নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অশ্রু তোমার আমার মনে ক্ষতের সৃষ্টি করে বন্ধু তোমার হাসি ঘরে আলোর সৃষ্টি করে

আরোগ্য

কোন ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়ার আমার কোন অধিকার নেই আর সকল ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করাও আমার কর্তব্য নয়, আমার কর্তব্য শুধু আমার দায়িত্বগুলো পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা

আরোগ্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা অসীম মহাকালের অন্তে।।। - আবরার ফাহাদ

১০ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:০৮



ছোটভাই আবরার,
তোমার স্মরণার্থে একটি কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমার বীরত্বের সামনে উপযুক্ত শব্দ খুঁজে পাইনি। তাই একটি পত্র তোমার জন্য লিখে আমার ব্লগটাকে ধন্য করতে চাইছি।
মা বাবার অন্যতম মেধাবী সন্তান কত আশা ও স্বপ্ন নিয়ে বুয়েটে পড়তে এসেছিলে কিন্তু মা বাবার স্বপ্নটা পূরণ হয়নি। আজ তোমার ফেসবুক পেজটা একটু ভ্রমণ করলাম। যে কথাগুলো মজার ছলে বলেছিলে তাই যেন সত্যি হল। হলের খাবার খেয়ে ভেবেছিলে বউ গুনবতী হউক আর না হউক রান্না পারলেই চলে। তোমার এক বন্ধু বলেছিল, তোর তো বিয়েই হবে না। সত্যিই তাই হলো। এ যেন ভবিষ্যৎ বাণী ছিল। তোমার একটা উক্তি ছিলো " আমিও ইতিহাস গড়তে চাই "। খুব তাড়াতাড়িই তোমার এ স্বপ্ন সত্যি হলো। এ ও যেন এক ভবিষ্যৎ বাণী ছিলো। একজন মুসলিম হিসেবে নিয়মিত নামাজ পড়তে, কাশ্মীরী ভাইবোনদের পক্ষে কথা বলতে তাই তুমি আজ শিবিরের কাতারে পড়ে গেলে। দেশকে ভালোবেসে দেশের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে দেশদ্রোহী হয়ে গেলে। অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে নির্মমভাবে নিজের প্রান হারালে। বড় ভাইয়ের বেশ ধরে মানবরূপী দানবরা যখন তোমায় ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, সরল মনে তুমি তাদের সাথে হেটে গিয়েছিলে। ভাই আমার তোমার মায়াভরা মুখটি দেখেও মানুষের বেশে নৃশংস পশুগুলির মায়া হলো না। পশুগুলির কান পর্যন্ত যায়নি তোমার আকুতি, তোমার অনুনয়ে বিরক্ত হয়ে বেঁধে রেখেছিল তোমার মুখ। আর্তনাদ করে তোমার ব্যথার বহিঃপ্রকাশটুকু করতে পারোনি। তোমার নিথর দেহটুকু তুলে এনে বাইরে রেখে দিলো। চলে গেলে মায়ের বুক খালি করে। এক বছর আগেই বলেছিলে, " অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা অসীম মহাকালের অন্তে।।। " আবারও একটি নিষ্পাপ প্রাণ কেড়ে নিয়ে মানবতার খুন করলো। যদি তখন হেলমেটবাহিনীর বিচার হতো তবে তোমাকে আজ আমাদের হারাতে হতো না। সবাই জানি আজও হবেনা তোমার সাথে ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত আচরণের বিচার। তোমার অপরাধীর মুখে ছিলো তাচ্ছিল্যের হাসি, বিন্দুমাত্র অনুশোচনা জাগেনি নির্লজ্জ হায়েনাগুলির হৃদয়ে। কিভাবে বয়ে বেড়াবো বাঙালীর এই নির্লজ্জ, নৃশংস, ঘৃণ্য অপরাধের দায়ভার? কি বলে স্বান্তনা দিবো তোমার জন্মদাতা মাতা পিতা ও সহোদর ভাইকে? তবে কি নামাজ কায়েম করাই তোমার অপরাধ ছিলো? কাশ্মীরী ভাইবোনদের পক্ষে কথা বলাই তোমার অপরাধ ছিলো? নাকি দেশপ্রেমিক হয়ে দেশের পক্ষে কথাই তোমার জীবনে কাল হয়ে এসেছিল? তোমার সর্বশেষ পোস্টের শেষ অংশে একটি কবিতার কিছু লাইন জুড়ে দিয়েছিলে,
" পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি
তার মত সুখ কোথাও কি আছে
আপনাকে ভুলিয়া যাও। "
সাহসী বীর ছোট ভাই তুমিও তাই করলে। নিজের কথা ভুলে পরের কল্যাণার্থে নিজের জীবনটুকু বিসর্জন দিলে। যে স্রষ্টার তরে প্রতিদিন পাঁচবার মস্তক অবনত করতে, সেই স্রষ্টার সমীপে প্রার্থনা জানাই যে, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তোমাকে যেন শহীদের মর্যাদা দান করেন। পরপারে তোমাকে যেন উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেন। ইহজগতে তোমার অপরাধীদের যথোপযুক্ত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। ক্ষমা করো আমাদের এই অক্ষমতাকে।

ভালো থেকো পরপারে।

( পোস্টটি কেবলই শহীদ ছোটভাই আবরার ফাহাদের স্মরনে আমার ব্লগে গেঁথে রাখার জন্য, নিজের আবেগ প্রকাশের জন্য। তাই মন্তব্যের সেটিং বন্ধ রাখলাম।)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১৩/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.