| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অর্থহীন দাঁড়কাক
এই শেষ বিকালে দোতলার বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে আছে ত্রিশ বছর বয়সী রফিক আহমেদ। হাতের আঙ্গুলের মাঝে নেই সিগারেট; নেই চায়ের কাপ। অথচ বিকালের এই সময়ে তার সিগারেট আর চা না হলে চলত না। এখন বসে বসে সূক্ষ্ম দৃষ্টি একটা কাঠঠুকরা পাখির কাজ দেখছেন। ঠুক ঠুক করে ক্ষয় করছে গাছের দেহ। শহুরে এলাকায় কাঠঠুকরা দেখা দুলর্ভ। শহরের নির্জন আবাসিক এলাকায় থাকে বলেই অনেকটা সম্ভব হয়েছে। একসময় ফটোগ্রাফীর নেশা থাকলেও কিছু দিনের মধ্যে নিমিষেই সেই নেশা হারিয়ে যায়। জন্ম নেয় নতুন এক নেশা।
একটা ফোন আসায় মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায় রফিক আহমেদ এর।
রফিকঃ হ্যালো, ইকবাল...?
ইকবালঃ হ্যা, ইকবাল বলছি। আধ ঘণ্টার মধ্যে রেডি থাকিস। আমি আসছি।
রফিকঃ (অনীহা সুরে) আয়, দেখা যাক..
এরপর কলটা কেটে দিল।
ইকবাল হাসান তার কলিগ। ঘনিষ্ঠ বন্ধুও বটে। আসবেন রফিক আহমেদকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। ইদানিং রফিক আহমেদ খুব দুর্বল হয়ে পড়ছেন। অবশ্য এর একটি কারণ সবার কাছে জানা। এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান তাকে ছেড়ে চলে যায়। কোথায় গেলো আর কেনই বা গেল তা অনেকের কাছে অস্পষ্ট। এরপর থেকে খাওয়া দাওয়া অনিয়িমিত হয়ে পড়ছে।
ঠিক পঁচিশ মিনিট পর ইকবাল হাসান তার লাল পাজেরো নিয়ে রফিক আহমেদ এর অ্যাপার্টমেন্টে আসে। রফিকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে অনেকটা জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার মোটা চশমার মধ্যে দিয়ে রফিক আহমেদ এর দুর্বলতা আঁচ করতে পারেন। ভিটামিনের ঔষধসহ কিছু ঔষধ প্রেসক্রাইবে টুকে দিলেন। বেশি করেপুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শও দিলেন।
বাসায় ফিরে বারান্দার ইজি চেয়ার বসে পড়লেন রফিক আহমেদ। অ্যাপার্টমেন্ট টা নির্জনতায় ঢাকা পড়েছে। হাতে নেই সিগারেট; নেই চায়ের কাপ। কিছুদিন আগেও ছিল সুখের সংসার। এই ত্রিশ বছর বয়সে তাকে সব হারাতে হবে তা আগে কখনো চিন্তা করেননি। এর জন্য প্রতিদিন নিজেকেই দোষারোপ করেন। কিন্তু পরক্ষণে আবার ভুলে যান অদ্ভুত এক নেশায়। এই সব ভাবতে ভাবতে একসময় ঘুমিয়ে পড়েন।
কয়েকদিনের নিয়ম অনুযায়ী আজও রাত দুইটায় ঘুম ভেঙ্গে যায় অদ্ভুত এক তৃষ্ণাতে। এই তৃষ্ণা বড়ই রহস্যময়। অদ্ভুত নেশাময় তৃষ্ণা। যার জন্য হারাতে হয়েছে স্ত্রী- সন্তানকে! এই নেশাতাজা রক্তের...
এই নেশা আগে ছিল না। প্রায় একমাস আগে দাঁতের ডাক্তারের কাছে গিয়ে অনুভব করলেন রক্তের রহস্যময় স্বাদ! অদ্ভুত সেই স্বাদ। নেশাময় সেই স্বাদ। এর কয়েকদিন পর তার স্ত্রীর আঙ্গুল ভাঙ্গা কাঁচে কেটে যায়। রফিক আহমেদ রক্তাক্ত আঙ্গুল দেখে অদ্ভুত মোহে ছুটে গিয়ে রক্তের অন্য মাত্রার স্বাদ গ্রহণ করে। এরপর থেকেই রক্তপানের ব্যাকুলতা বাড়তে থাকে।
একদিন এমনই এক রাতে হত্যা করলেন স্ত্রীকে। স্বাভাবিকভাবে নির্মম হত্যা। ছিন্ন ভিন্ন হয় হাত পায়ের শিরা। রক্তের ফোয়ারা পান করে, নতুন জন্ম নেয় রক্তপিয়াসী রফিক!
এর দুদিন পর তার সন্তানকেও মুক্তি দেন পৃথিবী থেকে। ঠান্ডা মাথায় গ্রহণ করলো রক্তের প্রতিটি ফোঁটা। রক্তের স্বাদ বড়ই রহস্যময়। নেশাময় সেই অতৃপ্ত তৃষ্ণা।
পেন্ডুলাম এর ঘড়িটি দুটি ঢং ঢং আওয়াজ করে রাত দুইটা বাজার অস্তিত্ব প্রকাশ করছে। গত কয়েকদিন মতো আজও তৃষ্ণাটা জেগে উঠেছে। স্ত্রী সন্তান হারানোর পর রহস্যময় তৃষ্ণা থেকে মুক্তি পেতে এই কাজটা করে আসছে। আজও করবে। তৃষ্ণা থেকে মুক্তি পেতে তাকে যে কাজটা করতেই হবে। ড্রয়ার থেকে একটা বড় সিরিন্জ বের করে এর সূঁচটা হাতের শিরায় প্রবেশ করালো। রক্ত প্রবেশ করছে সিরিন্জে...
২|
২২ শে আগস্ট, ২০১৩ ভোর ৬:০৮
অর্থহীন দাঁড়কাক বলেছেন: হুম... ঠান্ডা মস্তিষ্কের সাইকো কিলারও বলা যায়। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে আগস্ট, ২০১৩ ভোর ৪:৫৯
খেয়া ঘাট বলেছেন: একেবারে পিশাচ গল্প।