নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মনের বেতার কেন্দ্রে আমি গল্প বলতে ভালোবাসি। সাধারণ মানুষের গল্প....

আমি আমার দেশকে ভালোবাসি। তার দেশের কথাই লিখি তোমাদের জণ্য।

রসের হাড়ি

মনের বেতার কেন্দ্রে আমি গল্প বলতে ভালোবাসি। সাধারণ মানুষের গল্প....

রসের হাড়ি › বিস্তারিত পোস্টঃ

পথসঙ্গী অপ্সরী

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ২:২৮

...বাবা কেউ আছেন ? দয়া করে বদনাটা কেউ একটু দেন না বাবা.. আশপাশের সবার দৃষ্টি এখন টিকিট কাউন্টারের পাশের টয়লেট টার দিকে। শব্দ গুলো ওদিক থেকেই আসছে। লজ্জিত বৃদ্ধপূরুষ কণ্ঠ।

হেসেই দিলো কেউ কেউ। পাশের একজন একটু বিরক্ত হয়েও সরে গেলো। একটা ছেলে বলে উঠলো-চাচা বদনা নাই, পেপার দিয়াই কাজ চালান ।বলেই হো হো হেসে উঠলো । মনে হলো এখন ছেলেটাকে ঠাঁস করে একটা চড় দিতে পারলে বড়ই আরাম পেতুম এখন !! মানুষ অকারণেই অন্যে বিপদে উপহাস করে মজা পায়। কিন্তু নিজেকে নিয়ে অণ্যকেউ উপহাস করুক, এটা পছন্দ করেনা।



টিকিট কাউন্টার এর লোকটার দিকে ফিরলাম।মানুষটা পাতলা কিন্তু ঢোলের মতো পেট এর অধিকারী তিনি। চেয়ার কোচের একটা টিকিট দিন মামা।আর গলাটা একটু খাঁদে নামিয়ে বললাম, মহিলা মানুষ যাবে, মেয়েছেলের পাশে সিট দিয়েন। টিকিট হাতে নিয়ে কাউন্টারের সামনের চা দোকানদারকে এক কাপ চা বানাতে বললাম। দোকানে রেডিও তে অনেক পুরানো দিনের একটা গান বাজছে।হাওয়া মে উরকে যায়ে..তেরা লাল দোপাট্টে মাল মাল... বাকের ভাই এর কথা মনে পরে গেল। ওই যে.. যে নিরপরাধ মানুষটাকে বিনাকারণেই ফাসির দড়িতে ঝুলতে হয়েছিল।



প্রথম চুমুকেই বুজলাম চা টা ভাল হয়েছে।চোখ বন্ধ করে দ্বিতীয় চুমুক দিলাম। আর চোখ খুলেই সামনে প্রথমবার দেখলাম মেয়েটাকে। সাদা রং এর থ্রিপিস পরা। হাতে ছোট্ট একটা লাগেজ, মাথায় সানগ্লাস গোজা। মাথায় পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন লম্বা চুল। বিজ্ঞাপনচিত্রের মিথিলার কথা মনে পরে গেল।



বাসে উঠলাম।তার সিট আমার পাশেই। সে জানলার দিকের সিটটাতে বসে আছে। মেয়েটার দৃষ্টি এখন বাইরের দিকে।জানালার দিকেরটা আমার সিট।আমার টিকিটে লেখা।আমার ল্যাপটপ আর ব্যাগটা মাথার উপরের তাক টায় রেখে আমি চুপচাপ এপাশটায় বসলাম।



বাসটা চলছে, পাঁচ/সাড়ে পাঁচ ঘন্টা লাগবে ঢাকা পৌছাতে। আমি সোজা হয়ে বসে আছি। কিছুক্ষণ পর মেয়েটা আমার দিকে ফিরে বলল, এই সিটটাতে একজন মহিলার যাওয়ার কথা ছিল।



আপনি কেন? আমি ওর দিকে ফিরতেই বুকটা ধুকপুক করে উঠলো। কারণ কাছে থেকে তো এখন একে হুরপরী মনে হচ্ছে।আহহা...কি দারুণ...টানা টানা চোখ.. যেন বাশীঁর মতো নাক.... কি ব্যাপার নিলজ্জের মতো তাকিয়ে আছেন কেন!!

আমার আনস্যার কই?? আমি আমতা আমতা করে বললাম- ইয়ে..মানে কোন স্যার? আমস্যার? আমস্যার টা কে যদি একটু খুলে বলতেন.. আমাকে কি আপনার ইয়াকি করার মানুষ বলে বলে মনে হচ্ছে?



না না তা কেন? রাস্তায় বসে ছিলাম।হট্যাৎ আপনাক দেখে তো পাগল হয়ে গেছি ।আপনি বাসে উঠলেন দেখে আমিও টিকিট কাটলাম। কি আর করবো বলুন। এতো সুন্দর একটা মেয়ে একা একা ঢাকায় যাবে, তা তো মেনে নেয়া যায়না..কি তাই না? বলে একটু হাসলাম।

মেয়েদের প্রশংসা করলে তারা খুশি হয়। যদিও তা স্থান,কাল,পাত্র ঝুজে।একবার আমার এক বন্ধু মাকেটে দেখে একটা মেয়েকে বলেছিল, আপনি তো ক্যাটরিনার থেকেও সুন্দর। Veet এর এ্যাড টাতে আপনাকেই মানাতো।বিনিময়ে সে চিটাগাং এর স্থানীয় ভাষায় যা বললো আজো তার মমদ্ধার করতে পারিনি।



মেয়েটা চুপ করে বসে আছে। বাস ফেরীতে ওঠার অপেক্ষায় আর সামনে লম্বা লাইন।নিচে নামছি.. আপনার জন্য খাওয়ার কিছু আনবো? জিজ্ঞাসা করলাম। আমার দিকে মিষ্টি হেসে বললো- ধন্যবাদ।আমি অপরিচিত মানুষের দেওয়া কিছু খাই না! ও আচ্ছা।যাক,টাকাটা বেচেঁ গেল।জোরেই বললাম।

বাস থেকে নেমে পরলাম। একটা সিগারেট ধরিয়ে হাটতে হাটতে ফেরীর দিকে গেলাম।২ ঘন্টা পর বাস ফেরীতে উঠলো। কিছু খাওয়া দরকার। দোতলার ক্যান্টিন ও হোটেল আছে। মুরগীর মাংস আর ইলিশ মাছ পাওয়া যায়।পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য তরকারী বানানোর কুখ্যাতি এদের। তবে সুখবর হলো তরকারীর সাথে আনলিমিটেড ভাত ফ্রি। আচ্ছা ধরা যাক, কেউ এক প্লেট তরকারী নিয়ে ৮/১০ প্লেট ভাত খেল তবে কি সে নিষিদ্ধ হবে? জিজ্ঞাসা করা দরকার। একটা আইসক্রীম হাতে নিয়ে বাসে ফিরে নিজের জায়গায় বসলাম। বেশ কসরত করে বাস ফেরী থেকে ঘাটে নামছে।



একটু উচু হয়ে পাশে জানালা থেকে বাইরে দেখার করতেই বাস দুলুনিতে হাতের আইসক্রীম আমার গায়ে পড়ে মাখামাখি।তবে শরীরের ঠিক কোথায় আইসক্রীমটা পরলো সেটা নাই বা বললাম.. এই প্রথম সে হাসলো !!



তার হাসি টা যেন বুকে হাজারটা হাতুড়ির বাড়ি পড়ল। ওহ..আল্লাহ কি সুন্দর মুক্তা বাধানো দাঁত। সে একটা টিস্যু দিল। আর এরপর দু’একটা কথাবাতা হলো। সে জানালো ঢাকার প্রাইভেট ভাসিটিতে পড়ে। কিন্তু নাম বললো না। আমি মনে মনে তার নাম দিলাম অপ্সরী।



....কথা বলার মাঝে মাঝে সে এদিকে ফিরছে আর আমি চেয়ে আছি তার ঐই চোখে। প্রেমে পরে গেছি বলে মনে হচ্ছে এখন। গাম..চলবে? সে চুইংগাম বাড়িয়ে দিল।

পূরুষদের কাছে সুন্দরী মেয়েদের দেয়া ২ টাকার কোন কিছুই অগ্যাহ করা কঠিন। আমি মুখে চুইংগাম মুখে দিলাম। ওর মুখে মৃদু হাসি..মেয়েটাকে খুব আপন আপন লাগছে এখন। মনেই হচ্ছেও আমার কত দিনের চেনা।বাইরে থেকে মৃদৃ বাতাস আসছে।হালকা ঘুম ঘুম ভাব এলো চোখে।



ঝাপসা ঝাপসা চোখে দেখলাম আমার দিকে একটা ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে বলল: ওই মামা উডেন।আধ ঘন্টা ধইরা ডাকতাছি..নামেন। কখন যে গাবতলী পৌছে গেছি কে জানে ! পাশে অপ্সরাও নেই। নেমে গেছে মনে হয়।টলতে টলতে উঠে দারালাম। সবনাশ !..........উপরে আমার ব্যাগ আর ল্যাপটপটা নেই! পকেটে হাত দিলাম..হূমম..যা ভাবলাম তাই.. ম্যানিব্যাগ আর মোবাইল টাও নেই!! বুজতে আর বাকি রইলো না- এ আমার অপ্সরাই কাজ !!!!!

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ২:৫৮

নূর আদনান বলেছেন: aita ki hoilo..... :| :|
pura golpo pore sese ase aki porlam.... :| :|

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৩:২০

রসের হাড়ি বলেছেন: :P কি আর হবে.. ঘটনার নায়ক ফল পাইলো ..

২| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৩:১৪

নিয়েল হিমু বলেছেন: লেখার ধরণটা সুন্দর । যদিও ভাল লেগেছে তবে কাহিনীটা সত্যি না হলে বেশি ভাল লাগবে ।

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৩:১৯

রসের হাড়ি বলেছেন: কাহিনীটা শুধুই গল্প হিমু ভাই : :D

৩| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৩:২৭

নিয়েল হিমু বলেছেন: হুম । লেখার ধরণ চমত্‍কার রসপূর্ণ । হিউমারছিল পার্ফেক্ট :)

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৩:৪৪

রসের হাড়ি বলেছেন: অসংখ্য ধণ্যবাদ হিমু ভাই :) হালকা পাতলা লজ্জাও পেয়ে গেলুম :!> :P

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.