে আমার ২৫-৫০ হাজার মুসলমানকে হত্যা করা উচিত।
গণহত্যার পর থানায় মামলার নথিতে লেখা হয়, এক গর্ভবতী মুসলিম মহিলার পেট চিরে আমি ৯ মাসের ভ্রুনকে বের করেছি, নিক্ষেপ করেছি আগুনে। আসলে আমি তাদেরকে দেখিয়েছি, দেখ! আমাদের বিরোধীতার শাস্তি কি। একজনকেও ছাড়া যাবে না। এমনি তোদের ভূমিষ্ট হতেও দেয়া যাবে না। আমি বলেছি, যদি মহিলাও হয়....., যদি শিশু হয় তবু তাদের কেটে ফেল.....চিড়ে ফেল..........টুকরো করে ফেল......আগুনে পুড়াও সকল মুসলমানদের।
আমাদের অনেকে তাদের ঘরবাড়ি লুট করতে অযথা সময় নষ্ট করছিল। আমি বলেছি, অযথা এ কাজ না করে তাদের কাউকে বাঁচতে দিও না, এরপর সবাই তো আমাদের। আমরা দল বেধে বেধে মুসলমানদের ঘরে ঘরে ঘুরছিলাম। প্রত্যেকেই মুসলমান মারছিল অতি উন্মাদনার সাথে।
আমরা এসআরপি (স্টেট রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স) ক্যাম্পের পাশেই এই গণহত্যা চালাই। (আসলে একসাথেই করা হয় সে গণহত্যা) তবে পুলিশরা মাত্র একজন মুসলমানকে সেভ করেছিল। সে ছিল তাদের উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।
নরেন্দ্র মোদি ? মূখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাকে শাস্তি থেকে বাচানোর জন্য তিনতিন বার বিচারককে পরিবর্তন করে দেয়।
মুসলমান মারতে এত্ত মজা লাগে না....সাহেব, আসলে তাদের মারার পর আমার নিজেকে রানা প্রতাপ বা মহেন্দ্র প্রতাপের মত (মুসলিম নিধনকারী রাজা) মত মনে হয়েছে। এতদিন শুধু তাদের নাম শুনেছি, কিন্তু সেই দিন আমি তাই করলাম.... ”
(গোপন ধারণকৃত সেই ভিডিওটি দেখতে: https://www.youtube.com/watch?v=mfnTl_Fwvbo) documentary https://www.youtube.com/watch?v=HkblZKn6bZM
Interview link- http://archive.tehelka.com/story_main35.asp…
Wikipedia - https://en.wikipedia.org/wiki/Babu_Bajrangi
এটা ছিল একটি অপকর্মের নমুনা মাত্র। এ ছাড়াও শত শত মুসলিম নারীদেরকে ধর্ষণ করার পর আগুনে পুরিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ।মুসলিমদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে মুসলিম নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে। তারপর তাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ভাবুন সেই বিভীষিকার কথা যেখনে আপনার সামনে আপনার বোনের সম্মান লুন্ঠিত হচ্ছে। তকে শত শত উগ্র হিন্দু তদের মাঝে নিয়ে বিবস্ত্র করে তাকে অপমান করছে অথচ আপনি কিছু করতে পারছেন না।মুসলিম প্রতিটা নারী কি আমাদের মা অথবা বোন না?
একটি তথ্য অনুযায়ী ভারতের গুজরাট রাজ্যে ২০০২ সালে মুসলিম বিরোধী এই দাঙ্গায় অন্ততঃ ৫০০০ মুসলমান শহীদ(ইনশাআল্লাহ) হয়েছিলেন।
গুজরাট দাঙ্গায় দাঙ্গাকারীদের না ঠেকাতে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল। এক পুলিশকর্মীর জবানবন্দী, মুসলিমদের বাঁচানোর জন্য আমাদের কোনো নির্দেশই ছিল না। ২০০২ সালের দাঙ্গার সময় মুসলিম মহিলারা পুলিশের কাছে তাদের ইজ্জত রক্ষার আবেদন জানালে পুলিশ বলেছিল, 'তোমাদেরকে তো শেষমেষ মেরেই ফেলবে। তার আগে ইজ্জত থাকলো কি চলে গেল তাতে কি?' এমনকি তলোয়ার হাতে দাঙ্গাকারীরা গর্ভবতী মুসলিম নারীদের পেট ফেঁড়ে ভ্রুণ বের করে তা তরবারি'র আগায় বিদ্ধ করে নারকীয় উল্লাস প্রকাশ করেছে বলেও সে সময় গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল।
উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ঐ দাঙ্গায় অন্ততঃ ৪০০ মুসলিম মহিলাকে ধর্ষণ করেছে ।কয়েকশ মুসলিম মেয়ে এবং মহিলাকে হরণ এবং টেনে নিয়েতাদের পরিবারের সামনেই তদের বিবস্ত্র করা হয়, কয়েকশ হিন্দু নরপশু তাদের নোংরা কথা বলে অবমাননা করে, ভয় দেখায় ধর্ষণ ও খুনের। তারা তাদের ধর্ষণ ও গনধর্ষণ করে, লাঠি, ছুরি ইত্যাদি দিয়ে আগাত করে। তদের স্তন কেটে দেয়া হয়, জরায়ু কেটে দেয়া হয় এবং তাদের যোনি পথে মারাক্তক ভাবে কাঠের রড প্রবেশ করানো হয়। তদের অধিকাংশকেই টুকরো টুকরো কেটে ফেলা হয় অথবা আগুনে পুরিয়া মারা হয়। এই আক্রমের বেশি শিকার হয় তরুণী, বৃদ্ধা শিশুরা। ২৫০-৩০০ নারীকে খুন করা হয়। খুনের আগে তাদের অনেককেই ধর্ষণ অথবা গনধর্ষণ করা হয়। উগ্রবাদী হিন্দু সন্ত্রাসীরা ৫৬৩ টি মসজিদ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল।
গুজরাট হামলার প্রধান উস্কানি দাতা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নারেন্দ্র মোদিকে ভারতীয় হাইকোর্ট মুক্তি দিয়েছে। এমনকি এই নরপশু এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এই নরেন্দ্র মোদি ২০০২ সালের মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার জন্য অনুতপ্ত নন বলে ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তাকে বহনকারী মোটরগাড়ি কোনো কুকুর ছানাকে চাপা দিলে সে জন্য দুঃখ অনুভব করবেন তিনি(কিন্তু মুসলিম হত্যার জন্য নয়!!)বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাতকারে এ সব কথা বলেছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)’র উগ্রবাদী এ নেতা। রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাতকারে মোদি আরো দাবি করেন, ‘আমি যদি অপরাধ করে থাকতাম তবে অনুশোচনায় ভুগতাম।’...হিন্দু পরিবারে আমার জন্ম, আমি হিন্দু জাতীয়তাবাদী এবং দেশভক্ত। এতে কোনো অন্যায় নেই।"
একটি ট্রাইব্যুনালের হিসেব হলো, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ওই গণহত্যা পর্বে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে। এখনো হাজার চারেক পরিবারকে কাটাতে হচ্ছে রহিমাবাদ সোসাইটির মতো রিলিফ কলোনিতে। পারেননি ঘরে ফিরতে, কেননা তারা যে মুসলিম, তারা যে চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিক।
এত বছর পরও তারা ঘরছাড়া, কেন? কোথায় ছিল তাদের ঘর? রহিমাবাদ সোসাইটিতে গিয়ে একবার প্রশ্নটা করেই বুঝতে পাবেন, কেন আজও তারা এখানে। একটু কথা বললেই এদের মুখে উঠে আসবে বিলকিস বানুর নাম। অন্তঃসত্ত্বা যে মহিলাকে মোদীর বাহিনী পরপর ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছিল। মেরে ফেলেছিল বিলকিস বানু পরিবারের আরো ১৪ জনকে। সেই ভয়াবহ রাতের আতঙ্ক আজও কথার ফাঁকে টের পাওয়া যায় এদের চোখে-মুখে!

অনেককিছুর মত,গুজরাট গণহত্যা’কেও দাঙ্গা বলে চালানোর চেষ্টা বিজেপি নেতারা করে থাকেন, এটাকে গোধরা কান্ডের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে দেখানো হয়।কিন্তু,গোধরা কান্ডের অনেক আগে থেকেই সঙ্ঘ নেতারা গণহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।হিন্দুত্বের মেরুকরণে নরেন্দ্র মোদী’র অভিষেক করা দরকার ছিল,আর তার জন্য বেজন্মা সংখ্যালঘুদের রক্তপান একটি অতি আবশ্যিক প্রক্রিয়া।সম্প্রতি ৫৪১ পাতার একটি রিপোর্ট গুজরাত দাঙ্গার তদন্তকারী দল সিট এর কাছে জমা পড়েছে,যেখানে সংগৃহীত আছে বিভিন্ন পুলিস কন্ট্রোল রুমে আসা ফিল্ড অফিসারেদের সতর্কবার্তা।সেসব সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে গণহত্যা পূর্ববর্তী সময়ে গৈরিক নেতাদের গতিবিধি এবং গণহত্যাচলাকালীন বিভিন্ন জায়গার ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিস কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করে যাওয়া হয়েছে।এটা পরিষ্কার যে খবর পাওয়া সত্বেও উপরমহলের নির্দেশে পুলিশ চুপ করে বসেছিল।এই রিপোর্ট সর্বভারতীয় মিডিয়ার কাছে পৌঁছেছে এবং তাদের সৌজন্যে তার কিছু অংশ এখানে তুলে দেবো।
প্রথমেই বলে রাখি,গোধরা ট্র্যাজেডি না ঘটলেও গুজরাত গণহত্যা হত।গোধরা কান্ড দেশলাই কাঠির কাজ করেছিল।বারুদ কিন্তু আগে থেকেই যোগাড় করা হচ্ছিল।
আমেদাবাদে দুটি কেন্দ্রীয় পুলিস কন্ট্রোলরুম ছিল ২০০২ সালে।তার একটি ছিল শহরের প্রাণকেন্দ্রে শাহীবাগে।নারোদা আর গুলবার্গ সোসাইটি,যেখানে ২৮শে ফেব্রুয়ারী ১৫০ জন মুসলিম আবাল-বৃদ্ধ বনিতা কে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়,তা সেই পুলিস কন্ট্রোলরুম থেকে ৬ কিমি ব্যসার্ধের মধ্যে অবস্থিত।
দ্বিতীয়টি,মানে,রাজ্য পুলিস কন্ট্রোলরুম,গান্ধীনগরে পুলিস ভবনে অবস্থিত।নারোদা-গুলবার্গের ঘটনা ঘটার আগে রাজ্য পুলিস কন্ট্রোলরুমে আমেদাবাদে গৈরিক বাহিনীর সশস্ত্র জমায়েতের খবর ছিল।কিন্তু কোনো অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে তারা চুপ থেকে রাজধর্ম পালন করছিলেন।
আরেকটি তৃতীয় কন্ট্রোলরুম ছিল,যেটি আদতে স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো’র হেড কোয়ার্টার,এবং তা অবস্থিত ছিল ওই পুলিস ভবনেই।২৭ তারিখ থেকেই গোটা রাজ্যের ফিল্ড পুলিস দের কাছ থেকে ভিএইচপি,বজরং দল,প্রমুখ উগ্র দক্ষিণ পন্থী দলের সশস্ত্র জমায়েত এবং গতিবিধি সংক্রান্ত অসংখ্য বার্তা আসতে থাকে।কিন্তু,কোনো অজ্ঞাত কারণে রাজ্য পুলিসের কর্তারা সতর্কবার্তা পাওয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ন্যুনতম চেষ্টা করেন নি।সন্দেহ এখান থেকেই শুরু হয়।
গোধরা ট্র্যাজেডি’র কয়েকঘন্টা পরেই গুজরাতে ভিএইচপি’র ইউনিটের তিন বর্ষীয়ান নেতা,জয়দীপ প্যাটেল,দিলীপ ত্রিবেদী আর কৌশিক প্যাটেল মিলে একটি স্টেটমেন্ট ইস্যু করেন,যাতে রাজ্যওয়াড়ি বন্ধের ডাক দেওয়া হয় এবং কিছু উত্তেজনাকর বাক্য বলা হয় যা সহজেই ‘মব’ কে ‘ভায়োলেন্ট’ করে তুলতে পারে।২৭ শে ফেব্রুয়ারি,রাত ৮টা ৩৮ মিনিটে একজন স্টেট লেভেল অফিসার এই স্টেটমেন্ট সংক্রান্ত সতর্কবার্তা স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কাছে পাঠান(February 27, 2002.Time: 8:38 pm.State Intelligence Bureau Message No: Page No. 188 (Annexure III, File XVIII,D-160).
এবং তা যথারীতি অগ্রাহ্য করা হয়।২৭ তারিখ বার্তা পেয়ে সতর্ক হলে নারোদা-গুলবার্গের নারকীয় হত্যাকান্ড নাও ঘটতে পারতো।আমার কাছে প্রত্যেকটি মেসেজের দিন তারিখ,সময়,প্রেরক ও প্রাপক,পেজ নাম্বার ,অ্যানেক্সচার,ফাইল আর ডকুমেন্ট নাম্বার আছে।সবকটি এখানে দিলে অতি দীর্ঘ হয়ে যাবে।মেসেজগুলি থেকে এটা পরিষ্কার যে গুজরাত প্রশাসনের কাছে প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের আগাম সতর্কবার্তা ছিল,তা সত্বেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।অসহায় মানুষগুলোকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে।
২৭ এবং ২৮ তারিখে মুসলিমদের উপর অসংখ্য প্রানঘাতী হামলার পুলিসি বার্তা পেয়েও আমেদাবাদের পুলিস কমিশনার সিটের তদন্তকারী দলের জেরায় বলেন যে তিনি পরিস্থিতি কার্ফিউ জারি করার মত মনে করেন নি।
মেসেজগুলি তুলে ধরছি,
February 27, 2002
Time: Not Known
State Intelligence Bureau Message No: Page No. 345, Order No. 24 (Annexure III File XIX)
Sender: D.O, Ahmedabad
Recipient: Intelligence Office, Virangam (Ahmedabad)
৭৫ জন ভিএইচপি আর বজরংদল সমর্থক গোলওয়াড়া আর বীরাঙ্গাম চাল্লি’তে জমায়েত হয়েছে।পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত।
February 27, 2002
Time: 6:10 pm
State Intelligence Bureau Message: No. 531 Page No. 19 (Annexure III, File XVIII (D-160)
গোধরা থেকে বিকেল ৪.৩০ নাগাদ সবরমতী এক্সপ্রেস আমেদাবাদে এসে পৌঁছেছে।সশস্ত্র করসেবকরা খুনের বদলা খুন বলে শ্লোগান দিচ্ছে।
February 27, 2002
Time: 10:12 pm
State Intelligence Bureau Fax Message: 311/02 Page No.: D-1/ HA/Jaher Sabha/Junagadh
Sender: CID, Bhavnagar
Recipient: IG, Gujarat & Intelligence Bureau, Gandhi Nagar
ওই দিনেই রাত ১০টা ১২তে ভাবনগর থেকে সি আই ডি’র এক ইন্সপেকটর গান্ধীনগরে আইজি,গুজরাত স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো’র কাছে বার্তা পাঠান যে জুনাগড়ে সাধু সমাজ এর প্রেসিডেন্ট গোপাল নন্দ এবং স্থানীয় ভিএইচপি নেতারা হিন্দুদের বদলা নেওয়ার ডাক দিচ্ছেন।সময় সন্ধে সাড়ে-সাতটা থেকে সাড়ে নটা’র মধ্যে।
২৭শে ফেব্রুয়ারি গণহত্যা শুরু হয়।
February 27, 2002
Time 17:45
State Intelligence Bureau Fax Message No 273 File XIX Annexure III
Sender: B M Mohit Anand Centre
সবরমতী এক্সপ্রেস আনন্দ রেলস্টেশনে পৌঁছায়।সেখানে করসেবকরা স্টেশনে উপস্থিত চার মুসলিম কে কোপায়।আনন্দের বাসিন্দা আবদুল রশিদ,বয়স ৬৫,তার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।বাকিদের আনন্দ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
February 27, 2002
Time: 11:59 pm
State Intelligence Bureau Fax Message: Com/HM/550/ Out No. 398
Sender: ACP, Gandhinagar Region
Recipient: IG, Gujarat & Intelligence Bureau, Gandhi Nagar
গোটা রাজ্য থেকে উন্মত্ত করসেবকদের আক্রমণের খবর আসতে থাকে,মোদাসা’র ভেদগামে ৫০ জন করসেবক স্পেশাল বাসে করে গ্রামবাসীদের উত্তেজিত করে স্থানীয় মুসলিমদের উপর আক্রমণ শুরু করে।স্থানীয় পুলিস থানাগুলো তে বারবার সাহায্যের আর্তি জানিয়েও কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি।
সিট এর রিপোর্টে ১৩৪ পাতায় পরিষ্কার বলা আছে যে শ্রী বিজয় বাড়েকা,. Under Secretary to Home Department জানিয়েছেন যে ভিএইচপি’র ডাকা ২৮ তারিখের গুজরাট বন্ধ আর ১ তারিখের ভারত বন্ধ শাসক বিজেপি সমর্থন করেছিল।
February 28, 2002
Time: 9am-10am
State Intelligence Bureau Message No: 73/02 Page 365 (Annexure III File XXI (D-166)
Sender: ACP (Intelligence) Surat
সদর চক,ভাপি টাউন এ ভিএইচপি’র দিনেশ বেহারি,বজরং দলের আচার্য ব্রম্ভট,বিজেপি’র জহর দেশাই আর আরএসএস এর বিনোদ চৌধুরি উপস্থিত জনতাকে গোধরা কান্ডের বদলা নেবার জন্য প্ররোচিত করছেন।
.
.
স্বরাষ্ট্র দপ্তরে ক্রমাগত সতর্কবার্তা পাঠানো সত্বেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।এদিকে গোধরা ট্র্যাজেডিতে নিহত করসেবকদের দেহ লোককে দেখিয়ে ভিএইচপি নেতারা যে ম্যাস হিস্টিরিয়া তৈরী করতে চেয়েছিলেন,তাতে পূর্ণ সফলতা পান।
সোলা হাসপাতালে নিহত করসেবকদের দেহগুলো আনা হয়েছিল।সেখানে ধীরে ধীরে ৬০০০ উন্মত্ত জনতার ভিড় তৈরী হয়।বিপদবার্তা যায় পুলিস সদরে।অথচ পুলিস কর্তা পান্ডে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দ্যাখেন।করসেবকদের দেহ সৎকার হওয়ার পর উন্মত্ত সশস্ত্র জনতা নারোদা-পাতিয়া,নারোদা গ্রাম আর গুলবার্গ সোসাইটি’র দিকে এগিয়ে যায়।পুলিসের কাছে এর খবর ছিল।
পিসি আর এবং এস আই বি’র রিপোর্টে পরিষ্কার উল্লেখ ছিল যে গুলবার্গ সোসাইটি আর নারোদা আক্রান্ত হতে পারে।অথচ পুলিস কর্তা পান্ডে কার্ফিউ জারি করেন বেলা ১২.৫০ এ,ততক্ষণে ১০-১৫ হাজার সশস্ত্র মানুষের জমায়েত করে ফেলেছে করসেবকরা।কাজেই,কার্ফিউ কাগজেই থেকে গেছিল।বেলা ২টো থেকে ৬টার মধ্যে ১৫০ মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়।ঘরবাড়ি লুট হয়।পান্ডে সন্ধের আগে সেখানে যাওয়ার সময় পান নি।
ফিল্ড অফিসার রা মোট তিনটে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
Date: 28.02.02
Time: 12:15
Sender: Police Inspector CJ Bharwad To: State SIB Control Room
গুলবার্গ সোসাইটিতে মুসলিমরা বাস করে।
‘মব’ গুলবার্গ সোসাইটি ঘিরে জমা হচ্ছে।
কড়া নজর রাখা দরকার।.
Date: 28.02.02
Time: 14:50
Sender: Police Inspector CJ Bharwad To: State SIB Control Room
৩০০০ এর বেশি ‘মব’ জড় হয়ে গেছে।
টেক ইমিডিয়েট অ্যাকশন।.
Date: 28.02.02
Time: 17:00
Sender: Police Inspector CJ Bharwad To: State SIB Control Room
সমস্ত দিক থেকে ‘মব’ সোসাইটিকে আক্রমণ করে এহসান জাফরি,নারী ও শিশুদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে।ঘরবাড়ি সব লুট করা হয়েছে।
এহসান জাফরি প্রাক্তন সাংসদ।তার বাড়ি থেকে সাহায্য চেয়ে অনেকবার ফোন করা হয় পুলিস থানায়।কেউ জবাব দেয় নি।
আমি মাত্র কয়েকটা মেসেজ তুলে ধরলাম।এটা স্পষ্ট যে গুজরাত গণহত্যায় প্রশাসনের সম্পূর্ণ সমর্থন ছিল।হিন্দু বাড়িগুলোতে গেরুয়া পতাকা লাগানো হয়,যাতে নরপিশাচরা শিকার চিনতে ভুল না করে।
এত গেল,নিছক তথ্যপ্রমাণ।একটু দেখা যাক,হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীরা কি করেছিল।
বাচ্চা,কিশোরী,মহিলা কেউ ধর্ষণ থেকে বাঁচেনি।এদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার আগে গ্যাং রেপ করা হয়েছে।স্তন,যৌনাঙ্গ কেটে নেওয়া হয়েছিল।প্রেগনান্ট নারীর পেট চিরে ভ্রুণ বের করে তরোয়ালে বিঁধে নেচেছে ধর্মান্ধরা।বাচ্চাদের গায়ে পেট্রল ঢেলে জ্যান্ত পোড়ানো হয়েছে।তিস্তা শেতলাবাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ৪০০ এর বেশী মেয়েকে ধর্ষণ করে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।মহিলাদের ধর্ষণ করার পর তাদের স্ত্রী অঙ্গে গেরুয়া পতাকা পুঁতে দেওয়া হয়েছে।
রেণু খান্না’র লেখায় এর বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় `` আমি গণহত্যা পরবর্তী গুজরাট নিজের চোখে দেখেছি।আমার এক সহপাঠিনী ছিল।গুজরাতি।নাম আসিয়া নাসরিন।গণহত্যার কিছুদিন আগে সে বাড়ি যায়।তার বারি চারোদিয়া চক।আর ফেরেনি। আমরা সহপাঠীরা তার খোঁজ করতে গুজরাটে যাই।সেখানে খবর পেলাম,আসিয়া’কে হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী নরপিশাচরা গ্যাং রেপ করে মুখে অ্যাসিড ঢেলে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে। ১৯৪৬কলকাতা,১৯৪৭দিল্লী,২০০২গুজরাট...সব জায়গাতে কিছু কমন ফ্যাক্টর আছে।সব ক্ষেত্রেই প্রশাসন হত্যাকারীদের সমর্থন করে গেছে।সুরাবর্দী,বল্লভ ভাই প্যাটেল,নরেন্দ্র মোদী,এদের প্রত্যেকেরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য এতগুলো মানুষ কে বলি হতে হয়েছে।``

আসিয়া আমার কেউ নয়।১৯৪৬ এর কলকাতাতে যারা খুন হয়েছিল,তারাও আমার কেউ নয়।এবং আমি মনে করিনা,এ নরমেধ যজ্ঞের প্রতিবাদ করার জন্য নিজের কাউকে হারাবার দরকার আছে।
১৯৭১-এ পাকিস্তনিদের নির্মম পাশবিক হত্যাযজ্ঞের জন্য আমরা তাদের হায়না, পিশাচ ইত্যাদি উপাধি দিয়েছি।কিন্তু এই নিষ্পাপ শিশুদের যারা হত্যা করেছে তাদের আমরা কি উপাধি দিব? ভারত তাদের নিজেদের স্বার্থে আমাদের সাহায্য করেছে।পাকিস্তান ছিল তাদের বড় শত্রু। তাদের শ্ত্রুকে ধ্বংস করে দিতেই তারা আমাদের সাহায্য করেছিল। অবাক হই তখন যখন এই নরপশু মোদিকে মুসলিম দেশ তোয়াজ করে , নিজেদের ক্ষমতা টিকে রাখার জন্য ভারতের কাছে ধর্না দেয়। আজ যখন নরেন্দ্র মোদী’কে জননেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়,তখন আসিয়া’র মুখ মনে পড়ে।সতেরো বছরের একটা ফুটফুটে মেয়ে,সায়েনটিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। তারপর বুনো একটা রাগ শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ে।
https://www.youtube.com/watch?v=HkblZKn6bZM

Gujarat pogroms 2002: Modi is Culprit No. 1- Click This Link
https://www.youtube.com/watch?v=HkblZKn6bZM
গুজরাটের গণহত্যাড় কথা জিজ্ঞেস করতেই হকচকিত মোদী যেভাবে ইন্টারভিউ বন্ধ করে দিল
Hindu Zionist leader abruptly ends TV interview after being quizzed(https://www.youtube.com/watch?v=qcN5wVoEboc)
হত্যার পরিকল্পনা করেছিল খোদ মোদী –VHP member ramesh dave https://www.youtube.com/watch?v=FusZnURzfiU

এছাড়া শত শত ভিডিও ফুটেজ আছে যেখানে হত্যার বর্ণনা ও স্বীকারোক্তি রয়েছে এবং অসংখ্য রিপোর্ট এ বলা হয়েছে মোদী এই গণহত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতা। এতো লিঙ্ক এখানে দেয়া সম্ভব হল না।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:৪৩

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: "১৯৭১-এ পাকিস্তনিদের নির্মম পাশবিক হত্যাযজ্ঞের জন্য আমরা তাদের হায়না, পিশাচ ইত্যাদি উপাধি দিয়েছি। কিন্তু এই নিষ্পাপ শিশুদের যারা হত্যা করেছে তাদের আমরা কি উপাধি দিব? ভারত তাদের নিজেদের স্বার্থে আমাদের সাহায্য করেছে। পাকিস্তান ছিল তাদের বড় শত্রু। তাদের শ্ত্রুকে ধ্বংস করে দিতেই তারা আমাদের সাহায্য করেছিল।" এ অংশ পড়ে মনে হলো, ভারত নিজেদের গরজেই অামাদের সাহায্য করেছিলো । অামেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স অামেরিকাকে সাহায্য করেছিলো । এর অাগে বৃটিশদের সাথে ফ্রান্সের শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ হয়েছিলো । ফ্রান্স-বৃটেন শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও অামেরিকা এই কথা বলেনা, পাছে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় । ওরা তো অার অামাদের মত বেঈমান নয় । এককোটি শরণার্থীকে অাশ্রয় দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, অস্ত্র-সস্ত্র দেওয়া সহ সর্বাত্তক সহযোগিতাকে অামরা অবলিলায় অস্বীকার করতে পারি পেয়ারের পাকিস্তানের জন্য । ওরা মুসলমান হয়েও এতকিছু করলো, তাও ধুয়া তুলসি পাতা? ৪৬ এ নোয়াখালিতেও দাঙা হয়েছিলো । ৫০,০০০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করে উগ্র মুসলমানরা । এখানে যেভাবে বর্ণনা দিয়েছেন, এভাবেই । কোলকাতার দাঙার প্রথম দিনে মুসলমানরা মারা পড়ে, অার দ্বিতীয় দিন হিন্দুরা । মুসলমানদের ৮০০ বছরের শাসনামলে প্রায় ৮ কোটি অমুসলিমকে হত্যা করা হয়, এই দায় কে নেবে? ধর্মের উর্ধ্বে উঠে মানবিক হতে শিখুন ।

২| ০৯ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:০৩

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: হয়তো একদিন এ হত্যার বিচার হবে কোন না কোন আদালতে,

রূপক বিধৌত সাধু ------মুসলমানদের ৮০০ বছরের শাসনামলে প্রায় ৮ কোটি অমুসলিমকে হত্যা করা হয়, এই তথ্য কোথায় পেলেন....???????????????

মুসলমানদের শাসন আমলে বরং অতি উচ্চ পদে আসীন করতেও তখনকার শাসকরা ধিদ্বা করেন নি....এই সময়ে সকল ধর্মের প্রতিই সমান সহানুভূতি ছিল....আপনি প্রয়োজনে মুগলস্ হিস্ট্রি পেড়ে দেখতে পারেন।

৩| ০৯ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:০৪

সায়ান তানভি বলেছেন: তথ্যবহুল পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। মোদীর মতো রক্তলোলুপকে কঠোর শাস্তি দেয়া উচিৎ। তবে এদেশের মুসলমানদের অবশ্যই মোদী বজরং বা আরএসএসের মতো খুনী জঙ্গিদের থেকে আলাদা হতে হবে।আমরা যেন ঐ অমানুষদের মতো না হই।

৪| ০৯ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:১৮

মুসাফির নামা বলেছেন: ভারতের কুকর্মের ইতিহাস সব তুলে ধরলে ,মানুষ জানত ভারত কি জিনিস?সাধু@ কতগুলো মনগড়া সংখ্যা তুলেধরেছেন।

৫| ০৯ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:২৯

কি করি আজ ভেবে না পাই বলেছেন: কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: হয়তো একদিন এ হত্যার বিচার হবে কোন না কোন আদালতে,

রূপক বিধৌত সাধু ------মুসলমানদের ৮০০ বছরের শাসনামলে প্রায় ৮ কোটি অমুসলিমকে হত্যা করা হয়, এই তথ্য কোথায় পেলেন....???????????????

৬| ০৯ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৩

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: ২০০২ সালের গুজরাট রায়টে হতাহতের সংখ্যা কত ছিলো, সে হিসেব বের করা কঠিন । উইকিপিডিয়া, বিভিন্ন বই একেক ধরণের হিসেব দেয় । তবে সে দাঙ্গায় মৃতের সংখ্যা যে অবাক করে দিয়েছিল বিশ্বকে, তা এড়িয়ে যাবার উপায় নেই ।
রায়ট নিয়ে বলতে গেলে শুরু করতে হয় ১৯৪৬ সাল থেকে, যখন প্রথম উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধে । একদল মনে করেন, কোলকাতার রাস্তায় শুধু মুসলিম লাশ কুকুর শকুনে খেয়েছে । কলকাতার দাঙ্গায় প্রথম তিনদিনে ২০, ০০০ মানুষ মারা যায়, হিন্দু মুসলমান মিলিয়ে । এতো গেল কোলকাতা, ঢাকাতে কী হয়েছিলো সেসময়? ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকাতে যে প্রলয়কাণ্ড ঘটে গেছে, তা যেকোনো গল্পকে হার মানায় । ট্রাকে করে মেয়ে শিশুদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে । হয়েছে কেরোসিন ঢেলে গণসৎকার । নোয়াখালী সেসময় হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোর মধ্যে একটি ছিলো । সেই নোয়াখালীতে ১৯৪৬ সালের ১০ই অক্টোবর যা ঘটে গিয়েছিলো, তা ১৯৭১ সালের বিভীষিকা থেকে কোন অংশেই কম না ।
হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষণ হয়েছিলো অবলীলায়, যার ফলে নোয়াখালী হয়েছিলো মৃত্যুপুরী । প্রথম দশদিন মুসলিম লীগ সরকার ঘটনাটি গোপন রাখার জন্য টেলিগ্রাফের তার কেটে, রাস্তা কেটে নোয়াখালীকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিলো । ২৫ দিন পর যখন মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালী পরিদর্শনে যান, তখন সে অঞ্চল ছিল প্রায় জনশূন্য ।
গুজরাটে ঘটে যাওয়া রায়টের পর এ নিয়ে কম আলোচনা সমালোচনা হয় নি । মতামত, নিন্দা এগুলো কম হয়নি । করেছেন কিন্তু ভারতের হিন্দুরা, হিন্দু বুদ্ধিজীবীরা । বর্তমানে চলমান অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সেদেশের শিক্ষিত হিন্দুরা, বুদ্ধিজীবীরা নিন্দার ঝড় তুলেছেন । বিহারের মত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় বিজেপি তাদের জনসমর্থন হারিয়েছে ।
সামনের ইলেকশনের ফলাফলেও এর প্রভাব নেতিবাচক হতে পারে । তাদের দেশের অত্যাচারের প্রতিবাদ ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে হওয়া শুরু করেছে । কিন্তু আপনি অর্থাৎ বাংলাদেশের তথাকথিত সংখ্যাগরিষ্ঠ মডারেট সমাজ তা নিয়ে সমালোচনা করলে ব্যাপারটা শ্রেফ বেহায়াপনা হয়ে যায় ।
স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৪ বছরে এদেশ কতোবার নীরবে গুজরাটে পরিণত হয়েছে, তার হিসেব কি আছে? সংখ্যালঘু অত্যাচার যে দেশের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, সেখানে আমি বা আপনি নির্লজ্জের মত অন্য দেশের সাম্প্রদায়িক সমালোচনায় চায়ের কাপে ঝড় তুলি (হোয়াট এ জোক)!

৭| ০৯ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:১৩

রাজু বলেছেন: আপনার লিখা থেকে অনেক কিছুই জানতে পারলাম...!! আরো আগে যানলে ভালোহতো। কিচু মানুষের উচিৎ জবাব দিতে পারতাম....

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.