| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অর্থহীন দাঁড়কাক
"স্যার" বলে উঠলো আবির। আমি আচমকা ভাবনা থেকে জেগে উঠলাম। ভাবছিলাম সকালে আমার একমাত্র ছোট্ট বোনটি একটা ছাতা আনতে বলেছিল। একটা লাল ছাতা। কিন্তু টাকা নেই। তবুও আনবো বলেছি। ক্লাশ থ্রিতে পড়ে আমার ছোট্ট বোনটি। খুব ভালো লাগে যখন নূপুর পায়ে সারা বাড়ি ছোটাছুটি করে।
আবার স্যার বলে ডেকে উঠলো আবির। আমি আবার ভাবনা থেকে জেগে উঠি। আবির বললো,"স্যার,এই নিন আপনার এই মাসের বেতন।" বারবার দেখেছি যখন কিছু গভীরভাবে ভাবি তা কাকতালীয় ভাবে মিলে যায়। আজ মাসের ২৯ তারিখ। এমনিতে মাস শেষ হওয়ার আগে বেতন পাইনা। আজ পেয়ে ভালোই হলো। ছোট্ট বোনটির জন্য ছাতা কিনতে পারবো ।
আবির আবার বলে উঠলো,"স্যার, বাইরে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এই সন্ধায় ছাতা ছাড়া যাবেন কিভাবে? আপনার জন্য একটা ছাতা এনে দিবো?" আমি ভাবছি এই কাল বৈশাখী ঝড় কখন থামবে ঠিক নাই। তাই ছাত্রকে ছাতা আনতে বললাম।
ছাত্রের বাসা থেকে বের হয়ে বুঝতে পারলাম অনেক ঝড়। দু'মিনিট হাঁটার পর সামনে দুটো পথ। একটা খালের পাশ দিয়ে সরু পথ আরেকটি মেইন রোড দিয়ে। খালের সরু পথ দিয়ে গেলে আধ ঘণ্টা আগে পৌঁছতে পারবো। তাই খালের পাশ দিয়ে যাবো বলে ঠিক করলাম।
খালটা ছোটখাট একটা নদীর মতো। এই ঝড় বৃষ্টির ফলে খালটার এখন প্রবল স্রোত। বারবার বাজ পড়ছে। আশেপাশের মোটা গাছগুলো সাবলীল ভাবে যেনো দুলছে। কখন হেলে পড়ে যায় তা ঠিক নেই। ঝড় আগে থেকে বেড়ে গেছে। চাঁদটা মেঘে ঢাকা। এই অন্ধকারে চেনা পথটা অচেনা লাগছে।
হঠাত্ একটা বিকট বাজ পড়ল। বাতাসের তীব্রতা অনেক বেড়ে গেছে। বাতাসে ছাতাটা ধরে রাখা যাচ্ছে না। পেছনে একটা গাছ কড়কড় শব্দে ভেঙ্গে যাচ্ছে। পেছনে তাকিয়ে দেখি গাছটা আমার দিকেই পড়ছে। সরে না পরলে এক সেকেন্ডের মধ্যে আমার মাথায় আঘাত হানবে।
মাথা কাজ করছে না। ঠিক করলাম খালে ঝাঁপ দিবো। হ্যা, খালের পানি স্পর্শ করতে পারলাম। কিন্তু ঝাঁপ দেয়ার আগেই গাছটার একটা বিরাট অংশ আমার মাথায় আঘাত করে।ঝাঁপটা আমি দিতে পারি নাই। গাছের আঘাতে এমনিতেই পড়ে গেলাম খালের স্রোতে।
কোন ব্যাথা অনুভব করি নাই। তবে একটা শীতল শিহরণ সারা শরীর জুড়ে বয়ে গেল। পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছি। চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে। কয়েকটা পরিচিত মুখ কোথা থেকে যেন উদয় হলো।
বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার কথা মনে পড়ছে। বাবা আমাকে তার কনিষ্ঠ আঙ্গুল ধরতে বলতেন কিন্তু আমি বাবার বুড়ো আঙ্গুল ধরতে পছন্দ করতাম।
মায়ের চেহারা ভেসে এলো। মায়ের হাতের তৈরি লিচুর জুস এর কথা মনে পড়ল। নিজের অজান্তেই এক ঢোক খালের পানি খেয়ে ফেললাম। কিন্তু মনে হলো যেন মায়ের হাতের লিচুর জুসই খেলাম।
ছোট্ট বোনটির চেহারা ভেসে এলো। ছোট দুটো পায়ে নূপুর পড়ে সারা উঠোন লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। হঠাত্ আমার কাছে এসে আকুল কণ্ঠে বললো,"ভাইয়া, আমার জন্য লাল ছাতা এনেছো?" আমি তার প্রশ্নমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে কিছুই বলতে পারলাম না।
চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আসছে। মনে হলো যেন চাঁদটা উঁকি দিয়ে আমাকে বিদায় জানাচ্ছে। কিন্তু আমি আর চোখ খুলতে পারলাম না।সারা শরীর অবশ হয়ে গেছে।হারিয়ে যাচ্ছি স্রোতময় জলে। চোখ দুটোর শেষ আলোটুকু তারারন্ধ্রের ভেতর দিয়ে কৃষ্ণগহ্বরে হারিয়ে গেল।
"স্যার" বলে উঠলো আবির। আমি আচমকা স্বপ্ন থেকে জেগে উঠলাম। এতোক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম! এখনো হার্টবিট অদ্ভুতভাবে বাড়ছে-কমছে।
হঠাত্ আবির বললো, "স্যার,এই নিন আপনার এই মাসের বেতন। বাইরে তো ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এই সন্ধায় ছাতা ছাড়া যাবেন কিভাবে? আপনার জন্য একটা ছাতা এনে দিবো?"
মনে মধ্যে আচমকা
একটা রাক্ষুসে ঝড় বয়ে গেল।
{গল্প এখানেই শেষ। কিন্তু ছোট্ট বোনটির
প্রশ্নমাখা মুখের দিকে আমি তাকাতে পারছিনা। ছোট্ট বোনটির জন্য নিচের কয়েকটি লাইন।}
ছাত্রকে ছাতা আনতে বললাম। দু'মিনিট হাঁটার পর সামনে দুটো পথ। মেইন রোড দিয়ে যাবো বলে ঠিক করলাম।
কিছুক্ষণ হাটার পর একটা বিকট বাজ পড়ল। বাতাসের তীব্রতা বেড়ে গেছে। শুনতে পেলাম খালের ঐই দিকে একটা গাছ কড়কড় শব্দে ভেঙ্গে যাচ্ছে।
কিন্তু আমি ভাবছি একটা লাল ছাতা কিনতে হবে...
২|
২১ শে আগস্ট, ২০১৩ ভোর ৬:২৭
অর্থহীন দাঁড়কাক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। ব্লগে প্রথম মন্তব্য এতো তাড়াতাড়ি পাবো আশা করি নি।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে আগস্ট, ২০১৩ ভোর ৬:২২
খেয়া ঘাট বলেছেন: আপনিতো ভাই চমৎকার লিখেন। খুব সহজ, সরল, সুন্দর , সাবলীল পাঠ। দারুন মুগ্ধ হলাম।
+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
একগুচ্ছ প্লাস।