| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অিপ পোদ্দার
নতুন সূর্য, নতুন দিন, নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা, নতুনের সূচনা।
যিশু খ্রিস্টের জন্মেরও প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মিসরে গড়ে উঠেছিল এক অসাধারণ সভ্যতা। নীল নদের তীরে সভ্যতায় গড়ে উঠেছিল সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন রহস্যমণ্ডিত পিরামিড। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এত প্রাচীন হলেও সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে একমাত্র পিরামিডই এখনো পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। রাজবংশের রাজাদের মমি সমাধিস্থ করা হতো পিরামিডের ভিতরের গোপন কক্ষে। আর রাজার সঙ্গে সঙ্গে সমাধিস্থ করা হতো প্রচুর ধনরত্ন, দাস-দাসী।
Egypt-Pyramid-Sphinx
আজকের আধুনিক বিজ্ঞানীদের কাছেও পিরামিড এক অজানা রহস্য। যার কাঠামো আধুনিক বিজ্ঞানের সব শাখায়ই খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আর্কিটেকচারাল হিসেবে এ ধরনের কাঠামো সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প প্রতিরোধক এবং স্থায়ী হয়ে থাকে। সম্প্রতি দেখা গেছে যে, পিরাপিড আসলে একটা রেশনাল স্ট্রাকচার। বিশাল সব পাথর কেমন করে শত শত ফুট ওপরে তোলা হয়েছিল জানে না কেউ। জানে না কেমন করে কাঁটা হয়েছিল পাথরগুলো। কারণ পাথরগুলোর ধার এতই মসৃণ যে, অতি উন্নত যন্ত্র ছাড়া যেটা সম্ভব নয়। এখানেই শেষ নয়, মৃতদেহকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মমি করে রাখত। এ কাজে তারা বিশেষ কিছু রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানীরা এখনো ধরতে পারেননি তাদের সেই পদ্ধতি।
Great Pyramids of Giza
পিরামিডের গঠনশৈলীর প্রভাব পৃথিবীব্যাপী। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেকার মানুষের তুলনায় অস্বাভাবিক রকম বড় পাথরগুলো কিভাবে এত উপরে তোলা হয়েছিল, আধুনিক যুগের মানুষের কাছে এটা খুব বড় একটা রহস্য। সাধারণ রাস্তার উপর দিয়ে কোনো গাড়ি বা যন্ত্র ছাড়া এত বড় পাথর টেনে আনা কত অসাধ্য তা আমরা সবাই কল্পনা করতে পারি। কিন্তু মিসরের মরুভূমির বালুর উপর দিয়ে এত বড় পাথর টেনে আনা কত অসাধ্য তা আমাদের কল্পনার বাইরে। কেউ কখনো বালির উপর দিয়ে সাইকেল চালাতে গেলেই দেখা যায় বালি কিভাবে তার উপর দিয়ে চলমান বস্তুকে টেনে ধরে। তখনকার সময়ে মিসরে এমন কোনো প্রযুক্তি ছিল না যার দ্বার তারা এ বিশাল বিশাল স্থাপনাগুলো তৈরি করতে পারে। আর এ কারণেই এখনো অপার রহস্যের নাম পিরামিড।
মিসরের পিরামিডই হলো সবচেয়ে বিস্ময় জাগানিয়া স্থাপত্যগুলোর মধ্যে একটি, কিন্তু শুধু মিসর নয় বরং পৃথিবীর আরো নানা স্থানে রয়েছে আরো অনেক পিরামিড। ঠিক কি কারণে এবং কোনো যান্ত্রিক সুবিধা ছাড়াই কীভাবে নির্মিত হয়েছিল এই পিরামিডগুলো? জানি, এ রকম নানা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করেছে আপনার মনে কিন্তু হয়তো জানা হয়নি তেমন কিছুই।
Sahure Pyramid
মিসরে প্রচুর পিরামিড দেখতে পাওয়া যায়। তবে সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে প্রাচীন গির্জার খুফুর পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তমাশ্চর্যের একটি। খ্রিস্ট পু. ২৫৬০ সালে ফারাও রাজা খুফু নিজে এ পিরামিডটি তৈরি করেন। এই পিরামিড নিয়ে কয়েকটি মজার ব্যাপার রয়েছে। চার হাজার চারশত বছর ধরে এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য কর্ম। ১৮৮৯ এ আইফেল টাওয়ার নির্মাণের পর এটি তার গৌরব হারায়। খুফুর পিরামিডের পাথরের গায়ে মূল্যবান লাইমস্টোন প্লাস্টার করা ছিল। পরে অন্য পিরামিডগুলো নির্মাণের সময়ে অন্য রাজারা এখান থেকে লাইমস্টোন নিয়ে নিজের সমাধিসৌধে লাগাতে শুরু করে। এই পিরামিডটিতে তিনটি কক্ষ রয়েছে। আর এই কক্ষগুলোতে ঢোকার জন্য পেরোতে হতো অনেকগুলো গোলক ধাঁধা। ইতিহাসের জনক হেরোডেটাসের মতে, এই পিরামিড তৈরিতে ১ লাখ লোকের ২০ বছর লেগেছিল।
Pyramid
একটা সময়ে খুফুর পিরামিডের শীর্ষে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও এখন আর দেওয়া হয় না। কেননা পর্যটকের এবং পিরামিড দুটোরই ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে এতে।খুফুর পিরামিড সম্পর্কে বলে গেছেন দার্শনিক হেরোডেটাস। কিন্তু তিনি যে মতবাদ দিয়ে গেছেন তা পরবর্তীকালে ভুল প্রমাণিত হয়। কেননা আধুনিক প্রত্নতাত্তি্বকরা জানাচ্ছেন, খুফু এ পিরামিডটি তৈরিতে মূলত নীলনদের তীরবর্তী মানুষদের কাজে লাগিয়েছিলেন। সময় ২০ বছরের চেয়ে অনেক কম লেগেছিল।
Pyramid of Djoser
তখনকার যুগে মিসরের লোকেরা ফারাও রাজাকে নিজেদের দেবতা মনে করত এবং মৃত্যুর পর তাদের পরবর্তী জীবনে চলার জন্য তার সমাধিতে তার মমিকৃত মৃতদেহের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ধন সম্পদও দিয়ে দিত। পরে ফারাও রাজাদের এ সমাধিকে নিরাপদ করে দেয়ার জন্য এর উপর তৈরি করা হত পিরামিড আকৃতির কাঠামো। এখন পর্যন্ত গবেষণা অনুসারে ১৫৩৯ বিসি থেকে ১০৭৫ বিসি পর্যন্ত পিরামিডের মতো করে বা নির্ভেজাল লাইমস্টোন কেটে প্রায় ৬৩টি সমাধি তৈরি করা হয়েছিল। যার বেশির ভাগই অনেক দীর্ঘ এবং ক্রমে নিম্নগামী অসংখ্য ছোটবড় করিডরের জটিল বিন্যাসের মাধ্যমে অবশেষে গিয়ে ফারাওদের সমাধিতে গিয়ে শেষ হয়েছে। এ সমাধিগুলোতে নানা রকমের প্রতীক, দেয়ালে খোদাইকৃত ছবি, অন্যজগতে ভ্রমণের তথ্য এবং নতুন জীবনের প্রয়োজনীয় সব উপাদান দেওয়া থাকত। ধন-সম্পত্তি তো থাকতই। এর রুমগুলোর একদম কেন্দ্রে থাকত স্বর্ণমণ্ডিত ফারাও রাজাদের শবাধার। এ রুমগুলো খুবই সতর্কতার সঙ্গে সিল করে দেওয়া হতো এবং এ সমাধির মূল্যবান দ্রব্য রক্ষা করার জন্য তখনকার মিসরের শ্রেষ্ঠ আর্কিটেকরা চোরদের ধোঁকা দেওয়ার উপযোগী ডিজাইন করার দায়িত্ব পেত। মাঝে মাঝে প্যাসেইজ রাস্তাগুলো বন্ধ করার জন্য বিশাল এবং মজবুত গ্রানাইটের প্লাগ ব্যবহার করা হতো। চোরদের দমন করার জন্য নকল দরজা, গোপন রুম ইত্যাদি অসংখ্য ব্যবস্থার পরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমাধির প্রবেশ পথে কোনো অভিশাপ দিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এসব পূর্ব সাবধানগুলোর বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছিল। প্রাচীন যুগের চোর এবং ডাকাতরা তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে ঠিকই সমাধির পথ খুঁজে বের করত এবং ধন-সম্পত্তি আত্মসাৎ করত।
Sun Pyramid
২২ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:১২
অিপ পোদ্দার বলেছেন: পিরামিড
এখানে দেখতে পারেন। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
২|
০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৪৮
শার্লক বলেছেন: ছোটু বেলা থেকে পড়ে আসতেছি একই কথা ক্যামনে এতো বড় বড় পাথর দিয়ে পিরামিড বানাইছিল। লাখ লাখ দাসকে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল তাতে সন্দেহ নাই।
২২ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:১৩
অিপ পোদ্দার বলেছেন: সত্যি তাই!!! পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
৩|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:৫৬
চুক্কা বাঙ্গী বলেছেন: ব্রাদার!! সব ঠিক আছে খালি শেষের যেই ''সান পিরামিড'' দিসেন ওইটা ফারাওরা তৈরি করে নাই। এ্যাজটেকরা তৈরি করসে। পোস্টে ++
২২ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:১৫
অিপ পোদ্দার বলেছেন: ভুলটা থাক। সবাই জানবে। বলার ও পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
৪|
০৭ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:১১
*কুনোব্যাঙ* বলেছেন:
+ + + + + + + + +
২২ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:১৬
অিপ পোদ্দার বলেছেন: পড়ার ও প্লাস এর জন্য ধন্যবাদ।
৫|
২৪ শে নভেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:২৭
মেকানিক ফিরোজ বলেছেন: শুধু চিন্তা করি এত বড় বড় পাথর এত উপরে ক্যামনে তুলসে??
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:৫৬
অিপ পোদ্দার বলেছেন: সেটা আমিও ভাবি। পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এতদিন পর দেখার জন্য দুঃখিত।
৬|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:১৭
প্রিন্স হেক্টর বলেছেন: ভালো লাগলো। একটা সময় ছিলো যখন পিরামিড আর ঈজিপ্ট নিয়ে প্রচন্ড কৌতুহল ছিল। পাপাইরাস নামে একটা কার্টুন হতো, উড়াধুড়া পাগলা ফ্যান ছিলাম।
পোষ্টে +
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৪১
অিপ পোদ্দার বলেছেন: কতদিন ধরে আপনার ব্লগ এ যাচ্ছি। আমার এক বন্ধু Click This Link এটা পড়তে দিয়েছিল। ভালো লাগলো। এরপর লগ ইন করে/ না করে আপনার লেখা পড়লাম। লেখাগুলো ভালো লাগলো, আজ সকাল থেকে মোটামুটি সব পড়লাম। কিছু মন্তব্য করলাম। সেই বন্ধু কেই আবার কিছু পড়তে দিলাম
। ভালো লেখা, চালিয়ে যান।
আমার ব্লগ এ আসার জন্য, পড়ার ও প্লাস এর জন্য ধন্যবাদ।
৭|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০৭
প্রিন্স হেক্টর বলেছেন: হ্যা আপনাকে আগেই নোটিশ করেছি, আজ আপনার কমেন্টগুলো দেখলাম, রিপ্লাইও করলাম।
আমি মোটামুটি সবার ব্লগেই যাই, পড়ি, কমেন্ট করি। তবে এখন আমার সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছে, আর নেটস্পিডও কাছিম ফেল। তাই এখন আর আগের মত সবার ব্লগে যেতে পারছিনা, গেলেও কমেন্ট করতে পারছিনা, আনশাল্লাহ এপ্রিল এর মাঝামাঝি থেকে আবার নিয়মিত হবো।
শুভকামনা ![]()
০৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:০৯
অিপ পোদ্দার বলেছেন: ধন্যবাদ।
৮|
০৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:২৬
মনিরা সুলতানা বলেছেন: ভাল লাগলো তথ্য গুল ![]()
০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১:২৫
অিপ পোদ্দার বলেছেন: ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১০:৫৩
আমার ইচ্ছে বলেছেন: ভাল লেখা++পৃথিবীর কুন কুন দেশে পিরামিড আছে?