নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিঃসঙ্গ একাকী জীবন ..........।

একাকী সময় কাটাতে খুব ভাল লাগে । ভ্রমন করতে ভালবাসি, আর ঘুমাতে ।

মুহাম্মদ ইব্রাহিম

আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে জীবন শুরু করে অদ্যবধি পর্যন্ত সাধারণ হিসাবেই আছি ।খুব বড় হওয়ার সপ্ন না থাকলেও বড় কিছু করার প্রয়াসেই দিন কাটাই । বাবা ইব্রাহীম নাম ধরেই ডাকতেন তাই এই নামেই পরিচয় লাভ করি ।

মুহাম্মদ ইব্রাহিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

:Pঅদ্ভুত সিগারেট খোর

০১ লা জুন, ২০১৪ রাত ১০:৪৯

রিমঝিম বৃষ্টি ।বজ্র হাওয়া বইছে ।ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর বেঙের ডাক বড়ই মনমুগ্ধকর লাগছে ।চারদিকে থৈ থৈ পানি ।আমি বাসা থেকে বের হওয়ার জন্য মনঃস্থির করলাম ।মনটাও ভাল লাগছিলনা ।মন চাইছিল কোথাও হতে ঘুরে আসি ।তাই সিদ্ধান্ত নিলাম বন্ধু সাইফুলের বাসায় যাব ।কিন্তু বৃষ্টি যে থামতেই চাইছেনা ।হটাৎ মাথায় এল যে , অনেকদিন হল বৃষ্টিতে ভিজি নাই আজ একটু বৃষ্টিতে ভিজি । তাই ভিজে ভিজেই রওয়ানা হলাম ।দীর্ঘ আধ কিলোমিটার পথ দুরুত্ত আমার বাসা হতে সাইফুলের বাসা । গিয়ে দেখি সাইফুল রুমে একাকি বসে আছে । আমাকে দেখে তো অভাক নয়নে তাকিয়ে রইল সাইফুল । কিরে দোস্ত তোর একি অবস্থা ? ভিজে কেন এলিরে ? আমি বললাম, দাড়িয়ে থেকে কি আমার রঙ দেখবি নাকি ভিতরে আসবো ? আয় আয় বলে ভিতরে নিল আমাকে । দোস্ত খুব ঠাণ্ডা লাগছে ,আমাকে তোর জামা কাপড় দে, এগুলো চেঞ্জ করে সকল কথা বলব। কাপড় পরিবর্তনের পর বললাম, দোস্ত ছাতাটি ভেঙ্গে গেছে আর ভাবলাম বহু দিন বৃষ্টিতে ভিজি নাই তাই আর কি এই অবস্থা । দোস্ত খুব ঠাণ্ডা লাগছেরে ---এত ঠাণ্ডা লাগবে আগে ভাবিনি । সাইফুল আমাকে বলল চল চা খাই ।আমিও আর দিমত করলাম না, কারন ঠাণ্ডায় গা তখনো কাঁপছে ।সাইফুলের বাসায় সে একাই থাকে একটি মাত্র রুম । তার বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার গজারিয়াতে ।পড়াশুনার তাগিদেই সে মনুর হাট এর পাশে একটি বিল্ডিং এ ভাড়া থাকে ।ইলেকট্রিক পটে পানি বসিয়ে দিয়ে দু জনে গল্পে মেতে উঠলাম ।চা রান্না শেষ হলে বিস্কুট দিয়ে চা খাই ।চা খাওয়া শেসে আমি সাইফুলের কম্পিউটারে নাটক দেখতে লাগলাম ।সাইফুল তাড়াতাড়ি উঠে টেবিলের কাছে চলে গেল এবং ড্রয়ার খুলল । আমি ততক্ষনে মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে গেলাম । হটাৎ দেখি সে ড্রয়ারের সকল জিনিস এলোমেলো করে কি জেন খুঁজছে । কিরে দোস্তো! কি হয়েছে কিছু খুজছিস নাকি ? না রে সিগারেটের একটি প্যাকেট ছিল কিন্তু খুজে পাচ্ছিনা ।ভাল করে খুজ বলেই আমি আবার নাটক দেখতে লাগলাম । ৭/৮ মিনিট পরে দেখি সে ড্রয়ার হতে অন্তত ৩০/৩৫ টা সিগারেটের প্যাকেট খুলে প্রত্যেকটা চেক করতে লাগলো। আমি দেখলাম তার চেহারাটা বিবর্ণ হয়ে গেল । অনেকক্ষণ খুঁজেও সে একটি সিগারেটও পেলনা ।আমি বললাম ,বাদ দে তো দোস্ত ,আর কত খুঁজবি? আয় নাটক দেখি ।সে যেন আমার কথায় আমলই দিলনা ।আমাকে বলে উঠলো "আরে রাখ তোর নাটক ,সিগারেটের নেশায় মরি আর তুই কস নাটক দেখতে” । আরে আজব তো ,সিগারেট নাই, তুই খালি প্যাকেট খুঁজে সিগারেট পাবি নাকি? আরও অনেকক্ষণ খুঁজার পরে না পেয়ে যেন দুর্বল হয়ে পড়ল সে । তারপর আমার পাশে এসে বসে বলল,এখন কি হবে দোস্ত ?বাহিরে যে বৃষ্টি, ছাতাও নেই ।কিভাবে দোকানে গিয়ে সিগারেট আনবো ? আরে বাদ দে তো দোস্ত । সে যেন মানতেই চাইলোনা ।আবার উঠে দাঁড়ালো ,এবার দেখি সে খাটের নিচে ঢুকে পরল। কি আশ্চর্য !তুই খাটের নিচে কি করিস? এইতো বাহির হইতেছি একটু অপেক্ষা কর। কিছুক্ষণ পরেই দেখি খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে আসে একটা বড় কাগজের ব্যাগ নিয়ে ।কিরে দোস্ত এর ভিতর কি? সে বলল ,এগুলি সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ যে গুলো পূর্বে খেয়েছিলাম। আমি অবাক হয়ে বললাম, এগুলো দিয়ে কি হবেরে ? সঙ্গে সঙ্গে দেখি সে ব্যাগ খুলে সিগারেটের সকল পিলটার মাটিতে ঢেলে দিলো। কি দুরঘন্দ বেরিয়ে এলো। আমি তাকিয়ে দেখি ,যে পিলটার গুলোতে হালকা একটু তামাক রয়েছে সেগুলো সে বাছাই করলো । ৩/৪ টা পেয়ে গেলো, আর মুখে দিয়ে আগুন ধরিয়ে টানতে লাগলো। এভাবেই সে একটির আগুন দিয়ে আরেকটি ধরিয়ে সিগারেটের নেশাকে নিবারণ করল.........

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জুলাই, ২০১৪ দুপুর ২:০৯

মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেছেন: যারা মন্তব্য করবেন তাদের জন্য আমার ছোট্ট উপহার ঃ" ধন্যবাদ"ঃ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.