নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অশ্রু তোমার আমার মনে ক্ষতের সৃষ্টি করে বন্ধু তোমার হাসি ঘরে আলোর সৃষ্টি করে

আরোগ্য

কোন ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়ার আমার কোন অধিকার নেই আর সকল ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করাও আমার কর্তব্য নয়, আমার কর্তব্য শুধু আমার দায়িত্বগুলো পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা

আরোগ্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রতিযোগিতাই মানবজাতিকে বিমুখ করে রেখেছে

২৭ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৪৩



জাগতিক জীবনে সুখ সমৃদ্ধি ও উচ্চাভিলাসের প্রতিযোগিতাই মানবজাতিকে চরম পর্যায়ে আসক্ত করে রেখেছে আর এই আসক্তিই বিমুখ করে রেখেছে চিরসত্য ও কঠিন বাস্তবতা থেকে। জন্মের পর সামান্য বোধশক্তি জাগ্রত হওয়ার পরই নামতে হয় এই প্রতিযোগিতার প্রতিযোগিতায়। স্কুলে পা রাখার সাথে সাথেই বুঝিয়ে দেওয়া হয় পাঠ্য পুস্তকগুলো গিলতে হবে এবং প্রতিযোগিতায় প্রথম হতে হবে, চিবিয়ে হজম করতে পরামর্শ তো আজকাল সন্তানকে মা বাবা ও দেয় না, পাছে না তাদের সন্তান পিছনে পড়ে যায়। বয়ঃসন্ধিতে পৌছানোর পরই বন্ধুবান্ধবের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে সিগারেটে সুখটান দিতে না পারলে যে বাকিরা বাচ্চা বলে মশকরা করবে আর কিছুদিন পর একটা মেয়ে বান্ধবী না জোটাতে পারলে বন্ধুমহলে মুখ দেখানো যাবে না, খোকা যে যৌবনে পা রেখেছে তার প্রমান কি। আর আজকাল তো প্রমিক প্রেমিকা না থাকলে পরিবার থেকেও লজ্জা দেয়া হয়। একবার বিদ্যাপীঠের গণ্ডি অতিক্রম করলেই নামতে হয় অর্থনৈতিক জগতে প্রতিযোগিতার খাতায় নাম লেখানোর জন্য। অবশ্য এই প্রতিযোগিতার কোন শেষ নেই, এর পাশাপাশি আব্যাহত থাকে সামাজিক প্রতিপত্তি লাভের অবিরাম অন্তহীন প্রতিযোগিতা, ক্ষমতা প্রদর্শন ও স্বার্থপরতার হিংস্র প্রতিযোগিতা।
পাশের ফ্ল্যাটের ভাবীর নতুন শাড়ি দেখে স্ত্রী তার স্বামীর কাছে তার চেয়ে অধিক দামী শাড়ির আবদার করে বসে আর এই প্রতিযোগিতায় হারলে দাম্পত্য জীবনের পূর্ণিমার চাঁদ সহসাই অমাবস্যার রূপ ধারণ করে। আর অতিকায় প্রেমময় স্বামীরা প্রিয়তমা স্ত্রীদের প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার জন্য আহ্লাদে আটখানা হয়ে জন্মদাতা মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রম নামক এক রাজপ্রাসাদে রেখে আসে। আর আজকালতো স্বামী স্ত্রীরা পারস্পারিক সম্মতি ও সহযোগিতায় নিজেদের পরকিয়া নামক নোংরামি গোপনে চালিয়ে যায় নয়তো সামাজিক মান সম্মানের প্রতিযোগিতা আব্যাহত রাখবে কি করে।
ক্রমাগত প্রতিযোগিতায় দৌড়াতে দৌড়াতে পিছনে যে কত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছুটে যায় তা ভাবতে বসলেও তো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাবে। কিন্তু হুট করে যদি মৃত্যু নামক চিরসত্যটি দরজায় কড়া নাড়ে তখন কি হবে? নিমিষেই সব কিছু মিথ্যা হয়ে যাবে। মাতৃগর্ভে সন্তান আসার সাথে সাথেই তার মৃত্যু সুনিশ্চিত হয়ে যায়। পৃথিবীর আলো দেখা তো দুরের কথা, অনেক সময় ভ্রূণ পরিস্ফুটিত হওয়ার সময় পায় না। অনাগত সন্তানের জীবন নিয়ে মায়ের হাজারো স্বপ্ন মিথ্যে হয়ে যায় মৃত্যু নামক অমোঘ সত্যটির আগমনে। জীবনের মিছে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার পূর্বেই চিরসত্যটি মেনে নিতে হয়।
আজ যখন মৃত্যু নামক তিক্ত ও একমাত্র সত্যটি সকলের দরজায় সজোরে কড়া নাড়ছে তখন সকল প্রকার প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে ঘরের দরজা জানালা ভালোমত এটে বসে আছি কিন্তু ভুলে গেছি এই চিরসত্যটি জাঁকজমকপূর্ণ এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হবার পূর্ব হতেই আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে যা এক মুহূর্তে জীবনের সকল প্রকার প্রতিযোগিতাকে মিছে করে দিতে পারে।
আচ্ছা আস্তিক নাস্তিক ধার্মিক অধার্মিক নির্বিশেষে ভাবুন তো একবার, যদি পরকাল নামক বিষয়টি সত্যি হয় এবং সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ একজন সত্যি সত্যিই আমাদের জীবন ও কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন তবে আমরা কি জবাবদিহি করবো?
আসুন বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি। উচ্চাভিলাষী জীবন যাপনের মিছে প্রতিযোগিতায় না নেমে মানবতার কল্যানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। এতে যদি জরাজীর্ণ পৃথিবী কিছুটা সতেজ হয়।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১০:৫৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন: আসলে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতাই বিপদ আনবে

২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১:৩৯

আরোগ্য বলেছেন: যুগটাই এমন কার ঘাড়ে দাড়িয়ে কে উচুতে উঠতে পারে।

২| ২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১২:৩৫

রাজীব নুর বলেছেন: প্রতিযোগিতাই মানুষকে এগিয়ে নিচ্ছে।

২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১:৪১

আরোগ্য বলেছেন: তাই তো কেউ পাহাড় কেটে প্রাসাদ গড়ে কেউ আবার গাছ তোলায় রাত কাটায়।

৩| ২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১:২১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: সন্তান মানুষ করার যে পদ্ধতি আমরা একসময় দেখেছি, তা এখন কেতাবে আছে। বাবা-মা'রা সন্তানদেরকেও এখন তাদের স্ট্যাটাস ঠিক রাখার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে। কাজেই তারা সেভাবেই বেড়ে ওঠে। ওদের দোষই বা কতোটুকু! এই সন্তান বড় হয়ে মা-বাবাকে কি দিবে, আর সমাজকেই বা কি দিবে!

জমানা বদলায়া গ্যাছে গা, ছোডবাই। অহন মরন সামনে না আইলে কেউ মরনের কথা ঠিকমতো ইয়াদ-ই করবার পারে না। :(

২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১:৫৪

আরোগ্য বলেছেন: ভুয়া ভাই বিয়া না কইরা বাইচা গেসি। পোলাপানের টেনশন নাই। এহনকার পোলাপাইন দেখলে মনে হয় রবোট দেখতাসি। অবশ্য সমাজ ব্যবস্থাটাই এমন আর রোবট দিয়ে যত উন্নতিই হোক তাদের আবেগ কতটুকু কাজ করবে মানবতার কল্যানে তা কিন্তু অনুমেয়।
তা ঠিক মরণ নিয়া অহন কেউ ভাবিনা তাই তো করোনা আয়া সবাইরে চরম শিক্ষা দিবার লাগাইছে। :P

৪| ২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১:৫৯

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: উপমহাদেশের দেশগুলোর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখন প্রচন্ড লোভ, জাগতিক নগদ প্রাপ্তি নিয়ে বেশি আগ্রহী | এরা ক্যাপিটালিজমের পাপেট হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে | এদের স্বার্থে যখন আঘাত লাগে তখনই এরা খেয়াল খুশিমত যখন তখন আইন জারি করে এবং তাদের লাঠিয়ালদেরকে কখন মানবিক হতে হবে নূন্যতম সেইটুকু নির্দেশনাও প্রদান করে না |

২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১০:২৩

আরোগ্য বলেছেন: সাম্রাজ্যবাদ আর পুঁজিবাদ আজ পৃথিবী থেকে মানবতা কেড়ে নিয়েছে। গোটা মানবসভ্যতাই আজ অর্থহীন কর্মকাণ্ডের পিছনে অবিরাম ছুটেে চলেছে, পরিণতিতে শুধু মানবজাতি না বরং প্রকৃতিও ধ্বংসের মুখে নিমজ্জিত হচ্ছে।
স্বার্থপর হতে হতে মানুষ আজ হিংস্র প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

৫| ২৮ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:৩৬

মুক্তা নীল বলেছেন:
আরোগ্য ,
সময়ের সাথে তাল মেলাতে যেয়ে অনেকেই সামাজিক ও পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে । জানিনা এরা আখিরাত
সম্পর্কে ধারণা রাখে কি-না?
জন্ম যখন মরতে তো হবেই কিন্তু এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না কারোই । আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া কিছুই করার
নেই। নিরাপদ ও ভালো থাকুন।

২৯ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৩১

আরোগ্য বলেছেন: প্রিয় মুক্তাআপু ,
আশা করি পরিবারের সকলকে নিয়ে সুস্থ আছেন। সময়ের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে যদি পদস্খলন ঘটে তখন গর্তে পড়াটাই স্বাভাবিক। আমাদের বরং সময়ের সাথে তাল না মিলিয়ে স্রষ্টা প্রদত্ত নিয়মমাফিক চলা উচিত।

তা বটে মহামারীতে মৃত্যু মেনে নেয়া কঠিন কিন্তু এখানে মানুষের কিছু করবার নেই। কিন্তু সিরিয়া গাজায় নিষ্পাপ মানুষরা প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে যা মানুষ চাইলেই থামাতে পারে। সিরিয়ার এক বাচ্চা বলেছিল, আমি আল্লাহর কাছে যেয়ে বিচার দিব।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলোছেন , " আর আত্মরক্ষা কর এমন ফিতনা হতে যা বিশেষ করে কেবল পাপীদের উপরই পতিত হবে না। আর জেনে রাখ আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। "

৬| ১০ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আরোগ্য,

আমি এই মুহূর্তে যোগারের কাজ করছি, তবে কোনো রাজমিস্ত্রির নয়, শ্রীমতি ভয়ঙ্করের। যা একটু সময় পাচ্ছি পরবর্তী লেখার জন্য ব্যয় করছি। এমনকি ইসিয়াক ভাই ও খাইরুল আহসান স্যারের একটি পোস্ট পড়ে মন্তব্য করারও সময় করতে পারি নি। তুমি অত্যন্ত সহজ সুন্দর ভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছে কিভাবে আমরা বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে কিভাবে সামিল কর চলেছি।
আমার পোস্টে দেখলাম তোমার কমেন্ট আছে। পরে সময় পেলে প্রতিমন্তব্য দেবো।

শুভকামনা জানবে।


১০ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:২৬

আরোগ্য বলেছেন: যাক অবশেষে এলে। আসলে তোমার মন্তব্য না পড়লে অস্বস্তি লাগে তাই তাগিদ দিয়েছি। অধিক লম্বা মন্তব্য করে তোমার যোগারের কাজে ব্যাঘাত ঘটাবো না।
আমি এবার ব্লগ বাড়িতে এসে গেছি তাই চিন্তা করো না। আগের মত বিরক্ত করা শুরু করে দিবো। B-)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.